Home Blog Page 189

এই ট্রফি আপনাদের জন্য’

ইল্যান্ডে প্রথমবারের মতো আয়োজিত সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেওয়া হয় মেয়েদের।  এরপর ছাদখোলা বাসে গন্তব্য হাতিরঝিলে অ্যাম্ফিথিয়েটারে। আলো ঝলমলে মঞ্চে দাঁড়িয়ে অধিনায়ক সাবিনা খাতুন দেশবাসীকে ট্রফি উৎসর্গ করেন। ২০২২ ও ২০২৪ সালে সাফ ফুটবলজয়ী নারী ফুটবল দলকেও এভাবেই বরণ করেছিল বাফুফে। সেবারের সেই উৎসবের আমেজ এবার দেখা যায়নি। তবে, মানুষের আগ্রহ কম থাকলেও গানের তালে নেচে-গেয়ে ট্রফির সঙ্গে লাল সবুজ পতাকা হাতে উদ্যাপনটা জমপেশই করেছেন সবাই। বিমানবন্দর থেকে আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা ছাদখোলা বাসে করে দলকে নেওয়া হয় হাতিরঝিলে। সেখানে এম্ফিথিয়েটারে সাজানো মঞ্চে রাত ৯টার একটু পর একে একে ওঠেন দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা। দলের ১৩ জন সদস্য মঞ্চে উপস্থিত হলেও অধিনায়ক সাবিনা তখনও মঞ্চে ওঠেননি। অনুষ্ঠান সঞ্চালকের অনুরোধে দর্শকরা সমস্বরে ‘সাবিনা, সাবিনা’ বলে ডাকতে থাকেন। পরে মূল ফটক দিয়ে ট্রফি হাতে মঞ্চে ওঠেন অধিনায়ক।

দর্শকদের করতালি ও উল্লাসে মুহূর্তটি হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। মঞ্চে উঠে সাবিনা বলেন,‘সবার প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা। ম্যাচ জেতার পর যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় যাই তখন দেশের মানুষের ভালোলাগা-ভালোবাসা দেখতে পাই। ওই জায়গা থেকেই মোটিভেশন আসে, মেয়েরা উৎসাহিত হয়। মেয়েদের খেলার আগ্রহ, জেতার আগ্রহ বাড়ে।

সেই জায়গা থেকে এই ট্রফি আপনাদের জন্যই। দেশের মানুষের জন্য।’ তিনি বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল, ফুটসাল টিম ম্যানেজার, কোচিং স্টাফসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। সাত দেশের অংশগ্রহণে লিগ পদ্ধতিতে আয়োজিত টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ৬ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। দলটি ৫টি ম্যাচ জিতে এবং একটি ম্যাচ ড্র করে শিরোপা নিশ্চিত করে। শেষ ম্যাচে মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। ১১ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হয় ভুটান।

বাংলাদেশের ইরানি হেড কোচ সাইদ খোদারাহমি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে তিনি আনন্দিত,‘বাংলাদেশে ফুটসালের নতুন যাত্রা মাত্র কয়েক মাসের, তবে এভাবেই সাফল্য আসতে থাকবে। ফুটসাল চেয়ারম্যান ও টিম ম্যানেজার ইমরানুর রহমান জানান, স্বল্প সময়ের প্রস্তুতিতেই মেয়েরা ট্রফি এনে দিয়েছে। সব কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের,‘সবাই মিলে চেষ্টা করলে ফুটসালের জন্য মাঠ করা যায়।

এছাড়া সবাই যেন খেলোয়াড়দের পাশে থেকে সহযোগিতা করে তাহলে খেলাটি এগিয়ে যাবে।’ ২০২৪ সালে সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সাবিনাদের দেড় কোটি টাকা বোনাস ঘোষণা করেছিল ফেডারেশন। এক বছরের বেশি সময় পার হলেও সেই টাকা পাননি ফুটবলাররা। তাই ঋতুপর্ণারা এশিয়া কাপ নিশ্চিত করার পরও কোনো ঘোষণা দেয়নি ফেডারেশন।

সেটা অনুকরণ করেই কিনা এবার ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন দলকেও ছাদখোলা বাস ও হাতিরঝিলে আলো ঝলমলে অনুষ্ঠান করা হয়েছে। যথারীতি প্রশংসায় ভাসিয়েছেন মেয়েদের। কিন্তু কোনো রকম আর্থিক পুরস্কারের নিশ্চয়তা দেননি তিনি! বলেছেন,অবশ্যই ওদের জন্য কিছু করা হবে, পুরস্কার দেওয়া হবে, তবে সেটা কিভাবে, কি পরিমাণে সেটি প্রকাশ কররেননি।

বাফুফে সভাপতি সাবিনার প্রশংসা করে বলেন,‘অভিনন্দন বাংলাদেশ নারী ফুটসাল দলকে। অধিনায়ক সাবিনাকে ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন। কারণ সাবিনা বাংলাদেশের একমাত্র ত্রীড়াবিদ, যে কি না দুইটা ভিন্ন খেলায় তিনবার দেশকে সাফ জিতিয়েছেন। তার নাম বাংলাদেশ যুগের পর যুগ মনে রাখবে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে ২৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ​

​আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) এর তত্ত্বাবধানে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় ২৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) থেকে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকাগুলোতে তারা দায়িত্ব পালন শুরু করেছে।

​বিজিবি সূত্র জানায়, বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে নোয়াখালী জেলার ৫টি সংসদীয় আসনের ৮টি উপজেলায় ১৬ প্লাটুন এবং লক্ষ্মীপুর জেলার ৪টি সংসদীয় আসনের ৫টি উপজেলায় ১০ প্লাটুনসহ সর্বমোট ২৬ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

​৪ বিজিবি, ফেনীর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোশারফ, বিজিবিএম, জি+ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মোতায়েনকৃত বিজিবি সদস্যরা সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্পে অবস্থান করবেন। নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রোবাস্ট পেট্রোলিং  অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি এবং ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

​বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিজিবি সংবিধান ও আইনের আলোকে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক সভা ও উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে ৪ বিজিবি।

​বিজিবি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

শেখ হাসিনার বাসার আড়াই কোটি টাকার খাবারের বিল বাকি!

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি কার্যালয় ও বাসভবন গণভবনে দীর্ঘ সময় খাবার সরবরাহ করে আড়াই কোটি টাকারও বেশি বকেয়া সংকটে পড়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান হোটেল অবকাশ। ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলের এই বিপুল পরিমাণ দেনার দায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নিতে না চাওয়ায় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের (বাপক) এই পাওনা আদায় নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

পর্যটন করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে একটি চুক্তির অধীনে গণভবনে নিয়মিত খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করত হোটেল অবকাশ। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট সরকারের পতন হওয়ার সময় এই খাবারের বিল বাবদ বকেয়া পড়েছিল প্রায় ২ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বিগত সরকারের সময় নিয়মিত রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ ও গণভবনে অধিক মানুষের যাতায়াতের কারণে খাবারের এই খরচের পরিমাণ অনেক বেশি ছিল। এই বকেয়া আদায়ের জন্য গত দেড় বছরে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে একাধিকবার চিঠি দিলেও এখনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।

বিগত সরকারের পাশাপাশি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বাসভবন যমুনাতেও খাবার সরবরাহ করছে হোটেল অবকাশ। গত ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বর্তমান প্রশাসনের কাছেও প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৪ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে সরকারের কাছে হোটেল অবকাশের মোট পাওনার পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার টাকা। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রশাসন বিভাগ এই বিল পরিশোধকে একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করলেও দীর্ঘ বকেয়া নিয়ে বিপাকে রয়েছে পর্যটন করপোরেশন।

বিপুল অংকের টাকা বকেয়া থাকায় হোটেল অবকাশ কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে। এছাড়া কাঁচামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাওনা পরিশোধ করতে না পারায় তারা নতুন করে মালামাল দিতে অপারগতা প্রকাশ করছে। ফলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে নিয়মিত খাদ্য সরবরাহ বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে। পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান সায়েমা শাহীন সুলতানা জানিয়েছেন যে, নিয়ম অনুযায়ী সরকারি প্রতিষ্ঠানকে বাকিতে সেবা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও বকেয়া আদায়ের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবারও চিঠি দেবেন।

চুক্তি অনুযায়ী বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ৪৬০টি আইটেম সরবরাহ করে হোটেল অবকাশ। এর মধ্যে দেশি-বিদেশি ফল, বেকারি সামগ্রী, ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলা ও ঘি রয়েছে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমল থেকেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে খাবার সরবরাহের এই ধারা চলে আসছে। তবে বর্তমান সংকট নিরসন না হলে দীর্ঘদিনের এই ঐতিহ্যবাহী সরবরাহ ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা হোটেল অবকাশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

আমরা কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার দেখতে চাই না, মানবিক বাংলাদেশ দেখতে চাই: জামায়াতের আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমার আদিপত্যবাদ মানবো না, ফ্যাবিবাদ দেখতে চাই না। আমরা কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার দেখতে চাই না। আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ দেখতে চাই।

তিনি বলেন, আপনারা যদি আমাদের ভোট দেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে মন্ত্রি পরিষদের সিনিয়র সদস্য হিসেবে দেখতে পাবেন। এই প্রতিশ্রুতি আমি দিচ্ছি। এই সুযোগ চৌদ্দগ্রামে বাসী কাজে লাগাবেন কিনা সেটা চিন্তা করবেন।

তিনি আরো বলেন, ‘বিগত সময়ে শত অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেও আমরা দেশ ছাড়িনি। আমরা ছিলাম, আমরা আছি, আমরা থাকবো ইনশাআল্লাহ। আমরা মজলুম ছিলাম, মজলুমে দুঃখ আমরা বুঝি। এজন্য আমরা কখনো জালিম হবো না।’

দেশব্যাপী নারী নির্যাতনের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আর যদি কোনো মা-বোনদের গায়ে হাত দেওয়া হয়, তাহলে আমরা তাদের ছেড়ে কথা বলবো না। এমন ঘটনা যেখানেই ঘটে, সেখানেই তোমরা সাহসী যুবকরা ঝাঁপিয়ে পড়ো, যেভাবে জুলাইয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছো।’

মা-বোনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মা-বোনেরা কোন জুজুর ভয় পাবেন না। কোনো ভয়-ভীতিতে আপনারা ক্ষান্ত হবেন না। আপনারা ন্যায়ের পক্ষে ভোট দিন। চাঁদাবাজদের রুখে দিন। জামায়াত ক্ষমতায় এলেই মা-বোনেরা নিরাপদে থাকবেন।’ জামায়াত আমির বলেন, ‘আপনারা সেই মা যারা আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ আর ওসমান হাদিদের জন্ম দিয়েছেন। যারা আপনাদের ভয় দেখায় আপনারা তাদের রুখে দিন। বলুন ভোট আমি দিতে যাবো, ন্যায়-ইনসাফের পক্ষে দেবো, পারলে ঠেকাও।’

যুবকদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘কোনো যুবকের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেবো না। যুবকদের দেশ গড়ার কারিগরে পরিণত করবো। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে আমরা যুবকদের সম্মানের জায়গায় বসাতে চাই।’

তিনি শনিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে নির্বাচনি জনসভা তিনি এসব কথা বলেন।

চৌদ্দগ্রাম এইচ জে পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চৌদ্দগ্রাম আসনের ১১দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ও জামায়াতে কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহেরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন এনসিপির সভাপতি নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী মাওলানা এটিএম মাছুম, মাওলানা আবদুল হালিম, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ জাহিদুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী সিগবাতুল্লাহ, ডাকসুর ভিপি সাদেক কাইয়ুম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসের সদস্য আবদুস সাত্তার, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির এডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান, কুমিল্লা-১০ আসনের ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী মোঃ ইয়াছিন আরাফাত, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণের সেক্রেটারী আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির উপজেলা সেক্রেটারী অনিল চন্দনাথ, উপজেলা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোতাসির বীন সাকির, জাতীয় নাগরিক শক্তির যুগ্ম আবু সুফিয়ান, শহীদ সাহাবুদ্দিনের পিতা মাওলানা জয়নাল আবেদীন, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারী মাহবুবুর রহমান, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা শাহজালাল, চৌদ্দগ্রাম নজমিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ একেএম সামছুদ্দিন, উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির ভিপি শাহাবুদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা নুরুজ্জামান খোকন, শ্রীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এমদাদুল হক শাহী, জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর রহমান, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা জামায়াতের আমির মাওলানা মোহাম্মদ ইব্রাহিম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী মোঃ নুরুল ইসলাম মোল্লা।

কে হচ্ছেন আগামীর প্রধানমন্ত্রী! উঠে এলো জরিপে

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের জনমতে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে জনপ্রিয়তায় এককভাবে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি। বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পেপস)’-এর সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ৪৭ শতাংশের বেশি মানুষ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেন ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবাইয়াৎ সারওয়ার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াতে ইসলামী বা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমর্থকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এবং আওয়ামী লীগের সমর্থকদের বড় একটি অংশ এখন বিএনপিকে ভোট দেওয়ার কথা ভাবছেন। মূলত তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের বড় অংশ বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়েছে।

জরিপে অংশ নেওয়া ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা তারেক রহমানকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেছেন। এর পরেই রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, যাকে পছন্দ করেছেন ২২ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ। এছাড়া ২ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ নাহিদ ইসলামকে এই পদে দেখতে চান এবং প্রায় ২২ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।

আগামীকাল নির্বাচন হলে নিজ এলাকায় কোন দলের প্রার্থী জিততে পারেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ বিএনপি প্রার্থীর নাম বলেছেন। আগের জরিপের তুলনায় বিএনপির সম্ভাব্য বিজয়ী হওয়ার হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে এই হার বেড়েছে মাত্র ১ দশমিক ১ শতাংশ। জরিপ অনুযায়ী, অর্ধেকের বেশি মানুষ এখনো নিজেদের পছন্দের প্রার্থী সম্পর্কে নিশ্চিত নন, যা আসন্ন নির্বাচনে এক বড় সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

চলতি বছরের ১৬ থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলার ৫ হাজার ১৪৭ জন নাগরিকের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ভোটার উপস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনসহ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জনগণের মতামত নেওয়া হয়। বিআরএআইএন ও ভয়েস ফর রিফর্ম নামক দুটি নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সহযোগিতায় এই টেলিফোন জরিপটি পরিচালিত হয়।

পে স্কেলের দাবিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বড় পদক্ষেপ!

নতুন পে স্কেল ঘোষণা ও বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন একটি প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরু হয়েছে। ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি’ নামে এই সংগঠনটি গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) তাদের ৩১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে। নবগঠিত এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে মো. আব্দুল মালেক এবং সদস্য সচিব হিসেবে আশিকুল ইসলাম দায়িত্ব পেয়েছেন।

সংগঠনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অধিকার সংরক্ষণ এবং তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এই অরাজনৈতিক ও কল্যাণমুখী সংগঠনটি কাজ করবে। শুক্রবার আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিদের মতামতের ভিত্তিতে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় বক্তারা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য নতুন পে স্কেলের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ঘোষিত ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. শিমুল আহমেদ, মো. শাহাবুদ্দীন মুন্সী শাবু, নূর মোহাম্মদ চৌধুরী, মো. কামরুল হাসান রুবেল এবং মো. তারেক হাসান। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, আগামী তিন মাসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হবে। বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো প্রণয়ন, নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং একটি টেকসই কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের কাজ পরিচালনা করবে।

সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে যে এটি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে নয়, বরং সম্পূর্ণ অরাজনৈতিকভাবে চাকুরিজীবীদের যৌক্তিক দাবিদাওয়া নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে সংহতি বাড়ানো এবং তাদের পেশাগত সমস্যার সমাধানে এটি একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আহ্বায়ক কমিটিতে আরও সদস্য অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

১২ তারিখে জনগণ জামাত-শিবিরকে লালকার্ড দেখাবে- আবিদুল ইসলাম খান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতা আবিদুল ইসলাম খান বলেছেন, দীর্ঘ দুঃশাসনে বিএনপির নেতাকর্মীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়েই আজকের বাংলাদেশ। তাই দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় ধানের শীষ প্রতীকে বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা লড়াই করেছি, কখনো পালিয়ে যাইনি, গুপ্ত রাজনীতি করিনি কিংবা সংগঠনের নাম বলতে ভয় পাইনি। ছাত্রলীগের ভেতর থেকে মানুষ নির্যাতন করিনি। তিনি অভিযোগ করেন, অভ্যুত্থানের পর জামাত ও শিবির রক্তের রাজনীতির মাধ্যমে ঐক্য বিনষ্টের চেষ্টা করছে। এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ১২ তারিখে দেশের মানুষ লালকার্ড দেখাবে।
আবিদুল ইসলাম খান আরও বলেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে দেশে গুম ও খুনের ঘটনা ঘটেছে। মা সন্তান হারিয়েছে, সন্তান বাবাকে হারিয়েছে, এমনকি অনেক শিশু জন্মের আগেই বাবাকে হারিয়েছে ইতিহাস তার সাক্ষী। এই গুম-খুনের রাজনীতি আমাদের হাত ধরে আর ফিরে আসবে না,বলেন তিনি।
বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই দলের নীতি। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই এ দেশে নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে।তিনি অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী ধর্মের নাম ব্যবহার করে অপপ্রচার চালাচ্ছে, কিন্তু অপপ্রচারের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া যায় না।
তিনি বলেন, নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবার কোনো রাজনৈতিক দলের স্লোগান নয়, এটি মুসলমানদের স্লোগান।ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের বিরুদ্ধেও তিনি সতর্কবার্তা দেন।

কুষ্টিয়া-মিরপুরের দুই আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী রাগিব রূপ চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারণা উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন আবিদুল ইসলাম খান। এ সময় তিনি উপস্থিত জনসাধারণকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক জিএস প্রার্থী তানভীর বাড়ী হামিম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক ভিপি প্রার্থী শেখ নুর উদ্দিন আবির, তানভীর আল হাদী, জাহিন বিশ্বাস এশাসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

স্বামী ‘বানর’ বলায় অভিমানে নিজেকে শেষ করে দিলেন স্ত্রী

উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ে এক দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। স্বামীর ‘বানর’ বলার মন্তব্যে মানসিক আঘাত পেয়ে তন্নু সিং নামের এক নারী আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ জানায়, ঘটনাটি পারিবারিক পরিসরে ঘটেছে এবং এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় পুলিশ ও পরিবারের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তন্নু সিং ও তাঁর স্বামী রাহুল শ্রীবাস্তব প্রায় চার বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে করেন। তাঁরা লখনউয়ের ইন্দিরানগর এলাকায় বসবাস করতেন। তন্নুর মডেলিংয়ে আগ্রহ ছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যায় তন্নু ও তাঁর পরিবার আত্মীয়ের বাড়ি সীতাপুর থেকে ফিরে এসে সবাই একসঙ্গে গল্প আর হাসি-ঠাট্টা করছিলেন। সেই সময়ে স্বামী রাহুল মজা করে তন্নুকে ‘বানর’ বলে ডাকেন। এতে তন্নু দারুণ মন খারাপ করে আলাদা ঘরে চলে যান।

পরবর্তীতে যখন তন্নুকে ডাকা হয়, তিনি সাড়া না দিলে পরিবার জানলা দিয়ে ঘরে তাকিয়ে দেখেন—তন্নু কাপড় দিয়ে বানানো ফাঁসিতে ঝুলে রয়েছেন। চিৎকারে প্রতিবেশী ও স্বামী ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে। আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কিত পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, স্বামীর এই সামান্য শব্দভঙ্গি তন্নুর মানসিক অবস্থা ভেঙে দেয়। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।

 

বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ বাদ, এবার নীরবতা ভেঙে যা বলল আয়োজক শ্রীলঙ্কা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) মধ্যে চলমান বিতর্ক প্রায় তিন সপ্তাহ পর চূড়ান্ত রূপ নিল। নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ভারতে নির্ধারিত ম্যাচগুলো অন্যত্র সরানোর আবেদন জানিয়েছিল বাংলাদেশ।

প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের শুরুতে কলকাতা ও মুম্বাইয়ে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচ খেলার কথা ছিল। তবে ভারতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে নয়—এই যুক্তিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানায়। মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনার পরপরই এই আবেদন আসে।

আইসিসি বাংলাদেশের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছিল। কিন্তু বিসিবি নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেয় আইসিসি। বাংলাদেশের পরিবর্তে বাছাইপর্বে বাদ পড়া দলগুলোর মধ্যে শীর্ষ র‍্যাঙ্কিংধারী স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তানও টুর্নামেন্ট বর্জনের কথা ভাবতে পারে অথবা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

পুরো পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন নীরব ছিল সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা। ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে টুর্নামেন্টের আয়োজক হওয়ায় কলম্বোর এই নীরবতা নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অবশেষে এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছে দ্বীপরাষ্ট্রটি।

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের (SLC) সেক্রেটারি বান্দুলা ডিসানায়েকে বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, আঞ্চলিক রাজনৈতিক বিরোধে জড়িয়ে পড়তে চায় না তাঁর দেশ। তিনি বলেন, “ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে যেসব বিরোধ রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে আমরা নিরপেক্ষ অবস্থানে আছি। এরা সবাই আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ।” তবে তিনি জানান, ভবিষ্যতে আইসিসি অনুরোধ জানালে শ্রীলঙ্কা যেকোনো দেশের জন্য টুর্নামেন্ট এককভাবে আয়োজন করতেও প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলে না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে, যার মধ্যে ভারতের বিপক্ষের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটিও রয়েছে।

শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রী সুনীল কুমারা গামাগে এএফপিকে জানান, টুর্নামেন্টটি নির্বিঘ্নে আয়োজন করাই তাঁদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের নিরাপত্তার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি এবং ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৮ মার্চ।

ভারতের জন্য এক নিয়ম, বাংলাদেশের জন্য আরেক: মার্ক বুচার

বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে ‘চরম বিশৃঙ্খলা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক কিংবদন্তি ক্রিকেটার ও বিশ্লেষক মার্ক বুচার। আইসিসির সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, এই পুরো প্রক্রিয়াটি ক্রিকেটের শাসনব্যবস্থার বড় ব্যর্থতার এক উদাহরণ।

‘উইজডেন ক্রিকেট উইকলি’ পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে বুচার বলেন, টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি একটি ‘সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি’। তিনি ভারতের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে পাকিস্তানে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে বাংলাদেশের এই ঘটনার তুলনা টানেন।

বুচার বলেন, “এই ঘটনার আগে এমন অনেক উদাহরণ আছে যেগুলোর সঙ্গে এর মিল পাওয়া যায়; বিশেষ করে ভারতের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ইস্যু। সবাই জানত ভারত পাকিস্তানে যাবে না এবং শেষ পর্যন্ত তাদের ম্যাচগুলো দুবাইয়ে আয়োজন করা হলো। ক্রিকেট ইতিহাসে বহুবার টুর্নামেন্টের সূচি ও কাঠামো বদলানো হয়েছে কোনো একটি নির্দিষ্ট দলকে মানিয়ে নিতে; তবে সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে হচ্ছে, সেটা নজিরবিহীন।”

বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে আইসিসির দ্বিমুখী অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই সাবেক ব্যাটার। তাঁর মতে, ভারতের ক্ষেত্রে যে সমাধান বের করা হয়েছিল, সেটিই ভবিষ্যতের জন্য অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হতে পারত।

তিনি আরও বলেন, “যখন কোনো দল—হোক সেটা সরকারের সিদ্ধান্তে বা নিজেদের কারণে—নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে কোনো দেশে যেতে চায় না, তখন দুটি পথ থাকা উচিত। হয় তারা খেলবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, নয়তো সরে দাঁড়াবে এবং পরের দল সুযোগ পাবে। সেটিই হওয়া উচিত ছিল সবচেয়ে ন্যায্য ও স্বচ্ছ পথ।”

উল্লেখ্য, নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়ে ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দীর্ঘ আলোচনার পর গত ২৪ জানুয়ারি আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এল যখন মাত্র এক বছর আগেই ভারত ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। তবে সে সময় আইসিসি, বিসিসিআই ও পিসিবির সমঝোতায় ভারতের ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে (হাইব্রিড মডেল) আয়োজন করা হয়েছিল।