Home Blog Page 2

রেকর্ড দামে ম্যানচেস্টার সিটিতে বুয়াদ্দি

অবশেষে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিলেন লিলের তরুণ মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদ্দি। ১৮ বছর বয়সী মরক্কোর এই ফুটবলারের সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি করেছে ইংলিশ জায়ান্টরা। বুয়াদ্দিকে দলে ভেড়াতে শুরুতেই ৮ কোটি ১৪ লাখ পাউন্ড খরচ করছে ম্যানচেস্টার সিটি। পারফরম্যান্সভিত্তিক বিভিন্ন শর্ত পূরণ হলে ট্রান্সফার ফিতে আরও ৪২ লাখ পাউন্ড যোগ হতে পারে।

এই দলবদলের মধ্য দিয়ে নতুন রেকর্ডও গড়েছেন বুয়াদ্দি। ইংলিশ শীর্ষ লিগের কোনো ক্লাবের ২০ বছরের কম বয়সী খেলোয়াড়কে কেনার ক্ষেত্রে এটিই এখন সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফি। এর আগে রেকর্ডটি ছিল রোমিও লাভিয়ার দখলে। ২০২৩ সালে সাউদাম্পটন থেকে চেলসিতে যোগ দেওয়ার সময় তার জন্য ৫ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড খরচ হয়েছিল।

সিটিতে ৩২ নম্বর জার্সি পরবেন বুয়াদ্দি। নতুন ক্লাবে যোগ দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আজকের দিনটি আমার ও আমার পরিবারের জন্য সত্যিই বিশেষ। আমার কাছে ম্যানচেস্টার সিটিই বিশ্বের সেরা ক্লাব। এখানে আসতে পারা এবং নিজেকে সিটির খেলোয়াড় বলতে পারা আমার স্বপ্ন ছিল।’

সিটির খেলার ধরনও বুয়াদ্দিকে মুগ্ধ করেছে। তিনি বলেন, ‘আমি বহু বছর ধরে সিটির খেলা দেখেছি। তাদের খেলার ধরন আমার ভীষণ ভালো লাগে। সিটি সবসময় মানসম্পন্ন ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। একই সঙ্গে তারা নিজেদের বিজয়ী দল হিসেবেও প্রমাণ করেছে।’

মরক্কোর হয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপেও আলো ছড়িয়েছেন বুয়াদ্দি। দলটির কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথে ছয় ম্যাচের পাঁচটিতে মূল একাদশে ছিলেন এই মিডফিল্ডার। টুর্নামেন্টে তার পারফরম্যান্স নজর কাড়ে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর।

২০২৩ সালে লিলের মূল দলে অভিষেকের পর ফরাসি ক্লাবটির হয়ে ৯৬ ম্যাচ খেলেছেন বুয়াদ্দি। গত মৌসুমে লিগ ওয়ানে লিলের তৃতীয় হয়ে মৌসুম শেষ করার পথেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার।

এবারের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে ম্যানচেস্টার সিটির মাঝমাঠে বড় পরিবর্তন এসেছে। রদ্রিকে ৬ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে বার্সেলোনায়, তিজ্জানি রেইন্ডার্সকে ৫ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডে আল-কাদসিয়াহতে এবং নিকো গনজালেজকে ৫ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের চুক্তিতে নিউক্যাসলে ছেড়ে দিয়েছে সিটি।

২৩ বছর পর দেখা দিলেন হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া সেই অভিনেত্রী

২০০২ সালে মুক্তি পেয়েছিল বিক্রম ভাট পরিচালিত ভৌতিক সিনেমা ‘রাজ’। ডিনো মোরিয়া ও বিপাশা বসু অভিনীত সিনেমাটির গল্পের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিল মালিনী শর্মার। পর্দায় তার রহস্যময় উপস্থিতি, মায়াবী চেহারা এবং পরবর্তী সময়ে ভয়ংকর আত্মার রূপ দর্শকদের মধ্যে তৈরি করেছিল আতঙ্ক। দুই দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ‘রাজ’-এর সেই মালিনীকে এখনো মনে রেখেছেন দর্শকেরা।

মডেলিংয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন মালিনী। বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় মিউজিক ভিডিওতেও দেখা গেছে তাকে। পাশাপাশি টেলিভিশনেও কাজ করেছেন। ফলে অনেকেই মনে করেছিলেন, বলিউডে সামনে আরও বড় পরিসরে দেখা যাবে তাকে। কিন্তু ‘রাজ’-এর পরই ধীরে ধীরে অভিনয় থেকে দূরে সরে যান মালিনী। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও তেমন কোনো খবর সামনে আসেনি।

অভিনয়জীবন থেকে দূরে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জীবন বেছে নিয়েছেন মালিনী। শহরের ব্যস্ততা ছেড়ে মহারাষ্ট্রের সহ্যাদ্রি পাহাড়ের কাছে প্রকৃতির মাঝে বসবাস করছেন তিনি। সেখানে গড়ে তুলেছেন নিজের একটি ফার্মস্টে।

41401 1787750450

এখন চাষাবাদ, রান্না, অতিথি আপ্যায়ন এবং প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোই তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিজের জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন মালিনী। সেই জমিতে উৎপাদিত ফসল দিয়েই ফার্মস্টেতে অতিথিদের জন্য খাবার তৈরি করা হয়।

শুধু থাকার জায়গা হিসেবেই নয়, মালিনীর ফার্মস্টে হয়ে উঠেছে স্থানীয় সংস্কৃতি ও প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি জায়গা। সেখানে স্থানীয় খাবার, হাতে তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী এবং নানা ধরনের কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

মালিনী শুরু করেছেন ‘দ্য স্লো লোকাল’ নামে একটি উদ্যোগও। শহুরে জীবনের ব্যস্ততা থেকে দূরে গিয়ে স্থানীয় খাবার, কৃষি, হস্তশিল্প ও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষকে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। পরবর্তী সময়ে তাঁর এই নতুন জীবনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে ‘দ্য স্লো লোকাল ডায়েরিজ’।

2852 1787750694

দীর্ঘ ২৩ বছর পর সম্প্রতি আবারও ক্যামেরার সামনে ফিরেছেন মালিনী। তবে এবার কোনো সিনেমার চরিত্রে নয়; নিজের বর্তমান জীবন ও অভিজ্ঞতা নিয়েই ক্যামেরার সামনে কথা বলেছেন তিনি। সেখানে উঠে এসেছে বলিউডের ঝলমলে জগত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা তাঁর বর্তমান জীবনযাপন।

একসময় ‘রাজ’-এ ভয়ংকর আত্মার চরিত্রে দর্শকদের আতঙ্কিত করেছিলেন যে অভিনেত্রী, আজ তাকেই দেখা যাচ্ছে পাহাড়-ঘেরা সবুজ পরিবেশে শান্ত জীবন কাটাতে।

বলিউডের আলো থেকে অনেক দূরে গিয়ে চাষাবাদ, প্রকৃতি ও অতিথি আপ্যায়নকে জীবনের অংশ করে নিয়েছেন মালিনী শর্মা। তার এই বদলে যাওয়া জীবন তাই দর্শকদের কাছে বেশ কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে। 

স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ ‘নিখোঁজ’ স্বর্ণ ব্যবসায়ী

চাঁদপুর শহরের ‘এস কে শিল্পালয়’-এর স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাস, তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলেকে হঠাৎ করে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বন্ধক রাখা স্বর্ণ নির্ধারিত সময়ে ফেরত দিতে না পারার অভিযোগের মধ্যেই তাঁদের খোঁজ না মেলায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্বর্ণের মালিকদের মধ্যে। তবে পিন্টু দাস ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজ নাকি আত্মগোপনে রয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বুধবার পিন্টু দাসের নিকটাত্মীয় ও চাঁদপুর শহরের গুয়াখোলা রোডের বাসিন্দা উপমা দে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান। পিন্টু দাস ছাড়াও তাঁর স্ত্রী রিমি, বড় ছেলে প্রিয়ম ও ছোট ছেলে রুপম দাসকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পিন্টু দাস পরিবার নিয়ে চাঁদপুর শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি বিভিন্ন কারণে ঋণগ্রস্ত ছিলেন বলেও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক নিয়ে টাকা দেওয়ার ব্যবসা করতেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ে অনেকের বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত দিতে পারেননি পিন্টু দাস। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার জন্য ঋণ নেওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একাধিকবার দোকান পরিবর্তনের পর প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে শহরের কুমিল্লা সড়কের আখন্দ মার্কেটের নিচতলায় ‘এস কে শিল্পালয়’ নামে ব্যবসা শুরু করেন পিন্টু দাস। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে স্বর্ণের বাজারমূল্যের তুলনায় কম টাকা দিয়ে তা বন্ধক রাখা হতো। তাঁর মূল বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায়।

রঘুনাথপুরের বাসিন্দা মনসুর খানের ছেলে রাসেল খান বলেন, তিনি পিন্টু দাসের কাছে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলেন। পরে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণালংকার নিতে গেলে পিন্টু দাস তাঁকে পরদিন আসতে বলেন। পরে তিনি জানতে পারেন, পিন্টু দাস পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে গেছেন।

রাসেল খান জানান, এ ঘটনায় তিনি চাঁদপুর সদর মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন।

দক্ষিণ গুণরাজদীর বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টু দাসের কাছে বন্ধক রেখেছিলেন বলে দাবি করেছেন। তাঁরাও বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত পাওয়া নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।

চাঁদপুর জুয়েলারি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. মোস্তফা (ফুল মিয়া) বলেন, ‘পিন্টু দাস আমাদের সমিতির সদস্য। তিনি বন্ধক রেখে স্বর্ণের ব্যবসা করতেন বলে আমরা জানি। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মগোপনে থাকতে পারেন। তবে তাঁকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করা প্রয়োজন।’

চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফেরদৌস বলেন, পিন্টু দাস স্বপরিবারে আত্মগোপনে থাকলে তাঁকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়নি।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, ‘পিন্টু দাসসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, বিষয়টি আজই জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তবে জানতে পেরেছি, তাঁর কাছে স্বর্ণ বন্ধক রেখে অনেকে তা ফেরত পাচ্ছেন না। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে এখনো কেউ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেনি।’

এদিকে পিন্টু দাস ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হঠাৎ করে খুঁজে না পাওয়ায় এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। কেউ কেউ তাঁরা আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে ধারণা করলেও পুলিশ বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি।

মন্ত্রিসভা কমিটির সভা ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমানোর তাগিদ

ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমিয়ে আনার তাগিদ এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে পাইলট কর্মসূচির অভিজ্ঞতা থেকে ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমানোর ওপর জোর দেন কোনো কোনো সদস্য। বড় পরিসরে কর্মসূচি বাস্তবায়নের আগে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, কার্ড তৈরি, অর্থ বিতরণ, জনবল, যানবাহনসহ পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর তারা গুরুত্ব দেন।

ফ্যামিলি কার্ড বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ছিল। এর আওতায় পরিবারের প্রধান নারী ব্যক্তির হাতে সরকার প্রতি মাসে দুই হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। চার বছরে দুই কোটি পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাইলট কর্মসূচির পর গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিয়ে গত ফেব্রুয়ারি মাসেই অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে। গতকাল সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ওই কমিটি বৈঠকে বসে।

সূত্র জানায়, বৈঠকে পাইলট পর্যায়ে পরিচালন ব্যয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ৪০ হাজার পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করে পাইলট কর্মসূচিতে প্রায় ৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। এর মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরাসরি সুবিধাভোগীদের ভাতা দেওয়া হয়। বাকি প্রায় ১৪ কোটি টাকা খরচ হয় তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, কার্ড তৈরি ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে। জাতীয় পর্যায়ে দুই কোটি পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে পরিচালন ব্যয় কমানোর দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গতকালের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

সমন্বিত তথ্যভান্ডারের ওপর গুরুত্ব
বৈঠকে জানানো হয়, ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে একাধিক সংস্থার পৃথক তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের পরিবর্তে সমন্বিত তথ্যভান্ডার ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় পরিচয়পত্র, পরিবারভিত্তিক তথ্য এবং বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির তথ্য সমন্বয় করা গেলে একই পরিবারকে বারবার জরিপ করার প্রয়োজন কমবে। এতে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে।

বৈঠকে কার্ড ব্যবস্থাপনাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে। কেউ কেউ বলেন, প্রতিটি কর্মসূচির জন্য নতুন করে কার্ড তৈরি না করে একটি কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা গেলে ভবিষ্যতে কার্ড তৈরি, বিতরণ ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনার ব্যয় কমবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ বিতরণে মধ্যবর্তী ধাপ কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংক হিসাব অথবা মোবাইল ফোনভিত্তিক আর্থিক সেবার মাধ্যমে সরাসরি সুবিধাভোগীর কাছে অর্থ পাঠানো হলে অপচয়, অনিয়ম ও দুর্নীতির ঝুঁকি কমবে। একই সঙ্গে প্রতিটি লেনদেনের তথ্য সংরক্ষিত থাকায় নিরীক্ষা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও সহজ হবে।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই কোটি পরিবারকে মাসে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হলে শুধু নগদ সহায়তা বাবদ বছরে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। ফলে কর্মসূচির পরিধি বাড়ার সঙ্গে শুধু বরাদ্দ বাড়ানো নয়, অর্থ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সুবিধাভোগী নির্বাচনে ভুল, একই পরিবারকে একাধিক সুবিধা দেওয়া কিংবা অযোগ্য ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার মতো ঘটনা ঘটলে সরকারের আর্থিক দায় আরও বাড়তে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, ফ্যামিলি কার্ডকে দীর্ঘ মেয়াদে কার্যকর করতে হলে প্রশাসনিক ব্যয়ের চেয়ে সুবিধাভোগীর হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছানোর অংশ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত নিরীক্ষা, স্বচ্ছ হিসাব ও জবাবদিহির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে কর্মসূচিতে অপচয় কমিয়ে এর মূল লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে।

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ডাচ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত ইউরিস ভ্যান বোমেল। মঙ্গলবার রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে তাঁদের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জামায়াতে ইসলামীর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি, বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় নেদারল্যান্ডস সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বিরোধী দলের বিভিন্ন গঠনমূলক ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বৈঠকের একপর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূতকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন গ্রাফিতি ঘুরে দেখান।

বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি, উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর এবং নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি জাওয়াদ আজাউইসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

শ্রীপুরে নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

গাজীপুরের শ্রীপুরে সুতিয়া নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে একই বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার বাপ্তা-বেলদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই শিক্ষার্থী হলেন বেলদিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রাব্বী (১১) ও একই গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে মুত্তাসীন (১১)। তারা দুজনই বাপ্তা-বেলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার সকালে বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠান শেষে রাব্বী, মুত্তাসীনসহ কয়েকজন সহপাঠী বাড়ির পাশের সুতিয়া নদীতে সাঁতার কাটতে যায়। নদীতে নামার পর একপর্যায়ে একজন পানিতে ডুবে যেতে থাকলে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করে অপরজনও পানিতে নামে। পরে দুজনই পানিতে তলিয়ে যায়।

এ সময় সঙ্গে থাকা অন্য শিশুরা চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে বিষয়টি জানায়। পরে স্থানীয় লোকজন নদীতে নেমে খোঁজাখুঁজি করে রাব্বী ও মুত্তাসীনকে উদ্ধার করেন। তাদের দ্রুত শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। দুই শিশুর পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যেও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীুনুর আলম সমকালকে বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে দুই শিশুর পানিতে ডুবে যাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ বিষয়টি জানতে পারে। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে সুতিয়া নদীতে পানির গভীরতা ও স্রোত বেড়ে যায়। নদীর পাড়ের শিশুরা প্রায়ই সেখানে সাঁতার কাটে। এ ঘটনায় নদীতে শিশুদের সাঁতার কাটার বিষয়ে সতর্কতা ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

চট্টগ্রামগামী বিমানে অসুস্থ হয়ে নারী যাত্রীর মৃত্যু, মাসকটে জরুরি অবতরণ

সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে চট্টগ্রামগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে অসুস্থ হয়ে ছানোয়ারা বেগম (৫৫) নামে এক নারী যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ফ্লাইটটি ওমানের মাসকট বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। পরে বিমানবন্দরের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

বুধবার শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৩৬ ফ্লাইটটি জেদ্দা বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে উড্ডয়নের পর ছানোয়ারা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ফ্লাইটটি মাসকট বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। সেখানে বিমানবন্দরের চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই যাত্রীর মরদেহ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘জেদ্দা থেকে চট্টগ্রামগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে মৃত‍্যুবরণ করা ছানোয়ারা বেগমের বাড়ি চট্টগ্রামে বলে জেনেছি। বিস্তারিত ঠিকানা এখনো পাইনি। মরদেহ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে অন‍্য যাত্রীদের নিয়ে ইতোমধ্যে ফ্লাইটটি মাস্কাট থেকে যাত্রা করেছে। আজ বিকেলে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।’

ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রাজধানীতে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রাজধানীতে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে ফরাজী ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড হসপিটাল লিমিটেড ও মাদানী হসপিটাল লিমিটেড। বুধবার পৃথক সময়ে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও পরামর্শ দেন।

ফরাজী হাসপাতাল বারিধারা ও মাদানী হসপিটালের উদ্যোগে আয়োজিত এসব ক্যাম্পে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ও বয়সের পাঁচ শতাধিক মানুষ চিকিৎসাসেবা নেন। ক্যাম্পে আসা রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ফিজিওথেরাপি সেবায় বিশেষ ছাড়েরও ব্যবস্থা রাখা হয়।

ফরাজী হাসপাতাল বারিধারার সিইও মুহাম্মদ মাঈন উদ্দীন বলেন, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করা এবং চিকিৎসাসেবায় সহযোগিতা করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

মাদানী হসপিটাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ডা. ইব্রাহিম মাসুম বিল্লাহ বলেন, মহানবী (সা.)-এর অনুপম জীবনাচারের অন্যতম দিক মানবসেবা। তাঁর জীবন ও আদর্শ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাঁরা ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে এমন মানবিক আয়োজনকে স্বাগত জানান।

আয়োজকেরা জানান, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) অংশ হিসেবে দুই হাসপাতাল প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার আয়োজন করে। পাশাপাশি বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়।

সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসছে কাল ১৩ স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ হারাচ্ছে বিরোধী দল পদ পেতে সরকারের শর্ত মানতে রাজি নয় বিরোধী দল

সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি বর্জনের কারণে সংসদের ১৩ স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ হারাচ্ছে বিরোধী দল। এ জন্য বিরোধী দলের অনাগ্রহকে দায়ী করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি জানিয়েছেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া সংসদের তৃতীয় অধিবেশনেই কমিটি গঠনের কাজ শেষ হবে। আগের সংসদের রেওয়াজ মেনে এবারের কমিটিও গঠন করা হবে।

যদিও জুলাই সনদ অনুযায়ী, ১৪টি স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে বিরোধী দলীয় সদস্যদের দায়িত্ব পাওয়ার কথা। ত্রয়োদশ সংসদের শুরু থেকেই গণভোটের রায় নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকারের পদ দেওয়ার প্রস্তাব করলেও এর জের ধরে তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় তারা।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম গত রাতে সমকালকে জানান, জুলাই সনদ অনুযায়ী বিরোধী দলের সদস্যদের সভাপতির পদ পেতে সরকারের পক্ষ থেকে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। অনানুষ্ঠানিক এই প্রস্তাবে সরকারের তরফে বিরোধী দলকে বলা হয়েছে, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নিলেই এই পদ পাওয়া যাবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের জন্য সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

সংসদ সচিবালয়ের আইন শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, সংসদের প্রথম তিন অধিবেশনের মধ্যে ৫০টি সংসদীয় কমিটি গঠনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। দুই অধিবেশন শেষে মাত্র ১৫টি কমিটি গঠন হয়েছে। এর মধ্যে মন্ত্রণালয়বিষয়ক ৯টি এবং বিষয়ভিত্তিক কমিটি ছয়টি। বাকি ৩৫টি কমিটি এ অধিবেশনেই গঠন করতে হবে। ৫০টি সংসদীয় কমিটির মধ্যে মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি আছে ৩৯টি। বিষয়ভিত্তিক কমিটি রয়েছে ১১টি।

২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের ২৪ নম্বর সুপারিশে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদের বিষয়ে বলা আছে, সরকারি হিসাব, বিশেষ অধিকার, অনুমিত হিসাব ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতি পদে বিরোধীদলীয় সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে সংসদের আসনের সংখ্যানুপাতে বিরোধী দলের মধ্য থেকে নির্বাচন করা হবে। অর্থাৎ, বিষয়ভিত্তিক চার কমিটি ছাড়াও সংখ্যানুপাতে বিরোধীদের ৯০ সদস্যের বিপরীতে আরও ১০টি সভাপতির পদ বিরোধী দল পাওয়ার কথা। গত দুই অধিবেশনে গঠিত ১৫ স্থায়ী কমিটির মধ্যে সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতির একটি পদ দেওয়া হয়েছে বিরোধী দলকে।

এই সনদের বেশ কয়েকটি বিষয় ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকলেও কমিটি গঠনের এই প্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ৩০টি দল ঐকমত্য পোষণ করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, শর্তারোপের অভিযোগ সঠিক নয়, সংসদীয় কার্যক্রম চলে রেওয়াজ অনুযায়ী। অতীতে সংসদীয় কমিটি গঠনে যে প্রক্রিয়া মেনে হয়েছে, এবারও তাই অনুসরণ করা হবে। তিনি বলেন, জুলাই সনদ পাস হওয়ার পরে সেটা মেনে কমিটি গঠনের বিষয়টি সামনে আসবে। এখন পর্যন্ত সংবিধান সংশোধনই হয়নি।

স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দলকে দিতে সংবিধান সংশোধন বাধ্যতামূলক কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, একজনে হ্যান্ডশেক হয় না। সনদ বাস্তবায়নে বিরোধী দল আন্তরিকতা দেখিয়ে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নিলে সরকারি দলও হাত বাড়াতে পারে। তিনি বলেন, সংসদের অধিবেশনে কমিটি গঠন বা পরিবর্তন যে কোনো সময়েই সম্ভব। তবে এ বিষয়ে তারা প্রথম থেকেই নেতিবাচক আচরণ করছে।

সংক্ষিপ্ত হবে এবারের অধিবেশন
আগামীকাল বিকেল ৩টা থেকে শুরু হতে যাওয়া এই অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হবে বলে আভাস দিয়েছেন সংসদ সচিবালয়ের আইন শাখার কর্মকর্তারা। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার জন্য বসা এই অধিবেশন শুরুর আগে দুপুর ২টায় কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যাবলি চূড়ান্ত করা হবে।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হতে পারে এই অধিবেশনের মেয়াদ। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে ১১ আগস্ট সংসদ অধিবেশন আহ্বান করা হয়। সংবিধান অনুযায়ী, দুটি অধিবেশনের মধ্যবর্তী বিরতি ৬০ দিনের বেশি হবে না। গত ১৫ জুলাই সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হয়। এ হিসাবে আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অধিবেশন শুরুর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সম্মেলন থাকায় কিছুটা আগে অধিবেশন শুরু হচ্ছে। এ অধিবেশনের পর ২১ সেপ্টেম্বর সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সম্মেলনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র যাবেন।

জাতীয় ইস্যুতে সরব থাকতে প্রস্তুত বিরোধী দল 
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, চলমান বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ে তারা সংসদে সরব থাকার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। কার্যপ্রণালি বিধি মেনে এসব ইস্যুতে সংসদে নোটিশ দেওয়ার জন্য নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে। কে, কোন ইস্যুতে নোটিশ দেবেন, তা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করা হচ্ছে।

এ ছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিল এই অধিবেশনে উঠবে। বিলগুলো নিয়ে বিরোধী দল ইতোমধ্যেই তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছেন। সংসদের বৈঠকেও তা যথাযথভাবে তুলে ধরার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

যদিও চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সরকারি দলের পক্ষ থেকেও এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি জানান, এ অধিবেশনটি সংক্ষিপ্ত হলেও এবার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হবে। বিরোধী দল হয়তো কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আসতে পারে। এ ধরনের কোনো ইস্যু এলে নিশ্চয়ই এর ওপর আলোচনা হবে।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদে বিল আকারে উত্থাপনের জন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন ইতোমধ্যে সংসদ সচিবালয়ে জমা হয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া ব্যাংক রেজ্যুলেশন (সংশোধন) আইন এবং র‍্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে নতুন বিশেষায়িত বাহিনী গঠনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইনও বিল আকারে তোলার জন্য শিগগিরই জমা হবে। এসব বিল তোলার পর চলতি অধিবেশনেই পাস হতে পারে।

এদিকে, অধিবেশন শুরুর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিএনপিদলীয় সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ভূমিকম্পের পর বন্যা নেপালে শতাধিক বিদেশি পর্যটকসহ নিখোঁজ ৪০০, নিহত বেড়ে ৩১

নেপালে আকস্মিক বন্যায় ৪০০ জন পর্যটক নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির ট্যুরিজম বোর্ডের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ২৯১ জনই বিদেশি নাগরিক। ১০৫ জন ভারতীয় এবং ১১১ জনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শনাক্ত হওয়া বাকিদের মধ্যে নেপালের স্থানীয়, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশের নাগরিক আছেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ৩১ জন নিহতের তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। নিখোঁজ ও হতাহতের সংখ্যা নিয়মিত বাড়ছে। এই বন্যায় প্রতিবেশী তিব্বতেও ‘ব্যাপক হতাহতের’ খবর দিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি। দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিব্বতে কৈলাস মানসসরোবরে যাওয়া প্রায় ৪০০ তীর্থযাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

এক ব্যক্তিকে নিরাপদ স্থানে নেন উদ্ধারকারীরা। বুধবার নেপালের নুয়াকোট জেলায়। ছবি: এএফপি

এক ব্যক্তিকে নিরাপদ স্থানে নেন উদ্ধারকারীরা। বুধবার নেপালের নুয়াকোট জেলায়। ছবি: এএফপি

বুধবার ভোরে আকস্মিক বন্যায় নেপালের রাসুওয়া জেলায় চীন সীমান্তবর্তী এলাকার কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়। সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল প্রাথমিক তথ্যের বরাত দিয়ে পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, হিমালয় ঘেঁষা চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় সকালে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এরপর শুরু হয় তুষারধস। সেখান থেকে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে তিব্বত অঞ্চলে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। শিশির খানাল জানান, তাঁর দেশ চীনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত ২৬ পুলিশ সদস্য, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং ৪৪ জন সামরিক সদস্য নিখোঁজ আছেন।

নুয়াকোটের ত্রিশুলি বাজারে প্লাবিত এলাকা। ছবি: এএফপি

নুয়াকোটের ত্রিশুলি বাজারে প্লাবিত এলাকা। ছবি: এএফপি

এদিকে দ্য কাঠমান্ডু পোস্টকে কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জলবায়ু গবেষক রিজন ভক্ত কায়স্থ জানিয়েছেন, প্রাথমিক মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, তুষারধস লহেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে দিলে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। একই সময় ভূমিকম্পও অনুভূত হয়।

নেপাল পুলিশ ও এএফপির প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যায়, নদীর প্রবল স্রোত আশপাশের বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কাদামাটির মধ্যে একটি বাড়ির শুধু ওপরের তলা বেরিয়ে আছে। নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তারা হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত সদস্যদের পাঠিয়েছে।

একটি ভবনে আছড়ে পড়ে বন্যার পানি। বুধবার তিব্বতে। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

একটি ভবনে আছড়ে পড়ে বন্যার পানি। বুধবার তিব্বতে। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। বেশ কয়েকটি মহাসড়কও বন্ধ হয়ে গেছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, নেপালের অংশে বন্যার কারণে তিব্বতের গিরং বন্দরে ব্যাপক হতাহত ও বহু মানুষ নিখোঁজ হয়েছে। সিনহুয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এসব প্রতিবেদনে তিব্বতে আহত বা নিহতের সংখ্যা জানানো হয়নি।