রান্নাঘরের ছোট্ট লবঙ্গ শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ায় না, এটি আপনার শরীরের জন্যও এক অমূল্য স্বাস্থ্য উপহার। প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন সংস্কৃতিতে ঔষধি ও রান্নার উপাদান হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসা এই মসলা কেবল স্বাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি হজম শক্তি বৃদ্ধি, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নয়ন, প্রদাহ কমানো এবং সম্ভাব্য ক্যান্সার প্রতিরোধেও সাহায্য করতে পারে।
লবঙ্গের মধ্যে থাকা ইউজেনল এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘস্থায়ী রোগ যেমন হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে এটি সহায়ক। হজম শক্তি বৃদ্ধিতেও লবঙ্গ কার্যকর; এটি হজম এনজাইমের নিঃসরণ উদ্দীপিত করে, বদহজম, গ্যাস বা পেট ফুলে যাওয়ার সমস্যার সমাধান করে। খাবারের পরে এক বা দুইটি লবঙ্গ চিবিয়ে খাওয়া বা রান্নায় ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উপকারী।
প্রদাহ-নাশক বৈশিষ্ট্য লবঙ্গকে আর্থ্রাইটিস বা সাধারণ জয়েন্টের ব্যথা কমাতে সহায়ক করে। কোকোনাট অয়েলে ভিজিয়ে যন্ত্রণা এলাকায় লবঙ্গ প্রয়োগ করলে আরাম পাওয়া যায়। এছাড়া লবঙ্গের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও ভাইরাস-বিরোধী ক্ষমতা রোগপ্রতিরোধে সহায়ক; এটি সাদা রক্তকণিকার উৎপাদন বাড়িয়ে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করে।
মুখ ও দাঁতের যত্নেও লবঙ্গ কার্যকর। দাঁতের ব্যথা কমাতে এবং মুখের ব্যাকটেরিয়া প্রতিহত করতে লবঙ্গের তেল প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দাঁত বা মাড়িতে লবঙ্গের তেল লাগালে আরাম পাওয়া যায় এবং এটি দৈনন্দিন মুখের যত্নেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে লবঙ্গ ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ইনসুলিন কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে এবং রক্তে শর্করা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে। তাই ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য লবঙ্গের ব্যবহার স্বাস্থ্যকর হতে পারে। প্রাথমিক গবেষণা ও প্রাণী ভিত্তিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, লবঙ্গের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ধীর করতে পারে। যদিও মানবদেহে আরও গবেষণার প্রয়োজন, সম্ভাবনা আশাব্যঞ্জক।
লবঙ্গকে দীর্ঘস্থায়ী রাখতে এয়ারটাইট কন্টেইনারে সংরক্ষণ করা উচিত। পুরো লবঙ্গ সাধারণত পিষা লবঙ্গের চেয়ে বেশি স্বাদ ধরে রাখে এবং দীর্ঘসময় ভালো থাকে। রান্নায়, স্টু বা ঝোলের মধ্যে লবঙ্গ ব্যবহার করলে স্বাদ ও স্বাস্থ্য একসাথে বৃদ্ধি পায়।
সারসংক্ষেপে, লবঙ্গ শুধু রান্নার স্বাদ নয়, এটি হজম শক্তি বৃদ্ধি, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নয়ন, প্রদাহ হ্রাস এবং সম্ভাব্য ক্যান্সার প্রতিরোধেও সহায়ক। দৈনন্দিন খাদ্যে লবঙ্গ ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যকে প্রাকৃতিকভাবে সমর্থন করা সম্ভব। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যবহার এড়ানো উচিত। গর্ভবতী, স্তন্যদানরত বা দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
লবঙ্গের নিয়মিত ও সঠিক ব্যবহার আপনাকে শারীরিকভাবে সুস্থ রাখবে এবং খাবারের স্বাদকে আরও উপভোগ্য করে তুলবে।
লবঙ্গের ৭টি অবিশ্বাস্য স্বাস্থ্য উপকারিতা!
খাবারের পরে এক টুকরো এলাচ খেলে কী হয়, জানলে অবাক হবেন!
খাওয়ার পর ছোট্ট একটি এলাচ চিবানোর অভ্যাস অনেকেরই দিনের পর দিন। সাধারণ মশলার মতো দেখালেও, এই সবুজ দানাটির ইতিহাস প্রাচীন আয়ুর্বেদ থেকে শুরু করে বিশ্বের নানা রান্নাঘরে ছড়িয়ে আছে। কিন্তু এর সত্যিকারের শক্তি লুকিয়ে আছে শরীরের ভেতরে ঘটে যাওয়া নীরব পরিবর্তনে। আধুনিক গবেষণা বলছে, এলাচ শুধু স্বাদ বাড়ায় না, বরং হজম, ডিটক্স, মুখের স্বাস্থ্য এবং অপ্রয়োজনীয় মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলে।
ডিটক্স ও বিপাকক্রিয়ায় সহায়ক
হেলথলাইনসহ বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, এলাচে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরকে টক্সিনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। যকৃত ও কিডনির স্বাভাবিক পরিশোধন প্রক্রিয়াকেও এগুলো সমর্থন করে। খাবারের পর এক–দুইটি এলাচ খেলে রাতারাতি ডিটক্স হবে না, তবে নিয়মিত খেলে বিপাকক্রিয়া উন্নত হয় এবং শরীরের স্বাভাবিক পরিশোধন আরও দক্ষভাবে কাজ করে।
হজমে এলাচের জাদু
এলাচের এসেনশিয়াল অয়েল ও সিনিওল এনজাইম খাদ্য ভাঙতে সাহায্য করে। ফলে পেট ভার, অম্বল বা গ্যাসের সমস্যা অনেকটাই কমে যায়। ভারী বা তেলযুক্ত খাবারের পর এলাচ পাকস্থলীর পেশি শিথিল করেও আরাম দেয়।
মুখের দুর্গন্ধ দূর করে
শতাব্দী ধরে এলাচ মুখের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর সুগন্ধি তেল মুখের ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে এবং লালা নিঃসরণ বাড়িয়ে খাবারের কণা পরিষ্কার রাখে। রসুন-পিঁয়াজ বা মশলাদার খাবারের পর এলাচ চিবানো তাৎক্ষণিক সতেজতা দেয়।
মিষ্টির লোভ কমাতে সহায়ক
এলাচ মিষ্টি খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কমাতেও সাহায্য করতে পারে। এর প্রাকৃতিক মিষ্টি সুবাস মস্তিষ্কে প্রশান্তি আনে, যা অকারণে মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করে। ‘ইমোশনাল ইটিং’ কমানোর ক্ষেত্রে এর প্রভাব বিশেষভাবে কার্যকর বলে মেডিক্যাল নিউজ টুডে উল্লেখ করেছে।
দৈনন্দিন অভ্যাসে সহজ সংযোজন
প্রতিদিন শুধু দুইটি গোটা এলাচই যথেষ্ট। স্বাদ, সুবাস আর স্বাস্থ্যগুণের সমন্বয়ে ছোট্ট একটি এলাচ অনেক বড় সুবিধা দিতে পারে।
সংক্ষেপে, এলাচ শুধুই রান্নার মশলা নয়; এটি প্রাচীন জ্ঞানে ভরপুর একটি প্রাকৃতিক হিলার। খাবারের পর এক টুকরো এলাচ চিবানো আজ বৈজ্ঞানিকভাবে আরও সমর্থিত। যারা সহজ, নিরাপদ ও প্রাকৃতিক উপায়ে হজম, মুখের স্বাস্থ্য বা দৈনন্দিন ছোট সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করতে চান, তাদের জন্য এলাচ হতে পারে নিখুঁত সঙ্গী।
এবার কেন গম্ভীরকে সোশ্যাল মিডিয়া এড়ানোর পরামর্শ দিলেন রাহানে!
ভারতের সাবেক টেস্ট অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানের মতে, ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) কংগ্রেস সংসদ সদস্য শশী থারুরের সঙ্গে গম্ভীরের কথোপকথনের পরিপ্রেক্ষিতেই এমন মন্তব্য করেন তিনি।
ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাহানে বলেন, “এই মুহূর্তে গম্ভীরের উচিত সোশ্যাল মিডিয়া এড়িয়ে চলা। মানুষ কী বলছে বা লিখছে, সেদিকে মন না দিয়ে সামনে থাকা বড় টুর্নামেন্টে পুরো মনোযোগ দেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।” তিনি আরও বলেন, ভারতের কোচ হওয়া মানে বিশাল দায়িত্ব; আর নিজের খেলোয়াড়ি জীবনে তিনিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকতেই পছন্দ করতেন।
রাহানের মতে, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন দলের প্রস্তুতি ও মানসিক স্থিরতা ধরে রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এর আগে নাগপুরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ চলাকালে গম্ভীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শশী থারুর। পরে থারুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গম্ভীরের নেতৃত্বগুণ ও মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করে একটি পোস্ট দেন। সেই পোস্টের জবাবে গম্ভীর কিছুটা ব্যঙ্গ করেই কোচ হিসেবে তাঁর ‘অসীম ক্ষমতা’ নিয়ে চলা আলোচনা ও সমালোচনার প্রতি ইঙ্গিত করেন।
এদিকে গম্ভীরের সঙ্গে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। টেস্ট ক্রিকেট থেকে তাঁদের অবসরের পর থেকেই নাকি মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে—এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছে। অতীতে আইপিএলে গম্ভীর ও কোহলির মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনা এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
তবে ভারতের ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটাক এসব গুজব উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, রোহিত ও কোহলি নিয়মিতভাবেই গম্ভীরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ওয়ানডে দল, ম্যাচ পরিকল্পনা এবং ২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে তাঁদের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা চলছে বলেও জানান কোটাক।
জিও নিউজের প্রতিবেদন: বিশ্বকাপে ‘না খেলার’ কথা ভাবছে পাকিস্তান
বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ-২০২৬ থেকে বাদ দেওয়ার পর পাকিস্তানও এই টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। আইসিসির এমন সিদ্ধান্তকে ‘বৈষম্যমূলক ও অন্যায়’ হিসেবে দেখছে ইসলামাবাদ, যার ফলে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে দেশটি।
সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভির বৈঠকের পরেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রাথমিক ইঙ্গিত বলছে, সরকার হয়তো পাকিস্তানকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে দেবে না।
এক সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, “এটি শুধু ক্রিকেটের ব্যাপার নয়, এটি নীতির ব্যাপার। বাংলাদেশ তার বৈধ অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং আইসিসির পক্ষপাতিত্ব পাকিস্তানকে অংশগ্রহণ নিয়ে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করছে।”
পাকিস্তান মনে করছে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া কোনো একক দেশের ইচ্ছার দ্বারা নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, “একদিকে ভারত নিজস্ব ইচ্ছায় ভেন্যু পরিবর্তন করতে পারে, অন্যদিকে নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশকে একই সুবিধা দেওয়া হয়নি। যদি আইসিসি সত্যিই ক্রিকেটকে বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারিত করতে চায়, তাহলে এমন বৈষম্যমূলক নীতি বন্ধ করতে হবে।”
মোহসিন নাকভি ইতিমধ্যেই আইসিসির সিদ্ধান্তের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, বাংলাদেশকে স্কটল্যান্ডের সঙ্গে প্রতিস্থাপন করা ন্যায়বিচারের মূলমন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ করছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, পিসিবি এ ক্ষেত্রে সরকারের নির্দেশনা মেনে চলবে।
পাকিস্তানের ক্রিকেটাররাও এই অবস্থানকে সমর্থন করেছেন। লাহোরে এক বৈঠকে খেলোয়াড়রা একমত হয়েছেন যে, অংশগ্রহণ বা প্রত্যাহার সম্পূর্ণভাবে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
রাশিয়ায় দেখা গেল ‘দুটি সূর্য’, অবাক স্থানীয় বাসিন্দারা
সম্প্রতি রাশিয়ার আকাশে একসঙ্গে ‘দুটি সূর্য’ দেখা যাওয়ায় চরম বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। অদ্ভুত এই দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকেই মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। যা দ্রুতই ভাইরাল হয়ে যায়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এটি কোনো অতিপ্রাকৃত ঘটনা নয়, বরং একটি বিরল প্রাকৃতিক আলোক-প্রভাব। এ ঘটনাকে বলা হয় ‘সান ডগ’।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সান ডগ একটি বায়ুমণ্ডলীয় অপটিক্যাল ইফেক্ট। একে কখনও কখনও ‘মক সান’ বা ‘পারহেলিয়া’ নামেও ডাকা হয়। সাধারণত সূর্যের বাম বা ডান পাশে কখনও আবার উভয় পাশেই উজ্জ্বল আলোর প্যাচ হিসেবে এটি দেখা যায়। যা দূর থেকে আলাদা সূর্যের মতো মনে হয়।
‘পারহেলিয়া’ শব্দটি গ্রিক ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘সূর্যের সঙ্গে’। নামটি এই বিভ্রমের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানান বিজ্ঞানীরা।
তাদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ওই অঞ্চলে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় বায়ুমণ্ডলে সূক্ষ্ম বরফের স্ফটিক তৈরি হয়। এসব বরফের স্ফটিক সূর্যের আলোকে প্রতিফলিত ও প্রতিসরিত করে একাধিক সূর্যের মতো দৃশ্য তৈরি করে। বাস্তবে আকাশে সূর্য ছিল মাত্র একটিই।
রাশিয়ার জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা জানিয়েছে, সান ডগ আলোক প্রভাবের একটি বৃহৎ পরিবারের অংশ। এই পরিবারের মধ্যে সূর্যের প্রভা ও চাঁদের প্রভা (লুনার হ্যালো)–এর মতো ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত। বায়ুমণ্ডলের উঁচু স্তরে থাকা বরফের স্ফটিকের সঙ্গে সূর্যের আলোর মিথস্ক্রিয়ার ফলেই এ ধরনের দৃশ্য দেখা যায়।
বিরল হলেও, শীতপ্রধান অঞ্চলে এমন ঘটনা মাঝে মাঝে ঘটতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে নিহত প্রায় ৫০ জন
ভূমধ্যসাগরের মধ্যাঞ্চলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ৫০ জনের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। রোববার রাতে প্রকাশিত টাইমস অব মাল্টার এক প্রতিবেদনে এই মর্মান্তিক তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে একমাত্র জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির বর্ণনার উদ্ধৃতি দেওয়া হয়।
মাল্টার সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার তিউনিসিয়ার উপকূলের কাছে একটি পণ্যবাহী জাহাজ সমুদ্র থেকে একজন ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য মাল্টায় নিয়ে যাওয়া হয়। উদ্ধার হওয়া ওই ব্যক্তি কর্তৃপক্ষকে জানান, নৌকাডুবির ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা অন্তত ৫০ জন আর বেঁচে নেই।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সহায়তাকারী স্বাধীন সংগঠন অ্যালার্ম ফোনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংগঠনটি জানায়, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি তাদের জানিয়েছেন, নৌকায় থাকা লোকজন তিউনিসিয়া থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এবং দুর্ঘটনার পর প্রায় ২৪ ঘণ্টা তারা সমুদ্রে ভাসতে বাধ্য হয়।
এর আগে গত সপ্তাহে অ্যালার্ম ফোন জানায়, তিউনিসিয়া থেকে ছেড়ে আসা অন্তত তিনটি নৌকায় করে যাত্রা করা প্রায় ১৫০ জন অভিবাসী ভূমধ্যসাগরের মধ্যাঞ্চলে নিখোঁজ হয়েছেন। তবে সদ্য ডুবে যাওয়া নৌকাটি ওই নিখোঁজদের তালিকাভুক্ত কোনো নৌকা কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় বিপজ্জনক সমুদ্রপথে যাত্রা করা অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ভূমধ্যসাগর আবারও এক নীরব মৃত্যুকূপে পরিণত হচ্ছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও তদারকির অভাবে এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।
প্রতীক না পেয়ে অনিশ্চয়তায় জামালপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অর্ণব ওয়ারেস খান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-২ (ইসলামপুর) সংসদীয় আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অর্ণব ওয়ারেস খান এখনো নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ না পাওয়ায় অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
গত ২১ জানুয়ারি জামালপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মোট ৩১ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হলেও জামালপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অর্ণব ওয়ারেস খানকে কোনো প্রতীক দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গেজেটে জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অর্ণব ওয়ারেস খানের জন্য ‘বাঘ’ প্রতীক উল্লেখ থাকলেও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ওই প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া যাবে না বলে জানানো হয়। ফলে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম শেষ হলেও তিনি এখনো প্রতীকবিহীন অবস্থায় রয়েছেন।
এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী অর্ণব ওয়ারেস খান বলেন, আমি একজন বৈধ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। অথচ এখনো আমাকে কোনো প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। আমার পছন্দের প্রতীক বাঘ ছাড়া আমি নির্বাচনে অংশ নেব না।
এ প্রসঙ্গে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী বলেন, বাঘ প্রতীক নিয়ে পিডিবি নামক একটি দল ২০২০ সালে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেছে। ফলে বর্তমানে উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বাঘ প্রতীক কোনো প্রার্থীকে বরাদ্দ দেওয়া যাচ্ছে না। তবে বাঘ প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো প্রতীক নিতে চাইলে তা বিবেচনা করা যেতে পারে।
তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী অর্ণব ওয়ারেস খান বাঘ প্রতীক ব্যতীত অন্য কোনো প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না বলে জানান।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে অবগত করা হয়েছে। উচ্চ আদালত ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শিক্ষা-সংস্কৃতি অনির্বাণে মুকিত জাকারিয়া
কথাসাহিত্যিক ইকবাল খন্দকারের উপস্থাপনায় জিটিভিতে সাপ্তাহিকভাবে প্রচার হচ্ছে আলোঘর প্রকাশনা নিবেদিত অনুষ্ঠান শিক্ষা-সংস্কৃতি অনির্বাণ। আর এই অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে আসছেন দেশের শিক্ষা, শিল্প এবং সংস্কৃতি অঙ্গনের স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গ। যারা শোনাচ্ছেন তাদের আলোকিত ব্যক্তিজীবনের কথা এবং বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের কথা। তারই ধারাবাহিকতায় এবারের পর্ব তথা ৪০তম পর্বে অতিথি হয়ে এসেছেন অভিনেতা ও মডেল মুকিত জাকারিয়া।
এই পর্বে উঠে এসেছে তার জীবনের নানা অজানা কথা। পর্বটি জিটিভিতে প্রচার হবে আজ রবিবার রাত সাড়ে ৮টায়। অতিথি মুকিত জাকারিয়া বলেন, বলতে বলতে নিজের জীবনের অনেক কথাই বলে ফেলেছি এই অনুষ্ঠানে। তাও এমন সব কথা, যেগুলো সাারণত টিভি সাক্ষাৎকারে বলা হয় না। তাই দেখার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আশা করছি সময়টা একেবারে মন্দ কাটবে না।
পেটের চর্বি একেবারেই কমছে না? জিম ছাড়াই ২১ দিনে মেদ কমাবে এই ৭টি সহজ অভ্যাস
পেটের চর্বি শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়; এটি হার্টের জটিলতা, টাইপ–২ ডায়াবেটিস ও ফ্যাটি লিভারের মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অনেকেই ভাবেন, জিমে নিয়মিত ঘাম না ঝরালে পেটের মেদ কমানো সম্ভব নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, দৈনন্দিন জীবনধারার কিছু ছোট কিন্তু ধারাবাহিক পরিবর্তনই এই মেদ কমাতে বেশি কার্যকর হতে পারে। খাবারের ধরন, ঘুম, চলাফেরা আর মানসিক চাপ—এই চারটি জায়গায় সচেতন হলেই ২১ দিনের মধ্যে পেটের চর্বিতে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন আনা সম্ভব।
দিনের শুরুটা গরম পানি ও দ্রবণীয় ফাইবার দিয়ে করলে হজম ব্যবস্থা সক্রিয় হয়। সকালে খালি পেটে গরম পানির সঙ্গে চিয়া সিডস, ইসবগুল বা ভেজানো তিসি বীজ খেলে পেট দ্রুত ভরে যায় এবং অকারণে বেশি খাওয়ার প্রবণতা কমে। দ্রবণীয় ফাইবার হজম ধীর করে, রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং চর্বি শোষণ কমাতে সহায়তা করে। এই অভ্যাসটি দিনের বাকি সময়ের খাদ্যনিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে।
রাতের দেরি করে খাওয়া পেটের মেদের অন্যতম শত্রু। ঘুমানোর ঠিক আগে নাস্তা বা ভারী খাবার শরীরের ফ্যাট বার্নিং প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের অন্তত তিন ঘণ্টা আগে হালকা ও পুষ্টিকর ডিনার করলে শরীর রাতে জমে থাকা চর্বি ভাঙতে বেশি সক্ষম হয়। প্রোটিন ও সবজি নির্ভর রাতের খাবার পেটের চারপাশে অতিরিক্ত চর্বি জমতে বাধা দেয়।
শুধু জিমের ব্যায়ামের ওপর নির্ভর না করে দিনের ভেতর ছোট ছোট চলাফেরা বাড়ানোও খুব কার্যকর। সিঁড়ি ব্যবহার করা, ফোনে কথা বলার সময় হাঁটা, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে মাঝেমধ্যে উঠে নড়াচড়া করা—এই সবকিছু মিলিয়ে শরীর অতিরিক্ত ক্যালোরি খরচ করে। গবেষণায় একে বলা হয় নন–এক্সারসাইজ অ্যাক্টিভিটি থার্মোজেনেসিস, যা বিশেষভাবে পেটের মেদ কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত।
রান্নায় সঠিক মশলার ব্যবহারও পেটের চর্বি কমাতে সাহায্য করে। জিরা, হলুদ, দারচিনি বা গোলমরিচের মতো মশলা ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায় এবং বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখে। সকালে জিরার পানি, রান্নায় হলুদ বা চায়ে অল্প দারচিনি যোগ করলে ধীরে ধীরে কোমরের চারপাশে চর্বি জমার প্রবণতা কমে।
প্রতিটি খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখার অভ্যাস পেটের মেদের বিরুদ্ধে কার্যকর অস্ত্র। ডাল, ডিম, পনির, স্প্রাউটস বা লিন মাংস শরীরকে দীর্ঘ সময় তৃপ্ত রাখে এবং হঠাৎ খিদে পাওয়ার প্রবণতা কমায়। প্রোটিন হরমোনের ভারসাম্য বজায় রেখে বিপাকক্রিয়াকে সক্রিয় রাখে, যার ফলে পেটের চর্বি কমে এবং শরীর থাকে শক্ত ও টোনড।
ঘুমের সময়সূচি ঠিক না থাকলে পেটের মেদ কমানো কঠিন হয়ে পড়ে। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে কর্টিসল ও ইনসুলিন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা সরাসরি কোমরের চর্বি বাড়ায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও ওঠার অভ্যাস শরীরকে ফ্যাট বার্নিংয়ের জন্য প্রস্তুত করে এবং পরের দিন খাবারের প্রতি নিয়ন্ত্রণ বাড়ায়।
মানসিক চাপ পেটের চর্বি বাড়ার একটি নীরব কারণ। অতিরিক্ত স্ট্রেস অনেক সময় অজান্তেই বেশি খাওয়ার দিকে ঠেলে দেয়। দিনে কয়েক মিনিট গভীর শ্বাস নেওয়া, হালকা মেডিটেশন বা কাজের ফাঁকে পছন্দের গান শোনা কর্টিসল হরমোন কমাতে সাহায্য করে। স্ট্রেস কমলে শরীরও মেদের বিরুদ্ধে বেশি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।
এই সাতটি অভ্যাস শুধু পেটের চর্বি কমাতেই নয়, সামগ্রিকভাবে শরীর ও মনের সুস্থতাও বাড়ায়। সবচেয়ে বড় কথা, এগুলো মানতে কোনো কঠোর ডায়েট বা জিমের সদস্যপদ প্রয়োজন নেই। নিয়মিত ছোট ছোট পরিবর্তনই ধীরে ধীরে আপনাকে নিয়ে যাবে আরও সুস্থ, হালকা ও আত্মবিশ্বাসী জীবনের পথে।
সমবয়সি না বড়, কোন দাম্পত্য বেশিদিন টিকে?
দাম্পত্য জীবনের স্থায়িত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক গবেষক, মনোবিজ্ঞানী ও পরিবার পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা চলছে। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—সমবয়সি দম্পতির সম্পর্ক বেশি টেকসই, নাকি বয়সে বড় পার্থক্য থাকা দাম্পত্য?
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গবেষণার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বয়সের ব্যবধান কম—বিশেষ করে ০ থেকে ৫ বছরের মধ্যে হলে—দাম্পত্য সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি। সমবয়সি বা কাছাকাছি বয়সের দম্পতিদের মধ্যে চিন্তাভাবনা, জীবনদৃষ্টি ও সামাজিক বাস্তবতা প্রায় একই হওয়ায় পারস্পরিক বোঝাপড়া সহজ হয়।
একই প্রজন্মের মানুষ হওয়ায় এই দম্পতিরা শিক্ষা, কর্মজীবন, সন্তান লালন-পালন এবং সামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে একসঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বন্দ্ব কম হয় এবং যোগাযোগের ঘাটতিও তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়।
অন্যদিকে, বয়সে বড় ব্যবধান থাকা দাম্পত্যেও সম্পর্ক টিকে থাকে—তবে তা অনেকাংশে নির্ভর করে পারস্পরিক সম্মান, মানসিক পরিপক্বতা ও আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর। গবেষণায় দেখা গেছে, ১০ বছর বা তার বেশি বয়সের ব্যবধান থাকলে দীর্ঘমেয়াদি দাম্পত্য অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়ে। কারণ এ ধরনের সম্পর্কে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা, জীবনধারার পার্থক্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধ বেশি দেখা যায়।
বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর। এখানে পরিবার ও সমাজের প্রত্যাশা দাম্পত্য সম্পর্কে বড় ভূমিকা রাখে। বয়সের বড় পার্থক্য থাকলে সামাজিক চাপ, আত্মীয়স্বজনের হস্তক্ষেপ এবং সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের ঘটনাও বেশি হয়, যা সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দাম্পত্য সম্পর্কের স্থায়িত্ব নির্ধারণে বয়সই শেষ কথা নয়। পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান, আবেগী বুদ্ধিমত্তা, দ্বন্দ্ব সমাধানের দক্ষতা এবং আর্থিক ও মানসিক নিরাপত্তাই দাম্পত্য টিকে থাকার মূল ভিত্তি।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সমবয়সি বা কাছাকাছি বয়সের দাম্পত্য সাধারণত বেশি আনন্দময় হলেও, বয়সের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সচেতনতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে একটি দাম্পত্য সফলভাবে দীর্ঘদিন ধরে টিকে থাকতে পারে আর এই সম্পর্কে থাকে পারসস্পরিক সম্মানবোধ , দায়িত্ববোধ ও স্নেহ।


