Home Blog Page 189

ভারতের জন্য এক নিয়ম, বাংলাদেশের জন্য আরেক: মার্ক বুচার

বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে ‘চরম বিশৃঙ্খলা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক কিংবদন্তি ক্রিকেটার ও বিশ্লেষক মার্ক বুচার। আইসিসির সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, এই পুরো প্রক্রিয়াটি ক্রিকেটের শাসনব্যবস্থার বড় ব্যর্থতার এক উদাহরণ।

‘উইজডেন ক্রিকেট উইকলি’ পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে বুচার বলেন, টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি একটি ‘সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি’। তিনি ভারতের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে পাকিস্তানে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে বাংলাদেশের এই ঘটনার তুলনা টানেন।

বুচার বলেন, “এই ঘটনার আগে এমন অনেক উদাহরণ আছে যেগুলোর সঙ্গে এর মিল পাওয়া যায়; বিশেষ করে ভারতের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ইস্যু। সবাই জানত ভারত পাকিস্তানে যাবে না এবং শেষ পর্যন্ত তাদের ম্যাচগুলো দুবাইয়ে আয়োজন করা হলো। ক্রিকেট ইতিহাসে বহুবার টুর্নামেন্টের সূচি ও কাঠামো বদলানো হয়েছে কোনো একটি নির্দিষ্ট দলকে মানিয়ে নিতে; তবে সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে হচ্ছে, সেটা নজিরবিহীন।”

বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে আইসিসির দ্বিমুখী অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই সাবেক ব্যাটার। তাঁর মতে, ভারতের ক্ষেত্রে যে সমাধান বের করা হয়েছিল, সেটিই ভবিষ্যতের জন্য অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হতে পারত।

তিনি আরও বলেন, “যখন কোনো দল—হোক সেটা সরকারের সিদ্ধান্তে বা নিজেদের কারণে—নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে কোনো দেশে যেতে চায় না, তখন দুটি পথ থাকা উচিত। হয় তারা খেলবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, নয়তো সরে দাঁড়াবে এবং পরের দল সুযোগ পাবে। সেটিই হওয়া উচিত ছিল সবচেয়ে ন্যায্য ও স্বচ্ছ পথ।”

উল্লেখ্য, নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়ে ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দীর্ঘ আলোচনার পর গত ২৪ জানুয়ারি আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এল যখন মাত্র এক বছর আগেই ভারত ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। তবে সে সময় আইসিসি, বিসিসিআই ও পিসিবির সমঝোতায় ভারতের ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে (হাইব্রিড মডেল) আয়োজন করা হয়েছিল।

সরকারের আশ্বাস পেয়ে টেক্সটাইল মিল বন্ধের কর্মসূচি স্থগিত

স্পিনিং খাতে চলমান সংকট দ্রুত সমাধানে সরকারের দৃঢ় আশ্বাসের পর টেক্সটাইল মিল বন্ধের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি। বিটিএমএ জানায়, গত ২৭ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সভাপতিত্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে স্পিনিং খাতের সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় উপদেষ্টা খাতটির সমস্যার যৌক্তিকতা স্বীকার করে দ্রুত কার্যকর ও বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে স্পিনিং শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং সরকার এ খাতকে সচল রাখতে বদ্ধপরিকর।

একদিনের ব্যবধানেই সোনার দামে বড় পতন! নতুন দাম কত

রেকর্ড গড়ার মাত্র একদিন পরেই দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতি ভরিতে সোনার দাম সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৬৩৮ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। আজ ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার থেকেই নতুন এই দাম কার্যকর হবে।

বাজুসের প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির এক জরুরি সভায় এই দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সোনার দাম বেড়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ দর। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এখন ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৬৩ টাকা।

সোনার নতুন মূল্যতালিকা:

২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৬৩ টাকা।

২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৮ হাজার ৯৯৯ টাকা।

১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ২২ হাজার ২৪ টাকা।

সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৩ টাকা।

সোনার পাশাপাশি দেশের বাজারে রুপার দামও কমানো হয়েছে। নতুন দরে ২২ ক্যারেট রুপার ভরি ৭ হাজার ৭৫৭ টাকা এবং ২১ ক্যারেট রুপা ৭ হাজার ৪০৭ টাকায় বিক্রি হবে। বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত জুয়েলারি দোকানগুলোতে এই দাম বলবৎ থাকবে। তবে গ্রাহকদের মনে রাখতে হবে যে, উল্লিখিত মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি যুক্ত হবে।

জাতি-ধর্ম-বর্ণ বিভক্তি নয়, বাংলাদেশি হিসেবে বসবাস করতে চাই

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “বিএনপির শাসন আমলে এ দেশের সব ধর্মের মানুষ নিরাপদ ছিল। আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ দেশের সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। যারা এ ভূখণ্ডে বসবাস করেন, তাদের সবাইকে তিনি ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। আমরাও কোনো ধরনের জাতি, ধর্ম কিংবা বর্ণ বিভক্তি চাই না; আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশি হিসেবে বসবাস করতে চাই।”

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে তাঁর নির্বাচনী এলাকা পেকুয়া সদরের বিশ্বাসপাড়ায় হিন্দু-বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “একাত্তরে যারা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নির্যাতন করেছিল, তারাই আবার নবরূপে ফিরে এসে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে। তাদের হাতে এ দেশের সব নাগরিক নিরাপদ কি না—সেটি দেশবাসীর কাছে আমার প্রশ্ন।”

তিনি আরও বলেন, “মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে একটি ধর্মভিত্তিক দলের হাতে এ দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনদের সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হতে হয়েছিল, ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছিল; যা তাঁদের পূর্বপুরুষেরা জানেন। যারাই স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি কিংবা স্বাধীনতা চায়নি, তারাই সনাতনী ভাই-বোনদের ওপর এমন নির্যাতন করেছিল।”

বিশ্বাসপাড়া পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক চন্দময় বিশ্বাস তিলকের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন—পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাহাদুর শাহ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরান জাদীদ মুকুট, বিশ্বাসপাড়া কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দিরের সভাপতি শিমুল বিশ্বাস, উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক রমেশ বিশ্বাস, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুমন বিশ্বাস, উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অংতোয়াইচিং রাখাইনসহ স্থানীয় ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

বিএনপির যে ২ নেতা সব পদ থেকে বহিষ্কার

দলীয় নীতি ও সংগঠন পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত থাকার কারণে নোয়াখালী জেলাধীন সেনবাগ পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ভিপি মফিজুল ইসলাম এবং যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম লিটনকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ও নীতি অমান্য করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁ থানার ২০ নেতাকে বহিষ্কার করে বিএনপি।

ওই দিন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল হোসেনসহ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ৬ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদমর্যাদার আরও ৮ নেতা এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

গণভোটের পর সরকারের মেয়াদ বাড়ছে—এমন দাবি ভিত্তিহীন: সরকার

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়লে অন্তর্বর্তী সরকার আরও ছয় মাস ক্ষমতায় থাকবে- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবিকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ফ্যাক্টসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, গণভোটের ফল ‘হ্যাঁ’ হলে ইউনূস সরকার ছয় মাস পর ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। খরব বসসের

বিবৃতিতে বলা হয়, এই দাবির সঙ্গে একটি টেলিভিশনের ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। টেলিভিশন চ্যানেলটির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ওই ফটোকার্ডে শিরোনাম ছিল— ‘নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যরা ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবেন: আলী রীয়াজ।’

এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বক্তব্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ও বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ‘গণপরিষদ বা সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধা সৃষ্টি হবে-এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।’

আলী রীয়াজ আরও বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম দিন থেকেই সংসদ স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে- সরকার গঠন, রাষ্ট্র পরিচালনা ও বাজেট প্রণয়ন করবে। তবে সংবিধানকে ফ্যাসিবাদের পথ থেকে সরাতে মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। সে জন্য নির্বাচিত সদস্যরা আলাদা শপথ নিয়ে ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।

বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, অধ্যাপক আলী রীয়াজ কোথাও বলেননি যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবে। বরং তিনি বলেছেন, এই দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই।

এ ছাড়া ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এ পরিষ্কারভাবে বলা আছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পেলে সংসদের একটি দ্বৈত ভূমিকা থাকবে। অর্থাৎ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ওই আদেশের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী-গণভোটে উত্থাপিত প্রশ্নের বিপক্ষে নয়, বরং পক্ষে (‘হ্যাঁ’) ভোট বেশি পড়লে, পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই পরিষদ প্রথম বৈঠকের দিন থেকে ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ফল অনুযায়ী সংস্কার কাজ শেষ করবে। এরপর পরিষদের কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হবে।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্যরা একদিকে সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন, অন্যদিকে সাংবিধানিক সংস্কারের ক্ষমতাও প্রয়োগ করবেন। তবে কোথাও বলা নেই যে অন্তর্বর্তী সরকার ১৮০ দিন ক্ষমতায় থাকবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়া শেষ হলে সংসদের দ্বৈত ভূমিকার অবসান ঘটবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন।

সবশেষে সরকার জানায়, প্রচলিত আদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো ইঙ্গিত নেই। বরং এতে স্পষ্টভাবে সংসদের দ্বৈত ভূমিকার কথাই উল্লেখ রয়েছে।

৪৭ শতাংশ মানুষ মনে করেন তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মনে করছেন ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ। অপরদিকে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পিইপিএস) রাউন্ড-৩’ শীর্ষক একটি জরিপের ফলাফলে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জরিপের প্রধান ফলাফল উপস্থাপন করেন বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভিশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং জরিপের প্রধান মো. রুবাইয়াত সারওয়ার।

তিনি জানান, রাউন্ড-৩ জরিপে মূলত ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের ভোট প্রদানের ইচ্ছা এবং নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে জনমত তুলে ধরা হয়েছে। এই রাউন্ডটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে আগের রাউন্ডে অংশ নেওয়া উত্তরদাতাদের মতামতের পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করা যায়। নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন পরিস্থিতি ও ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে জনমত পরিবর্তিত হতে পারে।

জরিপে অংশ নেওয়া ৯৩ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানান, তারা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট দেবেন।

আগের রাউন্ডে যারা ভোট দেবেন বলেছিলেন, তাদের মধ্যে ৯৬ দশমিক ১ শতাংশ আবারও ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। যারা আগে ভোট দেবেন না বলেছিলেন, তাদের ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবার ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আর যারা আগে মতামত প্রকাশ করেননি, তাদের ৮৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবার ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। জেন জি প্রজন্মের মধ্যে ভোটদানের আগ্রহ তুলনামূলক কম হলেও সামগ্রিকভাবে হার এখনো বেশি।

বিশ্বকাপ নিয়ে পাকিস্তানের গোপন পরিকল্পনা ফাঁস!

বাংলাদেশ ইস্যুকে কেন্দ্র করে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জনের গুঞ্জন থাকলেও ভেতরে ভেতরে লঙ্কান সফরের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চললেও লাহোর থেকে কলম্বোর উদ্দেশে পাকিস্তান দলের জন্য এয়ার লঙ্কার ফ্লাইট বুকিং দিয়ে রাখা হয়েছে।

টেলিকম এশিয়া স্পোর্টসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলমান সিরিজ শেষেই বাবর আজমদের শ্রীলঙ্কা যাওয়ার কথা রয়েছে। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। শুক্রবার বা সোমবারের মধ্যেই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্রমতে, মহসিন নাকভি এই স্পর্শকাতর বিষয়ে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ও সামরিক বাহিনীর পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি পিসিবির সাবেক দুই চেয়ারম্যান নাজাম শেঠী ও রমিজ রাজার সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। সাবেক এই দুই কর্তা শ্রীলঙ্কায় দল পাঠানো এবং বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জন না করার পক্ষে জোরালো মত দিয়েছেন।

বর্তমানে লাহোরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলছে পাকিস্তান। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে তারা। ক্রিকেটপ্রেমীদের মূল আকর্ষণ ১৫ ফেব্রুয়ারির ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা থাকলেও ফ্লাইট বুকিংয়ের খবরটি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সাইবার মামলায় ববি’র শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের সহকারী পরিচালক কারাগারে

সাইবার মামলায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের সহকারী পরিচালক সেলিনা বেগমের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন খারিজ করা হয়। সেলিনা বেগমের বিরুদ্ধে গত ৫ ডিসেম্বর সাইবার ট্রাইব্যুনাল কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয় (যার জিআর নং ৭৮৯/২৫ এবং মামলা নং ১৪)।

ওই মামলার শুনানি শেষে অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট এসএম শরিয়তউল্লাহ তাকে (সেলিনা বেগম) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সেলিনা বেগমের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে, সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে অস্বাভাবিক সম্পর্ক, বø্যাকমেইল ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি লালমনিরহাট জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক এক কালচারাল কর্মকর্তাকে অফিসকক্ষে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভকেট আবুল কালাম আজাদ ইমন বলেন, আদালত ও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি করায় আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তার (সেলিনা বেগম) জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ববি’র উপাচার্যসহ একাধিক প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তাই আদালতের বাহিরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত কিংবা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

বেসরকারি চিকিৎসায় খরচ নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ

দেশে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবায় চিকিৎসা ব্যয় দিন দিন বাড়ছে, যা রোগী ও স্বজনদের জন্য বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। হাসপাতাল ফি, ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা, চিকিৎসক পরামর্শ ও ওষুধের খরচ মিলিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই মোট ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
রোগী ও ভোক্তারা অভিযোগ করছেন, অনেক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার আগে সম্ভাব্য ব্যয়ের স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয় না। ভর্তি, পরীক্ষা ও চিকিৎসার ধাপে ধাপে অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ব্যয়ের পরিমাণ অনুমানের চেয়ে অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আধুনিক যন্ত্রপাতি আমদানি, পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি ও দক্ষ জনবলের সংকটের কারণে বেসরকারি খাতে খরচ বেড়েছে। তবে রোগী অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, কার্যকর নজরদারির অভাব ও সেবার মান–মূল্যের স্বচ্ছতা না থাকায় খরচ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবায় খরচ নিয়ন্ত্রণে নীতিগত নির্দেশনা, মূল্য তালিকার স্বচ্ছতা এবং নিয়মিত তদারকি জরুরি। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয় বাড়ানো না গেলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ আরও বাড়তে পারে।