Home Blog Page 14

লোকসভা-রাজ্যসভায় প্রতিবেদন শেখ হাসিনাকে রাজনীতির অনুমতি দেয়নি ভারত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা দেওয়ার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষে ভারত থেকে দেশে ফিরবেন বলে সাম্প্রতিক সময়ে মন্তব্য করেছেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হন তিনি। তবে এসব খবরের মধ্যেই সামনে এসেছে ভারতের সংসদীয় কমিটির এক প্রতিবেদন।

‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে আশ্রিত থাকলেও শেখ হাসিনার সেখান থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি নেই।

গত বৃহস্পতিবার আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ভারত থেকে দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার হবেন শেখ হাসিনা। এরই মধ্যে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ওই অনুরোধ প্রসঙ্গে ভারতের সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তারা যথাযথ আইন ও প্রতিষ্ঠিত নীতির ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সেপ্রেসের খবর বলছে, ভারতের সংসদীয় কমিটির নেতৃত্ব দিয়েছেন কংগ্রেস এমপি শশী থারুর। বৃহস্পতিবার ভারতের লোকসভা ও রাজ্যসভায় উপস্থাপিত হয় প্রতিবেদনটি। কমিটির প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার অবস্থান প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ভারতের তাঁকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি মানবিক বিবেচনা ও দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে চলে আসা আশ্রয়নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে বাংলাদেশি নাগরিকদের স্বাভাবিক গতিতে ভিসা দেওয়ার প্রসঙ্গটিও উঠে এসেছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভিসা দেওয়ার হার কমিয়ে দেওয়ার কারণে জনমতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কও প্রভাবিত হচ্ছে। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারত গত ২৮ জুন থেকে পর্যটন ভিসা দেওয়া শুরু করেছে। এর আগের দুই বছর তারা এটি বন্ধ রেখেছিল।

এ ছাড়া ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানিচুক্তির মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছর। বিষয়টি নিয়ে ভারত সরকারকে অনতিবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে। কমিটি বলেছে, ২০২৬ সালে চুক্তিটি শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। তবে এটি পুনঃনবায়নের দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কমিটি এই উদ্যোগের প্রাথমিক কাজগুলো সম্পন্নের পরামর্শ দিচ্ছে।

সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে। এ ছাড়া উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চীনের প্রভাব বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে।

গত বৃহস্পতিবারই ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চীনের প্রভাব বাড়তে থাকা, বিশেষ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন খাতে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। ভারত সীমান্ত থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে চীনের সহায়তায় লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি উন্নত করা নিয়েও উদ্বেগ জানানো হয়। কমিটি বাংলাদেশে বিদেশি শক্তির কার্যকলাপ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য ভারত সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ভারত ‘পরিমিত ও হিসাবনিকাশভিত্তিক অ-হস্তক্ষেপ নীতি’ অনুসরণ করে বলে ওই সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে বিএনপির বিজয় এবং পরে তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি ভারত ‘ইতিবাচকভাবে’ দেখছে বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি তারেক রহমানকে ভারত সফরে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টিকে সাধুবাদ জানানো হয়।

জামায়াত ও এনসিপির ফেসবুকে বাদানুবাদ

এনসিপির কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী কড়া প্রতিক্রিয়া না দেখানোর কারণে বাহাস চলছে ফেসবুকে। জামায়াত এবং এনসিপির নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে বিতর্কে জড়িয়েছেন। জোটেও চলছে মন কষাকষির গুঞ্জন। যদিও দল দুটির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলেছেন, সামাজিক মাধ্যমের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের গুরুত্ব রাজনীতিতে নেই।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রার কর্মসূচিতে হামলা হয়।

দলটির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য সরকারি দলের মন্ত্রী, এমপিদের প্রতি অবমাননাকর বলে অভিযোগ করে ছাত্রদল হামলা করে। এতে আলিফ চৌধুরী নামে এনসিপির স্থানীয় এক কর্মীর বাঁ চোখ নষ্ট হয়েছে।

এ ঘটনায় ইসলামী ছাত্রশিবির সেই রাতেই বিবৃতিতে প্রতিবাদ জানায়। একে একে প্রতিবাদ জানায় জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি, নেজামে ইসলাম পার্টি, জোটের কর্মসূচি থেকে দূরে থাকা খেলাফত মজলিস। ২৮ ঘণ্টা পর বিবৃতি দিয়ে প্রতিবাদ জানায় জামায়াত।
ওই দিন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। পরের দিন সিলেট এবং কুড়িগ্রামে এনসিপির পদযাত্রা, মিছিলে হামলা করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। রাতে ১১ দলের বৈঠক থেকে এসব হামলার নিন্দা করা হয়।
তবে এনসিপির কর্মী-সমর্থকরা গত কয়েক মাসের ধারাবাহিকতায় ফেসবুকে আবার অভিযোগ তোলেন, জোটসঙ্গী জামায়াত কড়া ভাষায় প্রতিবাদ করছে না। বিএনপির প্রতি অনেকটাই নমনীয়, প্রধান বিরোধী দল। সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে চলছে জামায়াত।

বিপরীতে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা অভিযোগ তুলেছেন, বিএনপির সঙ্গে এনসিপির এই বিরোধ লোক দেখানো। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাসে এনসিপিকে আলোচনায় রাখতে বিএনপি এসব হামলা করছে। যাতে মনে হতে পারে, জামায়াত নয় এনসিপিই প্রধান বিরোধী দল।
শিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকের প্রোফাইলে লেখেন,  ‘হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে হামলার ঘটনাগুলো খুবই সুপরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। উদ্দেশ্য যা হতে পারে– জুলাই মাসে জামায়াতকে যতটা সম্ভব আলোচনার বাইরে রাখা এবং এনসিপির প্রতি জনসমর্থন তৈরি করা। গুড প্ল্যান, গুড মুভ। (ডিপ পাওয়ার)।’
এতে জামায়াতের অনেকে সমর্থন করেন। তাদের ভাষ্য, এনসিপিকে আলোচনায় রাখতেই বিএনপি পরিকল্পিতভাবে এসব হামলা করছে। যদিও ঘণ্টাখানেকের মধ্যে এই পোস্ট ডিলিট করেন জাহিদুল।
তবে জবাবে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন লেখেন, ‘জামায়াতের ৬০ বছর বয়সী সংসদ সদস্য ১৭ বছরের কিশোরীকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যে কেলেঙ্কারির জন্ম দিয়েছেন সেটা এই জুলাই মাসেই ছিল। ঘটনা শুধু আলোচনাতেই ছিলেন না; বরং বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। কিছু মানুষ দেখলাম, যারা হামলার প্রতিবাদ না জানিয়ে এর মধ্যে গভীর পরিকল্পনার গন্ধ পাচ্ছে। এনসিপির রাজনীতি দাঁড়ালে কারও কারও অসুবিধা হবে, এটাই স্বাভাবিক।’

এই বক্তব্যে সমর্থন করেন এনসিপির কর্মী-সমর্থকরা। জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা পাল্টা লেখেন, হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলার পর জামায়াতই নিরাপত্তা দিয়েছে। সিলেটের জকিগঞ্জে হামলার পর জামায়াত নেতাকর্মীরা এনসিপিকে নিরাপত্তা দেয়। একে ‘খোটা’ আখ্যা দিয়ে পাল্টাপাল্টি চলছে ফেসবুকে।
যদিও বাস্তব দুনিয়ায় এর প্রভাব খুব বেশি দেখা যাচ্ছে না। রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন চোখ হারানো এনসিপিকর্মী আলিফ চৌধুরীকে দেখতে যান জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। তিনি এ হামলার বিচার দাবি করেন। আগের রাতে বৈঠক করে ১১ দলীয় জোট এনসিপির পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেয়।
জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান সমকালকে বলেন, সামাজিক মাধ্যমে তো কত কথাই হয়। এর কী গুরুত্ব আছে? দল আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কী বলছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। জোটসঙ্গী এনসিপির ওপর হামলাকে জামায়াত কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ করেছে।

বাংলাদেশে নিপীড়িত হিন্দুদের নিয়ে একাধিক অমর মহাকাব্য হতে পারে

হিন্দু সম্পত্তি গনিমতের মাল: আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক: সামাজিক মাধ্যমে এক মহিলা লিখেছেন: ‘এ বয়সে চোখের সামনে কত হিন্দুর সম্পত্তি মুসলমানদের দখল করতে দেখলাম, কিন্তু তা আজো থামলো না’। মহিলা আমার ফেইসবুক বন্ধু, বয়স ঠিক জানিনা, তবে কথবার্তায় চল্লিশ পার হয়েছেন বলে মনে করিনা। সেই তুলনায় আমি যা দেখেছি তা বলে শেষ করা যাবেনা। শুধু বলি, ষাটের দশকে আমি যখন ছোট তখন দেখেছি চাঁদপুর শহরের প্রায় অধিকাংশ বাড়ী-ই হিন্দু’র, আর এখন চাঁদপুরে মাঝেমধ্যে হিন্দুর বাড়ী খুঁজে পাওয়া যায়। আমার একটি বইয়ে আমাদের পরিবার নিয়ে লিখতে গিয়ে চাঁদপুরের কাহিনী বিস্তৃত লিখেছি, শেষে প্রশ্ন করেছি, ‘এতবড় একটি পরিবার কেন চাঁদপুর থেকে হারিয়ে গেলো, এর কারণ কি, এর দায় কার?

ঐ মহিলা যা দেখেছেন তা প্রায় প্রতিটি হিন্দু দেখেছেন, অনেকেই ভুক্তভুগী। মুসলমানরাও দেখেছেন, স্বীকার করেন সামান্য কিছু মানুষ। আমার অন্য একটি বইয়ে আমি লিখেছি, ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তি কালে যদি আপনার পূর্ব-পুরুষের বাড়ী না থেকে থাকে, তাহলে আপনার পূর্ব-পুরুষ হয় হিন্দুর থেকে সম্পত্তি কিনেছেন, অথবা জোর করে দখল করেছেন অথবা কম-পয়সায় ঠকিয়ে হিন্দুর সম্পত্তি দখল নিয়েছেন। অনেকে ‘অর্পিত সম্পত্তি (শত্রু-সম্পত্তি)’র নামে দখল নিয়েছেন। কি রাগ করলেন? রাগ করলেও সত্য সত্যই থাকবে। ভবিষ্যৎ এনিয়ে সত্য কাহিনী প্রকাশিত হবেই, হয়তো আমরা থাকবো না, কিন্তু আপনার পরবর্তী প্রজন্ম সত্য জেনে লজ্জ্বিত হবে?

শুধু মানুষকে দোষ দিয়ে লাভ নেই, রাষ্ট্রযন্ত্র নিজেই একাজ করছে। নেতারা করেছে। সাধারণ মানুষকে রাষ্ট্র এ অপকর্ম করতে উদবুদ্ধ করেছে। শত্রু বা অর্পিত সম্পত্তি কালো আইনের কথা আগেই বলেছি, শুধুমাত্র এই আইন প্রয়োগ করে রাষ্ট্রযন্ত্র ২০১১ পর্যন্ত ২৭লক্ষ্ একর হিন্দু-সম্পত্তি কেড়ে নিয়ে মুসলমানকে দিয়েছে, বহু সরকারি অফিস-আদালত এই শত্রু-সম্পত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ আইন নিয়ে বহু নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে, শুধু অধ্যাপক আবুল বারাকাতের একটি বই এজন্যে যথেষ্ট। এই আইনের যাঁতাকলে হিন্দুরা নি:স্ব হয়ে গেছে। আইনটি এখন নেই, কিন্তু এর পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া থেমে যায়নি। এই আইন রদ হবার পর কোন হিন্দু সম্পত্তি ফেরত পেয়েছে তা শোনা যায়নি।

তদানিন্তন পাকিস্তানে ‘জমিদারী প্রথা বাতিল’ সম্পর্কে অনেকেই জানেন, সেটি ১৯৫০ সালের ঘটনা। অনেকেই বিশেষত: বামপন্থীরা তখন খুশি হয়েছিলেন এই ভেবে যে, পাকিস্তান তাদের একটি এজেন্ডা পূরণ করেছে। বিষয়টি তা ছিলোনা, এ পদক্ষেপ ছিলো ‘সাম্প্রদায়িক’ এবং এটি করা হয়েছিলো হিন্দুর সম্পত্তি কেঁড়ে নেয়ার জন্যে। ক্যামনে? কারণ জমিদারি স্বত্ব আইনটি বাতিল হয়েছিলো শুধু পুর-পাকিস্তানে, কেননা জমিদাররা ছিলো হিন্দু। পশ্চিম-পাকিস্তানে তা বাতিল হয়নি, কারণ জমিদাররা ছিলো মুসলমান। মাওলানা ভাষানীর সন্তোষের বাড়ীটি তেমনি একটি দখলকৃত হিন্দু জমিদার বাড়ী। এতবড় নেতা যখন হিন্দু সম্পত্তি দখল করে তখন অন্যদের আর দোষে দিয়ে লাভ কি?

ফরিদপুরের সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এখন যে বাড়ীতে থাকেন সেটি অরুন গুহ মজুমদারের বাড়ী। আগে তিনি যে বাড়িতে থাকতেন লোকমুখে সেই বাড়ির নাম ছিলো ‘নুরু রাজাকারের বাড়ি’, কারণ বোধগম্য। অরুন গুহ মজুমদারের বাড়িতে ম্যুভ হয়ে তিনি মুক্তিযোদ্ধা হয়ে যান। তখন তিনি মন্ত্রী ৭০কোটি টাকার বাড়িটি তিনি ন্যায্য মূল্যে মাত্র ২০লক্ষ টাকা দিয়ে কিনেছেন। তাও দিতে বাধ্য হয়েছেন জানাজানি হবার পর? সিলেটের দানবীর রাগীব আলীর মাহাত্ম্য আপনারা শুনে থাকবেন, তাঁর সকল সম্পত্তি, চা-বাগান হিন্দুর থেকে জোর করে দখল করা? সুপ্রিমকোর্ট একবার তার সম্পত্তি হিন্দু মালিককে ফিরিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়? কিন্তু মেয়র ব্যারিষ্টার তাপস যখন ১শ’ কোটি টাকার বিনিময়ে তাঁর উকিল হ’ন, তখন বেচারা হিন্দুর আর কিছু করার থাকেনা। রাগিব আলী হিন্দু সম্পত্তির জোরে দানবীর ‘হাজি মহসিন’ হয়ে যান।

এমপি দিদারুল-র কথা নাইবা বললাম। কত ঘটনা দেবো? এরকম হাজার হাজার ঘটনা আছে? ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন যখন অরুন গুহ মজুমদারের সম্পত্তি দখল করছিলেন ঠিক তখন প্রখ্যাত কলামিষ্ট একুশে গানের রচয়িতা প্রায়ত: আবদুল গাফফার চৌধুরী নিউইয়র্কে এসেছিলেন। হাঁটতে তাঁর তখন কিছুটা সাহায্য লাগে, আমি তাঁকে ধরে এগিয়ে নিচ্ছিলাম, ঠিক সেই মুহূর্তে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি, গাফফার ভাই, মন্ত্রী মোশাররফ তো অরুন গুহ মজুমদারের সম্পত্তি দখল করে নিচ্ছে? তিনি হেসে উত্তর দিলেন, শিতাংশু, ‘হিন্দুর সম্পত্তি তো গনিমতের মাল’। তিনি আরো কিছু বলেছিলেন, সেইসব না-ই বললাম। ঐসময় ক’জন বিশিষ্ট ব্যক্তি, একজন মন্ত্রী ও একজন রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি ছিলো একেবারে ঘরোয়া এবং গাফফার চৌধুরী স্পষ্ট ও সোজাকথা বলতে পছন্দ করতেন। তাঁর মৃত্যুতে হিন্দুরা একজন বন্ধু হারিয়েছে।

বাংলাদেশে হিন্দু সম্পত্তি দখল বা এই জনগোষ্ঠীর ওপর সাম্প্রদায়িক নির্যাতন নিয়ে একাধিক মহাকাব্য হতে পারে। কোন মহাকবি লিখবেন সেই মহাকাব্য জানিনা, তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পূর্ব-বাংলা, পূর্ব-পাকিস্তান বা আজকের বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আট দশকের বেশি সময় ধরে চলমান বীভৎস সাম্প্রদায়িক নির্যাতন নিয়ে বিশ্ব মুখ ফিরিয়ে থাকলেও মানবতাবাদী কবি-সাহিত্যিকরা আগামী দিনে পিছিয়ে থাকবেন তা মনে হয়না। সময় এসেছে বাংলাদেশের এই নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর। আমার সদ্য প্রকাশিত ইংরেজী বই, “বাংলাদেশ: এক্সটিংশন অফ হিন্দুজ ইন গ্লোবাল কনটেক্সট”-এ আমি সেই চেষ্টা করেছি। বইটি আমাজনে পাওয়া যাচ্ছে, আপনি যেদেশে থাকুন, আমাজন থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে শুধুমাত্র ইউনুস আমলের ১৮ মাসের ঘটনা দিয়ে সমগ্র পরিস্থিতির ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

শিশু নিহানের বাম হাতটি কেটেই ফেলতে হলো

পাঁচ বছর বয়সি নিহানের বাম হাতটি শেষ পর্যন্ত কেটেই ফেলে দিতে হলো। বাসার বারান্দালাগোয়া বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণে দুই হাত ও পেট পুড়ে গিয়েছিল শিশুটির। গত মঙ্গলবার বিকেলে অস্ত্রোপচার করে বাম হাত বাদ দিয়ে দেন চিকিৎসকরা। এ ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভাগ ও বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ এনেছে নিহানের পরিবার।
গাজীপুর সদরের উত্তর ছায়াবীথি শ্মশানমোড়ে সিঙ্গাপুর প্রবাসী সাইফুল ইসলামের বাড়ির তৃতীয় তলায় সপরিবারে ভাড়া থাকেন খাইরুল ইসলাম। গত ২০ জুলাই বিকেলে বাড়ির বারান্দাঘেঁষা পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার থেকে বিকট শব্দ হয়। এতে খায়রুল ইসলামের বড় ছেলে মো. নিহান অগ্নিদগ্ধ হয়। ওই সময় বারান্দার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আম খাচ্ছিল শিশুটি। তার দুটি হাত পুরোপুরি এবং পেটের
২২ শতাংশ পুড়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার বিকেলে অস্ত্রোপচার করে তার বাম হাতটি বাহুর মাঝামাঝি থেকে কেটে ফেলা হয়। ৯ দিন চিকিৎসাধীন নিহানের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।

জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাসির উদ্দীন ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুদীপের তত্ত্বাবধানে নিহান চিকিৎসাধীন আছে। গতকাল বুধবার ডা. মো. নাসির উদ্দীন সমকালকে বলেন, নিহান এখনও সম্পূর্ণ আশঙ্কামুক্ত নয়। তাকে সার্বক্ষণিক গভীর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আর কয়েকদিন না গেলে নিশ্চিত করে তেমন কিছু বলা যাচ্ছে না।
নিহানের বাবা খায়রুল ইসলাম গাজীপুর জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী, আর মা নাইমা সুলতানা গৃহিণী। তারা গাজীপুরের কাপাসিয়ার তরগাঁও ইউনিয়নের উত্তরখামের গ্রামের বাসিন্দা। ছেলের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত ও উদ্বিগ্ন এ দম্পতি দুর্ঘটনার বিষয়টি নিয়ে কথা বলার মতো মানসিক অবস্থায় নেই।
যোগাযোগ করা হলে নিহানের চাচা শফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় ৩ বছর তাঁর ভাই খাইরুল ইসলাম ছায়াবীথি শ্মশানমোড়ের ওই বাড়িতে বসবাস করছেন। গত মার্চে তিনি ছুটিতে গ্রামের বাড়ি কাপাসিয়ায় যান। ছুটি শেষে বাসায় এসে তাঁর বারান্দাঘেঁষে পল্লী বিদ্যুতের নতুন একটি খুঁটি এবং এতে ৩টি ট্রান্সফরমার বসানো দেখতে পান। এ সময় খাইরুল ইসলাম বাড়ির মালিকের স্ত্রী মনিরা বেগম এবং বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক মো. ইলিয়াসকে তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সুরক্ষা দেয়াল অথবা গ্লাস দিয়ে বারান্দা আটকে দেওয়ার অনুরোধ করেন। বারবার বলা সত্ত্বেও বাড়ির মালিক বিষয়টিতে গুরুত্ব দেননি।

এই দুর্ঘটনার জন্য বাড়িওয়ালা এবং বিদ্যুৎ বিভাগকে দায়ী করেন শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগ একটি আবাসিক এলাকায় এই ধরনের মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে ৩টি ট্রান্সফরমার বসাতে পারে না। এই দুর্ঘটনার দায়ও এড়াতে পারে না তারা। তিনি সংশ্লিষ্টদের বিচারের দাবি জানান।
জানতে চাইলে প্রবাসী সাইফুলের স্ত্রী মনিরা বেগম দাবি করেন, তিনি বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক মো. ইলিয়াসকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন। আর মো. ইলিয়াস জানান, নিরাপত্তাহীনতার কথা জানানোর পর খাইরুল ইসলামকে ওই ফ্ল্যাট থেকে অন্য ফ্ল্যাটে চলে যেতে বলা হলেও তিনি রাজি হননি।
পল্লী বিদ্যুতের গাজীপুরের ছায়াবীথি জোনাল অফিসের এজিএম মো. মুহাইমিনুল ইসলাম বলেন, ওই বাড়ির লোকজনের দেখানো জায়গায় নিয়ম মেনেই বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে দেখা করলে মিলবে ফ্যামিলি কার্ড ইউএনও অফিসে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে নারীর অভিযোগ

‘রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে দেখা করলে মিলবে ফ্যামিলি কার্ড’ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এমন প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ করেছেন এক নারী। এই ঘটনায় গত মঙ্গলবার শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছেন তিনি।

এর আগে সোমবার তাঁর অভিযোগের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আশরাফ উদ্দিন আকন্দ। তিনি শিবপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। ওই নারী স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হওয়ার পর থেকে বান্ধারদিয়া এলাকায় বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন।

অভিযোগকারী নারী জানান, পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আকন্দ তাঁকে রাত ১২টার দিকে পুকুরপাড়ে দেখা করতে বলেন। বিনিময়ে তাঁকে একটি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। তাঁর অভিযোগ, এর আগেও ওই নেতার অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থেকে তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা আশরাফ উদ্দিন আকন্দ। তিনি বলেন, ‘আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে আমার দলেরই কিছু লোকের প্ররোচনায় পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। প্রায় পাঁচ মাস আগে আমার পা ভেঙে যায়। এখনও আমি পুরোপুরি সুস্থ নই। এমন অবস্থায় রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’ তাঁর ভাষ্য, অভিযোগকারী নারী মাছিমপুর ইউনিয়নের খড়িয়া গ্রামের ভোটার ও বাসিন্দা। ঈদের সময় তিনি কাপড় ও চালের স্লিপ চেয়েছিলেন। তিনি তা দিতে পারেননি। এরপর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

শিবপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন জানান, ফেসবুকে ভিডিওটি দেখেছেন তিনি। আশরাফ উদ্দিন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্ররোচনায় মিথ্যা অভিযোগ করা হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শিবপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ রিকাবদারের ভাষ্য, বিষয়টি শুনেছেন তিনি। পৌর বিএনপির সভাপতি, সাধারণত সম্পাদককে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

শিবপুর থানার ওসি কোহিনূর মিয়া জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, ‘মঙ্গলবার আমার অফিসে এসেছিলেন ওই নারী। মৌখিক অভিযোগ করেছেন। আমি তাঁকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া জন্য থানায় বলে দেব।’

বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের অধিনায়ক হলেন লিটন দাস

মেহেদী হাসান মিরাজের পরিবর্তে বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব পেলেন লিটন দাস। তিনি আগে থেকেই টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে এখন থেকে সাদা বলের দুই ফরম্যাটেই টাইগারদের নেতৃত্ব দেবেন তিনি।

বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের বিসিবির কার্যালয়ে বোর্ড সভা শেষে নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা করা হয়।

অন্যদিকে ওয়ানডে দলের সহ–অধিনায়ক করা হয়েছে তাওহিদ হৃদয়কে। টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন নাজমুল হোসেনই।

লিটন দাস এর আগে বিভিন্ন সময় ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে এবার পূর্ণাঙ্গ ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে বাংলাদেশের সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছেন তিনি। মিরাজের নেতৃত্বে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নানা আলোচনা চলছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নেতৃত্বে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।

২০২৪ সালে হুট করেই নাজমুল হোসেন শান্তর কাছ থেকে দায়িত্ব নিয়েছিলেন মিরাজ। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২৪টি ওয়ানডে খেলেছে। এর মধ্যে জিতেছে ১০টি, হেরেছে ১৩টি এবং একটি ম্যাচের ফল হয়নি।

এনসিপির ওপর সরকার ‘সন্ত্রাসী’ লেলিয়ে দিয়েছে: জামায়াতে ইসলামী

এনসিপির গাড়িবহরে হামলা এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের হেনস্তার প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, খেলাফত মজলিস ও এবি পার্টি। হামলার নিন্দা করেছে বিএনপি জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামও।

জামায়াতে ইসলামীর অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে বিরোধী দলের ওপর সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়েছে সরকার। বিএনপির হামলাকারী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছে জামায়াত।

বুধবার বিবৃতিতে এসব কথা বলেছেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ।

তিনি বলেন, গত ২৮ জুলাই এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলা করা হয়। পরেরদিন মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে বিভিন্নস্থানে নাহিদ ইসলামসহ এনসিপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের বাধা দিয়েছে। যা গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের শামিল। এই ধরণের আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। দায়ীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে জনগণ, রাজনৈতিক দল বাকস্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে। রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে কারো ওপর হামলার স্থান গণতন্ত্রে নেই। কারো বক্তব্য যদি আক্রমণাত্মক হয়, তবে এর জবাব রাজনৈতিকভাবে দিতে হবে। কিন্তু কথার জবাব সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেওয়া পূর্বের  ফ্যাসিবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। সরকার রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়েছে।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, হবিগঞ্জে বিএনপির যেসব নেতাকর্মী আইন হাতে তুলে নিয়ে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, অবিলম্বে সেসব সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি। জুলাই অভ্যুত্থানের পর সরকার বিরোধীদলের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করতে হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করে নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করেছে।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নতুন প্রত্যাশার বাংলাদেশে, অতীতের মতো দলদাস না হয়ে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

অন্যান্য দলের প্রতিবাদ

বাংলাদেশ খেলাফতের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ বুধবার বিবৃতিতে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ‘পরিণতি’ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এনসিপির ওপর হামলার নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বক্তব্যের জবাব হামলা দিয়ে নয়, যুক্তি, তথ্য ও রাজনৈতিক শালীনতার মাধ্যমে দিতে হয়। আজ যদি একজন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য সহ্য করা না হয়, তাহলে আগামী দিনে সরকারের অন্যায়, দুর্নীতি ও ব্যর্থতার বিরুদ্ধে জনগণ সোচ্চার হলে, তাদের বিরুদ্ধেও কি দলীয় সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দেওয়া হবে?

নেজামে ইসলামের ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ুম সুবহানী ও মহাসচিব মাওলানা মূসা বিন ইযহার বলেছেন, রাজনৈতিক মতভিন্নতার কারণে হামলা, সহিংসতা ও সন্ত্রাসের আশ্রয় নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

১১ দলের কর্মসূচি থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বিবৃতিতে বলেছেন, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলা, সাংবাদিকদের মারধর, গাড়িবহরে ভাঙচুর, মোবাইল ফোন, ক্যামেরাসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম লুটের ঘটনা শুধু একটি রাজনৈতিক দলের ওপর আক্রমণ নয়; এটি দেশের সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের ওপর প্রকাশ্য আঘাত।

জমিয়তের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বিবৃতিতে রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, বিদ্যমান সব রাজনৈতিক পক্ষকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। অসৌজন্যমূলক ও উসকানিমূলক আচরণ পরিহার করতে হবে। অন্যদিকে, সহিংস প্রতিক্রিয়ার পথ এড়িয়ে চলতে হবে সব পক্ষকে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ আগের রাতে বিবৃতিতে বলেছেন, এনসিপির বহরে হামলা, লুট শুধু একটি রাজনৈতিক দলের ওপর আক্রমণ নয়;  গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের ওপর প্রকাশ্য ও নগ্ন আঘাত।

ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বিবৃতিতে বলেছেন, এনসিপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিএনপি ও ছাত্রদলের উগ্র ক্যাডাররা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

ইরাকের ৭ প্রদেশে সৌদি ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা লক্ষ্য ইরানসমর্থিত মিলিশিয়ারা

ইরাকের সাত প্রদেশে ইরান সমর্থিত মিলিশিয়াদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২০ জন, আহত হয়েছেন ৩২ জন। এর মধ্য দিয়ে আরও একবার সামনে চলে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিধি বাড়ার শঙ্কা।

বিবিসির খবর বলছে, ইরাকের পপুলার মবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) ওপর আঘাত হানা হয়েছে। গোষ্ঠীটির ভেতরে ইরান সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়ারা আধিপত্য বিস্তার অবস্থানে রয়েছে। পিএমএফ এক বিবৃতিতে গতকাল বুধবার সকালে হামলা ও হতাহতের তথ্যটি নিশ্চিত করে জানায়, বাগদাদ, ওয়াসিত, নিনেভেহ, বসরা, কিরকুক, কারবালা ও দিয়ালা প্রদেশে হামলা হয়েছে।

এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানায়, উত্তরের নিনেভেহ ও মধ্যাঞ্চলের দিয়ালায় সবচেয়ে মারাত্মক আক্রমণ হয়েছে। পিএমএফ এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসী আক্রমণ’, ‘গুরুতর সীমালঙ্ঘন’ ও ‘ইরাকের সার্বভৌমত্বের প্রতি আঘাত’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

অন্যদিকে ইরান এই হামলার ঘটনাকে ইরাকের বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ও সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ওই মিলিশিয়াদের হামলা চালানোর নির্দেশনা দিয়েছিল। এ কারণেই তাদের ওপর আঘাত হানা হয়েছে।

সেন্টকমের দেওয়া তথ্যানুসারে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান পূর্ব ইরাকে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। মূলত এর আগের ৭২ ঘণ্টায় আইআরজিসির নির্দেশনায় পরিচালিত ড্রোন হামলার জবাব দিতেই ওই অভিযান চালানো হয়। ড্রোন আক্রমণ ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ ছিল এবং তা ব্যর্থ হয়েছে বলেও উল্লেখ করে তারা।

সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, আইআরজিসি ও তাঁর সন্ত্রাসী প্রক্সিরা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিক্রিয়া থেকে বাঁচতে চাইলে, তাদের হামলা চালানো বন্ধ করতে হবে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি অভিযোগ করেন, ইরাকের ভূখণ্ড থেকে সৌদির পূর্বাঞ্চল ও রিয়াদে তেল স্থাপনাকে লক্ষ্য করে গত সোমবার ও মঙ্গলবার হামলা চালায় ইরান সমর্থিত সন্ত্রাসী মিলিশিয়ারা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘সৌদি আরব এই সংঘাতের পরিসর বৃদ্ধি হোক, তা চায় না। তবে নিজেদের ওপর কোনো হামলা হলে তার জবাব দেবে।’

জর্ডানে ইরানের হামলা

এদিকে, জর্ডানে নতুন করে আঘাত হেনেছে ইরানও। সেখানে মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার কথা জানিয়েছে তারা। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গতকাল ভোরে ইরানের পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে তারা। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে তিনটি তেলের ট্যাংকারে আঘাত হেনেছে তাদের সামরিক বাহিনী। ওই নৌযানগুলো সতর্কবার্তা আমলে নেয়নি এবং অনিরাপদ ও অবৈধ পথে চলাচল করছিল বলেও উল্লেখ করেছে তারা।

চীনের কাছ থেকে অস্ত্র পাবে ইরান

আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান চীনের কাছ থেকে বেশকিছু ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার পাবে, যা কাঁধে বসিয়েই চালানো সম্ভব হবে। ইরান মোট চারশটি অর্ডার করেছে। এবার তারা ওই অর্ডার থেকে প্রথম ধাপ পাচ্ছে। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র এ তথ্য জানায়। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানিয়েছে, এই খবর ভিত্তিহীন।

ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম। উত্তরপশ্চিম ইরানের পিরানশাহর সীমান্তে এক এলাকার কাছে ওই আক্রমণ হয়েছে বলে খবরে উল্লেখ করা হয়।

স্থানীয় এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ফার্সের খবরে আরও জানানো হয়, ওই প্রদেশের জনবসতিহীন এক এলাকায় আঘাত হেনেছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানালেন বাংলাদেশ থেকে তিন লাখ রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার

বাংলাদেশ থেকে তিন লাখ ও মালয়েশিয়া থেকে পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এ তথ্য জানিয়েছেন। কূটনৈতিক সম্পর্কের জেরে এই সফলতা এসেছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘এ কারণেই মিয়ানমারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। তারা (মিয়ানমার) এখন মালয়েশিয়া থেকে পাঁচ হাজার ও বাংলাদেশ থেকে তিন লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে। কেন? কারণ আমরা আলোচনা করেছি। এই ধরনের বিষয়ে সতর্ক কূটনীতি প্রয়োজন।’ মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার এ খবর জানিয়েছে।
একই সময়ে আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, রোহিঙ্গারা জনশৃঙ্খলায় বিঘ্ন ঘটালে তা মেনে নেবে না মালয়েশিয়া। তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের মহাপরিচালককে নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এটি মালয়েশিয়া। তারা আমাদের বিরক্ত করতে পারে না। পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।’

এর আগে মিয়ানমার রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়নি বলে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মানুষ বলে– তাদের ফেরত পাঠান। কোথায় ফেরত পাঠাব? এর আগে মিয়ানমার তাদের ফেরত নিতে রাজি হয়নি। তাই তাদের আমরা নির্দিষ্ট স্থানে আশ্রয় দিয়েছিলাম।’
মালয়েশিয়ার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকেও মিয়ানমারের স্থানীয় আইন মেনে চলার এবং জনজীবনে বিশৃঙ্খলা না তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলেন, ‘আমি রোঙ্গিাদের বলেছি: মালয়েশিয়ানদের ব্যবসায় বিঘ্ন ঘটাবেন না। ট্রাফিক বা অন্য যেখানে মানুষ থাকে, সেখানে বিঘ্ন ঘটাবেন না। নাহলে আমাদের জনসাধারণ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি আমাদের রাষ্ট্র। মালয়েশিয়া আমাদের দেশ। অন্যদের এখানে বিঘ্ন ঘটানো উচিত নয়। এ কারণেই আমাদের দৃঢ় হতে হবে।’

বন্ডে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে চায় সরকার করণীয় নির্ধারণে কমিটি গঠন

দেশের বন্ড বাজারকে আরও গতিশীল করা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে পুঁজিবাজার উন্নয়ন ও বন্ড ইস্যু-সংক্রান্ত নীতি, কৌশল এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের জন্য আট সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।

সম্প্রতি জারি করা অর্থ বিভাগের এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) তানভীর শাহরিয়ার গনি কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিতে অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) প্রতিনিধিরা সদস্য হিসেবে থাকবেন। সরকারি ঋণনীতি ও কৌশলগত ব্যবস্থাপনা অধিশাখার একজন যুগ্ম সচিব বা উপসচিব সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

আদেশে বলা হয়, কমিটি দেশের পুঁজিবাজারের সম্প্রসারণ ও গভীরতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বন্ড ও ইকুইটি বাজারের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে সরকারকে সুপারিশ করবে। সরকারি সিকিউরিটিজ, করপোরেট বন্ড, সুকুক, গ্রিন বন্ড এবং অন্যান্য ঋণপত্র ইস্যুর সম্ভাব্যতা, ব্যয়, ঝুঁকি ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মতামত দেবে কমিটি।

এ ছাড়া বন্ড ইস্যুর পরিমাণ, মুদ্রা, মেয়াদ, সুদের কাঠামো, বাজার নির্বাচন, অফারিং সার্কুলার, ক্রেডিট রেটিং, রোডশো, বিনিয়োগকারী সম্পৃক্তকরণসহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়ার দায়িত্বও থাকবে তাদের। বন্ড ইস্যুর জন্য লিড ম্যানেজার, আর্থিক ও আইনগত উপদেষ্টা, রেটিং এজেন্সি এবং অন্যান্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশও করবে কমিটি। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারী আকর্ষণের ওপর। এ জন্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, পেনশন তহবিল, বীমা কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সুপারিশ করবে কমিটি।