Home Blog Page 218

এলপিজি আমদানি নিয়ে বড় সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে এলপিজি আমদানিতে বিশেষ আর্থিক সুবিধা মিলবে এবং একে শিল্প কাঁচামাল হিসেবে গণ্য করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে আমদানিকারকরা আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে বাকিতে মূল্য পরিশোধের সুযোগ পাবেন।

রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে জারি করা এক সার্কুলারে জানানো হয়েছে, এলপিজি আমদানিকারকরা এখন থেকে সর্বোচ্চ ২৭০ দিন বা ৯ মাস মেয়াদে বাকিতে আমদানির ঋণ সুবিধা পাবেন। সাধারণত বাল্ক আকারে আমদানি করা এলপিজি দেশে এনে সিলিন্ডারে ভরা এবং বাজারজাত করতে দীর্ঘ সময় লাগে। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় আমদানিকারকদের নগদ অর্থের সংকট দূর করতে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আমদানিকারকরা কেবল সরবরাহকারীর কাছ থেকেই নয়, বরং বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকেও ‘বায়ার্স ক্রেডিট’ বা ক্রেতা ঋণ নিতে পারবেন। এছাড়া দেশের ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে বিল ডিসকাউন্টিং সুবিধাও গ্রহণ করা যাবে। এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর শিল্প কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে এই সুবিধা দেওয়া হলেও, এলপিজি খাতকে এর অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এখন নতুন সার্কুলার জারি করা হলো।

বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, এলপিজি আমদানির পর তা বিতরণ ও ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে অনেক সময় ব্যয় হওয়ায় আমদানিকারকদের নগদ অর্থপ্রবাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। এই নতুন সুবিধা সেই চাপ কমিয়ে এলপিজি আমদানিতে গতি আনবে এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখবে। তবে এই সব সুবিধার ক্ষেত্রে প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা ও ঋণের সতর্কতামূলক নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের সাধারণ গ্রাহকদের জন্য রান্নার গ্যাসের সংকট দূর হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার সাথে সমন্বয় করা আমদানিকারকদের জন্য আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে না পারা সরকারের ব্যর্থতা: মির্জা ফখরুল

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এখনো অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে না পারার বিষয়টিকে সরকারে ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়িতে তার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের ব্যর্থতা নির্বাচন সামনে রেখে অস্ত্র উদ্ধার করতে পারছে না। তিস্তা–পদ্মাসহ অভিন্ন সব নদী থেকে ভারতের কাছে হিস্যা আদায় করা হবে।

মোস্তাফিজুর রহমান প্রসঙ্গে এ সময় তিনি বলেন, একজন ক্রিকেটারকে অপমান করা মানে দেশকে অপমান করা।

তিনি বলেন, আমি আগে ক্রিকেট খেলতাম ও বোর্ডের মেম্বার ও ছিলাম। এখন ক্রিকেট খেলি না, এখন রাজনীতি করি। এই ক্রিকেটের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক বিষয়ক জড়িত আছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ক্রিকেটের সাথে আমাদের দেশের সম্মান জড়িয়ে আছে। আমাদের একজন ক্রিকেটারকে অপমান করা হয়েছে। এতে আমরা মনে করি, আমাদের দেশকে অপমান করা হয়েছে।

আমরা সরকার গঠন করলে বিদেশিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকবে: জামায়াত আমির

সরকার গঠনের সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হবে—এমনই ইঙ্গিত দিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিদেশি রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সুসম্পর্ক বজায় রাখার অঙ্গীকারের পাশাপাশি তিনি নির্বাচন, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরায় দলের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত ইসলামী সরকার গঠন করলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখা হবে। তিনি জানান, নির্বাচনের পর সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে একসঙ্গে বসে দেশকে স্থিতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং আগামী পাঁচ বছরে দেশের কল্যাণে কী করা যায়, সে বিষয়ে যৌথ আলোচনা হবে।
বর্তমান নির্বাচন পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, দেশে এখনো পুরোপুরি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়নি। তবে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রায় ২০০ সদস্যের পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছে, যারা জেলা পর্যায়ে কাজ করবে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, গত ৫৪ বছরের রাজনীতিতে দেশের মানুষ হতাশ হয়ে পড়েছে। জনগণ এখন পরিবর্তন চায়, আর সেই পরিবর্তনের লক্ষ্যেই জামায়াত কাজ করছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসতে চায়, তাদেরও জনগণকে এই পরিবর্তনের আশ্বাস দেওয়া উচিত।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের দেশের স্বার্থে ওয়াচডগ হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের মূলধারার গণমাধ্যম যেন কোনো নির্দিষ্ট দলের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট না হয়ে জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে—এই বিষয়টি সব সময় মনে রাখা প্রয়োজন।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় প্রথম জামিন

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ঘিরে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোতে এবার এক নতুন নজির সৃষ্টি হলো। প্রথমবারের মতো এ ধরনের মামলায় কোনো আসামিকে জামিন দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, যা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে লক্ষ্মীপুরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামি হুমায়ুন কবিরের জামিন মঞ্জুর করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম জানান, ট্রাইব্যুনাল একাধিক কঠোর শর্ত সাপেক্ষে জামিন দিয়েছেন। শর্ত অনুযায়ী, আসামিকে তার বর্তমান বাসার ঠিকানা ট্রাইব্যুনালকে জানাতে হবে এবং গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের বক্তব্য প্রদান করতে পারবেন না। একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা ও ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারকে অবহিত না করে বাসা পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না। মামলার সাক্ষ্য বা প্রমাণ প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে জামিন বাতিল হবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের একজন হুমায়ুন কবির, যিনি ঘটনার সময় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গত আগস্টে ঢাকার একটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ট্রাইব্যুনালে শাহরিয়ার কবির

২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের আলোচিত সহিংসতা ও গণহত্যা মামলায় বিচারিক প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোল। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবিরকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এই মামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে শাহরিয়ার কবিরসহ আসামিদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।
এ মামলায় বর্তমানে আরও চারজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক একেএম শহিদুল হক এবং পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক মোল্যা নজরুল ইসলাম।
এর আগে গত ৩০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ শাহরিয়ার কবিরকে হাজির করার নির্দেশ দেন। সেদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহ। তিনি মামলার তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরে শাহরিয়ার কবিরের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করেন, যা ট্রাইব্যুনাল মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগ দাখিল করেন। হেফাজতে ইসলামের নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে এই অভিযোগ করা হয়।
এই মামলায় অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন দেশের রাজনীতি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাদের মধ্যে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক এমপি হাজী সেলিম, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি শামীম ওসমান, সাবেক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক ও বেনজীর আহমেদ, র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহমেদ, ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদ, ডিএমপির সাবেক উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ আরও অনেকে।
এ তালিকায় আরও রয়েছেন একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, কমিটির সদস্য অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ইমরান এইচ সরকার, একাত্তর টিভির সাবেক সিইও মোজাম্মেল হক বাবু, সময় টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আহমেদ জোবায়ের, এবিনিউজ২৪ ডটকমের সম্পাদক সুভাস সিংহ রায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাইমুল ইসলাম খান, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ এবং এনএসআইয়ের মো. মনজুর আহমেদ।
শাপলা চত্বরকেন্দ্রিক এই মামলাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান কার্যক্রমকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী শুনানিতে মামলার তদন্ত ও বিচারিক অগ্রগতি কোন দিকে গড়ায়, সে দিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

ডিমের সঙ্গে ভুলেও খাবেন না যে ৫ খাবার

ডিম বাঙালির রান্নাঘরে এক অনিবার্য উপাদান। প্রাতঃরাশের ওমলেট হোক, দুপুরের পোলাও কিংবা রাতের হালকা খাবার প্রায় প্রতিদিনের মেনুতেই থাকে ডিম। প্রোটিন, ভিটামিন আর খনিজে ভরপুর এই খাদ্যকে ‘সুপারফুড’ বললে অত্যুক্তি হয় না। কিন্তু জানেন কি, কিছু সাধারণ খাবারের সঙ্গে ডিম খাওয়ার অভ্যাসই উল্টোভাবে শরীরের জন্য হয়ে উঠতে পারে মারাত্মক ক্ষতিকর?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু খাবারের সঙ্গে ডিম খেলে তার পুষ্টিগুণ হারিয়ে যায়, এমনকি হজমের গোলযোগ থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। যেমন দুধ ও আনারস।

এই দুই খাবার একসঙ্গে খেলে প্রচুর গ্যাস হয়। তেমনি করে ডিমের সঙ্গেও কিছু কিছু খাবার খেতে নেই। কোন কোন খাবার ভুলেও ডিমের সঙ্গে খাবেন না জেনে নিন।

দুধের সঙ্গে ডিম

অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন ডিম কি দুধের সঙ্গে খাওয়া উচিত? বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম কখনই দুধ এবং পনিরের সঙ্গে খাওয়া উচিত নয়। এ ছাড়া তরমুজের মতো কিছু ফল দিয়ে খাওয়া উচিত নয়।

চায়ের সঙ্গে ডিম

এটি এমন একটি সংমিশ্রণ যা অনেক মানুষই উপভোগ করেন। আসলে চায়ের সঙ্গে খেলে এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হতে পারে। যা আপনার শরীরের আরও মারাত্মক ক্ষতি করবে।

পার্সিমন

টমেটোর মতো দেখতে এই ফলটি অনেক পুষ্টির ভান্ডার। কিন্তু ডিমের পর এটি খেলে গ্যাস্ট্রিক অ্যাটাকের সম্ভাবনা বেড়ে যায় এবং শরীরে টক্সিন জমতে পারে।

সয়া মিল্কের সঙ্গে ডিম

সয়া দুধের সঙ্গে ডিম খেলে আপনার শরীরে প্রোটিন শোষণকে বাধা দিতে পারে। স্পষ্টতই, আপনি যদি প্রোটিনের জন্য ডিম খাই তবে, শরীরের জন্য খুব একটা উপযোগী হবে না।

চিনি দিয়ে ডিম নয়

আপনি যদি চিনি দিয়ে ডিম রান্না করেন, উভয় থেকে নির্গত অ্যামিনো অ্যাসিড আমাদের শরীরের জন্য বিষাক্ত। এর ফলে আপনার রক্ত জমাট পর্যন্ত বাধতে পারে।

তাই সুস্থ থাকতে ডিমের সঙ্গে কিংবা ডিম খাওয়ার আগে ও পরে এসব খাবার এড়িয়ে চলুন।

ফুলকপি খাবার আগে দ্বিতীয় বার ভাবুন

শীতের জনপ্রিয় সবজি ফুলকপি, বাঁধাকপি ও ব্রকলি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হলেও এগুলো সবার জন্য সমানভাবে উপকারী নয়। নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন—এমন মানুষের ক্ষেত্রে এসব সবজি খেলে উল্টো অস্বস্তি বা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে, যেমন গ্যাস, অ্যাসিডিটি, বুক জ্বালাপোড়া বা বদহজম—তাদের জন্য এসব সবজি সতর্কতার সঙ্গে খাওয়া প্রয়োজন। কারণ, ফুলকপি ও বাঁধাকপিতে আঁশ বেশি থাকায় হজম হতে সময় লাগে। বিশেষ করে কাঁচা সালাদ, বেশি তেলে ভাজা বা ডুবো তেলে তৈরি পাকোড়া খেলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি থাকলে, কিডনিতে পাথর বা দীর্ঘদিনের কিডনি রোগ থাকলে এসব সবজি সীমিত পরিমাণে খাওয়া বা প্রয়োজনে এড়িয়ে চলাই ভালো। চিকিৎসকেরা এ ধরনের সমস্যায় ভুগছেন—এমন রোগীদের ক্ষেত্রে সাধারণত সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন।

থাইরয়েডজনিত সমস্যা বা আয়োডিনের ঘাটতি থাকলে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও ব্রকলি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে ভালোভাবে সেদ্ধ করে অল্প পরিমাণে খেলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।

সবজি খাওয়ার সময় ছোট টুকরা করে ভালোভাবে সেদ্ধ করে রান্না করা সবচেয়ে নিরাপদ। অল্প তেলে ভাজি, মসলা পরিমিত রাখা এবং ভাত বা রুটির সঙ্গে খাওয়াই ভালো পদ্ধতি। পোলাও বা ফ্রায়েড রাইসের মতো খাবারে তেল কম ব্যবহার করা উচিত। শীতকালে স্যুপ হিসেবে খেলে হজমেও সুবিধা হয়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও ব্রকলি পুষ্টিকর হলেও যাদের নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই সবজি খাওয়ার আগে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

আগামী বাজেটের রূপরেখা প্রণয়ন করছে সরকার

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের রূপরেখা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ব্যয় সাশ্রয়ী পদক্ষেপকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। সে কারণে বাজেটের আকার চলতি বাজেটের মতো রাখার আভাস দেওয়া হয়েছে। আবার ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রপ্তানি, রেমিটেন্স আয় ও উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ সহায়তায় ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে বাজেটের আকার বাড়াতে পারে রাজনৈতিক সরকার। ফলে বাজেটের রূপরেখা প্রস্তুতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বেশ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
সূত্রগুলো জানায়, দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি রপ্তানি আয় এখন কিছুটা চাপের মুখে রয়েছে। অন্যদিকে রেমিটেন্স আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে রিজার্ভে। ডলার সংকট নেই বললেই চলে। আবার গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে তেমন সুখবর নেই। মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্ক থেকে নেমে আসলেও স্বস্তি ফিরে আসেনি। এ অবস্থায় বাজেট প্রণয়নে কৌশলী ভূমিকা নিতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। কারণ, নতুন বাজেটের আকার ও নীতি চূড়ান্ত করবে পরবর্তী রাজনৈতিক সরকার। চলমান সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্যয় সংকোচন নীতি অব্যাহত রাখার সুপারিশ করা হবে।
নতুন সরকার ব্যয় সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিলে বাজেটের আকার হতে পারে সোয়া আট লাখ কোটি টাকা। আবার রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিলে বাজেটের আকার আট লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকায় নেওয়ার সুযোগও রাখা হচ্ছে। আগামী বাজেটের এডিপির সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে আড়াই লাখ কোটি টাকা। তবে মোট বাজেটের আকার পরিবর্তন হলে এডিপিও সে হারে সমন্বয় হবে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজেট প্রস্তুতের জন্য সময় পাবে প্রায় সাড়ে তিন মাস। সেই সময় এ সম্পর্কিত চাপ কমাতে এবং নীতিগত দিক নির্দেশনা দিতে অন্তর্বর্তী সরকার আগামী অর্থবছরের সম্ভাব্য ব্যয়, রাজস্ব ও উন্নয়ন কাঠামো নিয়ে একটি খসড়া রূপরেখা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

এ রূপরেখা চূড়ান্ত বাজেট প্রস্তুত করতে নির্বাচিত সরকারের জন্য সহায়ক হবে। এ লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে সম্প্রতি বাজেট-সংক্রান্ত একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করা হয়। ওই বৈঠকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট এবং আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সেই বৈঠকে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট এবং আগামী অর্থবছরের সম্ভাব্য বাজেটের আকার নিয়ে একটি উপস্থাপনা উপস্থাপন করেন অর্থ বিভাগের সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।

পাশাপাশি দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি ধারণাও তুলে ধরা হয়। সূত্র জানায়, আর্থিক খাতের দুরবস্থা, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে আরও অন্তত এক বছর ব্যয় সংকোচন নীতি অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছে অর্থবিভাগ। সরকারের সম্পদ ব্যবস্থাপনায়ও এ রকম নীতির কথাই বলা হয়েছে। সবশেষ অনুষ্ঠিত আর্থিক, মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হার সংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের বৈঠকে এমন নীতি অবলম্বনের কথা বলেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ব্যয় সংকোচন নীতি অনুসরণ করায় গত বছর (২০২৪-২৫) সরকারের পাঁচ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

২০২৩-২৪ অর্থবছর একই নীতি অবলম্বন করে সরকার সাশ্রয় করেছিল আড়াই হাজার কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি ২০২৫-২৬ বছরও উল্লেখযাগ্য অঙ্কের সাশ্রয় হবে বলে প্রত্যাশা করছে অর্থবিভাগ। এই বছর বাজেটের আকার কমিয়ে ধরা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া উন্নয়ন-অনুন্নয়ন উভয় খাতের ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরেছে। এজন্য আসছে বছরও কম ব্যয়ের বাজেট দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে অর্থবিভাগ। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ৬ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়।
এটি বাড়িয়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন সাড়ে ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। দেশে কাঙ্খিত বিনিয়োগ না হওয়ায় জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন কমানো হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। শুরুতে এই বাজেট কাটছাঁট করে সাত লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনার চিন্তা ছিল। তবে সুদ পরিশোধ ও ভর্তুকি খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, ব্যাংক একীভূতকরণে মূলধন সহায়তা, সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি নানা ক্ষেত্রে সরকারের পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এখন আর বড় ধরনের কাটছাঁটের পরিকল্পনা নেই।

ইতোমধ্যে দুই হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে সাত লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে মূল বাজেটের আকার তেমন না কমলেও সংশোধিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)-এর আকার কমানো  হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়িত না হওয়ায় প্রতিবারের মতো এবারও এই কাটছাঁটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির আকার হতে পারে ২ লাখ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) নেওয়া হয়েছিল। এর মানে হলো, এবার ৩০ হাজার কোটি টাকা কমছে। চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির অর্থের মধ্যে স্থানীয় উৎস থেকে জোগান দেওয়া হয় ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। এটি কমিয়ে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা করা হচ্ছে। আর মূল এডিপিতে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে আছে ৮৬ হাজার কোটি টাকা। এটি কমিয়ে ৭২ হাজার কোটি টাকা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া এবার স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে সর্বোচ্চ ৭৪ শতাংশ কাটছাঁট করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা, পরিবহন, ধর্ম ও কৃষিতেও বড় কাটছাঁট করা হয়েছে। তবে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে পরিবেশ, স্থানীয় সরকার ও বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভায় দুই লাখ কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি চূড়ান্ত করা হয়। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ ৭২ হাজার কোটি টাকা এবং সরকারের কোষাগার থেকে বরাদ্দ ধরা হয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা। স্বাস্থ্য খাতে বড় কাটছাঁটের বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের এক সচিব বলেন, খুব বেশি কার্যকর না হওয়ায় স্বাস্থ্যের সবচেয়ে বড় কর্মসূচি সরকারের সিদ্ধান্তে বাতিল করা হয়েছে।

এখন সেটা প্রকল্প আকারে করা হচ্ছে। এ জন্য এ খাতে বরাদ্দ কমে গেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রগতি না থাকায় খরচ করতে পারবে না- এমন ঘোষণার পরই বরাদ্দ কাটছাঁট করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপি এবং সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) তুলনা করে দেখা যায়, সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ক্ষেত্রে বরাদ্দের চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এডিপির তুলনায় আরএডিপিতে কিছু খাতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ বাড়লেও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক খাতে বড় আকারের কাটছাঁট করা হয়েছে। এডিপির তুলনায় আরএডিপিতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের। এতে বরাদ্দ বেড়েছে ২৮ শতাংশ। এর পাশাপাশি স্থানীয় সরকার বিভাগে বরাদ্দ বেড়েছে ৮ শতাংশ। এই দুই খাতেই মূলত বরাদ্দ বাড়ানোর প্রবণতা দেখা গেছে।

মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ৭৭ শতাংশ কমানো হয়েছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণে। ৭৩ শতাংশ কমানো হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমেছে ৫৫ শতাংশ। এ ছাড়া বিদ্যুতে ২৭ শতাংশ, প্রাথমিক শিক্ষায় ২৯ শতাংশ, নৌপরিবহনে ৩৬ শতাংশ, রেলপথ ও কৃষিতে ৩৬ শতাংশ কমানো হয়েছে। এ ছাড়া সেক্টরভিত্তিক বরাদ্দের তুলনায় দেখা যায়, আরএডিপিতে সবচেয়ে বড় কাটছাঁটের শিকার হয়েছে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট খাতগুলো। স্বাস্থ্য শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে ৭৪ শতাংশ, যা ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ হ্রাস। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সামাজিক সুরক্ষা খাত, ৭৩ শতাংশ। ৩৫ শতাংশ কমানো হয়েছে শিক্ষা, পরিবহন ও ধর্মে।

অবকাঠামো খাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ সড়ক পরিবহন খাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে ৩৮ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজস্ব সংকটের কারণে কিছুটা কমানো স্বাভাবিক হলেও স্বাস্থ্য ও উচ্চশিক্ষায় এত বড় কাটছাঁট মধ্য মেয়াদে মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা, চিকিৎসা অবকাঠামো ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা কমে যেতে পারে, যা দীর্ঘ মেয়াদে উৎপাদনশীলতার জন্য ক্ষতিকর।
আরএডিপি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনেক প্রকল্পে বাস্তবায়নের গতি প্রত্যাশার চেয়ে ধীর, বিদেশি সহায়তার অর্থছাড়ে বিলম্ব হচ্ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়ছে। পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকার উন্নয়ন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে বাধ্য হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, যে সময় স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ার কথা ছিল, ঠিক সেই সময়ই বরাদ্দ কমানো হতাশাজনক।

তাঁর মতে, এসব খাতে ব্যয় বাড়ালে মানবসম্পদ উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়, পরিবারগুলোর আয় বাড়ে এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছেও অতিরিক্ত সম্পদ পৌঁছায়। অর্থ বিভাগ সম্প্রতি চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের বাজেট বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, জুলাই-সেপ্টেম্বরে এক লাখ চার হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা ব্যয় করেছে সরকার। এর মধ্যে পরিচালন খাতে ৯৪ হাজার ৩৯৯ কোটি ও উন্নয়ন খাতে ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় হয়েছিল ৯৫ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা।

এ ক্ষেত্রে পরিচালন খাতে ৮৪ হাজার ৫৮৬ কোটি ও উন্নয়ন খাতে ১০ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা ব্যয় করে সরকার। এদিকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক  বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,  মূল্যস্ফীতি বলা হয়েছে, ১২ মাসের গড় হিসাবে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ২০২৩ সালের জুনের পর গত নভেম্বরে প্রথমবারের মতো ৯ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। আশা করা যায়, সরকারের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি এবং কৃচ্ছ্রসাধনের ফলে আগামী জুন শেষে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নেমে আসবে।

আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

দেশের অর্থনীতিতে চলমান চলাচল এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতির প্রভাব অনুযায়ী প্রতিদিন ওঠানামা করছে টাকার মান। ব্যবসায়ী, আমদানিকারক এবং বিশেষ করে প্রবাসীদের জন্য প্রতিদিনের মুদ্রা বিনিময় হার জানা এখন সময়ের চাহিদা। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকের রেফারেন্স অনুযায়ী ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫-এর হালনাগাদ বিনিময় হার নিচে তুলে ধরা হলো।

প্রধান মুদ্রার আজকের বিনিময় হার:
ইউএস ডলার: ১২১.৩৮ টাকা
সৌদি রিয়াল: ৩২.৫১ টাকা
মালয়েশিয়ান রিংগিত: ২৮.৮৭ টাকা
ইউরো: ১৪১.০৭ টাকা
ব্রিটিশ পাউন্ড: ১৬০.১৭ টাকা
দুবাই দেরহাম: ৩৩.২০ টাকা
কুয়েতি দিনার: ৩৯৭.২৩ টাকা
সিঙ্গাপুর ডলার: ৯৪.৯৮ টাকা
ভারতীয় রুপি: ১.৩৭ টাকা
ওমানি রিয়াল: ৩১৬.৬৯ টাকা
কাতারি রিয়াল: ৩৩.৪৯ টাকা
বাহরাইন দিনার: ৩২৪.৩০ টাকা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার: ৭৮.৯৪ টাকা
কানাডিয়ান ডলার: ৮৭.০১ টাকা
জাপানি ইয়েন: ০.৮২ টাকা
ব্যাংকিং চ্যানেল এবং খোলা বাজারের (কার্ব মার্কেট) বিনিময় হারে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে। বিশেষত প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা মানি এক্সচেঞ্জ হাউজ থেকে সর্বশেষ রেট যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এই রেট অনুযায়ী ব্যবসা-বাণিজ্য ও বৈদেশিক লেনদেনে পরিকল্পনা করলে টাকার সঠিক মূল্যায়ন ও সুরক্ষিত লেনদেন নিশ্চিত করা সম্ভব।

শাকিবের সঙ্গে আবার সিনেমা করা নিয়ে যা বললেন অপু

সুযোগ এলে আবারও ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানের সঙ্গে সিনেমায় জুটি বাঁধতে চান অপু বিশ্বাস—এমনই ইঙ্গিত দিলেন অভিনেত্রী নিজেই। প্রায় দুই বছরের বিরতি কাটিয়ে বড় পর্দায় ফিরছেন তিনি, আর এই ফেরা ঘিরেই ফের আলোচনায় এসেছে জনপ্রিয় শাকিব-অপু জুটি।

সম্প্রতি নিজের নতুন সিনেমা ‘দুর্বার’ নিয়ে একটি ইভেন্টে কথা বলতে গিয়ে শাকিব খানের প্রসঙ্গ ওঠে। সেখানেই তার সঙ্গে পুনরায় কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে মুখ  খোলেন অপু বিশ্বাস।

ঢালিউডে জুটি হিসেবে অর্ধশতাধিকেরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস। ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েনের পর দীর্ঘদিন পর্দায় একসঙ্গে দেখা যায়নি এই জুটিকে। ফলে ভক্তদের মনে বহুদিন ধরেই প্রশ্ন—আবার কি বড় পর্দায় ফিরবে শাকিব-অপু জুটি?

এ প্রসঙ্গে অপু বিশ্বাস বলেন, “তিনি একজন গ্লোবাল স্টার, সুপারস্টার, মেগাস্টার। তাঁকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই।

আমি যেহেতু বিরতি কাটিয়ে কাজে ফিরেছি এবং সবার সহযোগিতা পাচ্ছি, তাই আপনাদের এই ইচ্ছার বিষয়ে বলতে চাই—যদি কোনো হৃদয়বান প্রযোজকের কানে বিষয়টি পৌঁছায় এবং তিনি হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে আপনাদের সেই চাওয়া পূরণ হতেও পারে।”

শাকিব খানের সঙ্গে কাজের স্মৃতিচারণা করে অপু আরো বলেন, “আমি আর শাকিব মোট ৭২টি সিনেমা করেছি। প্রযোজক ও পরিচালকদের সহযোগিতার কারণেই এতগুলো কাজ করা সম্ভব হয়েছে।”

উল্লেখ্য, অপু বিশ্বাস অভিনীত নতুন সিনেমা ‘দুর্বার’ পরিচালনা করছেন কামরুল হাসান ফুয়াদ।

ছবিটিতে তার বিপরীতে অভিনয় করছেন আব্দুন নূর সজল। ২০২৬ সালের কোনো বড় উৎসবকে সামনে রেখে সিনেমাটি দেশজুড়ে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।