Home Blog Page 19

নজরুল ইসলাম খান বললেন চাঁদাবাজির সঙ্গে বিএনপি জড়িত নয়

০

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, চাঁদাবাজি ও দখলদারির সঙ্গে বিএনপি জড়িত নয়। এসব নিয়ে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পূর্ববর্তী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

নজরুল ইসলাম বলেন, কোনো চাঁদাবাজির সঙ্গে আমরা জড়িত নই। প্রকৃত নেতাকর্মীরা কেউ জড়িত নয়। যে আসলে শহীদ জিয়ার কর্মী সে কখনও চাঁদাবাজ, দখলবাজ হতে পারে না। চাঁদাবাজরা বিএনপির না।

তিনি বলেন, আমরা কারও কাছে হাত পাতি না। আমরা পরিশ্রমী মানুষ। নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই জনগণের শান্তি ও সরকারের উন্নয়ন প্রয়াসকে যারা নষ্ট করছে, তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান বলেছিলেন আমি একজন শ্রমিক এবং এজন্য আমি গর্ববোধ করি। বিএনপি বরাবর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারকারী জনগণের পক্ষের দল। আমাদের নেতাকর্মীরা জেল খেটেছেন। মনে রাখতে হবে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও শান্তির জন্য ১৯৭১ সালে মানুষ রক্ত দিয়েছে। এরপরও ১৭ বছর আমাদের লড়াইয়ের ময়দানে থাকতে হয়েছে। ২৪-এ সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছেন শ্রমজীবী মানুষ।

বিক্ষোভ মিছিলে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ফরহাদ হালিম ডোনার বলেছেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে ভয় পাননি, তাই এখন কাউকে ভয় পাওয়ারও কারণ নেই।

তিনি বলেন, দেশ যখন উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জনগণকে চোখ-কান খোলা রেখে সতর্ক থাকতে হবে।
ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, শেখ হাসিনার থেকে তো আপনারা বেশি স্বৈরাচার হতে পারবেন না। অর্থাৎ তাকে যখন আমরা ভয় পাইনি, আপনাদের ভয় পাওয়ার কিছু নাই।

বিদ্যুৎ ও পেট্রোলের সমস্যা নিয়ে আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসব সমস্যা বিএনপি সৃষ্টি করেনি তাহলে এসব সমস্যা নিয়ে আবার লংমার্চ কেন এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

ডোনার বলেন, উনারা বলেন যে বিদ্যুতের সমস্যা, এটা পেট্রোলের সমস্যা। আবার উনাদের নেতা সংসদে দাঁড়িয়ে বলতেছেন, এই সমস্যা বিএনপির সৃষ্টি না, এই সমস্যা হয়েছে সরাসরি শেখ হাসিনার আমলের সরকারে। তিনি নিজেই যদি স্বীকার করেন, তাহলে আবার এই লংমার্চ কেন?

দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর দেশে যেসব ক্ষতি হয়েছে, সেগুলো ঠিক করাই এখন তাদের কাজ।

তিনি বলেন, আমরা ১৭ বছর আন্দোলন করছি। যেখানে যা ক্ষতি হয়েছে, সেটা আমরা ঠিক করব। এ সময় ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদাবাজদের পুনর্বাসনে ‘ভিক্ষার’ ‘দানবাক্স’ বসানোর আহ্বান হাসনাত, পাটওয়ারীর

০

চাঁদাবাজি ঠেকাতে ‘চাঁদাবাজ পুনর্বাসন দানবাক্স’ স্থাপনের জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তারা বলেছেন, এই বাক্সে যে অর্থ উঠবে, সেখান থেকে চাঁদাবাজদের ‘ভিক্ষা’ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে চাঁদাবাজদের কর্মসংস্থান হবে। তখন চাঁদাবাজরা আর সাধারণ মানুষের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা–লুটপাট করতে যাবে না।

সোমবার রাজধানীর বাংলামোটর–হাতিরপুল এলাকায় হাসনাতের উদ্যোগে এই প্রতীকী কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে তিনি এবং পাটওয়ারী ‘চাঁদাবাজ পুনর্বাসন দানবাক্স’ প্রদর্শন করেন। বাক্সের গায়ে চাঁদাবাজদের কার্যক্রমের ছবি দিয়ে লেখা ছিল ‘চাঁদাবাজদের মবতন্ত্র!’, ‘চান্দা ভাইকে চাঁদা নয়, ভিক্ষা দিন’।

হাসনাত, পাটওয়ারীর সঙ্গে এনসিপির নেতাকর্মীরা স্লোগান দেন ‘ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে, জনগণকে মুক্তি দে’, ‘বিএনপির চাঁদাবাজি, চলবে না চলবে না’, ‘চাঁদাবাজির বাংলাদেশ, ফিরবে না ফিরবে না’, ‘নো টেইক ব্যাক বাংলাদেশ, ফরওয়ার্ড বাংলাদেশ’ প্রভৃতি বলে স্লোগান দেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, চাঁদাবাজরা বাজার, হাসপাতাল, যানবাহনসহ পরিবহন খাত এবং সব শ্রেণির ব্যবসায়ীদের অতিষ্ঠ করে ফেলেছে। বিএনপি সরকার এমন পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে, চরে গরুকে ঘাস খাওয়াতে হলেও চাঁদা দিতে হয়। বাড়িঘর, মাদ্রাসা দখল হচ্ছে। ঢাকা শহরে দিনদুপুরে চাঁদাবাজরা অস্ত্র নিয়ে দখল ও লুণ্ঠন করছে।

চাঁদাবাজি থেকে মুক্তির জন্য হাসনাত গণভিক্ষার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, প্রতিটি মোড়ে চাঁদাবাজদের দানবাক্স রাখুন। ৫-১০ টাকা করে ভিক্ষা দিন। বিএনপির যেসব চাঁদাবাজ নেতা-কর্মী আছেন, তাদের চাঁদাবাজির দরকার নেই। ভিক্ষার টাকায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। আপনারা অন্তত আমাদের জানটাকে নিরাপত্তা দিন। আপনাদের ভিক্ষা দেব, তবু বাড়িঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নষ্ট করার দরকার নেই, সালমান মুক্তাদিরদের স্টুডিও ভাঙার দরকার নেই। এগুলো থেকে নিস্তার চাই।

পরে প্রতীকী ভিক্ষার বাক্স নিয়ে মিছিল হয়। বাংলামোটর ও হাতিরপুল এলাকায় ব্যবসায়ীদের অনেকের সঙ্গে কথা বলেন হাসনাত–পাটওয়ারীসহ এনসিপির নেতারা। হাতিরপুলের মোতালিব প্লাজার সামনে গিয়ে মিছিল শেষ হয়।

সেখানে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সব ব্যবসায়ী ভাইদের বলব, দোকানে বাক্স রাখুন। মানুষকে বলবেন ভিক্ষা দিতে। যদি কোনো চাঁদাবাজ দোকানে আসে, তাদের ভিক্ষার বাক্স নিয়ে দেবেন।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারসহ নেতাকর্মীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

জ্বালানির দাম বাড়িয়ে কীভাবে সংকটের অবসান হলো, বিপিসির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে কমিটি

০

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে জ্বালানি সংকট সৃষ্টির কারণ এবং সংকটকালীন ও পরবর্তী সময়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা একই থাকার পরও শুধু জ্বালানির মূল্য বাড়িয়ে কীভাবে সংকটের অবসান হয়েছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির প্রথম বৈঠকে এ বিষয়ে বিপিসির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। কমিটির সভাপতি ও সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, মোছা. তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মো. মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান অংশ নেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন সময়ে পেট্রোলিয়াম পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ও সমন্বয়ের কারণ, মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার উপায় এবং মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল পিএলসির ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ ছাড়া দেশের বর্তমান জ্বালানি চাহিদা, জ্বালানি সংরক্ষণের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পর্কে পরবর্তী বৈঠকে কমিটিকে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়, মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির

০

বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে এবং উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে নয়াদিল্লির সঙ্গে দূরদর্শী ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে কাজ করার বিষয়ে ঢাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

আজ মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সাক্ষাতে ভারতীয় হাইকমিশনার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় হুমায়ুন কবিরকে অভিনন্দন জানান। তারা দ্বিপক্ষীয় ইস্যু এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা করেন। নিউইয়র্কে সদ্য সমাপ্ত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় স্থান পায়।

একনেকে ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

০

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) মঙ্গলবার মোট ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে।

এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১০ হাজার ১৮৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৫ হাজার ২৫২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৮টি নতুন, ৩টি সংশোধিত এবং ২টি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প রয়েছে।

আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনএসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহমান সাকি এসব তথ্য জানান।

সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প রয়েছে। এগুলো হলো-‘ইন্টিগ্রেটেড হেলথ সিস্টেম রেসপন্স টু ফাইট এগেইনস্ট টিবি, এইচআইভি/এইডস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া ইন বাংলাদেশ’ এবং ‘পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন (১ম সংশোধিত)’।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২ (এফএসএসপি-২)’ প্রকল্পও আজ অনুমোদন পেয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠান রৌফাবাদ, চট্টগ্রামে হোস্টেল ভবন সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প হলো-‘মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (অংশ-১)’ এবং ‘মেঘনা নদীর ভাঙন হতে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষা’ প্রকল্প।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপের মাধ্যমে ৩টি সিটি কর্পোরেশন, ১টি পৌরসভা ও ২টি গ্রামীণ উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি স্থাপন (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প হলো- ‘রংপুর বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ’ এবং ‘মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন (৩য় সংশোধন)’ প্রকল্প।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প (১ম পর্যায়) (৩য় সংশোধন)’ প্রকল্পও অনুমোদিত হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)- এর কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়।

এছাড়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প-‘ফেনী জেলার সোনাগাজীতে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ’ এবং ‘তিনটি পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ’ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক ইতোমধ্যে ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত অনুমোদিত ১৫টি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেককে অবহিত করা হয়।

এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নির্ঝর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বিদ্যমান ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, বিমান বাহিনী ঘাঁটি কুর্মিটোলায় বিএএফ শাহীন কলেজের অবকাঠামো নির্মাণ, আলীকদম সেনানিবাসে ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন, ঢাকা মহানগরী ও পূর্বাচলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়ন, ১০ জেলায় বিএসটিআইয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন এবং রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প।

এছাড়া মিরপুর ইউসেপ-শ্রম ও কর্মসংস্থান ইনস্টিটিউট স্থাপন, ক্লাইমেট-স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট, কুড়িগ্রামে ধরলা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও তীর সংরক্ষণ, হবিগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর উভয় তীর প্রতিরক্ষা, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সড়ক ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং ২৩টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পও রয়েছে।

এ তালিকায় ভূয়াপুর-তারাকান্দি জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় ভূপৃষ্ঠস্থ পানি পরিশোধন করে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ ও নিরাপদ স্যানিটেশন প্রকল্পও রয়েছে।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

প্রতিদিন সূর্যমুখীর বীজ খেলে যেসব উপকার পাবেন

০

দেখতে খুব ছোট হলেও সূর্যমুখীর বীজে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ফাইবার, অসম্পৃক্ত চর্বি, ভিটামিন-ই, ম্যাগনেশিয়াম এবং সেলেনিয়ামের ভালো উৎস এ বীজ। অর্থাৎ প্রায় ৩০ গ্রাম বা এক মুঠো সূর্যমুখীর বীজে ৫ গ্রাম প্রোটিন, প্রায় ৩ গ্রাম ফাইবার, ভিটামিন-ই, ম্যাগনেশিয়াম ও অসম্পৃক্ত চর্বি পাওয়া যায়। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় এটি রাখতে পারেন। পুষ্টিবিদরা বলেন, সূর্যমুখীর বীজে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের সমন্বয় হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

স্বাস্থ্য উপকারিতা

সূর্যমুখীর বীজে থাকা অসম্পৃক্ত চর্বি হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। বিশেষ করে স্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবারের পরিবর্তে এটি খেতে পারেন। এটি কোলেস্টেরলের মাত্রা বজায় রাখতে সহায়তা করে। তাই সুষম খাদ্যতালিকায় সূর্যমুখীর বীজ যুক্ত করা যেতে পারে।

সূর্যমুখীর বীজে ভিটামিন-ই, ম্যাগনেশিয়াম, অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ রয়েছে। এগুলো শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন প্রদাহ কমাতে সূর্যমুখীর বীজ খেতে পারেন। এতে থাকা অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন-ই, ম্যাগনেশিয়াম ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে।

সূর্যমুখীর বীজে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিশেষ করে ভিটামিন-ই ও সেলেনিয়াম, শরীরে তৈরি হওয়া ফ্রি র‌্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সহায়তা করে। ফ্রি র‌্যাডিক্যাল কোষের ক্ষতি করতে পারে। তাই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মোকাবিলায় শরীরকে সহায়তা করা সম্ভব।

শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ম্যাগনেশিয়াম প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রম অন্যতম। সূর্যমুখীর বীজ ম্যাগনেশিয়ামের দৈনিক চাহিদা পূরণে অবদান রাখে। আবার শরীরে শক্তি তৈরির প্রক্রিয়ায় ম্যাগনেশিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এটি খাবার থেকে পাওয়া পুষ্টি উপাদানকে শক্তিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। অবশ্য সূর্যমুখীর বীজ তাৎক্ষণিকভাবে শক্তি বাড়িয়ে দেয় না। তবে এতে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন, ফাইবার ও ম্যাগনেশিয়ামের সমন্বয় এটিকে পুষ্টিকর ও শক্তিসমৃদ্ধ খাবারের অংশ করে তোলে।

কাঁচা নাকি ভাজা, কোনটি বেশি উপকারী?
সূর্যমুখীর বীজের উপকারিতা পেতে কাঁচা খেতেই হবে, তা নয়। কাঁচা কিংবা হালকা ভাজা, দুই ভাবেই এ বীজ খেতে পারেন। তবে বীজ কেনার সময় অতিরিক্ত লবণযুক্ত, অপ্রয়োজনীয় তেল কিংবা অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভযুক্ত কিনা তা দেখে কিনুন।

উন্নয়ন দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক পতেঙ্গায়

০

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সড়কের দুই পাশে সাইকেল চালানোর জন্য আলাদা ট্র্যাক থাকে। সেই ট্র্যাকে সাইকেলে প্যাডেল ঘুরিয়ে গন্তব্যে ফিরছে মানুষ– এমন চিত্র সেসব দেশে চিরচেনা। কিন্তু আমাদের দেশের চিত্র বিপরীত। যানজট, ধুলাবালি আর গাড়ির ভিড়ে আলাদা ট্র্যাক না থাকায় শহরগুলোতে সাইকেল নিয়ে বের হওয়া যায় না। তাই গড়ে ওঠেনি অভ্যাস। অথচ এক গবেষণা জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বে বেশি সাইকেল চালানোর তালিকায় বাংলাদেশের নাম রয়েছে ১৫ নম্বরে।

তবে এবার সেই চিত্র বদলে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের পাশে এমন একটি সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে, যার দুই পাশে রাখা হয়েছে সাইকেল চালানোর দুটি ট্র্যাক। কিছুদিনের মধ্যেই সড়কটিতে সাইকেল চালানো যাবে। এর মধ্য দিয়ে সাইকেল চলাচলে নতুন যুগের সূচনা হচ্ছে।

আধুনিক নগর পরিকল্পনায় নিরাপদ ফুটপাত, সাইকেলের লেন (ট্র্যাক), পথচারীবান্ধব অবকাঠামো ও সবুজায়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বিমানবন্দর সড়কের সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করা হচ্ছে। পতেঙ্গা সৈকতের পাশেই সড়কটির অবস্থান হওয়ায় এখানে বেড়াতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকও সাইকেলে চড়ে চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে পারবেন। অদূর ভবিষ্যতে এটা সাইকেল-ট্যুরিজমের নতুন দুয়ারও খুলতে পারে।

পতেঙ্গায় চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট রোড সম্প্রসারণ ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সড়কে পৃথক সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ঘেঁষেই সড়কটির অবস্থান। এটির নির্মাণকাজ এখন শেষ পর্যায়ে। প্রাথমিকভাবে ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ বিমানবন্দর সড়কটির চার লেনের দুপাশে রাখা হয়েছে ফুটপাত। মাঝখানে কার্বস্টোন দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে মিড আইল্যান্ড। সড়কের একপাশে ল্যান্ডস্কেপিং ও ওয়াকওয়ের সঙ্গে পাশাপাশি রাখা হয়েছে সাইকেল চলাচলের জন্য দুটি ট্র্যাক। সাইকেল ট্র্যাকের দুপাশে ইটের কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এখন পাথরের কার্পেটিং করেই চলাচলের জন্য সাইকেল ট্র্যাক খুলে দেওয়া হবে।

সায়েন্টিফিক আমেরিকান ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক গবেষণা জরিপে বাংলাদেশের নাম উঠে এসেছে। গবেষকরা ১২১টি দেশের প্রায় ১১ হাজার ৫৮৭টি শহরের গুগল ম্যাপের তথ্য ঘেঁটে এই তালিকা তৈরি করেছেন। তাতে বাংলাদেশের নাম রয়েছে সেরা ১৫ নম্বরে। সাইকেল চালানোর দিক দিয়ে বিশ্বসেরা শহর এখন নেদারল্যান্ডসের ওয়াজেনিনজেন। সেখানে বেশির ভাগ মানুষই সাইকেল চালান।

চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদত হোসেন সমকালকে বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সড়কে সাইকেলের জন্য আলাদা ট্র্যাক রাখা হয়। আমি নিজেই অনেক দেশে এটা দেখেছি। কিন্তু আমাদের দেশে এই ধরনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়নি। তাই প্রথমবারের মতো আমি একটি সড়কের দুপাশে সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করেছি। কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। শিগগির সাইকেল চালানোর জন্য এই ট্র্যাক খুলে দেওয়া হবে।’

শিক্ষা বরিশালের ৮ কলেজে কোনো শিক্ষার্থীই ভর্তি হয়নি

০

শিক্ষা বোর্ডের পাঠদান অনুমতি নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের যাত্রা শুরু করা হয়েছিল। পরে নানা কারণে মান্থলি পেমেন্ট অর্ডারভুক্ত (এমপিও) হয়নি এসব প্রতিষ্ঠান। এমপিওভুক্তির আশায় যারা বিনা বেতনে চাকরি শুরু করেছিলেন, তারাও অন্যত্র চলে যান। ফলে শিক্ষকের অভাবে কলেজ কার্যক্রমের যবনিকা ঘটে। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সেই আট কলেজের পরিণতি প্রায় একই রকম হয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক ভর্তিতে দেশের ১০টি কলেজ একজন শিক্ষার্থীও পায়নি। এর মধ্যে আটটিই বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের। কেন শিক্ষার্থী পেল না কলেজগুলো– এ বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে এসব তথ্য পেয়েছে সমকাল।

প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে– বরগুনা সদর উপজেলার দক্ষিণ মনসাতলীতে বরগুনা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, বেতাগীর কদভানু মেমোরিয়াল সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির পূর্ব জালাবাড়ি আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সেহাঙ্গল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পটুয়াখালী সদরের লোহালিয়া ইউনিয়নে পাজাখালী কলেজ, গলাচিপার পানপট্টি কলেজ এবং পিরোজপুরের কাউখালীর সায়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নে ইজিএস শিক্ষা নিকেতন। এর মধ্যে পাঁচটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত হয়েছিল, বাকি তিনটি কলেজ হিসেবেই প্রতিষ্ঠা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ কয়েক বছর কার্যক্রম চালানোর পর ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলরা সমকালকে বলেছেন, শিক্ষক-কর্মচারীরা এমপিওভুক্ত না হওয়ায় কলেজ টিকিয়ে রাখা যায়নি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান স্থানীয় দলাদলির শিকার হয়েছে। কলেজ কার্যক্রম বন্ধের পর তারা পাঠদান অনুমতি বাতিল চেয়ে শিক্ষা বোর্ডে অনেক আগে আবেদন করেছে। তবু বোর্ডের ব্যান্ডবেজে তথ্য থাকায় এ বছর উচ্চ মাধ্যমিকে শিক্ষার্থীশূন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে।

কেন বন্ধ হলো এসব প্রতিষ্ঠান 

বেতাগীর ব্যস্ততম এলাকা চান্দুখালী বাজারে বরিশাল-বরগুনা আঞ্চলিক সড়কের পাশে কদভানু মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় স্থাপিত হয় ১৯৭৪ সালে। ২০১৬ সালে এটি উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত হয়, পরে ২০২৪ সালে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করে দেয়। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক শামীমা নাসরিন দাবি করেন, প্রতিবছর প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী এ প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পাস করে। তাদের ভরসাতেই কলেজের কার্যক্রম চালু হয়। কিন্তু শ্রেণিকক্ষ সংকটের জন্য কলেজের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তবে বক্তব্যের বিপরীতে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন বিদ্যালয়ের পাশেই নিজ নামে ডিগ্রি কলেজ স্থাপন করেন। এসএসসি পাস শিক্ষার্থীদের ওই কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি করানোয় বিদ্যালয়ের কলেজ শাখা শিক্ষার্থী সংকটে পড়ে। বিদ্যালয়ের কলেজ শাখায় সর্বশেষ ২০২৫ সালে পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র একজন।

কাঁঠালিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জলিলুর রহমান জানান, ২০১৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত করা হয়। আশপাশের কিছু বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রভাষক পদে বিনা বেতনে পাঠদান করাতেন। কিন্তু এমপিওভুক্ত না হওয়ায় ওই শিক্ষকরা যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। কলেজ কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে নিজেদের স্কুলের শিক্ষকরা উচ্চ মাধ্যমিকে
ক্লাস শুরু করেছিলেন। এক পর্যায়ে ছাত্রীরাই বলতে শুরু করেন, স্কুলের শিক্ষকরা কেন কলেজে পড়াবেন। এ কারণে ২০২৪ সালের পর আর শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়নি।

স্বরূপকাঠির সেহাঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামানের ভাষ্য, ওই এলাকার সন্তান ঢাকার ব্যবসায়ী একেএম শামসুদোহা ফারুক নিজের নাম ছড়ানোর জন্য দাতা হয়ে উচ্চ মাধ্যমিক কার্যক্রম শুরু করেন। কিন্তু বোর্ড থেকে পাঠদান অনুমতি ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। খরচ মেটাতে হিমশিম খেয়ে দাতা ফারুক এক পর্যায়ে সটকে পড়লে চার বছর আগে কলেজের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের উচ্চ মাধ্যমিকে দুজন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে একজন।

একই উপজেলায় ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত পূর্ব জালাবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি কবে কলেজে উন্নীত হয়েছে, কেন বন্ধ হলো– এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে রাজি হননি প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে কলেজের কার্যক্রম চালু হলেও মাঝে কয়েকবার বন্ধ ছিল। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা গেছে, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ২১১ জনের মধ্যে ১৫৫ জন পাস করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে ছয়জন পরীক্ষা দেন।

স্বরূপকাঠির পাশে কাউখালীর ইজিএস শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক তানভীর আহমেদ তাঁর কলেজ শাখা বন্ধের জন্য গ্রামের স্থানীয় দলাদলিকে দায়ী করেন। তিনি জানান, একপক্ষ গ্রামে গ্রামে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি না হওয়ার জন্য বলে। পাঠদান অনুমতি বাতিলে তারাই বোর্ডে আবেদন করে। এসব কারণে তিন বছর ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় না।

পটুয়াখালী পাজাখালী কলেজটির অচলাবস্থার জন্য প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শিক্ষককে দায়ী করেন প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মো. আশরাফ আলী। ২০২২ সালে এ কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি জানান, তিনি কয়েকবার তাবলিগ জামাতে গেলে কৌশলে শিক্ষকরা কলেজটিকে শিক্ষার্থীশূন্য করেন। ফলে তিন বছর ধরে কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি হয় না। স্থানীয় এমপির সুপারিশ নিয়ে আবারও কলেজটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এসব বিষয়ে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, আমি তিন মাস আগে যোগদান করেছি। উচ্চ মাধ্যমিকে যেসব কলেজে শিক্ষার্থী নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সবকিছু জানি না। সবেমাত্র ভর্তি কার্যক্রম শেষ হয়েছে। শিক্ষার্থীশূন্য কলেজগুলোর তালিকা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠাব।

১২ হাজার কোটি টাকার আমানতের মাইলফলক মধুমতি ব্যাংকের

০

১২ হাজার কোটি টাকার আমানত (ডিপোজিট) সংগ্রহের মাইলফলক অর্জন করেছে মধুমতি ব্যাংক পিএলসি। এ উপলক্ষে রোববার রাজধানীতে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ব্যাংকটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনুষ্ঠানে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান এ মান্নান খান এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র পরিচালক মো. শফিকুল আলম ও মনজুরুল আহসান বুলবুল, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সফিউল আজম, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ চৌধুরী, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ বিজনেস অফিসার আরব ফজলুর রহমান, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ রিস্ক অফিসার আরিফ হাসান খানসহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ব্যাংকটির আমানত সংগ্রহে ধারাবাহিক অগ্রগতি, গ্রাহকদের আস্থা এবং সুশাসনভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১২ হাজার কোটি টাকার আমানত অর্জন তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এ অর্জনের পেছনে গ্রাহকদের আস্থা এবং ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কথা অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।

বিভিন্ন স্থানে হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদ জামায়াতের

০

হাসপাতাল গুঁড়িয়ে দেওয়া, কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিতে ভাঙচুরসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা-ভাঙচুরের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমির শফিকুর রহমান রোববার ফেসবুক পোস্টে সালমান মুক্তাদিরকে জুলাইযোদ্ধা আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘কর্তৃত্বশালীরা নিজেদের চাঁদাবাজদের কী সামলাবেন? একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে। হ্যাঁ, এর শেষ হবে একদিন, ইনশাআল্লাহ।’

বিএনপির চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে অভিযোগ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার রোববার বিবৃতিতে বলেছেন, তারা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে জনগণের সম্পদকে দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে, যা ফ্যাসিবাদী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। প্রশাসনের ভূমিকা ক্রমেই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে, বিশেষ করে মিরপুরের রাড্ডার ঘটনায়।

মিরপুরে স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দিয়ে দখল নেওয়ায় বিএনপির সংসদ সদস্য জড়িত বলে অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, দ্রুত মূলহোতাসহ সব অপরাধীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে বিএনপির সন্ত্রাসীরা রামদা ও কুড়াল নিয়ে হামলা চালিয়ে লুটপাট করেছে। গোলাম পরওয়ার বলেন, শনিবার রাতভর মব তৈরি করে কথিত স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদল নেতা লিয়ন ও ফরহাদের নেতৃত্বে ইসলামী ব্যাংক স্পেশালাইজড অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভাঙচুর ও স্টাফদের মারধর করেছে। সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করেছে। জড়িত বিএনপির সন্ত্রাসীদের অতি দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।

রোববার রাড্ডায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যান জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি বলেছেন, চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় একজন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতা গণমাধ্যমে এসেছে।

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার নিন্দা করে করে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা চলতে থাকলে দেশের তরুণ ও মেধাবীরা ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিজেদের মেধা বিনিয়োগের পরিবর্তে বিদেশমুখী হতে পারেন।