Home Blog Page 184

বন্ধ হচ্ছে দেশের ৬টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান

দেশের ৩৫টি ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) মধ্যে ২০টিকে সমস্যাগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ছয়টি প্রতিষ্ঠান তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুইটি প্রতিষ্ঠানকে তিন মাস এবং একটি প্রতিষ্ঠানকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে।

এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ আদায় বা তহবিল সংগ্রহ করতে পারলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবসায়ন প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হতে পারে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধেও অবসায়নের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চিত্র

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৩৫টি এনবিএফআইয়ের মোট ঋণের পরিমাণ ২৫ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা খেলাপি, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৮৩ দশমিক ১৬ শতাংশ।

অন্যদিকে, এসব প্রতিষ্ঠানের বন্ধকী সম্পদের মোট মূল্য মাত্র ৬ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা, যা খেলাপি ঋণের তুলনায় অত্যন্ত কম।

তিন প্রতিষ্ঠানকে ছয় মাস সময়

অনিয়ম, দুর্নীতি ও দুর্বল ব্যবস্থাপনায় ক্ষতিগ্রস্ত এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটিকে সর্বোচ্চ ছয় মাস সময় দিয়ে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই তিন প্রতিষ্ঠান হলো—

  • বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি
  • জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি
  • প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জানান, ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে অবলুপ্ত করা হবে। বাকি তিনটি সময় চেয়েছে, তাই তাদের তিন থেকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক অগ্রগতি দেখাতে না পারলে তারাও অবসায়নের আওতায় পড়বে।

আমানতকারীরা পাবেন শুধু মূল টাকা

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আরও জানান, যেসব প্রতিষ্ঠান অবসায়নের আওতায় পড়বে, সেগুলোর আমানতকারীরা শুধু মূল আমানতের অর্থ ফেরত পাবেন। কোনো সুদ বা মুনাফা দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, অন্য কিছু এনবিএফআইয়ে আমানতকারীরা মাত্র ১৮ টাকা পেয়েই সন্তুষ্ট ছিলেন, যেখানে আগে তারা কিছুই পাননি।

বিশেষজ্ঞদের মত: মৃত প্রতিষ্ঠান বাঁচানো বৃথা

অর্থনীতিবিদদের মতে, যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান কার্যত ‘মরে গেছে’, সেগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করে লাভ নেই। বরং যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো টিকে আছে, সেগুলোকে কীভাবে বাঁচানো যায়, সেদিকেই বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।

তারা বলেন, একীভূতকরণ বা মার্জিংয়ের আগে দেখতে হবে, দুর্বল প্রতিষ্ঠানটি আদৌ ভালো প্রতিষ্ঠানের প্রভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো ‘ক্যান্সার’ বা ‘গ্যাংগ্রিন’-এর মতো অবস্থায় পৌঁছে গেছে, যেখানে জোর করে বাঁচানোর চেষ্টা ফলপ্রসূ হয় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন করে বাঁচানো সম্ভব হলেও সব প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করতে গেলে সরকারের বিপুল অর্থায়ন ও সহায়তা প্রয়োজন হবে, যা বর্তমানে সম্ভব নয়।

প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত

এরই মধ্যে তিনটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।

ভালো অবস্থানে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর চিত্র

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা ১৫টি এনবিএফআইয়ের খেলাপি ঋণের হার মাত্র ৭ দশমিক ৩১ শতাংশ।

গত বছর এসব প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে ১৪৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছে এবং তাদের মোট মূলধন উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলোই বর্তমানে দেশের এনবিএফআই খাতের স্থিতিশীলতার প্রধান ভরসা।

প্রেমের ফাঁদে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ; নোবেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় ‘সা রে গা মা পা’-খ্যাত গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ পিবিআই-এর (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এই আদেশ দেন।

আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা হলেন—গায়ক মাইনুল আহসান নোবেল, তার মা নাজমা হোসেন, স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া, নোবেলের পরিচিত ছোট ভাই মাসুদ রানা এবং তার সহকারী মুনেম শাহ সৌমিক।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সাজিদুল ইসলাম জানান, নোবেল মামলার বাদী আনাননিয়া শবনম রোজের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা হাতিয়ে নেন। ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত ধাপে ধাপে নোবেল মোট ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা নিয়ে তা আত্মসাৎ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, “গত বছরের ১৩ আগস্ট রোজ সাহসী হয়ে আদালতে এই মামলা দায়ের করেন। আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পিবিআই গত ৭ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করে।”

সোমবার মামলার প্রতিবেদন গ্রহণ করার জন্য দিন ধার্য ছিল। পিবিআই-এর প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় বাদীপক্ষ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করে। আদালত শুনানি শেষে আবেদন মঞ্জুর করেন এবং পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করেন।

উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার প্রতারণা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে নোবেল আইনি জটিলতায় জড়িয়েছিলেন। এবারের মামলায় তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদেরও অভিযুক্ত করা হয়েছে।

প্রচারণায় গিয়ে স্বর্ণের আংটি পেলেন হান্নান মাসউদের স্ত্রী

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের প্রতি সাধারণ ভোটারদের ভালোবাসা ও আস্থার এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা গেছে নির্বাচনি প্রচারণায়। স্বামীর পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে এক বৃদ্ধা ভোটারের কাছ থেকে স্বর্ণের আংটি উপহার পেয়েছেন হান্নান মাসউদের স্ত্রী শ্যামলী সুলতানা জেদনী।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে প্রবাসী আমির ডুবাইয়ের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

উঠান বৈঠক শুরুর আগমুহূর্তে আমির ডুবাইয়ের বৃদ্ধা মা শ্যামলী সুলতানা জেদনীর হাতে নিজ উদ্যোগে একটি স্বর্ণের আংটি পরিয়ে দেন। তিনি এটিকে ভালোবাসা, সম্মান ও আস্থার নিদর্শন হিসেবে গ্রহণ করার অনুরোধ জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে ওই বাড়িতে পূর্বনির্ধারিত একটি উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্র শক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্রার্থী হান্নান মাসউদের সহধর্মিণী শ্যামলী সুলতানা জেদনী। বৈঠক শুরু হওয়ার আগে নির্ধারিত আসনে বসার সময় হঠাৎ ওই বৃদ্ধা নারী এগিয়ে এসে শ্যামলী সুলতানা জেদনীর হাতে আংটিটি পরিয়ে দেন।

এ সময় উপস্থিত নারী ভোটাররা করতালির মাধ্যমে ঘটনাটিকে স্বাগত জানান। মুহূর্তের মধ্যেই সেখানে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যা অনেককেই আবেগাপ্লুত করে তোলে।

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় শ্যামলী সুলতানা জেদনী বলেন, এটি আমার স্বামীর প্রতি সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ। গত দেড় বছরে তিনি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের জন্য যে কাজগুলো করেছেন—এই উপহার তারই প্রতিফলন। একজন স্ত্রী হিসেবে আমি গর্বিত।

উঠান বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় ছাত্র শক্তি হাতিয়া উপজেলা শাখার সদস্য সচিব আশিক এলাহীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি আশপাশের গ্রামের শতাধিক নারী ভোটার বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন এবং নির্বাচনি আলোচনা ও মতবিনিময়ে যুক্ত হন।

স্থানীয়দের মতে, নির্বাচনি প্রচারণায় এমন আবেগঘন ও ব্যতিক্রমী ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে প্রার্থী হান্নান মাসউদের প্রতি আস্থার বিষয়টি নতুনভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।

বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার আটক, যা বললেন জামায়াত আমির

এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে আটক করায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ধন্যবাদ জানান।

শফিকুর রহমান বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমার ভেরিফাইড এক্স আইডি (টুইটার), যেখান থেকে হ্যাক হয়েছিল, সেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আমি আশা করি, এখন ন্যায়বিচারটাও পাব এবং তা খুবই প্রয়োজন। দেশে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আসন্ন নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার পক্ষে এ ধরনের আইনি উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। শাস্তি নিশ্চিত হলে অনেকেই সাবধান হয়ে যাবে।

জামায়াত আমির আরও বলেন, আশা করি, এখান থেকে অনেকেরই শিক্ষা হবে। অপেক্ষায় রইলাম, আইনের বাস্তব প্রয়োগ দেখার জন্য। অতি অল্প সময়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ।

ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশলাইন্স অডিটোরিয়ামের পূর্বপাশের সরকারি কোয়ার্টারে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

ডিএমপির ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার রাতে জামায়াত আমিরের এক্স হ্যান্ডেলের একটি পোস্টের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য দেখা যায়। পরে এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে সেই পোস্ট সরিয়ে নেওয়া হয়।

জামায়াত বিবৃতি দিয়ে জানায়, সাইবার হামলা করে অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট প্রকাশিত হয়েছে এবং জামায়াত আমিরের নামে মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে।

গত ৩১ জানুয়ারি বিকেলে জামায়াত আমিরের এক্স হ্যান্ডেল থেকে নারীদের প্রতি অসম্মানমূলক একটি পোাস্ট ভাইরাল হয়। ওই পোস্টে, আধুনিক পতিতাবৃত্তির সঙ্গে তুলনা করে কর্মজীবী নারীদের প্রতি চরম অবমাননাকর ও আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশ করা হয়।

পরে ডা. শফিকুর রহমানের অফিসিয়াল টুইটার (এক্স) অ্যাকাউন্টে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করে জামায়াতে ইসলামী। এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে দলটির নির্বাচনি প্রচার টিম।

যুদ্ধ না করেই নামের আগে ’মুক্তিযোদ্ধা’ উপাধি ব্যবহার: জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ

মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও নিজের নামের আগে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ শব্দ ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর অভিযোগে বগুড়া-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। সোমবার এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিধিভঙ্গের অভিযোগে এই নোটিশ জারি করা হয়।

বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট কাজী এরফানুর রহমানের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই ব্যবস্থা নিয়েছে কমিশন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সরেজমিনে অনুসন্ধান চালিয়ে অনুসন্ধান কমিটি দেখতে পায় যে, অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা না হওয়া সত্ত্বেও প্রচারণায় নিয়মিত এই পরিচয় ব্যবহার করছেন।

নোটিশে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৬-এর বিধি ১৬ লঙ্ঘন করায় তাঁর বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অবস্থিত কমিটির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কৈফিয়ত না দিলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের নানাবিধ পদক্ষেপ সম্পর্কে জেনেছেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাতকালে তাকে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত করা হয়।

নির্বাচনের সময় দেশে কেমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে, সে সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সামনে থাকা নানা নিরাপত্তা বিষয়ক সহযোগিতার বিষয়েও ক্রিস্টেনসেন আলোচনা করেছেন বলে এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস।

এর আগে প্রধান উপদেষ্টা, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সেনাপ্রধানসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। গত ১০ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে শপথ নেন ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন।

প্রসঙ্গত, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট। ‘একদিনে দুই ভোট’ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ এখন প্রার্থীরা প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। নিজেদের নির্বাচনি এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন তারা, ভোটারদের দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। অন্যদিকে, জুলাই সনদ কার্যকরের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’-র রায় পেতে প্রচারণা চালাচ্ছে সরকার।

আ. লীগের ৪৮ শতাংশ ভোটারের পছন্দ বিএনপি: জরিপ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের ভাবনা ও প্রত্যাশা নিয়ে পরিচালিত এক মতামত জরিপে দেখা গেছে, ৯৩ শতাংশের বেশি মানুষ এবার ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) এবং বাংলাদেশ ইলেকশন পাবলিক অপিনিয়ন স্টাডিজের যৌথভাবে পরিচালিত এই জরিপের ফল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

সিআরএফের স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ জানান, ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলার ১৮০টি আসনে ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটারের ওপর দুই ধাপে এই জরিপ চালানো হয়েছে।

ভোট স্থানান্তরের প্রবণতা ও রাজনৈতিক মেরুকরণ জরিপের সবচেয়ে আলোচিত তথ্য হলো সাবেক সরকারি দল আওয়ামী লীগের ভোটারদের গতিপথ। দেখা গেছে, আগে যাঁরা আওয়ামী লীগকে ভোট দিতেন, তাঁদের ৪৮.২ শতাংশ এবার বিএনপিকে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এছাড়া ২৯.৯ শতাংশ জামায়াতকে এবং ৬.৫ শতাংশ জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ১৩ শতাংশ ভোটার অন্য দলগুলোর দিকে ঝুঁকছেন।

নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মধ্যেও জামায়াতের প্রতি প্রবল ঝোঁক দেখা গেছে। ২০০৮ সালের পর প্রথমবার ভোট দেবেন এমন তরুণদের ৩৭.৪ শতাংশ জামায়াতকে, ২৭ শতাংশ বিএনপিকে এবং ১৭ শতাংশ এনসিপিকে ভোট দিতে চান।

নির্বাচনী ইস্যু ও ভোটারের অগ্রাধিকার জরিপে উঠে এসেছে যে, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের কাছে প্রধানতম ইস্যু হলো ‘দুর্নীতি’। প্রায় ৬৭.৩ শতাংশ ভোটার ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর দুর্নীতিমুক্ত ভাবমূর্তিকে প্রাধান্য দেবেন। এছাড়া অন্যান্য বিবেচ্য বিষয়গুলো হলো:

ধর্ম (৩৫.৯ শতাংশ)
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি
দেশের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান
জননিরাপত্তা

ভোটাররা ব্যক্তিগত ক্যারিশমার চেয়ে ‘জনদরদি’ প্রার্থীকে বেশি পছন্দ করছেন। দল ও প্রার্থী—উভয়কেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন ৩৩.২ শতাংশ মানুষ।

নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত যুক্তরাজ্যের রেডিং ইউনিভার্সিটির ভিজিটিং প্রফেসর এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষের ভোট দেওয়ার আগ্রহ ইতিবাচক হলেও ভোটের দিনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ৮ শতাংশ ভোটার এখনও সিদ্ধান্তহীন, যাদের সিদ্ধান্ত পাল্টাতে পারে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে। নারী ও বয়স্ক ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যাওয়া নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে কঠোর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক সাহাবুল হক বলেন, মানুষের মধ্যে উৎসবের পাশাপাশি ভোট সুষ্ঠু হওয়া এবং ব্যালট বাক্স দখল হওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ কাজ করছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ভোটাররা এখন ধর্মের চেয়ে দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্বকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

ভাঙনের পর ভরসা, তিস্তার চরে কৃষকের সবুজ সংগ্রাম

শীতের সকালের নরম রোদে তিস্তা নদীর বুকে জেগে ওঠা চরগুলো এখন সবুজে মোড়া। একসময় যেখানে ছিল শুধু বালু, ধুলা আর অনিশ্চয়তা। আজ সেখানে কৃষকের ঝড়া ঘামে জন্ম নিচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা অববাহিকার চরাঞ্চল এখন জীবনসংগ্রাম, ঘুরে দাঁড়ানো আর স্বপ্ন ফেরার গল্প শোনাচ্ছে।

বর্ষা মৌসুম শেষে তিস্তার পানি নামতে শুরু করলেই ধীরে ধীরে ভেসে ওঠে বিস্তীর্ণ চর। প্রথম দিকে এসব চর কেবল বালুময় প্রান্তর হিসেবেই চোখে পড়ে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে শুরু হয় মানুষের পদচারণা। স্থানীয় কৃষকেরা বাঁশের লাঠি হাতে জমির সীমানা মাপেন, বালুর ওপর টেনে নেন নতুন জীবনের রেখা। এরপর শুরু হয় চাষাবাদের প্রস্তুতি—কখনো দলবেঁধে জমি পরিষ্কার, কখনো বীজতলা তৈরি, আবার কোথাও সেচের নালা তৈরি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চরজুড়ে চোখে পড়ে ভুট্টার হলুদাভ শিষ, সবুজ মরিচগাছ, কুমড়ার লতানো ডগা আর নানা জাতের শাকসবজি। কোথাও বাদাম, কোথাও আউশ ধানের চারা। উর্বর বালুমাটি ও খোলা পরিবেশে এসব ফসল দ্রুত বেড়ে উঠছে। সকালে চরজুড়ে দেখা যায় কৃষকদের ব্যস্ততা—কেউ পানি দিচ্ছেন, কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউবা ফসল তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

হিমালয়ের কোলে জন্ম নেওয়া তিস্তা নদী শুধু একটি জলধারা নয়। এটি উত্তরবঙ্গের জীবনরেখা। ভারতের সিকিম রাজ্যের হিমবাহ অঞ্চল থেকে উৎপত্তি হয়ে তিস্তা নেমে আসে দার্জিলিং পাহাড় পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার কাছে। এরপর রংপুর, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ ছুঁয়ে গিয়ে ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়েছে নদীটি। কয়েক শতাব্দী ধরেই তিস্তা বারবার গতিপথ বদলেছে–কখনো উর্বর পলি রেখে গেছে মাঠে–ঘাটে, আবার কখনো কেড়ে নিয়েছে মানুষের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। স্বাধীনতার পর ডালিয়া ব্যারাজকে কেন্দ্র করে সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পানিবণ্টন ও নদীশাসনের সীমাবদ্ধতায় চরাঞ্চলের মানুষ আজও প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। তবুও প্রতি বছর বর্ষা শেষে তিস্তার বুকে জেগে ওঠা নতুন চর কৃষকদের সামনে খুলে দেয় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।

লক্ষ্মীটারি ইউনিয়নের শংকরদহ চরের কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, নদীভাঙনে একসময় সব হারিয়ে ফেলেছিলাম। ঘরবাড়ি, জমিজমা—সবই গেছে তিস্তার গর্ভে। এখন এই চরে চাষ করে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। ফসল বিক্রি করে সংসার চলছে, ছেলেমেয়ের পড়াশোনাও চালাতে পারছি। তার মতো অনেক কৃষকই নদীভাঙনের পর বারবার আশ্রয় বদলেছেন। তবুও থেমে থাকেননি। বালুচরই হয়ে উঠেছে তাদের নতুন ঠিকানা, নতুন স্বপ্নের মাঠ।

তবে এই সবুজের আড়ালে লুকিয়ে আছে বড় ঝুঁকি। চরাঞ্চল স্থায়ী নয়। উজান থেকে নেমে আসা হঠাৎ ঢল কিংবা অকাল বন্যায় এক রাতেই তলিয়ে যেতে পারে মাসের পর মাসের পরিশ্রম। তাই চাষাবাদের পাশাপাশি কৃষকদের মনে কাজ করে অনিশ্চয়তার শঙ্কা। অনেকেই বলেন, ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত স্বস্তি নেই। তবু জীবন থেমে থাকে না। ঝুঁকি নিয়েই তারা এগিয়ে চলেছেন।

চর অঞ্চলের কৃষিতে নারীদের অংশগ্রহণও চোখে পড়ার মতো। ফসল তোলা, শাকসবজি পরিচর্যা থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত নানা কাজে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন তারা। এতে একদিকে পরিবারের আয় বাড়ছে, অন্যদিকে নারীদের সামাজিক অবস্থানেও আসছে পরিবর্তন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নতুন চরে প্রায় ৫০ হেক্টর এবং পুরোনো চরে প্রায় ২ হাজার ৯১০ হেক্টর জমি এখন আবাদযোগ্য হয়ে উঠেছে। বালুমিশ্রিত দোআঁশ মাটিতে ভালো ফলন পাওয়ায় কৃষকেরা এখানে ধান, ভুট্টা, সরিষা, তরমুজ, আলু, চিনাবাদাম, মরিচ, মিষ্টিকুমড়া, লাউ, পেঁয়াজ, রসুন, শিম, গম, শসা ও তামাকসহ নানা ধরনের ফসল চাষ করছেন।

কৃষি বিভাগ বলছে, পরিকল্পিতভাবে আধুনিক চাষপদ্ধতি, উন্নত বীজ ও সেচসুবিধা নিশ্চিত করা গেলে চরাঞ্চলের উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব। এবছর ১২০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষ হয়েছে। যা এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে তিস্তার চরে তরমুজ, খেসারি, চীনাবাদাম ও তুলার মতো অর্থকরী ফসল সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও এখানে মূলা, ক্ষীরা ও লাউয়ের বীজ উৎপাদন করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রুবেল হুসেন জনকণ্ঠকে জানান, চরাঞ্চলের কৃষকদের নিয়মিত মাঠপর্যায়ের পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, কোন জমিতে কোন ফসল উপযোগী, কখন বপন করতে হবে এবং কীভাবে সেচ–সার ব্যবস্থাপনা করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়-এসব বিষয়ে কৃষকদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তার মতে, পরিকল্পিত চাষাবাদ ও সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে তিস্তার চরাঞ্চল ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উৎপাদন এলাকায় পরিণত হতে পারে।

তিস্তার জেগে ওঠা চর শুধু বালুর স্তূপ নয়। এটি মানুষের লড়াই, ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি আর আশার প্রতিচ্ছবি। সবুজে মোড়া এই চরগুলো যেন বারবার মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেও মানুষ স্বপ্ন বুনতে জানে।

এরদোয়ানের চেয়েও ইমরান খানকে বড় বিপদ মনে করতো পশ্চিমারা!

যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ওভারসাইট কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রকাশ করা ইমেইলে দেখা গেছে, দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান, রাশিয়ার পুতিন কিংবা চীনের শি জিনপিংয়ের চেয়েও বড় বিপদ হিসেবে দেখতেন। ফাঁস হওয়া এই নথিতে ইমরান খানকে একজন ‘পপুলিস্ট’ এবং ‘কট্টর ইসলামপন্থী’ হিসেবে অভিহিত করে তাঁকে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের কারণ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইমরান খানের তুলনায় ‘আইনস্টাইন’-এর মতো মেধাবী বলে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছিলেন এপস্টাইন।

নথির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকেই ইমরান খান ও তাঁর রাজনৈতিক দল পিটিআই-কে ক্ষমতা থেকে সরানোর বিষয়ে বিভিন্ন মহলে চিন্তাভাবনা চলছিল। এরদোয়ান বা পুতিনের চেয়েও ইমরান খানকে বড় হুমকি হিসেবে দেখানোর পেছনে কোনো সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক পরিকল্পনা ছিল কি না, তা নিয়ে এখন নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ২০২২ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ইমরান খান ক্রমাগত দাবি করে আসছেন যে তাঁর পতনের পেছনে বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে, যা এই নথির তথ্যের সঙ্গে এক ধরনের যোগসূত্র তৈরি করছে।

বর্তমানে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে থাকা ইমরান খানকে নিয়ে এপস্টাইন ফাইলে এমন মন্তব্য আসায় এটি স্পষ্ট যে, পশ্চিমা প্রভাবশালী মহলের একটি বড় অংশ তাঁকে শুরু থেকেই নেতিবাচকভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল। ২০১৯ সালে এপস্টাইনের মৃত্যু হলেও তাঁর ব্যক্তিগত নথিগুলো একের পর এক বিশ্বনেতাদের সম্পর্কে প্রভাবশালী মহলের নেপথ্য দৃষ্টিভঙ্গি ও গোপন অধ্যায়গুলো সামনে নিয়ে আসছে।

চিরনিদ্রায় কিংবদন্তি রনজিত

বয়স তাকে কাবু করে ফেলেছিল। কয়েক বছর ধরে কানে তেমন শুনতেন না। চলাফেরা ছিল সীমিত। বেশিরভাগ সময় সিলেট শহরে করের পাড়া বাসায় সময় কাটতেন। ৯৪ বছর বয়সে কাছের মানুষদের কাঁদিয়ে পরলোকে পাড়ি দিয়েছেন প্রখ্যাত ফুটবলার রনজিত দাস। সিলেটের একটি হাসপাতালে হৃদরোগে মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার মেয়ে, এক ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভাকাক্সক্ষী রেখে গেছেন। সিলেট থেকে রনজিত দাসের ছেলে রাজীব দাস সংবাদ মাধ্যমকে বাবার মৃত্যুর খবর জানিয়ে বলেছেন, ‘আমার বাবা ভোর ৪টার দিকে হার্ট অ্যাটাক করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই সকালে মারা যান।’
রাজীব আরও জানান, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ৩১ জানুয়ারি তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং পরে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। রবিবার তিনি কিছুটা সুস্থ বোধ করলেও রাতে আবার হার্ট অ্যাটাক করেন। রনজিত দাস ১৯৫৫ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ফুটবল দলের হয়ে সুনামের সঙ্গে খেলেছেন। এছাড়া গোলরক্ষক হিসেবে রনজিত দাস বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে ইস্পাহানি ক্লাব, আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব এবং মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। ফুটবলের পাশাপাশি হকিতেও ছিল সমান দাপট। তবে ফুটবলার পরিচিতিটা তাকে একটু বেশি সুনাম এনে দিয়েছে। পঞ্চাশের দশকে ফুটবল খেলার পর ঢাকায় হকি লিগে খেলেছেন ১৯৬৫-৭০ সাল পর্যন্ত।

ফুটবলে আইএফএ শিল্ডে ত্রিপুরা একাদশ ও ঢাকা মোহামেডানের জার্সি পরার অভিজ্ঞতা আছে। কলকাতা মোহামেডানের হয়ে দিল্লিতে খেলেছেন ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্ট ডুরান্ড কাপে। ১৯৫৮ সালে রনজিত দাসের অধিনায়কত্বে ঢাকা ফুটবল লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব। হকিতে অধিনায়ক ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান দলে। ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তনের পর খেলেছেন সোনালী ব্যাংকে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সিলেট দলের অধিনায়ক ছিলেন। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে তিনি পূর্ব পাকিস্তান যুব দল এবং আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।