Home Blog Page 16

ভারতের সঙ্গে পানির হিস্যায় বাংলাদেশ একচুলও ছাড় দেবে না: নাহিদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারতের সঙ্গে আগামী ডিসেম্বরে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের অংশীদারত্ব স্পষ্ট করতে হবে। পানির হিস্যায় বাংলাদেশ একচুলও ছাড় দেবে না।

বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পলাশী মোড়ে আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যার সপ্তম বার্ষিকীতে তার স্মৃতিকে সামনে রেখে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নে সরকারকে আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, আবরার ফাহাদ বাংলাদেশের নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার কথা বলেছিলেন। সেই অবস্থানকে ধারণ করতে হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে পুনঃস্থাপন করতে হবে।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, আগামী ডিসেম্বরে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের অংশীদারত্ব স্পষ্ট করতে হবে। পানির হিস্যায় বাংলাদেশ একচুলও ছাড় দেবে না।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আবরার ফাহাদ শুধু একজন ব্যক্তি নন; তার হত্যার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ আমলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নির্যাতন ও গেস্টরুম সংস্কৃতির চিত্রও প্রকাশ পেয়েছিল। সামান্য ফেসবুক স্ট্যাটাসের কারণে তাকে সারারাত নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।

এনসিপি নেতা নাহিদ বলেন, শুধু বোয়িং বিমান কেনা বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বৈঠক করলেই হবে না; সরকার আন্তর্জাতিক চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ কতটা নিশ্চিত করতে পারছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। গঙ্গা পানি বণ্টনসহ সব আন্তর্জাতিক চুক্তি সংসদে আলোচনা করে জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

গাজা যুদ্ধের ৩ বছর ‘আমরা সব হারিয়েছি’

০

গাজা যুদ্ধের তিন বছর পূর্ণ হয়েছে বুধবার। ইসরায়েলের নির্বিচার হামলা, মানবেতর পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং পদ্ধতিগত নির্মূল প্রচেষ্টার মুখে পড়ে বাস্তবতাই পাল্টে গেছে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটির। নিজেদের বাস্তবতা তুলে ধরতে গিয়ে বেইত হানুনের এক ফিলিস্তিনি বলেন, ‘আমরা সব হারিয়েছি।’

আলজাজিরার প্রতিবেদন বলছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে হামলা হয়েছিল ইসরায়েলে। ওই হামলার পর ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক বিমান ও স্থল অভিযান শুরু করে। এরপর টানা হামলায় গাজার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বাড়িঘর ও আবাসিক এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে। মানবেতর পরিস্থিতির মুখে পড়েছে মানুষ।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৭৪ হাজার ২৪৫ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। প্রায় ২০ লাখ মানুষের জীবন এই যুদ্ধে বিপর্যস্ত হয়েছে। বারবার বাস্তুচ্যুতি ও উচ্ছেদের নির্দেশে পরিবার ও সম্প্রদায়গুলোকে ঘরছাড়া হতে হয়েছে।

গাজা যুদ্ধের নির্মমতায় যখন গোটা বিশ্ব নড়েচড়ে বসতে শুরু করে, সে সময় আসে বহুল প্রতীক্ষিত এক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে ওই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও এক হাজার ৪৬২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন ইসরায়েলি হামলায়।

প্রতিদিনের জীবনে টিকে থাকার লড়াই

গাজার মানুষের জন্য যুদ্ধ শুধু তাদের বসবাসের জায়গা বদলে দেয়নি, দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে সাধারণ কাজগুলো করার পদ্ধতিও বদলে দিয়েছে। এই যুদ্ধের জেরে উপত্যকাটির শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। খাবার, পানি, আশ্রয় এবং অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসের ব্যবস্থা করাই এখন প্রতিদিনের বড় চ্যালেঞ্জ।

জাতিসংঘের দেওয়া তথ্যানুসারে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে গাজার ৯৪ শতাংশ মানুষের জরুরি আশ্রয় ও মৌলিক গৃহস্থালি সহায়তার প্রয়োজন ছিল। আর ৬৫ শতাংশ পরিবার তাঁবু বা অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছিল। ইসরায়েলি হামলা কিংবা জোরপূর্বক উচ্ছেদের নির্দেশে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হওয়ায় এসব আশ্রয়ে তাদের থাকতে হচ্ছে। এসব অস্থায়ী আশ্রয় আবহাওয়া থেকে সামান্যই সুরক্ষা দেয় তাদের।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, অনেক পরিবারের পর্যাপ্ত বিছানা, আলো, রান্নার সরঞ্জাম ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাও নেই। পানিও প্রতিদিনের আরেকটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যানুসারে, আগস্টের শুরুতে গাজার ৯১ শতাংশ মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার পানি নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ছিল। বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও একইভাবে অনিশ্চিত। উপত্যকাটিতে এখনও কার্যকর বিদ্যুৎ গ্রিড নেই। জ্বালানিও ক্রমে দুর্লভ হয়ে উঠছে।

গাজার উত্তরাঞ্চলের প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়া শহর বেইত হানুনের বাসিন্দা বাসাম নাসের বলেন, ‘একসময় আমাদের বাড়ি ছিল। এখন আমরা প্রিয়জনদের হারিয়েছি। তাদের মরদেহ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে আছে। আমরা সব হারিয়েছি।’

ধ্বংস হয়ে গেছে অর্থনীতি

যুদ্ধ গাজার অর্থনীতিও পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। ব্যবসা ও স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস হওয়ায় পরিবারগুলোর আয় কমে গেছে এবং তাদের ক্রয়ক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

চাকরি ও আয় হারিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এখন ক্রমে মানবিক সহায়তা, ঋণ এবং ছোট পরিসরের অনানুষ্ঠানিক কাজকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে। অর্থনৈতিক গবেষক রামি আল-জায়গ আলজাজিরাকে বলেছেন, এই যুদ্ধ ‘সমাজটিকে কয়েক দশক পিছিয়ে দিয়েছে’।

সংকুচিত হয়ে আসছে বসবাসের জায়গা

যুদ্ধের কারণে গাজার ভৌগোলিক চিত্রও বদলে গেছে। ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রবেশাধিকার-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ ভূখণ্ডটিকে বিভক্ত করেছে। ফিলিস্তিনিদের ক্রমেই ছোট একটি এলাকায় ঠেলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বাড়িঘর, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ তৈরির মাধ্যমে গাজার ভেতরে একটি সামরিক সীমারেখা তৈরি করা হয়েছে। এই কথিত রেখার একপাশে ইসরায়েলি সেনার অবস্থান এবং অন্যপাশে আছেন ফিলিস্তিনিরা। গত সেপ্টেম্বরে ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর জানিয়েছিল, ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রবেশাধিকার-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকাজুড়ে রয়েছে। ফলে ২০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনিকে গাজার ৩০ শতাংশেরও কম এলাকায় কেন্দ্রীভূত হয়ে থাকতে হচ্ছে।

তৃতীয় বার্ষিকীতেও হামলা

যুদ্ধের তৃতীয় বার্ষিকীতেও বুধবার গাজায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন।

গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতাল জানিয়েছে, রাতে ইসরায়েলি হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। গাজার সিভিল ডিফেন্স নিহতদের একজনকে মোহাম্মদ তামুস হিসেবে শনাক্ত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তিনি তাদের একজন স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন।

দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিস শহরের নাসের হাসপাতাল জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় ৬০ বছর বয়সী হিশাম ইব্রাহিম আবু মুস্তাফা নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

রাশিয়ায় প্লেগে নারীর মৃত্যু, বিশ্বজুড়ে শঙ্কা ছড়িয়ে পড়ার লক্ষণ নেই: ডব্লিউএইচও

রাশিয়ার একটি গবেষণা কেন্দ্রে সংক্রামক রোগ প্লেগে টেকনিশিয়ানের মৃত্যুর খবর এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাশিয়ার কাছে আনুষ্ঠানিক তথ্য চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ঘটনাটির বিষয়ে মস্কোর দিক থেকে স্বচ্ছতার দাবিও জোরালো হচ্ছে।

গত সপ্তাহে সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলে প্লেগ গবেষণা ইনস্টিটিউটে টেকনিশিয়ানের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। রাশিয়ার গণমাধ্যম পিপল অব বৈকাল গত শুক্রবার জানায়, মারা যাওয়া ওই নারীর নাম দারিয়া শিপিলোভা (২৮)। ভেঙে যাওয়া একটি টেস্ট টিউব থেকে তিনি নিউমোনিক প্লেগে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্য গণমাধ্যমও ল্যাবরেটরিতে ঘটা এক দুর্ঘটনার সঙ্গে দারিয়ার মৃত্যুর সম্ভাব্য সম্পর্কের কথা বলছে। তাঁর সংস্পর্শে যাওয়া প্রায় ২০০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তবে রুশ কর্তৃপক্ষ বলছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মস্কোকে স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস। সংস্থাটি বলছে, মঙ্গলবার রাশিয়ার কাছ থেকে হালনাগাদকৃত তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইরকুতস্কে বিপজ্জনক রোগের সংক্রমণ রেকর্ড করা হয়নি।

গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি শিগগিরই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলবেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে মস্কোর কাছে আরও তথ্য চেয়েছি।’

প্লেগ একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ। এর জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার নাম ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস। বুরিয়াতিয়া অঞ্চলে মারমটের মতো তৃণভোজী ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর দেহে এই ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়। প্লেগ নানা ধরনের হতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে সংক্রামক ধরন নিউমোনিক প্লেগ। এটি শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনে ছড়াতে পারে। বিউবনিক প্লেগ ছড়ায় সংক্রমিত পরজীবী পোকার মাধ্যমে।

স্বাধীন বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে কখনও প্লেগ ছড়ায়নি। তবে ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৯৮ সালের দিকে কলকাতায় বিউবনিক প্লেগ মহামারি আকার ধারণ করলে তৎকালীন পূর্ব বাংলাতে (বর্তমান বাংলাদেশ) আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৯৪ সালে ভারতের সুরাটে নিউমোনিক প্লেগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এরপর বাংলাদেশ সীমান্তে কঠোর সতর্কতা জারি করে রোগটির প্রবেশ ঠেকানো হয়।

২০০৯ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঁশবনে ফুল ফোটার কারণে ইঁদুরের সংখ্যা অস্বাভাবিক বাড়লে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো প্লেগের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল। তবে সরকারের দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কারণে তা ঠেকানো সম্ভব হয়।

সৌদি আরবে দুটি বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ৩, আহত ৩৬

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যে সৌদি আরবের দুটি বিমানবন্দরে হামলায় তিনজন নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছেন। বুধবার দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। আবহা বিমানবন্দরের স্থাপনায় হামলায় দুজন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলা দুটির একটি মঙ্গলবার এবং অন্যটি বুধবার চালানো হয়। তবে কোন দিন কোন বিমানবন্দরে হামলা হয়েছে, তা জানানো হয়নি।

হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, এসব হামলার জবাব দেওয়া হবে। বুধবার গভীর রাতে এক বিবৃতিতে জোটটি জানায়, তারা ইয়েমেনের সা’দা, হোদেইদাহ, জাওফ ও মারিব অঞ্চলে হুতিদের ৮০টির বেশি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

বুধবার বিমান চলাচলের অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলা চালানো হয়। এর আগে হুতিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করে এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলা চালায়।

ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কায়রো থেকে একটি ফ্লাইট অবতরণের কয়েক মিনিট আগে এডেন বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। হুতিদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা ইয়েমেনের বিভিন্ন অংশের মানুষের জন্য এডেন বিমানবন্দরটি প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশপথ।

সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট বুধবার আরও জানিয়েছে, তারা সৌদি রাজধানী রিয়াদের উত্তরে হুতিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। জোটটি বলেছে, হুতি-নিয়ন্ত্রিত সানা এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী প্ল্যাটফর্মটির ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং সেটি ধ্বংস করা হবে। তবে এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানানো হয়নি।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাদের গোষ্ঠী বেশ কয়েকটি ড্রোন দিয়ে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের লড়াই মূলত বাব আল-মান্দাব প্রণালীর আশপাশের এলাকাকে কেন্দ্র করে তীব্র হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্য সীমিত হয়ে পড়ায় জ্বালানি রপ্তানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চলতি সপ্তাহে সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান সহায়তায় ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী বাব আল-মান্দাব প্রণালীর কাছে এবং মোচা শহরের আশপাশের কৌশলগত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে পাল্টা অভিযান শুরু করেছে। গত সেপ্টেম্বরে হুতিরা এসব এলাকা দখল করে নিয়েছিল। তবে সরকারি বাহিনীর এই অগ্রযাত্রা কতটা স্থায়ী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বৃহত্তর সংঘাতের রেশ হিসেবে ছড়িয়ে পড়া এই লড়াই ইয়েমেনের দীর্ঘ ১২ বছরের যুদ্ধকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। এতে দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে এবং আরব বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশটি খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা বুধবার জানিয়েছে, লড়াইয়ের সর্বশেষ পর্যায় শুরুর পর থেকে ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়েছে। সংস্থাটির মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, ‘মানুষ জীবন বাঁচাতে ছুটছে, কিন্তু নিরাপদ কোনো আশ্রয় খুঁজে পাচ্ছে না।’ খাদ্য ও আশ্রয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আরও অর্থায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

উভয় পক্ষই কোনো বিস্তারিত তথ্য না দিয়ে দাবি করেছে, লড়াইয়ে শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ইয়েমেনের কিছু এলাকায় প্রতি চারটি পরিবারের মধ্যে তিনটি পরিবার অনাহারের শিকার হচ্ছে।

হুতিরা এর আগে সৌদি আরবের বিভিন্ন অবকাঠামো, যার মধ্যে বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও পাইপলাইন রয়েছে, লক্ষ্য করে বারবার হামলা চালিয়েছে।

বাব আল-মান্দাব প্রণালীকে কেন্দ্র করে সংঘাত আরও তীব্র হলে নৌ চলাচল ও বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হুতিদের প্রতিহত করতে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইছে। তুরস্ক মূলত প্রতিরক্ষামূলক ও কারিগরি সহায়তা পাঠাচ্ছে বলে বুধবার দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ন্যাটো সদস্য তুরস্ক ও পাকিস্তান তাদের নবগঠিত জোটের আওতায় যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

হুতিদের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাত তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে মিত্র দেশ সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি সিরিয়া গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একজন মার্কিন কর্মকর্তা ও একজন সিরীয় সামরিক কর্মকর্তা।

বিবেচনাধীন বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবকে হামলা থেকে রক্ষায় প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দেওয়া অথবা হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীকে সহায়তার জন্য সেনা মোতায়েন করা। ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সেনা মোতায়েন করতে সৌদি আরব সিরিয়ার কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল।

মন্তব্যের জন্য সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে একজন সিরীয় কূটনীতিক বলেন, হুতি হামলার মুখে সিরিয়া দৃঢ়ভাবে সৌদি আরবের পাশে রয়েছে। তবে সরকারের মূল মনোযোগ এখন দেশের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারের দিকে, যার মধ্যে রয়েছে গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা।

ইয়েমেনি সামরিক ও সরকারি সূত্র জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলের রণাঙ্গনে লড়াই মূলত বাব আল-মান্দাব প্রণালীর দিকে নজর রাখা ধুবাব জেলাকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ রয়েছে। সেখানে সরকারি বাহিনী উপকূলীয় সমভূমির পূর্বদিকে অবস্থিত কৌশলগত পাহাড়গুলোতে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে।

সোমবার ইয়েমেন সরকার দাবি করেছিল, তারা মোচা শহরে পৌঁছেছে। শহরটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র তাইজের সঙ্গে সংযোগকারী একটি সরবরাহ পথের সংযোগস্থলে অবস্থিত। তবে মাঠপর্যায়ের ইয়েমেনি সামরিক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের মতে, ওই দাবি ছিল অকালপক্ব বা তাড়াহুড়ো করে করা।

ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণকারী হুতিরা ২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখল করে নেয়। এর পর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি সামরিক জোট ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করে। জোটটির আশঙ্কা ছিল, ইয়েমেনে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের প্রভাব বাড়তে পারে এবং সৌদি সীমান্তে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে।

সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযোগ, ইরান হুতিদের অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি প্রশিক্ষণও দিচ্ছে। পাহাড়ি অঞ্চলে গড়ে ওঠা হুতিরা বর্তমানে হাজার হাজার যোদ্ধার সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। তাদের হাতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন পুরো অঞ্চলের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে সৌদি জোটের দাবি।

তবে হুতিরা ইরানের মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক প্রতিনিধি নেটওয়ার্কের অংশ হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের অস্ত্র নিজেরাই তৈরি করে বলে দাবি করেছে। তেহরানও হুতিদের অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন অভিনেতা নানা পাটেকার

০

বলিউডের প্রবীণ অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা নানা পাটেকার মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার গোয়ায় নিজের বাসভবনে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তাঁকে বাসভবনে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।

হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ভোর ৫টা ২০ মিনিটে নানা পাটেকারকে মৃত ঘোষণা করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে এতে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী নানা পাটেকার হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন। ‘নাটসম্রাট’, ‘ওয়াজুদ’, ‘পরিন্দা’, ‘আব তক ছাপ্পান’ ও ‘যশবন্ত’-এর মতো সিনেমায় তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।

১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তাঁর। পরে ‘শক্তি: দ্য পাওয়ার’ (২০০২), ‘আব তক ছাপ্পান’ (২০০৪), ‘অপহরণ’ (২০০৫) ও ‘ট্যাক্সি নম্বর ৯২১১’ (২০০৬)-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা পান।

এ ছাড়া ‘ওয়েলকাম’ (২০০৭) ও এর সিক্যুয়েল ‘ওয়েলকাম ব্যাক’ (২০১৫)-এ গ্যাংস্টার উদয় শেঠির চরিত্রে অভিনয় করে ভিন্নধর্মী জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কঠিন শর্তে ৩৩০ কোটি ডলার বিদেশি ঋণ নিচ্ছে সরকার

দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি অব্যাহত রাখতে মোট ৩৩০ কোটি ডলারের কঠিন শর্তের বৈদেশিক ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনমনীয় ঋণ সম্পর্কিত স্থায়ী (এসসিএনসিএল) কমিটির সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত মোট অর্থের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতের একটি নতুন প্রকল্পের জন্য ২০ কোটি ডলার এবং জ্বালানি খাতের জরুরি আমদানির জন্য ভূতাপেক্ষ অনুমোদনে ৩১০ কোটি ডলারের ঋণ রয়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) বাস্তবায়নাধীন ‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ গ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিটি।

সভায় উপস্থাপনের জন্য তৈরি ইআরডির কার্যপত্রে বলা হয়েছে, এডিবির এ ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে সিকিউর্ড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেটের (এসওএফআর) সঙ্গে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ স্প্রেড যুক্ত করে। ২৫ বছর মেয়াদি এ ঋণে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে। এ ছাড়া শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ ম্যাচিউরিটি প্রিমিয়াম ও শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ কমিটমেন্ট চার্জ রয়েছে। ঋণটির গ্র্যান্ট এলিমেন্ট মাত্র ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। এটি ২৫ শতাংশের নিচে হওয়ায় ঋণটি কঠিন শর্তের বা অনমনীয় ঋণ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, অনুমোদিত ২০ কোটি ডলার ঋণের প্রধান লক্ষ্য হলো ঢাকা শহরের পার্শ্ববর্তী ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পিবিএস) এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ানো।

২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩১ সালের জুলাই মেয়াদে বাস্তবায়নযোগ্য এ প্রকল্পের আওতায় নতুন ও বিদ্যমান উপকেন্দ্র সম্প্রসারণ, আন্ডারগ্রাউন্ড ও ওভারহেড লাইন নির্মাণ, ইনসুলেটেড কন্ডাক্টর স্থাপন এবং ডিজিটাল মনিটরিং ও ফল্ট লোকেটর প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে। এর ফলে কারিগরি লোকসান (সিস্টেম লস) কমানোর পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন ও উন্নত মানের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আইটিএফসি থেকে ৩১০ কোটি ডলার
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত এবং নিয়মিত সরবরাহ বজায় রাখতে সৌদি আরবের জেদ্দাভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি) থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩১০ কোটি ডলারের স্বল্পমেয়াদি অনমনীয় ঋণ ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দিয়েছে এসসিএনসিএল।

এ ঋণের মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জ্বালানি তেল আমদানির জন্য ২৫০ কোটি ডলার এবং বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) এলএনজি আমদানির জন্য ৬০ কোটি ডলার ব্যয় করা হবে।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, ছয় মাস মেয়াদি এ ঋণের সুদের হার ধরা হয়েছে ছয় মাসের টার্ম এসওএফআরের সঙ্গে ১ দশমিক ৭০ শতাংশ যোগ করে, যা বিগত বছরের বার্ষিক হারের তুলনায় কিছুটা কম।

আইটিএফসি তাদের নিজস্ব উৎস থেকে সংস্থান করবে ৬০ কোটি ডলার। অবশিষ্ট ২৫০ কোটি ডলারের সংস্থান হবে কো-ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে। জরুরি ভিত্তিতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল অটুট রাখতে কমিটি নথিতে অনুমোদিত এ ঋণ প্রস্তাবের অনুমোদন নিশ্চিত করেছে।

ইআরডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনমনীয় ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুসরণের বিষয়টি সভায় গুরুত্ব পায়। নিয়ম অনুযায়ী, বৈদেশিক অনমনীয় ঋণের দায় পরিশোধ ব্যয় কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের ১০ শতাংশ বা রাজস্ব আয়ের ১৫ শতাংশের বেশি হবে না। সার্বিক অর্থনৈতিক বিবেচনা, নিজস্ব আয় থেকে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার বিবেচনা করেই এ বিশাল অঙ্কের ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে।

রক্তে শর্করা বাড়া সবসময় দুশ্চিন্তার কারণ নয়

খাবার, শরীরচর্চা, ঘুম কিংবা মানসিক চাপ— প্রতিদিনের জীবনযাপনের নানা বিষয় শরীরের ভেতরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। এর মধ্যে রক্তে শর্করার মাত্রাও সময়ভেদে কিছুটা ওঠানামা করে। বিশেষ করে খাবারের সঙ্গে রক্তে শর্করার পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে অনেকের মধ্যেই নানা ধরনের ধারণা ও উদ্বেগ রয়েছে। খাবারের পর হঠাৎ রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়। মনে হতে পারে, এটি হয়তো ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার লক্ষণ। তবে সাময়িকভাবে রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া সবসময় অসুস্থতার ইঙ্গিত নয়। কখন এই বৃদ্ধি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া আর কখন তা সতর্ক হওয়ার কারণ— তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।

কেন রক্তে শর্করা বাড়ে

খাবারের কার্বোহাইড্রেট ও চিনি হজম হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়। এরপর গ্লুকোজ রক্তে প্রবেশ করলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে। এ সময় শরীর ইনসুলিন তৈরি করে, যা গ্লুকোজকে রক্ত থেকে কোষে পৌঁছাতে সাহায্য করে। ফলে কিছু সময় পর রক্তে শর্করার মাত্রা আবার কমতে শুরু করে। শুধু খাবার নয়, শারীরিক পরিশ্রম, মানসিক চাপ কিংবা শরীরে অ্যাড্রেনালিনের মাত্রা বেড়ে গেলেও সাময়িকভাবে রক্তে শর্করা বাড়তে পারে। তাই দিনের বিভিন্ন সময়ে রক্তে শর্করার কিছুটা ওঠানামা হওয়া স্বাভাবিক।

সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে হঠাৎ বৃদ্ধি স্বাভাবিক

সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা কিছুটা বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। সাধারণত খাবার খাওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর রক্তে শর্করার মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এরপর শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তা কমতে থাকে এবং প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে স্বাভাবিকের দিকে ফিরে আসে। এ ধরনের সাময়িক বৃদ্ধি বা ‘স্পাইক’ সাধারণত ক্ষতিকর নয়। বরং খাবার থেকে পাওয়া গ্লুকোজ শরীরের কোষগুলোতে শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ারই অংশ এটি।

কখন সতর্ক হওয়া প্রয়োজন

তবে রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকা বা নিয়মিতভাবে অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উপেক্ষা করা ঠিক নয়। রক্তে শর্করা দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে শরীরে ইনসুলিন প্রতিরোধের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা পরবর্তী সময়ে প্রিডায়াবেটিস বা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় রক্তে শর্করা বেশি থাকলে চোখ, স্নায়ু ও হৃদ্‌যন্ত্রসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই একবারের সাময়িক স্পাইকের চেয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে কেমন থাকছে এবং নিয়মিত কী ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে, সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সুস্থ মানুষের কি গ্লুকোজ মনিটর দরকার

ডায়াবেটিস নেই এমন সুস্থ মানুষের জন্য নিয়মিতভাবে গ্লুকোজ মনিটর বা কন্টিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটর (সিজিএম) ব্যবহার সাধারণত প্রয়োজন হয় না। শুধু খাবারের পর রক্তে শর্করার সাময়িক ওঠানামা দেখেই নিজের শরীরে সমস্যা আছে বলে ধরে নেওয়ার কারণ নেই। অতিরিক্তভাবে রক্তে শর্করার প্রতিটি পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করলে বরং অপ্রয়োজনীয় দুশ্চিন্তা তৈরি হতে পারে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্তে শর্করা পরীক্ষা করাই বেশি যুক্তিযুক্ত।

কার্বোহাইড্রেট পুরোপুরি বাদ দেওয়া ঠিক নয়

রক্তে শর্করা বাড়তে পারে— এমন আশঙ্কায় খাবার থেকে কার্বোহাইড্রেট পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কার্বোহাইড্রেট শরীরের গুরুত্বপূর্ণ শক্তির উৎস। বরং পরিমিত কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে প্রোটিন, আঁশযুক্ত শাকসবজি ও স্বাস্থ্যকর চর্বির সমন্বয় করে খাবার খাওয়া ভালো। খাবারে অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার কমানোর পাশাপাশি আঁশ ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেছে নিলে রক্তে শর্করার দ্রুত বৃদ্ধির প্রবণতা কমাতে সহায়তা করতে পারে। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং পর্যাপ্ত ঘুমও সামগ্রিকভাবে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সবার শরীরে প্রতিক্রিয়া এক নয়

একই খাবার খাওয়ার পরও সবার রক্তে শর্করার মাত্রা একইভাবে বাড়ে না। খাবারের ধরন ও পরিমাণের পাশাপাশি ঘুম, মানসিক চাপ, শারীরিক পরিশ্রম এবং ব্যক্তির নিজস্ব বিপাকীয় বৈশিষ্ট্যও এতে প্রভাব ফেলে। ফলে অন্য কারও রক্তে শর্করার ওঠানামার সঙ্গে নিজের মাত্রা মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

রক্তে শর্করার সাময়িক বৃদ্ধি দেখেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। খাবারের পর কিছুটা বাড়া শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ারই অংশ হতে পারে। তবে মাত্রা যদি দীর্ঘ সময় বেশি থাকে, বারবার অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে কিংবা ডায়াবেটিসের অন্যান্য ঝুঁকি বা উপসর্গ থাকে, তখন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। রক্তে শর্করার একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তের মাত্রার চেয়ে নিয়মিত ওঠানামার ধরন, জীবনযাপন ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবিতে বিক্ষোভ

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনা এবং অব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখতে গঠিত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশের দাবিতে বিক্ষোভ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের ফটকের সামনে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে নাগরিক সংগঠন ‘ময়মনসিংহ মঞ্চ’।
সমাবেশে বক্তারা হাসপাতালের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ময়মনসিংহ বিভাগসহ আশপাশের অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের সুচিকিৎসার ভরসাস্থল এই হাসপাতাল। অথচ অব্যবস্থাপনা ও নানা অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সংগঠনের নেতারা বলেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের লিফটের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগে, যা দ্রুত লিফটে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভবনে অবস্থানরত রোগী, স্বজন ও চিকিৎসা কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু ভবনের পাঁচটি সিঁড়ির মধ্যে মাত্র একটি চালু থাকায় হুড়োহুড়ি করে নিচে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে অনেকেই মারা যান।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রশাসন ও বিভাগীয় কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, দুর্ঘটনার সূচনা থেকেই প্রকৃত সত্য ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। সাংবাদিকরা প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের বরাতে হতাহতের স্পষ্ট তথ্য সামনে আনলেও প্রশাসন প্রথমে তা অস্বীকার করে। পরবর্তী সময়ে দুজনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করলেও পদদলিত হওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়, যা নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এমনকি আহতদের সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশেও প্রশাসন রহস্যজনক নীরবতা বজায় রাখছে।

তদন্ত কমিটির ঢিলেঢালা প্রক্রিয়া সম্পর্কে বক্তারা জানান, প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা একাধিকবার বাড়ানো হয়। শেষ পর্যন্ত প্রতিবেদন জমা পড়লেও প্রকাশ করা হচ্ছে না।
ময়মনসিংহ মঞ্চের মুখ্য সমন্বয়ক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘এটি হাসপাতালের নিজস্ব বা গোপনীয় কোনো বিষয় নয়। এটি গোটা ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষের জীবন ও সুরক্ষার প্রশ্ন। সংবাদ সম্মেলন ডেকে দ্রুত এই প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।’ তদন্ত প্রতিবেদন গোপন রাখা হলে ভবিষ্যতে হাসপাতালের দুর্নীতি ও অবহেলা মারাত্মক রূপ নেবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
আরও বক্তব্য দেন, সংগঠনের সংগঠক আবু বকর ছিদ্দিক রুমেল, আব্দুল হান্নান আল আজাদ, ইঞ্জিনিয়ার এম এ জিন্নাহ প্রমুখ। তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খানের ভাষ্য, তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়টি গোপনীয়। এটি হাসপাতালের পরিচালকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়ে পরিচালক বলতে পারবেন।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম ফেরদৌস বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আপনাদের সঙ্গে পরে কথা হবে। এখন কিছু বলা যাচ্ছে না।’

আ.লীগ সমঝোতা চাইলে আগে অপরাধ স্বীকার করতে হবে

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলন বা ‘রিকনসিলিয়েশন’ অসম্ভব নয়। তবে এ প্রক্রিয়া শুরুর আগে দলটিকে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে মৌলিক শর্ত পূরণ করতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ক্রমাগত হুমকি ও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার বক্তব্যের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্মিলনের আলোচনা করা কঠিন। আওয়ামী লীগকেই এ বিষয়ে প্রথমে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের অনেক মানুষ এখনও আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন। তারা বাংলাদেশেরই নাগরিক। দলের সক্রিয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুনর্মিলনের উদ্যোগ নেওয়া খারাপ কোনো ধারণা নয়। বরং এমন উদ্যোগ হলে ভালো হতো। তবে এর আগে রিকনসিলিয়েশনের মৌলিক ভিত্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ডা. জাহেদ বলেন, মাঝখান থেকে কেউ যদি রিকনসিলিয়েশন চান এবং মনে করেন এটি ভালো উদ্যোগ, তাহলে আমারও মনে হয় এটি ভালো। তাদের উচিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করা। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে রিকনসিলিয়েশন শুরুর মৌলিক জায়গাটি নিশ্চিত করতে হবে। সেটি হলে এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যে সরকারের প্রতি হুমকি ও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বারবার এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের দিক থেকে পুনর্মিলনের আলোচনা শুরু করা কঠিন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আমরা খুব অবাক হয়ে ৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেখছি, সেই দলটি, সেই দলের প্রধান নেত্রী– তিনি এখনও দোষারোপ করছেন, আমাদের হুমকি দিচ্ছেন।

এলপিজির নির্ধারিত দাম নিশ্চিত করতে নজরদারি
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতার মধ্যেও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামে এলপিজি ও অটোগ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে সারাদেশে নজরদারি জোরদার করেছে সরকার। এ জন্য সব জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, কোথাও কোথাও সমন্বয় করা দামে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না– এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। খোলাবাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বন্দর ও তিস্তা নিয়ে সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থে
চট্টগ্রাম বন্দর ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের বৃহত্তম স্বার্থ বিবেচনা করেই সরকার যে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে। তিস্তা প্রকল্পে শুধু নদীশাসন নয়, বর্ষার পানি কীভাবে ধরে রাখা যায়– ওয়াটার রিটেনশনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করেই পদক্ষেপ নেবে।
বাজার তদারকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেবল ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালালেই সব সমস্যার সমাধান হবে– সরকার এমনটি মনে করে না। আমদানিকারক ও উৎপাদনকারীরা যাতে পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান এবং বাজারে সরবরাহ ব্যাহত না হয়, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।
ভিজিএফের চাল ২০ কেজি করার উদ্যোগ
নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট লাঘবে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চালের বরাদ্দ ১০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ২০ কেজি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা। ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. আলম মোস্তফা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।