Home Blog Page 139

রূপপুরে জ্বালানি লোডিং আজ পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু আগামী জানুয়ারিতে প্রথম ইউনিট যাবে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে

ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশ। দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং শুরু হবে আজ মঙ্গলবার। এর মধ্য দিয়েই পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মার তীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প চূড়ান্ত গন্তব্যে প্রবেশ করবে। বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করবে। খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, এ প্রকল্প শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়; প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের প্রতীক।

দুটি ইউনিট মিলে কেন্দ্রটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। এর প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং হবে। দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও চলছে পুরোদমে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া নির্মাণকালীন প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ কাজ করছে প্রকল্প এলাকায়।

আগামী আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। একই বছরের জুনে দ্বিতীয় ইউনিটে ফুয়েল লোডিং বা জ্বালানি স্থাপনের কাজ শুরু হবে। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে রূপপুরের দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের কাজ শেষ হয়েছে গত বছরের মে মাসে। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সঞ্চালন লাইনের কাজ চলছে পুরোদমে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তা শেষ হবে বলে জানিয়েছে পিজিসিবি।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. শৌকত আকবর বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং একটি বড় মাইলফলক। এটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রথম ধাপ, যা নির্মাণ পর্যায় থেকে কার্যক্রম শুরুর দিকে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেন, ফুয়েল লোড করা মানেই বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বরং এটি একটি সূক্ষ্ম ও দীর্ঘ কারিগরি প্রক্রিয়ার শুরু। জ্বালানি লোড করার পর রিঅ্যাক্টরের ভেতরে প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত ও টেকসই চেইন রিঅ্যাকশন বা ‘ফিশন বিক্রিয়া’ শুরু করা হয়। একে বলা হয় ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি। শুরুতে রিঅ্যাক্টরকে তার পূর্ণ ক্ষমতার মাত্র ১ থেকে ৩ শতাংশ স্তরে রেখে নিউক্লিয়ার ফিজিকসের প্যারামিটারগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

জ্বালানি লোডিং ও বিদ্যুৎ উৎপাদন
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এর রিঅ্যাক্টর। এখানেই ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোড করা হবে। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মূলত ‘নিউক্লিয়ার ফিশন’ বা নিউক্লিয়াস বিভাজন প্রক্রিয়ায় কাজ করবে। পারমাণবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়ামের নিউক্লিয়াস বিভাজনের মাধ্যমে প্রচুর তাপশক্তি উৎপন্ন হয়। এ তাপশক্তি দিয়ে পানিকে উচ্চচাপে বাষ্পে পরিণত করে টারবাইন ঘোরানো হয়, যা থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এটি একটি স্বয়ংক্রিয় ও নিয়ন্ত্রিত চেইন রিঅ্যাকশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চলে।
রিঅ্যাক্টরের ডিজাইন (ভিভিআর-১২০০) অনুযায়ী, ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি রিঅ্যাক্টর কোরে স্থাপন করতে হবে, যার জন্য সময় লাগবে ৩০ দিন। এ প্রক্রিয়া অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে করতে হয়।

জ্বালানি লোডিং শেষে শুরু হবে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ। এ পর্যায়ে ডিজাইন অনুযায়ী নিউক্লিয়ার ফিশন রিঅ্যাকশন ঘটানো হয়। এ সময় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে, যার জন্য প্রায় ৩৪ দিন সময় প্রয়োজন হয়। পরীক্ষা শেষে রিঅ্যাক্টরের সক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে ৩%, ৫%, ১০%, ২০%, ৩০% এ উন্নীত করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে ৪০ দিন। রিঅ্যাক্টরের পাওয়ার ৩০ শতাংশে উন্নীত হলেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। পরে ধাপে ধাপে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি চলবে নিরাপত্তাবিষয়ক নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সব মিলে জাতীয় গ্রিডে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগবে প্রায় ১০ মাস।

বিদ্যুৎ মিলবে কতদিন
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ৬০ বছর। এই সময়ে এখান থেকে পাওয়া যাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ। তবে প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সাপেক্ষে আরও ৩০ বছর পর্যন্ত কেন্দ্রটির আয়ু বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। কেন্দ্রটিতে একবার জ্বালানি লোড করার পর তা দিয়ে চলবে টানা দেড় বছর। ফলে অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো তেল, গ্যাস কিংবা কয়লা কেনার ঝক্কি-ঝামেলা নেই। দেড় বছর পর এক-তৃতীয়াংশ করে জ্বালানি পরিবর্তন করতে হবে।

আর্থিক বিবেচনায় বাংলাদেশের একক প্রকল্প হিসেবে সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করছে রাশিয়া। প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পের ৯০ শতাংশ অর্থ ঋণ দিচ্ছে রাশিয়া, যেটা ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান রোসাটমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। শুরুতে প্রতি ইউনিটের খরচ ৬ টাকা ধরা হলেও অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে এখন দাম ১২ টাকা পড়বে।

প্লাস্টিক সার্জারি নিয়ে ট্রল, সত্যটা জানালেন কেয়া পায়েল

০

ছোট পর্দার অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। আট বছরের বেশি সময় ক্যারিয়ারে উপহার দিয়েছেন বহু দর্শকপ্রিয় নাটক। বিশেষ করে ‘এটা আমাদেরই গল্প’ ধারাবাহিক নাটকে মেহেরীন চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রসংশা কুড়িয়েছেন। এসবের মাঝে তার শারীরিক পরিবর্তন বা প্লাস্টিক সার্জারি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বেশ গুঞ্জন ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নেটিজেনদের দাবি- সৌন্দর্য বাড়াতে এই অভিনেত্রী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন।

সম্প্রতি মাছরাঙা টিভি এক একটি পটকাস্টে প্লাস্টিক সার্জারি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন কেয়া পায়েল। সেখানেই প্রথমবার নিজের সার্জারি গুঞ্জন ও ট্রল নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

পায়েল বলেন, ‘এই প্রথম আমি বিষয়টি নিয়ে কথা বলছি। তবে আমি বলব, প্রত্যেকটি মানুষ জন্মগতভাবেই সুন্দর। আমি ছোটবেলা থেকেই নিজের সৌন্দর্য নিয়ে প্রশংসা শুনে বড় হয়েছি। আমার কাছে প্রকৃতিক সৌন্দর্যটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কেয়া পায়েল। ছবি: ফেসবুক

কেয়া পায়েল। ছবি: ফেসবুক

কেয়া পায়েল জানান, নিজের একটি বিউটি স্যালুন থাকায় সৌন্দর্য নিয়ে আরও বেশি কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয় তার। সেই আগ্রহ থেকেই চেহারায় সামান্য পরিবর্তনের চিন্তা আসে তার।

এ বিষয়ে কেয়া পায়েল বলেন, ‘কখনো আমার মধ্যে এমন উদ্দেশ্য ছিল না যে বাড়তি কিছু করে আমার সৌন্দর্য বাড়াতে হবে। কারণ, আমি যেমন আছি তেমনই খুশি। তবে টুকটাক দুই একটা জিনিস একটু জাস্ট অ্যাড করেছি। আর তাতেই আমার ভক্তরা এমনভাবে ক্ষেপে গেল। তারা এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি। তাদের এই অবস্থা দেখে আমি মনে মনে বললাম ভাই মাফ চাই, আর হবে না।’

বাইরের দেশের তারকারা এমন পরিবর্তন করলে সেটিকে গ্রুমিং বলা হয় অথচ দেশের শিল্পীদের ক্ষেত্রে ট্রল করা হয় কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে দেশের মানুষের মানসিকতা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী।

কেয়া পায়েল। ছবি: ফেসবুক

কেয়া পায়েল। ছবি: ফেসবুক

কেয়া পায়েলের কথায়, ‘আমাদের দেশের মানুষ একটু অতি আবেগী। একজন যদি বলা শুরু করলে অন্যরাও না জেনেই বলা শুরু করবে। তারা জানেই না কী হয়েছে। এমনকি আমার পাঁচ বছর আগের ছবি দেখেও এখন মন্তব্য করে। এই হুজুগে মানসিকতা আমাদের পুরো জাতির মধ্যেই রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘রাস্তায় কোনো ঘটনা ছাড়াই শুধু ভিড় দেখে মানুষ জড়ো হয়। সেখানে কী হচ্ছে তা না জেনেই মানুষ দাঁড়িয়ে যায়। এই মানসিকতা আসলে অনেক দিন ধরে প্র্যাকটিস হচ্ছে।’

বাংলাদেশকে ১৮৩ রানের লক্ষ্য দিল নিউজিল্যান্ড

০

ক্লার্ক ও ক্লেভারের হাফ সেঞ্চুরির সঙ্গে নিক কেলির দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৬ উইকেটে ১৮২ রানের পুঁজি পেয়েছে নিউজিল্যান্ড। জিততে হলে ১৮৩ রান করতে হবে বাংলাদেশকে।

কেলিকে ফেরালেন শরিফুল

শরিফুলের স্লোয়ারে তানজিম হাসান সাকিবকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন কেলি। ২৭ বলে ৩৯ রান করে ফিরেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। ১৮.৩ ওভারে নিউজিল‍্যান্ডের রান ৬ উইকেটে ১৬৪। ক্রিজে জশ ক্লার্কসনের সঙ্গী স্মিথ।

 ২৭ বলে ৩৯ রান করেন কেলি

২৭ বলে ৩৯ রান করেন কেলি

আলোকস্বল্পতায় বন্ধ বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ

ম্যাচের ১৬.৩ ওভারের পর আলোকস্বল্পতায় বন্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ। খেলা বন্ধের আগে নিউজিল্যান্ড ৫ উইকেটে ১৫১ রান করেছে।

ফক্সক্রফটকে বোল্ড করলেন মেহেদী

শেখ মেহেদী ৩ রান করা ফক্সক্রফটকে বোল্ড করে ফিরিয়েছেন। ১৩০ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় কিউইরা। ১৫ ওভারে নিউজিল‍্যান্ডের রান ৫ উইকেটে ১৩০। ক্রিজে নিক কেলির সঙ্গী জশ ক্লার্কসন।

ছবি- এএফপি

ছবি- এএফপি

১১৭ রানে ৪ উইকেট নেই কিউইদের

নিউজিল্যান্ডের রানের গতিতে লাগাম টেনে ধরেছে বাংলাদেশ। এবার কিউই শিবিরে আঘাত হানলেন পেসার তানজিম হাসান সাকিব। তার বলে বড় শট খেলতে গিয়ে সাজঘরে ফিরেছেন বেভন জ্যাকবস। মাত্র ১ রান করেই বিদায় নিতে হয় জ্যাকবসকে। এতে ১১৭ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে নিউজিল্যান্ড। ক্রিজে কেলির সঙ্গী হয়েছেন ফক্সক্রফট। ১৪ ওভারে নিউজিল‍্যান্ডের রান ৪ উইকেটে ১২৭।

ক্লার্ককেও ফেরালেন রিশাদ

৪৪ রানে জীবন পেয়ে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন ক্লার্ক। তবে তাকে বেশিদূর যেতে দেননি রিশাদ। তার বলে তাওহিদ হৃদয়ের ক্যাচ হয়ে ফিরেছেন কিউই এই ব্যাটার। এটি রিশাদের দ্বিতীয় শিকার।

ক্লেভারকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙলেন রিশাদ

দশম ওভারের প্রথম বলে স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়েছিলেন ক্লার্ক। বল হাতে নিয়েও রাখতে পারেননি সাইফ। খানিক বাদেই ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন ক্লেভার। অন্যদিকে হাফ সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে আছেন ক্লার্কও। ওভারের চতুর্থ বলে হাফ সেঞ্চুরি করা ক্লেভারকে এলবিডব্লিউ করে আউট করেন রিশাদ। ১০ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১০০ রান। ৪৫ রানে অপরাজিত আছেন ক্লার্ক।

ছবি- এএফপি

ছবি- এএফপি

ক্লার্ক-ক্লেভারের জুটি ভোগাচ্ছে বাংলাদেশকে

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে স্বাগতিক বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালাচ্ছেন কাটেনে ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভার। পাওয়ার প্লে-র সুবিধা কাজে লাগিয়ে এই জুটি কিউইদের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দিয়েছে।

শুরুতে ওপেনার রবিনসন রান আউট হয়ে ফিরলেও সেই চাপ মুহূর্তেই সামাল দেন ক্লার্ক ও ক্লেভার। মাত্র ২৮ বলে এই জুটি স্কোরবোর্ডে যোগ করে অবিচ্ছিন্ন ৫০ রান। পাওয়ার প্লের প্রতিটি ওভারেই বাউন্ডারি আদায় করে নিয়েছেন তারা। টাইগার বোলাররা কাউকেই তেমন কোনো পরীক্ষায় ফেলতে পারেননি।

৯ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৯০ রান। ক্লার্ক ৪৪ এবং ড্যান ক্লেভার ৪৩ রানে অপরাজিত থেকে ব্যাটিং করছেন। একটি উইকেটের দেখা পেতে মরিয়া হয়ে লড়ছেন বাংলাদেশের বোলাররা।

ছবি- এএফপি

ছবি- এএফপি

হৃদয়ের থ্রোয়ে রান আউট রবিনসন

চট্টগ্রামের আকাশ মেঘে ঢাকা থাকায় ভরদুপুরেও ফ্লাড লাইটের আলোয় চলছে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড লড়াই। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই তাওহিদ হৃদয়ের দুর্দান্ত এক থ্রোয়ে রান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন ওপেনার টিম রবিনসন। ১ বল খেলে কোন রান না খেলেই ফিরলেন তিনি।

এর আগে শরিফুল ইসলামের করা প্রথম ওভার থেকে দুই চারসহ ১১ রান তুলেছিল নিউজিল্যান্ড। ৬ ওভার শেষে সফরকারীদের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৬১ রান। ক্রিজে ক্লার্কের সঙ্গী ড্যান ক্লেভার।

এই ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক হলো তরুণ পেসার রিপন মণ্ডলের। এর আগে এশিয়ান গেমসে তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও মূল জাতীয় দলের হয়ে এটিই তার প্রথম ম্যাচ। তিন পেসার, দুই স্পিনার ও ছয় ব্যাটসম্যান নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে স্বাগতিকরা। প্রথমবার ডাক পাওয়া আব্দুল গাফ্ফার সাকলাইনের অভিষেক হচ্ছে না আজ। এছাড়া একাদশের বাইরে রয়েছেন নুরুল হাসান সোহান, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন ও নাসুম আহমেদ।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টসে জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন লিটন। ফলে আগে ফিল্ডিং করছে বাংলাদেশ। ম্যাচ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে বড় ধাক্কা খেয়েছে নিউজিল্যান্ড শিবির। নিয়মিত অধিনায়ক টম ল্যাথাম চোটের কারণে আজকের ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন। গতকাল নেটে ব্যাটিং অনুশীলনের সময় ডান পায়ের বুড়ো আঙুলে আঘাত পান তিনি। ল্যাথামের অনুপস্থিতিতে আজ নিউজিল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নিক কেলি। নিউজিল্যান্ডের ১৩তম টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে আজ তার অভিষেক হলো। কিউইদের হয়ে এই ম্যাচে অভিষেক হচ্ছে নাথান স্মিথ ও ম্যাট ফিশারের।

দীর্ঘ ১২ বছর পর চট্টগ্রামের এই ভেন্যুতে টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমেছে নিউজিল্যান্ড। এই মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটিই তাদের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। চট্টগ্রামের এই ভেন্যুতে দিনের বেলা হওয়া আগের পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই জয়ের রেকর্ড রয়েছে টাইগারদের।

বাংলাদেশ একাদশ: লিটন দাস (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, সাইফ হাসান, তাওহিদ হৃদয়, শামীম হোসেন পাটোয়ারী, শেখ মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, তানজিম হাসান সাকিব, শরিফুল ইসলাম ও রিপন মণ্ডল।

নিউজিল্যান্ড একাদশ: টিম রবিনসন, কেটিন ক্লার্ক, ড্যান ক্লেভার, নিক কেলি (অধিনায়ক), বিজে জ্যাকবস, ফক্সক্রফট, জশ ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, ইশ সোদি, ম্যাট ফিশার ও বেন লিস্টার।

পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে রাশিয়ায় আরাগচি, ফোন করতে বললেন ট্রাম্প

পাকিস্তানের ইসলামাবাদ থেকে রাশিয়ায় গেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সেখানে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর আলোচনা করার কথা। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইলে, ইরানি নেতাদের ফোন করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন প্রতিনিধিদের পাকিস্তান সফর বাতিলের সিদ্ধান্তের পর ট্রাম্প এখন ফোনে আলোচনা চালানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। স্থানীয় সময় রোববার ফক্স নিউজের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘আলোচনা করতে চাইলে তারা আমাদের কাছে আসতে পারে। অথবা ফোন করতে পারে। আমাদের সঙ্গে নিরাপদে যোগাযোগের লাইন আছে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘বিষয়টা খুবই সহজ। তাদের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না। চুক্তিতে এটি না থাকলে বৈঠক করার কোনো কারণ নেই।’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি আলোচনায় এখনো পারমাণবিক কর্মসূচি অন্তরায় হয়ে আছে। ইরান দাবি করছে, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকারকে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দিক।

এদিকে রাশিয়ায় পৌঁছে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য ওয়াশিংটনকে দায়ী করেছেন। সোমবার তিনি বলেন, মার্কিন পক্ষের অতিরিক্ত দাবির কারণে আগের দফার আলোচনা কিছুটা অগ্রগতি সত্ত্বেও লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি।

আরাগচি গত শুক্রবার থেকে ঝটিকা সফরের মধ্যে আছেন। ওইদিন পাকিস্তানে পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টা পর তিনি ওমানে যান। সেখান থেকে আবার পাকিস্তানে ফেরেন। সোমবার রাশিয়ায় গেলেন। মস্কোতে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হতে পারে।

এদিকে দুটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শান্তি আলোচনা নিয়ে পর্দার আড়ালে প্রচেষ্টা চলছে। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরান পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে লিখিত বার্তা পাঠিয়েছে। এতে পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালিসহ বিভিন্ন বিষয়ের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। তবে ফার্স জানিয়েছে, এই বার্তাগুলো আনুষ্ঠানিক আলোচনার অংশ নয়।

দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস রোববার জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ শেষ করতে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। প্রস্তাবের মূল বিষয় হলো- হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা। পারমাণবিক আলোচনা পরবর্তী পর্যায়ের জন্য রেখে দেওয়ার কথাও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-তেও অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনটি উদ্ধৃত করা হয়েছে।

হরমুজ সচল ও যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তাব দিয়েছে ইরান: অ্যাক্সিওস

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরান একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এর লক্ষ্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধের অবসান ঘটানো। প্রস্তাবে পারমাণবিক আলোচনা পরবর্তী পর্যায়ের জন্য স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে।

মার্কিন ও আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে অ্যাক্সিওস। গণমাধ্যমটির দাবি, প্রস্তাবের মূল বিষয় হলো- হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা। প্রস্তাবটি পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-তেও অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনটি উদ্ধৃত করা হয়েছে। এতে এমন দাবির বিষয়টি অস্বীকার করা হয়নি।

এই উদ্যোগকে শান্তি আলোচনা নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পর্দার আড়ালের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরান পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে লিখিত বার্তা পাঠিয়েছে। এতে পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালিসহ বিভিন্ন বিষয়ের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। তবে এই বার্তাগুলো আনুষ্ঠানিক আলোচনার অংশ নয়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির ওমান সফরেও হরমুজ প্রণালির বিষয়টি আলোচনায় ছিল। বর্তমানে রাশিয়ায় অবস্থান করা আরাগচি সোমবার বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয়। সাধারণ স্বার্থ নিশ্চিত করতে স্বাভাবিকভাবেই এই প্রণালির দুটি উপকূলীয় দেশ (ওমান-ইরান) হিসেবে পরস্পরের সঙ্গে কথা বলতে হবে।

তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ থেকে তাদের অবরোধ তুলে নেওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এর প্রতিরোধমূলক প্রভাব বজায় রাখা তেহরানের চূড়ান্ত কৌশল।

১ জুলাই থেকে সব কর প্রস্তাব কার্যকরের পরামর্শ

অতীতের আয়ের ওপর করহার নির্ধারণ এবং পরের অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত কিছু করহার বাজেট ঘোষণার দিন থেকেই কার্যকর করা হচ্ছে, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। এমন মন্তব্য করেছেন এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। যে কোনো কর প্রস্তাব নতুন অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল রোববার ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসম্যান ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এমন প্রস্তাব দেন। রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, আয়কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে বর্তমান পদ্ধতি মূলত পূর্ববর্তী বছরের আয়ের ওপর ভিত্তি করে হয়। তিনি বলেন, ‘আমি যদি জানতাম, এ বছরের আয়ে কত ট্যাক্স দিতে হবে, আমি সেভাবে বিনিয়োগ করতাম। ব্যবসায়ীরা সেই অনুযায়ী বিনিয়োগের পরিকল্পনা করতে পারতেন।’

আলোচনায় বক্তারা একমত হন, এনবিআরের কর্মকর্তাদের আরও পেশাদার এবং ব্যবসায়ীবান্ধব হতে হবে। ড. মজিদ বলেন, লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা প্রতিফলিত হতে হবে এবং ওপর থেকে লক্ষ্যমাত্রা চাপিয়ে দেওয়া বন্ধ করতে হবে। সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য হয়রানি কমিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

এনবিআরের সাবেক সদস্য মো. নাসির উদ্দিন বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত কেনা দাম গ্রহণ না করে অযৌক্তিকভাবে বেশি মূল্য ধরে কর আদায় করা হয়। মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে এনবিআরের সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকলেও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা তা মানতে চান না। যার ফলে ব্যবসায়ীদের উচ্চ হারে শুল্ক দিতে হয় অথবা ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে মাল খালাস করতে হয়।

আগে একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট কালেক্টর যে সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন, এখন তা এনবিআরের কমিটির হাতে চলে গেছে। এই প্রশাসনিক কেন্দ্রীকরণ ব্যবসার ‘লিড টাইম’ বা সময় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ নিয়ে পরিষ্কার বার্তা চান প্রশাসকরা

ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে একীভূত পাঁচ ব্যাংকে আগের মালিকদের কর্তৃত্ব নেওয়ার সুযোগ দেওয়া নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন আমানতকারীরা। এতে নতুন করে আবার আমানত তুলে নিতে চাইছেন অনেকে। অনেকেই আবার কোনো মুনাফা ছাড়াই কেবল আসল ফেরত চাইছেন।

এ পরিস্থিতিতে পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে কিনা, তা নিয়ে লিখিতভাবে পরিষ্কার বার্তা চান এসব ব্যাংকে নিয়োগ করা প্রশাসকরা। গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে দেখা করে পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকরা চলমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন বলে জানা গেছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর আলোকে গত বছর শরিয়াহভিত্তিক পরিচালিত এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে। পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত বছরের নভেম্বরে পাঁচজন প্রশাসক ও তাদের সহযোগিতার জন্য চারজন করে কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এ ১৮(ক) ধারা যুক্ত করে বলা হয়েছে, একীভূত ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার যে অর্থ দিয়েছে, তার সাড়ে ৭ শতাংশ দিয়ে আগের মালিকরা নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে। একীভূত হওয়ার আগে এক্সিম ব্যাংকের কর্তৃত্ব ছিল নাসা গ্রুপের কর্ণধার নজরুল ইসলাম মজুমদারের হাতে। বাকি চার ব্যাংক পরিচালিত হতো এস আলম গ্রুপের কর্তৃত্বে।

জানা গেছে, গতকালের বৈঠকে প্রশাসকরা বলেন, আমানতকারীরা এসব ব্যাংক থেকে বেশ আগে থেকে টাকা তুলতে পারছেন না। তবে একীভূত করে সরকারি মালিকানায় নেওয়ার খবরে তাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। এর মধ্যে গত জানুয়ারিতে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য কোনো মুনাফা না দেওয়ার (হেয়ারকাট) সিদ্ধান্ত জানালে আবার অস্থিরতা তৈরি হয়। পরে অবশ্য ৪ শতাংশ হারে মুনাফার কথা বলায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। কিন্তু ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে ১৮ক ধারা যুক্ত করে আগের মালিকদের ফিরে আসার সুযোগে নতুন করে আবার চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এখন আবার আমানত তুলে নেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত চাপ দিচ্ছেন। অনেক আমানতকারী শুরুতে দেওয়ার ‘হেয়ারকাট’ মেনে কেবল মূল টাকা ফেরত চাচ্ছেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসকরা আরও জানিয়েছেন, এসব আলোচনার মধ্যে ব্যাংকগুলো নতুন করে আর আমানত পাচ্ছে না। মাঝে যেসব ঋণের টাকা ফেরত আসছিল, তাও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এই চাপ সামলে আইনে এই ধারা যুক্ত করার মাধ্যমে আসলে কী চাওয়া হচ্ছে– সে বিষয়ে একটা স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে। এর মাধ্যমে যদি আগের মালিকদের ফিরিয়ে আনা উদ্দেশ্য হয়, তাহলে কীভাবে ফেরত আনা হবে, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত কীভাবে হবে– এসব পরিষ্কার করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো দিকনির্দেশনা দেননি। কেবল বলেছেন, যখন যে পরিস্থিতি আসবে, তা মোকাবিলা করতে হবে।

জানা গেছে, দুর্বল পাঁচ ব্যাংকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন সময়ে ধার হিসেবে ৪৭ হাজার ৮৪ কোটি টাকা দিয়েছে। এসব ব্যাংক মিলে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে সরকার মূলধন হিসেবে দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। প্রত্যেক আমানতকারীকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার জন্য আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত একীভূত পাঁচ ব্যাংকের ঋণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৯৬ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে এক লাখ ৬৫ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা বা ৮৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। পুরো ব্যাংক খাতে যেখানে খেলাপি ঋণের হার ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ছিল ২ লাখ ৮২ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে পাঁচ ব্যাংকের ঘাটতি এক লাখ ৫০ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা।

ঈশাণকোনে রাজনৈতিক অস্থিরতার মেঘ জমতে শুরু করেছে: সাইফুল হক

দেশে আবারও রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দৃশ্যমান নয়, বরং জনপরিসরে বিএনপির আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংহতি মিলনায়তনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সভার দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে এসব কথা বলেন তিনি।

সাইফুল হক বলেন, বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের দুই মাস না যেতেই ঈশাণকোনে রাজনৈতিক অস্থিরতার মেঘ জমতে শুরু করেছে। সংসদের ভেতরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেলেও বাইরে জনগণের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে পারছে না বিএনপি।

তিনি আরও বলেন, সংস্কার ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। এতে করে বিএনপি তাদের অর্জনের একটি অংশ বিরোধীদের হাতে তুলে দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যমান সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

বেলজিয়ামভিত্তিক ক্রাইসিস গ্রুপের একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে সাইফুল হক বলেন, বর্তমান সরকার ব্যর্থ হলে দেশ আবারও বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

তবে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকার জনগণের প্রত্যাশা ধারণ করে গণতান্ত্রিক উত্তরণে ভূমিকা রাখবে।

সভায় দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, আবু হাসান টিপু, মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, মাহমুদ হোসেন, সজীব সরকার রতন, মাহবুবুল করিম টিপু, রাশিদা বেগম, সাইফুল ইসলামসহ আরও অনেকে অংশ নেন।

এছাড়া সভায় গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের লোডশেডিং ও ডিজেলের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। দ্রুত এ সংকট সমাধান না হলে বোরো আবাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়।

ছাত্রশিবিরের তিন নেতার বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ ছাত্রদলের

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ছাত্রশিবিরের তিন নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আজ রোববার উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ নেতাকর্মীরা এ অভিযোগ দেন।

অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ঢাবিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও পেজে উস্কানিমূলক, অশালীন ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও তাদের নারী নেত্রীদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফয়সাল উদ্দিন, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিজয় একাত্তর হল সংসদের সহসভাপতি হাসানুল বান্নাহ এবং ডাকসুর সাবেক সহসভাপতি মো. আবু সাদিক এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ডিইউ ইনসাইডার, ঢাবি কণ্ঠস্বর (বর্তমান নাম ডেইলি ডাকসু) এবং ডিইউ অবজার্ভারসহ (বর্তমান নাম ভয়েস অব জেনজি) কয়েকটি ফেসবুক পেজ ও গ্রুপকে গুজব ছড়ানো হয়ে থাকে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অপব্যবহার করে ভুয়া তথ্য ও ফটোকার্ড ছড়িয়ে সহিংসতা উস্কে দেওয়া হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর আগে একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ছাত্রদল প্রশাসনের কাছে এসব গ্রুপ ও পেজকে নজরদারির আওতায় আনা এবং প্রয়োজন হলে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানানো হয়েছে।

শেরেবাংলার আজ ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী

অবিসংবাদিত জাতীয় নেতা, বাঙালি জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রবক্তা ও উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ শেরেবাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ সোমবার।

শেরেবাংলার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আবুল কাশেম ফজলুল হক শুধু কৃষক সমাজের নেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন অখণ্ড ভারতের অবিসংবাদিত নেতা। তাঁর সংবেদনশীলতা, মমতা ও রাজনৈতিক আপসহীনতা তাঁকে সর্বভারতীয় রাজনীতির উচ্চ শিখরে পৌঁছে দিয়েছিল।

শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের জন্ম ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামে। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর, যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী, অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, কলকাতা সিটি করপোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়র, আইনসভার সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর।

১৯৪০ সালে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন তিনি। ২১ দফা দাবিরও প্রণেতা ছিলেন ফজলুল হক। প্রজাস্বত্ব কায়েম ও মহাজনিপ্রথা উচ্ছেদের মাধ্যমে বাঙালি সমাজে সামন্তযুগের পতনঘণ্টা বাজানোর ক্ষেত্রে তাঁর অনন্য অবদান ছিল। ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন করে ঋণে জর্জরিত কৃষকসমাজকে চরম ভোগান্তির হাত থেকে রক্ষা করেন তিনি।

১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেরেবাংলার মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবার ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আজ নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা প্রভৃতি।