ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচিত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের দীর্ঘদিনের সমস্যার কার্যকর সমাধানই হবে বিএনপির মূল লক্ষ্য।
সোমবার ঠাকুরগাঁওয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।
মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনে যদি বিএনপি সরকার গঠনের সুযোগ পায়, তাহলে ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এই এলাকার সামাজিক পরিবেশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে শক্তিশালী করা এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হবে আমাদের অগ্রাধিকার। পাশাপাশি কৃষকদের যেসব সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে জমে আছে, সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধানে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
নিজের মনোনয়ন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি তিনি গভীর কৃতজ্ঞ। তাদের আস্থার কারণেই আবারও ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে এই দায়িত্ব পাওয়াকে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বড় সুযোগ হিসেবেও উল্লেখ করেন ফখরুল।
তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন, ত্যাগ, নির্যাতন ও রক্তপাতের পর বাংলাদেশের মানুষ আবার ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সেই অধিকার বাস্তবায়নের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। এই নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দল আমাকে মনোনীত করেছে, যা আমার জন্য বড় সম্মানের।
এ সময় এলাকার ভোটারদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতের মতো এবারও ধানের শীষে ভোট দিয়ে তাকে সমর্থন জানাতে তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি বলেন, জনগণের দোয়াই আমাদের শক্তি। আল্লাহ যেন আমাদের সেই তৌফিক দেন, যাতে আমরা মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে পারি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই দেশ গণতন্ত্রের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে এবং মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে।
বিএনপি নির্বাচিত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সবচেয়ে গুরুত্বারোপ করবে:মির্জা ফখরুল
তারেক রহমানের পক্ষে ঢাকা-১৭ আসনে মনোনয়ন জমা
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। বিএনপির প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আব্দুস সালাম এবং সহকারী নির্বাচন সমন্বয়ক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার তাঁর পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মনোনয়ন জমা শেষে আব্দুস সালাম বলেন, জনগণ যেভাবে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়েছে, ভোটের দিনও সেভাবেই তাঁকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান দেশের চলমান সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে জনগণের প্রত্যাশা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঢাকা-১৭ আসনের ভোটার হওয়ায় তারেক রহমান এই আসন থেকেই প্রার্থী হয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অনুরোধেই তিনি এখান থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বলে জানান আব্দুস সালাম।
একই দিনে বগুড়া-৬ সংসদীয় আসন থেকেও তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। এ উপলক্ষে দুপুরে বগুড়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যাবেন জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাসহ স্থানীয় নেতারা।
এর আগে গত রোববার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনের দলীয় সমন্বয়কদের উপস্থিতিতে তারেক রহমান নিজে মনোনয়নপত্রে সই করেন। এর মাধ্যমে এই দুটি আসনে তাঁর প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হয়।
ভোটের মাঠে নয়া মেরুকরণ
আদর্শগত এবং ভোটের রাজনীতিতে পরস্পর বিপরীত মুখী ছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এমনকি জামায়াত নেতাদের এবং তাদের আদর্শকে ভ্রান্ত বলে প্রচার করত দলটির শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত।
আবার শুরু থেকেই নিজস্ব রাজনৈতিক বলয় তৈরি করতে চাওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি নিজেদেরকে বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারী বলে প্রচার চালিয়েছে। এমনকি দলের নেতাকর্মীরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক জয় পেয়ে সরকার গঠনেরও স্বপ্ন দেখতেন। দলটির নেতারা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সঙ্গে লবিং করে কিছু আসন দাবি করছিল। কিন্তু বিএনপি তাদের পর্যাপ্ত আসন দিতে নারাজ ছিল।
আবার দলটি প্রথম থেকেই জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এক ধরনের দূরত্ব বজায় রেখেই চলত। এমনকি এনসিপি গঠনের পর শিবিরের কয়েক নেতা দলে যুক্ত হয়নি এনসিপির নেতাদের জামায়াত বিরোধিতার কারণে।
অন্যদিকে এক সময়ের বিএনপির হাতিয়ার এবং পরবর্তীতে বিএনপি জোটের শক্তিশালী অংশীদার কর্নেল অলি আহমদও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হয়েছেন।
এমনি পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির নয়া মেরুকরণ শুরু হয়েছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে মোটা দাগে বেশিরভাগ
দলই হলো ধর্মীয় রাজনৈতিক দল। ফলে এমন জোট রাজনীতিতে এবং আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে কিছুটা হলে চাপে ফেলে দিয়েছে।
আবার এনসিপি থেকে বেশ কিছু কেন্দ্রীয় নেতার পদত্যাগের কারণে বিপ্লবের শক্তি বলে পুরো রেজাল্ট পাওয়া বর্তমান এনসিপির পক্ষে অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় আগামী নির্বাচনে ভোটের মাঠে যাদের কৌশল ভালো হবে তাদের জয়লাভ করার পথ সুগম হবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে আগামী নির্বাচনে জোট কিংবা প্রতীক নয়, ব্যক্তিই হবে মূল। প্রার্থী ভালো না হলে যে কোনো জোট থেকে জয়লাভ করা কঠিন হবে বলে তারা মনে করেন।
গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এই ছয়টি দল আসন সমঝোতার ভিত্তিতে সব আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার আলোচনা শুরু করে। পরে এতে যোগ দেয় বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি। জামায়াতসহ এই আটটি দল বিভিন্ন দাবিতে অভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে টানা অনেক দিন মাঠে ছিল। নতুন করে এনসিপি ও এলডিপি নির্বাচনী সমঝোতায় যুক্ত হওয়ায় এখানে দলের সঙ্গে সংখ্যা দাঁড়াল ১০টিতে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. কাজী মাহবুবুর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, জামায়াতের জোটের কারণে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, ভোটের মাঠে প্রতিযোগিতা হবে। তবে বিএনপির দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, জামায়াতের জোটের ফলে রাজনীতিতে এক ধরনের নয়া মেরুকরণ হয়েছে। তবে অতীতেও এমন মেরুকরণের ইতিহাস রয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন খুবই প্রতিযোগিতামূলক হবে। এখানে জোট বা দল নয় বরং প্রার্থীর কাজ এবং ব্যক্তিগত ইমেজ হবে নির্ধারক। প্রায় ৩৫ ভাগ তরুণ ভোটার তারা কাকে ভোট দেবে এটা এখনো অনিশ্চিত। সুতরাং আমি মনে করি,
যে দলে বা জোটে জনপ্রিয় প্রার্থী বেশি সে জোটই নির্বাচনে ভালো করার সম্ভাবনা বেশি।
এদিকে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের পদত্যাগ নতুন জোটকে কিছুটা বেকায়দায় ফেলে দেবে বলে মনে করেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তারা মনে করেন, এনসিপির মধ্যে যারা প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী এবং জনগণের মধ্যে যারা প্রগতিশীলতাকে লালন করেন তাদের ভোট বিদ্যমান এনসিপির ঘরে আর যাবে না। এতে ইসলামিক জোট থেকে প্রগতিশীল অংশটি বিএনপি জোটের দিকে ধাবিত হবে বলে মনে করেন তারা।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন। তিনি তার ফেসবুকে লিখেছেন, বিএনপি, এই জামায়াতের সঙ্গে জোট করে ১৭ বছর ক্ষমতা থেকে দূরে ছিল। আর বিএনপির অধীনে জামায়াতের সঙ্গে জোট হয়েছিল। জামায়াতের অধীনে নাম যেখানে এনসিপিকে বলাই হয় জামায়াতের আরেকটা দোকান; তাহলে কেন এনসিপি আগে নিজের স্বকীয়তা, নিজের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা না করে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জামায়াতকে বেছে নিতে মরিয়া হয়ে যাচ্ছে? তিনজন মন্ত্রী ছিল না ক্ষমতায়? পারেনি তো।
‘জামায়াতের সঙ্গে জোট না চাওয়া মানে বিএনপির সঙ্গে চাওয়া না। আমার রাজনীতিই সংস্কারের পক্ষে। নতুন সংবিধানের পক্ষে। আমি চেয়েছিলাম স্বতন্ত্র একটা নির্বাচন হোক, তৃতীয় জোট করে, বিএনপি/জামায়াতের বাইরে গিয়ে।’
অন্যদিকে বিএনপি নেতারা মনে করছেন, শেষ মুহূর্তে এসে এমন জোট বিএনপির ভোটের মাঠে কোনো প্রকার প্রভাব ফেলবে না। ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন এবং এনসিপি শেষ পর্যন্ত জামায়াতের সঙ্গেই ভোটে যাবেন, এটা বিএনপির হাইকমান্ড জানত। ফলে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন এবং এনসিপিকে বাদ দিয়েই বিএনপি ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
বিএনপি সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনের মাঠে ধর্মকে ব্যবহার করে ইসলামিক জোট জনগণের ভোট টানার চেষ্টা করবে- এটিও বিএনপি হাইকমান্ড ভালো করেই জানে। বিএনপিও যে কোনোভাবেই ইসলামের বিপক্ষের কোনো দল নয়, সেটাও তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন দিবসের বক্তব্যে প্রমাণিত হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রবিবার ঠাকুরগাঁওয়ে বলেছেন, বিএনপির অঙ্গীকার; কুরআন-সুন্নাহর বাইরে কোনো আইন আমরা করতে দেব না। কিন্তু কিছু মানুষ বিভ্রান্ত ছড়ানোর চেষ্টা করে; আমরা নাকি কুরআন- সুন্নাহর আলোকে থাকতে চাই না। কিন্তু আমরা সব সময় কুরআন-সুন্নাহর পক্ষে ছিলাম ও আছি।
তবে রাজনীতির মাঠে এখনো ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ এখন ক্রান্তিকাল পার করছে। দেশকে অস্থিতিশীল করতে কিছু লোক পেছন থেকে কাজ করছে। এই নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের ঐক্য নষ্ট হলে দেশের ক্ষতি হবে। তাই, সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
তবে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের দিনের সবকটি কর্মসূচিই মানুষের মনকে ছুঁয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে বিমান থেকে নেমে জুতা খুলে মাটিকে স্পর্শ করার মধ্য দিয়ে দল-মত, ডান-বাম সকলের মন জয় করেছেন তিনি। এরপর রাজধানীর ৩০০ ফুট এলাকায় আয়োজিত বিশাল গণসংবর্ধনায় তারেক রহমান বিশ্বখ্যাত নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ঐতিহাসিক উক্তি ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’-এর প্রসঙ্গ টেনে ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ বাক্য জাতির সামনে তুলে ধরেন। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন নতুন মাত্রা যোগ করেছে, তেমনি জনমনে সৃষ্টি করেছে কৌতূহল । অনেকে বলছেন, আসলে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনায় তার দৃষ্টিভঙ্গি। তার এ বক্তব্যের পর বিদেশি সংবাদপত্রেও তাকে আগামীর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
তারেক রহমানের পরিকল্পনায় একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার রূপরেখা আছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি এমন একটি নীতিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছে, যা আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে পারলে তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। তাই বিএনপি প্রস্তুত করেছে, আটটি বিশেষ খাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা। এগুলো হলো- ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্যকার্ড, কর্মসংস্থান তৈরি, বেকার যুবকদের জন্য ভাতা, শিক্ষা, ক্রীড়া ও পরিবেশ এবং ধর্মীয় নেতাদের উন্নয়ন সেবা যার প্রতিটিই মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, তারেক রহমানের পরিকল্পনা জাতির মধ্যে আশার খোড়াক জুগিয়েছে। মানুষের মধ্যে প্রত্যাশা বেড়েছে। তিনি দেশে আসার পর প্রতিটি কাজই দারুণভাবে করতে পেরেছেন। তবে ভোটের মাঠে জোটের ফলে নয়া মেরুকরণে বিএনপির সামনে চ্যালেঞ্জ বেড়ে গেল। বিএনপিকে সতর্কতার সঙ্গে ভোটের মাঠে সক্রিয় থাকতে হবে।
বাংলাদেশে রাজনীতির মাঠে জোট নতুন নয়। গত দুই দশকে এটি প্রধান রাজনৈতিক দলের জন্য অপরিহার্য উপাদান হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৮০’র দশকের গোড়ায় সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন থেকেই জোট রাজনীতির সূচনা। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তিনটি বড় জোটের সমন্বিত ভূমিকা পরবর্তীতে বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে জোটকে প্রধান করে কৌশল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রথম নির্বাচনেও জোট রাজনীতির প্রভাব ছিল স্পষ্ট। জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে না নিলে বিএনপির পক্ষে সরকার গঠন সম্ভব হতো না। একই চিত্র দেখা যায় ১৯৯৬ সালে যখন আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টির সহায়তা ছাড়া সরকার গঠন করতে পারেনি। ২০০১ সালেও জোটের দাপটে বিএনপি-জামায়াত সরকার গঠন করে। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও জোট ছিল অন্যতম নিয়ামক। পরবর্তী বিতর্কিত সকল নির্বাচনেই জোটের প্রভাব ছিল। এবারের জোটের প্রেক্ষাপট একটু ভিন্ন। একদিকে ইসলামপন্থি জোট অন্যদিকে মধ্যপন্থি জোট। তবে বিএনপি জোটে কিছুটা হলেও বামপন্থিদের অবস্থান রয়েছে এবং ইসলামপন্থি একাংশেরও সমর্থন রয়েছে।
বিএনপির এক আসনে প্রার্থী বদল, চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন যিনি
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে দলীয় প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এই আসনে কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমানে পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে বাদ দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য গোলাম আকবর খোন্দকারকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোলাম আকবর খোন্দকারের ছেলে তারেক আকবর খোন্দকার। তিনি জানান, বিএনপির পক্ষ থেকে আজই রাউজান আসনের জন্য গোলাম আকবর খোন্দকারকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি সংগ্রহ করেন গোলাম আকবর খোন্দকার।
এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর একই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চট্টগ্রাম-৬ আসনে প্রাথমিকভাবে দলটির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমানে পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর নাম ঘোষণা করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে দলীয় সিদ্ধান্তে সেই মনোনয়ন পরিবর্তন করা হলো।
মাঠে হার্ট অ্যাটাক করলেন ঢাকা ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর আগে ক্রিকেটারদের সঙ্গে গরম করার সময় আচমকাই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ঢাকা ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ মাহবুব আলী জাকি। অনুশীলন সেশন চলাকালীন তার অসুস্থতার ঘটনা ঘটে।
তারেক রহমানের আগমনে ফ্যাসিস্ট তারকার পল্টিবাজি
দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরায় উচ্ছ্বসিত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রত্যাশার কথা তুলে ধরছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শোবিজ তারকারা। এমনকি বাদ যাননি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ তারকারাও।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থী হত্যাচেষ্টার অভিযোগের আসামি ও ‘আলো আসবেই’ গ্রুপের সদস্য অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি এক পোস্টে লিখেছেন, ‘স্বদেশে স্বাগতম তারেক রহমান! ১৮ বছর সুদীর্ঘ সময় এখন বাংলাদেশ আর তলা বিহীন ঝুড়ি নয়! শেখ হাসিনার উন্নয়নে বদলে যাওয়া বাংলাদেশে আপনাকে স্বাগতম! আপনাকে দেখেও মানুষ ভাবছে বদলে যাওয়া তারেক রহমান! আশা করি আপনিও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে দেশের মানুষের স্বস্তি ও শান্তির জন্যে কাজ করবেন।’
সবশেষে বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে জ্যোতি লিখেছেন, ‘সবাইকে বড়দিনের শুভেচ্ছা! আজকের দিনটি প্রকৃত অর্থেই বাংলাদেশের জন্য বড় হয়ে উঠুক।’
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী-কন্যাকে বহনকারী বিমান সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে বিমানটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে যাত্রাবিরতির পর তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মাটি স্পর্শ করে। বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে ৩০০ ফিট সড়কে দলীয় আয়োজনে তার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন তারেক রহমান।
আবারও বাড়ল সোনা, রুপা ও প্লাটিনামের দাম
বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুর দামে একযোগে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রুপার দাম ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স ৭৫ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে সোনা ও প্লাটিনামও সর্বকালের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলেই মূল্যবান ধাতুর বাজারে এই শক্তিশালী ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
স্পট বাজারে সোনার দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৫০৫ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। লেনদেনের একপর্যায়ে সোনার দাম রেকর্ড ৪,৫৩০ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সোনা ফিউচার শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৫৩৪ ডলারে লেনদেন হয়।
সবচেয়ে নাটকীয় উত্থান দেখা গেছে রুপার দামে। স্পট রুপা ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৩ দশমিক ৬৮ ডলারে লেনদেন হলেও দিনের একপর্যায়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৭৫ দশমিক ৬২ ডলার স্পর্শ করে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত রুপার দাম প্রায় ১৫৮ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ ঘাটতি, যুক্তরাষ্ট্রে রুপাকে ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেল’ হিসেবে ঘোষণা এবং শিল্প খাতে শক্তিশালী চাহিদাই এই উত্থানের প্রধান চালিকা শক্তি।
প্লাটিনামের দামেও বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা গেছে। স্পট প্লাটিনাম ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ২,৩৩৮ দশমিক ২০ ডলারে পৌঁছায়। দিনের শুরুতে এটি রেকর্ড ২,৪৪৮ দশমিক ২৫ ডলার স্পর্শ করে। একই সঙ্গে প্যালাডিয়ামের দাম ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১,৮০৯ দশমিক ৯৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের সেশনে তিন বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, চলতি সপ্তাহে সব ধরনের মূল্যবান ধাতুই লাভের পথে রয়েছে। এর মধ্যে প্লাটিনাম সাপ্তাহিক হিসাবে ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী উত্থান রেকর্ড করতে যাচ্ছে।
৫ ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা উত্তোলন নিয়ে যা জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
একীভূত হওয়া সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীদের চাহিদার প্রেক্ষিতে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত শিগগিরই কার্যকর হবে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বা সময় চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি গণমাধ্যমে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) থেকে মার্জারের আওতাভুক্ত একটি ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হবে— এমন একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যা সঠিক নয়। মার্জারের আওতাভুক্ত পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীদের চাহিদার প্রেক্ষিতে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি শিগগিরই শুরু হবে। তবে এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ বা সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, স্কিম কার্যকর হওয়ার পর যেসব আমানতকারীর হিসাবে দুই লাখ টাকা বা এর কম রয়েছে, তারা একবারেই পুরো টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। আর যাদের হিসাবে দুই লাখ টাকার বেশি রয়েছে, তারা প্রতি তিন মাস অন্তর সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা করে দুই বছর পর্যন্ত টাকা তুলতে পারবেন। তবে ৬০ বছরের বেশি বয়সী গ্রাহক কিংবা ক্যানসার বা জটিল রোগে আক্রান্ত আমানতকারীদের ক্ষেত্রে এই সীমা শিথিল থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী তারা যেকোনো পরিমাণ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং আমানতকারীদের শেয়ার থেকে আসবে বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ধরা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি ব্যাংকে বর্তমানে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর মোট জমা রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে এসব ব্যাংকের ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যার একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে।
বাবার সঙ্গে একইদিনে ভোটার হচ্ছেন জাইমা রহমানও
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানও আজ ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন। এরপর তারা এনআইডি পাবেন। এতে বাবার সঙ্গে একই দিনে ভোটার হচ্ছেন জাইমা রহমান।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) এনআইডি মহাপরিচালক এএসএম হুমায়ুর কবীর গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, তারেক রহমানের সঙ্গে তার মেয়ে জাইমা রহমানও আজ ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন।
এর আগে সাংবাদিকদের তিনি জানান, আমরা যতটুকু জানিয়েছে উনি অনলাইনে ফরম পূরণ করেছেন। এখন আমাদের কাছে এসে কেবল আঙ্গুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন। এরপর সফটওয়্যার স্বযংক্রিয়ভাবে তার তথ্য সার্ভারে সার্চ করে দেখবে যে সেটা কারো সঙ্গে ম্যাচ করে কিনা। ম্যাচ না করলে ৫ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এনআইডি নম্বর জেনারেট হবে। এটা আমাদের কারো হাতে নেই। এক্ষেত্রে আমাদের কাছ থেকেও এনআইডি বা স্মার্টকার্ড নিতে পারবেন। আবার তার মোবাইলে মেসেজ যাবে, সেখান থেকেও ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।
এদিকে, শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত শেষে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ১১ টা ৪৫ মিনিটে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) উদ্দেশে রওনা হয়েছে তারেক রহমান।
বাবা–মায়ের এই ভুলেই সন্তান হয়ে উঠছে জেদি
বাবা–মা সবসময়ই সন্তানের মঙ্গল চান। সন্তানকে সঠিক জীবনদর্শন শেখানো, ভালো-মন্দ বোঝানো এবং আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে তাঁরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। তবুও অজান্তেই এমন কিছু আচরণ করে ফেলেন, যা সন্তানের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাবা–মায়ের কিছু অভ্যাসই শিশুদের একগুঁয়ে ও জেদি করে তুলতে পারে।
শিশু বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণত ৩ থেকে ৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে জেদ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এই সময়টিতে সঠিকভাবে লালন-পালন না হলে শিশুর আচরণে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তৈরি হতে পারে। দেখা যায়, সন্তান কোনো কথা শুনতে চায় না, সামান্য কিছু না পেলেই কান্নাকাটি করে বা হাত-পা ছুড়ে আবেগ প্রকাশ করে। তাই এই বয়সে বাবা–মায়ের আচরণে সচেতন হওয়া জরুরি।
অকারণে রাগারাগি
অকারণ রাগ বা উচ্চস্বরে কথা বলা শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য ক্ষতিকর। বাবা–মা ঘন ঘন রাগ করলে কিংবা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করলে শিশুর নিরাপত্তাবোধ নষ্ট হয়। এতে সে ধীরে ধীরে নিজের অনুভূতি ও ভাবনা বাবা–মায়ের সঙ্গে ভাগ করতে চায় না।
সন্তানের সব ইচ্ছা পূরণ করা
অনেক অভিভাবক মনে করেন, সন্তানের সব চাওয়া পূরণ করলেই তাঁরা ভালো বাবা–মা। কিন্তু বাস্তবে এটি শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সব ইচ্ছা সহজে পূরণ হলে শিশুর মনে জন্ম নেয়—সে যা চাইবে, যখন চাইবে, তাই পাবে। এতে ধীরে ধীরে সে একগুঁয়ে হয়ে ওঠে এবং অন্যের অনুভূতি বোঝার ক্ষমতা হারাতে শুরু করে।
সবার সামনে সমালোচনা করা
প্রত্যেক শিশুরই আত্মসম্মানবোধ থাকে। সবার সামনে সন্তানের ভুল ধরা, নিন্দা করা বা অন্যের সঙ্গে তুলনা করলে তার মনে গভীর প্রভাব পড়ে। এতে শিশুর আত্মবিশ্বাস কমে যায় এবং সে প্রতিবাদী ও জেদি হয়ে উঠতে পারে।
ভুল উপেক্ষা করা
শিশু ভুল করলে যদি বাবা–মা তা উপেক্ষা করেন, তাহলে সে মনে করতে পারে তার ভুলের কোনো পরিণতি নেই। এতে শিশুর দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে না। তাই সন্তানের ভুল হলে তা বুঝিয়ে সংশোধনের সুযোগ করে দেওয়া প্রয়োজন।
মারধর করা
অনেক সময় রাগের মাথায় বাবা–মা সন্তানকে মারধর করেন। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শিশুর আত্মবিশ্বাসে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মারধরের ফলে শিশুর মধ্যে ভয়, রাগ ও জেদ তৈরি হয়। সন্তান ভুল করলে শান্তভাবে বিষয়টি বোঝানোই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সৌজন্যবোধ শেখানো জরুরি। কাউকে কিছু দিলে ধন্যবাদ জানানো, বড়দের সম্মান করা—এ ধরনের অভ্যাস শিশুর আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করে।


