Home Blog Page 156

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২০তম কারাবন্দী দিবস আজ

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ২০তম কারাবন্দী দিবস আজ।

২০০৭ সালের এই দিনে তৎকালীন সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার সময়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর তারেক রহমানকে একাধিক মামলায় রিমান্ডে নেয়া হয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতনে ভেঙে দেয়া হয় মেরুদন্ড। প্রায় ১৮ মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

১/১১ সরকারের ধারবাহিকতায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সারা দেশে শতাধিক মামলা দায়ের করে।

বিএনপি নেতারা জানান, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। দিবসটি উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

দেশে আজ যে দামে বিক্রি হবে সোনা

সবশেষ গত বুধবার সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেই সময় ৯ হাজার ২১৪ টাকা কমিয়ে প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২,৬৮,২১৪ টাকা।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সেই দামেই বিক্রি হবে সোনা।

এক বিবৃতিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা ও রুপার (পিওর গোল্ড ও সিলভার) মূল্য কমায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোনার নতুন দাম (প্রতি ভরি ১১.৬৬৪ গ্রাম): ২২ ক্যারেট: ২,৬৮,২১৪ টাকা, ২১ ক্যারেট: ২,৫৬,০২৫ টাকা,১৮ ক্যারেট: ২,১৯,৪৫৮ টাকা, সনাতন পদ্ধতি: ১,৭৯,১৫৯ টাকা।

আজ টানা ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য শনিবার (৭ মার্চ) দেশের বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকে টানা ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উলিপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এটিএম তারিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উলিপুর উপজেলার পৌরসভাসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থগিত থাকবে।

উলিপুর-১ উপকেন্দ্রের সোর্স লাইনের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে।

এছাড়াও ওই উপকেন্দ্রের আওতাধীন উলিপুর পৌরসভা, ধামশ্রেনী, ধরনীবাড়ী, হাতিয়া, তবকপুর, গুনাইগাছ, থেতরাই, পান্ডুল (আংশিক) ও দলদলিয়া (আংশিক) ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১৭

লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংবাদ সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ হামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১৭ জনে দাঁড়িয়েছে এবং অন্তত ৭৯৮ জন আহত হয়েছেন।

এর আগে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১২৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছিল, যা সময়ের সাথে সাথে আরও দীর্ঘ হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার (২ মার্চ)  ভোর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েল এই ব্যাপক হামলা শুরু করে, যার ফলে এই বিপুল সংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটে।

বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

তারেক রহমানকে বহনকারী ভিভিআইপি ফ্লাইটের বিমানে ছিল গুরুতর ত্রুটি

বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং ৭৮৭-৯ মডেলের একটি উড়োজাহাজে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি এবং রক্ষণাবেক্ষণে ভয়াবহ অনিয়মের তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। সংস্থাটির এক অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে জানা গেছে, গুরুতর যান্ত্রিক ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও এই উড়োজাহাজটি দিয়েই গত ২৫ ডিসেম্বর ভিভিআইপি ফ্লাইটে তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) তারেক রহমানকে বহন করা হয়েছিল।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপপ্রধান প্রকৌশলী মো. মনসুরুল আলমের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এই প্রতিবেদনটি জমা দিয়েছে। কমিটির সদস্য সচিব ব্যবস্থাপক, অর্থ (ফাইন্যান্স) আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সদস্য ছিলেন উপমহাব্যবস্থাপক, প্রশিক্ষণ (এয়ারক্রাফট/অ্যারো) মো. জুবিয়ারুল ইসলাম।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ৯ ও ১৭ ডিসেম্বর উড়োজাহাজটির রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে একাধিক অনিয়ম করা হয়েছে। বিশেষ করে ১০ ডিসেম্বরের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যে শেষ করা হয়, যা বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজের জন্য নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অস্বাভাবিক কম। এ ছাড়া উড়োজাহাজটির ত্রুটি নির্ণয় বা কার্যকারিতা পরীক্ষার সঠিক কোনো রেকর্ডও তদন্ত কমিটির কাছে পাওয়া যায়নি।

তদন্তে দেখা গেছে, ১৫ দিনের ব্যবধানে একই যান্ত্রিক ত্রুটি তিনবার দেখা দিলেও সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। গত ২১ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে সিলেটগামী বিজি-২০২ ফ্লাইটটি যখন মাঝ আকাশে ছিল, তখন আবারও এর ভিএফএসজি বিকল হয়ে যায়। কমিটির মতে, এ ধরনের ত্রুটির কারণে উড়োজাহাজটিতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা গিয়ারবক্সের অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। প্রকৌশল বিভাগের এমন উদাসীনতার পরেও ত্রুটিপূর্ণ বিমানটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে ব্যবহার করা হয়েছে।

রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের এই চরম অব্যবস্থাপনার কারণে প্রায় ২৬ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বারবার যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন, এক বিমান থেকে যন্ত্রাংশ খুলে অন্যটিতে লাগানো এবং জরুরি ভিত্তিতে যন্ত্রাংশ পরিবহনের পেছনে এই বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। তদন্ত কমিটি এই আর্থিক ক্ষতির দায় নির্ধারণের পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়াকে একটি বড় ধরনের প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

প্রতিবেদনে বিমানের দুই প্রকৌশলী হীরালাল এবং মো. সাইফুজ্জামান খানের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটি জানিয়েছে, উড়োজাহাজটিতে কম ফুয়েল প্রেসারের সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও তারা যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই সেটিকে উড্ডয়নের ছাড়পত্র দিয়েছিলেন। তাদের এই ভুল সিদ্ধান্তের কারণে জানমালের বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।

বিমানের সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রতিবেদন জমার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ইরানে এযাবৎকালের ‘বৃহত্তম বোমাবর্ষণ’ হবে আজ রাতে: মার্কিন অর্থমন্ত্রী

ইরানে হামলার তীব্রতা বৃদ্ধির ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তার অর্থমন্ত্রী জানালেন, দেশটিতে আজ রাতেই হবে এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ বোমাবর্ষণ কর্মসূচি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, আজ রাতে ইরানের ওপর ‘আমাদের বৃহত্তম বোমাবর্ষণ কর্মসূচি’ পরিচালিত হবে। মার্কিন এ হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলোর ‘সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হবে’।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে অকার্যকর করে দিচ্ছি।’

এ সময় বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার’ অভিযোগ আনেন। এ প্রসঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি উল্লেখ করেন।

এদিকে ইরান যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী।

যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ভারতকে ৩০ দিনের জন্য সাগরে আটকে থাকা রাশিয়ার তেল কেনার অনুমতি দিয়েছে। কাডলো রিপোর্টের সঙ্গে আলাপে বেসেন্ট বলেছেন, ‘কোটি কোটি ব্যারেল তেল নিষেধাজ্ঞার আওতায় সাগরে আটকে আছে। এগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেই অর্থ মন্ত্রণালয় তেলের জোগান বাড়াতে পারে।’

জামালপুরে রাত ৯টার পর হঠাৎ একযোগে বন্ধ পেট্রোল পাম্প

জামালপুরে হঠাৎ করেই জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার পর থেকে জেলার শহরসহ বিভিন্ন স্থানের বেশ কয়েকটি পেট্রোল পাম্প একযোগে বন্ধ হয়ে যায়। এতে তেল নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই রাত ৯টার পর থেকে একের পর এক পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়। অনেক চালক পাম্পে গিয়ে দেখেন, পাম্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অথবা তেল নেই বলে জানানো হচ্ছে।

এদিকে হঠাৎ এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, সরকারিভাবে এখনো কোনো পেট্রোলিয়ামজাত দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা না থাকলেও সম্ভাব্য দাম বাড়ার আশঙ্কায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিমভাবে এই সংকট তৈরি করেছেন।

ভুক্তভোগী চালকরা জানান, হঠাৎ করে অধিকাংশ পেট্রোল পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই জরুরি কাজে বের হয়ে মাঝপথে তেল না পেয়ে চরম সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন।

সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের দাবি, যদি কৃত্রিমভাবে এই সংকট সৃষ্টি করা হয়ে থাকে তবে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

ঈদে ফ্যাশন সচেতনদের নতুন চমক

ঈদের খুশিতে সবার মাঝেই বাহারি ডিজাইনের বৈচিত্র্যময় নতুন নান্দনিক পোশাক নিয়ে আগ্রহ থাকে। পবিত্র এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলিম উম্মাহর মাঝে আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে ঈদুল ফিতর। আর ঈদের আনন্দে রং ছড়াতে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে সৌন্দর্যপিপাসু ফ্যাশন সচেতন মানুষেরা।

আর সেই রঙে ভিন্নতা এনে ফ্যাশনপ্রিয়দের মন রাঙাতে আকর্ষণীয় সব পোশাক ও ফ্যাশন অনুষঙ্গে সেজেছে দেশীয় ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির এই মুহূর্তেও সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘ইজি’ ফ্যাশন হাউসের আউটলেটগুলো। ছেলেদের ফ্যাশনে এক্সক্লুসিভ কালেকশনে বরাবরই একধাপ এগিয়ে ইজি।

সব ধরনের ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখেই তাদের ঈদ আয়োজন। এবারের ঈদে বাহারি সব ডিজাইনের কালেকশন রয়েছে ইজি শোরুমগুলোতে। এবারের বিশেষ আয়োজন থাকছে নতুন নতুন ডিজাইনের শার্ট। অসংখ্য নতুন ডিজাইনের টি-শার্ট, পলো-শার্ট, ফরমাল শার্ট, ক্যাজুয়াল শার্ট, পাঞ্জাবি, কটি, কাবলি পাঞ্জাবি, প্যান্ট ইত্যাদি।

ইজির স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার তৌহিদ চৌধুরী বলেন, শুধু মুনাফা নয়, কাস্টমারদের সেবা দেওয়া মূল লক্ষ্য। ঢাকা ছাড়াও আমাদের বাংলাদেশের সকল জেলাতেই ইজির শো-রুম রয়েছে।

টঙ্গী বাজারের রাবেয়া মার্কেটে আগুন

গাজীপুরের টঙ্গী বাজারের রাবেয়া মার্কেটে আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টার পর পর এই আগুনের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত ১২টার দিকে টঙ্গী বাজারের রাবেয়া মার্কেটে হঠাৎ আগুন লাগে।

আগুন আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দারা যার যার মতো করে সাধ্যমতো আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। রাত পৌনে ১২টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অপরাধ দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার মহিউদ্দিন আহমেদ  বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ

খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রভাবে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশে আবারও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। এতে নতুন সরকারের জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ একটি বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের প্রকাশিত সর্বশেষ অর্থনৈতিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
জিইডির প্রকাশিত ‘ইকোনমিক আপডেট অ্যান্ড আউটলুক, ফেব্রুয়ারি ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ডিসেম্বরের ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ থেকে বেড়ে জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে আশার কথা হলো, চালের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। নভেম্বরে ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ থাকলেও জানুয়ারিতে তা নেমে দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৬১ শতাংশে। এই হ্রাস মূলত মাঝারি, মোটা ও চিকন সব ধরনের চালের দাম কমার ফল। কিন্তু চালের দামের এই পতন সত্ত্বেও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি উচ্চ থাকার মূল কারণ শাকসবজি, মাছ ও ফলের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি।

জানুয়ারিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে সবজির অবদান আগের মাসের নেতিবাচক অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৮ দশমিক ৪০ শতাংশ ইতিবাচক অবদান রাখে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়া এবং ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতাকে এর জন্য দায়ী করা হয়েছে। এছাড়া মাছ ও শুঁটকি, ফল ও ভোজ্যতেলের দামও উচ্চ থাকায় খাদ্যপণ্যের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী মজুরি ও মূল্যস্ফীতির মধ্যে ব্যবধান বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় চাপে পড়ছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে মজুরি বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ০১ থেকে ৮ দশমিক ০৮ শতাংশের মধ্যে স্থির থাকলেও মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ১৭ থেকে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করেছে। জানুয়ারিতে সাধারণ মূল্যস্ফীতি যেখানে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ, সেখানে মজুরি বৃদ্ধির হার মাত্র ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ। এই ব্যবধান নি¤œ আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
সরকারের রাজস্ব আদায়ের চিত্রও সন্তোষজনক নয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সংশোধিত বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা। জানুয়ারি মাসের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫২ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা। কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আদায় করতে পেরেছে মাত্র ৩৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৫ হাজার ৫১২ কোটি টাকা কম। আমদানি-রপ্তানি শুল্ক, স্থানীয় ভ্যাট ও আয়কর খাতে এই ঘাটতি দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি সময়ে সামগ্রিক রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ।
এদিকে সরকারের উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের গতিও মন্থর রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় মাত্র ২১ দশমিক ১৮ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে। গত পাঁচ বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি সবচেয়ে কম বাস্তবায়ন হার। সরকারি অর্থায়ন খাতে ব্যয়ের হার ৪৪ দশমিক ১২ শতাংশ হলেও প্রকল্প সাহায্য খাতে ব্যয়ের হার মাত্র ২১ দশমিক ৭১ শতাংশ, যা বহিঃসহায়তা নির্ভর প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির ইঙ্গিত দেয়।
তবে বৈদেশিক খাতে কিছু ইতিবাচক প্রবণতাও দেখা গেছে। নভেম্বরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলার। জানুয়ারি শেষে তা বেড়ে ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভও বেড়ে হয়েছে ২৮ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার।
প্রবাসী আয়ের প্রবাহও শক্তিশালী রয়েছে। জানুয়ারি মাসে দেশে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। গত বছরের জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স ছিল ২ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার। রমজান উপলক্ষে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
রপ্তানি খাতেও প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি জানুয়ারিতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারে। অ-পোশাক খাতের রপ্তানিও বেড়ে ৭৯৮ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
তবে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়া ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অক্টোবরে যেখানে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি ছিল ৪১২ মিলিয়ন ডলার, নভেম্বরে তা কমে ১৮৬ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। ডিসেম্বরে কিছুটা বেড়ে ২৩২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়ালেও আগের তুলনায় তা এখনো কম। বিশ্লেষকদের মতে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়া বিনিয়োগ কার্যক্রমে স্থবিরতার ইঙ্গিত দেয়, যা ভবিষ্যৎ উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিনিময় হারেও কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। প্রকৃত কার্যকর বিনিময় হার নভেম্বরের তুলনায় কমে জানুয়ারিতে দাঁড়িয়েছে প্রতি ডলারে ১২৪ দশমিক ৬৪ টাকা। অন্যদিকে ডলার বিনিময় হার গত কয়েক মাস ধরে ১২১ দশমিক ৭১ থেকে ১২২ দশমিক ৩২ টাকার মধ্যেই রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন সরকারকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার এবং সুশাসন নিশ্চিত করাও বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।