Home Blog Page 149

শ্রমিকদের বেতন-বোনাস ঈদের ছুটির আগেই পরিশোধের নির্দেশ

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, দেশের সব শিল্প কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস অবশ্যই ঈদের ছুটির আগেই পরিশোধ করতে হবে।

কোনো অবস্থাতেই যেন শ্রমিকদের প্রাপ্য পাওনা নিয়ে কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) ঢাকায় বেইলি রোডে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সরকারি বাসভবনের অফিস কক্ষে আরএমজি ও নন-আরএমজি সেক্টরে শ্রম অসন্তোষ নিরসনে করণীয় নির্ধারণে উচ্চ পর্যায়ের সভায় শ্রমমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শনিবার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

তিনি আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট সংসদীয় এলাকা ভিত্তিক ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের নিকট প্রদান করা হবে। সংসদ সদস্যরা সরাসরি কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে বকেয়া বেতন ও বোনাস দ্রুত পরিশোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ইউসিবিএল, ট্রাস্ট ও প্রিমিয়ার ব্যাংকসহ যেসব ব্যাংক লোন প্রদানে গড়িমসি করছে, তাদের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত ঋণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

মন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, যেসব শ্রমিক নেতা শ্রমিকদের অহেতুক উত্তেজিত করে শিল্প খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, তাদের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টি রাখতে অনুরোধ করেন।

পাশাপাশি পলাতক মালিকদের এবং তাদের প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, এসব কারখানায় যেন কোনো ধরনের গণ্ডগোল বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে সকলকে সচেষ্ট থাকতে হবে।

সবশেষে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী যেকোনো সহযোগিতার জন্য সদা প্রস্তুত রয়েছে। তিনি দৃঢ়ভাবে শ্রমিক স্বার্থ রক্ষায় সব সময় পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন বলেন, আমরা সরকার গঠনের ১৮০ দিনের মধ্যে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বন্ধ কারখানাগুলো চালু করে ফেলবো। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশনা রয়েছে কঠোর নজরদারির মাধ্যমে শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে কাজ করার।

বিজিএমইএ-র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামে চালু আছে ২১২৭টি কারখানা যার ১৯৬৪টি (৯২.৩৪%) কারখানা ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে এবং ১৫৩৫টি (৭২.১৭%) কারখানা ঈদের বোনাস পরিশোধ করেছে।

তিনি আরো বলেন, মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক না, যাদের সামর্থ্য আছে তারা দিবে কিন্তু মার্চ মাসের বেতন পরিশোধের জন্য শ্রমিকদের অনেকেই উসকে দিচ্ছে।

বিকেএমইএ-র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, দেশের ৮৩৪ কারখানার মধ্যে ৫১২ টি কারখানা ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন দিয়েছে এবং ৬০৪ টি কারখানা ঈদের বোনাস পরিশোধ করেছে। তিনি আরো বলেন, যেহেতু অধিকাংশ কারখানা বেতন-বোনাস পরিশোধ করেছে আমরা আশা করি কোনো ধরনের শ্রমিক অসন্তোষ তৈরি হবে না।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার বলেন, আপদকালীন ফান্ড করতে পারলে সেই অর্থ দিয়ে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিয়ে সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করা সম্ভব হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন, ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য মো. তমিজ উদ্দিন এবং গাজীপুর জেলার সংসদ সদস্যবৃন্দ- মো. মজিবুর রহমান (গাজীপুর-১), এম মনজুরুল করিম রনি (গাজীপুর-২), এস এম রফিকুল ইসলাম (গাজীপুর-৩), এবং ফজলুল হক মিলন (গাজীপুর-৫) সহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

সরাসরি ইরানের পাশে দাঁড়ালো যে দেশটি

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে চীন সরাসরি ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শিক্ষার্থীদের মৃত্যুতে চীনের সরকার ২ লাখ ডলারের জরুরি মানবিক সহায়তা ঘোষণা করেছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন (১৩ মার্চ, শুক্রবার) জানিয়েছেন, সহায়তা দেওয়া হবে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে এবং এটি নিহতদের পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতীক।

চীনের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেন, স্কুলে হামলা এবং নিরপরাধ শিশুদের প্রাণহানি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। চীন সব সময় মানবিক চেতনায় বিশ্বাসী এবং এই কঠিন সময়ে ইরানের জনগণের পাশে থেকে সংকট কাটিয়ে উঠতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কেবল আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। সব দেশের সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা সম্মান করতে হবে, এবং সব পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করে সংলাপে ফিরতে হবে যাতে সংঘাত ছড়িয়ে না পড়ে।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের শাজারাহ তায়্যিবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৬৫ শিক্ষার্থী নিহত হন। এ ঘটনায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সহ ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।

জামালপুরের সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় আরুনি

জামালপুর ও শেরপুর জেলা নিয়ে গঠিত সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন প্রয়াত বিএনপি মহাসচিব ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের মেয়ে সালিমা তালুকদার আরুনি।

১৩তম জাতীয় সংসদ গঠনের প্রক্রিয়া ঘিরে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন নিয়ে দলটির ভেতরে আলোচনা জোরদার হয়েছে। রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সাধারণ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া অনেক নেতা এখন সংরক্ষিত আসনের জন্য চেষ্টা করছেন।

জামালপুর ও শেরপুর জেলা মিলিয়ে একটি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে। অতীতের মতো এবারও মনোনয়ন জামালপুর থেকে হবে, নাকি শেরপুর থেকে—এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা রয়েছে।

তবে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলীয় উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ, সাংগঠনিক পটভূমি এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের দিক থেকে জামালপুরের প্রার্থীরা কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারেন।

এ প্রসঙ্গে আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছেন সালিমা তালুকদার আরুনি। আরুনি প্রয়াত বিএনপি মহাসচিব ও সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের একমাত্র মেয়ে। তিনি ও-লেভেল ও এ-লেভেল সম্পন্ন করার পর ইন্টেরিয়র ও এক্সটেরিয়র আর্কিটেকচারাল ডিজাইনে ডিপ্লোমা অর্জন করেন।

বাবার মৃত্যুর পর কিছু সময় তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে খুব একটা সক্রিয় ছিলেন না। তবে সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন এবং এলাকায় তৃণমূল পর্যায়ে যোগাযোগ শুরু করেন।

সে সময় তিনি বলেন, বাবার “অসমাপ্ত কাজ” এগিয়ে নিতে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন।

সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনে তিনি জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছিলেন। তবে দলটি শেষ পর্যন্ত তার চাচাতো ভাই ফারিদুল কবীর তালুকদার শামীমকে মনোনয়ন দেয় এবং তিনি পরে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

মনোনয়ন না পেলেও আরুনি দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। আরুনি এই প্রতিবেদককে বলেন, “বাবার সময়ের অনেক নেতার সন্তান ইতোমধ্যে এমপি বা মন্ত্রী হয়েছেন। আমিই একমাত্র বাকি আছি।”

তিনি বলেন, “আমি ঢাকার ১৭ আসনে তারেক রহমানের নির্বাচন সমন্বয়কারীদের একজন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছি। পারিবারিক ও রাজনৈতিক পটভূমি বিবেচনায় আমি আশাবাদী।”

এদিকে একই সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বনির্ভরবিষয়ক সহসম্পাদক ও সাবেক সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনির নামও আলোচনায় রয়েছে।

তবে শেষ পর্যন্ত মনোনয়নের সিদ্ধান্ত দলটির শীর্ষ নেতৃত্বই নেবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

১৪ এপ্রিল থেকে চালু হচ্ছে কৃষক কার্ড: প্রধানমন্ত্রী

আগামী ১৪ এপ্রিল তথা পয়লা বৈশাখ থেকে চালু হচ্ছে ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা ‘কৃষক কার্ড’ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে শুরু হচ্ছে খাল খনন কর্মসূচি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর…ভোটের কালি নখ থেকে মোচনের আগেই আমরা আমাদের সকল প্রতিশ্রুতি ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা আমাদের দেশকে এমন একটি শক্তিশালী ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করতে চাই….. যাতে করে আর কোনো ফ্যাসিবাদ কিংবা তাবেদার অপশক্তি মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে না পারে। আমি বার বার একটি কথা বলি, নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারেনা।

তারেক রহমান বলেন, খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিনদের সম্মানিত ভাতা দেয়ার যে কর্মসূচি আপনাদের সরকার চালু করেছে, এই কর্মসূচির অধীনে প্রথম পর্যায়ে পাইলটিং স্কিমের আওতায় মোট ৪৯০৮ টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির এবং ১৪৪ টি বৌদ্ধ বিহারের মোট ১৬৯৯২ জন মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন। সবাইকেই পর্যায়ক্রমে সবাইকে এই কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের জন্য সরকারের এইসব অর্থনৈতিক কর্মসূচি উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নাগরিকদেরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা।

ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি শ্রেণী পেশার মানুষ তথা প্রতিটি নাগরিকের আর্থিক সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার রাষ্ট্রীয় সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবে জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, তবে নাগরিকদেরও কিন্তু রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রতি কিছু দায় দায়িত্ব রয়েছে। নাগরিক হিসেবে আমরা যদি যে যার অবস্থান থেকে রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রতি যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করি…আমি আশা করি, আগামী ১০ বছরের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে আমরা একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ দেখতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার সম্পন্ন

বিএনপির সিনিয়র নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার শেষ হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টায় এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। একই দিন বিকেলে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে প্রথম দফার অস্ত্রোপচার হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফায় মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার শেষ হয়েছে। তার অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা।

এদিকে শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মির্জা আব্বাসকে দেখতে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার খোঁজ। এ সময় তিনি তার শয্যাপাশে অবস্থান করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসা সংক্রান্ত দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে মির্জা আব্বাসকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেয়া হতে পারে। মেডিকেল বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে পরিবার।

গত বুধবার (১১ মার্চ) ইফতারের সময় অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। পরে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আজ ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানি কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আগামী ১৪ এপ্রিল তথা পয়লা বৈশাখ থেকে চালু হচ্ছে ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা ‘কৃষক কার্ড’ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে শুরু হচ্ছে খাল খনন কর্মসূচি।

শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইমাম ও মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবায়েত, বিহার অধ্যক্ষদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আজ থেকে চালু হলো খতিব ইমাম মুয়াজ্জিন এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি। যাদের প্রয়োজন সারাদেশে তাদের প্রত্যেককে পর্যায়ক্রমিকভাবে এই সহায়তা দেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর…ভোটের কালি নখ থেকে মোচনের আগেই আমরা আমাদের সকল প্রতিশ্রুতি ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা আমাদের দেশকে এমন একটি শক্তিশালী ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করতে চাই….. যাতে করে আর কোনো ফ্যাসিবাদ কিংবা তাবেদার অপশক্তি মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে না পারে। আমি বার বার একটি কথা বলি, নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারেনা।

তারেক রহমান বলেন, খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিনদের সম্মানিত ভাতা দেয়ার যে কর্মসূচি আপনাদের সরকার চালু করেছে, এই কর্মসূচির অধীনে প্রথম পর্যায়ে পাইলটিং স্কিমের আওতায় মোট ৪৯০৮ টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির এবং ১৪৪ টি বৌদ্ধ বিহারের মোট ১৬৯৯২ জন মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন। সবাইকেই পর্যায়ক্রমে সবাইকে এই কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের জন্য সরকারের এইসব অর্থনৈতিক কর্মসূচি উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নাগরিকদেরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা।

ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি শ্রেণী পেশার মানুষ তথা প্রতিটি নাগরিকের আর্থিক সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার রাষ্ট্রীয় সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবে জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, তবে নাগরিকদেরও কিন্তু রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রতি কিছু দায় দায়িত্ব রয়েছে। নাগরিক হিসেবে আমরা যদি যে যার অবস্থান থেকে রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রতি যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করি…আমি আশা করি, আগামী ১০ বছরের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে আমরা একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ দেখতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠাব হবে বলে জানিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমরানুল হাসানের পাঠানো এক বার্তায় আরও জানানো হয়, একইদিন খাদেম, পুরোহিত, সেবায়েত, বিহার অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের সম্মানি প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে।

মাথার উপর গাছের ডাল ভেঙ্গে দুই মোটর সাইকেল আরোহী নিহত

মাগুরায়  মাথার উপর গাছের ডাল ভেঙ্গ প্রাপ্ত সাহা (২৫) ও মাহফুজ (২৫) নামে দুই মোটর সাইকেল আরোহী  নিহত হয়েছে । নিহত প্রাস্ত দত্ত মাগুরার শ্রীপুরের নাকোল গ্রামের ভজন দত্তের  ছেলে এবং মাহফুজ  (২৬) শ্রীপুরের ঘাসিয়াড়া গ্রামের দিপুল মোল্লার  ছেলে।  শুক্রবার রাত ৯টার দিকে মাগুরা ফদিপুর মহাসড়কের মাগুরা সদর উপজেলার কেষ্টপুর নামকস্থানে এই দূর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানাযায় , মাগুরার শ্রীপুরের নাকোল থেকে মোটসাইকেলে করে মাগুরায় আসার পথে বাতাসে একটি গাছের ডাল ভেঙ্গে  মোটর সাইকেল আরোহী  দুই জনের মাথার  উপর ভেঙ্গ পড়লে  মোটর সাইকেল আরোহী প্রাপ্ত দত্ত (২৫) এবং মাহফুজ (২৬) নামে দুই  জন গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের মাগুরা ২৫০ শর্য্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক প্রাপ্ত দত্ত কে মৃত ঘোষনা করেন। অপর আহত মাহফুজকে আশংকাজনক অবস্থায়  উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেলে পাঠানো হলে পথে তার মৃত্যু হয়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা ২৫০ শর্য্যা হাসপাতালের অস্থায়ী মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই দুই জনের অকাল মৃত্যুতে  শোকের ছায়া নেমে এসছে।

মাগুরা হাইওয়ে থানার ওসি মো: রোকনুজ্জামান জানান, মোটসাইকেলে করে মাগুরায় আসার পথে গাছের ডাল মাথার উপর পড়লে দুই মোটসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছে। প্রান্ত দত্ত নামে একজনকে মাগুরা ২৫০ শর্য্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন। অপর জন মাহফুচকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেলে পাঠানো হলে পথে কানাইপুরে তার মৃত্যু হয়।

ঈদ উপলক্ষে ৬ দিন বন্ধ থাকবে যেসব যানবাহন

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যান চলাচল নিয়ে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

এর অংশ হিসেবে আগামী ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য, পচনশীল পণ্য, গার্মেন্টস সামগ্রী, ওষুধ, সার ও জ্বালানি বহনকারী যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রকাশিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ডিএমপি।

আসন্ন ঈদযাত্রায় ঘরমুখী মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নগরবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে কিছু নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

ডিএমপি জানিয়েছে, আগামী ১৬ মার্চ থেকে ঈদযাত্রা সংশ্লিষ্ট যানবাহনের চলাচল সুগম করতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মহানগরের অন্যান্য যানবাহনকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিহার করে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হবে।

এসব সড়কের মধ্যে রয়েছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কুড়িল থেকে আব্দুল্লাহপুর অংশ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুলিস্তান থেকে সাইনবোর্ড, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক বা মিরপুর রোডের আড়ং ক্রসিং থেকে আমিনবাজার, ঢাকা-কেরানীগঞ্জ সড়কের ফুলবাড়িয়া থেকে তাঁতীবাজার হয়ে বাবুবাজার ব্রিজ, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের গুলিস্তান থেকে বুড়িগঙ্গা ব্রিজ, মোহাম্মদপুর বসিলা ক্রসিং থেকে বসিলা ব্রিজ, আব্দুল্লাহপুর থেকে ধউর ব্রিজ এবং ফুলবাড়িয়া থেকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল সড়ক।

গণপরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের উদ্দেশে ডিএমপি জানিয়েছে, আন্তঃজেলা বাসগুলোকে টার্মিনালের ভেতরে যাত্রী তুলে সরাসরি গন্তব্যে যেতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই টার্মিনালের বাইরে সড়কে বাস দাঁড় করানো যাবে না। অনুমোদিত বাস কাউন্টার বা স্টপেজ ছাড়া রাস্তায় যাত্রী ওঠানো-নামানো যাবে না এবং ঢাকা মহানগরে প্রবেশ ও বের হওয়ার সড়কে বাস পার্কিং করা যাবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বাসগুলোকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টার্মিনাল থেকে ছাড়তে হবে। যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার বেশি ভাড়া আদায় করা যাবে না, যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা যাবে না এবং একই সিটের টিকিট একাধিক যাত্রীর কাছে বিক্রি করা যাবে না। বাসের ছাদে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা নিষিদ্ধ।

এ ছাড়া চালকদের গতিসীমা মেনে গাড়ি চালাতে হবে এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না। নিষিদ্ধ এলাকায় ওভারটেকিং করা যাবে না এবং নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে বা শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না।

বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হালনাগাদ কাগজপত্র ছাড়া গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ। বাস চালানোর সময় মোবাইল ফোন বা হেডফোন ব্যবহার করা যাবে না এবং বাসে উচ্চস্বরে গান বাজানো যাবে না। ফিটনেসবিহীন, যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত ও কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন সড়কে নামানো যাবে না।

যাত্রী ও পথচারীদেরও কিছু নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে ডিএমপি। যত্রতত্র দাঁড়িয়ে বাসে ওঠা যাবে না, নির্দিষ্ট টার্মিনাল বা কাউন্টার থেকে বাসে উঠতে হবে। অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া কোনো খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভ্রমণের সময় মালামাল নিজের দায়িত্বে রাখতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই কাউন্টার বা টার্মিনালে উপস্থিত হতে হবে।

এ ছাড়া রাস্তা পারাপারের সময় ফুটওভারব্রিজ, আন্ডারপাস বা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করতে হবে। চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা করা বা পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী হয়ে যাতায়াত না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

জরুরি প্রয়োজনে টার্মিনালের পুলিশ কন্ট্রোলরুম বা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে।

চিত্রনায়ক রোশানের সঙ্গে চমকের প্রেমের গল্প

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নতুন এক মিউজিক্যাল ফিল্মে একসঙ্গে দেখা যাবে ঢালিউডের অভিনেতা জিয়াউল রোশান এবং মডেল-অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক–কে। প্রেমের আবেগঘন গল্প নিয়ে নির্মিত এই কাজটির নাম ‘প্রেমের গল্প’, যা নির্মিত হয়েছে সিনেমাটিক ধাঁচে।

সান প্রোডাকশন হাউজের ব্যানারে নির্মিত এই মিউজিক্যাল ফিল্মে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় শিল্পী দিলশাদ নাহার কণা এবং শেইখ লিমন। গানটির কথা, সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন সংগীত পরিচালক আভরাল সাহির। পুরো মিউজিক্যাল ফিল্মটি পরিচালনা করেছেন মাহিন আওলাদ। সুনামগঞ্জের নিলাদ্রী ও তাহিরপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঘেরা লোকেশনে এর চিত্রায়ন সম্পন্ন হয়েছে।

কাজটি নিয়ে অভিনেতা জিয়াউল রোশান জানান, গানটি প্রথম শোনার পর থেকেই তার ভালো লেগেছে। পাশাপাশি পরিচালক যখন ভিডিওর পরিকল্পনা শোনান, তখনই কাজটি করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, এতে তার চরিত্রটি ভিন্ন ধরনের হওয়ায় নিজের লুকেও পরিবর্তন আনতে হয়েছে। দর্শকরা তাকে নতুনভাবে দেখতে পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমকও কাজটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তার ভাষায়, গানের গল্পের সঙ্গে মিল রেখে ভিডিওটি নির্মাণ করা হয়েছে এবং এতে তার চরিত্রটি বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। আগে এ ধরনের চরিত্রে কাজ করেননি বলেও জানান তিনি। পুরো টিমের পরিশ্রমে নির্মিত এই কাজটি দর্শকদের ভালো লাগবে বলে বিশ্বাস তার।

গানটি নিয়ে কণ্ঠশিল্পী দিলশাদ নাহার কণা বলেন, এমন একটি গানের অংশ হতে পেরে তিনি আনন্দিত। আভরাল সাহিরের সুর ও সংগীতায়োজন এবং সহশিল্পী শেইখ লিমনের গায়কির প্রশংসাও করেন তিনি। অন্যদিকে শেইখ লিমন বলেন, সুন্দর এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে তিনি বেশ আনন্দিত।

সংগীত পরিচালক আভরাল সাহিরের মতে, ‘প্রেমের গল্প’ একটি রোমান্টিক ঘরানার গান। শিল্পীদের কণ্ঠ এবং গল্পনির্ভর ভিডিও মিলিয়ে দর্শকদের কাছে এটি ভালো লাগবে বলে আশা করেন তিনি।

সান প্রোডাকশন হাউজ জানিয়েছে, গল্পভিত্তিক এই মিউজিক্যাল ফিল্মটি ঈদুল ফিতরের দিন সন্ধ্যায় তাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হবে।

বিরোধিতা হবে গঠনমূলক যাতে রাষ্ট্রের ক্ষতি বা জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট না হয়: স্পিকার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিরোধী দলের ওয়াকআউট প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ওয়াকআউট করার অধিকার বিরোধী দলের রয়েছে। সংসদের এটি একটি প্রচলিত কার্যক্রম। তারা তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি করেছে। না করলে ভালো হতো- বিশেষ করে প্রথম দিন না করলেই ভালো হতো। যাই হোক, সেটি তাদের বিষয়।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধ-এ মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বক্তব্যে স্পিকার বলেন, তিনি ও ডেপুটি স্পিকার স্মৃতিসৌধে উপস্থিত হতে পেরে নিজেদের অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করছেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রণাঙ্গনে শাহাদাত বরণকারী সকল শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।

তিনি স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর রুহের মাগফেরাত কামনাও করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন যে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন এবং রণাঙ্গনে আহতও হয়েছিলেন। অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্পিকার বলেন, স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রতিটি সদস্য এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেবেন বলে তিনি আশা করেন।

তিনি বলেন, “আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে আমরা আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ১৭ বছরের ত্যাগ, তিতিক্ষা ও সংগ্রামের পর ফ্যাসিস্ট শাসনকে বিদায় করতে আমরা সক্ষম হয়েছি।”

তিনি বলেন, এ জন্য দেশের মানুষকে, বিশেষ করে রাজনৈতিক দলের কর্মী, ছাত্রছাত্রী, তাদের অভিভাবক এবং বিভিন্ন পেশার মানুষকে গভীর শ্রদ্ধা জানানো প্রয়োজন। জুলাই ও আগস্টের আন্দোলনে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, কষ্ট সহ্য করেছেন এবং “মাফিয়া সরকারের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন”, তাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।

স্পিকার আরও বলেন, সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হবে। জাতির অর্থনৈতিক মুক্তি ও মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হবে। এ কাজে জনগণের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বিরোধী দলের একটি স্বীকৃত অধিকার এবং সংসদের প্রচলিত কার্যক্রমের অংশ। তারা তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি করেছে। তবে প্রথম দিন ওয়াকআউট না করলে ভালো হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের সহযোগিতা এবং ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সংসদ তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। ভবিষ্যতে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে যাতে দেশে ফ্যাসিস্ট শক্তির পুনরুত্থান না ঘটে, সে বিষয়েও সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

স্পিকার বলেন, তিনি একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি এবং ঐক্যবদ্ধ সংসদ দেখতে চান। তার আশা, এই সংসদ সেই ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সংসদ প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম গ্রহণ করবে এবং দেশকে ধীরে ধীরে উন্নতির পথে এগিয়ে নেবে।

তিনি বলেন, জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে জাতীয় সংসদ সর্বাত্মক ভূমিকা পালন করবে।

বিরোধী দলকে পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে স্পিকার বলেন, নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার স্বার্থে তিনি তার ৩৪ বছরের পুরোনো দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে পদত্যাগ করেছেন, যাতে বিরোধী দল তার ওপর আস্থা রাখতে পারে। তিনি বলেন, বিরোধী দলের সব ধরনের সহযোগিতা তিনি কামনা করেন এবং আশা করেন তারা সেই সহযোগিতা করবে।

বিরোধী দলের অধিকারকে সম্মান করা হবে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে চান না বলেও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রত্যেক রাজনৈতিক দল তাদের নিজস্ব কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবে—এটাই প্রত্যাশা, এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহনশীলতাও থাকা উচিত।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলের অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে স্পিকার বলেন, অধিবেশন চলাকালে কিছু স্লোগান তিনি দেখেছেন। তবে বিরোধী দলের কাজই হলো বিরোধিতা করা। তিনি আশা করেন, বিরোধিতা হবে গঠনমূলক এবং এমন কোনো কর্মকাণ্ড তারা করবে না, যাতে রাষ্ট্রের ক্ষতি হয় বা জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হয়।