Home Blog Page 21

সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্স আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৪১, টিকা সংকট

০

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দুটি গ্রামে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৪১ জনে দাঁড়িয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে স্থানীয় লোকজনের দাবি, ১০০ জনের বেশি আক্রান্ত হয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের দুলাল গ্রামের হাবিবুর রহমানের একটি ও ১৮ সেপ্টেম্বর সর্বানন্দ ইউনিয়নের বাছহাটী গ্রামের মঞ্জুরুল ইসলামের দুটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে। তারা গ্রামের মানুষের কাছে মাংস বিক্রি করেন। এর পরই দুই গ্রামের অনেকের শরীরে ফোসকা পড়ে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয়। হাসপাতালে পরীক্ষা করালে রোগটি শনাক্ত হয়।

সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় ২৩ সেপ্টেম্বর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. সোহেল রহমান, ডা. কাজী তাহমিনা করিম, এফইটিসি ফেলো ডা. মোস্তফা মাহমুদ, ডা. মেরি হাপাং, মেডিকেল এনথ্রোপলজিস্ট ড. দৌলত খানসহ একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এপিডেমিওলজি সেলের ডেপুটি চিফ এপিডেমিওলজিষ্ট রফিকুল ইসলামসহ একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

এদিকে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট গরুর সংখ্যা ২ লাখ ৫৪ হাজার। নিয়ম অনুযায়ী, যে এলাকায় অ্যানথ্রাক্স দেখা দেয় তার আশপাশের তিন কিলোমিটারের মধ্যে সব গরুকে টিকা দিতে হয়। এই হিসাবে টিকা প্রয়োজন ৪৫ হাজার। গতকাল শনিবার পর্যন্ত টিকা পাওয়া গেছে ৩০ হাজার। জনবল সংকটে সব টিকাও দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কে এম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, আক্রান্তদের চিকিৎসা চলছে। টিকা কার্যক্রম অব্যাহত। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামরুল হাসান বলেন, দিন দিন রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে।

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ২৫৪

০

কুমিল্লা জেলায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার জেলার ১৮টি থানায় পুলিশের সব ইউনিট একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করে। রোববার সকালে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন স্থানসহ জেলার প্রতিটি থানার বিভিন্ন এলাকায়, যেখানে কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাত রয়েছে, সেসব স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অভিযানে সরাসরি অংশ নেন। অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানে নগরী থেকে ৩৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আনিক (১৯) অন্যতম। তিনি নগরীর ছোটরা মফিজাবাদ কলোনির আবুল কাশের ছেলে। পুলিশের ভাষ্য, আনিক কিশোর গ্যাং রতন গ্রুপের প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনের ভাগনে। রতন বর্তমানে আত্মগোপনে থাকায় আনিকই গ্রুপটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার সমকালকে বলেন, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৩৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে গত বুধবার কুমিল্লায় এক রাতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১৭৩ জনকে আদালতে পাঠানো হয়।

সম্প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনের কিশোর গ্যাংয়ে সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে আসার পর জেলায় কিশোর গ্যাং নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আটক করতে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

ডেঙ্গুতে এক দিনে ৮ জনের মৃত্যু ঢাকার বাইরে বাড়ছে রোগী, খুলনার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক

০

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৪৩২ জন। মারা যাওয়া পাঁচজন খুলনা বিভাগের বাসিন্দা। ঢাকা বিভাগের তিনজন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২১৯ হয়েছে। শুধু সেপ্টেম্বরেই মারা গেছেন ১২২ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১০৬ জন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ভর্তি হয়েছেন ১৭৬ জন। ঢাকা বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৮০ জন। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ২০৪, চট্টগ্রামে ২০৯, খুলনায় ২৪১, ময়মনসিংহে ১১২, রাজশাহীতে ৫৭ এবং রংপুরে ৫৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।  চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭১ হাজার ৫৩৬ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৬৬ হাজার ২৫৬ জন।

খুলনার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক
ডেঙ্গু ছড়ানোয় খুলনার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ৪৮ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডেঙ্গু আক্রান্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, গত আগস্ট থেকে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। গত শুক্রবার সরকারি ছুটি থাকায় ৪৮ ঘণ্টার তথ্য একসঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে। এই সময়ে পাঁচজনের মৃত্যু এবং ২৭৬ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২ হাজার ৩০২ জন। এর মধ্যে ১০ হাজার ৮১৮ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে এক হাজার ৪১১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন।

মশা নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগ
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি জানান, মশার লার্ভা ও উড়ন্ত মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। জ্বরে আক্রান্তদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে জনবল বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করা হচ্ছে।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, কেসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক দিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ৩০টি শয্যা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকেও মশারি বিতরণসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

২০২৩ সালে সর্বোচ্চ মৃত্যু
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর হিসাব রাখছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল। ওই বছর তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং মারা যান এক হাজার ৭০৫ জন। গত বছর ডেঙ্গুতে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। ওই বছর শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ দুই হাজার।

যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

০

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সকাল সাড়ে আটটার দিকে তাকে বহনকারী ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইনসের নিয়মিত ফ্লাইট নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়ে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২৩ মিনিটে ফ্লাইটটি দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে ছয় ঘণ্টার যাত্রাবিরতির পর রাত ২টা ১০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে পৌঁছান ৩৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রতিনিধি দলে ছিলেন তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিমানমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খানসহ অন্যরা।

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন তারেক রহমান। তার বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন।

এর ১৩ বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন তারেক রহমানের মা খালেদা জিয়া। এরপর ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন।

সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়া সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজ এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া প্রাতরাশেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান।

সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটিই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর। এর আগে গত জুনে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন।

‘চাঁদা না দেওয়ায়’ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুর, লুটের অভিযোগ

০

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর অভিনেতা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। সালমানের অভিযোগ, বিএনপির লোকজন তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় তার স্টুডিওতে হামলা চালানো হয়েছে।

শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে এ ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্টুডিওটির এক কর্মকর্তা দাবি করেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় এক থেকে দেড়শ লোক হঠাৎ সেখানে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। তাদের কয়েকজনের হাতে চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কর্মকর্তা দাবি, হামলাকারীরা সেখানে গিয়েও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায়। পাশাপাশি স্টুডিওতে থাকা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন না সালমান মুক্তাদির। খবর পেয়ে তিনি বিমানে ঢাকায় আসেন। পরে স্টুডিওতে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি দেখে ফেসবুক লাইভে বিষয়টি তুলে ধরেন।

ভিডিওতে সালমান মুক্তাদিরকে বলতে শোনা যায়, ‘ভিডিওটা শুধু খুবই স্পেশালি বানানো আমাদের যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, উনার জন্য। আপনি প্লিজ কোনো টেনশন নিবেন না, দিস ইজ নরমাল ইন বাংলাদেশ।’

সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘যারা অ্যাটাক করছে, ওরা হয়তো জানত না যে এটা আমার জায়গা। বাট আমি পড়ছি অ্যাজ আ নরমাল সিটিজেন হিসেবে। …আমাদের এখানকার যে ল্যান্ডওনার, উনি হয়তো খুব সম্ভবত আওয়ামী লীগ…উনার সাথে চাঁদাবাজি নিয়ে কোনো একটা কিছু হইছে যে—চাঁদা চেয়েছে বা সামথিং…। তো ওদের রিভেঞ্জ থেকে মাঝখানে আমাদের মানুষজন পড়ে গেছে। উনার প্রপার্টি ড্যামেজ করতে গিয়ে আমার প্রপার্টি এখানে মাঝখানে পড়ছে।’

সালমান জানান, স্টুডিওতে বিভিন্ন ক্লায়েন্টের শুটিংয়ের ফুটেজ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ নানা কাজের উপকরণ রাখা ছিল। এসব মালামাল নিয়ে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বড় হতে পারে। তবে, তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতির নির্দিষ্ট অঙ্ক জানাতে পারেননি তিনি।

ফেসবুক লাইভে সালমান বলেন, ক্লায়েন্টদের অনেক ফুটেজ ও শুটিংয়ের উপকরণ স্টুডিওতে ছিল। সেগুলো হারিয়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে।

নিজের স্টুডিওর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখিয়ে সালমান বলেন, ‘আমাদের স্টুডিও ডিস্ট্রয় হয়ে গেছে।’ তার দাবি, সৃজনশীল কাজ ও শিল্প-সংস্কৃতির জন্য এমন স্টুডিও দেশে খুব বেশি নেই। তার স্টুডিওটা নষ্ট হয়ে সামগ্রিক ক্ষতি হলো।

হামলার ঘটনায় বিএনপির লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করে সালমান বলেন, ‘বিএনপির লোকজন যারা করছে, এটা তোমাদের চাঁদাবাজি। কেন তোমরা আমার ড্রিমটা নষ্ট করছো?’

তবে সালমানের এই অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট কোনো নেতাকর্মীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হামলার পরও কাজ বন্ধ করবেন না বলে জানিয়েছেন সালমান। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা রিলাক্স। এটা কিছুই না। আমরা এখানেই কাজ করব।’

হামলার ঘটনায় মামলা করার কথাও জানিয়েছেন সালমান মুক্তাদির। হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্রাম্পের ভোটার যাচাই ব্যবস্থা পুনর্বহাল করল সুপ্রিম কোর্ট

০

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সম্প্রসারিত অভিবাসন ডেটাবেস ব্যবহারের পথ পুনরায় খুলে দিয়েছে। প্রশাসনের দাবি, অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়া ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে যোগ্য ভোটাররাও ভুলভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

বিচারপতিরা বিচার বিভাগের আবেদন মঞ্জুর করে নিম্ন আদালতের একটি আদেশ স্থগিত করেছেন। ওই আদেশের কারণে অঙ্গরাজ্যগুলো ফেডারেল নথির সঙ্গে মিলিয়ে নিবন্ধিত ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ে ‘সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর’সহ অন্যান্য তথ্য ব্যবহার করতে পারছিল না।

সুপ্রিম কোর্টে রক্ষণশীল বিচারপতিদের ৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। শুক্রবারের আদেশে তিন উদারপন্থী বিচারপতি ভিন্নমত পোষণ করেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা বলেছেন, বাদীদের যুক্তি শেষ পর্যন্ত টিকবে না-ও পারে। কারণ ফেডারেল আইন অনুযায়ী, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনসহ অন্যান্য সংস্থার কাছ থেকে নাগরিকত্ব ও অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য নিতে পারে।

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটপ্রক্রিয়ায় ফেডারেল সরকারের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই তথ্য আদান-প্রদান করা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচন পরিচালনার মূল এখতিয়ার অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে।

গত বছর ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ‘সিস্টেমেটিক এলিয়েন ভেরিফিকেশন ফর এনটাইটেলমেন্টস’ বা ‘সেভ’  ডেটাবেসটি নতুন করে সাজায়। এতে একসঙ্গে অনেক রেকর্ড অনুসন্ধান এবং সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর ব্যবহার করে তথ্য খোঁজার সুযোগ তৈরি হয়।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিএইচএস-এর জেনারেল কাউন্সেল জেমস পার্সিভাল বলেন, সরকারি ডেটা ব্যবহার করে অঙ্গরাজ্যগুলোকে অ-নাগরিকদের অবৈধভাবে ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখতে সহায়তার জন্যই সুপ্রিম কোর্টে জরুরি আবেদন করা হয়েছে।

ডেটাবেসটির পরিধি বাড়ানোর পর রিপাবলিকান-শাসিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ভোটার তালিকার সঙ্গে এর তথ্য মিলিয়েছে। এতে সম্ভাব্য অ-নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত কিছু ভোটারের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, নির্বাচনের নিরাপত্তার চেয়ে ভোটার সংখ্যা কমিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি এখানে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, এতে যোগ্য ভোটাররা—যাদের অনেকেই ডেমোক্র্যাট-ঘেঁষা—ভোটাধিকার হারাতে পারেন।

ট্রাম্প অভিবাসন বিষয়ে কঠোর নীতি নিয়েছেন এবং ব্যাপক ভোট জালিয়াতির দাবি করে আসছেন। এর মধ্যে ২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে তাঁর পরাজয়ের বিষয়টিও রয়েছে।

মামলাকারী অধিকার সুরক্ষা সংগঠনগুলোর দাবি, সংশোধিত সেভ ব্যবস্থায় অনেক মানুষকে ভুলভাবে অ-নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের মতে, ডেটাবেসের তথ্য অনেক সময় সেকেলে হওয়ায় বৈধ নাগরিক ও ভোটাররাও তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন। ব্যবস্থাটির সামগ্রিক ত্রুটির হারও প্রকাশ্যে জানা নেই; ডিএইচএস ও বিচার বিভাগ এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি।

বাদীদের প্রতিনিধিত্বকারী ‘সিটিজেনস ফর রেসপন্সিবিলিটি অ্যান্ড এথিকস ইন ওয়াশিংটন’ সিদ্ধান্তটিকে ‘অত্যন্ত হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করেছে। সংগঠনটির মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অবিশ্বস্ত তথ্যের ভিত্তিতে ভোটার তালিকা ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ভিন্নমত পোষণকারী বিচারপতি কেটানজি ব্রাউন জ্যাকসন লিখেছেন, অল্পসংখ্যক বৈধ ভোটারের ওপর বাড়তি বোঝা চাপানো বা তাঁদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার ক্ষতি সরকারের সম্ভাব্য ক্ষতির চেয়ে বেশি।

সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা নথিতে টেক্সাসের ট্রাভিস কাউন্টির একজন নির্বাচনী কর্মকর্তা জানান, সেভ-তে অ-নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের ২৫ শতাংশই আগে মার্কিন নাগরিকত্বের প্রমাণ দিয়েছিলেন। মিসৌরির সেন্ট লুইস কাউন্টিতে ব্যবস্থাটির দেওয়া ফলাফলের অন্তত ৮১ শতাংশ ত্রুটিপূর্ণ ছিল বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

‘লিগ অব উইমেন ভোটারস’ ও ‘ইলেকট্রনিক প্রাইভেসি ইনফরমেশন সেন্টার’ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সংশোধিত সেভ ব্যবস্থা স্থগিতের দাবিতে মামলা করে। তাদের দাবি, এই পরিবর্তন ফেডারেল গোপনীয়তা আইনসহ অন্যান্য আইন লঙ্ঘন করেছে।

ওয়াশিংটন ডিসির ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ স্পার্কল সুকনানান জুনে ডেটাবেসটির কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দেন। তিনি ব্যবস্থাটিকে বিশৃঙ্খলভাবে তৈরি এবং নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত তথ্যকে অবিশ্বস্ত বলে উল্লেখ করেন। ৪ সেপ্টেম্বর ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া সার্কিটের ইউএস কোর্ট অব আপিলস ২-১ ভোটে ওই রায় স্থগিত করতে অস্বীকৃতি জানালে প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে যায়। বিচার বিভাগের আইনজীবীরা নিম্ন আদালতের আদেশকে ‘অসমর্থনযোগ্য’ এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের ‘অখণ্ডতার জন্য হুমকি’ বলে দাবি করেন।

প্রশাসনের সমর্থনে মামলায় পক্ষভুক্ত হওয়া টেক্সাস ব্যবস্থাটি নির্ভরযোগ্য নয়—এমন দাবিও চ্যালেঞ্জ করেছে। এদিকে ফ্লোরিডায় পৃথক আইনি প্রক্রিয়ার কারণে ফ্লোরিডা, আইওয়া, ইন্ডিয়ানা ও ওহাইওতে সংশোধিত সেভ ব্যবস্থা ব্যবহার অব্যাহত রাখতে পারছে ট্রাম্প প্রশাসন।

অপুষ্টির কারণে হামে বাড়ছে জটিলতা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

০

দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৮৫ লাখ ৮৩৩ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতির কারণে দেশে হাম পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। পাশাপাশি অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা হাম আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অবস্থায় চলে যাচ্ছে।

শনিবার দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় সরকারকে সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৫ এপ্রিল থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়। প্রথম পর্যায়ে ইউনিসেফের নির্ধারিত তিন ধাপে ১৮ জেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পরে ঢাকা ও আরও দুটি বড় সিটি করপোরেশনকে এর আওতায় আনা হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই গত ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে টিকাদান কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়।

তিনি বলেন, টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতির কারণে দেশে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়েছে। এ সময়ে প্রায় এক হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একটি শিশুর মৃত্যুও অত্যন্ত দুঃখজনক। এর ফলে একটি পরিবারের ওপর অপূরণীয় ক্ষতি নেমে আসে।

অপুষ্টিতে বাড়ছে জটিলতা

হাম আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির সমস্যা দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের মতে, নিউমোনিয়া ও অপুষ্টি হাম আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা হাম আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অবস্থায় চলে যাচ্ছে।

তিনি জানান, এ পরিস্থিতিতে আইসিডিডিআরবির চিকিৎসক চিশতি মাত্র ১৫০ টাকা ব্যয়ে বোতলভিত্তিক সিপ্যাপ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। স্বাভাবিকভাবে অক্সিজেন নিতে না পারা শিশুদের এ পদ্ধতিতে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে অনেক শিশুকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে টিকা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ভিটামিন এ ক্যাপসুল কর্মসূচিতে ২ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে টিকা পেয়েছিল প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশু। দুই কর্মসূচির মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ শিশুর ব্যবধানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এরপর প্রায় ১৪ লাখ শিশুকে শনাক্ত করে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে হাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় নতুন করে ক্যাচআপ টিকাদান কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ইউনিসেফ ১০ দিনের মধ্যে আরও ৪০ লাখ ডোজ টিকা সরবরাহ করেছে। আগের মজুতের সঙ্গে নতুন টিকা মিলিয়ে এবার ৩৪ লাখ শিশুকে লক্ষ্য করে ক্যাচআপ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ১০ লাখ নতুন জন্ম নেওয়া শিশু এবং ২৪ লাখ আগে টিকা থেকে বাদ পড়া শিশু রয়েছে।

ইউনিয়নে ক্যাম্প, সন্ধ্যার পরও টিকা

শনিবার থেকে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ক্যাম্প স্থাপন করে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। প্রতিটি উপজেলায় প্রশাসন, সিভিল সার্জন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

কর্মজীবী মায়েদের কথা বিবেচনায় নিয়ে ছুটির দিনেও টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সন্ধ্যার পরও টিকাদান কার্যক্রম চলবে বলে জানান তিনি। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এই ক্যাম্পেইনের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমান কর্মসূচি শেষে প্রায় ১০ লাখ ডোজ টিকা মজুত থাকবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় ৪৩ লাখ ডোজ টিকা বিতরণ করা হয়েছে। পরবর্তী কর্মসূচি চালিয়ে যেতে এসব টিকা সংরক্ষণ করা হবে।

দেশের চিকিৎসকদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বিভিন্ন মহামারি ও জরুরি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের চিকিৎসকরা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। করোনাকালেও চিকিৎসকদের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একজন আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শে এলে অন্য শিশুরাও সহজে সংক্রমিত হতে পারে। তাই টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

আ.লীগ নেতার বাড়িতে আগুন

০

বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দড়িকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মির্জা শফিকুল ইসলাম স্বপনের বসতঘরে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত বৃহস্পতিবার  রাত আড়াইটার দিকে দড়িকান্দি ইউনিয়নের খালা গ্রামে এই আগুনের ঘটনা ঘটে। আগুনে ঘরের ভেতরে থাকা  আসবাব, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান তারা। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে বসতঘরটিতে। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নেভায়। শুক্রবার সকালে পোড়া ঘরটি দেখতে ওই বাড়িতে ভিড় করেন এলাকার মানুষ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে মির্জা শফিকুল ইসলাম স্বপন এলাকার বাইরে। কেউ কেউ ধারণা করছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বাঞ্ছারামপুর থানার ওসি মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপ্রতিম হত্যা নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার, তদন্ত কর্মকর্তা বদল

০

কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। পরিদর্শক পদমর্যাদার একজন পুলিশ কর্মকর্তা মামলাটির তদন্ত করবেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারকে অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে ফোন দিয়ে গালাগাল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করবেন বলে সমকালকে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম গতকাল রাত সাড়ে ৯টায় সমকালকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। সে কুমিল্লার বর্ডার গার্ড হাই স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের বিষয়ে জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, অপ্রতিম হত্যা মামলার প্রথমে তদন্ত শুরু করেন সদর দক্ষিণ মডেল

থানার এসআই সাইফুল ইসলাম। তবে মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় তা পরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। থানার এসআই সাইফুল ইসলাম সমকালকে জানান, এ মামলা এখন থেকে তদন্ত করবেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ। মামলার যাবতীয় নথিপত্র দ্রুত হস্তান্তর করা হবে। রাজিব আহমেদ বলেন, ‘পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের আদেশ হয়েছে। নথিপত্র পাওয়ার পর তদন্তকাজ শুরু করা হবে। আশা করি, শিগগিরই তদন্তের পর দ্রুততম সময়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করতে পারব।’

ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত তিনজনের স্বীকারোক্তি মিলেছে। তবে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে ফোন
নিহত অপ্রতিমের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ারকে অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে ফোন দেওয়া হয়। ফোন ধরতেই অপর প্রান্ত থেকে তাঁর পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। অপ্রতিমের বাবা পরিচয় দিতেই অন্য প্রান্তের লোক ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এরপর তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে। তিনি ফোন কেটে দিলেও ক্রমাগত কল দিতে থাকে। তিনি নম্বরটি ব্লক করেন। পরে অন্য আরেকটি নম্বর থেকে বারবার কল দেওয়া হয়।

ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘আমার ছেলে খুন হয়েছে। তাকে আইফোনের জন্য মারা হয়েছে নাকি অন্য কোনো কারণ আছে, সেটা আমরা জানি না। আমাদেরও শঙ্কা কাজ করে। মাঝেমধ্যে কিছু মোবাইল নম্বর থেকে কল আসে, কিন্তু পরিচয় দেয় না। সেদিন কল দিয়ে খুব বাজে ভাষায় গালাগাল করা হয়।’ তিনি জানান, মোবাইলে ফোন দেওয়া ব্যক্তির বয়স খুব অল্প মনে হয়েছে।

ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘আমার ছেলেকে মেরে ফেলার পরে আসামিরা আমার সঙ্গে এসে আমার ছেলেকে খুঁজেছে। এখন তাদের লিডাররাও যে আমার বাসায় এসে আমার সঙ্গে কোলাকুলি করছে না, এর নিশ্চয়তা কী? পুলিশ তদন্তের স্বার্থে কিছু বলছে না। কিন্তু এর একটা বিহিত না হলে কীভাবে হবে। আমরা নিরাপত্তার শঙ্কায় আছি।’ তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের মৃত্যুর পর থেকে অনেকেই বাসায় আসছে। গণমাধ্যমকর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার লোকজন আসছেন। খোঁজখবর নিচ্ছেন। অনেক শুভাকাঙ্ক্ষীও আসছেন। এর মধ্যে অনেকেই আছেন যাদের আমরা চিনি না। ফলে আমাদের ভয় হচ্ছে, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা হচ্ছে। আমি থানায় জিডি করব।’

চার দিন পরও জিডি না করার বিষয়ে প্রশ্ন করলে ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘ছেলেকে হারিয়েছি। আমরা মানসিকভাবে বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত। এ অবস্থায় হুমকি-ধমকি আসছে। থানায় দৌড়ঝাঁপ করার মতো শক্তিটুকুও পাচ্ছি না।’ তবে তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা জিডি করব। ডিবিকেও বিষয়টি জানাব।’

গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকা থেকে অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। অপ্রতিমকে উদ্ধারে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালানোর পর সানন্দার নির্জন পাহাড়ি এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন ‘কেবিজি’ নামের একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য।

গত বুধবার কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে এক রাতে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়। পরে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ৪৫১ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মাদক সেবন, নিয়মিত মামলা, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন অপরাধে বাকি ১৭৩ জনকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।

৯৮টি মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তার ২৬৩
কুমিল্লায় ২৪ ঘণ্টায় ৯৮টি মাদকবিরোধী অভিযানে ২৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। এসব অভিযানে ১৮৫ কেজি গাঁজা, ৩৩৯ পিস ইয়াবা ও ৭২ বোতল ইস্কাপ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জেলা পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, অভিযানে ২২ জন মাদক ব্যবসায়ী ও ৭৪ জন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিভিন্ন মামলায় ১৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফর ঘিরে নিরাপত্তা প্রস্তুতি, ভেন্যু পরিদর্শনে ডিআইজি

০

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ১ অক্টোবর ফেনী সফরকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সফরের সম্ভাব্য বিভিন্ন ভেন্যু ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী। আজ শনিবার ফেনী সফরে আসার কথা রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিনের।

শুক্রবার দিনভর ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীর বিভিন্ন সম্ভাব্য ভেন্যু পরিদর্শন করেন ডিআইজি। এ সময় তিনি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে জনসভাস্থলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন।

ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার ডিআইজির পরিদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জেলা প্রশাসকও বিভাগীয় কমিশনারের ফেনী সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ফেনী সফর উপলক্ষে সফরসূচিতে থাকা বিভিন্ন স্থানের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী পরিদর্শনে যান। এ সময় জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী, পরশুরাম, ফেনী সদর, দাগনভূঞা ও সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনের অংশ হিসেবে ডিআইজি ফেনীর পরশুরামের মুহুরী নদীর স্টিল ব্রিজসংলগ্ন সম্ভাব্য জনসভাস্থল, পরশুরাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের অস্থায়ী হেলিপ্যাডের মাঠ, ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠ, বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ মাঠ এবং ফুলগাজী ডাকবাংলো পরিদর্শন করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও সুসংহত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন ডিআইজি।

এদিকে আজ বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন ফেনী সফরে এসে সফরের সম্ভাব্য ভেন্যু ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সফরকে কেন্দ্র করে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।