শিল্প-সংস্কৃতিচর্চার ক্ষেত্রে সবকিছুই যেন বড়দের জন্য। ছোটদের পরিবেশনার গুরুত্ববহ উল্লেখযোগ্য আয়োজনের দেখা মেলে না। সেই বাস্তবতায় চমৎকার এক উদ্যোগ নিয়েছে স্পর্ধা একাডেমি অব পারফর্মিং আর্টস। রমজান মাসে সোনামনিদের নিয়ে নয়া মঞ্চনাটক নির্মাণ করেছে স্পর্ধা। শিশুতোষ এ নাটকের নাম ‘আয়না’।
শনিবার সন্ধ্যায় গুলশান দুই নম্বর সড়কের স্পর্ধা অ্যাটেলিয়ারে মঞ্চস্থ হয়েছে এ প্রযোজনা। ১২ সপ্তাহব্যাপী অভিনয় প্রশিক্ষণ শেষ করা ১৩ প্রতিভাবান শিশু অভিনয় করেছে এই নাটকে। নাটক পরিচালনা করেছেন মো. সোহেল রানা। প্রদর্শনীর সময় উপস্থিত ছিলেন শিশু শিল্পীদের বাবা-মা, পরিবার এবং অন্যান্য নাট্যপ্রেমী। এছাড়া আগ্রহী দর্শকের উপস্থিতিতে প্রদর্শনীর নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই পরিপূর্ণ হয়ে যায় মিলনায়তন।
প্রাণিরাজ্যের গল্পকে উপজীব্য আবর্তিত হয়েছে আয়না নাটকের কাহিনী। সেই গল্পে বনের সব প্রাণি একসঙ্গে থাকলেও সেখানে শান্তির পরিবর্তে অশান্তি বিরাজ করে। ছোট-বড় বিবিধ বিষয় নিয়ে পরস্পরের সঙ্গে বিবাদে লিপ্ত হয়। সব সময়ই চলতে থাকে ঝগড়া। ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ, আদিবাসী-অভিবাসী, ছোট দেশ-বড় দেশ, ধর্ম, জেন-জি ও বুমার-সব কিছুর জন্য তারা বিরোধে লিপ্ত হয়। কেউ নিজের ভুল দেখে না, শুধু অন্যের দোষ খুঁজে বের করে।
এমন বাস্তবতায় বনের রাজা সিংহ ক্লান্ত হয়ে যায় হাজারো বিচার করার পর। তখন সে একটি জাদুকরী আয়না আনে, সেই আয়নায় প্রত্যেকের নিজস্ব প্রতিফলন দেখা যায়। প্রথমে সবাই অবাক হয়। বানর, ভাল্লুক, হাতি, জেব্রা, চিতা, পায়রা- সবাই আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজের আচরণ দেখে। তখন তারা বুঝতে পারে যে ঝগড়ার কারণ হলো নিজেদের ভুল, অহংকার ও লোভ।
এরপর তারা সিদ্ধান্ত নেয় যে ঝগড়া বন্ধ করবে, একসঙ্গে কাজ করবে এবং বনের সবাইকে নিরাপদ রাখবে। বোধোদয় ঘটায় শান্ত হয় বন। মিলেমিশে থাকতে শেখে সকলে। সিংহ বলে, সত্যিকারের শত্রু বাইরের কেউ নয়, আমাদের নিজের আচরণ। একে অপরকে বোঝা এবং একসঙ্গে কাজ করলে আমাদের বন সুন্দর হবে।
সব মিলিয়ে নাটকটি শিশুদের মাঝে অন্তর্ভুক্তি সমাজের গল্পকে মেলে ধরে। তাদের শেখায় যে নানা ধরনের মানুষ একসঙ্গে থেকে একটি বৈচিত্র্যময় ও ঐক্যবদ্ধ সমাজ গড়া সম্ভব, যদি আমরা নিজেদের সমালোচনা করি এবং আত্মদর্শন করি।
প্রযোজনাটিতে অভিনয় করা ৬ থেকে ১১ বছরের শিশু শিল্পীরা হচ্ছে- আজমাঈন আরাবি হৃদ্য, আমারিসা হার্টম্যান, অগ্নিমিত্রা মজুমদার পিয়েতা, মাহরুস আহসানউল্লাহ, মো. নাঈম, রানী খাতুন মিম, রিয়ামনি, তেহজীব সুহা আলিম, ওয়ারসান ওয়াসেক, অরুদ্ধ রুশদ আলী, আরফা জেহেন রেনেসা, রায়া আহমেদ ও ইনায়া মেহরীশ জুনাইরাহ।
নাটকটির নির্দেশনা সহযোগী শাহানাজ পারভীন জোনাকি ও সাদিয়া মরিয়ম রূপা। মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন সাদিয়া মরিয়ম রূপা ও ফাইজা চৌধুরী। পোশাক পরিকল্পনা করেছেন মহসিনা আক্তার। সংগীত পরিকল্পনা করেছেন অনিরুদ্ধ অনু।
মঞ্চস্থ শিশুনাট্য ‘আয়না’ শত্রু বাইরের কেউ নয়, নিজেদের আচরণ
বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা–বাণিজ্য ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক লেনদেনে মুদ্রা বিনিময়ের পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাণিজ্যিক লেনদেন সহজ করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার জানা জরুরি।
সোমবার (২ মার্চ) বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার নিম্নরূপ—
বৈদেশিক মুদ্রার নাম–বাংলাদেশি টাকা
ইউএস ডলার – ১২২ টাকা ৩০ পয়সা
ইউরো – ১৪৪ টাকা ৪৯ পয়সা
ব্রিটিশ পাউন্ড – ১৬৪ টাকা ৯৪ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার – ৮৭ টাকা ৬ পয়সা
জাপানি ইয়েন – ৭৮ পয়সা
কানাডিয়ান ডলার – ৮৯ টাকা ৬৪ পয়সা
সুইডিশ ক্রোনা – ১৩ টাকা ৫৭ পয়সা
সিঙ্গাপুর ডলার – ৯৬ টাকা ৭১ পয়সা
চীনা ইউয়ান রেনমিনবি – ১৭ টাকা ৮২ পয়সা
ভারতীয় রুপি – ১ টাকা ৩৪ পয়সা
শ্রীলঙ্কান রুপি – ২ টাকা ৫২ পয়সা
রাস্তা ও মসজিদ ত্যাগ না করার আহ্বান আয়াতুল্লাহ খোমেনির নাতির
ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি ও দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতার পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হাসান খোমেনি দেশবাসীকে রাস্তায় এবং মসজিদে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তিনি বলেছেন, “এক মুহূর্তের জন্যও রাস্তা এবং মসজিদ ত্যাগ করবেন না। আমাদের শক্তি, জনগণের হৃদয় এবং জনগণের উপস্থিতিই আমাদের এখানে টিকিয়ে রেখেছে।”
তিনি আরো বলেন, “আজ থেকে যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত, সবাইকে মসজিদে থাকতে হবে এবং মসজিদগুলো ভরতে হবে। আমাদের শক্তিশালী ভিত্তি হলো শহরের মসজিদ ও চত্বর। প্রতিটি চত্বর জনগণের দখল করা উচিত। তারা কালো পোশাক পরবে এবং হাতে ইমাম হুসেইনের পতাকা ধরবে।”
হাসান খোমেনি কোনো সরকারি পদে ছিলেন না। দেশের নিরাপত্তা সংস্থা বা শাসক শ্রেণির মধ্যেও তার প্রভাব সীমিত। তিনি অনেক সহকর্মীর তুলনায় কম কঠোরপন্থী এবং ২০১৬ সালে এক্সপার্টস অ্যাসেম্বলি নির্বাচনে তার নাম তালিকাভুক্তি বাতিল করা হয়েছিল।
আল আকসায় তারাবি বন্ধ করলো ইসরাইল, হুঁশিয়ারি খতিবের
ইরানের সাথে যুদ্ধের ফলে বিরাজ করছে উত্তেজনা। ঘোষণা হয়েছে জরুরি অবস্থা। এই অজুহাতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে অবস্থিত মসজিদুল আকসায় নামাজ ও তারাবি বন্ধ রেখেছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী।
ইসরাইলি বাহিনীর এমন সিদ্ধান্তকে অবৈধ বলেছেন আল-আকসা মসজিদের খতিব ও জেরুজালেমের ইসলামিক হাই কাউন্সিলের প্রধান শায়খ ইকরিমা সাবরি।
তিনি বলেছেন, জরুরি অবস্থা ঘোষণার অজুহাতে মসজিদুল আকসা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কোনো বৈধতা নেই। এর মাধ্যমে দখলদার কর্তৃপক্ষ মসজিদের ওপর আধিপত্য চাপিয়ে দিতে চায়।
আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, টানা দ্বিতীয় দিনের মতো মসজিদ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং তারাবির নামাজ আদায় করতে দেওয়া হয়নি। তার ভাষায়, দখলদার কর্তৃপক্ষ যেকোনো সুযোগকে আল-আকসা বন্ধের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
ফিলিস্তিনি জেরুজালেম গভর্নরেটের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শনিবার ভোরে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে ঘোষিত জরুরি অবস্থার অজুহাতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো পূর্ব জেরুজালেম, পুরনো শহর ও আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখা হয়েছে। মুসল্লি ও রোজাদারদের মসজিদে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
শায়খ সাবরি জানান, শনিবার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই মসজিদ থেকে সব মুসল্লি, শরিয়াহ আদালতের কর্মী ও শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়া হয়। শুধু প্রহরীরা ভেতরে রয়েছেন।
তিনি বলেন, নিরাপত্তার অজুহাতে পুলিশের এই পদক্ষেপ ইবাদতের স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং এর মাধ্যমে ইসলামিক ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে।
তার মতে, মসজিদ বন্ধ রাখার ফলে হাজার হাজার মুসল্লি এশা ও তারাবির নামাজ আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শনিবার ইসরায়েলি পুলিশ এশা ও তারাবির নামাজ আদায়ে বাধা দেয়। খুব অল্পসংখ্যক কর্মচারী ছাড়া কেউ নামাজ আদায় করতে পারেননি। জেরুজালেম গভর্নরেট জানায়, চলতি রমজানের শুরু থেকে তারাবিতে মুসল্লির সংখ্যা ৩৫ হাজার থেকে এক লাখ পর্যন্ত ছিল।
জামায়াতকে ডেপুটি স্পিকার পদ নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জাতীয় সংসদের বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকারের পদ নেয়ার জন্য বিএনপি প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার সচিবালয়ে এ কথা জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান মেনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন।
তিনি বলেন, সংসদে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকারের পদ নেয়ার জন্য বিএনপি প্রস্তাব দিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা জাতীয় সংসদে অংশগ্রহণ করতে পারেন না। শুধুমাত্র সংসদ সদস্যরাই জাতীয় সংসদে অংশ নিতে পারেন।
তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার নিয়ে যেসব আলোচনা হচ্ছে বা রাজনীতির মাঠে নানা কথা হচ্ছে, সেটি রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে বলা যেতে পারে। কিন্তু অসাংবিধানিক কিছু জাতীয় সংসদে উত্থাপন করতে পারি না।
ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লো হিজবুল্লাহ
ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সোমবার (২ মার্চ) ভোরে এ হামলা চালানো হয় সংগঠনটি। হিজবুল্লাহ নিশ্চিত করেছে, শনিবার ভোরে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে হামলা শুরু করার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
আল-জাজিরা জানায়, এই হামলার মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে গেল।
যদিও যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকেই লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েল হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালিয়ে আসছিল, হিজবুল্লাহ দাবি করে আসছিল যে তারা যুদ্ধবিরতি মেনে চলেছে।
এদিকে, নওয়াফ সালাম ইসরায়েলের দিকে হিজবুল্লাহর রকেট হামলাকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সন্দেহজনক কাজ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এ হামলা লেবাননের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে এবং ইসরায়েলকে আগ্রাসন অব্যাহত রাখার অজুহাত দিচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘দেশকে আমরা নতুন কোনো দুঃসাহসিক অভিযানে জড়িয়ে পড়তে দেব না। হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং লেবাননের জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এর আগে হিজবুল্লাহ হামলার দায় স্বীকার করে জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনিকে হত্যার প্রতিক্রিয়া এবং লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের লঙ্ঘনের জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
এবার যুদ্ধের মধ্যে আটকা পড়লো বাংলাদেশের জাহাজ!
মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জবাবে ইরানের বিধ্বংসী পাল্টা আক্রমণে উত্তাল হয়ে উঠেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই যুদ্ধাবস্থার কবলে পড়ে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে আটকা পড়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। বর্তমানে জাহাজটিতে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক অবস্থান করছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাহাজটি থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিএসসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাতার থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন স্টিল কয়েল নিয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি এই বন্দরে পৌঁছালেও নিরাপত্তার খাতিরে বর্তমানে এটি জেটিতেই স্থির রয়েছে।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর এম. মাহমুদুল মালেক নিশ্চিত করেছেন যে, জাহাজে থাকা সকল নাবিক নিরাপদ ও সুস্থ আছেন এবং তারা নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে দুবাইয়ে ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় এক বাংলাদেশিসহ তিনজনের নিহতের খবর জেবেল আলী বন্দর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। বিএসসি বহরের বাকি ছয়টি জাহাজ বর্তমানে নিরাপদ অঞ্চলে থাকলেও ‘জয়যাত্রা’ নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। নাবিকদের পর্যাপ্ত খাবার ও পানি মজুত রাখার পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে বিএসসির একমাত্র জাহাজ হিসেবে বর্তমানে এটি বন্দরে অবস্থান করছে। নাবিকদের জীবন রক্ষায় জাহাজটিকে জেটিতেই নিরাপদ অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে।
ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার ঝুঁকিতে থাকায় বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ৩৮ হাজার টনেরও বেশি স্টিল কয়েল খালাসের কাজ শুরু করা হচ্ছে না।
বিএসসি কর্তৃপক্ষ অনলাইনে সার্বক্ষণিক নাবিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। দীর্ঘমেয়াদী অবরোধ বা যুদ্ধের আশঙ্কায় জাহাজে অতিরিক্ত খাদ্য ও সুপেয় পানি সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিএসসির বাকি ছয়টি জাহাজ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও রাশিয়ার মতো নিরাপদ দেশের বন্দরগুলোতে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছে, যা বিএসসির জন্য কিছুটা স্বস্তির বিষয়।
দুবাইয়ে ইরানের হামলায় এক বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনাটি জেবেল আলী বন্দরে অবস্থানরত নাবিকদের মধ্যে মানসিক চাপ তৈরি করেছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যালোচনার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
ঐতিহাসিক জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস আজ
একাত্তরের অগ্নিঝরা মার্চের আজকের এই দিনে প্রথমবারের মতো উত্তোলিত হয়েছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। ঐতিহাসিক ওই ঘটনার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ডাকসু’র তখনকার ভিপি আ স ম আবদুর রব। সেই দিনকে স্মরণ করে আজ (২ মার্চ) উদযাপন করা হচ্ছে ‘জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস’।
১৯৭১ সালের ২ মার্চ সেই দিনের দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তানের পতাকা নামানো হয় এবং বাংলাদেশের পতাকা উড়ানো হয়। রাতেই সচিবালয়ে একই দৃশ্য ঘটেছিল। সবুজ পটভূমির ওপর লাল বৃত্তের মাঝে সোনালি মানচিত্র অঙ্কিত সেই পতাকা বাঙালি জনগণের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।
তৎকালীন সময় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ, অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা একসঙ্গে দাঁড়ায়। পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি ছাত্র ও সাধারণ মানুষ স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি উজ্জীবিত হয় এবং মুক্তির পথে যাত্রা শুরু করে।
দেশের বাইরে, অর্থাৎ ভারতের কলকাতায় প্রথমবার ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। ডেপুটি হাইকমিশনের প্রধান এম হোসেন আলী সেই সময় বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে পতাকা উত্তোলন করেন।
পতাকা উত্তোলন দিবস উপলক্ষে আজ নানান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কলাভবন সংলগ্ন ঐতিহাসিক বটতলায় আজ সকাল ১০টায় ‘পতাকা উত্তোলন দিবস’ উদযাপন করা হবে। অনুষ্ঠানে ঢাবি’র ভাইস-চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন), প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) এবং ট্রেজারার উপস্থিত থাকবেন।
এছাড়া ডাকসুর সাবেক ভিপি, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী আ স ম আবদুর রব অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন।
স্বর্ণ ও রুপার দাম বেড়ে নতুন মূল্য কার্যকর আজ থেকে
দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণ ও রুপার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) শনিবার রাতে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আজ (রোববার, ১ মার্চ) থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বর্ণের দাম ভরিতে যথাক্রমে ২২ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮০ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৫৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।
রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৯৯৮ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ৭১৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ৪ হাজার ৩১৬ টাকা।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ৩৪ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ২২ বার বাড়ানো হয়েছে এবং ১২ বার কমানো হয়েছে। রূপার দাম এই বছর ২০ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৩ বার বাড়ানো হয়েছে এবং ৭ বার কমানো হয়েছে।
ইফতারের পর মাথা ভারী? জেনে নিন সহজ প্রতিকার
রমজানে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের মুহূর্তে স্বস্তি ফিরে আসার কথা থাকলেও অনেকেই ঠিক তখনই মাথাব্যথার সমস্যায় ভোগেন। কপাল ভারী লাগা, মাথার দুপাশে চাপ অনুভব করা বা চোখের ওপর টানটান ব্যথা—এগুলো বেশ সাধারণ উপসর্গ।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় ‘ফাস্টিং হেডেক’ বা উপবাসজনিত মাথাব্যথা। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়–এর আবাসিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন জানান, এই ধরনের ব্যথা সাধারণত মৃদু থেকে মাঝারি হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কপাল বা মাথার দুই পাশে অনুভূত হয়। খাবার গ্রহণের পর কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিনের মধ্যে এটি কমে যায়।
কেন হয় ইফতারের পর মাথাব্যথা?
১. পানিশূন্যতা
সারাদিন না খেয়ে-না পান করে থাকায় শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। এতে রক্তনালীর সংকোচন ঘটে এবং মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।
২. ক্যাফেইন থেকে বিরতি
যারা নিয়মিত চা বা কফি পান করেন, তারা হঠাৎ ক্যাফেইন বন্ধ করলে ‘উইথড্রয়াল’ জনিত মাথাব্যথায় আক্রান্ত হতে পারেন।
৩. রক্তে শর্করার ঘাটতি
দীর্ঘ সময় উপোস থাকার কারণে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়, যা মস্তিষ্কে ব্যথার অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে। মাইগ্রেইনের রোগীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও তীব্র হতে পারে।
কখন সতর্ক হবেন?
চিকিৎসকরা বলছেন, সাধারণ উপবাসজনিত মাথাব্যথা খুব তীব্র হয় না। তবে যদি—
🔹 ব্যথা অসহনীয় হয়ে ওঠে
🔹 ঘাড় শক্ত হয়ে যায়
🔹 শরীরের কোনো অংশ অবশ লাগে
🔹 বমি, জ্বর বা বিভ্রান্তি দেখা দেয়
তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
প্রতিরোধের উপায়
পর্যাপ্ত পানি পান
ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত অল্প অল্প করে বারবার পানি পান করতে হবে।
ক্যাফেইন ধীরে কমানো
রমজানের আগে থেকেই চা বা কফির পরিমাণ কমালে মাথাব্যথার ঝুঁকি কমে।
সুষম সেহরি ও ইফতার
সেহরিতে প্রোটিন, জটিল শর্করা ও শাকসবজি রাখা উচিত। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলা ভালো।
পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম
ঘুমের রুটিন ঠিক রাখা, প্রয়োজনে ছোট সময়ের বিশ্রাম নেওয়া এবং মানসিক চাপ কমানো মাথাব্যথা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
রমজানে ইফতারের পর মাথাব্যথা অনেকের কাছেই পরিচিত সমস্যা হলেও সচেতন খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ, ক্যাফেইন নিয়ন্ত্রণ ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের মাধ্যমে এটি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।


