Home Blog Page 14

আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির তলে তলে যোগাযোগ আখতারের মুক্তি দাবিতে সমাবেশে জামায়াত নেতারা

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির তলে তলে যোগাযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, জামায়াতকে গুপ্ত বলার আগে নিজের এবং নিজের দলের চেহারা আয়নায় দেখুন।

দলের সহযোগী সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে গতকাল শনিবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে যোগ দেওয়ায় আখতারকে সরকার গ্রেপ্তার করেছে বলে অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার।

বিএনপি নেতারা আঁতাত করে চলায় শেখ হাসিনাকে সরাতে ১৫ বছর লেগে যায় বলে দাবি করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ঘোষিত কর্মসূচিতে বিএনপির নেতারা লুকিয়ে থাকলেও জামায়াত-শিবির রাজপথে জীবন দিয়েছিল। রাজপথের কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাদের পাওয়া যেত না। অনেকে মোবাইল ফোন পর্যন্ত বন্ধ রাখতেন। ক্ষমতায় এসে সরকারপ্রধানসহ তাঁর মন্ত্রীদের কেউ কেউ জামায়াত-শিবিরকে গুপ্ত বলছেন, স্বাধীনতা বিরোধী বলছেন।’

প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি অভিযোগ করেন, জামায়াত এবং আওয়ামী লীগের তলে তলে যোগাযোগ রয়েছে। তা নাকচ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপি সরকারের তলে তলে যোগাযোগ ও সখ্য রয়েছে। সে কারণে আওয়ামী লীগ রাজপথে মিছিলের সুযোগ পাচ্ছে।’
গত বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করে তাদের ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার যে হুমকি দিয়েছিলেন তা সমর্থন করেন জামায়াত সেক্রেটারি। তিনি বলেন, একজন জ্যেষ্ঠ নাগরিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক এমপি হিসেবে মেজর আখতার বিমানবন্দরে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অদক্ষতা নিয়ে কথা বলতেই পারেন। অন্যায়ের প্রতিবাদ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর আখতার সাহসিকতা দেখিয়েছেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেন, আখতারুজ্জামানকে রিমান্ডে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করেছে সরকার। হাতকড়া পরানোর কথা ছিল বিএনপি নেত্রী মিষ্টিকে। রিমান্ডে নেওয়ার কথা ছিল মিষ্টি ও তাঁর অনুসারী দখলবাজ সন্ত্রাসীদের।
সমাবেশ শেষে কয়েক হাজার নেতাকর্মীর মিছিল পল্টন মোড়-প্রেস ক্লাব হয়ে মৎস্য ভবন মোড় পর্যন্ত যায়। তারা সরকারকে স্বৈরাচার আখ্যা দিয়ে স্লোগান দেয়।
এদিকে আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে গতকাল বিকেলে তাঁর নিজ জেলা কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা শহরে উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে ও সন্ধ্যার পর কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।

হেফাজতের দাবিনামায় বড় পরিবর্তন, নারীদের বিষয়ে দৃশ্যত নমনীয় প্রতিটি দাবির ভাষা, পরিধি ও রাজনৈতিক তাৎপর্যে পরিবর্তন আনা হয়েছে

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নারীদের বিষয়ে তাদের অবস্থান দৃশ্যত নমনীয় করেছে। ২০১৩ সালে দেওয়া ১৩ দফায় নারীর বিষয়ে কঠোর ও রক্ষণশীল অবস্থান ছিল সংগঠনটি। গত আগস্টে সরকারকে দেওয়া নতুন ৯ দফায় নারীর প্রসঙ্গ বাদ দেওয়া হয়েছে। দফাগুলো বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানা গেছে।

হেফাজত নেতারা বলছেন, নারীর বিষয়ে ইসলাম সব সময় উদার। তারাও বিষয়টিকে সেই উদারতার জায়গা থেকে দেখছেন। তবে ধর্মীয় অনুশাসন থেকে তারা সরে আসেননি। সংগঠনের এই পরিবর্তন কোনো আদর্শিক পরিবর্তন নয়, বরং দাবিগুলোকে সময়োপযোগী করতে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সংবিধান, সংস্কৃতি, নারী-পুরুষের সামাজিক আচরণ, গণমাধ্যম ও মূর্তি-ভাস্কর্য নিয়ে ২০১৩ সালে হেফাজতের যে দাবিগুলো ছিল, সেগুলোর বড় অংশই নতুন ৯ দফায় নেই। ১৩ দফা থেকে শুধু চারটি দফা বাদ দেওয়াই নয়, প্রায় প্রতিটি দাবির ভাষা, পরিধি ও রাজনৈতিক তাৎপর্যে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এই পরিবর্তনে সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিধিনিষেধ-সংক্রান্ত দাবি কমেছে। আর বিচার, কওমি শিক্ষা, রাষ্ট্রীয় কাজে আলেমদের অংশগ্রহণ এবং সংগঠনটির অভ্যন্তরীণভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাবলিগ জামাত ইস্যু বেশি স্পষ্ট হয়েছে। তবে ধর্মীয় অবমাননার বিরুদ্ধে আইন, কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা এবং ইসলাম ধর্মশিক্ষা বাধ্যতামূলক করার মতো মূল দাবিগুলো বহাল রেখেছে তারা।

হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ সাজেদুর রহমান সমকালকে বলেন, হেফাজতের ১৩ দফাকে ৯ দফায় কমিয়ে আনা হয়েছে। এতে যেমন কিছু বিষয় নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে, তেমনি কিছু বাদও দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নারীর বিষয়ে ইসলাম সব সময় উদার। আমরা ইসলামের মূলনীতি ঠিক রেখে নারীর শালীনতায় বিশ্বাসী। তাই এই পরিবর্তনকে ভিন্নভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।’

তবে সুশাসনের জন‍্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবীর চৌধুরী সমকালকে বলেন, সরকারের সঙ্গে যাতে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিতে যেতে না হয়, সেজন্য কৌশল হিসেবে সংগঠনটি এই পরিবর্তন এনে থাকতে পারে।

সময়োপযোগী দাবির তালিকা প্রণয়ন করতে হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ সাজেদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটি ৯ দফা দাবি প্রণয়ন করে। পরে হেফাজত আমিরের অনুমোদনক্রমে তা চূড়ান্ত হয়।

গত ৯ আগস্ট চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে হেফাজত আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ৯ দফাসংবলিত লিখিত তালিকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। সে সময় সরকারের কার্যক্রম, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়।

হেফাজতের বর্তমান ও অতীতের দাবিগুলো বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে হেফাজতের দাবিনামায় পরিবর্তন আসতে শুরু করে। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের দাবিনামায় প্রথম পরিবর্তন আনা হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দাবিনামায় আরেক দফা পরিবর্তন আনে তারা।

হেফাজতের একাধিক নেতা ও বিএনপির একটি সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত সংসদ নির্বাচনের আগে থেকে বিএনপির সঙ্গে হেফাজতের দৃশ্যমান বোঝাপড়া তৈরি হয়। ফলে আগের কয়েকটি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ দাবি সংগঠনটি নিজে থেকে বাদ দেয়।

সার্বিকভাবে কী বদলেছে
বিশ্লেষকরা বলছেন, হেফাজতের এই পরিবর্তনে অন্তত চারটি প্রবণতা স্পষ্ট। প্রথমত, ২০১৩ সালের তালিকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ন্ত্রণে অনেক দাবি যেমন, নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, বিজাতীয় সংস্কৃতি, মূর্তি-ভাস্কর্য, গণমাধ্যমে দাড়ি-টুপি নিয়ে ব্যঙ্গ, শাহবাগ ও ব্লগার প্রসঙ্গ নতুন তালিকায় নেই।

দ্বিতীয়ত, ধর্মীয় দাবিগুলোর মধ্যে কিছু বিষয় রাখা হলেও ভাষা পরিবর্তন করা হয়েছে। যেমন মৃত্যুদণ্ডের জায়গায় সর্বোচ্চ শাস্তি; ইসলামবিরোধী শিক্ষানীতি বাতিলের বদলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ইসলাম ধর্মশিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি তোলা হয়েছে।

তৃতীয়ত, নতুন তালিকায় অতীতের রাজনৈতিক ঘটনা ও বিচার একটি বড় জায়গা নিয়েছে। বিশেষ করে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে হত্যাযজ্ঞ– এই তিন সময় পর্বকে বিচারের দাবির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

চতুর্থত, কওমি মাদ্রাসা ও আলেম সমাজ ঘিরে দাবির ধরনও বদলেছে। শুধু মামলা প্রত্যাহার বা হয়রানি বন্ধ নয়; দাওরায়ে হাদিসের স্বীকৃতি বাস্তবায়ন, সরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ এবং রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে আলেমদের অংশীদার করার দাবি যুক্ত হয়েছে।

নারী-পুরুষের সামাজিক আচরণ ও বিজাতীয় সংস্কৃতি প্রসঙ্গ বাদ
১৩ দফার চতুর্থ দফায় ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতার নামে ‘বেহায়াপনা, অনাচার, ব্যভিচার’, প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, মোমবাতি প্রজ্বালনসহ ‘বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ’ বন্ধের দাবি ছিল। ৯ দফায় এই দাবির কোনো অংশই নেই। পরিবর্তনের অন্যতম বড় দিক– ব্যক্তিজীবন, সামাজিক আচরণ ও সাংস্কৃতিক চর্চা নিয়ন্ত্রণের দাবি থেকে সরে এসেছে হেফাজত।

নারীনীতি ও শিক্ষানীতির বিরোধিতার বদলে শুধু ধর্মশিক্ষা
পুরোনো পঞ্চম দফায় ‘ইসলামবিরোধী নারীনীতি’ ও ‘ধর্মহীন শিক্ষানীতি’ বাতিলের পাশাপাশি প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি ছিল। নতুন তালিকায় নারীনীতি বাতিলের দাবি নেই। শিক্ষানীতি বাতিলের কথাও নেই। শুধু বলা হয়েছে, প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

জানতে চাইলে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরীন পারভীন হক সমকালকে বলেন, ‘তারা বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। এতে তাদের চিন্তার জায়গাতেও কিছু পরিবর্তন এসেছে বলে আমি মনে করি।’

সংবিধান সংশোধনের দাবি বাদ
১৩ দফার প্রথম দফায় ছিল সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন এবং কোরআন-সুন্নাহবিরোধী সব আইন বাতিলের দাবি। ৯ দফায় এর প্রথম অংশটি রাখা হয়নি। সেখানে বলা হয়েছে, ‘কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস করা যাবে না।’

অর্থাৎ আগের দাবিতে সংবিধানের মূলনীতিতে পরিবর্তনের কথা স্পষ্টভাবে বলা হলেও নতুন দাবিতে তা থেকে সরে কেবল আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হওয়ার কথা বলা হয়। হেফাজত নেতারা বলছেন, বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহারে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ কারণে দাবিটি আর রাখা হয়নি।

‘মৃত্যুদণ্ড’ থেকে ‘সর্বোচ্চ শাস্তি’
দুই তালিকাতেই আল্লাহ, রাসুল (সা.), কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননার বিরুদ্ধে আইন প্রণয়নের দাবি করা হয়েছে। ১৩ দফার দ্বিতীয় দফায় ‘সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে’ আইন করার কথা বলা হয়েছিল। ৯ দফায় বলা হয়েছে, ‘সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে’ আইন করতে হবে। অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড শব্দটি নেই।

আরেকটি পরিবর্তন হলো, ১৩ দফায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে ‘কুৎসা’ রোধের কথাও ছিল। নতুন দাবিতে মূলত আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননার বিষয়টি রাখা হয়েছে। ১৫ আগস্ট ঢাকায় জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলনেও এ ধরনের দাবি উত্থাপিত হয়েছিল।

শাহবাগ, ব্লগার ও ‘নাস্তিক-মুরতাদ’ প্রসঙ্গ নেই
১৩ দফার তৃতীয় দফায় শাহবাগ আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারী ‘স্বঘোষিত নাস্তিক-মুরতাদ’, ব্লগার ও ইসলামবিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ছিল। ৯ দফায় বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে।

কাদিয়ানিদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হিযবুত তওহিদ
কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা– পুরোনো ও নতুন দুই তালিকাতেই আছে। তবে পুরোনো দাবিতে কাদিয়ানিদের প্রচারণা ও ‘ষড়যন্ত্রমূলক অপতৎপরতা’ বন্ধের কথা ছিল। ৯ দফায় কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের সঙ্গে হিযবুত তওহিদকে নিষিদ্ধ করার দাবি যুক্ত হয়েছে।

মূর্তি-ভাস্কর্যের দাবি পুরোপুরি বাদ
পুরোনো তালিকার অন্যতম দৃশ্যমান সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক দাবি ছিল (১৩ দফার সপ্তম দফা) ঢাকাকে ‘মসজিদের নগর’ থেকে ‘মূর্তির নগর’-এ রূপান্তর এবং রাস্তার মোড়, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপনের বিরোধিতা করা হয়েছিল। ৯ দফায় মূর্তি বা ভাস্কর্য নিয়ে কোনো দাবি নেই।

মসজিদ, ওয়াজ ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের স্বাধীনতার দাবি ছিল ১৩ দফায়। ৯ দফায় এটিও বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৩ সালের নবম দফায় রেডিও-টেলিভিশনসহ গণমাধ্যমে দাড়ি-টুপি ও ইসলামী সংস্কৃতি নিয়ে হাসিঠাট্টা এবং নাটক-সিনেমায় ধর্মীয় পোশাককে নেতিবাচক চরিত্রে ব্যবহারের মাধ্যমে ইসলামবিদ্বেষ সৃষ্টি বন্ধের দাবি ছিল। এই সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যমকেন্দ্রিক অংশ ৯ দফায় রাখা হয়নি।

এনজিও-মিশনারি থেকে শুধু পার্বত্য চট্টগ্রাম
পুরোনো দশম দফায় পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারা দেশে ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত এনজিও ও খ্রিষ্টান মিশনারিদের ধর্মান্তরকরণসহ সব কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি ছিল। এখন বিষয়টি অনেক বেশি নির্দিষ্ট ও সীমিত করে বলা হয়েছে– ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দেশি-বিদেশি মিশনারিদের ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে।’ ধর্মান্তর কার্যক্রম বন্ধের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে।

নতুন সংযোজন– শাপলা ও জুলাই-আগস্ট
৯ দফায় স্পষ্ট পরিবর্তন এসেছে বিচারসংক্রান্ত দাবিতে। এর তৃতীয় দফায় বলা হয়েছে, শাপলা চত্বরে ‘গণহত্যায়’ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে হবে। চতুর্থ দফায় ২০২১ সালের মোদিবিরোধী (ভারতের প্রধানমন্ত্রী) আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-হত্যাযজ্ঞে জড়িত হুকুমের আসামি ও খুনিদের বিচার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ হেফাজত নেতাকর্মীদের মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার ও হামলার বিচারকেন্দ্রিক দাবি রাজনৈতিক সহিংসতার বিচার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।

এ বিষয়ে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরীন পারভীন হক বলেন, ‘শাপলা চত্বরে সেদিন কী ঘটেছিল, তা নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হওয়াকে আমি স্বাগত জানাই। কারণ, সেদিন যেভাবে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আমরা সত্য জানতে চাই। প্রকৃত সত্য জানার অধিকার নাগরিক হিসেবে আমাদের রয়েছে।’

কওমি মাদ্রাসা নিয়ে নতুন অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দাবি
১৩ দফায় ছিল কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা, হুমকি ও হয়রানি বন্ধের দাবি। ৯ দফায় যুক্ত হয়েছে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ। দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ উন্মুক্ত করার পাশাপাশি সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রিকে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করা হয়েছে।

আলেমদের পুনর্গঠনে অংশীদার করার দাবি
নতুন নবম দফায় মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের পাশাপাশি বলা হয়েছে, আলেম-ওলামাকে রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে অংশীদার করতে হবে। এটি ভাষাগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। পুরোনো দাবিতে আলেমদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ ও মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছিল। নতুন দাবিতে তাদের রাষ্ট্র পরিচালনা ও পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় অংশীদার করার একটি রাজনৈতিক ভূমিকার দাবি যুক্ত হয়েছে।

সাদ কান্ধলভী ও তাবলিগ জামাত নতুন করে দাবির কেন্দ্রে
হেফাজত বলছে, বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম ও বিশ্ব ইজতেমা ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে এসেছে। একই সঙ্গে ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বাংলাদেশে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থিদের ইজতেমার অনুমতি না দেওয়ার দাবি করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও হেফাজত সাদ কান্ধলভীর বাংলাদেশে আসা এবং তাবলিগের বিরোধ নিয়ে অবস্থান জানিয়েছে।

যা বললেন হেফাজত নেতা
হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ‘হেফাজতের দাবির তালিকায় কী আছে, কী নেই, সেটি বড় কথা নয়। ইসলাম নারীকে সবচেয়ে বেশি অধিকার দিয়েছে। তথাকথিত সেকুলাররা নারীর অধিকারের নামে, আধুনিকতার নামে তাদের পণ্যে পরিণত করতে চায়। আমরা সব সময় তার বিরোধিতা করে আসছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ভাস্কর্যের নামে মূতি নির্মাণ করা হয়েছিল। আমরা তার প্রতিবাদ করেছিলাম। তাদের পতন ঘটেছে। বর্তমান সরকার ভাস্কর্যের নামে মূর্তি নির্মাণ করবে না বলে আমাদের বিশ্বাস। একই কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে কথিত শাহবাগে আন্দোলনকারী স্বঘোষিত নাস্তিক-মুরতাদদের শাস্তি দাবির বিষয়টিও।

হিযবুত তওহিদ নিষিদ্ধের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, তারা ইসলামকে বিকৃত করছে, বিভিন্ন ফিতনামূলক কর্মকাণ্ড করছে। এ জন্য সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করতে দাবির তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার দাবি হুতিদের

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের দক্ষিণে জ্বালানি তেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। গোষ্ঠীটির দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

গতকাল শনিবার ওই স্থাপনার আশপাশ থেকে আগুনের শিখা ও ধোঁয়ার বড় কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষ বা সৌদি আরামকোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন এলাকায় সৌদি আরব হামলা চালাচ্ছে। এর জবাবে রিয়াদের কাছে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালানো হয়েছে।

ইয়াহিয়া সারির দাবি, হুতিদের হামলার কারণে রিয়াদের দক্ষিণে ওই তেল স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। গত ২৪ ঘণ্টায় হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোয় সৌদি আরব প্রায় ৬০টি বিমান হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে গত জুলাইয়ে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এরপর থেকে দুই পক্ষই পরস্পরের বিভিন্ন অবস্থানে হামলা চালিয়ে আসছে।

হুতিরা ইয়েমেনের আরও কিছু এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পাশাপাশি লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেব প্রণালিতে নিজেদের অবস্থান জোরদার করেছে। ওই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে হুতিদের ওপর বড় ধরনের অভিযান চালাচ্ছে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী। সাম্প্রতিক এসব হামলায় হাজারো হুতি যোদ্ধা হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।

হুতিদের কোণঠাসা করতে বড় ধরনের অভিযান শুরুর পরিকল্পনাও করছে সৌদি আরব। ইরানপন্থী এই গোষ্ঠীকে পরাস্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে সৌদি আরব সহযোগিতা পাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ব্যর্থতার পর পদ ছাড়ছেন টেনেসির কারাপ্রধান

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর পদত্যাগ করছেন রাজ্যের কারা বিভাগের প্রধান ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডা। গত বুধবার প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও পাইকের মৃত্যু হয়নি। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

শনিবার টেনেসির গভর্নর বিল লি ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনের কমিশনার স্ট্রাডার সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

স্ট্রাডা বলেন, তার পদত্যাগ টেনেসি অঙ্গরাজ্যের স্বার্থেই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থতার ঘটনা নিয়ে যে তদন্ত চলছে, সেটি যথাযথ ও প্রয়োজনীয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর। পাশাপাশি চলতি বছরের জন্য অঙ্গরাজ্যে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন তিনি।

পাইকের আইনজীবীরা স্ট্রাডার পদত্যাগকে ‘ন্যায্য’ সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তারা বলেছেন, এতে এখন ক্রিস্টা পাইকের কোনো উপকার হবে না।

আইনজীবীদের বিবৃতিতে বলা হয়, বুধবার পাইকের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা শুধু একজন ব্যক্তির ব্যর্থতা নয়; এর সঙ্গে টেনেসির পুরো মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থার কাঠামোগত ব্যর্থতা জড়িত। গভর্নরের নির্দেশ দেওয়া পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে অঙ্গরাজ্যের মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থার গুরুতর সমস্যাগুলো বেরিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।

বুধবার ক্রিস্টা পাইকের শরীরে প্রাণঘাতী ওষুধ পেন্টোবারবিটালের দুটি ডোজ প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু দুই দফা ইনজেকশন দেওয়ার পরও তিনি বেঁচে ছিলেন। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইনজেকশন দেওয়ার সময় পাইকের কান্না, কাতর শব্দ ও জোরে শ্বাস নেওয়ার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তিনি অচেতন ছিলেন এবং তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছিল।

বর্তমানে টেনেসির ন্যাশভিলের একটি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। আইনি নথিতে বলা হয়েছে, চিকিৎসকেরা তার শরীর থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ব্যবহৃত ওষুধের প্রভাব দূর করার চেষ্টা করছেন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

এদিকে পাইকের মৃত্যুদণ্ড আবার কার্যকর করার চেষ্টা করা হবে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো কিছু জানায়নি। ব্যর্থতার কারণ সম্পর্কেও কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। পাইকের আইনজীবীরা শুক্রবার জরুরি আবেদন করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘সব ধরনের প্রমাণ’ সংরক্ষণের অনুরোধ করেছেন।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে পাইকের আইনজীবীরা তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। তারা বলেছিলেন, পাইকের চিকিৎসা ইতিহাস ও শারীরিক গঠনের কারণে প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগে অতিরিক্ত ব্যথা ও কষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাইকের থ্রম্বোসাইটোসিস নামের একটি রক্তজমাট-সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে এবং তার শিরাগুলোও তুলনামূলকভাবে ছোট। এসব কারণে ইনজেকশন প্রয়োগের সময় জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছিলেন।

তবে একাধিক দফায় আইনি চ্যালেঞ্জের পরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়। মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের জন্য পাইকের আইনজীবীদের করা দুটি পৃথক আবেদনও যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রত্যাখ্যান করেন। পরে টেনেসির গভর্নরও তার ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন নাকচ করেন।

পাইকে টেনেসির মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারীদের মধ্যে একমাত্র বন্দী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে ক্রিস্টা পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ঘটনার সময় পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর। সে সময় তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল টাডারিল শিপের। তারা দুজন মিলে স্লেমারকে মারধর, নির্যাতন ও হত্যা করেন বলে মামলায় উঠে আসে।

পরের বছর, ১৯৯৬ সালে পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। টেনেসির নক্সভিলে ওই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে সে সময় ব্যাপক সংবাদমাধ্যমের আগ্রহ তৈরি হয়েছিল।

সরকারি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রিতে অভিযান, ১৬ জেলায় ৩৯ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী বিশেষ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ঢাকা মহানগরসহ দেশের ১৬ জেলায় পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শনিবার অধিদপ্তরের ২৩টি টিম একযোগে ডিলার, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোয় অভিযান পরিচালনা করে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা, গ্যাস সিলিন্ডারের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দাম আদায় ঠেকাতে এ তদারকি চালানো হয়।

অভিযানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও প্রদান, সিলিন্ডারের নিরাপত্তা বিধি প্রতিপালন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কিনা তা যাচাই করা হয়।

একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মজুত ও সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং সরকার নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রির বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।

ভোক্তাদের গ্যাস সিলিন্ডার কেনার আগে ওজন, সিল, মেয়াদ ও দৃশ্যমান ত্রুটি পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর। পাশাপাশি মূল্যতালিকা যাচাই এবং ক্রয়ের সময় রশিদ বা ভাউচার সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।

গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রিতে কোনো অনিয়ম দেখা গেলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১-এ অভিযোগ জানাতে পারবেন ভোক্তারা। অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাজারে শৃঙ্খলা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহারকারী এক বছরে বেড়ে তিন গুণ

দেশের ব্যাংকগুলোতে অ্যাপ ব্যবহারকারী গ্রাহক দ্রুত বাড়ছে। গত জুলাই শেষে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের প্রধান মাধ্যম অ্যাপে গ্রাহক সংখ্যা বেড়ে প্রায় দুই কোটি ১০ লাখ হয়েছে। গত বছরের আগস্টে যা ছিল ৭২ লাখের কম। এর মানে এক বছরের ব্যবধানে অ্যাপ ব্যবহারকারী গ্রাহক এক কোটি ৩৮ লাখের বেশি বেড়ে প্রায় তিন গুণ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, অ্যাপভিত্তিক লেনদেন ও গ্রাহক বৃদ্ধির সঙ্গে বাংলা কিউআরের সম্পর্ক রয়েছে। ২০২৩ সালে আন্তঃব্যাংক কোডভিত্তিক লেনদেন নিষ্পত্তিতে বাংলা কিউআর চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে সব প্রতিষ্ঠানের কোডভিত্তিক লেনদেন বাংলা কিউআরে প্রতিস্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়।

গত বছরের নভেম্বরে বাংলা কিউআরে লেনদেন আরও গতিশীল করতে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা বিভিন্ন নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিশেষ করে বাংলা কিউআরে লেনদেনের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হিসাবে জমা দিতে বলা হয়। এ ছাড়া বাংলা কিউআরের কারণে যে কোনো ব্যাংক বা এমএফএসের অ্যাপ থাকলেই পরিশোধ করা যায়। এসব কারণে দ্রুত বেড়েছে। গত জুলাইয়ের পর এখনও তথ্য আপডেট করেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এটা আরও অনেক বেড়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সমকালকে বলেন, এক সময় অ্যাপভিত্তিক লেনদেন কেবল এমএফএসের জন্য মনে করা হতো। তবে বাংলা কিউআর আসার পর ব্যাংক, এমএফএসসহ সবাই এর গুরুত্ব বুঝেছে। গত ১ জুলাই থেকে সব প্রতিষ্ঠানের কিউআর বাংলা কিউআরে প্রতিস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি যেসব ব্যাংকের অ্যাপ ছিল না, তাদের এ ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অ্যাপের দৃশ্যমান স্থানে বাংলা কিউআর আইকন যুক্ত করাসহ বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যে কারণে সামগ্রিকভাবে অ্যাপ ব্যবহারী গ্রাহক ও লেনদেন বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী গত বছরের নভেম্বরের পর অ্যাপ ব্যবহারকারী গ্রাহক লাফিয়ে বেড়েছে। গত বছরের নভেম্বরে মোট অ্যাপ ব্যবহারী গ্রাহক ছিল ৮৫ লাখ ৭২ হাজার। পরের মাস ডিসেম্বরে তা বেড়ে এক কোটি ৪৯ লাখ ছাড়িয়ে যায়। এরপর প্রতি মাসে বেড়ে গত জুলাইতে দুই কোটি ৯ লাখ ৭৫ হাজার ৩২৫টিতে ঠেকেছে। এর মধ্যে পুরুষ এক কোটি ৬৭ লাখ ৭২ হাজার। আর নারী ৩৮ লাখের বেশি। এ ছাড়া বিভিন্ন করপোরেট গ্রাহকসহ অন্যান্য অ্যাপ ব্যবহারী আছেন চার লাখের বেশি।

গত বছরের আগস্টে মোট ৭১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৮৯ জনের মধ্যে যেখানে মাত্র ৫২ লাখ ৬৫ হাজার ছিলেন পুরুষ অ্যাপ ব্যবহারকারী। নারী ছিলেন মাত্র ১৪ লাখ ৩৫ হাজার। আর করপোরেটসহ অন্যান্য গ্রাহক ছিল চার লাখ ৬৭ হাজার। এ সময়ে মোট ব্যবহারকারী বেড়ে প্রায় তিন গুণ হলেও করপোরেট, তৃতীয় লিঙ্গের গ্রাহকসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে কমেছে।

ব্যাংকগুলোর ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহারের প্রধান মাধ্যম এখন অ্যাপ। অ্যাপ ছাড়াও শুধু ব্রাউজারভিত্তিক ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহারকারী গ্রাহকও আছে। মূলত ব্যাংকের ওয়েব পোর্টাল বা ইন্টারনেট ব্রাউজারে ব্যাংকের ওয়েবসাইটে লগইন করে এসব গ্রাহক লেনদেন ও দাপ্তরিক কাজ করে থাকে। এক সময় ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে অ্যাপের অনুপাতে এ রকম গ্রাহক সংখ্যা যা ছিল, সে তুলনায় এখন কমছে। মূলত বাড়তি ঝামেলা, বেশির ভাগ ব্যাংকে অ্যাপভিত্তিক লেনদেনের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন কারণে এখন ব্রাউজভিত্তিক গ্রাহক কমে এসেছে।

গত জুলাইতে কেবল ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের ব্রাউজারভিত্তিক গ্রাহক সংখ্যা ছিল ২৪ লাখ ৮৯ হাজার। অ্যাপ এবং ব্রাউজারভিত্তিক মিলিয়ে এখন ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ৩৪ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি। গত বছরের আগস্টে ব্রাউজারভিত্তিক গ্রাহক ছিল ৪৮ লাখ। সব মিলিয়ে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক ছিল এক কোটি ১৯ লাখ ৬৭ হাজার।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের লেনদেনও অনেক বেড়েছে। চলতি বছরের জুলাইতে অ্যাপ থেকে মোট এক লাখ ৭৪ হাজার ১২৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়। গত বছরের আগস্টে যা ছিল এক লাখ ১২ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা। এ সময়ের মধ্যে কোনো একক মাসে সর্বোচ্চ গত জুনে এক লাখ ৮৪ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। ওই মাসে কোরবানি ঈদ ছিল।

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক রেফাত উল্লাহ খান সমকালকে বলেন, ‘অর্থনীতির আকার যত বড় হবে নগদবিহীন লেনদেনের প্রয়োজনীয়তা তত বাড়বে। বিশ্বের অনেক দেশে এখন নগদ লেনদেন করা যায় না। বাংলাদেশকেও সেদিকেই যেতে হবে। এখন বাংলা কিউআর এসেছে। গ্রাহকদের যত স্বাচ্ছন্দ্য দেওয়া যাবে, ক্যাশলেস লেনদেন তত বাড়বে।’

তিনি বলেন, ব্র্যাক ব্যাংক শুরু থেকেই ডিজিটাল লেনদেনের ওপর জোর দিয়ে আসছে। ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যক্তি গ্রাহকদের ‘আস্থা’ অ্যাপে প্রতি মাসে এখন গড়ে ৩০ হাজার কোটি টাকা এবং করপোরেট গ্রাহকদের ‘কর্পনেট’ অ্যাপে ৩০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। আরও উন্নত ও মানসম্মত সেবার মাধ্যমে এ ব্যবস্থা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সাত দশক পেরিয়ে কচি-কাঁচার মেলায় আনন্দোৎসব

০

শিশু-কিশোরদের সাহিত্য, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চায় সাত দশক পূর্ণ করেছে ঐতিহ্যবাহী সংগঠন কচি-কাঁচার মেলা। প্রতিষ্ঠার ৭০ বছরপূর্তি উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে দুদিনব্যাপী আনন্দোৎসব।

গতকাল সেগুনবাগিচায় দেশের বিভিন্ন শাখা থেকে আসা শিশু-কিশোর, সংগঠক ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে দিনভর ছিল উৎসবের আবহ। ১৯৫৬ সালের ৫ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত কচি-কাঁচার মেলা দীর্ঘ সাত দশক ধরে শিশু-কিশোরদের সাহিত্য, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা, মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে কাজ করে আসছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজনেও শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা ও যুক্তিনির্ভর চিন্তার প্রকাশ ঘটেছে নানা কর্মসূচিতে।

সকালে দেয়ালপত্রিকা প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের আয়োজন। দেশের বিভিন্ন শাখার ভাইবোনদের তৈরি দেয়ালপত্রিকায় উঠে আসে তাদের চিন্তা, সাহিত্যচর্চা, চিত্রকর্ম ও সৃজনশীলতার নানা প্রকাশ। প্রতিযোগিতায় প্রথম হয় রাজেন্দ্রপুর অগ্নিবীণা কচি-কাঁচার মেলা, দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে মতলব সূর্যমুখী কচি-কাঁচার মেলা।

এরপর অনুষ্ঠিত হয় বাংলা বর্ণমালা বিষয়ক কর্মশালা। শিল্পী, ডিজাইনার ও বাংলা টাইপোগ্রাফি গবেষক সব্যসাচী হাজরা কর্মশালাটি পরিচালনা করেন। বাংলা বর্ণের ইতিহাস, উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ শিশু-কিশোরদের কাছে সহজভাবে তুলে ধরেন তিনি। সময়ের সঙ্গে বাংলা বর্ণের পরিবর্তন, হরফের গঠন এবং মুদ্রণের সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা করেন।

সাত দশক পূর্তি উপলক্ষে গত ২৮ ও ২৯ আগস্ট ‘যুক্তিতে শাণিত হোক ভাবনা ও ভাষা’ স্লোগানে অনুষ্ঠিত বিতর্ক কর্মশালার ধারাবাহিকতায় গতকাল বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয়। কেন্দ্রীয় মেলাসহ মোট আটটি মেলার ৫৮ জন এতে অংশ নেয়। কর্মশালার বাছাই পর্ব থেকে নির্বাচিত আটজনকে নিয়ে গঠিত হয় ‘কচি দল’ ও ‘কাঁচা দল’।

প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল, ‘শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা উচিত।’ টসের মাধ্যমে পক্ষ-বিপক্ষ নির্ধারণের পর দুই দলের বিতার্কিকরা তথ্য, যুক্তি, পাল্টা যুক্তি ও খণ্ডনের মাধ্যমে বিষয়টির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় ‘কাঁচা দল’ এবং রানার্সআপ হয় ‘কচি দল’। শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক নির্বাচিত হয় কচি দলের স্বস্তিকা সাহা মন।

চ্যাম্পিয়ন কাঁচা দলের সদস্যরা হলেন দলনেতা নিহারা চক্রবর্তী (গেণ্ডারিয়া কিশলয় কচি-কাঁচার মেলা), ফাইরুজ ইসলাম ও সুদেষ্ণা সাহা দুষ্টু (কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা) এবং অভিরূপ চৌধুরী (অনির্বাণ কচি-কাঁচার মেলা, শ্রীমঙ্গল)। রানার্সআপ কচি দলের সদস্যরা হলো দলনেতা আরিয়ান চৌধুরী (কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা), নূরুননাহার জারিফা (গেণ্ডারিয়া কিশলয় কচি-কাঁচার মেলা), চিত্রিতা সরকার (উল্লাপাড়া রিমঝিম কচি-কাঁচার মেলা) ও স্বস্তিকা সাহা মন (টাঙ্গাইল বৈশাখী কচি-কাঁচার মেলা)।

বিতর্কের মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সক্রিয় বিতার্কিক সুস্ময় চক্রবর্তী। বিচারক ছিলেন বিতার্কিক, একাডেমিক প্রশিক্ষক ও আবৃত্তিশিল্পী লাবণ্য মল্লিক।

কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার সভাপতি খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান দেয়ালপত্রিকা প্রদর্শনী, বাংলা বর্ণমালা কর্মশালা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশু-কিশোরদের অভিনন্দন জানান। শিশু-কিশোরদের সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণে শিক্ষা, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিচর্চায় আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিকেলে সারাদেশের বিভিন্ন শাখা থেকে আসা শিশু-কিশোরদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গান, নৃত্য ও আবৃত্তির পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ।

আজ শনিবার উৎসবের দ্বিতীয় দিনে সকালে রয়েছে স্মৃতিচারণমূলক আয়োজন। বিকেলে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হবে কচি-কাঁচার মেলার সাত দশকপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ উৎসব।

বিশ্বজুড়ে খাদ্যঝুঁকিতে দুই কোটির বেশি নারী-কন্যাশিশু ইউএন উইমেনের প্রতিবেদন

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের আভাস দিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের লিঙ্গসমতা ও নারী ক্ষমতায়নবিষয়ক সংস্থার (ইউএন উইমেন) প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তাদের সমীক্ষা চালানো ২৮টি দেশে ইতোমধ্যে প্রায় ২০ কোটি ৮০ লাখ নারী ও কন্যাশিশু খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।

বছরের শেষ নাগাদ নতুন করে আরও দুই কোটি ২০ লাখ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হতে পারে। নতুন যুক্ত হতে যাওয়া এই জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি, অর্থাৎ ৫৩ শতাংশই (এক কোটি ১৭ লাখ) নারী ও কন্যাশিশু।

ইউএন উইমেন জানায়, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি, সার ও পরিবহন খরচ বাড়ছে, যা বিশ্বজুড়ে খাদ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে। সংকটে জর্জরিত দক্ষিণ সুদান, সুদান, হাইতি, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনের মতো দেশগুলোতে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

দক্ষিণ সুদানের মোট নারী জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি সাতজনে একজন নতুন করে খাদ্য সংকটে পড়তে পারেন। লেবাননে এই হার প্রায় ৪ শতাংশ। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীর অনুপাত আফগানিস্তানে ৬০, ইয়েমেনে ৫৭ শতাংশের বেশি ও সুদানে ৫৬ শতাংশ।

ব্রোঞ্জও জেতা হয়নি লিটনদের

০

চারপাশে সবুজায়ন। মাঝে করোগি অ্যাথলেটিক পার্ক। চোখ ধাঁধানো এই গ্রাউন্ডেই কিনা বাংলাদেশের ক্রিকেটের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। এশিয়ান গেমসে যে ক্রিকেটকে ঘিরে পদকের স্বপ্ন ছিল, বাইজ গজের সেই লড়াইয়ে লিটন কুমার দাসরা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। নারী ক্রিকেট দলের পর ছেলেরাও এশিয়াডে ব্রোঞ্জ জিততে পারেনি।

গতকাল অপেক্ষাকৃত দুর্বল শ্রীলংকার কাছে ৬৩ রানের পরাজয়ে পদকের স্বপ্নের সলিল সমাধি ঘটেছে বাংলাদেশের। সর্বশেষ হ্যাংঝু এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট থেকে এসেছিল দুটি ব্রোঞ্জ। এবার শূন্য হাতেই ফিরিয়ে দিয়েছে ক্রিকেট। আইচি নাগোয়া এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রাপ্তি বলতে উশুর জিন্নাত আক্তারের অপ্রত্যাশিক সেই ব্রোঞ্জ পদকটি।

এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ এবং ভারত শক্তিশালী দল পাঠিয়েছিল। তৃতীয় শক্তিধর দল হলো পাকিস্তান। এই শ্রীলংকা দলে নেই কোনো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। পুরোপুরি তারুণ্য নির্ভর দল নিয়ে এশিয়াডে আসে তারা। এই দলটির সঙ্গেই কিনা পেরে ওঠেনি তারায় তারায় খচিত বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

শ্রীলংকার ১৬৬ রানের টার্গেট তাড়া করতে নামা বাংলাদেশ শূন্য রানেই হারায় দুই ওপেনার সাইফ হাসান এবং তানজিদ হাসান তামিমকে। রান খরায় ভুগতে থাকা লিটন কুমার দাস পারেননি সময়ের দাবি মিটিয়ে ব্যাট করতে। থুসারার বলে বোল্ড হয়ে যাওয়া বাংলাদেশ অধিনায়ক নিজের নামে পাশে কোনো রান যোগ করতে পারেননি। দলের কঠিন সময়ে যেখানে তার হাল ধরার কথা, সেখানে লিটন কিনা বলের লেংথই বুঝতে পারেননি। ৪ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে খাদের কিনারা থেকে দলকে উদ্ধার করা তাওহীদ হৃদয় হাঁকিয়েছিলেন হাফ সেঞ্চুরি। লংকানদের বিপক্ষে হাসেনি হৃদয়ের ব্যাট। ৬ বলে ১১ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ১৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। তারপরেও সবাই আশায় বসে ছিল।

কারো ব্যাট যদি সাহান আরাচিগে এবং থারিঙ্গু রত্নায়েকের মতো হাসে। কারণ শ্রীলংকাও ২১ রানে ৪ উইকেট হারিয়েছিল। কিন্তু পারভেজ হোসেন ইমন এবং ইয়াসির আলী তাদের দু’জনের মতো হতে পারেননি। ২৪ রান করা ইমন দলীয় ৫০ রানে আউট হয়ে যান। ভাঙ্গে ৩২ রানের জুটি। শেখ মেহেদিও উইকেটের চরিত্র বুঝতে পারেননি। ভিয়াসকান্তের বলের ফ্লাইট বুঝতে পারেননি। ৫০ রানে ৬ উইকেটে হারানো বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর আশাটা প্রায়ই শেষ হয়ে যায়। তৃতীয় সর্বোচ্চ ২১ রান করা ইয়াসির আলীর প্রচেষ্টাও বিফলে যায়। বাকি ব্যাটসম্যানরাও পারেননি অবিশ্বাস্য কিছু করতে। নাসুম আহমেদের সর্বোচ্চ ২৬ রানের পরও বাংলাদেশ ১৭.৩ ওভারে ১০২ রানে গুটিয়ে যায়।

এর আগে শ্রীলংকা ১৬৫ রান তুলতে পেরেছে দুই ব্যাটার সাহান আরাচিগে এবং থারিঙ্গু রত্নায়েকের কল্যানে। ৫৪ রানে ৫ উইকেট হারানো লংকানরা যখন এক’শ রানের আগেই গুটিয়ে যাওয়ার শংকায় ছিল সেখান থেকে ষষ্ঠ উইকেটে ৯৩ রানের জুটি গড়ে দলকে শুধু বিপদ থেকেই উদ্ধার করেননি চ্যালেঞ্জিং স্কোরও দাঁড় করিয়ে দেন তারা। থারিন্দু ৬৫ এবং সাহানে করেন ৩৩ রান।  শুরুতে এলোমেলো হওয়া শ্রীলংকা ১৪–১৮ এই পাঁচ ওভারে ৮৩ রান করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রন নিয়ে নেয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে খরুচে বোলিং করা মুস্তাফিজুর রহমান ১৪তম ওভারে প্রথমবার বোলিং আসেন। দেন ২৫ রান। আগের ম্যাচে ২ ওভারে ৪১ রান দিয়ে এ পেসার এবার ৩ ওভারে দিয়েছেন ৪৩ রান, উইকেট পেয়েছেন ২টি। রহস্যময়ী স্পিনার আলিস আল ইসলামকে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলায়নি বাংলাদেশ। গতকাল ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে প্রথম স্পেলে তিনি ৩ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে এক উইকেট নিয়েছেন। ১৮ বলের মধ্যে ১২ বলই ছিল ডট। বাংলাদেশের সফল বোলার স্পিনার শেখ মেহেদী হাসান। তিনি পূর্ণ ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রানে দুই উইকেট নিয়েছেন।

রাজধানীতে মাদক ব্যবসায় যুক্ত ২৭.৪ শতাংশ ১৫ বছরের শিশু

ঢাকার কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে অটোরিকশায় মোহাম্মদপুরের দিকে যাচ্ছিল এক কিশোর। সন্দেহ হওয়ায় বছিলা চেকপোস্টে রিকশাটি থামায় পুলিশ। এ সময় কিশোরের সঙ্গে থাকা ট্রাভেল ব্যাগ তল্লাশি করে পাওয়া যায় ছয় কেজি গাঁজা। এর পর ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনা গত ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার। শুধু এই কিশোর নয়; মাঝেমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাদক ব্যবসায় যুক্ত থাকার অভিযোগে অনেক কিশোরকে গ্রেপ্তার করছে।

ঢাকা নগরীর মাদক ব্যবসা নিয়ে দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের করা এক গবেষণায় দেখা যায়, এখানে মাদক ব্যবসায় যুক্তদের একটি বড় অংশের বয়স ১৫ বছরের নিচে। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২৭ দশমিক ৪ শতাংশই ছিল এই বয়সশ্রেণিতে। ‘আনভেইলিং প্যাটার্নস অ্যান্ড সোশিওডেমোগ্রাফিক ক্যারেক্টারিস্টিকস অব ড্রাগ ট্রাফিকিং ইন ঢাকা সিটি, বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণাটি গত ১০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী পিএলওএস ওয়ানে প্রকাশিত হয়। ঢাকায় মাদক বিক্রির সঙ্গে যুক্ত এক হাজার ১৬ জনের সাক্ষাৎকারে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গবেষণাটি করা হয়। এর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে ২০২৩ সালের ২৩ এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, মাদক বিক্রির সঙ্গে যুক্ত শিশুদের ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের অভাব এবং নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে জবরদস্তির তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বড় অংশই ছিলেন আর্থসামাজিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। অনেকেই রাস্তায় থাকতেন বা গৃহহীন ছিলেন। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের গড় বয়স ছিল ২৬ দশমিক ৭ বছর। তাদের ৫৫ দশমিক ৭ শতাংশের পড়ালেখা ছিল প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত বা এর নিচে। প্রায় ২৯ শতাংশ ফুটপাতে থাকতেন এবং আরও প্রায় ১০ শতাংশ নিজেদের গৃহহীন বা ভাসমান হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। প্রায় এক-চতুর্থাংশ নারী অংশগ্রহণকারী পেশাদার যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করার কথা জানিয়েছেন।

গবেষণার তথ্য বলছে, ১৫ বছর বা এর কম বয়সী শিশুদের ইয়াবা বিক্রিতে সবচেয়ে বেশি সম্পৃক্ততা দেখা গেছে। হেরোইন বিক্রিতেও তাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের মধ্যে গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রির প্রবণতা বেশি। যৌন পেশায় যুক্ত নারীদের মধ্যে ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ততা বেশি পাওয়া গেছে। অন্য নারীদের ক্ষেত্রে হেরোইন ও গাঁজা বিক্রির হার তুলনামূলক বেশি ছিল।

মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার কারণ জানতে চাইলে শিশুদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যে কারণটি উঠে এসেছে, তা হলো কর্মসংস্থানের অভাব। নারীদের ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থান না থাকার কথা বেশি এসেছে। তবে শিশু, বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে বাধ্য করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে পাওয়া গেছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক সুযোগের অভাবকে বেশি উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণায় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিক্রির ধরনেও পার্থক্য দেখা গেছে। এক হাজার ১৬ জনের মধ্যে ২৫৩ জন শুধু গাঁজা বিক্রির কথা জানিয়েছেন। পল্টন ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তাদের বেশি উপস্থিতি দেখা যায়। ২৮৫ জন শুধু ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের কমলাপুর রেলস্টেশন ও বাড্ডায় বেশি উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ২২৮ জন গাঁজা ও ইয়াবা– দুটোই বিক্রির কথা জানিয়েছেন। তারা মূলত ফার্মগেট ও তেজগাঁওয়ে বেশি বিক্রি করেন। গাঁজা ও হেরোইন– দুটোই বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ২৫০ জন। তাদের সাভার ও পল্টনে বেশি দেখা গেছে।

গবেষকরা জানান, অংশগ্রহণকারীদের বাছাইয়ে ‘পারপাসিভ’ ও ‘স্নোবল স্যাম্পলিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ এটি এলোমেলোভাবে নির্বাচিত নমুনা নয়। অবৈধ ও গোপন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর জন্য গবেষকরা পরিচিত ব্যক্তি ও বিভিন্ন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী সংগ্রহ করেছেন। ফলে গবেষণার ফলাফলকে পুরো ঢাকা শহরের মাদক বিক্রেতাদের প্রতিনিধিত্বকারী পরিসংখ্যান হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাবে না।

এ গবেষণায় নেতৃত্ব দেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহাম ও ঢাকার ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ড. শাফায়াত হোসেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষণা কেন্দ্র এভিডেন্স ফর পলিসি অ্যান্ড প্র্যাকটিস ইনফরমেশন সেন্টারের গবেষক গ্যারেথ জে হল্যান্ডস, সৌদি আরবের ইমাম মোহাম্মদ ইবনে সৌদ ইসলামিক ইউনিভার্সিটির বৈজ্ঞানিক গবেষণা-সংক্রান্ত বিভাগের ডিন মো. আলামিন, চীনের চাংঝু ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মো. রোকনুজ্জামান, ঢাকার মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মাহদী হাসান ও সিরাজগঞ্জের মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের (ম্যাটস) শিক্ষার্থী সামিয়া আক্তার।

ড. শাফায়াত হোসেন সমকালকে বলেন, গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তির প্রায় ২৮ শতাংশ ১৫ বছর বা কম বয়সী– এই পরিসংখ্যান অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি নির্দেশ করে যে ঢাকার মাদক বাণিজ্যের কাঠামোতে শিশুশ্রমের মতো অপরাধমূলক শিশু-শোষণ গভীরভাবে শিকড় গেড়েছে। ১৫ বছর বা তার কম বয়সীরা সাধারণত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সন্দেহ থেকে দূরে থাকে। তাই মাদক সিন্ডিকেটগুলো এই বয়সসীমার শিশুদের জোর করে বা কৌশলে ব্যবহার করছে। এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের একটি সরাসরি প্রতিচ্ছবি।

মাদক পাচারের রুট

গবেষণায় হেরোইন, গাঁজা ও ইয়াবা ঢাকায় পৌঁছানোর কয়েকটি রুট চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে হেরোইন মূলত পাকিস্তানের লাহোর থেকে ওয়াঘা সীমান্ত হয়ে ভারতের পাটনা এবং সেখান থেকে বাংলাদেশে আসে। ঢাকায় আসা হেরোইন সাভার, মিরপুর ও মহাখালী, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ছড়িয়ে পড়ে।

গাঁজা ঢাকায় প্রবেশের দুটি প্রধান রুট চিহ্নিত করেছে গবেষণা। একটি ভারত থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে, অন্যটি কুমিল্লা হয়ে। দুটি রুটই ঢাকায় এসে মিলিত হয়। এর পর ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গাঁজা ছড়িয়ে পড়ে।

ইয়াবার উৎস মিয়ানমার। সেখান থেকে টেকনাফ সীমান্ত ছাড়াও ভারতের মিজোরাম ও মেঘালয় হয়ে প্রবেশ করে ইয়াবা। এর পর একাধিক রুটে সিলেট ও সুনামগঞ্জ হয়ে ঢাকায় আসে। গবেষণায় মিয়ানমার থেকে মিজোরাম ও মেঘালয় হয়ে আসা ইয়াবার রুটকে বৃহত্তর ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল’ মাদক পাচার নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, এসব পথে গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল অঞ্চলের উৎপাদনকেন্দ্র থেকে সরাসরি ঢাকার বাজারে মাদক প্রবেশ করে।

এ ছাড়া ভারতের দিক থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের আরও কয়েকটি রুটের কথা বলা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে– জামালপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ

গবেষণার মানচিত্রে তিনটি প্রধান আন্তঃসীমান্ত রুট আলাদাভাবে দেখানো হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে– পাকিস্তান-লাহোর-ওয়াঘা-পাটনা-বাংলাদেশ, ভারত-মিজোরাম-মেঘালয়-বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার-টেকনাফ-ঢাকা।