Home Blog Page 164

পেছাল হাদি হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১১ মার্চ) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান।

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি মামলাটিতে ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল ডিবি পুলিশ। তবে ওই অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে নারাজি দেওয়া হয়। গত ১২ জানুয়ারি মামলাটি শুনানির জন্য ওঠার কথা থাকলেও বাদীপক্ষের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য সময় চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করে ১৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।

পরে ওই দিন ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে অসন্তোষ জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নারাজি আবেদন করা হলে আদালত মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব দেন।

পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর সিআইডি মামলার প্রধান আসামি করিম মাসুদ ওরফে রাহুলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফয়সাল রুবেল আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। তাকে দুই দফায় মোট ১২ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলা হয়। দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং দ্রুত পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

বড় চ্যালেঞ্জের মুখে যুক্তরাষ্ট্র ও আরব দেশগুলো

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর স্বার্থ জড়িয়ে থাকা এই সরু সমুদ্রপথে মাইন পাতা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন করে উদ্বেগ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সতর্কবার্তা, মার্কিন সামরিক সূত্রের দাবি এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের হামলার তথ্য— সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাত্র ৩৪ কিলোমিটার প্রশস্ত এই প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এখানে সামান্য উত্তেজনাও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনও মাইন পাতা হলে তা দ্রুত সরিয়ে নিতে হবে। তবে তার এই সতর্কবার্তাটি কিছুটা ঘুরিয়ে বলা ছিল। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে না যে এমন কিছু করা হয়েছে, কিন্তু যদি করা হয়ে থাকে, তাহলে ‘ভালো হবে সেগুলো সরিয়ে ফেলো’।

ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের পরই এই সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে মার্কিন সামরিক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছিল, ইরান হয়তো প্রণালিতে মাইন বসাচ্ছে অথবা বসানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এরপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ইরানের প্রায় ১৬টি মাইন বসানোর নৌযানে তারা হামলা চালিয়েছে।

সব মিলিয়ে এই প্রণালি এখন যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠছে।

মূলত হরমুজ প্রণালি একটি সরু সমুদ্রপথ— এর প্রস্থ মাত্র ৩৪ কিলোমিটার। এর এক পাশের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ইরানের হাতে। কুয়েত, ইরাক, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলবাহী ট্যাংকার যেতে হলে এই পথই ব্যবহার করতে হয়। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সমুদ্রপথে বের হওয়ার জন্য এটিই একমাত্র পথ। ফলে এই প্রণালির ওপর ইরানের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে তারা ইরানের নৌবাহিনীকে ধ্বংস করেছে বা ধ্বংসের কাছাকাছি নিয়ে গেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, তেলবাহী জাহাজ চলাচলে হুমকি দিতে ইরানের প্রচলিত যুদ্ধজাহাজের প্রয়োজন নেই। ছোট সাবমেরিন বা দ্রুতগতির স্পিডবোট ব্যবহার করেও তারা এ ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে দাবি করেছিলেন, প্রণালিতে এমন ঘটনা ইতোমধ্যে ঘটতে শুরু করেছে। তবে পরে তাকে সেই পোস্ট মুছে ফেলতে হয়, কারণ দেখা যায় বাস্তবে তখনও তেমন কিছু ঘটেনি।

ইরানে হামলা করে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি নষ্ট করছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কঠোর সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি বলেছে, তেহরানের ওপর এ হামলা অবৈধ। এছাড়া নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে মোজতবা খামেনিকে নির্বাচন করাকে ‘ইরানিদের পছন্দ’ হিসেবে অভিহিত করেছে উত্তর কোরিয়া।

বুধবার (১১ মার্চ) উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, তারা ইরানে হামলার কঠোর নিন্দা জানান। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি-স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। ইরানে অবৈধ হামলা চালিয়ে বিশ্বব্যাপী তারা স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে।

অন্য দেশের সরকারকে হেনস্তা করতে হুমকি ও হামলা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও উল্লেখ করেছে দেশটি।

উত্তর কোরিয়া আরও বলেছে, ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট নতুন যে সুপ্রিম লিডার নির্বাচন করেছে তাকে তারা শ্রদ্ধা জানান এবং এই নির্বাচনে ইরানিদের চাওয়া ফুটে উঠেছে।

টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম, ভরি কত?

টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার টাকার বেশি বাড়িয়ে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।

বুধবার (১১ মার্চ) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।

স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৮ হাজার ১২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১ হাজার ২৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৮০ হাজার ৬১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোনার দাম বাড়ানোর সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। ভরিতে ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকা।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মৃত্যুর গুঞ্জনের মধ্যে ভিডিওবার্তা নেতানিয়াহুর

মৃত্যুর গুঞ্জনের মধ্যে প্রকাশ্যে না এসে দখলদার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভিডিওবার্তা দিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, যুদ্ধ করতে তাদের প্রচুর অর্থ লাগবে। এ জন্য তারা বিশেষ বাজেট ঘোষণা করতে চান।

নেতানিয়াহু বলেন, কোনো প্রশ্ন নেই, আমাদের যুদ্ধ শুরু করতে হতো। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বড় বিষয়- যুদ্ধে অনেক অর্থ লাগে। অনেক অর্থ।

ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, এ কারণে আমাদের বিশেষ বাজেটের প্রয়োজন। কয়েক বিলিয়ন শেকেল (ইসরাইলি মুদ্রা) লাগবে প্রতিরক্ষা বাজেটের জন্য, এই যুদ্ধের জন্য।

গত ১০ দিনে ইসরাইলে ইরানের নিক্ষিপ্ত ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্রে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ হাজার ৩৩৯ জন। এই আহতদের মধ্যে এখনো হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৯৫ জন এবং তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এতে আরও বলা হয়েছে, ইরানের হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৯১ জন।

নারীর ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’: বাঞ্ছারামপুরে উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি

ব্রাহ্মণবা‌ড়িয়ার বাঞ্ছারামপু‌রে নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন বাংলা‌দেশ সরকা‌রের প‌রিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনা‌য়েদ সা‌কি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছেন, নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করে‌ছে সরকার।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল সা‌ড়ে ১০ টায় জোনা‌য়েদ সা‌কি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধান অ‌তি‌থির বক্ত‌ব্যে তি‌নি এসব কথা বলেন।

জোনা‌য়েদ সা‌কি ব‌লেন ব‌লেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তা‌রেক রহমান। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের ২২ ‌দি‌নের মধ্যে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলেন। তাই আজ একটি স্মরণীয় দিন। ঐতিহাসিক দিন। এখন ১৪ জায়গায় কার্যক্রম শুরু হলো এর ম‌ধ্যে ব্রাহ্মণবা‌ড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডে মোট ৮৬ টি ফ‌্যা‌মি‌লি কার্ড দেওয়া হয় । পর্যায়ক্রমে সবার কাছে তাঁরা এই কার্ড নিয়ে যেতে পারবেন বলে আশাবাদী।

দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে এই কার্ড চালু করে‌ছে সরকার। এর আগে অনুষ্ঠানে তিনি বেশ কয়েকজন নারীর হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাওয়া নারীদের একজন ফ‌াতেমা তুল জে‌াহরা। উদ্বোধনের পর তিনি অনুষ্ঠানে তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা চলে এসেছে। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আপাতত ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী জুন পর্যন্ত চার মাসের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পেলে সেগুলো বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা চলমান ভাতা নিতে পারবেন।

কোনো পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা, অনুদান, পেনশন পেয়ে থাকলে, নারী পরিবারপ্রধান এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মচারী হিসেবে চাকরিরত থাকলে ওই পরিবার ভাতা পাওয়ার জন্য যোগ্য হবে না।

এ ছাড়া কোনো পরিবারের নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকলে বা বিলাসবহুল সম্পদ, যেমন গাড়ি, এসি থাকলে বা ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলেও ওই পরিবার ভাতা পাবে না।

জেল‌া প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহানের সভাপ‌তি‌ত্বে এতে বি‌শেষ অ‌তি‌থি ছি‌লেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আস‌নের সংসদ সদস্য  মোঃ খালেদ হোসেন মাহবুব শ‌্যামল,
জেলা পুলিশ সুপার শাহ্ মোঃ আব্দুর রউফ, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম এ খালেক পিএসসি, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ‌্যাড. জিয়া উদ্দিন জিয়া, জেলা বিএন‌পির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, উপ‌জেল‌া বিএন‌পির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, উপ‌জেলা বিএন‌পির সাধারণ সম্পাদক, একে এম (ভি‌পি) মুসা প্রমুখ।

মামুনুল হকের স্ট্যাটাসে এমন এক ভয়াবহ তথ্য জানা গেল, যা শুনে সত্যিই গা শিউরে ওঠে

নাম উল্লেখ না করে কওমি অঙ্গনের এক মুহাক্কিক আলেমকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। সেখানে তিনি দাবি করেন, ওই ব্যক্তি বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সোর্স হিসেবে কাজ করেন।

সোমবার (৯ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।

মামুনুল হক লিখেছেন, কয়েক মাস আগে তার এক অনুজ তাকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। ওই ব্যক্তি বাংলাদেশের একজন নির্ভরযোগ্য আলেম এবং কওমি অঙ্গনের হাতে গোনা কয়েকজন মুহাক্কিক আলেমের মধ্যে অন্যতম। আত্মীয়তা ও পরিচয়ের সূত্রে ইউরোপ ও আমেরিকায় তার ঘনিষ্ঠ অনেকের বসবাস রয়েছে এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে কাজ করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অনুজ হঠাৎ করে তাকে একজন ব্যক্তির সম্পর্কে প্রশ্ন করেন, যা তাকে কিছুটা বিস্মিত করে। পরে ওই অনুজ জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নাকি বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সোর্স হিসেবে কাজ করেন—যা শুনে তিনি বিস্মিত হন।

স্ট্যাটাসে তিনি আরও দাবি করেন, অন্য একজন তাকে সরাসরি জানিয়েছেন যে ওই ব্যক্তির বাংলাদেশের এমন কিছু স্থানে প্রবেশাধিকার রয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষের যাওয়ার সুযোগ নেই এবং সাধারণত রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ছাড়া সেখানে প্রবেশ করা সম্ভব নয়। অথচ একজন সাধারণ ব্যক্তি হয়েও তিনি এসব সংরক্ষিত এলাকায় অবাধে চলাফেরা করেন। এমনকি তাকে অনেক জায়গায় দেখে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও বিস্মিত হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মামুনুল হক বলেন, তিনি যার বিষয়ে কথা বলছেন, তার নাম প্রকাশ করলে অনেকেই অবাক হতে পারেন যে এত সাধারণ একজন ব্যক্তিকে কেন এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে ব্যক্তিগত অবস্থানের কারণে নয়, বরং তার মতে, ওই ব্যক্তি এবং তার মতো আরও কয়েকজন মিলে বিভিন্ন ধরনের সিন্ডিকেট তৈরি করে ভিন্ন মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রিয় রয়েছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আলেম ও এতিমদের নিয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এসব ব্যক্তির প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ লক্ষ্য করা গেছে বলে তার ধারণা। তার দাবি, আগে যারা বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ছিল, তাদের তুলনায় এখন এসব কথিত ‘এজেন্সি-চালিত’ ব্যক্তিরা সরকারি মহলে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন।

মামুনুল হক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে প্রভাব বিস্তার করলে তারা আলেম-ওলামাদের অঙ্গনে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারে। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও নিজেদের বিষয়গুলো পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমন্বয় করা সম্ভব, কিন্তু তৃতীয় পক্ষের হয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা অজান্তেই ঐক্য নষ্ট করতে পারে।

তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নিলেন প্রধানমন্ত্রী

দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বরং যে কোনো মূল্যে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারে আতঙ্ক ছড়াতে না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য রহমান অমিত ও জ্বালানি সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তেলের দাম বাড়ানোর একটি প্রস্তাব তুলে ধরা হলে তা নাকচ করে দেন প্রধানমন্ত্রী। কর্মকর্তারা বৈঠকে জানান, বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি করে সরকারের ১৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী দাম বাড়ানোর পরিবর্তে সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখা এবং বাজারে স্বাভাবিকতা ফেরানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

বৈঠকে জ্বালানি বিভাগ জানায়, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৯ মার্চ দুটি জাহাজে করে ডিজেল দেশে পৌঁছাবে এবং পরে আরও দুটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে চালু হলে আন্তর্জাতিক বাজারেও পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন কোনোভাবেই যাতে জ্বালানি তেলের মজুতদারি না হয়, সে জন্য কঠোর নজরদারি চালাতে হবে। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি সবাইকে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী আরও জানান, সরকার নির্ধারিত দামের বেশি নিয়ে কেউ তেল বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য আজ রবিবার থেকে সারা দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে অভিযান চালানো হবে, যাতে তারা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তেল সরবরাহ করছে কি না তা যাচাই করা যায়।

ভুল বুঝিয়ে মন্ত্রী পদমর্যাদায় আবেদন মাহমুদুলের, দুসপ্তাহ আগে সরিয়ে দেওয়া হয় জামায়াত আমিরের সেই উপদেষ্টাকে

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের দপ্তর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি চিঠি সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে আমিরে জামায়াতের ব্যক্তিগত দপ্তর থেকে।

জনকণ্ঠকে জানানো হয়—প্রকাশিত প্রতিবেদনে যে ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি মূলত প্রায় দুই সপ্তাহ আগের একটি বিষয়। সে সময় অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আমিরে জামায়াতের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি উক্ত চিঠির বিষয়ে আমিরে জামায়াতকে অবহিত করেছিলেন এবং বিষয়টি একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করেছিলেন।

তবে পরবর্তীতে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে যাচাই করে দেখা যায় যে, চিঠির বিষয়বস্তু আমিরে জামায়াতকে যে ভাবে ব্রিফ করা হয়েছিল, বাস্তবে তা তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। বিশেষ করে চিঠিতে উল্লেখিত ‘মন্ত্রীর পদমর্যাদা’ সংক্রান্ত অংশে আমিরে জামায়াতের কোনো সম্মতি ছিল না।
বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

মাহমুদুল হাসানকে উক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় দু সপ্তাহ আগে এবং ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) এমপি-কে বিরোধীদলীয় নেতার নতুন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য জামায়াতের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি ফোনে যোগাযোগ করে জানানো হয়েছে যে উক্ত চিঠির বিষয়ে আমিরে জামায়াত অবগত ছিলেন না।

একই সঙ্গে জানানো হয়েছে যে সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে এবং নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি তখনই নিষ্পত্তি হয়েছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক আচরণে বিশ্বাসী। কোনো বিষয়ে বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হলে আমরা দ্রুত তা সংশোধন করার নীতিতে বিশ্বাস করি এবং এ ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে।

কয়েল ছাড়াই ৫ মিনিটে ঘরকে মশা মুক্ত রাখার কার্যকরী উপায়

ঘরে-বাইরে কোথাও নেই নিস্তার। গরম আবহাওয়ার সঙ্গে বেড়েই চলেছে মশাদের উৎপাত। মশার রোগজীবাণু সংক্রমণের কারণে প্রতিদিন বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। ভয়াবহ মৃত্যুর হারও থামানো যাচ্ছে না। চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, পীত জ্বর, জিকা ভাইরাস প্রভৃতি মারাত্মক রোগও সংক্রমিত হচ্ছে। মশাদের উৎপাতের কারণে ঘরে টেকা দায় হয়ে পড়েছে। স্প্রে, কয়েল, অ্যারোসল কোন কিছুতেই মশা তাড়ানো সহজ নয়। আবার এসব দিয়ে মশা তাড়ালেও আমাদের স্বাস্থ্য এতে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, যদি ৮ ঘন্টা আপনি কোন কয়েল জ্বালিয়ে রাখেন তাহলে সেটি ১৪০টি সিগারেটের ধোঁয়া উৎপন্ন করে যেটি সরাসরি আপনার মধ্যে শোষিত হয়। যা আপনার হার্ট, ফুসফুস এবং শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত করতে থাকে। এ জন্য সচেতনতা প্রয়োজন আরও বেশি। প্রাকৃতিক উপায়ে মশা তাড়ানোর ব্যবস্থা করা জরুরী। একনজরে জেনে নিন মশা তাড়ানোর কার্যকরী উপায়-

কর্পূর

কর্পূরের গন্ধ মশা একেবারেই সহ্য করতে পারে না। আপনি যে কোনও ওষুধের দোকানে বা মুদির দোকান থেকেও কর্পূরের ট্যাবলেট কিংবা গুঁড়া কিনে আনতে পারেন। একটি কর্পূরের টুকরা একটি ছোটো পাত্রতে রেখে সেটি পানি দিয়ে পূর্ণ করুন। এর পর এটি ঘরের কোণে রেখে দিন। অল্প সময়ের মধ্যেই ঘর থেকে মশা গায়েব হয়ে যাবে। দু’দিন পর পাত্রের পানির পরিবর্তন করুন। পাত্রে রাখা আগের পানি ফেলে দেবেন না। এই পানি ঘর মোছার কাজে ব্যবহার করলে ঘরে পিঁপড়ের উপদ্রব থেকেও মুক্তি পাবেন।

লেবু ও লবঙ্গ

একটি লেবু দুই টুকরা করে কেটে নিন। এর পর কাটা লেবুর ভেতরের অংশে বেশ কয়েকটা করে লবঙ্গ গেঁথে দিন। লেবুর মধ্যে লবঙ্গের পুরোটা গেঁথে শুধুমাত্র মাথার দিকের অংশ বাইরে রেখে লবঙ্গ গেঁথে দিন। এর পর লেবুর টুকরাগুলো একটি প্লেটে রেখে ঘরের কোণায় রেখে দিন। ব্যস, এতেই বেশ কয়েকটা দিন মশার উপদ্রব থেকে মুক্তি পেতে পারেন। এই পদ্ধতিতে মশা ঘরের ধারেকাছে ঘেঁসবে না একেবারেই। আপনি চাইলে লেবুতে লবঙ্গ গেঁথে জানালার গ্রিলেও রাখতে পারেন। এতেও মশার ঘরে ঢোকার পথ বন্ধ হবে।

জৈবিক প্রক্রিয়া

প্রথমে আপনাকে একটি মাটির প্রদীপ নিয়ে নিতে হবে এবং তার মধ্যে দিতে হবে এক চামচ রসুন বাটা । এবং তার মধ্যে যোগ করতে হবে কিছুটা পরিমাণ তেজপাতা গুঁড়া এবং সামান্য পরিমাণ কর্পূর গুঁড়া। সমস্ত উপকরণগুলোকে ভাল করে মিশিয়ে তার মধ্যে দিয়ে দিন সরিষার তেল । যাতে সমস্ত উপকরণগুলো সরিষার তেলের মধ্যে নিমজ্জিত অবস্থায় থাকে । এরপর একটি সলতে যোগ করে দিন তার মধ্যে । এবং প্রদীপটি ধরিয়ে দিন । এর ফলে যে ধোঁয়া নির্গত হবে সেখান থেকে আপনার বাড়ির আনাচে-কানাচে থাকা মশা বাড়ির বাইরে চলে যাবে । এতে আপনার শরীরও কিছু ক্ষতি হবে না।

নিমের তেলের ব্যবহার

নিমের মশা তাড়ানোর বিশেষ একটি গুণ রয়েছে। নিমের তেল ত্বকের জন্যও বেশ ভালো। তাই একসাথে দুটি উপকার পেতে ব্যবহার করতে পারেন নিমের তেল। সমপরিমাণ নিমের তেল ও নারকেল তেল মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে নিন। দেখবেন মশা আপনার ধারে কাছে ভিড়বে না এবং সেই সাথে ত্বকের অ্যালার্জি, ইনফেকশন জনিত নানা সমস্যাও দূর হবে।

পুদিনার ব্যবহার

ছোট গ্লাসে একটু পানি নিয়ে তাতে ৫ থেকে ৬ গাছি পুদিনা রেখে দিন খাবার টেবিলে। ৩ দিন অন্তর পানি বদলে দেবেন। জার্নাল অফ বায়োরিসোর্স টেকনোলোজির গবেষণা মতে তুলসির মতো পুদিনা পাতারও রয়েছে মশা দূরে রাখার ক্ষমতা। শুধু মশাই নয় পুদিনার গন্ধ অনেক ধরণের পোকামাকড়কে ঘর থেকে দূরে রাখে। পুদিনা পাতা ছেঁচে নিয়ে পানিতে ফুটিয়ে নিন। এই পানির ভাপ পুরো ঘরে ছড়িয়ে দিন। দেখবেন ঘরের সব মশা পালিয়েছে। চাইলে পুদিনার তেলও গায়ে মাখতে পারেন।

টবে লেমন গ্রাস লাগান

থাই লেমন গ্রাসে আছে ‘সাইট্রোনেলা অয়েল’ যা থেকে বের হয় একধরনের শক্তিশালী সুগন্ধ। এই সুগন্ধ কিন্তু মশাদের যম। মশারা এর কাছেও ঘেঁষে না। ফলে আপনার আশেপাশে লেমন গ্রাসের ঝাঁড় থাকলে মশারা আপনাকে খুঁজে পাবে না। আর লেমন গ্রাস দেখতেও কিন্তু মন্দ নয়। এমনসব স্থানে এসব গাছের টব রাখুন যেখানে সকাল বিকাল কিংবা রাতে পরিবারের অন্যদের নিয়ে কিংবা বন্ধু বান্ধব নিয়ে আড্ডা বা সময় কাটান। এভাবে থাকুন মশা মুক্ত।

ধুনোর সঙ্গে নিশিন্দা ও নিমপাতার গুঁড়া

প্রতিদিন নিশিন্দা ও নিমপাতার গুঁড়া ধুনোর সঙ্গে ব্যবহার করলে মশার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

হলুদ বৈদ্যুতিক আলো

ঘরের মধ্যে মশার উৎপাত কমাতে চাইলে, ঘরের বৈদ্যুতিক আলোটি হলুদ সেলোফেনে জড়িয়ে দিন। ফলে হলুদ আলো হবে। দেখবেন মশা কমে গেছে, কারণ মশা হলুদ আলো থেকে দূরে থাকতে চায়। এছাড়া ঘরে এবং ঘরের বাইরে লাইট বাল্বগুলো পরিবর্তন করুন। মশারা সাধারণত সব লাইটের প্রতি আকৃষ্ট হয় না। এলইডি লাইট, হলুদ ‘বাগ লাইট’, বা সোডিয়াম লাইট এক্ষেত্রে উপকারী। এগুলো জ্বালালে সন্ধ্যাবেলা ঘরে বাইরে মশাদের আক্রমণ অনেকটাই কমে যাবে।

চা-পাতা পোড়ান

ব্যবহৃত চা-পাতা ফেলে না দিয়ে ভাল করে রোদে শুকিয়ে নিন। এইভাবে ওই চা পাতা ধুনোর বদলে ব্যবহার করুন। শুকনো চা পাতা পোড়ানো ধোঁয়ায় ঘরের সমস্ত মশা, মাছি পালিয়ে যাবে।

নিমপাতা পোড়ান

কয়লা বা কাঠ-কয়লার আগুনে নিমপাতা পোড়ালে যে ধোঁয়া হবে তা মশা তাড়ানোর জন্য খুবই কার্যকর।

ক্যাটনিপ অয়েল

ক্যাটনিপ অয়েলের নেপেটালেকটন নামক পদার্থ মশা তাড়াতে ডিথাইল-মেটাটোলোয়ামাইড থেকে প্রায় ১০ গুন বেশি শক্তিশালী। ক্যাটনিপ অয়েল মাখালে মশারা ধারে কাছেও ঘেঁষবে না।

ফ্যান চালু রাখুন

মশারা খুবই হালকা। অন্যদিকে একটি ফ্যানের স্পীড ঘন্টায় প্রায় দুই মাইল। মশাদের উড়বার গতিবেগের চাইতে ফ্যানের ঘুরবার গতি অনেক বেশি হওয়াতে সহজেই মশাদের ব্লেডের কাছে টেনে নেয়। আপনার বসার স্থান কিংবা ডেক বা যেসব স্থান থেকে মশারা খুব সহজে আপনার গৃহে প্রবেশ করতে পারে, এমনসব স্থানে মশাদের আগমন সময়ে আপনার টেবিল ফ্যান বা পেডাল ফ্যানটি চালু রাখুন। মশাদের হাত থেকেও যেমন নিস্কৃতি পাবেন তেমনি গরমেও পাবেন আরাম।

কালো, নীল ও লাল কাপড় এড়িয়ে চলুন

মশাদের পছন্দের রঙের পোশাক এড়িয়ে চলুন। কি অবাক হচ্ছেন! কিছু কিছু প্রজাতির মশারা কয়েকটি গাঢ় রঙের প্রতি আকৃষ্ট হয় যেমন কালো, নীল আর লাল। আর তারা গরমের প্রতিও সংবেদনশীল। তাই ঠান্ডা রাখুন ঘর আর পোষাক পড়ুন হালকা রঙের।

নারিকেলের আঁশ পোড়ান

নারিকেলের গায়ে থাকা আঁশের সাহায্য দূর করতে পারেন মশা। নারিকেলের আঁশ শুকিয়ে টুকরা করুন। একটি কাঠের পাত্রে রেখে জ্বলন্ত ম্যাচের কাঠি ধরুন। ৫-৬ মিনিটের মধ্যেই মশা দূর হবে।

কেরোসিন তেল স্প্রে

কেরোসিন তেল স্প্রে বোতলে নিন। কয়েক টুকরা কর্পূর মেশান। ভালো করে ঝাঁকিয়ে স্প্রে করুন রুমে। মশা থাকবে না।

সুগন্ধি ব্যবহার করুন

মশারা সুগন্ধি থেকে দূরে থাকে। সুতরাং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে শরীরে আতর, সুগন্ধি, কিংবা লোসন মেখে শুতে পারেন। নিশ্চিত করে বলা যায় এতে মশা সাধারণ থেকে অনেক কম দেখা যাবে।

রসুনের স্প্রে করুন

রসুনের স্প্রে মশা তাড়াতে খুবই কার্যকারী প্রাকৃতিক উপায়। ৫ ভাগ পানিতে ১ ভাগ রসুনের রস মেশান। মিশ্রণটি একটি বোতলে ভরে শরীরের যেসব স্থানে মশারা কামড়াতে পারে সেসব স্থানে স্প্রে করুন। এতে করে যে কোন ধরণের রক্ত চোষারা আপনার ধারে কাছেও আসবে না।

জমানো পানি থেকে দূরে থাকুন

খেয়াল রাখুন যেন কোথাও জল জমে না থাকে। ঘরের আনাচে-কানাচে কিংবা উঠোনে পানি জমে থাকলে সেখানে মশারা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই যেখানেই পানি জমুক না কেন, তা সরিয়ে ফেলুন। মশার বংশবিস্তার রোধ করুন।