Home Blog Page 2

জেএমসি’র ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার (জেএমসি) নিউইয়র্কে বাংলাদেশীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত শীর্ষ স্থানীয় মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। শুধু বাংলাদেশী মুসলিম নয়, অন্যান্য দেশের মুসলিম কমিউনিটির জন্য জেএমসি একটি আদর্শ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। দিনে দিনে মূলধারাতেও বাড়ছে জেএমসি’র গুরুত্ব। আর মুসল্লীদের স্বার্থেই পরিধিও বাড়ছে জেএমসি ভবনের। এজন্যই জেএমসি’র তিনতলা ভবন চার তলায় পরিণত করা হচ্ছে। এজন্য চার মিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বিশাল এই সম্প্রসারণ প্রকল্পের ৫০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই সমাপ্ত হয়েছে। প্রকল্পের বাকী কাজ এগিয়ে চলছে এবং এই প্রকল্প শেষ করতে আরো দুই মিলিয়ন ডলার অর্থের প্রয়োজন। আর এই প্রয়োজন মেটাতেই আয়োজন করা হয় বিশেষ ফান্ডরেইজিং ডিনারের। এতে নগদ, চেক ও প্রতিশ্রুতি মিলিয়ে প্রায় এক মিলিয়ন ডলার সংগৃহীত হয়েছে। গত ২৪ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক লাগোর্ডিয়া এয়ারপোর্ট ম্যারিয়ট হোটেলের বলরুমে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ধর্মীয় ভাব-গম্ভীর পরিবেশে অনুষ্ঠিত বিশেষ ফান্ডরেইজিং ডিনার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন রাওদাহ ইন্সটিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি শেখ ড. জাকির আহমেদ ও জেএমসি’র ডিরেক্টও ইমাম শামসী আলী এবং কীনোট স্পীকার ছিলেন ইন্টারফেইথ স্কলার, ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের সানডিয়াগোর মসজিদ আল রিবাত-এর ইমাম শেখ ওসমান বিন ফারুক। অনুষ্ঠানে ফান্ডরেইজিং-এর মূল পর্ব পরিচালনা করেন জেএমসি’র প্রধান ইমাম ও খতিব মাওলানা মির্জা আবু জাফর বেগ। এসময় ট্রাষ্টিবোর্ড ও ইসি কমিটির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

WhatsApp Image 2026 10 30 at 8.39.35 PM 8

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন কারী নূহ কাওকাব। এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফান্ডরেইজিং কমিটির চেয়ারম্যান আফতাব মান্নান ও জেএমসি’র বোর্ড অব ট্রাষ্টির চেয়ারম্যান ডা. মাহমুদুর রহমান তুহিন। পরবর্তীতে জেএমসি’র সম্প্রসারিত প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন জেএমসি পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা. নাজমুল এইচ খান। এছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জেএমসি’র বোর্ড অব ট্রাষ্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন জেএমসি’র সেক্রেটারী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশী মুসলিম কমিউনিটির সর্ববৃহৎ এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির ফান্ডরেইজিং অনুষ্ঠানে ডা. নাজমুল এইচ খান বলেন, সবার সহযোগিতায় জেএমসি সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। আসন্ন রমজান মাস সমানে রেখে পবিত্র এই মাসের আগেই প্রকল্পটির কাজ সমাপ্ত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তখন জেএমসি দেখে সবার ভালো লাগবে এবং জেএমসিতে পাঁচ হাজারের বেশী মুসল্লী একত্রে নামাজ আদায় করতে পারবেন। ফান্ডরেইজিং অনুষ্ঠানে উপস্থি হয়ে সহযোগিতার জন্য তিনি সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি জেএমসি’র প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ৫০ হাজার ডলার দান করেন। এরমধ্যে কেউ কেউ তার পরিচয় গোপন রাখেন। এছাড়াও অনেকেই ৩০, ২৫, ২০, ১০ হাজার করে এমনকি দুই/এক হাজার ডলার দান করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত নতুন প্রজন্মের কেউ কেউ তাদের জমানো অর্থও দান করে।
অনুষ্ঠানের মাঝে জেএমসি সম্প্রসারণ প্রকল্পের অগ্রগতি ভিডিও’র মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মুসলিম কমিউনিটির সদস্য, জেএমসি’র সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী ও শুভানুধ্যায়ীরা পরিবার-পরিজনসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
জেএমসির কর্মকর্তারা জানান, ১৯৭৬ সালে পুরনো একটি বাড়ীর বেসমেন্টে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের যাত্রা শুরু হয়। প্রথমদিকে সীমিত পরিসরে নামাজের ব্যবস্থা থাকলেও পরবর্তী সময়ে নিজস্ব সম্পত্তি ক্রয়, মসজিদ নির্মাণ ও শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিধি বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে এটি নিউইয়র্কে বাংলাদেশীসহ দক্ষিণ এশীয় মুসলমানদের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়। ১৯৯৭ সালে জেএমসির নতুন মসজিদ ভবন চালু হয়। জেএমসি’র ভবন সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল। বহুল প্রতীক্ষিত এই সম্প্রসারণ পরিকল্পনা অনুযায়ী বর্তমান দ্বিতল ভবনটি উন্নীত হবে চার তলায়। আনুমানিক ৪ মিলিয়ন ডলারের সম্প্রসারণ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে সম্পূর্ণভাবে অনুদানের অর্থে। এই প্রকল্প সম্পন্ন হলে নতুন প্রজন্মসহ সকল বয়সের মানুষের জন্য নতুন এক সুযোগের সৃষ্টি হবে।
জেএমসির কর্মকর্তারা আরো জানান, মুসল্লির সংখ্যা বৃদ্ধি, ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রমের প্রসার এবং শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে জরুরি হয়ে পড়েছে বিদ্যমান অবকাঠামোর সম্প্রসারণ। প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে আরও ২ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। প্রায় পাঁচ দশকের এ প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ বর্তমান চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামো গড়ে তুলবে। অতীতে প্রবাসী মুসলমানদের সম্মিলিত সহযোগিতায় ধাপে ধাপে বিকশিত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। চলমান প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান স্থাপনার পরিসর বৃদ্ধি, ভবনের বিভিন্ন অংশের সমন্বয়, অতিরিক্ত তলা সংযোজন এবং অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোর উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। লিফটের মাধ্যমে চলাচলের সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রবীণদের জন্য ভবনটি আরও ব্যবহারোপযোগী করে তোলা হবে।
উল্লেখ্য, জেএমসির নতুন সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় আরো ৫ হাজার ৬৫০ বর্গফুট আয়তন বাড়বে। ফলে বর্তমান ৯ হাজার ৮৪০ বর্গফুট মিলে মোট আয়তন দাঁড়াবে ১৫ হাজার ৪৩৪ বর্গফুট। বর্তমান দ্বিতীয় তলা থেকে হিফজ স্কুল তৃতীয় তলায় সরানো হলে সেখানে অতিরিক্ত আরো ১৮০জন মুসল্লির নামাজের স্থান সংকুলান হবে। এছাড়া প্রথম তলা থেকে অফিস স্টোরেজ সরালে আরো ৬০ জন মুসল্লির নামাজের জায়গা বাড়বে। বর্তমান ভবনের দুই রুমের মাঝের দেয়াল ভেঙ্গে মিম্বার নিয়ে আসা হবে মাঝামাঝি স্থানে। ইমামের অফিস স্থানান্তর করা হবে চতুর্থ তলায়।
আরো উল্লেখ্য, প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্যোগে নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স বরোর জ্যামাইকার ১৬৮ ষ্ট্রীটে জেএমসি প্রতিষ্ঠিত। এই প্রতিষ্ঠান ঘিরেই জ্যামাইকায় গড়ে উঠেছে বৃহৎ বাংলাদেশী কমিউনিটি। প্রতিষ্ঠানটি মুসলিম কমিউনিটি সহ বাংলাদেশী কমিউনিটির কল্যাণে বিশেষ ভূমিকা রাখার কারণে সিটি প্রশাসন সেন্টারের সামনের রাস্তাটি ১৬৮ স্ট্রীটের একাংশ (হাইল্যান্ড এভিনিউ থেকে গোথিক ড্রাইভ পর্যন্ত) জেএমসি’র নামে নামকরণ করেছে। ২০১৯ সালের ১৫ মার্চ শুক্রবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্ট্রীটের নাম উদ্বোধন করা হয়।

জাতীয় শ্রমিক লীগের প্রয়াত সভাপতি কাজী আজিজুল হক খোকনের স্মরণে শোকসভা

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ গত বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর নিউইয়র্কের বাঙালি অধ্যুষিত জ্যকসন হাইটসের নবান্ন রেস্টুরেন্টে এর পার্টি হলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় শ্রমিক লীগের প্রয়াত সভাপতি কাজী আজিজুল হক খোকনের স্মরণে এক সার্বজনীন শোক সভা ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় । অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনজুর চৌধুরী এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ।
শোকসভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। তাঁরা মরহুমের রাজনৈতিক জীবন, শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে তাঁর অবদান এবং সংগঠনের প্রতি তাঁর নিষ্ঠার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। সুপ্রিয় কাজী আজিজুল হক খোকনের সাথে বিভিন্ন মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বক্তারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

WhatsApp Image 2026 10 30 at 8.39.35 PM
মরহুমের রুহের মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় শ্রমিক লীগের সহসভাপতি টি. মোল্লা।
এতে সম্মানিত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপমন্ত্রী এবং সাবেক সংসদ সদস্য এনামুল হক চৌধুরী শামীম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সারেক সংসদ সদস্য শফিকুল আলম চৌধুরী নাদেল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, ভার্চুয়ালী যুক্ত সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর,ভার্চুয়ালি যুক্ত জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর কুতুব আলম মান্নান, ভার্চুয়ালী যুক্ত জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য নাজমুল আলম রোমেন,যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান,উপদেষ্টা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বাকসু”র সাবেক জিএস ড. প্রদীপ রঞ্জন কর, উপদেষ্টা ও সিনিয়র সাংবাদিক এবং লায়ন হাকিকুল ইসলাম খোকন,উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ,শেখ কামাল সংসদ যুক্তরাষ্ট্র এর সভাপতি ডাঃ মাসুদুল হাসান, গোয়ানঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশা,আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ বখতিয়ার আলী,সাবেক সহকারী এটর্নি জেনারেল এডভোকেট আব্দুর রকীব মন্টু,বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোর্শেদা জামান,নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবর রহমান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক শাহীন আজমল, শেখ হাসিনা স্বদেশ প্রত্যাবর্তন পরিষদের সদস্য সচিব ও নিউইয়র্ক ষ্টেট আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ আতিকুল ইসলাম আতিক,বঙ্গবন্ধু পরিষদ নিউইয়র্ক চ্যাপ্টার এর সভাপতি ও নিউইয়র্ক ষ্টেট আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সাখাওয়াত আলী, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুর রহমান রফিক,সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হোসোইন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আকবর রিচি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল খান আনসারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা হিরু ভূঁইয়া, সাপ্তাহিক ঠিকানার সাবেক প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক হুসনে আরা, শেখ হাসিনা মন্ত্রের সভাপতি জালাল উদ্দিন জলিল, সাধারণ সম্পাদক কায়কোবাদ খান,আওয়ামী লীগ নেএী শাহানারা রহমান.শরিফ কামরুল আলম হিরা,আজিজুর রহমান সাবু,মিজবাহ আহমেদ,ফরিদ আলম,যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মমতাজ শাহনাজ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ নিউইয়র্ক চ্যাপ্টার সভাপতি সাখাওয়াৎ আলী,সহ সভাপতি অধ্যাপক এমএ খালিখ, সাধারণ সম্পাদক সুব্রত তালুকদার, আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাখাওয়াৎ বিশ্বাস,যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি নূরুজ্জামান সরকার,বঙ্গবন্ধু পরিষদ নিউইয়র্ক চ্যাপ্টার সভাপতি সখাওয়াত হোসেন,সহ সভাপতি প্রফেসর এমএ খালিখ,সাধারণ সম্পাদক সুব্রত তালুকদার ।সভায় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এইচ এম ইকবাল,সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ কিবরিয়া জামান,যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানর রহমান চৌধুরী,কমিউনিটি এক্টিভিস্ট মুজাহিদ আনসারী,জহুরুল হক জহির,আতাউল গনি আসাদ,আলী হোসেন গজনবী,আওয়ামী লীগ নেতা ও যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সহ সভাপতি হোসেন সোহেল রানা,আওয়ামী লীগ নেতা ও যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় শ্রমিক লীগের সহ সভাপতি এম. এ. আলম বিপ্লব, নিউজাসি আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল পাননা ,নাফিকুর রহমান তোরান,যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সহ সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক আনোয়ার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মইজুর লস্কর জুয়েল, শেখ জামাল হুসেন ও ইফজাল চৌধুরী, জয়নাল আবেদীন জয় (জেড. এ. জয়), সাবেক জাহাঙ্গীর এইচ. মিয়া, জনি সিকদার, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগসহ সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী, ।খন্দকার জাহিদুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম,প্রভাত কুমার,ফুয়াদ হোসেন,সাইদুল ইসলাম সাঈদ,সাজ্জাদ হোসেন, তাজ্জুদ হোসেন , অধ্যক্ষ বশির আহমদ, সহসভাপতি, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় শ্রমিক লীগ।শিবলী সাদিক, মাহি উদ্দিন মাহী, শহিদুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম আমিন,হেলাল মিয়া,।আহমেদ নূর আবির,মাহমুদুল হাসান, হৃদয় মিয়া, কামাল উদ্দিন,আব্দুল কুদ্দুস টিটু,মোস্তাফিজুর রহমান লিটন,আনিসুর রহমান আনিস,মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া রুমি, জামাল আহমেদ, আছাদ সুমন, সরওয়ার রিপন, তুষার, পারভেজ, শাহীন, জহিরুল ইসলাম, রিটন সরকার, হাসান মোল্লা ও জাহিদ শাওনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।এ ছাড়া আর উপস্থিত ছিলেন কবি সালেহা খাতুন, রেহানা আবেদীনসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

WhatsApp Image 2026 10 30 at 8.39.35 PM 10
মরহুম কাজী আজিজুল হক খোকনের পরিবারের পক্ষ থেকে তার আপন ভাতিজা জিদান কাজী বক্তব্যে রাখেন দলমত নির্বিশেষে যুক্তরাষ্ট্রের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি শোকসভায় বক্তারা মরহুম কাজী আজিজুল হক খোকন এর রাজনৈতিক আদর্শ, সাংগঠনিক দক্ষতা, সহযোদ্ধাদের প্রতি আন্তরিকতা এবং শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে তাঁর অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, তাঁর মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় শ্রমিক লীগ একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে হারিয়েছে, যা সংগঠনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। পরিশেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং মহান আল্লাহর কাছে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার জন্য দোয়া করা হয়। পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মরহুম কাজী আজিজুল হক খোকনকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এই প্রার্থনা করেন ।শেষে সবাইকে নৈশভোজে আপ্যায়নের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয় ।

নিউইয়র্ক সিটির ৩ হাজার গাড়িতে থাকবে গতি নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ সড়কে অতিরিক্ত গতি কমাতে আরও ২ হাজার সরকারি গাড়িতে গতি নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি যুক্ত করবে নিউইয়র্ক সিটি। আগামী তিন বছরে এই সম্প্রসারণের মাধ্যমে সিটির মোট ৩ হাজার গাড়ি ‘ইন্টেলিজেন্ট স্পিড অ্যাসিস্ট্যান্স’ বা আইএসএ প্রযুক্তির আওতায় আসবে।
মেয়র জোহরান মামদানি এবং ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেসের (ডিসিএএস) কমিশনার ইউমে কিতাসেই এ ঘোষণা দিয়েছেন। পথচারী, সাইকেল আরোহী ও গাড়িচালকদের নিরাপত্তা বাড়ানো এবং সিটির নিজস্ব গাড়িবহরে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো কমানো এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
আইএসএ প্রযুক্তি যেভাবে কাজ করে, তা হলো—কোনো গাড়ি স্থানীয় গতিসীমা অথবা ডিসিএএস নির্ধারিত গতির সীমা অতিক্রম করলে প্রযুক্তিটি গাড়ির আরও গতি বাড়ানোর ক্ষমতা সীমিত করে দেয়।
কুইন্স থিয়েটারে আয়োজিত সিটির ১১তম বার্ষিক ভিশন জিরো ফ্লিট সেফটি ফোরামে এই সম্প্রসারণের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই অনুষ্ঠানে ১০০টি স্কুলবাসে পরীক্ষামূলকভাবে পথচারীদের সতর্ক করার প্রযুক্তি যুক্ত করার কথাও জানানো হয়।
নিউইয়র্ক সিটি স্কুল বাস আমব্রেলা সার্ভিসেসের (এনওয়াইসিএসবিইউএস) সঙ্গে যৌথভাবে এই পরীক্ষা চালাবে ডিসিএএস। বাস মোড় নেওয়ার সময় আশপাশের মানুষকে সতর্ক করার ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা হবে এই পরীক্ষায়।
মেয়র মামদানি বলেন, সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সব নিউইয়র্কবাসীর কাছে যে উচ্চ মান প্রত্যাশা করা হয়, সিটির কর্মীদেরও তা মেনে চলতে হবে। সিটির নিজস্ব গাড়িবহর থেকেই সেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চায় প্রশাসন।
ডিসিএএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে মাত্র ৫০টি গাড়ি নিয়ে আইএসএ কর্মসূচির পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এক হাজারের বেশি সিটি গাড়িতে এই প্রযুক্তি রয়েছে। প্রযুক্তিসংবলিত গাড়িগুলো সম্মিলিতভাবে এক কোটির বেশি মাইল চলেছে।
ডিসিএএস এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগের ভলপি ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেমস সেন্টারের এক গবেষণায় দেখা গেছে, আইএসএযুক্ত গাড়িগুলোতে গতিসীমা লঙ্ঘন ৬৪ শতাংশ কমেছে। মহাসড়কসহ বেশি গতিতে চলাচলের সড়কগুলোতে তা কমেছে ৮২ শতাংশ।
নতুন এই সম্প্রসারণ মেয়রের ১০ বছর মেয়াদি সড়ক নিরাপত্তা পরিকল্পনা ‘ভিশন জিরো রিইম্যাজিনড’-এর অংশ। এটি ২০২৬ সালের জুলাইয়ে স্বাক্ষরিত নির্বাহী আদেশ ১৯-এর উদ্যোগকেও এগিয়ে নেবে।
ওই আদেশে জরুরি সেবার বাইরে ব্যবহৃত সিটির সব ট্রাকে পথচারীদের সতর্ক করার ব্যবস্থা যুক্ত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন কেনা অজরুরি সেবার গাড়ি ও ট্রাকে পথচারী সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং আইএসএ প্রযুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ডিসিএএসের ফ্লিট অফিস অব রিয়েল টাইম ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ৩০ হাজারের বেশি সিটি গাড়ি ও স্কুলবাসের অবস্থান এবং গতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। আইএসএ পরিচালনায় প্রয়োজনীয় গতিসীমার মানচিত্র, ট্র্যাকিং ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তিও তদারক করে এই দপ্তর।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। অতিরিক্ত গতির গাড়ির ধাক্কায় ছেলে স্যামিকে হারানো ‘ফ্যামিলিজ ফর সেফ স্ট্রিটস’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অ্যামি কোহেন বলেন, এ ধরনের প্রযুক্তি একই রকম মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে।
ঘোষিত সম্প্রসারণটি সিটির নিজস্ব গাড়ির জন্য প্রযোজ্য। পাশাপাশি বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত গাড়িতেও এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক নিরাপত্তাকর্মী ও সিটি কাউন্সিল সদস্য লিংকন রেস্টলার।

তাসিনের শেষ বিদায়

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ গভীর ভালোবাসায় শেষ বিদায় জানানো হলো নৃত্যশিল্পী ও শিক্ষক তাসিন ফেরদৌসকে। ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের ফরেস্ট হিলসের ফরেস্ট পার্ক ফিউনেরাল হোমে তার জানাজা ও শেষ বিদায়ের আয়োজনে সমবেত হন শত শত মানুষ। প্রিয়জনকে হারানোর বেদনায় শোকাতুর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
তাসিন ছিলেন নিউইয়র্কের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আর্টসের (বিপা) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও শৈল্পিক পরিচালক অ্যানি ফেরদৌস এবং প্রকৌশলী জাফর আহমেদ দম্পতির একমাত্র কন্যা। গত ১৮ অক্টোবর রোববার ভোরে নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সের জ্যামাইকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৩৫ বছর। তিনি স্বামী, শিশুপুত্র লুকাস, বাবা-মাসহ অসংখ্য স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
তাসিনকে শেষ বিদায় জানাতে উপস্থিত হন নিউইয়র্কের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শিল্পী ও সংগঠক, বিভিন্ন সামাজিক ও কমিউনিটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বন্ধু ও স্বজনেরা। মানুষের ভিড়ে ফিউনেরাল হোমে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। কেউ এসেছিলেন তাসিনকে শেষবারের মতো দেখতে, কেউ শোকাহত বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়াতে। অনেকের হাতে ছিল ফুলের গুচ্ছ। কেউ নীরবে চোখের জল মুছছিলেন, কেউ স্মৃতিচারণ করছিলেন সদা হাস্যোজ্জ্বল, প্রাণবন্ত ও প্রতিভাবান তাসিনকে নিয়ে।
জানাজা শেষে পরদিন ২৩ অক্টোবর শুক্রবার সকালে ফরেস্ট পার্ক ফিউনেরাল হোমে বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এরপর সকাল ১১টার দিকে মাসপেথের মাউন্ট ওলিভেট সেমিট্রিতে তাসিনের মরদেহ সমাহিত করা হয়।

ড. মোস্তফা সারওয়ারের ‘সানফ্লাওয়ার উউন্ডস’-এর সফল হিউস্টন ওপেন হাউস

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ ১০ অক্টোবর এক চমৎকার শরতের বিকেলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টনের ক্লিয়ার লেকে প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে এক ঘরোয়া পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ড. মোস্তফা সারওয়ারের অত্যন্ত প্রশংসিত ও গভীর মর্মস্পর্শী কাব্যগ্রন্থ ‘সানফ্লাওয়ার উউন্ডস’-এর ঐতিহাসিক প্রথম প্রি-অর্ডার বুক ট্যুর ইভেন্ট।

একটি ফরাসি বহুজাতিক কোম্পানির উচ্চপদস্থ নির্বাহী সোহেনি তানজীমা এবং সিনিয়র বিজ্ঞানী ও জিওফিজিসিস্ট ড. ফারুক আকবরের সুনিপুণ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই ইভেন্টটি দারুণ সাফল্য অর্জন করে। অনুষ্ঠানে সুস্বাদু আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয় এবং নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবক ডা. সৈয়দা সারওয়ার (এমডি), শাইনা, রাইসা এবং টোবা একটি উষ্ণ ও নিরবচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করেন। সম্প্রদায়ের স্বতঃস্ফূর্ত উচ্ছ্বাসের প্রতিফলন ঘটিয়ে এই সমাবেশে মোট ৪০টি প্রি-অর্ডার সম্পন্ন হয়, যা আগামী ১৬ মার্চ, ২০২৭-এ ইউনিভার্সিটি অব নিউ অরলিন্স প্রেস থেকে বইটির প্রাতিষ্ঠানিক প্রকাশের দিন সরবরাহ করা হবে। গ্রন্থটির বৈশ্বিক পরিবেশনা পরিচালনা করছে জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটি প্রেসের এইচএফএস বুকস ।

এক শক্তিশালী বিক্রয় বার্তা : কবিতার মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী
‘সানফ্লাওয়ার উউন্ডস’ আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে গভীর সাড়া ফেলেছে; লাইভস্ট্রিম ও ডিজিটাল ফিডের মাধ্যমে কীভাবে আধুনিক বর্বরতা আমাদের সামনে উন্মোচিত হয় তা এই গ্রন্থে নিপুণভাবে ধরা পড়েছে। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ গণহত্যার এক বীর প্রতিকূলতার উত্তরসূরি হিসেবে ড. সারওয়ার সমসাময়িক যুদ্ধাবস্থাকে—ইউক্রেন থেকে ভিয়েতনাম—একই করুণ ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখেন। এই মর্মস্পর্শী অনুভূতি কাব্যগ্রন্থটিকে প্রকাশের বহুদূরে থাকতেই এক দুর্লভ মাইলফলকে পৌঁছে দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে ৬টি মহাদেশের (উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া) ৩৩টি দেশে—যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক, তুরস্ক, রোমানিয়া, লিথুয়ানিয়া, ভারত, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, ইউএই, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, মেক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, মিশর ও দক্ষিণ আফ্রিকা—প্রকাশের কয়েক মাস আগেই এর প্রি-অর্ডার শুরু হয়ে গেছে।

প্রারম্ভিক সমালোচকীয় প্রশংসা: বুকলাইফ “এডিটরস পিক” পাবলিশার্স উইকলির বুকলাইফ বিভাগ এই কাব্যগ্রন্থটিকে “এডিটরস পিক” (Editor’s Pick) হিসেবে ভূষিত করেছে, এবং এটিকে “প্রদীপ্ত, মর্মস্পর্শী, চমৎকার ও শক্তিশালী” বলে প্রশংসা করেছে। পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয় যে, সারওয়ারের কবিতাগুলো “গ্লোবাল-ইকো ডকুমেন্ট পোয়েট্রি”-র পক্ষে এক অনন্য যুক্তি উপস্থাপন করে, যা সাম্রাজ্যবাদী সহিংসতার সার্বজনীন কৌশলগুলোকে উন্মোচিত করে এবং ডিজিটাল মাধ্যমে দেখা বিশৃঙ্খলাকে এক গভীর মানবিক বেদনায় রূপান্তরিত করে।” সমালোচক এবং শিক্ষাবিদ উভয় মহলই এই গ্রন্থটিকে সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও সংপ্রভাবী আশার এক মাস্টারপিস হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

লেখক পরিচিতি ড. মোস্তফা সারওয়ার একাধারে একজন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও কবি। তিনি নিউ অরলিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস ও সাবেক অ্যাসোসিয়েট প্রভোস্ট, এবং পূর্বে ডেলগাডো কমিউনিটি কলেজের ডিন, ভারপ্রাপ্ত ভিসি ও প্রভোস্টসহ বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। লুইসিয়ানার নিউ অরলিন্সের বাসিন্দা ড. সারওয়ারের ইতিপূর্বে তিনটি বহুল প্রশংসিত বাংলা কাব্যগ্রন্থ (বিনষ্ট রূপান্তরের বিকারতত্ত্ব, অনুলিপি: অন্তরঙ্গ মুহূর্তে, এবং প্রার্থিত নির্বাসনের উন্মাদ পদাবলী) প্রকাশিত হয়েছে, এবং তাঁর সাহিত্যকর্ম বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের নানা সাময়িকীতে বিস্তৃতভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

‘সানফ্লাওয়ার উউন্ডস’ বইটির প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য নিম্নোক্ত ব্যক্তিবর্গকে বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয়েছে: সেলিনা রহমান, অলি আহমেদ, ড. ইশরাত গাজী, এমরান গাজী, সালেকিন চৌধুরী, জুবেদা চৌধুরী, ড. সাফানা হাসান, ড. আবু আসাদ, ডলি আসাদ, মনজুর চৌধুরী, বিনু চৌধুরী, লিসা জামান, মোহাম্মদ বাকী, সৈয়দা বাকী, কাজী হক, হেলেন হক, ড. সাব্বির হোসেন, ল্যূসি হোসেন, মোহাম্মদ লুৎফর রহমান, মাহমুদা বেগম, মো. নাসিমুজ্জামান, সৌদা মনিরা, সিরাজুল হাসান, সোনিয়া মাহজাবিন, ড. সাজাদুল হাসান, আফরোজা সাজাদুল, সাব্বির আশরাফ এবং ওশিমী শিমু।

জাতীয় পার্টি যুক্তরাষ্ট্র শাখা উপজেলা দিবস পালন

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ গত ২৪শে অক্টোবর শনিবার এ্যাষ্টোরিয়া বৈশাখী রেস্টুরেন্ট মিলানায়তনে সন্ধ্যা সাত ঘটিকায় জাতীয় পার্টি যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী চান্দুর পরিচালনায় বাংলাদেশের গরিব শ্রমিক মেহনতী মানুষের জন্য সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সাহেব উপজেলা পরিষদ গঠন করেছিলেন। আজ উপজেলা দিবসের একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরোও বক্তব্য রাখেন জাপার উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস মজুমদার, সাবেক কমিশনার মোহাম্মদ আলী, জাপার উপদেষ্টা জসিম চৌধুরী, জাপার সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট হারিস উদ্দিন আহমেদ, সহ সভাপতি ডাঃ মোহাম্মদ সেলিম, সহ সভাপতি শফিউল আলম , যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল করিম, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মীর জাকির, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা জেসমিন আক্তার চৌধুরী, যুব বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মোতালেব, যুগ্ম প্রচার সম্পাদক ওয়াহিদ ফেরদৌস, সদস্য মোঃ মুসলিম, সদস্য মহসিন আলী, মহিলা সভানেত্রী ডা. নারগিস আহমেদ, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মুজিবুর রহমান, সভার শুরুতে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতে উপস্থিত সবাই দাড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করা হয় এবং সকলে উপজেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠাতা পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সাহেবের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বক্তব্যে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মানবতার কথা উল্লেখ করেন। পল্লীবন্ধু উপনিবেশ ও ব্যবস্থা ভেঙে সাধারণ মানুষের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন। উপজেলা পর্যায়ে ১৮টি দপ্তরে বিসিএস কর্মকর্তা নিয়োগ করে মানুষের চিকিৎসা, শিক্ষা, কৃষি, পশুপালন, মৎস্য চাষের বৈপ্লবিক উন্নতি সাধন করেছিলেন। শহরের সেবা গ্রামীণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দিয়েছিলেন পল্লীবন্ধু। উপজেলা পর্যায়ে বিভাগীয় পর্যায়ে হাইকোর্ট ব্রাঞ্চ স্থাপন করে আইনি সেবা মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করেছেন পল্লী বন্ধু এরশাদ। পল্লীবন্ধু এরশাদ উপজেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করে জনগণের কাছে জবাবদিহিতামূলক একটি শাসন সৃষ্টি করেছিলেন।
জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি মরহুম পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এর প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণের অনন্য সৃষ্টি উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তন। উপজেলা দিবস আজ বাংলার ১৮ কোটি মানুষের সেই স্বপ্নের উপজেলা। সেই দিনের উপজেলা অনেক স্মৃতি কারণ উপজেলা আদালত ছিল মানুষ ঘর থেকে ভাত খাইয়ে পায়ে হেঁটে উপজেলা আদালতে বিচার চাইতে যাইতেন। এখন শুধু উপজেলা একজন নির্বাহী অফিসার মাত্র দেখাশোনা করেন উপজেলা থেকে মানুষ কোন সুবিধা পাইতেছে না।
কেন উপজেলা ছিল ইতিহাস বদলে দেওয়া পদক্ষেপ? স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ পরিচালিত হয়েছে “কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ” দিয়ে। ঢাকায় সিদ্ধান্ত, ঢাকার বাজেট ঢাকার প্রভাব। কিন্তু এরশাদ প্রথম বুঝলেন-ঢাকা নয়, আসল বাংলাদেশ বাস করে গ্রামে।

আদালতের নিষেধাজ্ঞা: বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশনের জরুরী সংবাদ সম্মেলন

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ আদালতের নির্দেশে ¯’গিত হয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের অন্যতম ব…হৎ সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকের নির্বাচন-২০২৬। সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তা ওসমান চৌধুরীর সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগে তার (ওসমান চৌধুরী) দায়ের করা মামলায় কুইন্স কাউন্টি সুপ্রিম কোর্ট গত ২৩ অক্টোবর শুক্রবার সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ২৫ অক্টোবর রোববার এই নির্বাচন হওয়ার কথা ছিলো। ভোটগ্রহণের মাত্র দুই দিন আগে আদালত এই সিদ্ধান্ত দিয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি প্রথমে ৫ নভেম্বর জানানো হলেও পরবর্তীতে শুনানীর তারিখ ধার্য্য করা হয়েছে ১৭ নভেম্বর। এর ফলে ৩৫ হাজার ২১৫ জন ভোটারের অংশগ্রহণে নির্ধারিত নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এদিকে আদালতের সিদ্ধান্তের পর নির্বাচন কমিশন শুক্রবার সন্ধ্যায় জরুরী সংবাদ সম্মেলনে উদ্ভুতপরি¯ি’তিতে গভীর দু:খ প্রকাশ করে বলেছেন ওসমান চৌধুরীর মামলার নিষ্পত্তির দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়া হবে। খবরইউএনএ’র।
আদালতের নথি অনুযায়ী, বিচারক চেরি এ বাগস ২৫ অক্টোবরের নির্ধারিত নির্বাচন আয়োজনের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেন। একই সঙ্গে ওসমান চৌধুরীর সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান সংক্রান্ত ২৮ আগস্টের সদ্ধান্ত কার্যকর না করার এবং ভোটার তালিকা, সদস্যপদের আবেদনপত্র, চাঁদা পরিশোধের হিসাব ও নির্বাচনী ব্যালটসহ গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। আদেশ অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা কিংবা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা যাবে না।সটির এলমহার্স্ট¯’ বাংলাদেশ সোসাইটির নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে আদালতের আদেশ ও উদ্ভূত পরি¯ি’তি তুলে ধরেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের। এসময় নির্বাচন কমিশনের সদস্য বদরুল এইচ. খান, মোহাম্মদ শামসুদ্দীন আজাদ, মোহাম্মদ রুহুল আমিন সরকার, আহবাব চৌধুরী, মিঠু হামিদ ও মোহাম্মদ দুলাল মিয়া এবং সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ও কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া রুমি সহ অন্যান্য কর্মকর্তা এবং ট্রাষ্টি বোর্ডের সদস্য আব্দুর রহীম হাওলাদার, আজিমুর রহমান বুরহান, আতরাউল আলম, নাঈম টুটুল প্রমুখ উপ¯ি’ত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নির্বাচন কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ রুহুল আমিন সরকার। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের, সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ও কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া রুমি।সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের বলেন, ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনের জন্য আমাদের শতভাগ প্র¯‘তি সম্পন্ন হয়েছে। কিš‘ আদালতের আদেশে নির্বাচন আপাতত: ¯’গিত হওয়ায় হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হ”েছ, আমরা দু:খিত, ভারাক্রান্ত। মামলাটি মোকাবেলা করার জন্য বৃহস্পতিবার বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কোর্টে ছিলাম। কিš‘ বৃহস্পতিবার কোন শুনানী না হওয়ায় আজ শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আবারও আমরা কোর্টে উপ¯ি’ত ছিলাম। সাথে আমাদের এটর্নীও ছিলেন। আবু নাসের বলেন, এদিন সকাল ১০টার দিকে কোর্টে বাদী ওসমান চৌধুরীর সাথে মামলা নিয়ে কথা বসোসাইটির স্বার্থেও কথা বলি। ২০১৮ সাল থেকে এই মামলাটি চলছে। তিনি বলেন, আদালতে জজ না থাকায় জজ-এর সেক্রেটারী আমাদের উভয় পক্ষের এটর্নীর বক্তব্য শুনেন এবং পরবর্তীতে বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে আদালের সিদ্দান্তের কথা জানান।
আবু নাসের আবেগ-আপ্লাত কন্ঠে বলেন, আমরা অক্লান্ত চেষ্টা করেছি কমিউনিটির আমানত রক্ষা করার।
কিš‘ শত চেষ্টার পরও আজকে আমাদের এই অনাকাংখিত পরি¯ি’র শিকার হতে হয়েছে। আমরা আইনগতভাবে মামলা মোকাবেলা করে সত্তর নির্বাচনের ব্যব¯’া করবো।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে আবু নাসের বলেন, ওসমান চৌধুরী সোসাইটির বিরুদ্ধে বারবার মামলা করার কারনে তার বিরুদ্ধে রেজুলেশন নেয়া হয়েছে। তাতে তার ভোটার না হওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। কিš‘ কোনভাবে সে ভোটার হন এবং সোসাইটি তার ভোটার বাতিল করলে ওসমান চৌধুরী আদালতে সেই বিষয়টি তুলে ধরে মামলা করেছেন।
এছাড়াও আরো অনেক পয়েন্ট রয়েছে যার প্রেক্ষিতে নির্বাচন ¯’গিতাদেশ হয়েছে। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, সোসাইটির গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির মাধ্যমে ওসমান চৌধুরীর বিষয়ের সিদ্ধান্ত সাধারণ সভায় পাশ হয়। তিনি বলেন, সোসাইটির বিরুদ্ধে যে কেউ মামলা করতে পারেন তবে তাকে তার অভিযোগ সোসাইটির কার্যকরী পরিষদ ও ট্রাষ্টিবোর্ড-কে জানাতে হবে। তার অভিযোগ কার্যকরী কমিটিকে জানালেও ট্রাষ্টিবোর্ড জানে কিনা তা জানিনা। এসময় তিনি ওসমান চৌধুরীর ভোটার হওয়া এবং পরবর্তীতে তা বাতিল হওয়ার ব্যাখ্যা দেন। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে আবু নাসের বলেন, মামলার পিছনে কোন ‘গড ফাদার’ আছে কিনা তা আমাদের জানা নেই।
এদিকে মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার উদ্দেশ্যে সাধারণ সদস্যপদের জন্য আবেদন করেছিলেন ওসমান এ চৌধুরী। তার দাবি, নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন ও ২০ ডলার ফ জমা দেওয়ার পরও বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যনির্বাহী কমিটি গত ২৮ আগস্ট সর্বসম্মতিক্রমে তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর পাঠানো প্রত্যাখ্যানপত্রে সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চলমান মামলা এবং গঠনতন্ত্রের নবম অনু”েছদের ৬ নম্বর ধারার উল্লেখ ছিল। ওসমান চৌধুরীর অভিযোগ, অতীতে সংগঠনের নির্বাচনী অনিয়ম ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার কারণেই তার সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ সিদ্ধান্তের ফলে তনি এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তবে সদস্যপদ প্রত্যাখ্যানের পেছনে প্রতিশোধমূলক উদ্দেশ ছিল- এটি বাদীর অভিযোগ থাকলেও আদালতে এখনো তা প্রমাণিত হয়নি। একইভাবে কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়েও সচূড়ান্ত রায় হয়নি।
অপরদিকে সোসাইটির সদস্যপদ প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি বাংলাদেশ সোসাইটির গঠনতন্ত্রের নবম অনু”েছদের ৬ নম্বর ধারার বৈধতাও চ্যালেঞ্জ করেছেন বাদী। তার যুক্তি, নবম অনু”েছদের ৬ নম্বর ধারারটি নউইয়র্কের প্রচলিত আইন ও জননীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং সদস্যদের আইনি প্রতিকার চাওয়ার অধিকার সীমিত করে। জানা গেছে, নিউইয়র্কের সিভিল প্র্যাকটিস ল অ্যান্ড রুলসের আর্টিকেল ৭৮-সহ সংশ্লিষ্ট বিধানের অধীনে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। বাদী সদস্যপদ প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত বাতিল, তাকে বৈধ সদস্য হসেবে অন্তর্ভুক্ত বা পুনর্বহাল এবং সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার যোগ্যতা স্বীক…তির আবেদন জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, মামলার নথিতে গঠনতন্ত্রের সংশ্লিষ্ট ধারা ও কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিরোধের কথা উঠে এলেও এসব বিষয়ে সবাংলাদেশ সোসাইটির পূর্ণাঙ্গ আইনি জবাব বা বিস্তারিত পাল্টা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আগের নির্বাচন নিয়েও অভিযোগ: বর্তমান মামলায় ওসমান চৌধুরী সোসাইটির আগের নির্বাচন নিয়েও একাধিক অভিযোগ তুলেছেন। এর মধ্যে রয়েছে উ”চ মনোনয়ন ফি নির্ধারণ, যথাযথ আবেদনপত্র ছাড়া সদস্য অন্তর্ভুক্তি এবং অন্যের সদস্যপদের চাঁদা পরিশোধের মাধ্যমে ভোটার তালিকা প্রভাবিত করার অভিযোগ। ২০১৮ সালের নির্বাচনসংক্রান্ত বিরোধে এক রাতে প্রায় ২৭ হাজার কথিত ভুয়া সদস্য অন্তর্ভুক্তির অভিযোগও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীর দাবী, এসব বিষয়ে সংগঠনের অভ্যন্তরে অভিযোগ জানিয়েও তিনি কার্যকর প্রতিকার পাননি। পরে আদালতের দ্বার¯’ হন। তার অভিযোগ, অতীতের আইনি পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় এবারও তাঁকে নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা বর্তমান সাময়িক আদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কথিত ভুয়া সদস্য অন্তর্ভুক্তি, আর্থিক অনিয়ম কিংবা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারসাজির অভিযোগে আদালতের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথাও এই আদেশে উল্লেখ নেই। ফলে অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপ¯’াপনের সুযোগ নেই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়, অপেক্ষা পরবর্তী শুনানির: আদালতের নথি অনুযায়ী, মামলাটির নম্বর ৭৩২১৭৪/২০২৬। বিবাদীদের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকরপোরেটেড, সভাপতি এস এম এ রহমান ওরফে সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া (রুমি) এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের।
আদালত প্রথমে ৫ নভেম্বর সকাল ১০টায় কুইন্স সুপ্রিম কোর্টের পার্ট ২৩, কক্ষ ১৪০-এ পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হলেও পরবর্তীতে শুনানীর দিন ধার্য্য করা হয়েছে ১৭ নভেম্বর।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন ঘিরে ২০১৮ সালেও ভোটার তালিকা, সদস্যপদ ও নির্বাচন পরিচালনার নিয়ম নিয়ে আইনি বিরোধ দেখা দিয়েছিল। আট বছর পর আবারও নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে আদালতের হস্তক্ষেপ সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তি, সদস্যদে অধিকার এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্ব”ছতা নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে মানবাধিকারকে রাখতে হবে: আইরিন খান

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণ ও বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মানবাধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন জুবাইদা খান। আজ নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘দ্য পলিটিক্যাল ইকোনমি অব হিউম্যান রাইটস’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এক সংলাপে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রদূত আইরিন খান বলেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রকৃত মানদণ্ড কেবল প্রবৃদ্ধি নয়; বরং তা মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, বৈষম্য হ্রাস এবং মানবিক মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে কতটা ভূমিকা রাখছে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। এ লক্ষ্যে ন্যায্য করব্যবস্থা, সাশ্রয়ী উন্নয়ন অর্থায়ন, টেকসই ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বলেন, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা ক্রমেই অল্পসংখ্যক ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। একই সঙ্গে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি, ঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝা ও অর্থনৈতিক বৈষম্য মানবাধিকার সুরক্ষার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।আলোচনায় বক্তারা বলেন, সংঘাত, ঋণ পরিশোধের উচ্চ ব্যয় ও উন্নয়ন সহায়তা হ্রাসের কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব সংকট মোকাবিলা, কাঠামোগত বৈষম্য দূর করা এবং ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় ন্যায়সংগত আন্তর্জাতিক করব্যবস্থা, ঋণ পুনর্গঠনে ন্যায্যতা, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি এবং নাগরিক সমাজের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর তাঁরা গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশ, মরক্কো, দক্ষিণ আফ্রিকা ও উরুগুয়ের জাতিসংঘ স্থায়ী মিশনের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সংলাপে দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি এবং মানবাধিকার ও উন্নয়নবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। আলোচনায় আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থার সংস্কার এবং ২০৩০-পরবর্তী বৈশ্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় মানবাধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। -প্রেস বিজ্ঞপ্তি

জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদন বাংলাদেশিদের জোর করে যুদ্ধে পাঠিয়েছে রাশিয়া

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৯টি দেশের নাগরিকদের প্রতারণার মাধ্যমে জোরপূর্বক রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করানোর প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ। ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে গঠিত জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মানবাধিকার কমিটির কাছে এই প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদন বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে প্রলোভন ও জোরপূর্বকভাবে ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সি বিদেশি নাগরিকদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া, প্রান্তিক ও কম শিক্ষাগত যোগ্যতার সুযোগ নিয়ে তাদের এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন দেশে সক্রিয় ট্রাভেল এজেন্সি ও স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে চাকরির প্রলোভন দিয়ে ভুক্তভোগীদের রাশিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার পরই রুশ ভাষায় লেখা দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের চুক্তিপত্রে সই করতে বাধ্য করা হয় তাদের। এটি রুশ ভাষায় হওয়ায় তারা আসলে বুঝতেও পারেন না কিসে তারা সই করছেন। এভাবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা যখন বুঝতে পারেন যে তাদের রুশ সামরিক বাহিনীর হয়ে সরাসরি ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে হবে, তখন তারা হতভম্ব হয়ে যান এবং তাদের আসলে কিছু করার থাকে না।
জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন বিশ্বের ৪৮টি দেশের নাগরিকদের ওপর তথ্য অনুসন্ধান চালিয়েছে। সেগুলোর মধ্যে ২৯টি দেশের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রতারতামূলক নিয়োগের প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ২৯টি দেশ হলো-বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, বেলারুশ, আজারবাইজান, বলিভিয়া, ব্রাজিল, বতসোয়ানা, ক্যামেরুন, কলম্বিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর, ঘানা, হন্ডুরাস, জর্ডান, কেনিয়া, মরক্কো, নাইজেরিয়া, পেরু, ফিলিপাইনস, দক্ষিণ আফ্রিকা, সোমালিয়া, তাজিকিস্তান, তিউনিসিয়া, তুরস্ক, উগান্ডা, উজবেকিস্তান, ইয়েমেন ও জিম্বাবুয়ে।
এই প্রতিবেদনে ইউক্রেনে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার মারাত্মক চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, তীব্র শীতের মধ্যে বিদ্যুৎসেবা বন্ধ করে লাখ লাখ বেসামরিক মানুষকে দুর্ভোগে ফেলার এই কাজ যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সামিল।
এ বিষয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার মিশন জানিয়েছে, মস্কো এই কমিশনের প্রতিবেদনকে স্বীকার করে না। তাদের উত্থাপিত সব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও ভুয়া তথ্যনির্ভর।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনে জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তন, শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং জুলাই-আগস্টের সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে জাতিসংঘের ভূমিকা ও অবস্থানের সমালোচনা করেছেন মার্কিন বিশ্লেষক মাইকেল রুবিন। তাঁর অভিযোগ, পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই জাতিসংঘ নিহতের সংখ্যা নির্ধারণ করেছে এবং এর ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি পক্ষপাতদুষ্ট বয়ান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
রুবিনের মতে, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। তাঁর নিবন্ধে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ ইসলামপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ভূমিকা মূল্যায়নে যথেষ্ট সতর্কতা দেখায়নি।
রুবিনের নিবন্ধে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা নিয়ে জাতিসংঘের হিসাব এবং আওয়ামী লীগের উল্লেখ করা সংখ্যার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাঁর দাবি, জাতিসংঘ প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করলেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রায় ৮০০ জনের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে।
তিনি নিহত ব্যক্তিদের নাম, পরিচয় এবং মৃত্যুর পরিস্থিতি প্রকাশ করে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের তালিকা প্রকাশ করা হলে নিহতের সংখ্যা ও সংশ্লিষ্ট দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে।
রুবিন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে ইরানের ১৯৭৯ সালের বিপ্লব এবং মিসরের ২০১৩ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ইসলামপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে অবমূল্যায়ন করলে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সামাজিক সহনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরে দলটির রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক মহল শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো মূল্যায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পক্ষপাতের শিকার হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। রুবিন তাঁর নিবন্ধে ইউনূসের রাজনৈতিক অবস্থান এবং জাতিসংঘের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, জাতিসংঘের বক্তব্য ও নিহতের সংখ্যা নির্ধারণের পদ্ধতি আরও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন।
রুবিন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং পশ্চিমা কর্মকর্তাদের ভূমিকারও সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, নিহতের সংখ্যা নির্ধারণের ভিত্তি, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ করা উচিত।
রুবিন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক সহনশীলতায় বিশ্বাসী সব রাজনৈতিক শক্তির নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা প্রয়োজন।