Home Blog Page 226

তারেক রহমানের সাথে জিবু আসছে কিনা! যা জানা গেলো

সপরিবারে দেশে ফেরার পথে আলোচিত পোষা বিড়াল ‘জিবু’কেও সঙ্গে নিয়ে আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২৫ ডিসেম্বর তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রস্তুতির পাশাপাশি এই সাইবেরিয়ান ব্রিডের বিড়ালটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৭ বছর বয়সী ‘জিবু’র জন্য পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রশাসনিক অনুমোদন ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে। লন্ডনের প্রবাস জীবনে তারেক রহমানের অবসরের সঙ্গী হিসেবে জিবুর সঙ্গে তাঁর খুনসুটির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময় ভাইরাল হয়েছে। ফলে বিএনপির নেতাকর্মী ও নেটিজেনদের কাছে বিড়ালটি বেশ পরিচিত।

সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান জিবুর প্রতি তাঁর পরিবারের ভালোবাসার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিড়ালটি মূলত তাঁর মেয়ে জাইমা রহমানের হলেও বর্তমানে এটি পরিবারের সবার অত্যন্ত প্রিয়। সাক্ষাৎকারে তিনি প্রাণিকুল ও প্রকৃতির প্রতি মানুষের দায়িত্বশীল হওয়ার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন।

তারেক রহমান বলেন, সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে আল্লাহর প্রতিটি সৃষ্টির প্রতি মমতা ও যত্ন নেওয়া মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা না করলে মানুষের জীবনও সংকটাপন্ন হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। মানবিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে প্রাণীর প্রতি তাঁর এই সহমর্মিতা বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে।

২৫ ডিসেম্বর দুপুরে তারেক রহমান যখন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন, তখন তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে এই বিড়ালটিকেও দেখার অপেক্ষায় আছেন অনেক কৌতূহলী মানুষ।

মঞ্চে একাই বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন। তার দেশে ফেরাকে ঘিরে দিনের কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সংবাদ সম্মেলন করেছে বিএনপি। এতে জানানো হয়েছে, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চে একমাত্র বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান নিজেই।

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি তিনশো ফিট এলাকায় আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এবং সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেবেন। ওই অনুষ্ঠানে তারেক রহমানই একমাত্র বক্তা থাকবেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে তার অসুস্থ মাকে দেখবেন। পরে তিনি নিজ বাসভবনে যাবেন বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি আরও বলেন, ২৬ ডিসেম্বর শুক্রবার বাদ জুমা তারেক রহমান তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২৭ ডিসেম্বর তারেক রহমান ভোটার তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করবেন। এরপর তিনি শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করবেন এবং পরে পঙ্গু হাসপাতালে গিয়ে আহত জুলাই যোদ্ধাদের খোঁজখবর নেবেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে মোট ২০টি অভ্যর্থনা পয়েন্ট তৈরি করা হয়েছে। এসব পয়েন্টে মেডিকেল টিম ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আগত নেতাকর্মীরা বিভিন্ন অভ্যর্থনা পয়েন্টে গাড়ি রেখে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এ সময় নেতাকর্মীদের জন্য কাঞ্চন ব্রিজ ব্যবহার করার পরামর্শও দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ড. এ কে এম শামসুল রহমান শামস এবং বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ আলমগীর পাভেল।

প্রধান বিচারপতি হলেন জুবায়ের রহমান চৌধুরী

বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে বাংলাদেশ সরকারের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। িরাষ্ট্রপতি বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ (বিচার শাখা-৪) থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, তবে প্রজ্ঞাপনটি সরকারি ওয়েবসাইটে বুধবার প্রকাশ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফার ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করেছেন। এই নিয়োগ শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

জুবায়ের রহমান চৌধুরীর কর্মজীবনের শুরু ১৯৮৫ সালে জজ কোর্টে এবং ১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে। ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান এবং দুই বছর পর স্থায়ী বিচারক হন। ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তাকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি অনার্স ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং পরে যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক আইনের ওপর মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। এই নিয়োগের মাধ্যমে দেশের সুপ্রিম কোর্টে নতুন নেতৃত্বের যুগের সূচনা হলো, যেখানে জুবায়ের রহমান চৌধুরী দেশের বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন।

ছেলের দেশে ফেরার খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন খালেদা জিয়া

দীর্ঘ ১৭ বছর পর বড় ছেলে তারেক রহমানের দেশে ফেরার খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি এই খুশির সংবাদ পান।

পারিবারিক সূত্র জানায়, কয়েক দিন আগে খালেদা জিয়ার পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান ও ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন তাকে তারেক রহমানের ফেরার বিষয়টি জানান। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার জানিয়েছেন, সন্তানের দেশে ফেরার খবরে খালেদা জিয়ার মধ্যে মানসিক প্রশান্তি লক্ষ্য করা গেছে এবং বর্তমানে তিনি আগের চেয়ে ভালো বোধ করছেন।

চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৮০ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। গত এক মাস ধরে লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তার শরীরে গুরুতর ইনফেকশন থাকায় বর্তমানে উন্নত অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিফাঙ্গাল চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ডা. জিয়াউল হক জানিয়েছেন, শারীরিক অবস্থা আরেকটু উন্নত হলে তাকে সিসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ নভেম্বর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে নেওয়া হয়। দেশি-বিদেশি ৩০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড সার্বক্ষণিকভাবে তার স্বাস্থ্যের তদারকি করছে। দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তারেক রহমান দেশে ফিরে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি গণসংবর্ধনাস্থলে যাবেন এবং সেখান থেকে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন মাকে দেখতে যাওয়ার কথা রয়েছে।

ওয়েস্টার্ন লুকে অপুর চমক

ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল এবং জনপ্রিয় নায়িকা অপু বিশ্বাস। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য ব্যবসা সফল সিনেমা উপহার দিয়ে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন দর্শকের মনে। তবে কেবল রূপালি পর্দায় নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ সক্রিয় এই অভিনেত্রী। নিয়মিত নতুন নতুন লুকে হাজির হয়ে তাক লাগিয়ে দেন ভক্ত-অনুরাগীদের।
সম্প্রতি ওয়েস্টার্ন ফিউশন ফরমাল আউটফিটে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন তিনি। তার শেয়ার করা একগুচ্ছ ছবিতে দেখা যায়, পরনে শুভ্র রঙের একটি স্টাইলিশ কোট। কানের দুল আর গলার নেকলেসে ফুটে উঠেছে আধুনিক ও আভিজাত্যের ছাপ। ক্যাপশনে অপু লিখেছেন, তুমি যেমনটা পেতে চাও, নিজেকে ঠিক তেমনভাবেই গড়ে তোলো। এদিকে অপুকে গ্ল্যামারাস লুকে দেখে আপ্লুত নেটিজেনরা।
মুহূর্তেই ছবির কমেন্ট বক্স ভরে ওঠে প্রশংসায়। অপুর রূপের লাবণ্য আর চোখের মোহময় চাহনি নজর কেড়েছেন। একজন নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, অসাধারণ ছবিগুলো, কারও নজর যেন না লাগে মাশাআল্লাহ আপু। আরেক ভক্ত নিজের আবেগ প্রকাশ করে লিখেছেন, আমার হৃদয়ের আয়নাতে শুধু তোমাকেই দেখি। প্রসঙ্গত, অপু বিশ্বাস ‘কোটি টাকার কাবিন’ সিনেমা দিয়ে ২০০৬ সালের পরিচিত পান। এর আগে ‘কাল সকালে’ সিনেমায় পার্শ্ব চরিত্র দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু হয় তার। সিনেমাটি পরিচালনা করেন আমজাদ হোসেন। এরপর শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে নিয়মিত হোন অপু বিশ্বাস।

প্রতি রাতে কেন কাঁচা রসুন খাবেন, খেলে কী ঘটে শরীরে

সাধারণত রসুনকে মশলা হিসেবেই জানেন সবাই। বাসা-বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয় উপাদানটি। খাবারের পদে এটি যোগ করার ফলে স্বাদ বৃদ্ধি পায়। এ কারণে মাছ-মাংস রান্নার সময় কেউ কেউ আলাদাভাবে গোটা রসুনই দিয়ে থাকেন তরকারিতে।

রসন মশলা ছাড়াও ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে সেই প্রাচীনকাল থেকে। বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসায় ব্যবহার হয় এটি। তীব্র গন্ধ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা মূলত একটি সালফারভিত্তিক যৌগ অ্যালিসিনের জন্য পাওয়া যায়। এ কারণে প্রতিদিন রাতে এক কোয়া কাঁচা রসুন খেলে শরীরে এর শক্তিশালী প্রভাব পড়ে। আর প্রতিদিন রাতে কাঁচা রসুন খাওয়ার উপকারিতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম। তাহলে এ ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক-

➤ রাতে এক কোয়া রসুন খাওয়ার উপকারিতা:
রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: রসুন অ্যান্টি-ভাইরাল, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্যের জন্য বেশ পরিচিত। সাধারণত ঠান্ডা লাগা, ফ্লু ও বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করতে কাজ করে থাকে রসুনের এসব উপাদান। প্রতিদিন রাতে এক কোয়া রসুন খাওয়া হলে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা রাতভর ধরে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকে।

হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা: উচ্চ রক্তচাপ ও খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে রসুন। ফলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। অ্যালিসিন রক্তনালীকে শিথিল করতে সহায়তা করে, রক্ত প্রবাহকে উন্নত করে থাকে।

প্রদাহ ও ডিটক্সিকেশন: রসুনে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা আপনার শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ রোধে সহায়তা করে। যকৃতের এনজাইমগুলো সক্রিয় করে শরীরকে ডিটক্সিফাই করতে সহায়তা করে থাকে।

হজম প্র্রক্রিয়া ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য: সকালে খালি পেটে রসুন খাওয়ার দীর্ঘদিনের প্রচলন থাকলেও, এটি নিয়মিত রাতে খাওয়া হলে হজম প্রক্রিয়া উদ্দীপিত হতে পারে এবং অন্ত্রের খারাপ ব্যাকটেরিয়াগুলোর বিরুদ্ধে লড়তে ভূমিকা রাখে।

➤ কেন রাতে কাঁচা রসুন খাওয়া উচিত:
এমন অনেকেই আছেন, যারা রাতে ঘুমানোর আগে কাঁচা রসুন খেতে পছন্দ করেন। তাদের বিশ্বাস―রাতে শরীর বিশ্রাম নেয়, এ সময় রসুনের উপাদানগুলো শরীরকে মেরামত ও নিরাময় করতে দীর্ঘ সময় পায়। এটি ঘুমানোর সময় রক্তচাপকেও স্থিতিশীল করতে অবদান রাখে।

➤ কারা রসুন এড়িয়ে যাবেন বা সীমিত করবেন:
হজমের সমস্যা: রসুন প্রাকৃতিকভাবে অম্লীয়। গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্সি ডিজিজ (GERD), বুকজ্বালা (Heartburn) বা ইরিটেবল বাউয়েল সিনড্রোম (IBS) থাকা ব্যক্তিদের কাঁচা রসুন খাওয়া ঠিক নয়। তারা কাঁচা রসুন খেলে সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।

রক্ত পাতলা করার ওষুধ: রসুন হচ্ছে একটি প্রাকৃতিক রক্ত পাতলাকারী ওষুধ। অ্যাসপিরিন, ওয়ারফারিন বা অন্যান্য রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করলে তাদের অতিরিক্ত রসুন খাওয়া রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

সার্জারির আগে: কোনো ধরনের অস্ত্রোপচারের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে রসুন খাওয়া বন্ধ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। কেননা, রসুন রক্তপাত বাড়াতে পারে।

ওষুধের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া: এমন কিছু ওষুধ রয়েছে (HIV বা এইডসের ওষুধ), যার সঙ্গে রসুন খাওয়া হলে প্রতিক্রিয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। আর হ্যাঁ, রসুন খাওয়া উপকারী হলেও, কারও যদি সমস্যা হয়, তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে হবে।

শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে জয়েন্ট-ব্যথা? যেভাবে মিলবে সমাধান

দেশজুড়ে এখন পুরোদমে শীত। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে অনেক মানুষ হাত–পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, জয়েন্টে ব্যথা, পেশিতে টান বা শক্তভাবের সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব উপসর্গ শীতের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া; তবে যাদের আগে থেকেই আর্থ্রাইটিস, গেঁটেবাত বা স্নায়ুর সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে ব্যথা আরও তীব্র হতে পারে।

কেন বাড়ে শীতে ব্যথা?

চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, শীতকালে শরীর তাপ ধরে রাখতে রক্তনালী সংকুচিত হয়। এতে হাত–পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তপ্রবাহ কমে যায়। ফলে পেশি শক্ত হয়ে ব্যথা বাড়ে। জয়েন্টের ভেতরে থাকা সিনোভিয়াল ফ্লুইড বা লুব্রিকেন্টও ঠান্ডায় ঘন হয়ে যায়, যা জয়েন্টের নড়াচড়া কমিয়ে দেয়। এ কারণে হাঁটু, কোমর, আঙুল বা কাঁধে ব্যথা অনুভূত হয়।

শুধু তাই নয়, ঠান্ডায় পেশিতে চাপ বাড়ে এবং স্নায়ুগুলো ব্যথার সিগন্যাল বেশি তীব্রভাবে পাঠায়। তাই আগে থেকেই যাদের আর্থ্রাইটিস বা নিউরোলজিক্যাল সমস্যা আছে, তাদের ব্যথা দ্বিগুণ বেড়ে যেতে পারে।

সমাধান কী? চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শরীর গরম রাখা। মোজা, গ্লাভস, থার্মাল পোশাক ও মাথা ঢেকে রাখলে রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং ব্যথা কমে। ঘরে নিরাপদ দূরত্বে হিটার ব্যবহার বা গরম পানি দিয়ে হাত–পায়ে সেক দেওয়া বেশ কার্যকর।

প্রতিদিন ১০–২০ মিনিট হালকা ব্যায়াম বা স্ট্রেচিং করাও উপকারী। এতে রক্তপ্রবাহ বাড়ে এবং জয়েন্টের লুব্রিকেন্ট স্বাভাবিক হয়। পাশাপাশি শরীর পর্যাপ্ত পানি না পেলে পেশি শক্ত হয়ে ব্যথা বাড়ে—তাই শীতেও পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।

খাদ্যাভ্যাসেও চোখ রাখতে পরামর্শ দেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা। মাছ, ডিম, কলা, বাদাম, ফ্ল্যাক্সসিড ও রোদে অল্প সময় থাকা—এসব উপাদান শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং জয়েন্টকে নমনীয় রাখে।

ওষুধ কখন প্রয়োজন?

ব্যথা বেশি হলে প্যারাসিটামল বা চিকিৎসকের পরামর্শে ইবুপ্রোফেন ও ন্যাপ্রক্সেন ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন—নিজে থেকে অতিরিক্ত ব্যথানাশক খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—

ব্যথা এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে

জয়েন্ট ফুলে যাওয়া বা লাল হয়ে গেলে

জ্বরের সঙ্গে ব্যথা হলে

হাত–পা অসাড় বা দুর্বল হয়ে গেলে

আগে থেকে আর্থ্রাইটিস বা ডায়াবেটিস আছে এমন রোগীদের ব্যথা বেড়ে গেলে

গুজব নয়, দরকার বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান

চিকিৎসকেরা মনে করিয়ে দেন—শীতে ব্যথা বাড়লেও এটা “ঠান্ডা লাগার কারণে বাত হয়”—এমন ধারণা বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল। একইভাবে ভেষজ তেল, ঝাড়ফুঁক অথবা অ্যান্টিবায়োটিক–—কোনোটিই এই সমস্যার সমাধান নয়।

শীত যতই বাড়ুক, সঠিক সচেতনতা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে চললে হাত–পা ও জয়েন্টের ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

রামগতিতে ধরা পড়ল ২৪০ কেজির শাপলা পাতা মাছ, নিলামে বিক্রি ৭৫ হাজার টাকা

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় জেলেদের জালে ধরা পড়েছে প্রায় ২৪০ কেজি ওজনের বিরল ও বিশাল আকৃতির শাপলা পাতা মাছ, যা স্থানীয়ভাবে ‘হাউস মাছ’ নামে পরিচিত। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে বড়খেরী মাছঘাট বাজারে নিলামে মাছটি ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কীর্তন মাঝি ও তাঁর সহযোদ্ধা জেলেরা প্রতিদিনের মতো রামগতির দক্ষিণে মেঘনা নদীর মোহনার কাছে মাছ ধরছিলেন। সোমবার ভোরে জাল তুলতে গিয়ে তাঁরা অস্বাভাবিক ভার অনুভব করেন। পরে নিজেদের ট্রলারের ১২ জন জেলে এবং পাশে থাকা আরেকটি ট্রলারের জেলেদের সহায়তায় দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে বিশাল আকৃতির শাপলা পাতা মাছটি ট্রলারে তুলতে সক্ষম হন।

বাঁশ ও দড়ির সাহায্যে প্রায় ছয়জন জেলে বৃত্তাকারে প্রায় সাড়ে ১১ ফুট এবং লেজসহ প্রায় ১৩ ফুট দৈর্ঘ্যের মাছটি ডাঙায় তোলেন। পরে মাছটি রামগতির বড়খেরী মাছঘাটে নিয়ে আসা হয়। বিকেলে মোতালেব বেপারীর আড়তে নিলামে তোলা হলে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী কৃষ্ণ বেপারি মাছটি কিনে নেন।

মাছ বিক্রেতা কীর্তন মাঝি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে মাছ ধরা ব্যবসায় লোকসান গুনছি। ধার–দেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে। এত বড় মাছ পেয়ে আল্লাহর কাছে শোকরিয়া আদায় করছি। তবে ভালো ক্রেতার অভাবে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে।”

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মুসা আহমেদ হিমু ও শাকিল জানান, “এ ধরনের শাপলা পাতা মাছ এখন খুবই বিরল। এমন মাছ দেখলে জেলেদের মতো আমরাও আনন্দিত হই। প্রকৃতিতে এখন এসব মাছ খুব কম দেখা যায়।”

এদিকে বিশাল আকৃতির এই মাছ দেখতে মাছঘাটে স্থানীয়দের ভিড় জমে। অনেকেই মোবাইলে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

হাদি হত্যা, সামনে এলো শুটার ফয়সালের নতুন পরিচয়

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। সর্বশেষ জানা গেছে, এই শুটার একসময় শোবিজ অঙ্গনেও কাজ করেছেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, একটি নাটকে অভিনয় করেছিলেন ফয়সাল। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২২ সালে নির্মিত ‘কিলার’ শিরোনামের একটি নাটকে অভিনয় করেন তিনি।

এদিকে, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব বিশ্লেষণ করে ১২৭ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেব। তিনি জানান, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে এই অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী ফয়সাল করিম মাসুদসহ তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অর্থপাচার সংক্রান্ত পৃথক অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে সিআইডি।

সিআইডি জানায়, ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ওরফে রাহুল এখনও গ্রেপ্তার না হলেও মামলার আলামত গোপন ও তাকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে তার পরিবারের সদস্যসহ একাধিক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের সময় বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই উদ্ধার করা হয়। যা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে চূড়ান্ত লেনদেন সম্পন্ন না হওয়া এসব চেকের মোট মূল্য প্রায় ২১৮ কোটি টাকা।

প্রাথমিক বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, অভিযুক্ত ও তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার বেশি সন্দেহজনক লেনদেন সংঘটিত হয়েছে। যা মানিলন্ডারিং, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে।

অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব জানান, অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় ৬৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার জন্য আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি এসব অর্থের উৎস ও সরবরাহকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান শনাক্তে সিআইডির একাধিক টিম কাজ করছে।

হত্যাকাণ্ডের পেছনে পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহে কোনো সংঘবদ্ধ ও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল কি না তা খতিয়ে দেখছে সিআইডি।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

পরে মরদেহ দেশে এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হয়।

আগামী বছর সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমতে যাচ্ছে! নতুন হার জানাল অর্থ বিভাগ

ছয় মাসের ব্যবধানে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পুনরায় কমানো হতে পারে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী ছয় মাসের জন্য নতুন হার নির্ধারণে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে। প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ ইতিমধ্যেই অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের অনুমোদনের জন্য তার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

অনুমোদন মিলে গেলে অর্থ বিভাগ প্রস্তাবটি অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে (আইআরডি) পাঠাবে। এরপর আইআরডি একটি পরিপত্র জারি করবে। গত রবিবার (২১ ডিসেম্বর) অর্থ বিভাগ সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রস্তাব এখনও তার কাছে আসেনি। তবে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির স্বার্থে ব্যাংকারদের পক্ষ থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর দাবি রয়েছে। সার্বিক স্বার্থ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বর্তমানে সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১.৯৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন হার ৯.৭২ শতাংশ। নতুন প্রস্তাবে গড়ে প্রায় ০.৫ শতাংশ হার কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। তবে ছোট অঙ্কের বিনিয়োগে মুনাফা তুলনামূলক বেশি রাখা হবে, আর বড় অঙ্কের বিনিয়োগে হার কম নির্ধারণ করা হবে। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা তার কম বিনিয়োগে বেশি মুনাফা, এর বেশি বিনিয়োগে কম মুনাফা দেওয়া হবে।

সরকার গত ৩০ জুন আয় ও ঋণ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে নিয়মিত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ছয় মাস পর পুনর্নির্ধারণ করা হবে। ৩১ ডিসেম্বর সেই ছয় মাসের মেয়াদ পূর্ণ হচ্ছে।

আইআরডি সচিব মো. আবদুর রহমান খান জানান, মুনাফা বাড়ছে না কমছে, তা এখন বলা সম্ভব নয়। পুরো বিষয়টি এখন অর্থ বিভাগ দেখছে। তাদের সুপারিশ এলে পরিপত্র জারি করা হবে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে পরিবার সঞ্চয়পত্র সবচেয়ে জনপ্রিয়। বর্তমানে এতে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছর মেয়াদে মুনাফা ১১.৯৩ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১.৮০ শতাংশ। ১ জুলাইয়ের আগে এই হার ছিল ১২ শতাংশের বেশি।

পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ শেষে মুনাফা ১১.৯৮ শতাংশ, বেশি বিনিয়োগে ১১.৮০ শতাংশ। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে কম বিনিয়োগে ১১.৮৩ শতাংশ, বেশি বিনিয়োগে ১১.৮০ শতাংশ। তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে কম বিনিয়োগে ১১.৮২ শতাংশ, বেশি বিনিয়োগে ১১.৭৭ শতাংশ।

ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের তিন বছর মেয়াদে কম বিনিয়োগে ১১.৮২ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১.৭৭ শতাংশ মুনাফা রয়েছে। তবে ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড ও ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সাধারণ হিসাবের মুনাফার হার অপরিবর্তিত থাকবে।

বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা বেশি থাকলে সাধারণত সঞ্চয় চলে যায় সরকারি তহবিলে। যদি হার কমানো হয়, তবে ব্যাংকে ঋণ প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে। তবে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের ঋণের চাহিদাই কম, তাই বেসরকারি খাতের জন্য ঋণ দেওয়াও সীমিত।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই–অক্টোবর) সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে সরকার নিট ২,৩৬৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর আগের অর্থবছরে (২০২৪–২৫) নিট ঋণ প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণাত্মক ছিল। অক্টোবর শেষে সরকারের মোট সঞ্চয়পত্র ঋণ দাঁড়ায় ৩ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকায়।