Home Blog Page 163

পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে রাশিয়ায় আরাগচি, ফোন করতে বললেন ট্রাম্প

পাকিস্তানের ইসলামাবাদ থেকে রাশিয়ায় গেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সেখানে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর আলোচনা করার কথা। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইলে, ইরানি নেতাদের ফোন করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন প্রতিনিধিদের পাকিস্তান সফর বাতিলের সিদ্ধান্তের পর ট্রাম্প এখন ফোনে আলোচনা চালানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। স্থানীয় সময় রোববার ফক্স নিউজের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘আলোচনা করতে চাইলে তারা আমাদের কাছে আসতে পারে। অথবা ফোন করতে পারে। আমাদের সঙ্গে নিরাপদে যোগাযোগের লাইন আছে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘বিষয়টা খুবই সহজ। তাদের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না। চুক্তিতে এটি না থাকলে বৈঠক করার কোনো কারণ নেই।’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি আলোচনায় এখনো পারমাণবিক কর্মসূচি অন্তরায় হয়ে আছে। ইরান দাবি করছে, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকারকে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দিক।

এদিকে রাশিয়ায় পৌঁছে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য ওয়াশিংটনকে দায়ী করেছেন। সোমবার তিনি বলেন, মার্কিন পক্ষের অতিরিক্ত দাবির কারণে আগের দফার আলোচনা কিছুটা অগ্রগতি সত্ত্বেও লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি।

আরাগচি গত শুক্রবার থেকে ঝটিকা সফরের মধ্যে আছেন। ওইদিন পাকিস্তানে পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টা পর তিনি ওমানে যান। সেখান থেকে আবার পাকিস্তানে ফেরেন। সোমবার রাশিয়ায় গেলেন। মস্কোতে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হতে পারে।

এদিকে দুটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শান্তি আলোচনা নিয়ে পর্দার আড়ালে প্রচেষ্টা চলছে। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরান পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে লিখিত বার্তা পাঠিয়েছে। এতে পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালিসহ বিভিন্ন বিষয়ের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। তবে ফার্স জানিয়েছে, এই বার্তাগুলো আনুষ্ঠানিক আলোচনার অংশ নয়।

দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস রোববার জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ শেষ করতে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। প্রস্তাবের মূল বিষয় হলো- হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা। পারমাণবিক আলোচনা পরবর্তী পর্যায়ের জন্য রেখে দেওয়ার কথাও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-তেও অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনটি উদ্ধৃত করা হয়েছে।

হরমুজ সচল ও যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তাব দিয়েছে ইরান: অ্যাক্সিওস

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরান একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এর লক্ষ্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধের অবসান ঘটানো। প্রস্তাবে পারমাণবিক আলোচনা পরবর্তী পর্যায়ের জন্য স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে।

মার্কিন ও আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে অ্যাক্সিওস। গণমাধ্যমটির দাবি, প্রস্তাবের মূল বিষয় হলো- হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা। প্রস্তাবটি পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-তেও অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনটি উদ্ধৃত করা হয়েছে। এতে এমন দাবির বিষয়টি অস্বীকার করা হয়নি।

এই উদ্যোগকে শান্তি আলোচনা নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পর্দার আড়ালের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরান পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে লিখিত বার্তা পাঠিয়েছে। এতে পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালিসহ বিভিন্ন বিষয়ের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। তবে এই বার্তাগুলো আনুষ্ঠানিক আলোচনার অংশ নয়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির ওমান সফরেও হরমুজ প্রণালির বিষয়টি আলোচনায় ছিল। বর্তমানে রাশিয়ায় অবস্থান করা আরাগচি সোমবার বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয়। সাধারণ স্বার্থ নিশ্চিত করতে স্বাভাবিকভাবেই এই প্রণালির দুটি উপকূলীয় দেশ (ওমান-ইরান) হিসেবে পরস্পরের সঙ্গে কথা বলতে হবে।

তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ থেকে তাদের অবরোধ তুলে নেওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এর প্রতিরোধমূলক প্রভাব বজায় রাখা তেহরানের চূড়ান্ত কৌশল।

১ জুলাই থেকে সব কর প্রস্তাব কার্যকরের পরামর্শ

অতীতের আয়ের ওপর করহার নির্ধারণ এবং পরের অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত কিছু করহার বাজেট ঘোষণার দিন থেকেই কার্যকর করা হচ্ছে, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। এমন মন্তব্য করেছেন এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। যে কোনো কর প্রস্তাব নতুন অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল রোববার ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসম্যান ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এমন প্রস্তাব দেন। রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, আয়কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে বর্তমান পদ্ধতি মূলত পূর্ববর্তী বছরের আয়ের ওপর ভিত্তি করে হয়। তিনি বলেন, ‘আমি যদি জানতাম, এ বছরের আয়ে কত ট্যাক্স দিতে হবে, আমি সেভাবে বিনিয়োগ করতাম। ব্যবসায়ীরা সেই অনুযায়ী বিনিয়োগের পরিকল্পনা করতে পারতেন।’

আলোচনায় বক্তারা একমত হন, এনবিআরের কর্মকর্তাদের আরও পেশাদার এবং ব্যবসায়ীবান্ধব হতে হবে। ড. মজিদ বলেন, লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা প্রতিফলিত হতে হবে এবং ওপর থেকে লক্ষ্যমাত্রা চাপিয়ে দেওয়া বন্ধ করতে হবে। সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য হয়রানি কমিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

এনবিআরের সাবেক সদস্য মো. নাসির উদ্দিন বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত কেনা দাম গ্রহণ না করে অযৌক্তিকভাবে বেশি মূল্য ধরে কর আদায় করা হয়। মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে এনবিআরের সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকলেও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা তা মানতে চান না। যার ফলে ব্যবসায়ীদের উচ্চ হারে শুল্ক দিতে হয় অথবা ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে মাল খালাস করতে হয়।

আগে একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট কালেক্টর যে সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন, এখন তা এনবিআরের কমিটির হাতে চলে গেছে। এই প্রশাসনিক কেন্দ্রীকরণ ব্যবসার ‘লিড টাইম’ বা সময় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ নিয়ে পরিষ্কার বার্তা চান প্রশাসকরা

ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে একীভূত পাঁচ ব্যাংকে আগের মালিকদের কর্তৃত্ব নেওয়ার সুযোগ দেওয়া নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন আমানতকারীরা। এতে নতুন করে আবার আমানত তুলে নিতে চাইছেন অনেকে। অনেকেই আবার কোনো মুনাফা ছাড়াই কেবল আসল ফেরত চাইছেন।

এ পরিস্থিতিতে পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে কিনা, তা নিয়ে লিখিতভাবে পরিষ্কার বার্তা চান এসব ব্যাংকে নিয়োগ করা প্রশাসকরা। গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে দেখা করে পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকরা চলমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন বলে জানা গেছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর আলোকে গত বছর শরিয়াহভিত্তিক পরিচালিত এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে। পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত বছরের নভেম্বরে পাঁচজন প্রশাসক ও তাদের সহযোগিতার জন্য চারজন করে কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এ ১৮(ক) ধারা যুক্ত করে বলা হয়েছে, একীভূত ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার যে অর্থ দিয়েছে, তার সাড়ে ৭ শতাংশ দিয়ে আগের মালিকরা নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে। একীভূত হওয়ার আগে এক্সিম ব্যাংকের কর্তৃত্ব ছিল নাসা গ্রুপের কর্ণধার নজরুল ইসলাম মজুমদারের হাতে। বাকি চার ব্যাংক পরিচালিত হতো এস আলম গ্রুপের কর্তৃত্বে।

জানা গেছে, গতকালের বৈঠকে প্রশাসকরা বলেন, আমানতকারীরা এসব ব্যাংক থেকে বেশ আগে থেকে টাকা তুলতে পারছেন না। তবে একীভূত করে সরকারি মালিকানায় নেওয়ার খবরে তাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। এর মধ্যে গত জানুয়ারিতে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য কোনো মুনাফা না দেওয়ার (হেয়ারকাট) সিদ্ধান্ত জানালে আবার অস্থিরতা তৈরি হয়। পরে অবশ্য ৪ শতাংশ হারে মুনাফার কথা বলায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। কিন্তু ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে ১৮ক ধারা যুক্ত করে আগের মালিকদের ফিরে আসার সুযোগে নতুন করে আবার চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এখন আবার আমানত তুলে নেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত চাপ দিচ্ছেন। অনেক আমানতকারী শুরুতে দেওয়ার ‘হেয়ারকাট’ মেনে কেবল মূল টাকা ফেরত চাচ্ছেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসকরা আরও জানিয়েছেন, এসব আলোচনার মধ্যে ব্যাংকগুলো নতুন করে আর আমানত পাচ্ছে না। মাঝে যেসব ঋণের টাকা ফেরত আসছিল, তাও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এই চাপ সামলে আইনে এই ধারা যুক্ত করার মাধ্যমে আসলে কী চাওয়া হচ্ছে– সে বিষয়ে একটা স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে। এর মাধ্যমে যদি আগের মালিকদের ফিরিয়ে আনা উদ্দেশ্য হয়, তাহলে কীভাবে ফেরত আনা হবে, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত কীভাবে হবে– এসব পরিষ্কার করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো দিকনির্দেশনা দেননি। কেবল বলেছেন, যখন যে পরিস্থিতি আসবে, তা মোকাবিলা করতে হবে।

জানা গেছে, দুর্বল পাঁচ ব্যাংকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন সময়ে ধার হিসেবে ৪৭ হাজার ৮৪ কোটি টাকা দিয়েছে। এসব ব্যাংক মিলে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে সরকার মূলধন হিসেবে দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। প্রত্যেক আমানতকারীকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার জন্য আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত একীভূত পাঁচ ব্যাংকের ঋণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৯৬ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে এক লাখ ৬৫ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা বা ৮৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। পুরো ব্যাংক খাতে যেখানে খেলাপি ঋণের হার ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ছিল ২ লাখ ৮২ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে পাঁচ ব্যাংকের ঘাটতি এক লাখ ৫০ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা।

ঈশাণকোনে রাজনৈতিক অস্থিরতার মেঘ জমতে শুরু করেছে: সাইফুল হক

দেশে আবারও রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দৃশ্যমান নয়, বরং জনপরিসরে বিএনপির আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংহতি মিলনায়তনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সভার দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে এসব কথা বলেন তিনি।

সাইফুল হক বলেন, বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের দুই মাস না যেতেই ঈশাণকোনে রাজনৈতিক অস্থিরতার মেঘ জমতে শুরু করেছে। সংসদের ভেতরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেলেও বাইরে জনগণের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে পারছে না বিএনপি।

তিনি আরও বলেন, সংস্কার ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। এতে করে বিএনপি তাদের অর্জনের একটি অংশ বিরোধীদের হাতে তুলে দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যমান সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

বেলজিয়ামভিত্তিক ক্রাইসিস গ্রুপের একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে সাইফুল হক বলেন, বর্তমান সরকার ব্যর্থ হলে দেশ আবারও বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

তবে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকার জনগণের প্রত্যাশা ধারণ করে গণতান্ত্রিক উত্তরণে ভূমিকা রাখবে।

সভায় দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, আবু হাসান টিপু, মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, মাহমুদ হোসেন, সজীব সরকার রতন, মাহবুবুল করিম টিপু, রাশিদা বেগম, সাইফুল ইসলামসহ আরও অনেকে অংশ নেন।

এছাড়া সভায় গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের লোডশেডিং ও ডিজেলের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। দ্রুত এ সংকট সমাধান না হলে বোরো আবাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়।

ছাত্রশিবিরের তিন নেতার বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ ছাত্রদলের

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ছাত্রশিবিরের তিন নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আজ রোববার উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ নেতাকর্মীরা এ অভিযোগ দেন।

অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ঢাবিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও পেজে উস্কানিমূলক, অশালীন ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও তাদের নারী নেত্রীদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফয়সাল উদ্দিন, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিজয় একাত্তর হল সংসদের সহসভাপতি হাসানুল বান্নাহ এবং ডাকসুর সাবেক সহসভাপতি মো. আবু সাদিক এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ডিইউ ইনসাইডার, ঢাবি কণ্ঠস্বর (বর্তমান নাম ডেইলি ডাকসু) এবং ডিইউ অবজার্ভারসহ (বর্তমান নাম ভয়েস অব জেনজি) কয়েকটি ফেসবুক পেজ ও গ্রুপকে গুজব ছড়ানো হয়ে থাকে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অপব্যবহার করে ভুয়া তথ্য ও ফটোকার্ড ছড়িয়ে সহিংসতা উস্কে দেওয়া হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর আগে একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ছাত্রদল প্রশাসনের কাছে এসব গ্রুপ ও পেজকে নজরদারির আওতায় আনা এবং প্রয়োজন হলে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানানো হয়েছে।

শেরেবাংলার আজ ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী

অবিসংবাদিত জাতীয় নেতা, বাঙালি জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রবক্তা ও উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ শেরেবাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ সোমবার।

শেরেবাংলার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আবুল কাশেম ফজলুল হক শুধু কৃষক সমাজের নেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন অখণ্ড ভারতের অবিসংবাদিত নেতা। তাঁর সংবেদনশীলতা, মমতা ও রাজনৈতিক আপসহীনতা তাঁকে সর্বভারতীয় রাজনীতির উচ্চ শিখরে পৌঁছে দিয়েছিল।

শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের জন্ম ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামে। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর, যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী, অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, কলকাতা সিটি করপোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়র, আইনসভার সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর।

১৯৪০ সালে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন তিনি। ২১ দফা দাবিরও প্রণেতা ছিলেন ফজলুল হক। প্রজাস্বত্ব কায়েম ও মহাজনিপ্রথা উচ্ছেদের মাধ্যমে বাঙালি সমাজে সামন্তযুগের পতনঘণ্টা বাজানোর ক্ষেত্রে তাঁর অনন্য অবদান ছিল। ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন করে ঋণে জর্জরিত কৃষকসমাজকে চরম ভোগান্তির হাত থেকে রক্ষা করেন তিনি।

১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেরেবাংলার মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবার ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আজ নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা প্রভৃতি।

সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা সতর্কতা

দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় জঙ্গি হামলার সতর্কতার জারির ঘটনায় হজরত শাহজালালসহ দেশের সব বিমানবন্দরে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে শাহজালাল বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ সব স্থানে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। সোমবার বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সতর্কতার চিঠি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকেও দেওয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পরপরই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করে। বিমানবন্দরের কর্মরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব ইউনিটকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সূত্র আরও জানায়, বিমানবন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। পোশাকে ও সাদা পোশাকে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সব ধরনের নিরাপত্তা হুমকি বিবেচনা করে পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অ্যারাইভাল ও ডিপারচার সবক্ষেত্রে নিরাপত্তা তল্লাশিও জোরদার করা হয়েছে। কোনো কিছু অস্বাভাবিক দেখা মাত্রই দ্রুত রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।

বেবিচকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা হুমকি আমরা পাইনি। তারপরও আগাম সতকর্তা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা মাঝে মাঝে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। যেসব বিমানবন্দরে রাতে বিমান ওঠানামা করে না— সেগুলোকেও রাতে নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘পুলিশ সদর দপ্তর যে চিঠি দিয়েছে তার প্রেক্ষিতে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এমনটি না। আমরা মাঝে মাঝে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করি। এরই অংশ বলা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিকিউরিটি পারসন ছাড়া বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা তল্লাশিতে যেন কোনো ঘাটতি না হয় সেজন্যও আমরা বলেছি। শাহজালাল বিমানবন্দরের নানা স্থানে এন্ট্রি পয়েন্ট— সেগুলোতেও নিরাপত্তা ঘাটতি যেন না থাকে তার জন্য বলা হয়েছে।’ কোথাও কোনো ধরনের অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়লে দ্রুত সেটি মোকাবিলা ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সরকারি স্থাপনায় একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে গোয়েন্দা সতর্কতা জারি করে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (কনফিডেনসিয়াল) কামরুল আহসানের সই করা এক চিঠির মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এই সতর্কতা জারি করা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের অভ্যন্তরীণ ওই চিঠির তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন ব্যক্তি নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে। তারা বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে সমন্বিত হামলার পরিকল্পনা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে জাতীয় সংসদ, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, উপাসনালয়, বিনোদন কেন্দ্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, এই জঙ্গি গোষ্ঠীটি হামলা চালানোর জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারের চেষ্টা করছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।  এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে পুলিশ সদর দপ্তর সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে।

এ  ব্যাপারে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগিব সামাদ সমকালকে জানান, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে ঢাকাসহ দেশের সকল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ফ্রিজ ছাড়াই পানি ঠান্ডা রাখবেন যেভাবে

তীব্র গরমে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি কিছুটা স্বস্তি দেয়। কিন্তু অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি স্বাস্থ্যের জন্য সবসময় ভালো নয়। গরমে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে কখনও কখনও আবার ফ্রিজ অচল হয়ে পড়ে। এই সময়ে পানি ঠান্ডা রাখতে প্রাচীন পদ্ধতি এবং কিছু ঘরোয়া কৌশল কাজে লাগাতে পারেন। যেমন-

১. পানি ঠান্ডা রাখার সবচেয়ে প্রাচীন ও বিজ্ঞানসম্মত উপায় হলো মাটির কলসি। কলসির গায়ে থাকা হাজার হাজার সূক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে পানি চুঁইয়ে বাইরে আসে এবং বাষ্পীভূত হয়। এর ফলে কলসির ভেতরের পানি প্রাকৃতিক উপায়ে ঠান্ডা থাকে

৪. একটি বড় গামলায় মোটা স্তরে বালি বিছিয়ে পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিন। এবার সেই ভেজা বালির ওপর মাটির কলসি বা পানির বোতল বসিয়ে রাখুন। বালি শুকোতে দেবেন না। এই পদ্ধতি ফ্রিজের মতো কাজ করবে।

৫. তামার পাত্রে পানি রাখা খুবই স্বাস্থ্যকরই। মাটির পাত্রের মতো এই পাত্রও পানি শীতল রাখতে সাহায্য করে। তামা তাপের সুপরিবাহী হওয়ায় এটি বাইরের তাপকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়।

 

হারলে জরিমানা, জিতলে বোনাস: লঙ্কান ক্রিকেটে নতুন নীতি

০

পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা ফেরাতে পুরস্কার ও জরিমানা প্রথা চালু করতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড। এতদিন র‍্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বর দল পর্যন্ত কাউকে হারালেই বোনাস পেতেন লঙ্কান ক্রিকেটাররা। এখন থেকে কেবল র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৪ দলের বিপক্ষে সিরিজ জিতলেই মিলবে বোনাস। বাংলাদেশ বা আফগানিস্তানের মতো নিচের সারির দলের বিপক্ষে সিরিজ জিতলে কোনো অতিরিক্ত অর্থ পাবেন না তারা।

নতুন নীতি অনুযায়ী, যেকোনো সংস্করণে সিরিজ হারলেই গুনতে হবে জরিমানা। সিরিজ হারলে ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি থেকে ১০ শতাংশ অর্থ কেটে নেওয়া হবে। বিশেষ করে র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ বা আফগানিস্তানের কাছে হারলে এই জরিমানা অবধারিত।

শ্রীলঙ্কার সংবাদমাধ্যম দ্য সানডে টাইমস জানিয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই ক্রিকেটারদের হাতে এই নতুন চুক্তির কাগজ তুলে দেওয়া হবে।

বর্তমানে টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে শ্রীলঙ্কা অবস্থান করছে ছয় নম্বরে। বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে রয়েছে ৯, ১১ ও ১২ নম্বরে। আর টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে অবস্থান করছে আট থেকে ১১ নম্বরে। ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার অবস্থান ছয় নম্বরে। সাদা বলের এই সংস্করণে লঙ্কানদের পরই রয়েছে আফগানরা (সাত নম্বরে)। বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের অবস্থান ৯ ও ১১ নম্বরে।

বিদেশে টেস্ট সিরিজে র‍্যাংকিংয়ের ১ নম্বর দলকে হারালে দেড় লাখ ডলার বোনাস পাবেন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটাররা। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। র‍্যাঙ্কিংয়ের দুই, তিন ও চারে থাকা দলকে হারালে লঙ্কান ক্রিকেটাররা পাবেন ১ লাখ ডলার (১ কোটি ২২ লাখ টাকা), ৭৫ হাজার ডলার (৯২ লাখ টাকা) এবং ৬০ হাজার ডলার (৭৩ লাখ টাকা) বোনাস দেওয়া হবে। আর ঘরের মাঠে র‍্যাঙ্কিংয়ের এক থেকে চার নম্বর দলের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জিতলে ১ লাখ ডলার, ৭৫ হাজার ডলার, ৫০ হাজার ডলার এবং ২৫ হাজার ডলার করে বোনাস পাবেন ক্রিকেটাররা।

ওয়ানডেতে এক থেকে চার নম্বর দলের বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজ জিতলে দেড় লাখ, এক লাখ, ৮০ হাজার এবং ৭০ হাজার ডলার করে বোনাস দেওয়া হবে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের। হোম সিরিজ জিতলে সেই সংখ্যাগুলো হবে অর্ধেক। টি-টোয়েন্টিতে হোম ও অ্যাওয়ে দুই সিরিজেই জিতলে সমান সংখ্যক বোনাস দেওয়া হবে। যা ওয়ানডেতে অ্যাওয়ে সিরিজ জয়ের বোনাসের সমান।

লঙ্কান ক্রিকেটারদের জন্য ম্যাচ ফিতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। টেস্ট জিতলে মিলবে ১৫০০০ ডলার, ড্র করলে ১,০০০ এবং হারলে বা ফল না হলে মাত্র ৭৫০০ ডলার। ওয়ানডে জয়ের জন্য ৭৫০০ ডলার, হারের জন্য ৩৫০০ এবং ফল না হলে ৩০০০ ডলার। টি-টোয়েন্টি জয়ের জন্য ৫০০০ ডলার ও হারের জন্য ২৫০০ ডলার।

এ ছাড়াও অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রতি টেস্ট ও ওয়ানডেতে বাড়তি ১০০০ ডলার এবং টি-টোয়েন্টিতে ৫০০ ডলার করে পাবেন অধিনায়ক। র‍্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর স্থান অর্জন করতে পারলে ক্রিকেটারদের এককালীন ২৫,০০০ ডলার বোনাসও দেবে বোর্ড।

এক সাক্ষাৎকারে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের প্রধান নির্বাহী অ্যাশলে ডি সিলভা বলেন, ‘নতুন এই আর্থিক নীতিমালা কেবল খেলোয়াড় নয়, কোচদের জন্যও প্রযোজ্য হবে। আমরা এমন একটি সিস্টেম করেছি যেখানে জিতলে তারা যেমন লাভবান হবে, তেমনি হারলে যেন তারা আর্থিকভাবে খারাপ বোধ করে।’

শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি গ্যারি কারস্টেনও এই পরিকল্পনার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে কারস্টেন বলেন, ‘শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সুযোগ-সুবিধা দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়েও অনেক এগিয়ে। আমার প্রথম কাজ হলো খেলোয়াড়দের সংস্কৃতি ও মোটিভেশন বোঝা। বিশ্বকাপের জন্য একটি দক্ষ দল গড়া এবং বিশ্বের সেরা দলগুলোর বিপক্ষে লড়াই করাই আমার অগ্রাধিকার।’