Home Blog Page 236

বেগম জিয়া ও বাংলাদেশ নিয়ে আবেগঘন পোস্ট জাইমা রহমানের

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার মেয়ে জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফিরছেন আগামী । দেশে ফেরার আগে দাদি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও বাংলাদেশ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন জাইমা রহমান।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে নিজের ফেসবুক পেজে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে শৈশবের একটি ছবি পোস্ট করেন তিনি। পোস্টটি বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজসহ দলটির অনেক নেতাকর্মী শেয়ার করেছেন।

পোস্টে জাইমা রহমান লিখেন,  দাদুকে নিয়ে আমার সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতিগুলোর একটি হলো, পরিবারকে আগলে রাখা একজন অভিভাবক হিসেবে তিনি কতটা মমতাময়ী ছিলেন! আমার বয়স তখন এগারো। আমাদের স্কুলের ফুটবল টিম একটা টুর্নামেন্ট জিতেছিল, আর আমি মেডেল পেয়েছিলাম। আম্মু আমাকে সরাসরি দাদু’র অফিসে নিয়ে গিয়েছিলেন, আমি যেন নিজেই দাদুকে আমার বিজয়ের গল্পটা বলতে পারি; তাঁকে আমার বিজয়ের মেডেলটা দেখতে পারি। আমি খুব উচ্ছ্বসিত হয়ে গোলকিপার হিসেবে কী-কী করেছি, সেটা বলছিলাম; আর স্পষ্ট টের পাচ্ছিলাম, দাদু প্রচন্ড মনোযোগ নিয়ে আমাকে শুনছেন। তিনি এতটাই গর্বিত হয়েছিলেন যে, পরে সেই গল্পটা তিনি অন্যদের কাছেও বলতেন।

তিনি আরও লিখেন, আমি সব সময়ই জানতাম, আমার দাদু’র কাঁধে একটা দেশের দায়িত্ব। তবুও আমার স্মৃতিতে দাদু হলেন পরিবারকে আগলে রাখা একজন মমতাময়ী অভিভাবক। লাখো মানুষের কাছে তিনি ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু আমার আর আমার কাজিনদের কাছে তিনি ছিলেন ‘দাদু’। আমাদের ‘দাদু’। তিনি সব সময় আমাদের খেয়াল রাখতেন, আমাদের জন্য সময় বের করতেন, আর যেসব মুহূর্ত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সেগুলোতে আমাদের সাহস দিতেন, উজ্জীবিত করতেন। এই ছোট-ছোট মুহূর্তগুলো থেকেই আমি নেতৃত্বের প্রথম শিক্ষা পাই। সেটি হলো, নম্রতা, আন্তরিকতা আর মন দিয়ে শোনার মানসিকতা।

জাইমা আরও বলেন, ‘ বাংলাদেশের বাইরে কাটানো সতেরোটা বছর আমার জীবন অনেকভাবে বদলে দিয়েছে। কিন্তু আমি কখনোই আমার শিকড় ভুলে যাইনি। কারণ, আমাদের সত্তার যে ভিত্তি, আমাদের যে সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ; সেটিই আমাদেরকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে, পরিচয় বহন করে। প্রবাসে থাকা দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের অনেক বাংলাদেশির মতো আমিও নিজ দেশের বাইরে, ভিন্ন দেশে অনেকগুলো বছর কাটিয়েছি। লন্ডনের দিনগুলো আমাকে বাস্তববাদী করেছে, একটা বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে। যদিও আমার হৃদয়-মন সব সময় বাংলাদেশেই ছিল।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আমাকে শৃঙ্খলা ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান শিখিয়েছে। তবে মানুষের সঙ্গে কাজ করা আমাকে শিখিয়েছে আরও অনেক বেশি; শিখিয়েছে দায়িত্বশীল হতে, বিপদগ্রস্তের পাশে দাঁড়াতে। আইন পেশায় কাজ করার সময় কাছ থেকে দেখা মানুষগুলোর গল্প, আর সেই গল্পগুলোর যৌক্তিক এবং আইনগত সমাধান খোঁজার দায়িত্ব আমাকে আলোড়িত করে। প্রত্যেক ক্লায়েন্ট, প্রতিটি মামলা, প্রতিটি মানুষের সমস্যা, কারও না কারও জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। যারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, অবহেলার শিকার হয়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সেই বিশ্বাস দিতে হয় যে, তাঁদের বিষয়টি দেখা হচ্ছে, শোনা হচ্ছে, সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। কারও জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিনে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা যে শিক্ষাটা দেয়, সেটা কোনো ক্লাসরুম দিতে পারে না। এই প্রতিটা ধাপ আমাকে ভাবতে শিখিয়েছে, মানুষ হিসেবে কেমন হতে চাই।

আমি আমার ‘দাদা’কে কখনো দেখিনি। কিন্তু তাঁর সততা আর দেশপ্রেমের কথা সব সময় শুনে এসেছি। ‘দাদু’ আর ‘আব্বু’ সেই আদর্শটাই বয়ে নিয়ে চলেছেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় এবং ৫ আগস্টের আগে-পরের সময়টাতে আমি যতটুকু পেরেছি, নেপথ্যে থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। অধিকাংশ সময় বলেছি কম, বরং শুনেছি বেশি। ছোট-ছোট কাজের মাধ্যমে তাঁদের বোঝা একটু হালকা করার চেষ্টা করেছি।

অনেকগুলো বছর পর দেশে ফিরছি। দেশে ফেরা মানে আবেগ আর অনুভূতির এক অনন্য সংমিশ্রণ। দেশে ফিরে ইনশাআল্লাহ, আমি ‘দাদু’র পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। নিজের চোখে, নিজের অভিজ্ঞতায় প্রিয় বাংলাদেশকে নতুন করে জানতে চাই; মানুষের সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলতে চাই। যেভাবে এগুনো দরকার, আমি চাই বাংলাদেশ আবারো সেভাবে সামনে এগিয়ে যাক, গর্জে উঠুক।

আমি জানি, আমার পরিবারকে ঘিরে দেশের জনগণের কৌতূহল রয়েছে, প্রত্যাশা রয়েছে। সেটি কখনো আশার, কখনো প্রশ্নের। সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়ভারও রয়েছে। জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণের চাপ আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে অনুভব করি; পরিবারে, বন্ধুত্বে, সমাজে।

সংক্ষেপে, আমার নিজের ভাষায়, এই হলো আমার গল্প। আমাদের প্রত্যেকের জীবনে একটা নিজস্ব গল্প আছে। এই গল্পগুলোকে ধারণ করে, আমরা সবাই হয়তো একসঙ্গে বাকি পথটা হাঁটতে পারি।’

একীভূত পাঁচ ইসলামি ব্যাংকের জন্য নতুন নির্দেশ

একীভূত হয়ে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’তে অন্তর্ভুক্ত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার মূল্য আনুষ্ঠানিকভাবে শূন্য (জিরো) ঘোষণা করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ঋণাত্মক হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংকের কাছে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অর্ডিন্যান্স, ২০২৫-এর আওতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূল্যায়নে দেখা গেছে, পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারের নিট সম্পদমূল্য শেয়ারপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা পর্যন্ত ঋণাত্মক, ফলে শেয়ারগুলো লিখে শূন্যে নামিয়ে আনা হয়েছে।’

৭ ঘন্টায় যত টাকা পেলেন তাসনিম জারা

জনগণের কাছে নির্বাচনের খরচ চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পর ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারার একাউন্টে বহু মানুষ টাকা পাঠাচ্ছেন। সবশেষ তার একাউন্টে কত টাকা এসেছে সেই তথ্য জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ভোর সাড়ে চারটার দিকে দেওয়া পোস্টে তাসনিম জারা লিখেছেন, মাত্র ৭ ঘণ্টায় আপনারা ১২ লাখ টাকারও বেশি পাঠিয়েছেন। এতটা অভূতপূর্বভাবে আপনারা পাশে দাঁড়াবেন, তা সত্যিই আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল। আপনাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

তিনি আরও লেখেন, আমাদের মোট লক্ষ্যমাত্রা ৪৬,৯৩,৫৮০ টাকা। আর ৩৪ লাখ টাকা সংগ্রহ সম্পন্ন হলেই আমরা ফান্ডরেইজিং বন্ধ করে দেব। আমরা অবগত আছি যে রাত ২টার পর থেকে নির্ধারিত লিমিট অতিক্রম করার কারণে বিকাশে আর টাকা পাঠানো যাচ্ছে না। আপাতত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ডোনেশন গ্রহণ করা যাচ্ছে।

এর আগে, দেওয়া পোস্টে এনসিপির এই নেত্রী লিখেছিলেন, আপনাদের কাছে আমি হাত বাড়িয়েছিলাম। বলেছিলাম আমরা যদি কালো টাকার ঊর্ধ্বে উঠে একটি নতুন ধারার রাজনীতি করতে চাই, তবে সেই শক্তির উৎস হতে হবে আপনাদের মতো সাধারণ মানুষকে।

‘আপনাদের পাঠানো টাকার অঙ্কের চেয়েও বড় যে বিষয়টা আমাকে নাড়া দিয়েছে সেটা হলো এ টাকার ধরণ। অধিকাংশ অনুদান এসেছে খুব ছোট অঙ্কে (৫ টাকা, ১০ টাকা, ২০ টাকা, ৫০ টাকা, ১০০ টাকা)। অনেকে সঙ্গে ছোট ছোট বার্তা দিয়েছেন। একজন লিখেছেন, ‘আমি স্টুডেন্ট। সামর্থ্য অনুযায়ী দিলাম।’

তিনি আরও লিখেন, আপনাদের আগেই বলেছি আমরা স্বচ্ছভাবে টাকা উত্তোলন ও খরচ করবো। আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আপনাদেরকে সম্পূর্ণ হিসাব দেওয়া হবে।

নাবিলা যখন ‘বনলতা সেন’

আগামী ঈদের সিনেমার লড়াইয়ে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও একটি সিনেমা ‘বনলতা সেন’। কবি জীবনানন্দ দাশের কাল্পনিক এই নারী চরিত্রকে কেন্দ্র করে এটি নির্মাণ করেছেন নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। সিনেমাটি মুক্তির কথা ছিল গতবছরেই কিন্তু তৎকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন সময়ে মুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অবশেষে সরকারি অনুদানের এই সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে আসছে ঈদেই।
সিনেমাটিতে নামভূমিকায় অভিনয় করেছেন মাসুমা রহমান নাবিলা। তবে বনলতা সেন হয়ে ওঠা নাবিলার জন্য সহজ ছিল না। জানা গেছে, শুরুতে তাকে অন্য একটি চরিত্রের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু নাবিলা সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। তিনি নির্মাতাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বনলতা সেন চরিত্রটিই তিনি করতে চান। এরপর তিন দফা চ্যালেঞ্জিং অডিশনের মধ্য দিয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে চরিত্রটি বাগিয়ে নেন এই অভিনেত্রী।
বনলতা সেন সিনেমায় জীবনানন্দ দাশ চরিত্রে দেখা যাবে খায়রুল বাসারকে। আরও অভিনয় করেছেন সোহেল ম-ল, নাজিবা বাশার, প্রিয়ন্তী উর্বী, রুপন্তী আকীদ, শরিফ সিরাজ, সুমাইয়া খুশি প্রমুখ।
সিনেমাটি নির্মাণে সময় বেশি লাগলেও এর গুণগত মানের বিষয়ে কোনো আপোস করেননি নির্মাতা উজ্জ্বল। জানান, জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে কাজ করা অনেক বেশি দায়বদ্ধতার বিষয়। গবেষণা, প্রস্তুতি এবং উপযুক্ত অভিনয়শিল্পী খোঁজা, পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল চ্যালেঞ্জিং।
সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরকে লক্ষ্য রেখেই তারা মুক্তির চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঈদের সিনেমার ভিড়ে ‘প্রিন্স’, ‘দম’, ‘রাক্ষস’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও ‘পিনিক’-এর সঙ্গে নাবিলার ‘বনলতা সেন’ কেমন সাড়া ফেলে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।

প্যানেল হু

জাহানারা আলম ইস্যুতে তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে যা জানাল বিসিবি

জাতীয় নারী ক্রিকেটার জাহানারা আলমের আনা যৌন হয়রানির অভিযোগ ঘিরে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পেতে আরও সময় নিচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তদন্ত প্রতিবেদন আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে বিসিবির কাছে জমা দেওয়া হবে।

জাহানারা আলমের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ নভেম্বর তদন্ত কমিটি গঠন করে বিসিবি। সে সময় কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে জাহানারার আবেদনের পর অভিযোগ দাখিলের সময়সীমা বাড়ানো হয় এবং বিসিবি জানিয়েছিল, ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

তবে রোববার (২১ ডিসেম্বর) বিসিবির প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাহানারা আলমের লিখিত অভিযোগ ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটির হাতে পৌঁছেছে। অভিযোগের বিষয়টি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও বিস্তারিতভাবে যাচাই করতে কমিটি অতিরিক্ত সময় চেয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও পক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাদের বক্তব্য সংগ্রহ করেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে আরও কয়েকজনের বক্তব্য নেওয়া বাকি থাকায় পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান সম্পন্ন করতে সময় প্রয়োজন।

কমিটির এই আবেদনের প্রেক্ষিতে বিসিবি তদন্তের সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সব ধরনের যাচাই-বাছাই ও প্রক্রিয়া শেষ করে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারিকে নতুন সময়সীমা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাহানারা আলম ইস্যুতে তদন্তের অগ্রগতি ও চূড়ান্ত প্রতিবেদনের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন, যেখানে এই মামলার ফলাফল নারী ক্রিকেট ও ক্রীড়া প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

এবার এনসিপি নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি

এবার প্রকাশ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) খুলনা বিভাগীয় প্রধান এবং শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক মোতালেব শিকদারের মাথায় গুলির ঘটনা ঘটেছে।আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতু।

পোস্টে তিনি বলেন, এনসিপির খুলনা বিভাগীয় প্রধান এবং এনসিপি শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক ও মোতালেব শিকদার কে একটু আগে গুলি করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে।

পেটের আলসার বাড়াচ্ছে এই ৫টি খাবার, জানুন কোনগুলো এড়াতে হবে

পেটের আলসার কোনো সাধারণ সমস্যা নয়। শুরুতে সামান্য ক্ষত হলেও সময়মতো সতর্ক না হলে তা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে—এমনকি পেটে ছিদ্র পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু অজান্তেই প্রতিদিনের খাবার তালিকায় থাকা কিছু পরিচিত খাবারই এই মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে সতর্ক করলেন পুষ্টিবিদ।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় পেটের আলসারকে বলা হয় পেপটিক আলসার (Peptic Ulcer)। এই রোগে পাকস্থলী বা ক্ষুদ্রান্ত্রের ভেতরের আবরণে ক্ষত সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন অবহেলা করলে রক্তক্ষরণ, তীব্র ব্যথা এমনকি প্রাণঘাতী জটিলতাও দেখা দিতে পারে।

অ্যাপোলো ২৪/৭ ডা. উৎস বসু’স ক্লিনিকের প্রধান ডায়েটেশিয়ান ঈশানী গঙ্গোপাধ্যায় জানান, বর্তমানে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত অ্যাসিডিটি ও জীবনযাপনের কারণে পেটের আলসারের হার দ্রুত বাড়ছে। তাঁর মতে, আলসার থাকুক বা না থাকুক—কিছু খাবার নিয়মিত এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, পেটের আলসার বাড়াতে পারে এমন ৫টি খাবার, যেগুলো এখনই কমানো জরুরি—

১. অ্যালকোহল: আলসারের নীরব শত্রু
মদ, বিয়ার বা যেকোনো অ্যালকোহলিক পানীয় পাকস্থলীর আস্তরণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। নিয়মিত মদ্যপানে অ্যাসিড নিঃসরণ বেড়ে গিয়ে আলসার হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ে। যাঁদের আগে থেকেই আলসার আছে, তাঁদের জন্য অ্যালকোহল একেবারেই নিষিদ্ধ।

২. অতিরিক্ত চা-কফি
চা বা কফি মাঝেমধ্যে ক্ষতিকর না হলেও অতিরিক্ত ক্যাফিন পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ায়। এতে আলসারের ক্ষত আরও গভীর হতে পারে। পুষ্টিবিদের পরামর্শ—দিনে ২–৩ কাপের বেশি চা-কফি নয়।

৩. লেবু ও লেবু জাতীয় ফল
অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকলে লেবু জাতীয় ফল সাবধানে খাওয়া জরুরি। লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড পাকস্থলীতে অতিরিক্ত জ্বালা তৈরি করে, যা আলসারের কারণ হতে পারে বা বিদ্যমান আলসারকে আরও খারাপ করে তোলে।

৪. অতিরিক্ত ফ্যাটযুক্ত খাবার
বনস্পতি, পাম তেল, ভাজাপোড়া ও ফাস্টফুড হজমে দেরি ঘটায় এবং পাকস্থলীতে চাপ বাড়ায়। এর ফলে অ্যাসিড ক্ষরণ বেড়ে আলসারের ঝুঁকি বাড়ে। বাইরে তৈরি খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো।

৫. বেশি ঝাল ও মশলাদার খাবার
মশলা আমাদের খাবারের স্বাদ বাড়ালেও অতিরিক্ত ঝাল পাকস্থলীর ভেতরের আস্তরণে জ্বালা সৃষ্টি করে। নিয়মিত অতিরিক্ত ঝাল খেলে আলসারের ক্ষত সারতে চায় না। তাই মশলা ব্যবহার করুন পরিমিত পরিমাণে।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
পুষ্টিবিদ ঈশানী গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “পেটের আলসার প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক খাদ্যাভ্যাস। সময়মতো খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হয় এমন খাবার এড়ানো এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।”

পেটের সামান্য জ্বালা বা অস্বস্তিকে অবহেলা না করে এখনই খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনুন। কারণ সচেতন থাকলেই পেটের আলসারের মতো ভয়ংকর সমস্যা থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখা সম্ভব।

প্রবাসী আয়ের শীর্ষে সৌদি আরব

দেশে প্রবাসী আয়ের গতিপথ আবার আগের ধারায় ফিরেছে। যেসব দেশে বেশিসংখ্যক বাংলাদেশি আছেন, সেগুলো থেকে এখন বেশি করে রেমিটেন্স তথা প্রবাসী আয় আসছে। গতবছরের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রবাসী আয়ের শীর্ষ উৎস হয়ে উঠেছিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি নেমে গেছে তালিকার পঞ্চম স্থানে। আর শীর্ষস্থানে আবারও ফিরে এসেছে সৌদি আরব। সৌদি আরবের পেছনে রয়েছে যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও মালয়েশিয়া। গত জুলাই-নভেম্বর পাঁচ মাসের প্রবাসী আয় পর্যালোচনায় এমন চিত্র দেখা গেছে। বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, যেসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রেমিটেন্স পাঠানো হয়, সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অন্য কোনো দেশ থেকে পাঠালেও উৎস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নামই দেখানো হতো। তা সংশোধন করায় এখন দেশভিত্তিক প্রবাসী আয়ের প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে, গত জুলাই-নভেম্বর সময়ে সৌদি আরব থেকে সর্বোচ্চ ২০৫ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। যুক্তরাজ্য থেকে ১৬৭ কোটি, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে ১৫৮ কোটি, মালয়েশিয়া থেকে ১৪৩ কোটি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১০৩ কোটি ডলার এসেছে। একই সময়ে ইতালি থেকে ৮৩ কোটি, ওমান থেকে ৭৭ কোটি, কুয়েত থেকে ৬৪ কোটি, কাতার থেকে ৫৯ কোটি ও সিঙ্গাপুর থেকে ৫৫ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি কাজ করেন সৌদি আরবে। ইউএই, কুয়েত, ওমান, কাতার, বাহরাইন, মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশেও প্রচুর বাংলাদেশি কর্মী গেছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে গেছেন শিক্ষার্থী ও দক্ষ পেশাজীবীরা।

সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বর্ণ ও রুপার দাম

ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বর্ণ ও রুপার দাম। সোমবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম একদিনে ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৯১ দশমিক ৯২ ডলারে পৌঁছেছে, যা নতুন রেকর্ড। অন্যদিকে, স্পট রুপার দাম বেড়ে ০৩৪৪-এ প্রতি আউন্স ৬৯ দশমিক ২৩ ডলারে ওঠে, এটির রেকর্ডও সর্বোচ্চ।

যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও কমার প্রত্যাশা ও নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বাড়ায়  বিশ্ববাজারে এমন পরিস্থিতি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদহার কমানোর ইঙ্গিত বাজারদরে প্রভাব ফেলেছে। এ ছাড়া ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ঝোঁক বাজারে এই উত্থানকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

মূল্যবান ধাতুর বিশ্ববাজারে চলতি বছর নজিরবিহীন উত্থান দেখা গেছে। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সোনার দাম বেড়েছে প্রায় ৬৭ শতাংশ। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো প্রতিআউন্স ৩ হাজার ও ৪ হাজার ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে স্বর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের পর এটাই হতে যাচ্ছে স্বর্ণের দামের সবচেয়ে বড় বার্ষিক বৃদ্ধি।

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার বাজারেও নাটকীয় চিত্র দেখা গেছে। বছরজুড়ে রুপার দাম বেড়েছে প্রায় ১৩৮ শতাংশ, যা স্বর্ণকেও ছাড়িয়ে গেছে।

বৈশ্বিক আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান স্টোনএক্স-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ম্যাট সিম্পসন বলেছেন, ডিসেম্বর মাসে সাধারণত স্বর্ণ ও রুপার বাজারে ইতিবাচক রিটার্ন দেখা যায। মৌসুমি পরিবেশও এখন এই ধাতুগুলোর পক্ষে রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, চলতি মাসের শেষ দিকে লেনদেনের পরিমাণ কমে আসতে পারে। সেই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতিভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ১১৭ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতেই দোসররা সক্রিয়: রুহুল কবির রিজভী

বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি গভীর ও ভয়ংকর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তাঁর অভিযোগ, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে গেলেও তাঁর দোসররা এখনো প্রশাসন, পুলিশ ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সক্রিয় থেকে পরিকল্পিতভাবে দেশে নাশকতা ও অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

গতকাল রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামের সূতারগোপ্তা এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত শিশুর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, দোসররা বিভিন্ন জায়গায় আছে, প্রশাসনে আছে, পুলিশে আছে, সরকারি দপ্তরে আছে। প্রতিটি জায়গা থেকেই তারা নীলনকশা আঁকছে, কীভাবে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নস্যাৎ করা যায়, কীভাবে দেশকে অশান্ত দেখানো যায়। বাংলাদেশ মুখ থুবড়ে পড়ছে, এই বার্তাই তারা ছড়িয়ে দিতে চায়।

তিনি ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যা, চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থীকে গুলি করা এবং লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, এই তিন ঘটনাকে একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা বলে উল্লেখ করেন।

রিজভী বলেন, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা নিজের জীবন দিয়ে শেখ হাসিনার মতো ভয়ংকর দানবীকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। কিন্তু তারা থেমে নেই। যেসব জায়গায় তারা আশ্রয় পেয়েছে, যেখান থেকে দুধ-কলা দিয়ে পোষা হচ্ছে, সেখান থেকেই সুতো টানছে।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার নামে প্রকাশিত বিভিন্ন অডিওতে ‘ধর, মার, মেরে ফেলে দে। দেশে যেন শান্তিতে কেউ না থাকতে পারে’। এ ধরনের বক্তব্যই প্রমাণ করে যে তারা বাংলাদেশকে শান্তিপূর্ণ দেখতে চায় না।

বাংলাদেশকে নিয়ে ভয়ংকর চক্রান্তের পেছনে অর্থনৈতিক স্বার্থের বিষয়টি তুলে ধরে রিজভী বলেন, “তারা আর পারছে না বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা পাচার করতে, পারছে না সোনালী বা বেসিক ব্যাংক লুট করতে, পারছে না সরকারি প্লট আত্মসাৎ করতে। এই লুটপাট বন্ধ হয়ে যাওয়াতেই তারা বাংলাদেশকে অশান্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।”

গত শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) গভীর রাতে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামের সূতারগোপ্তা এলাকায় বিএনপি নেতা বেলাল হোসেনের বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। পরিবারের অভিযোগ, দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পেট্রল ঢেলে ঘরে আগুন দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় বেলাল হোসেনের আট বছর বয়সী কন্যা আয়েশা আক্তার ঘরের ভেতর আটকা পড়ে পুড়ে মারা যায়। গুরুতর দগ্ধ হয় তার আরও দুই কন্যা স্মৃতি আক্তার (১৭) ও বীথি আক্তার (১৪)। তারা বর্তমানে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। বেলাল হোসেন নিজেও দগ্ধ হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বেলাল হোসেন জানান, ঘরের দুই দরজাই বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। আগুনের ধোঁয়া আর তাপে আমি ছোট মেয়েকে আর উদ্ধার করতে পারিনি।

এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। পুলিশ বলছে, নাশকতার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পায়নি। ফায়ার সার্ভিসও দরজা তালাবদ্ধ থাকার বিষয়ে নিশ্চিত নয়।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বেলাল হোসেনের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর নির্দেশনায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর একটি প্রতিনিধি দল রোববার রাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নিতে ঘটনাস্থলে যান।

প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা-ই জামান সেলিম, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ডা. জাহিদুল কবির জাহিদ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান সজীবসহ অনেকে।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন- লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবু, লক্ষ্মীপুর সদর (পূর্ব) বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

রিজভীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল নিহত আয়েশা আক্তারের কবর জিয়ারত করেন, আগুনে পুড়ে যাওয়া বাড়ি পরিদর্শন করেন এবং বেলালের স্ত্রী নাজমা বেগমের হাতে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে চিকিৎসা সহায়তা তুলে দেন। এর আগে তিনি সদর হাসপাতালে গিয়ে বেলাল হোসেনকে ব্যক্তিগতভাবে ৪ লাখ টাকা সহায়তা প্রদান করেন।