Home Blog Page 160

বিরোধী দলের জন্য ডেপুটি স্পিকার পদের প্রস্তাব এখনও আছে জনপ্রিয় নয়, আমাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে সরকারি ও বিরোধী দলকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে

প্রধানমন্ত্রিত্ব বা সরকারপ্রধানের চেয়ার দূর থেকে দেখতে খুব আরামদায়ক মনে হলেও এটি  আরামের নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নিজের আসনের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, দেখলে মনে হয় এই চেয়ারে বসতে আরাম। কিন্তু এই চেয়ারটাতে বসলে মনে হয়, প্রতি মুহূর্তে আগুনের তাপ আসছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এই চেয়ার আমাকে বলে, আমি সব সময় পপুলার (জনপ্রিয়) কথা বলতে পারি না। এই চেয়ার বলে, জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নয়, আমাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় সরকারি দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। বিরোধী দলের অনেক সদস্যও টেবিল চাপড়ান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে সংসদ বা জনসভায় অনেক জনপ্রিয় কথা বলে হাততালি কুড়ানোর সুযোগ থাকলেও দায়িত্বের চেয়ার তাঁকে সেই অনুমতি দেয় না। জনপ্রিয় সিদ্ধান্তের পেছনে ছুটলে সাময়িক বাহবা মিললেও দীর্ঘ মেয়াদে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে সংসদ নেতা বলেন, ডেপুটি স্পিকার পদটি আপনাদের জন্য দেওয়ার প্রস্তাব এখনও উন্মুক্ত রয়েছে। রাজনৈতিক বিতর্কের চেয়ে মানুষের ক্ষুধার অন্ন ও অসুস্থ শিশুর চিকিৎসার মতো বাস্তব সমস্যার সমাধানে সরকারি ও বিরোধী দলকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।
অতীতের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও ১৭৩ দিনের হরতালের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই ক্ষতির মাশুল আজও আমাদের টানতে হচ্ছে। স্থিতিশীল সরকার ও সংসদ ছাড়া সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।

সংসদ নেতা বলেন, এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক। জনগণের প্রতিটি সমস্যা লাঘব করা এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা এই সরকারের প্রথম ও প্রধান কাজ। বিরোধী দলের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা ব্যর্থ হওয়া মানেই আমি ব্যর্থ হওয়া, আর আমাদের কেউ একজন ব্যর্থ হলে পুরো বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়ে যাবে।

তাই আসুন, আমরা একে অপরকে ব্যর্থ করার প্রতিযোগিতায় না নেমে একসঙ্গে এই সংসদকে সফল করি। কোনোভাবেই এই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।’

সংসদের দিকে সমগ্র দেশ তাকিয়ে আছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, পৃথিবীর প্রতিটি স্থানে যেখানেই একজন বাংলাদেশি আছেন, তারা এই সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দৃঢ় প্রত্যাশা ও আশা পোষণ করেন। আমরা বিভিন্ন সময়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছি; কিন্তু শুধু শ্রদ্ধা নিবেদন করলেই আমাদের কর্তব্য শেষ হয়ে যাবে না। প্রত্যাশা নিয়ে মানুষ রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। মানুষ মুক্তভাবে কথা বলতে পারবে, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে– সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করাই আমাদের আসল লক্ষ্য।

কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা কৃষকদের সমস্যার কথা বলেছেন। আমি তাঁকে আশ্বস্ত করতে চাই, আমাদের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো অনুযায়ী  কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করেছি। শুধু ধান চাষি নয়; মৎস্য ও গবাদি পশু পালনকারীসহ সব পর্যায়ের কৃষকের কাছে আমরা পর্যায়ক্রমে পৌঁছাব।’

শিক্ষা খাতে আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে তারেক রহমান বলেন, ‘বিদেশে থাকার সময় দেখেছি, সেখানকার স্কুল ও শিক্ষার্থীদের পরিবেশ কতটা উন্নত। আমার দেশের বাচ্চারা কেন এমন সুযোগ পাবে না? ইনশাআল্লাহ, সেই আশা আমরা পূরণ করব। আগামী জুলাই মাস থেকে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আমরা স্কুল ব্যাগ, ড্রেস ও জুতার ব্যবস্থা করব। শিক্ষাঙ্গনে সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে আমাদের সন্তানরা লেখাপড়া করবে– এটিই আমাদের কাম্য।’

নারী শিক্ষার প্রসারে সরকারের বিশেষ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারীকে পেছনে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নারী শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলাম। বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, স্নাতক বা ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করা হবে; পাশাপাশি মেধাবীদের উপবৃত্তি দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড চালু করায় গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী হবে। অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, এত টাকা কীভাবে আসবে? আমি বলব, এটি ইনভেস্টমেন্ট; এর রিটার্ন গ্রামীণ অর্থনীতির মাধ্যমে ফিরে আসবে।’ দেশে জলাবদ্ধতা নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীকে সেখানে পাঠিয়েছি। নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ত্রাণমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে দুদিন আগেই বলা হয়েছিল তালিকা তৈরি করে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে। এটিই প্রমাণ করে, এই সরকার জনগণের সরকার।’

বিরোধী দলের গঠনমূলক প্রস্তাবের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে বিরোধী দলের দেওয়া প্রস্তাব আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। উভয় পক্ষ মিলে যৌথ কমিটি গঠন করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, একসঙ্গে বসে আলোচনা করলে দেশের মানুষের স্বস্তির জন্য যে কোনো সমস্যার সমাধান বের করা সম্ভব। তিনি বিরোধী দলের নেতা ও উপনেতাকে তাদের এলাকার সমস্যার তালিকা পাঠানোর অনুরোধ করেন এবং তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা ও প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে বিরোধী দলের নেতা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য– এ দুই খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিরোধী দলের সহযোগিতা চেয়ে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

’৭১-এর পরবর্তী বাংলাদেশ যে রকম শহীদের রক্তের ওপরে দাঁড়িয়েছিল, বর্তমান বাংলাদেশ ও বর্তমান সংসদ একইভাবে হাজারো শহীদের রক্তের ওপরে দাঁড়িয়ে আছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আমার সরকারের অবস্থান থেকে আবার পরিষ্কার করে দিতে চাই যে, আমরা সব সময় প্রস্তুত আছি বিরোধী দলের সদস্যের সঙ্গে, দেশের মানুষের সঙ্গে যে কোনো আলাপ-আলোচনায় অংশগ্রহণ করার জন্য। আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতেই আমরা সবাই একসঙ্গে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করব। দেশ ও জনগণকে সম্মান যদি আমরা না করি, তাহলে আমাদের রাজনীতি হয়তো ব্যর্থ হয়ে যাবে। সে জন্যই আমাদের সবচেয়ে প্রথম হচ্ছে দেশের জনগণ এবং  প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ।’

২৫ কার্যদিবসে ৯৪ বিল পাস
১২ মার্চ শুরু হওয়া ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে ২৫ দিন বসেছে বৈঠক। এ সময় বিল পাস হয়েছে ৯৪টি। এর অধিকাংশই ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ-সংক্রান্ত। গতকাল রাত সোয়া ৯টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশন সমাপ্ত-সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির চিঠি পড়ে শোনান। এর আগে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব কণ্ঠভোটে পাস হয়। এতে সরকারি দলের সদস্যরা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেও বিরোধী দল ‘না’ ভোট দেয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করার আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে যে সহমর্মিতা ও সহযোগিতা তিনি এই অধিবেশনে দেখেছেন, অতীতের কোনো সংসদে তেমন দৃশ্য দেখা যায়নি। দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করে স্পিকার সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মতের ভিন্নতা থাকলেও দেশের স্বার্থকে সবার ওপরে স্থান দিতে হবে।

স্পিকার বলেন, সংসদে একটি আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ছিল, যেখানে অংশগ্রহণকারী সদস্যরা সক্রিয়ভাবে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, এই সংসদে মোট ২২০ জন  প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। এর পরও সদস্যদের গঠনমূলক আলোচনা ও সহনশীল আচরণ স্পিকারকে মুগ্ধ করেছে।

স্পিকার জানান, কার্যপ্রণালি বিধির ৬২ বিধিতে ১৬টি নোটিশ পাওয়া যায়, যার মধ্যে দুটি গৃহীত হয় এবং দুটি নিয়েই আলোচনা হয়। ৬৮ বিধিতে ৯টি নোটিশ পাওয়া যায়; এর মধ্যে একটি গৃহীত হয় এবং সেটির ওপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়। জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশে ৭১ বিধিতে মোট এক হাজার ১৯৮টি নোটিশের মধ্যে ৪২টি গৃহীত হয় এবং ৩৮টির ওপর আলোচনা হয়। ৭১(ক) বিধিতে দুই মিনিট করে বক্তব্য দেওয়া হয় ২০৭ বার। ১৬৪ বিধিতে ১৪টি নোটিশের মধ্যে একটি গৃহীত হয়ে বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। ২৬৬ বিধিতে একটি নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ কমিটি গঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীকে ৯৩, মন্ত্রীদের জন্য ২৫০৯ প্রশ্ন
স্পিকার বলেন, এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উত্তর দেওয়ার জন্য মোট ৯৩টি প্রশ্নের নোটিশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৩৫টির উত্তর তিনি সংসদে দিয়েছেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের উত্তর দেওয়ার জন্য মোট দুই হাজার ৫০৯টি প্রশ্নের নোটিশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে এক হাজার ৭৭৮টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে।
স্পিকার বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই চেতনায় গড়ব দেশ–এই প্রতিপাদ্য এবং সবার আগে বাংলাদেশ– এই নীতি সামনে রেখে সবাইকে এগোতে হবে। একই সঙ্গে ফ্যাসিস্ট আমলের মানবতাবিরোধী অপরাধ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন সুসংহত করাও রাষ্ট্রের অঙ্গীকার।

নয়াপল্টনে শ্রমিক দলের সমাবেশ, যোগ দিলেন তারেক রহমান

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমাবেশ শুরু হয়েছে। সমাবেশে যোগ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার বেলা আড়াইটায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই সমাবেশ শুরু হয়। বিকেল সোয়া ৪টায় তিনি সেখানে পৌঁছান।

জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইন জানান, বিশাল শ্রমিক সমাবেশে লাখো মানুষ উপস্থিতি আশা করছি। সমাবেশে অংশ নিতে ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোর কারখানা থেকেও শ্রমিকরা ঢাকায় এসেছেন বলে জানান এ শ্রমিক নেতা।

এদিকে রাতভর বৃষ্টিতে ঢাকার অনেক সড়ক জলমগ্ন হয়ে পড়লেও সময়ের সাথে সাথে পানি নেমে যায়। তবে এ বিরূপ আবহাওয়া উপেক্ষা করে সকাল থেকেই মানুষ সমাবেশস্থলে আসা শুরু করে। লাল টুপি, টি-শার্ট পরে ও হাতে ব্যানার নিয়ে নেতা-কর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে আসতে শুরু করে। তাদের স্লোগান ও করতালিতে মুখরিত হয় সমাবেশস্থল। সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশের মঞ্চে উপস্থিত আছেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনসহ শ্রমিক দলের নেতৃবৃন্দ।

সীমান্তে বেড়া ‘কুমির কীভাবে বাংলাদেশি, ভারতীয়কে আলাদা করবে?’

সীমান্তের নদীবেষ্টিত এলাকাগুলো দিয়ে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে এক বিতর্কিত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার যেখানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে কুমির ও বিষধর সাপের মতো হিংস্র প্রাণী ছেড়ে দেওয়া হবে। যেটিকে ‘প্রাকৃতিক বাধা’ তৈরির পদক্ষেপ বলা হচ্ছে।

শরণার্থী ও অভিবাসীদের ঠেকাতে ভারত সরকারের এমন পরিকল্পনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষক ও অধিকার কর্মীরা। উত্তর-পূর্ব এবং পূর্ব ভারতের সীমান্ত রাজ্যগুলো নিয়ে গবেষণা করছেন অংশুমান চৌধুরী। তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। ধরা যাক, বিষধর সাপ বা কুমির ছেড়ে দেওয়া হলো। কিন্তু কে বাংলাদেশি আর কে ভারতীয়- সে পার্থক্য এই প্রাণীগুলো কীভাবে করবে?

অংশুমান চৌধুরীর মতে, নথিপত্রহীন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এটি চরম নিষ্ঠুরতা। এটি মূলত মানুষের বিরুদ্ধে প্রকৃতি ও প্রাণীকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার একটি নতুন পদ্ধতি। যেটিকে ‘বায়োপলিটিক্যাল’ সহিংসতা বলা যেতে পারে। আলজাজিরাকে অংশুমান চৌধুরী বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দুর্বল জায়গা হলো নদী। মূলত নদীপথে স্থায়ী বেড়া দেওয়া প্রায় অসম্ভব। বিএসএফ-এর এই পুরনো উপলব্ধি থেকেই এমন পরিকল্পনা সামনে এসেছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের কিছু অংশ অত্যন্ত দুর্গম এলাকায়। নয়াদিল্লির দাবি, এই দীর্ঘ সীমান্তের বেশ কিছু এলাকায় স্থায়ী বেড়া নির্মাণ করা প্রায় অসম্ভব। গত ২৬ মার্চ ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এক অভ্যন্তরীণ বার্তায় পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ফ্রন্টের সদর দপ্তরগুলোকে একটি নির্দেশ দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়েছে, সীমান্তের যেসব নদীপথ বেড়াহীন, সেখানে ‘সরীসৃপ মোতায়েনের সম্ভাব্যতা’ যাচাই করতে হবে।

কিন্তু এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে সীমান্তের দুই পাশের স্থানীয় বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। নদী ওপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষের প্রাণহানির শঙ্কা আছে। এছাড়া কৃত্রিমভাবে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বড় শিকারি প্রাণী ছেড়ে দিলে তাতে বাস্তুসংস্থান ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ারও ঝুঁকি আছে।

‘কুমিরের মুখে ঠেলে দেওয়ার মানে নেই’
ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার কৌশল ও লিয়াজোঁ প্রধান রথীন বর্মন আলজাজিরাকে বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নদীবেষ্টিত এলাকাগুলোতে কুমির বাস করে না। এই প্রাণীগুলোকে যদি সীমান্তে নিয়ে আসা হয়, তবে সেগুলো টিকে থাকতে পারবে না।

রথীন বর্মন বলেন, ‘প্রথমত, এই প্রাণীগুলো দ্রুত মারা যাবে। তথাকথিত বিষধর সাপের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।’ সীমান্তের জলাভূমিগুলো প্রায়ই প্লাবিত হয়। ফলে এসব বিষধর সাপ লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ারও শঙ্কা আছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, বিশেষ করে যারা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন তারা প্রাণের ঝুঁকিতে পড়বেন।

ভারতের মানবাধিকার কর্মী হর্ষ মান্দার বলছেন, এ ধরণের নীতি ভারতীয় রাষ্ট্রের নিষ্ঠুরতাকেই প্রতিফলিত করে। নদীতে থাকা একজন অভিবাসীকে কুমির, সাপ বা বন্দুকের মুখে ঠেলে দেওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে না।

পরিকল্পনার নেপথ্যে কী?
ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকাগুলো পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও মিজোরাম রাজ্যের পাশ দিয়ে গেছে। নয়াদিল্লি ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে। বাকি অংশগুলো মূলত জলাভূমি ও নদীবেষ্টিত এলাকা। সেখানে সীমান্তের উভয় পাশে জনবসতি আছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, নথিপত্রহীন অভিবাসীরা ভারতের জন্য এক বড় হুমকি। তাদের দাবি, এই অভিবাসীদের কারণে ভারতের জনতাত্ত্বিক কাঠামো বদলে যাচ্ছে।

মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মতে, মোদি সরকার এই বয়ানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ভারতের ধর্মীয় সংখ্যালঘু, বিশেষ করে দেশটির পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাঙালি মুসলমানদের হয়রানি করছে। বিভিন্ন সময়ে বিএসএফ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বন্দুকের মুখে ভারতীয় মুসলমানদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার খবর প্রকাশ পেয়েছে।

ভারতে বর্তমানে নথিপত্রহীন অভিবাসীর সংখ্যা কত, সেটির আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান নেই। মানবাধিকার কর্মী হর্ষ মান্দার বলছেন, নথিপত্রহীন অভিবাসীর সংখ্যা যদি বেড়েও থাকে, তবে ভারতের উচিত ছিল বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের হস্তান্তর করা। কিন্তু ভারত এখন তাদের মোকাবিলায় ‘বিচারবহির্ভূত পদ্ধতি’ বেছে নিয়েছে।

অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, ভারত সরকার সাধারণ সংখ্যালঘুদেরকে (বিশেষ করে মুসলিমদের) অভিবাসীর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলে; তাদের ওপর অন্যায় আচরণ করার অজুহাত হিসেবে এই নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

বিশ্বের কোথাও নজির আছে?
আন্তর্জাতিক সীমানা পাহারা দেওয়ার জন্য প্রাকৃতিক শিকারি প্রাণী মোতায়েন করার কোনো আধুনিক নজির বিশ্বে নেই। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম দফায় প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প এ জাতীয় ধারণা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন বলে জানা যায়।

তখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প সীমান্তে সাপ বা অ্যালিগেটর (কুমির সদৃশ প্রাণী) ভর্তি পরিখা খননের মতো পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছিলেন। তবে ট্রাম্প এসব প্রতিবেদন অস্বীকার করে বিষয়টিকে ‘ভুয়া খবর’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি তখন বলেছিলেন, ‘আমি সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়ে কঠোর হতে পারি, কিন্তু এতটা কঠোর নই।’

৩ দফায় সোনার দাম কমল ৭৭০০ টাকা, আজ ভরি কত?

টানা তিন দফা কমেছে সোনার দাম। তিন দফায় সোনার দাম মোট ৭৭০০ টাকা কমেছে। সর্বশেষ দাম কমার পর আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ২২ ক্যারেটের ভালো মানের সোনার প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।

গতকাল বুধবার (২৯ এপ্রিল) সর্বশেষ প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে সোনার এই দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

নতুন দামের তালিকা অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার ২২ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা (প্রতি ভরি), ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা ও সনাতন পদ্ধতি ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা।

গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমে সোনার দাম। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে সোনার দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানোর ঘোষণা দেয় বাজুস।

পুতিন ও ট্রাম্পের দেড় ঘণ্টার ফোনালাপে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (২৯ এপ্রিল) দেড় ঘণ্টার এক ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়েছে।

ফোনালাপে পুতিন ও ট্রাম্প ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘাত নিরসনে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।

ক্রেমলিনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী মাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার বার্ষিকী উপলক্ষে পুতিন ইউক্রেনে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও দিয়েছেন।

জব্দ ইরানি জাহাজের ৬ ক্রুকে ছেড়ে দিল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করা একটি ইরানি কনটেইনারবাহী জাহাজে থাকা ৬ জন ক্রুকে মুক্ত করা হয়েছে। তারা নিরাপদে দেশে ফিরে এসেছেন। গত ২০ এপ্রিল ক্রুসহ ট্যাংকারটি জব্দ করেছিল মার্কিন বাহিনী। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম এসব তথ্য জানিয়েছে।

তবে ‘তউসকা’ নামের কনটেইনারবাহী জাহাজের আরো ২২ জন ইরানি ক্রু এখনও আটকা রয়েছেন। তাদের মুক্তি নিশ্চিত করতে ইরানের কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে তাসনিম।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকম এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলা নৌ অবরোধের মধ্যে হরমুজ প্রণালি থেকে কনটেইনারবাহী জাহাজটিকে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশ না মানায় সেটিকে জব্দ করা হয়।

 

কলেজ শিক্ষককে হেনস্তা : ৫ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষকদের খাবার টেবিল থেকে তুলে হেনস্তা, হামলা, হত্যার হুমকি ও অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

ছাত্রদলের অভিযুক্ত চার নেতাকে বহিষ্কার ও পদ স্থগিতের আদেশের পাশাপাশি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক এক সভাপতিকেও শোকজ করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে এ হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাতেই কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির এই সিদ্ধান্তগুলো অনুমোদন করেছেন।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সিনিয়র সহসভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহসভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল এবং সহসাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওনকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের সাংগঠনিক পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া সাবেক সভাপতি আকবর হোসেনের বিরুদ্ধেও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ওঠায় কেন তার বিরুদ্ধে স্থায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল দুপুরে কলেজের সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর জাকির হোসেন সস্ত্রীক দাপ্তরিক কাজে কলেজে আসেন।

ওই সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর এবিএম ছানা উল্লাহ এবং শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েলসহ কয়েকজন শিক্ষক একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে বসলে বর্তমান সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী অতর্কিত হামলা চালায়।

তারা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং শিক্ষকদের খাবার খেতে বাধা দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এসময় বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানের ওপর আক্রমণ চালিয়ে তার শার্ট ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

এদিকে শিক্ষকদের ওপর এই হামলার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছে নোয়াখালী সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদ।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থার কারণে তারা তাদের কর্মসূচিতে কোনো পরিবর্তন আনবেন কি না, এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তা জানা যায়নি।

৯ জেলার জন্য দুঃসংবাদ, নদীবন্দরে সতর্কতা

৯ জেলায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর

ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

এ কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর পুনঃ ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে গতকাল বুধবার রাতে প্রকাশিত সারা দেশের পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

একই সঙ্গে ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।
পূর্বাভাসে আরো বলা হয়েছে, সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

দুধের পুষ্টিগুণ সহজে পরিপাকের সাহায্যে আরলা ফুডস নিয়ে এলো ডানো ল্যাক্টো রিডিউসড

দুধ হজমে সমস্যা ভোগা ভোক্তাদের কথা মাথায় রেখে নতুন পণ্য ‘ডানো ল্যাক্টো রিডিউসড’ ফিলড মিল্ক পাউডার বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে আরলা ফুডস বাংলাদেশ।

রাজধানীতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মুলার এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন চেম্বার অফ কমার্স এর চেয়ারপার্সন নুরিয়া লোপেজসহ সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বাংলাদেশের অনেক মানুষ ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্সের কারণে দুধ হজমে সমস্যায় ভোগেন, ফলে তারা দুধ গ্রহণ কমিয়ে দেন বা এড়িয়ে চলেন। এই বাস্তবতায় নতুন পণ্যটিতে ল্যাক্টেজ এনজাইম ব্যবহারের মাধ্যমে দুধে ল্যাক্টোজের পরিমাণ প্রায় ৩৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা সহজ পরিপাকে সহায়ক।

আরলা ফুডস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লরেন্ট পন্টি বলেন, ভোক্তাদের প্রয়োজনের ভিত্তিতেই তাদের উদ্ভাবন। তিনি বলেন, ডানো ল্যাক্টো রিডিউসড দুধের পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ রেখে পরিপাকের সমস্যার সমাধানে সহায়তা করবে।

ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মুলার বলেন, বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে এবং গুণমান ও উদ্ভাবনে ডেনমার্কের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন এই পণ্য।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, পণ্যটি মূলত গৃহস্থালী ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে ৫ বছরের বেশি বয়সী শিশু, প্রাপ্তবয়স্ক ও বয়স্কদের জন্য এটি উপযোগী, যারা দুধ গ্রহণে অস্বস্তি অনুভব করেন।

নিরাপদ, সহজলভ্য ও ভোক্তাকেন্দ্রিক দুগ্ধপণ্য সরবরাহের মাধ্যমে দেশের মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয়ও পুনর্ব্যক্ত করেছে আরলা ফুডস বাংলাদেশ।

যে ৬ কৌশলে চিনি খাওয়া ছাড়তে পারেন

যাদের প্রতিদিন চিনি ও মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে, তারা সহজেই তা ছাড়তে পারেন না। কেননা শরীর নিয়মিত চিনি পেতে পেতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। এরপর সেটিকে শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করে। ফলে শরীর এক রকম ভাবে চিনির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। হঠাৎ সেই জোগান থমকে গেলে শরীর যেন শক্তি হারিয়ে ফেলে এবং তখনই শুরু হয় প্রত্যাহারের প্রতিক্রিয়া। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মস্তিষ্কের অভ্যাস। চিনি খেলে শরীরে ডোপামিন নামে রাসায়নিক বের হয়, যা আনন্দের অনুভূতি দেয়। হঠাৎ চিনি খাওয়া বন্ধ করলে এই আনন্দের উৎস কমে যায়। ফলে মন খারাপ, বিরক্তি, উদ্বেগ ইত্যাদি অনুভূতি বাড়তে পারে।

চিনি ও মিষ্টি জাতীয় খাবারের অভ্যাস সহজে ত্যাগ করার কৌশল

চিনির বদলে মিষ্টি স্বাদের ফল খান 
চিনি বা মিষ্টি খাবারের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর বিকল্পগুলো খুঁজে নিতে পারেন। যেমন, চিনির বদলে মিষ্টি ফল খেতে পারেন। তাতে মিষ্টি স্বাদের সঙ্গে শরীর ফাইবারও পাবে।

পর্যাপ্ত পানি পান
পানি পানের ঘাটতি থাকলে বার বার মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা উচিত।

ডার্ক চকোলেট 
চিনি খাওয়ার অভ্যাস ছাড়তে ৭০ শতাংশ কোকো পাউডার দিয়ে বানানো ডার্ক চকোলেট খাওয়া যেতে পারে। কিন্তু পরিমাপের দিকে নজর দিতে হবে।

সালাদ বা স্যুপ 
খাবার খাওয়ার আগে সালাদ বা স্যুপ খেলে পেট ভর্তি থাকে এবং হঠাৎ মিষ্টির লোভ কমতে পারে।

জরুরি পর্যাপ্ত ঘুম 
ঘুম কম হলে শরীরের বেশি মিষ্টির প্রয়োজন হতে পারে। ভালো ও পর্যাপ্ত ঘুম এই আকাঙ্ক্ষা কমাতে সাহায্য করে।

ছোলা ও বাদাম
মিষ্টির অভ্যাস ছাড়তে রোস্ট করা ছোলা, অঙ্কুরিত ডাল বা বাদাম খেতে পারেন। এসব  খাবার পেট ভরায় এবং রক্তে শর্করার ওঠানামা কমায়। এগুলো খেলে মিষ্টির প্রতি আকর্ষণ খানিক কমতে পারে।

যা বাদ দেবেন

চিনি বাদ দেওয়ার পর আরও কিছু বিষয় খেয়াল রাখুন। যেমন সকালের নাশতায় কিংবা সারাদিনের খাবারে কৌটোর জুস, ড্রিংস ইত্যাদি রাখবেন না। ঘরে চিনি ছাড়া ফলের জুস বানিয়ে পান করতে পারেন।

চিনিযুক্ত ডেজার্ট যেমন কেক-পেস্ট্রি ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন। নয়তো কোনোভাবেই সুফল মিলবে না।

ক্যানযুক্ত খাবার, সস, প্রসেসড খাবারের মাধ্যমেও শরীরে চিনি প্রবেশ করে। এগুলো এড়িয়ে চলা উত্তম।