চট্টগ্রামের মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পে বাংলাদেশকে অংশগ্রহণকারী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সভাপতিত্ব করেন।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। বেজার গভর্নিং বোর্ড সভায় জানানো হয়, মীরসরাইয়ে প্রায় ৮০ একর জমি ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন হিসেবে মাস্টার প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আগে এই জমি একটি বিদেশি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত থাকলেও প্রকল্প বাতিল হওয়ায় তা নতুনভাবে পুনঃব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আশিক চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা বাস্তবতায় প্রতিরক্ষা শিল্পে নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে দেখা গেছে, হাইটেক অস্ত্রের চেয়ে গোলাবারুদ ও মৌলিক সরঞ্জামের সংকটই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
মীরসরাইয়ে হবে ডিফেন্স শিল্প জোন
আজ ২ ভরি সোনার হার কিনতে গুনতে হবে কত টাকা ?
সোনার দাম দিন দিন শুধু বেড়েই চলছে সাথেই বাড়ছে এর চাহিদা। গলার হার , কানের দুল থেকে শুরু করে হাতের অলংকার সবই এখন নারীদের চাহিদার শীর্ষে।
আজ ২৭ জানুরায়ি থেকে প্রতি ভরি (২২ ক্যারেটের) সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকায়। তাই ২ ভরির একটি হার কিনতে চাইলে গুনতে হবে ৫ লাখ ২৪ হাজার ৮৮০ টাকা। সাথে ৫ % ভাট ও ৬% মজুরী তো আছেই।
তাই ২ ভরির হার কিনতে আপনাকে সাথে রাখতে হবে প্রায় ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা।
মাথা ব্যথা নাকি মাইগ্রেন, কিভাবে বুঝবেন
অফিসের চাপে হোক বা পরিবারের চিন্তায় হোক অথবা পড়াশোনার চাপে কম বেশি মাথা ব্যথার শিকার অনেকেই। কারোর মাথা ব্যথা স্বাভাবিক, কেউ ভুগছেন অন্য কোনো রোগে, আবার অনেকেই মাইগ্রেনের শিকার।
তবে মাথা ব্যথা নিয়ে মাথাব্যথা করেন খুব কম মানুষই। কিভাবে পার্থক্য বুঝবেন মাইগ্রেন আর সাধারণ মাথা ব্যথার, তা জানাতেই আজকের আয়োজন।
চলুন, জেনে নেওয়া যাক—
নিউরোলজিস্টরা বলছেন মাথা ব্যথা সাধারণত চাপ বা স্ট্রেসজনিত কারণে হয়। কিন্তু মাইগ্রেন একটি নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার। এতে মাথার এক পাশে তীব্র ধকধকে ব্যথা হয়, সঙ্গে বমি, আলো ও শব্দের কাছাকাছি এলেই অসহ্য অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। একে সাধারণ মাথাব্যথার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।
সাধারণ মাথা ব্যথা কী
চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় টেনশন-টাইপ হেডেক। এই সাধারণ মাথা ব্যথার লক্ষণ গুলো হলো মাথার দুই পাশে চাপ বা ভারী ভাব, কপাল ও ঘাড়ে টান, মানসিক চাপ বা ঘুমের অভাবে বাড়ে, আলো বা শব্দে সাধারণত তীব্র অস্বস্তি হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিশ্রাম, স্ট্রেস কমানো ও সাধারণ ওষুধেই কমে সাধারণ মাথা ব্যথা।
মাইগ্রেনের ব্যথা কী
মাইগ্রেনকে আন্তর্জাতিকভাবে একটি নিউরোলজিক্যাল রোগ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
মাইগ্রেনের লক্ষণ মাথার এক পাশে তীব্র ধকধকে ব্যথা, আলো, শব্দ বা গন্ধে অসহ্য অনুভূতি, বমি বা বমি বমি ভাব যা কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত ব্যথা স্থায়ী হতে পারে। স্বাভাবিকভাবে সাধারণ ওষুধে এই মাথা ব্যথা কমে না।
মেডিক্যাল জার্নাল জেএএমএ নিউরোলজি-তে প্রকাশিত গবেষণার তথ্য অনুযায়ী মাইগ্রেন ও টেনশন-টাইপ হেডেক দুটি আলাদা মেডিক্যাল কন্ডিশন, দুটির ব্যথার ধরন, আক্রমণের প্যাটার্ন একেবারেই আলাদা। তবে, কখন অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাবেন?
চিকিৎসকদের মতে, যদি মাসে বারবার মাথা ব্যথা হয়, ব্যথার সঙ্গে বমি বা চোখে ঝলকানি দেখা দেয়, আলো বা শব্দ সহ্য না হয়, সাধারণ ওষুধে কাজ না করে দেরি না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিশ্রাম, স্ট্রেস কমানো ও সাধারণ ওষুধে আরাম মেলে।
সাধারণ মাথা ব্যথা সাময়িক সমস্যা হলেও, মাইগ্রেন একটি দীর্ঘমেয়াদি নিউরোলজিক্যাল অসুখ। মাইগ্রেনের লক্ষণ বুঝলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আরও ১০ নেতাকে বহিষ্কার করল বিএনপি
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বহিষ্কৃত নেতাদের বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন— ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য মো. মুসফিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিকুর রহমান, গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মফিজুর রহমান খায়রুল ও মো. জালাল উদ্দীন; নড়াইল সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মুজাহিদুল ইসলাম পলাশ, নড়াইল সদর পৌর বিএনপির সভাপতি মো. তেলায়েত হোসেন, লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী সুলতানুজ্জামান সেলিম, লোহাগড়া পৌর বিএনপির সভাপতি মিলু শরীফ, সাধারণ সম্পাদক মো. মশিয়ার রহমান সান্টু ও লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আহাদুজ্জামান বাটু।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং নীতি পরিপন্থি কাজের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতেই কেন্দ্র থেকে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এর আগে গতকাল ২৬ জানুয়ারি একই অভিযোগে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মমিনুল হক টুলু বিশ্বাসকেও বহিষ্কার করেছিল দলটি।
পরিবেশ সুরক্ষায় বিএনপির ব্যতিক্রমী প্রচারণা! লিফলেট থেকেই তৈরি হবে চার
বগুড়া-৬ (সদর) আসনে ধানের শীষের সমর্থনে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণায় এক অভিনব ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ লক্ষ্য করা গেছে। প্রচারণার কাজে সাধারণ কাগজের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ ‘বনকাগজ’ বা ‘সিড পেপার’ দিয়ে তৈরি লিফলেট, যা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও প্রশংসা জাগিয়েছে।
বগুড়া সদরের এই প্রচারণার প্রধান আকর্ষণ হলো এর বীজযুক্ত লিফলেট। সাধারণ লিফলেট ব্যবহারের পর যত্রতত্র ফেলে দিলে তা পরিবেশের আবর্জনা তৈরি করে, কিন্তু এই লিফলেটগুলো মাটিতে পড়লে বা কেউ ফেলে দিলে সেখান থেকেই জন্ম নেবে টমেটো, মরিচ কিংবা বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। কাগজের মণ্ড তৈরির সময়ই এতে উন্নত মানের সবজি বীজ মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা পচনশীল কাগজের সংস্পর্শে এসে চারা গাছে রূপান্তরিত হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক প্রচারণার মাধ্যমে কেবল মানুষের কাছে পৌঁছানোই নয়, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণ ভোটাররা এই সৃজনশীল প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, প্লাস্টিক বা সাধারণ কাগজের বর্জ্য কমানোর এই কৌশল অন্যান্য প্রার্থীদের জন্য একটি উদাহরণ হতে পারে। প্রচারণার পাশাপাশি প্রকৃতির যত্ন নেওয়ার এই ব্যতিক্রমী ধারাটি এবারের নির্বাচনী মাঠে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।
সংসদ ভবনে উচ্চকক্ষের ১০০ সদস্যের আসন বিন্যাসের উদ্যোগ
সংসদীয় ব্যবস্থায় সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষ গঠনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে সংসদ সচিবালয়। সম্ভাব্য ১০০ জন সদস্যের বসার স্থান নির্ধারণে জাতীয় সংসদ ভবনের পঞ্চম তলার দর্শক গ্যালারিগুলোকে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। স্থাপত্য ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের কারিগরি সহায়তায় এই সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রাথমিক প্রস্তুতি চলছে। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা কৌশলগত কারণে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
জানা যায়, বিশ্ববিখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের নকশা ঠিক রেখেই উচ্চকক্ষের ১০০ আসনের সদস্যদের বসার জায়গা খুঁজে বের করার এই বিকল্প ভাবনা মাথায় রেখে সাজানো হচ্ছে পরিকল্পনা। সংসদ ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত মূল অধিবেশন কক্ষে ৩৫৪ জনের জন্য আসনের ব্যবস্থা রাখা আছে। এর মধ্যে ৩০০ জন সংসদ-সদস্য এবং ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ-সদস্যদের জন্য। আর বাকি চারটি টেকনোক্রেট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য। তৃতীয় তলায় অধিবেশন কক্ষের বাইরে স্পিকারের বসার জায়গা। তার দুই পাশে আরও ১০০টি আসন রয়েছে। বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান, বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, কূটনীতিক, বিদেশি ডেলিগেট, আমলাসহ সমাজের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এসব আসনে বসে অধিবেশনের কার্যক্রম দেখার সুযোগ পান। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে আরো জানা যায়, সূত্র জানায়, সংসদ সচিবালয় প্রথমে স্পিকারের বসার জায়গার দুই পাশে থাকা ১০০টি আসন উচ্চকক্ষের সদস্যদের বসার জন্য নির্ধারণের পরিকল্পনা নেয়। কিন্তু বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান, বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, কূটনীতিক, বিদেশি ডেলিগেট, আমলাসহ সমাজের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বসার জন্য বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করতে পারেননি তারা। এ অবস্থায় সংসদ ভবনের পঞ্চম তলায় অবস্থিত পাঁচটি দর্শক গ্যালারির মধ্য থেকে পাশাপাশি থাকা দুটি দর্শক গ্যালারি একত্রিত করে উচ্চকক্ষের সদস্যদের বসার জায়গা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এজন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে। বসানো হবে টেবিল-চেয়ার ও সাউন্ড সিস্টেমসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার আগামী নির্বাচিত সরকার এবং সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে বলে সংসদ সচিবালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরের মাথায় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদীয় শাসনব্যবস্থার যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে জুলাই সনদের পক্ষে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। এই ভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে নিম্নকক্ষের পাশাপাশি জাতীয় সংসদে প্রথমবার যুক্ত হবে উচ্চকক্ষ। তবে এর আগে নির্বাচিত সংসদের সদস্যরা ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনবেন। জুলাই সনদে এজন্য ১৮০ কর্মদিবস বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর পরপরই আনুপাতিক হারে (পিআর) বিভিন্ন দল মনোনীত ১০০ আসনের সদস্যদের নিয়ে গঠন করা হবে উচ্চকক্ষ; যা এদেশের সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় নতুন নজির স্থাপন করবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী বদিউল আলম মজমুদার বলেন, গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’-সূচক হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে। সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। তিনি বলেন, এর মেয়াদ হবে নিুকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট এই উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে দেশের সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় নতুন যুগে পা দেবে বাংলাদেশ।
এদিকে উচ্চকক্ষের ১০০ জন্য সদস্য জাতীয় সংসদ ভবনের কোথায় বসবেন-এ নিয়ে নির্বাচনের আগেই সংসদ সচিবালয়ের উদ্যোগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। স্থপতি লুই আই কানের নকশায় তৈরি করা জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরে উচ্চকক্ষের সদস্যদের বসার জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। মূলত সংসদ ভবনের ভেতরের আসনবিন্যাসের সময় উচ্চকক্ষের বিষয়টি কারও মাথায় ছিল না। কিন্তু এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং এর পরপরই সংসদ অধিবেশন শুরুর ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে উচ্চকক্ষের বিধান যুক্ত করা হলে নতুন করে আসনবিন্যাস করতে হবে। বিষয়টি মাথায় রেখেই সংসদ সচিবালয় কাজ করছে। লুই আই কানের নকশা ঠিক রেখেই উচ্চকক্ষের ১০০ আসনের সদস্যদের বসার জায়গা খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একাধিক বিকল্প মাথায় রেখে সাজানো হচ্ছে পরিকল্পনা।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এর তিন দিন পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস হন এই সরকারের প্রধান। তিনি দায়িত্ব নিয়েই প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য একটি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করেন। ওই বছরেরই ১১ সেপ্টেম্বর থেকে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর তৈরি হয় জুলাই সনদ। ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা জুলাই সনদের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ২৫টি রাজনৈতিক দল ও জোট এতে স্বাক্ষর করে। জুলাই সনদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে বা পিআর পদ্ধতিতে ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে একমত হয় বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৫৫ হাজার দেশি পর্যবেক্ষক, মানতে হবে ইসির নির্দেশ
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশি পর্যবেক্ষককে অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসিতে নিবন্ধিত ৮১টি সংস্থার পক্ষ থেকে এসব পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন। এদের মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয়ভাবে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয়ভাবে সংসদীয় আসনভিত্তিক পর্যবেক্ষণ করবেন।
সোমবার ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে জানানো হয়, নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে সুনির্দিষ্ট বিধি-নিষেধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোটার এবং নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত পরিচয়পত্রধারীরাই কেবল কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের জন্য কমিশন অনুমোদিত ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৫’ রয়েছে, যা যথাযথভাবে অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।
পর্যবেক্ষকদের পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকার ইস্যুর জন্য একটি ওয়েব পোর্টাল (https://pr.ecs.gov.bd/) তৈরি করেছে ইসি। অনুমোদিত ৮১টি সংস্থার সকল পর্যবেক্ষককে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই পোর্টালে ব্যক্তিগতভাবে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে পর্যবেক্ষকগণ অনলাইন থেকেই তাদের কার্ড ও স্টিকার ডাউনলোড করে মুদ্রণ করতে পারবেন।
নির্দেশনা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের কার্ড ও স্টিকার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখা থেকে এবং স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের আবেদন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বা তার মনোনীত কর্মকর্তারা অনুমোদন করবেন। রিটার্নিং অফিসারদের ব্যবহারের জন্য পোর্টালে ইতোমধ্যে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনি এলাকা ও ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষকদের বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। পর্যবেক্ষকগণ কেন্দ্রে অবস্থানকালে তাদের পরিচয়পত্রটি সার্বক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান অবস্থায় ঝুলিয়ে রাখবেন।
পর্যবেক্ষণকালে অবশ্যই ভোটারের ভোট প্রদানের অধিকারের প্রতি সচেতন থাকতে হবে এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাজে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে সেদিকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। পর্যবেক্ষকগণ নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে শুধু এমন জায়গায় স্বল্প সময়ের জন্য অবস্থান করা যাবে, যেখানে থাকলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো বাধার সৃষ্টি হবে না। তবে কোনো অবস্থাতেই কোনো পর্যবেক্ষক ভোট প্রদানের গোপন কক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন না।
নীতিমালা অনুযায়ী, প্রত্যেক পর্যবেক্ষক তার কাজে কোনো স্বার্থের সংঘাত তৈরি হলে কিংবা অন্য কোনো পর্যবেক্ষকের অসঙ্গত আচরণ দেখলে তা নিজ সংস্থাকে অবহিত করবেন।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তার লক্ষ্যে সংবিধান, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি-বিধান পুরোপুরি অনুসরণ করতে হবে। নির্বাচনি কর্মকর্তাদের কাজে হস্তক্ষেপ এবং কোনো প্রকার নির্বাচনি উপকরণ স্পর্শ বা অপসারণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
এছাড়া পর্যবেক্ষক যদি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য বা প্রার্থীর সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত হন, তবে তিনি দায়িত্ব পালনে অযোগ্য হবেন। পর্যবেক্ষণের পুরো সময়জুড়ে সম্পূর্ণ পক্ষপাতহীনতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। কোনো প্রার্থী বা দলের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো চিহ্ন, প্রতীক বা পরিচয় বহনকারী পোশাক বা অন্য কিছু পরিধান বা প্রদর্শন করা যাবে না।
কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, এজেন্ট বা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার কাছ থেকে কোনো উপহার গ্রহণ, ক্রয়ের চেষ্টা বা কোনো সুবিধা গ্রহণে উৎসাহিত হওয়া যাবে না। একইসঙ্গে নির্বাচন চলাকালীন মিডিয়ার সামনে এমন কোনো মন্তব্য করা যাবে না, যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত বা প্রভাবিত করতে পারে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যসহ ৪ নেতা বহিষ্কার
এক দিনেই ৪ নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ভিন্ন তিনটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিএনপি।
বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন- বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন বুলু, টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা ইঞ্জি. আব্দুল হালিম, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য মজিবুর রহমান এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য ও সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান ফকির।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন বুলুকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
একই সাথে অন্য বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য টাঙ্গাইল জেলাধীন কালিহাতী উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা ইঞ্জি. আব্দুল হালিমকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সাথে তাকে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি পদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আরেক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য মজিবুর রহমান এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য ও সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান ফকিরকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ওয়ারেন বাফেটের সতর্কবার্তা: এই ৫ খাতে খরচ আপনাকে সম্পদশূন্য করে দিতে পারে
আধুনিক জীবনযাপনে শুধু আয় করা নয়, টাকা কীভাবে খরচ করা হয় তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিলাসবহুল জীবনধারা, ব্র্যান্ডের পোশাক, দামি গাড়ি কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের প্রদর্শনের চাপ অনেককেই অজান্তে অর্থ অপচয়ের ফাঁদে ফেলে দেয়। বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগগুরু ওয়ারেন বাফেট বহুবার সতর্ক করেছেন, টাকাকে বিবেচনামূলকভাবে ব্যয় এবং বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বিনিয়োগ করাই প্রকৃত সম্পদ সৃষ্টির মূলমন্ত্র।
বাফেটের জীবন নিজেই এ দর্শনের সবচেয়ে বড় উদাহরণ। শত কোটি ডলারের মালিক হয়েও তিনি সাধারণ জীবনযাপন করেন। তাঁর বিখ্যাত উক্তি, “নিয়ম নম্বর এক: অর্থ হারাবেন না। নিয়ম নম্বর দুই: নিয়ম নম্বর এক কখনো ভুলবেন না” শুধু শেয়ারবাজার নয়, প্রতিটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রযোজ্য।
৯৪ বছর বয়সী এই বিনিয়োগগুরু মনে করেন, যারা জানেন কোথায় টাকা ব্যয় করা উচিত নয়, তারা প্রকৃত অর্থে নিজেদের সম্পদ সুরক্ষিত রাখতে পারেন। তাঁর মতে, নিচের পাঁচটি ক্ষেত্রে কখনো টাকা ব্যয় করা উচিত নয়।
প্রথমত, নতুন গাড়ি কেনা। নতুন চাকরি বা পদোন্নতির আনন্দে অনেকেই গাড়ি কেনাকে সফলতার প্রতীক মনে করেন। তবে বাফেটের মতে, এটি সবচেয়ে বড় আর্থিক ভুলগুলোর মধ্যে একটি। কারণ নতুন গাড়ি শোরুম থেকে বের হওয়া মাত্রই মূল্য হারাতে শুরু করে; পাঁচ বছরের মধ্যে দাম প্রায় ৬০ শতাংশ কমে যেতে পারে। নিজে তিনি চালান ২০১৪ সালে কেনা একটি ক্যাডিলাক এক্সটিএস। তাঁর যুক্তি, গাড়ি হলো চলাচলের মাধ্যম, সম্পদের প্রদর্শন নয়।
দ্বিতীয়ত, ক্রেডিট কার্ডের সুদ। বাফেট বলেন, ক্রেডিট কার্ড ঋণ এমন একটি ফাঁদ, যেখান থেকে বের হতে গিয়ে বড় অংকের অর্থ হারাতে হয়। অনেক দেশে বাৎসরিক সুদের হার ৩০ শতাংশেরও বেশি। অর্থাৎ ১ লাখ টাকা ধার নিলে এক বছরে শুধু সুদেই দিতে হতে পারে ৩০ হাজার টাকার বেশি। তিনি বলেন, “যদি আপনি বুদ্ধিমান হন, তাহলে ঋণ ছাড়াই অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।”
তৃতীয়ত, জুয়া ও লটারি। বাফেট এগুলোকে বলেন “গণিত না জানাদের ওপর কর।” জুয়ার কারণে মানুষ পরিশ্রম ও বাস্তব বিনিয়োগ থেকে দূরে সরিয়ে ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, লটারিতে জেতার সম্ভাবনা প্রায় এক মিলিয়নে এক, তবে হারানোর সম্ভাবনা শতভাগের কাছাকাছি।
চতুর্থত, প্রয়োজনের চেয়ে বড় বাড়ি। অনেকেই সামাজিক মর্যাদা দেখানোর জন্য বড় বাড়ি নিয়ে ব্যয় করেন, যা বাফেটের মতে আর্থিক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। তিনি এখনও থাকেন সেই একই বাড়িতে, যা কিনেছিলেন ১৯৫৮ সালে। তাঁর ভাষায়, “বাড়ি হলো থাকার জায়গা, মর্যাদা দেখানোর নয়।” বড় বাড়ি মানে বাড়তি কর, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ।
পঞ্চমত, জটিল বিনিয়োগ পণ্য। বাফেটের নীতি হলো, “যে ব্যবসা আপনি বোঝেন না, তাতে কখনো বিনিয়োগ করবেন না।” আজকের বাজারে দ্রুত লাভের প্রলোভনে নানা জটিল বিনিয়োগ পণ্য এসেছে। তবে যা সহজে বোঝা যায় না বা ‘দ্রুত ধনী হওয়ার’ প্রতিশ্রুতি দেয়, সেটিই সবচেয়ে বিপজ্জনক। তিনি বলেন, “ঝুঁকি তখনই আসে, যখন আপনি জানেন না আপনি কী করছেন।”
এই দর্শন থেকে তিনটি শিক্ষা স্পষ্ট হয়: প্রয়োজন চিনে ব্যয় করুন, যা বুঝবেন না তাতে বিনিয়োগ করবেন না, আর ব্যয়ের চেয়ে সঞ্চয় ও বিবেচিত বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিন। বাফেটের ভাষায়, “যা খরচ করার পর বাঁচে তা সঞ্চয় করবেন না; বরং যা সঞ্চয় করার পর বাঁচে, কেবল সেটাই খরচ করুন।” এই অভ্যাসগুলো যদি সময়মতো শেখা যায়, অর্থ অপচয় কমে আসে এবং সঞ্চয়ের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী সম্পদ।
নির্বাচন উপলক্ষে নজরদারিতে থাকবে মোবাইল ব্যাংকিং
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কেনা-বেচা ঠেকাতে মোবাইল ব্যাংকিং নজরদাতিতে থাকবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘ভোট কেনা-বেচা ঠেকাতে এবার প্রত্যেকটি আসনে নজরদারি থাকবে মোবাইল ব্যাংকিং। ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মোবাইল এজেন্টগুলোতে নির্দিষ্ট সময়ে অস্বাভাবিক লেনদেন করলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সহকারী রিটানিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চাপ থাকবে না। তিনটি মৌলিক পয়েন্ট–স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তা রেখে নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে। মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের ছয়টি কমিটি কাজ করছে। তাদেরকে তদন্ত ও বিচারিক কাজ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।


