Home Blog Page 187

আওয়ামী লীগের ভোট থেকে শুরু করে অন্যান্য দলের ভোটও পাব: নুর

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, অন্যান্য দলের পাশাপাশি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ভোটও তিনি পাবেন বলে আশাবাদী।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজ নির্বাচনী এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

নুরুল হক নুর বলেন, “আওয়ামী লীগের ভোট থেকে শুরু করে অন্যান্য দলের ভোটও আমি পাব। নির্বাচন পরিবেশ সুষ্ঠু থাকলে আমার বিজয় নিশ্চিত।”

তিনি অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করে ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা ছড়িয়ে নির্বাচন স্থগিত করার চেষ্টা করছে।

বিএনপি-সমর্থিত এই প্রার্থী আরও অভিযোগ করেন, বিরোধী স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষ থেকে হামলার বিষয়টি প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

প্রশাসনের এমন ভূমিকায় হামলাকারীরা উৎসাহিত হতে পারে বলে মন্তব্য করে নুর বলেন, “সব অপশক্তিকে রুখে দিয়ে জনগণ দীর্ঘ অপেক্ষার এই নির্বাচনে সঠিক জনপ্রতিনিধিকে বিজয়ী করবে।”

তারেক রহমানের ‘ফ্রি অ্যানিম্যাল ক্লিনিক’ উদ্বোধন

প্রাণীদের অধিকার রক্ষা ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজধানীর বনানীতে বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ে একটি ‘ফ্রি অ্যানিম্যাল ক্লিনিক’ উদ্বোধন করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বনানীর কে-ব্লক, ২৪ নম্বর রোডের ১৮ নম্বর বাসভবনে অবস্থিত এই ক্লিনিকটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা অসহায় ও অসুস্থ প্রাণীদের বিনা মূল্যে উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে এই ক্লিনিকটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় প্রাণীদের কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল, যা এখন ক্লিনিক স্থাপনের মাধ্যমে আরও স্থায়ী রূপ পেল।

উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের পাশাপাশি বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমান এবং আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক প্রভাব ব্যস্ত নির্বাচনী সূচির মাঝে প্রাণীদের কল্যাণে নেওয়া এই উদ্যোগটি পশুপেমী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অবলা প্রাণীদের প্রতি মানবিকতা প্রদর্শন ও তাঁদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই ক্লিনিকের প্রধান লক্ষ্য।

নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন ৮ লাখ কর্মকর্তা: ইসি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৮ লাখ কর্মকর্তা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার ও ৫৯৮ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার দায়িত্বে থাকবেন। সারা দেশে মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ৭৭৯টি। এর মধ্যে সাধারণ ভোটকেন্দ্র ২১ হাজার ২৭৩টি এবং গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ২১ হাজার ৫০৬টি।

ভোটগ্রহণ পরিচালনায় প্রিজাইডিং অফিসার থাকবেন ৪২ হাজার ৭৭৯ জন। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন। পোলিং অফিসার থাকবেন ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন।

সব মিলিয়ে মোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।

আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

‘প্রধানমন্ত্রী পুত্র’ থেকে যেভাবে বিএনপির একক নেতায় পরিণত হলেন তারেক রহমান

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিকে এবার প্রথমবার নির্বাচনী লড়াইতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। মায়ের মৃত্যু ও দলের চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিক অভিষেকের পর তার নেতৃত্বেই দলের নির্বাচনী প্রচারণা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সমর্থকরা তাকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখলেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বিএনপি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এগুলোকে রাজনৈতিক অপপ্রচার হিসেবে দেখায়।

তারেক রহমান ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগে আটক হন। আঠারো মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি পরিবারের সঙ্গে লন্ডনে চলে যান। প্রায় সতের বছর পর, ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে তিনি দলের নেতৃত্ব হাতে নেন। এর কয়েকদিনের মধ্যেই, ৯ জানুয়ারি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যানের পদে অভিষিক্ত হন। এর আগে তিনি লন্ডন থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৮ সালে তৎকালীন বগুড়া জেলা বিএনপির ইউনিটে যোগ দিয়ে। আনুষ্ঠানিকভাবে দলের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন ১৯৯১ সালে। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনের সময় দলের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা পালন করেন, যার মধ্যে হাওয়া ভবন কেন্দ্রীক নির্বাচনী প্রচারণা উল্লেখযোগ্য। ওই সময়ে তিনি সমান্তরাল নেতৃত্ব হিসেবে দৃষ্টিগোচর হন, যার কারণে পরে দুর্নীতির অভিযোগও ওঠে। তবে বিএনপি সব সময় এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক অপপ্রচার হিসেবে খারিজ করে।

২০০২ সালে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং পরে ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত হন। দলীয় কাজের জন্য তিনি তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রক্ষা করেন এবং দলের সংহতি ধরে রাখতে সক্ষম হন। বিদেশে থাকা সত্ত্বেও দলকে ধরে রাখার সক্ষমতা তাকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করেছে। দেশে ফেরার পর তার নেতৃত্ব আরও দৃঢ় হয় এবং দলের নীতিনির্ধারণী কাজেও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দেশে প্রত্যাবর্তন। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা এবং মৃত্যু, তার বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে তার দেশে ফেরা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়ায়। দেশে ফিরে তিনি দলের একক নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে দলের পরিচালনা ও নির্বাচনী সফলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন এবং একক নেতৃত্ব নেওয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিদেশে থেকে দলের সংহতি রক্ষা, দেশ ফেরার পর নেতৃস্থানীয় ভূমিকা গ্রহণ এবং এই নির্বাচনে নিজের অবস্থান প্রমাণ করা—এসব মিলিয়ে তার নেতৃত্ব রাজনৈতিক পরীক্ষার মুখোমুখি। বিএনপির প্রাক্তন মিত্র জামায়াতে ইসলামীকে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে সামনে রেখে এবার তার সিদ্ধান্ত, দলের ঐক্য রক্ষা এবং নির্বাচনী কৌশলই প্রতিফলন ঘটাবে তার রাজনৈতিক শক্তি ও প্রভাবের।

এবার বিদেশ থেকে ভার্জিন নারী আমদানির প্রস্তাব

ভিয়েতনাম বা শ্রীলঙ্কা থেকে তরুণী আমদানির প্রস্তাব দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার জিন্ডো কাউন্টির প্রধান কিম হি-সু। এমন পরামর্শ দিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। দেশটির এই কর্মকর্তা জন্মহার বাড়াতে বিদেশ থেকে তরুণী আমদানির প্রস্তাব দেন বলে জানান। খবর বিবিসির।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে কিম হি-সু এক বৈঠকে প্রস্তাব দেন যে জন্মহার বাড়াতে কোরিয়ার গ্রামীণ অঞ্চলের অবিবাহিত যুবকদের জন্য ‘ভিয়েতনাম বা শ্রীলঙ্কা’ থেকে তরুণী আমদানি করা যেতে পারে। তার এই বক্তব্য টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হওয়ার পরেই সমালোচনার ঝড় ওঠে।

সমালোচকেরা কড়া নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ধরনের মন্তব্য নারীদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে। পাশাপাশি এটি নারীদের ‘পণ্য’ হিসেবে উপস্থাপনের শামিল।

এমন মন্তব্যের দায়ে ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে কিম হি-সুকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে বিশ্বের সর্বনিম্ন জন্মহারের দেশ। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী ৬০ বছরের মধ্যে দেশটির ৫ কোটি জনসংখ্যার অর্ধেক কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

কিম হি-সুর এমন প্রস্তাবের কড়া নিন্দা জানিয়েছে ভিয়েতনাম। সিউলে অবস্থিত ভিয়েতনাম দূতাবাস ইতোমধ্যে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। তবে শ্রীলঙ্কান কর্তৃপক্ষ এনিয়ে প্রকাশ্যে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এদিকে এরই মধ্যে এমন মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন কিম। তিনি নিজের ভাষাকে ‘অনুপযুক্ত’ বলে স্বীকার করেছেন।

গণঅধিকার পরিষদের শতাধিক নেতাকর্মীর এনসিপিতে যোগদান

নেত্রকোনা গণঅধিকার পরিষদ, যুব অধিকার পরিষদ, শ্রমিক অধিকার পরিষদ ও ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ শতাধিক নেতাকর্মী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে যোগ দিয়েছেন।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগদান করেন। এ সময় তাঁদের ফুল দিয়ে বরণ করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) প্রীতম সোহাগ।

যোগদানকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন— গণঅধিকার পরিষদ নেত্রকোনা জেলা কমিটির আহ্বায়ক মো. ফেরদৌস আহমেদ, সদস্য সচিব মুফতি তারিক জামিল ফয়েজী, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাদেক হুসেন, যুগ্ম সদস্য সচিব মো. পারভেজ হাসান, পূর্বধলা উপজেলা আহ্বায়ক মো. জাহিদ হাসান কাঞ্চন এবং বারহাট্টা উপজেলা আহ্বায়ক মো. ওয়াসিম মীর শাওন।

এ ছাড়া শ্রমিক অধিকার পরিষদের জেলা কমিটির আহ্বায়ক মো. শফিউল্লাহ ও সদস্য সচিব মো. শহিদুল্লাহ, সদর উপজেলা আহ্বায়ক মো. জালাল উদ্দীন, যুব অধিকার পরিষদের জেলা সভাপতি মো. রাজু রায়হান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাফায়াত হুসেন ও প্রচার সম্পাদক মো. ওমর ফারুক রিপন।

ছাত্র অধিকার পরিষদের নেত্রকোনা সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি মো. কাওসার আহমেদ, সহসভাপতি মো. আক্কাস উদ্দিন আকাশ ও ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ মো. জুয়েল রানাসহ অনেকে এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

যোগদান অনুষ্ঠানে এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক প্রীতম সোহাগ বলেন, দেশে নৈতিক ও জনকল্যাণমূলক রাজনৈতিক নেতৃত্বের সংকট রয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি জনগণের অধিকার, ভোটাধিকার, ইনসাফ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে রাজনীতি করছে। এনসিপির প্রতি মানুষের আস্থা দিন দিন বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, এনসিপির রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়; মানুষের অধিকার রক্ষাই এর মূল মন্ত্র। নাগরিক অধিকার ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এনসিপি রাজপথে সক্রিয় থাকবে।

নবাগত নেতাকর্মীরা জানান, গণমানুষের অধিকার, সুশাসন ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা থেকেই তারা জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দিয়েছেন।

গণভোটে যে ভোট দিতে আহ্বান জানালেন আজহারী

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে দুটি ভোট হওয়ার কারণে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। নির্বাচনে অংশ নিতে অনেক ভোটার নিজ নিজ এলাকায় ফিরছেন, যার ফলে কিছু স্থানে যানজটও দেখা দিয়েছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক ড. মিজানুর রহমান আজহারী।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে তিনি সবাইকে গণভোটে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি লিখেছেন, “একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের জন্য গণভোটে হ্যাঁ দিন। Say ‘YES’ for Future Bangladesh।”

ডায়াবেটিস রোগীরা কি সব ফল খেতে পারবেন

ফলের দোকানে আম, কলা, আঙুর বা তরমুজ দেখে মুখ চটকানো স্বাভাবিক। তবে ডায়াবেটিস থাকলে অনেকেই চিন্তায় পড়েন।

“ফল খেলে কি ব্লাড সুগার হঠাৎ বেড়ে যাবে?” এই ভয়ের কারণে অনেক রোগী ফল একেবারে বাদ দেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ফল স্বাস্থ্যকর হতে পারে, যদি ফলের ধরন, পরিমাণ এবং খাওয়ার সময় সঠিকভাবে মেনে চলা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ফলের শর্করার পরিমাণ সমান নয়। কিছু ফলের প্রাকৃতিক চিনি বেশি, আবার কিছু ফলের ফাইবার বেশি থাকায় রক্তে শর্করা ধীরে বৃদ্ধি পায়। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন অনুযায়ী, ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) এবং ফাইবারের পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ।

নিরাপদ ফলের মধ্যে রয়েছে: আপেল, পেয়ারা, নাশপাতি, কমলা, মাল্টা, পেঁপে, বেরিজ জাতীয় ফল যেমন স্ট্রবেরি এবং বেদানা। এই ফলগুলো রক্তে শর্করা ধীরে বৃদ্ধি করে।

তবে কিছু ফলের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। আম, কলা, কাঁঠাল, আঙুর ও লিচুতে প্রাকৃতিক চিনি বেশি থাকে। এগুলো একেবারে নিষিদ্ধ নয়, তবে অল্প পরিমাণে এবং নিয়মিত নয় খাওয়া উচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অতিরিক্ত চিনি যেকোনো উৎস থেকে রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে।

ফলের রসের দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। এতে ফাইবার কম থাকে, চিনি বেশি থাকে এবং রক্তে শর্করা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তাই গোটা ফল খাওয়া সবসময় বেশি নিরাপদ।

খাওয়ার সময়ও গুরুত্বপূর্ণ। খালি পেটে না খেয়ে দিনের মাঝামাঝি সময় বা হালকা নাস্তা হিসেবে ফল খেলে রক্তে শর্করার ওঠানামা কম থাকে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, এক বেলায় এক ধরনের ফলই যথেষ্ট।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ফল শত্রু নয়, তবে সঠিক ফল, সঠিক পরিমাণ এবং সঠিক সময় মেনে খাওয়া জরুরি।

ভোট দিতে যাবার আগে যেসব তথ্য জানা জরুরি

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে।

ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগে ও পরে কিছু বিষয় জানা দরকার। ভোট দিতে কী কী তথ্যের প্রয়োজন, ভোট দেওয়ার নিয়ম, ব্যালটপেপার ভাঁজ করতে হয় কি করে এবং নির্দিষ্ট ব্যালট বাক্সে ফেলার বিষয়ে জেনে নিলে ভোট প্রদানে কোনো জটিল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে না।

অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হবে। ভোট দিতে যাওয়ার আগেই জেনে নিতে হবে সঠিক ভোটকেন্দ্র কোনটি ও ভোটার তালিকার ক্রমিক নম্বর।

এ দুটি বিষয় জানা থাকলে সময় যেমন বাঁচবে তেমনি ঝামেলাতেও পড়তে হবে না।

নির্বাচন কমিশনের ‘Smart Election Management BD’ অ্যাপ ব্যবহার করে এসব তথ্য সহজেই জেনে নেওয়া যাবে। অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে ইন্সটল করা যাবে। এছাড়া ১০৫ নম্বরে কল করে ভোটকেন্দ্র, ভোটার নম্বর এবং ক্রমিক নম্বর জেনে নেওয়া যাবে।

এ জন্য ১০৫ নম্বরে কল করার পর অপারেটরের সঙ্গে কথা বলতে ৯ চাপতে হবে। এ পদ্ধতিতে তথ্য জানতে ভোটারের এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ প্রয়োজন হবে। এসব তথ্য দিয়ে সহজেই জেনে নেওয়া যাবে ভোটকেন্দ্রসহ বাকি তথ্য।

অ্যাপ ও হটলাইন ছাড়াও এসএমএসের মাধ্যমে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানা যাবে। সেজন্য মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে ‘পিসি এনআইডি’ (PC NID) লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠাতে হবে।

ফিরতি এসএমএসে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে।

এসব ছাড়াও নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট, উপজেলা বা জেলা নির্বাচন অফিস থেকেও এ তথ্য পাওয়া যাবে। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটার তালিকা থেকেও এই তথ্য সংগ্রহ করা যাবে।

ভোট দিতে যাওয়ার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সঙ্গে রাখা উচিৎ। তবে এটির ওপর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এনআইডিকার্ড থাকলে নাম ও ছবি ভোটার তালিকায় থাকলে এবং পোলিং অফিসার আপনার পরিচয় নিশ্চিত করতে পারলে সহজেই ভোট দিতে পারবেন।

ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় অবশ্যই মনে রাখতে হবে, কোনো রকম দাহ্য পদার্থ বা অস্ত্র নিয়ে ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ।

ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া

ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের পর পোলিং অফিসার প্রথমে ভোটারের নাম ও ক্রমিক নম্বর মিলিয়ে দেখবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে ভোটারের বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে বা অন্য কোনো আঙুলে অমোচনীয় কালির দাগ দেবেন। এরপর প্রিসাইডিং অফিসার বা পোলিং অফিসার ভোটারকে দুটি ব্যালট পেপার দেবেন (সংসদ নির্বাচন ও গণভোট)। ব্যালট পেপারের পেছনে অবশ্যই অফিশিয়াল সিল এবং প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর আছে কি না দেখে নিতে হবে।

ব্যালট পেপার নেওয়ার প্রক্রিয়া শেষে ভোট প্রদানের জন্য নির্ধারিত গোপন কক্ষে যেতে হবে। ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা এবং ভোটটি যেন বাতিল না হয়, সে জন্য ব্যালট ভাঁজ করা প্রত্যেক ভোটারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকের ওপর রাবার স্ট্যাম্প দিয়ে স্পষ্ট করে সিল দিতে হবে। গণভোটে হ্যাঁ/না ভোট আলাদা ব্যালটে সিল দিতে হবে। সিল দেওয়ার পর ব্যালট পেপার এমনভাবে ভাঁজ করতে হবে যেন সিলের কালি অন্য কোনো প্রতীকের ওপর না লাগে। সাধারণত লম্বালম্বিভাবে ভাঁজ করা নিরাপদ। ভাঁজ করা ব্যালট পেপারটি উন্মুক্তস্থানে রাখা সংশ্লিষ্ট স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ফেলে ভোট দিতে হবে। ভোট প্রদান প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত কেন্দ্র ত্যাগ করতে হবে।

এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে না। এবারের ভোট হবে সম্পূর্ণ সনাতন পদ্ধতিতে, অর্থাৎ কাগজের ব্যালট ও ব্যালট বাক্সে। ‘Smart Election Management BD’ অ্যাপসহ ডিজিটাল প্ল্যাটফরমগুলো কেবল তথ্য আদান-প্রদান ও প্রশাসনিক সহায়তার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে, ভোট প্রদানের জন্য নয়।

সুদ নেই, ফি-ও নেই: শরিয়াহ ধাঁচে নতুন স্থায়ী আমানত স্কিম চালু করল কৃষি ব্যাংক

সঞ্চয়ের ওপর যারা সুদ নিতে আগ্রহী নন, সেইসব নাগরিকদের কথা মাথায় রেখে শরিয়াহ ধাঁচের সুদমুক্ত স্থায়ী আমানত স্কিম চালু করেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি)।

১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই স্কিম চালু করার জন্য গত ২৯ জানুয়ারি এক সার্কুলারে ব্যাংকটি তাদের সব শাখা ব্যবস্থাপকদের নির্দেশ দিয়েছে। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সের যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক এ হিসাব খুলতে পারবেন।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. খালেদুজ্জামান টিবিএসকে বলেন, দেশের ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের চাহিদা বিবেচনা করে সুদমুক্ত আমানত হিসাব চালু করার অনুমোদন দিয়েছে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।

এই স্কিমের আওতায় আমানতকারীরা কোনো সুদ পাবেন না। সেই বিবেচনায় আবগারি শুল্কসহ সরকারি ও ব্যাংকের যত ধরনের চার্জ আছে, সেগুলো আমানতকারীদের থেকে নেওয়া হবে না। চার্জগুলো আমানতকারীদের পক্ষে ব্যাংক পরিশোধ করবে।

পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে আমানত রাখলে আমানতকারীকে ডেবিট কার্ডও দেওয়া হবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অগণিত ধর্মপ্রাণ নাগরিক আছেন, যারা কষ্টার্জিত অর্থ ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা সৃষ্টির প্রয়োজনে সঞ্চয় আকারে জমা রাখতে আগ্রহী হলেও ব্যাংকের দেওয়া সুদ নিতে আগ্রহী নন।

এসব আমানতকারীর থেকে সুদমুক্ত আমানত সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করে ব্যাংকটি।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের ধর্মপ্রাণ গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনা করে এবং সুদহিবীন ও কম সুদের আমানত সংগ্রহের লক্ষ্য অর্জন ও আমানত ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার জন্য ‘কৃষি ব্যাংক সুদমুক্ত স্থায়ী আমানত হিসাব’ চালু করা হয়েছে। গত বছরের ১৫ অক্টোবর ব্যাংকের ৮৮৭তম বোর্ড সভায় এই হিসাব খোলার অনুমোদন দেওয়া হয়।

হিসাব খোলার শর্ত

তবে এই হিসাব খোলার কিছু শর্ত রয়েছে। এই স্কিমে সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা জমা রাখতে হবে। সর্বোচ্চ যেকোনো পরিমাণ অর্থ এই হিসাবে রাখা যাবে। আমানতের মেয়াদ হবে ১ মাস থেকে ৩ বছর বা তার বেশি।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক জানিয়েছে, এই হিসাবে নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর ডিসেম্বরে সরকারি আবগারি শুল্ক কাটা হবে। তবে আবগারি শুল্ক কাটার পরবর্তী দুই দিনের মধ্যে শাখা কর্তৃক স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা পুনর্ভরন করা হবে।

আর এই হিসাব সুদমুক্ত বিধায় উৎসে কর কাটা হবে না।

এই হিসাবের কোনো রক্ষণাবেক্ষণ চার্জ নেবে না ব্যাংক। এমনকি হিসাব বন্ধ করা, স্টেটমেন্ট চার্জ ও এসএমএস চার্জও নেবে না ব্যাংক।

ব্যক্তির পাশাপাশি মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, চার্চ, কবরস্থান, মাদ্রাসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ক্লাব, সমিতি বা এ ধরনের যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন এ হিসাব খুলতে পারবে।

তবে এই হিসাবের বিপরীতে ব্যাংক কোনো চেক ইস্যু করবে না। অর্থাৎ হিসাবটি হবে চেকবিহীন। হিসাব খোলার সময় গ্রাহককে আমানত রশিদ দেওয়া হবে।

এই হিসাব এক শাখা থেকে অন্য শাখায় নেওয়া যাবে না। হিসাবের বিপরীতে কোনো ঋণও দেওয়া হবে না।

অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় যেমন হবে এ হিসাব

সাধারণত দেশের ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোতে এ ধরনের হিসাব পরিচালনা করা হয়ে থাকে। আল-ওয়াদিয়াহ নামে এই হিসাব পরিচালনা করে ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো। প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর ইসলামী উইন্ডো এ ধরনের হিসাব পরিচালনা করে।

তবে অন্য কোনো রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক বা বিশেষায়িত ব্যাংকে এখন এ ধরনের সুদমুক্ত স্থায়ী আমানত হিসাব নেই। সোনালী, জনতা, রুপালী ও অগ্রণী ব্যাংকে লিখিতভাবে সুদ নেবেন না বলে ঘোষণা দিয়ে সঞ্চয়ী হিসাব খুলে অর্থ জমা রাখতে পারেন গ্রাহক।

এই ব্যাংকগুলোর চলতি হিসাবে সুদ দেওয়া হয় না। এমনকি বেশিরভাগ বেসরকারি ব্যাংকও চলতি হিসাবের বিপরীতে সুদ দেয় না। কিন্তু ব্যাংক ভেদে আলাদা আলাদা সার্ভিস চার্জ ও মেইনটেনেন্স ফি দেওয়া লাগে গ্রাহকদের।

বর্তমানে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) সুদমুক্ত সঞ্চয়ী হিসাব রয়েছে।

এছাড়া বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে দ্য সিটি ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ইষ্টার্ন ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক তাদের ইসলামী উইন্ডো বা উইংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের সুদমুক্ত সেবা দিয়ে থাকে।