Home Blog Page 184

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে জামানত হারিয়েছেন পাঁচ প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া -৪ (কসবা-আখাউড়া)সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন নির্ধারিত ভোটসংখ্যা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে জামানত হারিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট আসনে প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের কমপক্ষে এক-অষ্টমাংশ ভোট পেতে ব্যর্থ হলে তার জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত হয়। সেই বিধান অনুযায়ী এই আসনে মোট ৫ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়ীয়া-৪ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোঃ মুশফিকুর রহমান, তিনি মোট পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৮৪২ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়েত ইসলামীর প্রার্থী মোঃ আতাউর রহমান সরকার পেয়েছেন মোট ৯১ হাজার ৭৯৬ ভোট।

এ আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে মো: জহিরুল হক খান পেয়েছেন ২ হাজার ৫৩ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীকে মো: জসিম উদ্দিন পেয়েছেন ২ হাজার ২৭৭ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকে মোঃ জহিরুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ১০৭ ভোট, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ আপেল প্রতীকে রাফি উদ্দিন পেয়েছেন ৭৭৪ ভোট, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি আম প্রতীকে শাহিন খান পেয়েছেন ১০৯ ভোট। প্রয়োজনীয় ভোটসংখ্যা না পেয়ে নিজেদের জামানত হারিয়েছেন তারা।

ছুটির দিনেও আজ যেসব এলাকায় ব্যাংক খোলা

জ্বালানি তেল সরবরাহের সুবিধার্থে আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দেশের কয়েকটি ব্যাংকের শাখা বা উপশাখা সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে দেশব্যাপী ডিলারদের জ্বালানি তেল ক্রয়ের সুবিধা নিশ্চিত করতে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুলের আবেদন পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এনালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএমএডি) মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানায়।

আজ যেসব ব্যাংকের শাখা খোলা থাকবে:

পুবালী ব্যাংক পিএলসি: খুলনার খালিশপুর শাখা, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা শাখা, দিনাজপুরের পার্বতীপুর শাখা, রংপুরের শাপলা চত্বর শাখা, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ শাখা, চাঁদপুরের চাঁদপুর প্রধান শাখা, ঝালকাঠির ঝালকাঠি শাখা, বরিশালের বরিশাল শাখা, কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার শাখা, সিলেটের বড়ই কান্দি শাখা।

উত্তরা ব্যাংক পিএলসি: খুলনার খালিশপুর শাখা।

জনতা ব্যাংক পিএলসি: সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী ঘাট শাখা।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি: সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী ঘাট শাখা।

ওয়ান ব্যাংক পিএলসি: দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপশাখা।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছিল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত থাকায় টানা চার দিন ব্যাংক বন্ধ থাকার কথা ছিল।

নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে জামায়াত!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দীর্ঘদিনের জোট-নির্ভরতা কাটিয়ে নিজস্ব শক্তিতে বড় ধরনের চমক দেখিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নিজেদের সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করে দলটি এবার এককভাবে ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। শরিক দলগুলোর আসনসহ তাদের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭। যদিও তারা সরকার গঠনের সংখ্যাতত্ত্ব স্পর্শ করতে পারেনি, তবে বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী দলটি আগামী সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে।

নির্বাচনী পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৯১ সালে ১৮টি এবং ২০০১ সালে ১৭টি আসন পেলেও ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে দলটির আসন সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৩টি ও ২টি। সেই তুলনায় এবারের নির্বাচনে ৬৮টি আসনে একক জয় দলটির জন্য একটি ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে ১৭ বছর পর নিজস্ব নেতৃত্বে জোট গঠন করে বিএনপির বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এই সাফল্য পাওয়া রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

জামায়াতের এই বিজয়ের মূল ভিত্তি ছিল দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। বিভাগীয় বিশ্লেষণের চিত্রটি নিম্নরূপ:

খুলনা বিভাগ: এই বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে ২৫টিতেই জয় পেয়েছে জামায়াত। বিশেষ করে সাতক্ষীরা, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গার সবকটি আসনে তাদের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।

রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ: রংপুরের ৩৩টি আসনের মধ্যে ১৬টি এবং রাজশাহীর ৩৯টি আসনের মধ্যে ১১টিতে তারা জয়ী হয়েছে। কুড়িগ্রাম ও রংপুরের সবকটি আসনে জোটগতভাবে জয় নিশ্চিত করেছে দলটি।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ: ঢাকার ৭০টি আসনের মধ্যে ৮টি এবং চট্টগ্রামের ৫৮টি আসনের মধ্যে ৩টিতে জামায়াত এককভাবে জয়ী হয়েছে। তবে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে কেবল তাদের জোটের শরিক খেলাফত মজলিস একটি আসনে জয় পেয়েছে।

রাজধানীর রাজনীতিতে নতুন অবস্থান
অতীতে ঢাকা মহানগরে জামায়াতের কোনো প্রতিনিধিত্ব না থাকলেও এবার তারা চমকপ্রদ ফল করেছে। ঢাকা-৪, ৫, ১২, ১৪, ১৫ ও ১৬—এই ৬টি আসনে জামায়াত প্রার্থীরা সরাসরি জয়ী হয়েছেন। এছাড়া তাদের জোটের শরিক এনসিপির প্রার্থী ঢাকা-১১ আসনে জয়লাভ করেছেন। আরও পাঁচটি আসনে (ঢাকা-৭, ৮, ১০, ১৩ ও ১৭) তারা সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে, যা রাজধানীতে দলটির শক্তিশালী উপস্থিতির প্রমাণ দেয়।

সাফল্যের নেপথ্য কারণ ও সমীকরণ
নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের এই উত্থানের পেছনে কয়েকটি বিশেষ দিক কাজ করেছে:

১. তরুণ ও নারী ভোটার: ধারণা করা হচ্ছে, তরুণ ও নারী ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এবার জামায়াতের দিকে ঝুঁকেছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের সাফল্য এই পরিবর্তনের একটি পটভূমি হিসেবে কাজ করেছে। এছাড়া গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী তরুণদের নতুন দল এনসিপির সঙ্গে তাদের নির্বাচনী জোট এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।

২. আদর্শিক বিবর্তন: বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াত নিজেদের রক্ষণশীল ডানপন্থী অবস্থান থেকে সরিয়ে মধ্য-ডানপন্থী দল হিসেবে তুলে ধরতে সচেষ্ট হয়েছে। আগে যে ভোটগুলোকে বিএনপির একক আমানত মনে করা হতো, এবার জামায়াত সেই জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী ঘরানার ভোটে বড় ধরনের ভাগ বসাতে সক্ষম হয়েছে। নিজেদের ক্ষমতার চেয়ে পরিবর্তনের শক্তি হিসেবে প্রচার করাও তরুণদের আকৃষ্ট করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

৩. রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: বিএনপির পক্ষ থেকে এই ফলাফলকে ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে। দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের মতে, দীর্ঘ সময় দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশের অনুপস্থিতি এবং বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়নের ফলে এমন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাদের ধারণা, মানুষের কণ্ঠ রোধ করা হলে এ ধরনের শক্তির উত্থান ঘটে এবং এর জন্য গত পনের বছরের শাসনব্যবস্থাকেই দায়ী করছেন তারা।

একই গ্রাম থেকে তিনজন সংসদ সদস্য!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয়লাভ করেছেন রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামের তিন কৃতি সন্তান। তারা তিনজনই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই গহিরা গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। রাজনৈতিক ইতিহাসে একই গ্রাম থেকে একই দলের তিন প্রার্থীর এমন বিজয় বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিজয় অর্জনের তালিকায় রয়েছেন চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে তাঁর ভাতিজা হুম্মাম কাদের চৌধুরী। এছাড়া চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর ও খুলশী) আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রয়াত জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান। চাচা-ভাতিজা ও একই গ্রামের এই তিন প্রার্থীর যুগপৎ সাফল্য স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইয়ে দিয়েছে।

নির্বাচনী ফলাফলের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চট্টগ্রাম-৬ আসনে ১ লাখ ১২ হাজার ২৩৭ ভোট পেয়ে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী ইলিয়াছ নূরী পেয়েছেন ২৭ হাজার ১৪৬ ভোট। অন্যদিকে চট্টগ্রাম-৭ আসনে হুম্মাম কাদের চৌধুরী ১ লাখ ২৪২ ভোট পেয়ে নিজের বিজয় নিশ্চিত করেন। এই আসনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৪৮৫ ভোট।

চট্টগ্রাম-১০ আসনেও ধানের শীষের বিশাল জয় এসেছে। গহিরা গ্রামের সন্তান সাঈদ আল নোমান ১ লাখ ২১ হাজার ৩৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালী পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪০৭ ভোট।

এদিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গত শুক্রবার রাতে জাতীয় সংসদের ২৯৭টি আসনের নবনির্বাচিত সদস্যদের সরকারি গেজেট প্রকাশ করেছে। আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে এবং প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন আগেই স্থগিত করা হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার সারাদেশে একযোগে উৎসবমুখর পরিবেশে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়।

তারেক রহমানকে প্রধান উপদেষ্টার জরুরি বার্তা!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করায় বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি এই বিজয়কে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন যে, জনগণের এই স্পষ্ট রায় দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে। তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালনে তারেক রহমান তাঁর প্রজ্ঞা ও জনকল্যাণমুখী চেতনার মাধ্যমে দেশকে একটি স্থিতিশীল এবং উন্নয়নমুখী পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। এই প্রসঙ্গে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বের কথা স্মরণ করে আশা প্রকাশ করেন যে, তাঁদের আদর্শ আগামী দিনের পথচলায় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

প্রফেসর ইউনূস বর্তমান সময়কে বাংলাদেশের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার হিসেবে বর্ণনা করেন। অর্থনৈতিক রূপান্তর, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং জলবায়ু সহনশীলতার মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সুসমন্বিত মেধা ও প্রজ্ঞার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি উল্লেখ করেন। তিনি প্রত্যাশা করেন যে, নতুন নেতৃত্বের অধীনে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হবে এবং দেশে আইনের শাসন ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ভিত্তি পাবে।

বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব পালনকালে বিএনপির গঠনমূলক ভূমিকা ও সহযোগিতার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, পরিবর্তনের এই সংবেদনশীল সময়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে তারেক রহমানের ইতিবাচক অবস্থান জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। পরিশেষে, দেশের মানুষের কল্যাণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নবনির্বাচিত নেতৃত্বের সকল উদ্যোগের সফলতা কামনা করেন প্রধান উপদেষ্টা।

এ বিজয় দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের, এ বিজয় বাংলাদেশের: তারেক রহমান

বিএনপিকে নির্বাচনে বিজয়ী করার জন্য দেশের জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এ বিজয় গণতন্ত্রের, এ বিজয় বাংলাদেশের, এ বিজয় দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের। আজ থেকে আমরা স্বাধীন।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি দেশের সব জনগণকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে আমরা দেশের গণতন্ত্রের পথ সুগম করেছি।

তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান ও দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি— এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে পুনরায় জনগণের সরাসরি ভোটে জবাবদিহিমূলক সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর কোনো অপশক্তি যাতে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে না পারে, সেজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং থাকব।

জামায়াত আমিরকে প্রধান উপদেষ্টার জরুরি বার্তা!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মর্যাদাপূর্ণ ফলাফল অর্জন করায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার এক বার্তায় তিনি জামায়াত আমিরের নেতৃত্ব এবং নির্বাচনের ফলাফলকে শান্ত ও গঠনমূলকভাবে গ্রহণ করার প্রশংসা করেন।

প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনী প্রচার থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক শিষ্টাচার, সংযম এবং কর্মীদের প্রতি শান্তিপূর্ণ আচরণের আহ্বান দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনকালে দলটির পক্ষ থেকে যে গঠনমূলক সমর্থন ও সহযোগিতা পাওয়া গেছে, সেটির জন্যও তিনি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমান সময়কে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি মনে করেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, জলবায়ু রক্ষা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও অংশগ্রহণমূলক করতে জামায়াতে ইসলামী একটি নীতিনিষ্ঠ বিরোধী শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা আরও প্রত্যাশা করেন যে, জাতীয় সংসদে নীতিগত বিতর্ক, আইন প্রণয়ন এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে। জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে জামায়াত আমিরের অতীত ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। পরিশেষে তিনি ডা. শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করেন।

নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হওয়ার সময়সূচী জানা গেলো!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে। আজ শনিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, বঙ্গভবনে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এই শপথ বাক্য পাঠ করাবেন এবং এর মাধ্যমে প্রায় দুই যুগ পর দেশে বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে।

নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। মিত্রদের আসনসহ তাদের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১২। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটের প্রার্থীরা ৭৭টি আসনে জয়ী হয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং সংসদ নেতা নির্বাচনের মতো প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন হওয়ার পর সুবিধাজনক সময়ে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী ১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই এই আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। তবে সরকার চাইলে আগামীকাল বা পরশুর মধ্যেও শপথ আয়োজনের পূর্ণ প্রস্তুতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের রয়েছে।

বিএনপি আগেই ঘোষণা করেছে যে, নিরঙ্কুশ জয়ের পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হবেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। এই শপথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। উল্লেখ্য যে, বঙ্গভবনে আয়োজিত এই শপথ অনুষ্ঠানে দেশি-বেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ প্রায় এক হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

কে পড়াবেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ, জানালেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব

সংবিধান অনুযায়ী নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শপথ পড়াবেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশিদ।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

নতুন মন্ত্রিসভার শপথের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রস্তুতি আছে বলেও জানিয়েছেন শেখ আব্দুর রশিদ।

এ ছাড়া নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের জন্য কম-বেশি এক হাজার অতিথিকে দাওয়াত দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।