Home Blog Page 160

তনু হত্যা মামলার নতুন মোড়, তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ

কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলাটি নতুন মোড় নিচ্ছে। মামলা দায়েরের ১০ বছর পর আজ সোমবার তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম সকালে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হকের আদালতে হাজির হলে তাঁকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করেছেন ওই তদন্ত কর্মকর্তা।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে সম্প্রতি কুমিল্লার সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে পিবিআইকে চিঠি দেওয়ার পরই আজ সোমবার ওই তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে মামলার তদন্তের বিষয়ে আদালতে লিখিত প্রতিবেদন দেন। এতে বিচারক সন্দেহভাজন তিনজনের ডিএনএ করার নির্দেশ দেন।

আদালত ভবনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম

আদালত ভবনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, পিবিআইয়ের ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, আগেই তনুর ব্যবহারের কিছু কাপড় থেকে তিনজন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল করা হয়। এগুলো পরে আর ম্যাচিং করা হয়নি। তাই আজ আদালত বলেছেন, সন্দেহভাজন তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষা করতে। ওই তিনজন এরই মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে গেছেন। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, মামলার পরবর্তী তারিখে তদন্তের অগ্রগতি জানাতে বলেছেন আদালত।

এর আগে, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস থেকে একটু দূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুরুতে থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি। গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।

আদালত ভবনে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন

আদালত ভবনে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিচার চাইব: তনুর বাবা
মামলার বাদী তনুর বাবা ইয়ার হোসেনও আজ আদালতে আসেন। তিনি সমকালকে বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডনে থাকার সময় বলেছিলেন, বিএনপি ক্ষমতার গেলে তনু হত্যার বিচার করবেন। আমি এখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে মেয়ে হত্যার বিচার চাইব। মেয়ের ছবি নিয়ে ঘুরছি।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে ইয়ার হোসেন বলেন, ‘দেশে সকল হত্যার বিচার হলেও আমার তনুর কেন বিচার হবে না। গত ১০ বছর ধরে বিচারের আশায় তনুর মাকে নিয়ে যে যেখানে বলেছে ছুটে গিয়েছি। এখন আর পারছি না। চাকরি থেকে অবসর নিয়েছি। এক মাসের মধ্যে মেয়ের হত্যার বিচার না পাইলে আমি আত্মহত্যা করবো। এ জীবন আর রেখে কি লাভ।’

উজবেকিস্তানকে রুখে দিয়েও অনিশ্চিত বাংলাদেশের এশিয়ান গেমস

০

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জয় পেলেই নিশ্চিত হবে সেমিফাইনাল, একই সঙ্গে মিলবে এশিয়ান গেমসের চূড়ান্ত পর্বের টিকিট। এমন সুবর্ণ সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু পিছিয়ে পড়ে আমিরুল ইসলামের গোলে সমতায় ফিরলেও জয়টা আর পাওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত উজবেকিস্তানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট খুইয়েছে বাংলাদেশ। আর তাতেই সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে যাওয়ার পাশাপাশি এশিয়ান গেমসের টিকিট পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

‘বি’ গ্রুপের বাছাইপর্বে তিন ম্যাচ শেষে একটি করে জয়, হার ও ড্রয়ে উজবেকিস্তান ও বাংলাদেশ উভয় দলেরই পয়েন্ট সমান ৪। কিন্তু পয়েন্ট সমান হলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে সেমিফাইনালে নাম লিখিয়েছে উজবেকিস্তান।

সোমবার ব্যাংককের রয়্যাল থাই এয়ার ফোর্স হকি মাঠে ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ষষ্ঠ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল হজম করে বসে তারা। মিরনশোখ ওর্তিকবোয়েভ বল জালে জড়িয়ে উজবেকিস্তানকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। তবে কাঙ্ক্ষিত গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ম্যাচের শেষ কোয়ার্টার পর্যন্ত। ৪৬ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে দারুণ এক গোলে সমতা ফেরান আমিরুল ইসলাম। এরপর জয়ের জন্য আক্রমণ শানালেও আর জালের দেখা পায়নি কোনো দলই। ফলে ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দুদলকে।

সেমি থেকে ছিটকে গেলেও এশিয়ান গেমসে খেলার সম্ভাবনা একেবারেই শেষ হয়ে যায়নি। নিয়ম অনুযায়ী, ৯ দলের বাছাইপর্ব থেকে শীর্ষ ৬টি দল চূড়ান্ত পর্বে যাওয়ার সুযোগ পাবে। সেই হিসেবে টুর্নামেন্টে পঞ্চম বা ষষ্ঠ স্থান অর্জন করতে পারলেও এশিয়ান গেমসের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ থাকছে বাংলাদেশের সামনে।

নববর্ষের শোভাযাত্রায় মোটিফ হিসেবে যা যা থাকছে

বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে এবারের শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে-‘নববর্ষের ঐক্য, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। এই ভাবনাকে কেন্দ্র করে চারুকলায় তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন প্রতীকী মোটিফ, যেখানে লোকজ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং সামাজিক বার্তার সমন্বয় ঘটেছে।

ঢাবি চারুকলা অনুষদের ডিন শেখ আজহারুল ইসলাম চঞ্চল সমকালকে এবারের মোটিফগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, এবারের আয়োজনে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে রাখা হয়েছে একটি বৃহৎ মোরগের প্রতিকৃতি। ভোরবেলায় মোরগের ডাক যেমন নতুন দিনের সূচনা ঘোষণা করে, তেমনি এটি প্রতীকীভাবে নতুন বছর, নতুন সূর্য এবং জাগরণের বার্তা বহন করে। কৃষিভিত্তিক সমাজে মোরগের ডাক মানুষের দৈনন্দিন জীবনের এক স্বাভাবিক সময়চিহ্ন। সেই ঐতিহ্যকেই তুলে ধরা হয়েছে এই মোটিফে।

তিনি বলেন, লোকজ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সোনারগাঁ’র ঐতিহ্যবাহী কাঠের হাতিকেও বিশেষভাবে স্থান দেওয়া হয়েছে। চার চাকা বিশিষ্ট এই কাঠের হাতি দীর্ঘদিন ধরে বাংলার লোকশিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত। শোভাযাত্রায় এটিকে বৃহৎ আকারে নির্মাণ করে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

শেখ আজহারুল ইসলাম চঞ্চল বলেন, এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বাউল শিল্পীদের অবমূল্যায়নের প্রসঙ্গকে সামনে রেখে সংগীতের প্রতীক হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে দোতরা। এটি শুধু একটি বাদ্যযন্ত্র নয়, বরং বাংলার মরমিয়া সংগীত ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব। অন্যদিকে শান্তি, সম্প্রীতি এবং সর্বজনীন সহাবস্থানের বার্তা পৌঁছে দিতে রাখা হয়েছে পায়রার মোটিফ। বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, জাতিসত্তা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে এই পায়রা শান্তির আহ্বান জানাবে।

এর পাশাপাশি কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী টেপা বা পোড়ামাটির ঘোড়াও এবারের শোভাযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আরোহীসহ এই ঘোড়ার প্রতিকৃতি লোকজ শিল্পের আরেকটি অনন্য নিদর্শন হিসেবে উপস্থাপিত হবে বলে জানান তিনি।

প্রধান এই পাঁচটি মোটিফের বাইরে শোভাযাত্রায় আরও থাকবে প্যাঁচা, বিভিন্ন ধরনের মুখোশ, বাঘের মুখোশ এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র মোটিফ। সব মিলিয়ে এবারের আয়োজনটি হয়ে উঠছে ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সমসাময়িক বার্তার এক সৃজনশীল সমন্বয় বলেও জানান চারুকলার ডিন।

জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন জাহ্নবী

তারকাখ্যাতির সঙ্গে নানারকম বিড়ম্বনাও ওতপ্রোতভাবে জাড়িয়ে যায় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের জীবনে। কিন্তু কিছু অভিজ্ঞতা এমন হয়, তা চাইলেও ভুলে থাকা কঠিন। তেমনই এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন জাহ্নবী কাপুর। ডিপফেক ছবির কারণে কীভাবে তিনি হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন, এবার অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন অনুরাগীদের কাছে। যদিও ঘটনা অনেকদিন আগের তবু সেটি ভুলে থাকা এই বলিউড তারকার জন্য আজও কঠিন।

আনন্দবাজার, সংবাদ প্রতিদিন, এই সময়সহ আরও কয়েকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে, অভিনয় জগতে যখনই জাহ্নবী কাপুরের পথচলা শুরু হতে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে তাঁর একটি বিকৃত ছবি ছড়িয়ে পড়েছিল একটি ওয়েবসাইটে; যেখানে নোংরা ছবি ভিডিও হরহামেশা প্রকাশ করা হয়।

বিষয়টি নজরে আসতেই শিউরে উঠেছিলেন জাহ্নবী। তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৫ বছর। স্কুলে পড়াকালীন আচমকা সেই সাইটে নিজের আপত্তিকর ছবি দেখে তাজ্জব বনে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী। এই ঘটনা তাঁর কিশোরী মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে কৈশোরের সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুলছেন সুপারস্টার শ্রীদেবী এই সুযোগ্য কন্যা।

জাহ্নবী কাপুর। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

জাহ্নবী কাপুর। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

সেই মুহূর্তটার কথা বলতে গিয়ে জাহ্নবী বলেছেন, ‘আমি আজও জানি না ওই ডিপফেক ছবি কীভাবে ওই সাইটে জায়গা পেয়েছিল। তবে এটুকু নিশ্চিত, ওইরকমই কিছু একটা ছিল। একটা সাইটে যখন নিজের ছবি দেখেছিলাম তখন আমি একজন স্কুলছাত্রী। তাই প্রথমে দেখে যেন পুরো শরীর কেঁপে উঠেছিল।’

স্মৃতিচারণ করে তিনি আরও বলেছেন, ‘আমাদের তখন একটা আইটির ক্লাস হতো। ছেলেরা কিছু সাইটের নোংরা ছবি দেখে মজা নিত। আর সেখানে আমার ছবি, কী মারাত্মক! স্কুলে পড়াকালীন এ রকম একটা ঘটনা আমার জীবনকে যেন সেই মুহূর্তে একেবারে ওলটপালট করে দিয়েছিল। একটা সময় মনে হয়েছিল, সোশ্যাল মিডিয়া থাকাটাই যেন অপরাধ। আমি সেই অপরাধের মাশুল গুনছি। এতগুলো বছর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতা যেন আজও আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। আমি তো সাহস করে তখন অভিযোগও করতে পারিনি।’

জাহ্নবীর কথায়, ‘যদি কখনও পরিচালককে কোনো পোশাক নিয়ে আপত্তি জানাই বা বলি যে, এই পোশাকে আমি স্বচ্ছন্দ নই তখন তো তিনি এই ছবিগুলো উদাহরণ হিসেবে সামনে রাখবেন।’ অনলাইন ‘কেলেঙ্কারি’ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রীর সংযোজন, আজও সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন অনেক ছবি তাঁর নজরে আসে, যেগুলোর সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই।

জাহ্নবী কাপুর। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

জাহ্নবী কাপুর। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

‘ডিপফেক’ ‘এআই’ নিয়ে ভয় পাওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করে জাহ্নবী বলেছেন, ‘আমি কিন্তু একদম নিশ্চিন্তে থাকতে পারি না। কারণ আমার এমন কিছু ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনকি অফিসিয়াল পেজে দেখতে পাই, যেগুলো পুরোপুরি এআই দ্বারা নির্মিত। আমি হয়তো যে ধরনের পোশাকই পরিনি সেই পোশাকে আমার ছবি আবার যে ভঙ্গিমায় পোজ দিয়েছি, সেটা বিকৃত করে খারাপ কিছু প্রতিস্থাপন করা হয়।’

উন্নত প্রযুক্তির গেরোয় জাহ্নবীর কর্মজীবনও বিশেষভাবে প্রভাবিত। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেছেন, ‘এই ছবিগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যেন আমিই সেগুলো স্বেচ্ছায় শেয়ার করেছি। এর ফলে আমার সম্পর্কে একটা ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়। আগামীতে আমি যদি পরিচালককে কোনো পোশাক নিয়ে আপত্তি জানাই বা বলি যে এই পোশাকে আমি স্বচ্ছন্দ নই, তখন তো তিনি আমাকে আর বিশ্বাস করবেন না। এই ছবিগুলো উদাহরণ হিসেবে সামনে রাখবেন। উল্টোদিকের মানুষটার তো সত্যিই জানা সম্ভব নয় যে, ওটা এআই-এর কেরামতি।’

ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতা ব্যয় অর্ধেকে নেমেছে

শ্রম সংশোধন অধ্যাদেশের বেশ কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে তৈরি পোশাক খাতের নিট ক্যাটেগরির পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএ। এর মধ্যে রয়েছে শ্রমিকের সংজ্ঞা নিয়ে সূক্ষ্ম কারসাজি, যৌথ দরকষাকষিতে প্রতিনিধিত্ব, শ্রমিকদের ভবিষ্য তহবিল ও চাকরি অবসান ইত্যাদি। এসব ধারা যদি সংশোধিত শ্রম আইনে সংযুক্ত থাকে, তাহলে শিল্পকারখানায় মালিক-শ্রমিক বিরোধ আরও বাড়বে। এতে শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত হবে।

রোববার সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছে বিকেএমইএ। রাজধানীর বাংলামটরে  সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে আপত্তিকর এসব ধারা সংশোধনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাতীয় সংসদ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে ধারাগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। এ সময় নির্বাহী সভাপতি  ফজলে শামীম এহসান, সিনিয়র সহসভাপতি অমল পোদ্দার, মোহাম্মদ রাশেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, অধ্যাদেশ জারির আগে সরকার, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শক পরিষদে (টিসিসি) বিস্তারিত আলোচনা এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে প্রকাশিত গেজেট  দেখা যায়, টিসিসির সিদ্ধান্তের বাইরে বেশ কিছু ধারা অধ্যাদেশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বৈঠকের কার্যবিবরণী অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে শেয়ার করা হয়ে থাকে। কিন্তু অসৎ উদ্দেশ্যে সর্বশেষ বৈঠকের কার্যবিবরণী তাদের দেওয়া হয়নি।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকার গত ১৭ নভেম্বর সংশোধিত শ্রম আইন অধ্যাদেশ জারি করে। এটি এখন জাতীয় সংসদে  আইন আকারে পাসের অপেক্ষায় রয়েছে।

অধ্যাদেশে ‘শ্রমিক’-এর সংজ্ঞায় আপত্তি তুলে ধরে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, অধ্যাদেশে উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকের সঙ্গে শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, কর্মচারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সংজ্ঞার কারণে সর্বনিম্ন সাড়ে ১২ হাজার টাকার মজুরির শ্রমিকের পাশাপাশি ৫৪ লাখ টাকার কর্মকর্তাকেও শ্রমিক হিসেবে দেখানো হয়েছে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী এখন এই কর্মকর্তাও সার্ভিস বেনিফিটসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দাবি করতে পারেন। অথচ কর্মকর্তারা শ্রম আইনের ভিন্ন ধারায় করপোরেট চাকরি বিধি অনুযায়ী অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকেন। শ্রমিকের সংজ্ঞা নিয়ে সূক্ষ্ম কারসাজির কারণে বিদেশি ব্র্যান্ড-ক্রেতারা অডিটে নানা আপত্তি দেবেন। এতে রপ্তানি আদেশ না দেওয়া বা কম দেওয়া কিংবা দর কম দেওয়ার চেষ্টা করবেন তারা।

চাকরির অবসান বিষয়ে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, স্থায়ী শ্রমিকরা তিন বছর পর্যন্ত প্রতিবছরের জন্য সাত দিনের মজুরি, তিন থেকে ১০ বছরের জন্য ১৫ দিনের মজুরি এবং ১০ বছরের বেশি চাকরির ক্ষেত্রে ৩০ দিনের মজুরি পাবেন। অথচ টিসিসিতে তিন থেকে পাঁচ বছরের কম সময়ের জন্য সাত দিনের মজুরি এবং পাঁচ থেকে ১০ বছরের কম সময়ের জন্য ১৫ দিনের মজুরির কথা বলা ছিল। বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, সংশোধিত সময়সীমা গ্রহণযোগ্য নয়। এতে মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে বিরোধ তৈরি হবে।

শ্রম সংশোধন অধ্যাদেশ আইন হলে বিরোধ বাড়বে

শ্রম সংশোধন অধ্যাদেশের বেশ কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে তৈরি পোশাক খাতের নিট ক্যাটেগরির পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএ। এর মধ্যে রয়েছে শ্রমিকের সংজ্ঞা নিয়ে সূক্ষ্ম কারসাজি, যৌথ দরকষাকষিতে প্রতিনিধিত্ব, শ্রমিকদের ভবিষ্য তহবিল ও চাকরি অবসান ইত্যাদি। এসব ধারা যদি সংশোধিত শ্রম আইনে সংযুক্ত থাকে, তাহলে শিল্পকারখানায় মালিক-শ্রমিক বিরোধ আরও বাড়বে। এতে শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত হবে।

রোববার সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছে বিকেএমইএ। রাজধানীর বাংলামটরে  সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে আপত্তিকর এসব ধারা সংশোধনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাতীয় সংসদ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে ধারাগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। এ সময় নির্বাহী সভাপতি  ফজলে শামীম এহসান, সিনিয়র সহসভাপতি অমল পোদ্দার, মোহাম্মদ রাশেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, অধ্যাদেশ জারির আগে সরকার, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শক পরিষদে (টিসিসি) বিস্তারিত আলোচনা এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে প্রকাশিত গেজেট  দেখা যায়, টিসিসির সিদ্ধান্তের বাইরে বেশ কিছু ধারা অধ্যাদেশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বৈঠকের কার্যবিবরণী অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে শেয়ার করা হয়ে থাকে। কিন্তু অসৎ উদ্দেশ্যে সর্বশেষ বৈঠকের কার্যবিবরণী তাদের দেওয়া হয়নি।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকার গত ১৭ নভেম্বর সংশোধিত শ্রম আইন অধ্যাদেশ জারি করে। এটি এখন জাতীয় সংসদে  আইন আকারে পাসের অপেক্ষায় রয়েছে।

অধ্যাদেশে ‘শ্রমিক’-এর সংজ্ঞায় আপত্তি তুলে ধরে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, অধ্যাদেশে উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকের সঙ্গে শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, কর্মচারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সংজ্ঞার কারণে সর্বনিম্ন সাড়ে ১২ হাজার টাকার মজুরির শ্রমিকের পাশাপাশি ৫৪ লাখ টাকার কর্মকর্তাকেও শ্রমিক হিসেবে দেখানো হয়েছে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী এখন এই কর্মকর্তাও সার্ভিস বেনিফিটসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দাবি করতে পারেন। অথচ কর্মকর্তারা শ্রম আইনের ভিন্ন ধারায় করপোরেট চাকরি বিধি অনুযায়ী অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকেন। শ্রমিকের সংজ্ঞা নিয়ে সূক্ষ্ম কারসাজির কারণে বিদেশি ব্র্যান্ড-ক্রেতারা অডিটে নানা আপত্তি দেবেন। এতে রপ্তানি আদেশ না দেওয়া বা কম দেওয়া কিংবা দর কম দেওয়ার চেষ্টা করবেন তারা।

চাকরির অবসান বিষয়ে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, স্থায়ী শ্রমিকরা তিন বছর পর্যন্ত প্রতিবছরের জন্য সাত দিনের মজুরি, তিন থেকে ১০ বছরের জন্য ১৫ দিনের মজুরি এবং ১০ বছরের বেশি চাকরির ক্ষেত্রে ৩০ দিনের মজুরি পাবেন। অথচ টিসিসিতে তিন থেকে পাঁচ বছরের কম সময়ের জন্য সাত দিনের মজুরি এবং পাঁচ থেকে ১০ বছরের কম সময়ের জন্য ১৫ দিনের মজুরির কথা বলা ছিল। বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, সংশোধিত সময়সীমা গ্রহণযোগ্য নয়। এতে মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে বিরোধ তৈরি হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য হরমুজ প্রণালি আর কখনো আগের অবস্থায় ফিরবে না: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য চিরতরে বদলে গেছে হরমুজ প্রণালি, এটি তাদের জন্য আর আগের অবস্থায় ফিরবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরের জন্য ইরানের কর্মকর্তারা যাকে ‘নতুন ব্যবস্থা’ বলে জানিয়েছেন, তা কার্যকর করার লক্ষ্যে তারা এখন সামরিক প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের পার্লামেন্টারি কমিটিতে একটি খসড়া আইন অনুমোদনের কয়েক দিন পর এই বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। ওই আইনে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ট্রানজিট ফি বা যাতায়াত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রস্তাবনায় যা যা রয়েছে— যাতায়াত শুল্ক ইরানের জাতীয় মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজ চলাচলের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা। যেসব দেশ ইরানের ওপর একতরফা নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে, তাদের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ।

তাছাড়া ওই পরিকল্পনায় প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব, সশস্ত্র বাহিনীর কর্তৃত্ব, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, পরিবেশগত বিষয় এবং ওমানের সঙ্গে আইনি সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে গত কয়েক সপ্তাহে ইরানকে বেশ কয়েকবার আলটিমেটাম বা সময় বেঁধে দিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যথায় তিনি দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন।

ইরান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তিতে রাজি না হলে দেশটি ‘সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্থানীয় সময় রোববার তিনি এ হুমকি দেন।

গতকাল রোববার এবিসি নিউজকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানের প্রতি সুনির্দিষ্ট এক নতুন সময়সীমা বেঁধে দেন। পোস্টে তিনি লেখেন ‘মঙ্গলবার, পূর্ব উপকূলীয় সময় রাত ৮টা!’ (তেহরানের সময় বুধবার মধ্যরাত)।

একই দিন এর আগে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে ট্রাম্প বলেন, আমার দেওয়া আলটিমেটামের মধ্যে ইরান ‘কিছু না করলে’ তাদের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বা সেতু অক্ষত থাকবে না। ট্রাম্পের এ আলটিমেটাম নিয়ে রাশিয়া ও চীনসহ বিশ্বের অনেক দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

কেরানীগঞ্জের কারখানায় আগুন লাশের হাতে চাবি, তালা খুলে মাকে চিনল সাব্বির

আগুনে পোড়া গ্যাসলাইটার কারখানার সামনে সারাদিন মায়ের খোঁজ না পেয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সাব্বির হোসেন রাতে পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) মর্গে যান। পোড়া অজ্ঞাত লাশগুলোর মধ্যে তিনি মায়ের মরদেহ খুঁজতে থাকেন। কিন্তু লাশগুলো এতটাই পুড়ে গেছে, চেনা যাচ্ছিল না।

হঠাৎ একটি লাশের হাতের দিকে তাঁর নজর যায়। পুড়ে কঙ্কাল হয়ে যাওয়া সেই লাশটির হাতের মুঠোয় ছিল একটি চাবির গুচ্ছ। ঘরের আলমারি ও ড্রয়ারের চাবি সব সময় তাঁর মায়ের কাছেই থাকত। চাবির রিংয়ে মায়ের ওড়নার পোড়া অংশ আটকে থাকতে দেখে সন্দেহ আরও বাড়ে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য পুলিশের সহায়তায় তিনি গভীর রাতে ওই চাবিগুচ্ছ নিয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কদমতলীর শহীদনগরের বাসায় ছুটে যান। সেখানে একে একে চারটি চাবি দিয়ে চারটি তালা খুলে ফেলেন। এভাবেই ২৬ বছর বয়সী সাব্বির নিশ্চিত হন, এটাই তাঁর মা মঞ্জু বেগমের (৪৯) মরদেহ।

মঞ্জু বেগম ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকার আমবাগিচার এস আর গ্যাসলাইটার কারখানায় শনিবার প্রথম কাজে যান। অগ্নিকাণ্ডে তিনিসহ ছয় শ্রমিক নিহত হন। আহত ও দগ্ধ হন আরও কয়েকজন।

কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয়জনের মধ্যে তিনজনের লাশ শনাক্ত করা হয়েছে। গতকাল রোববার স্বজনের কাছে এসব লাশ হস্তান্তর করা হয়। তিনজনই ওই কারখানারশ্রমিক ছিলেন। বাকি তিনজনের মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে নিয়ে রাখা হয়। এর আগে মিটফোর্ড মর্গে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট ওই তিন মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে।

অগ্নিকাণ্ড ও শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল পুলিশ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেছে। এ মামলায় কারখানাটির মালিক পক্ষের সহযোগী ও স্থানীয় বিএনপি নেতা ইমান উল্লাহ ওরফে মাস্তানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি কেরানীগঞ্জ শিট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি। কারখানার মালিক আকরাম উল্লাহ আকরামসহ অপর আসামিরা পলাতক।

আগানগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদ খান সমকালকে বলেন, ‘আমি শুনেছি, ইমান উল্লাহ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্য।’

মঞ্জু বেগম ছাড়া শনাক্ত হওয়া অপর দুজন হলেন– শাহীনুর বেগম (৩৫) ও মিম আক্তার (১৬)। মঞ্জু বেগমের ছেলে কদমতলীর ফুটপাতে আখের রস বিক্রেতা সাব্বির হোসেন সমকালকে বলেন, ‘পুড়ে যাওয়ায় মায়ের চেহারা বোঝার উপায় নেই। মায়ের ওড়নার পোড়া অংশ দেখে এবং চাবি দিয়ে তালাগুলো খুলে যাওয়ার পর বুঝতে পারি এটাই আমার মায়ের লাশ।’ মঞ্জু বেগমের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কবিরকাটি এলাকায়। গতকাল বিকেলে স্বজন তাঁর লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

শনিবার সন্ধ্যায় মিটফোর্ড মর্গে গিয়ে মিম আক্তারের লাশ শনাক্ত করেন তার বাবা নিরাপত্তাকর্মী দেলোয়ার হোসেন। তাদের গ্রামের বাড়ি বরিশালে। আমবাগিচায় ভাড়া থাকতেন। শাহীনুরের লাশ গতকাল সকালে শনাক্ত করা হয়। শাহীনুর বেগমের বাড়ি মাদারীপুরে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের গোলামবাজার এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তাঁর বাবা আজিজ কাজী জানান, মেয়ের চুলের খোঁপার ক্লিপ দেখে তিনি মরদেহ শনাক্ত করেন।

শনিবার দুপুর ১টার পর কেরানীগঞ্জের আমবাগিচায় গ্যাসলাইটার তৈরির টিনশেডের কারখানায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বিকেল পৌনে ৫টায় আগুন নেভান। তল্লাশি করে ছয় শ্রমিকের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করেন তারা। গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় উদ্ধার কার্যক্রম সমাপ্তি ঘোষণা করে ফায়ার সার্ভিস।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল আলম জানান, গতকাল তিনজনের লাশ স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিএনএ ম্যাচিং করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বাকি তিনজনের লাশ স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ওসি বলেন, অগ্নিকাণ্ড, হত্যা ও শ্রম আইনে কারখানার মালিক আকরাম, তার ছেলে আহনাফ আকিব এবং সহযোগী ইমান উল্লাহ ওরফে মাস্তানসহ অজ্ঞাত ছয়-সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ইমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

অগ্নিকাণ্ড ও নিহতের ঘটনায় ঢাকা জেলা প্রশাসন ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে ৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি

আগুনে ছয় শ্রমিক নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) (মার্কসবাদী)। এটিকে ‘কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড’ উল্লেখ করে অবিলম্বে শ্রমিক হত্যার যথাযথ তদন্ত করে দায়ী কারখানা মালিকসহ রাষ্ট্রীয় তদারকি সংস্থার অবহেলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের দাবি জানায় দলটি।

গতকাল দলের সমন্বয়ক মাসুদ রানা এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানান।

মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ পাসে আগ্রহ না দেখানো উদ্বেগজনক: টিআইবি

দেশে কার্যকর মানবাধিকার কমিশন গঠন ও গুম প্রতিরোধে অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত অধ্যাদেশগুলো দ্রুত পাসে আগ্রহ না দেখানো উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধে আইন পাসে ‘ছেলে খেলা’ করা হচ্ছে।

তার ভাষ্য, ‘সবচেয়ে বড় বিস্ময় হচ্ছে, মানবাধিকার কমিশন ও বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা এবং গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত বিধানের অভাবে মানুষের জীবন কতটা দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে। তার ভুক্তভোগী ক্ষমতাসীন দলটি এর প্রয়োজনীয়তা কেন এখনো উপলব্ধি করতে পারছে না। যেসব বিষয়কে সামনে রেখে আলোচিত অধ্যাদেশসমূহকে অনিশ্চয়তায় ফেলে দেওয়া হলো তা আরও বেশি শঙ্কা এবং উদ্বেগের।’

আজ সোমবার সকালে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত কয়েকটি অধ্যাদেশ রহিত/ বাতিল সংশোধন সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান জানায় টিআইবি।

ইফতেখারুজ্জামান ছাড়াও টিআইবির পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান, উপদেষ্টা অধ্যাপক ড সুমাইয়া খায়ের উপস্থিত ছিলেন। এসময় টিআইবি পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশে একটি কার্যকর মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা এবং গুম প্রতিরোধে অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত অধ্যাদেশগুলো এখনই পাশ করতে আগ্রহী নয়; বরং পরে করতে আগ্রহী। প্রশাসনিক স্বাধীনতা খর্ব, নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা ও বিচারিক ক্ষমতাকে নির্বাহী ক্ষমতায় রুপান্তর এসব বিষয়কে সামনে রেখে অধ্যাদেশ সমূহকে অনিশ্চয়তায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি গত ২ এপ্রিল মোট ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু আইনে পরিণত করার জন্য সুপারিশ করেছে, যা সাধুবাদ পাবার যোগ্য। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫, বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) আইন ২০২৫, জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে করা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ)’ অধ্যাদেশও রয়েছে। তবে আইনে পরিণত হতে যাওয়া সব অধ্যাদেশের সবই দুর্বলতাহীন নয়, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যমূলকভাবে দুর্বল করা হয়েছে। যেমন- সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫, স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত ৪টি সংশোধনী অধ্যাদেশও এরমধ্যে রয়েছে।

ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত চারটি সংশোধনী অধ্যাদেশও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতায় দুষ্ট। মূলত জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিশেষ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার; যেমন-সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বরখাস্ত করা এবং প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা পায় সরকার। যেখানে বিশেষ পরিস্থিতি ও জনস্বার্থে সরকার এই ক্ষমতা প্রয়োগ করার কথা বলা হয়। কিন্তু নির্বাচিত সরকারও নিজের ইচ্ছেমতো সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাকে স্বাভাবিকতায় পরিণত করেছে, যা গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থি।

৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক কয়েকটি মধ্যস্থতাকারী দেশ সম্ভাব্য ৪৫ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করছে। এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের পথ তৈরি করতে পারে। গতকাল রোববার এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন অনলাইন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

যুদ্ধবিরতির শর্তা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে জানাশোনা আছে—যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আঞ্চলিক চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস এই খবর দিয়েছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি আংশিক চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ। কিন্তু এই শেষ মুহূর্তের প্রচেষ্টাটিই যুদ্ধের নাটকীয় বিস্তার রোধ করার একমাত্র সুযোগ, যার মধ্যে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক হামলা এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ইরানের প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেওয়া ১০ দিনের সময়সীমা আজ সোমবার সন্ধ্যায় শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রোববার ট্রাম্প তার সময়সীমা ২০ ঘণ্টা বাড়িয়ে দেন এবং ট্রুথ সোশ্যালে মঙ্গলবার রাত ৮টা (পশ্চিমা সময়) পর্যন্ত একটি নতুন সময়সীমা ঘোষণা করেন।