Home Blog Page 242

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে রাষ্ট্রপতির উদ্বেগ

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিবের গণমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দেশবাসীর কাছেও দোয়াও চান রাষ্ট্রপতি।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল নয় বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। শুক্রবার রাতে খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে মাঝরাতে হাসপাতালে যান মির্জা আব্বাস। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা দূরত্ব বজায় রেখে তার (খালেদা জিয়া) সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি, আমাদেরকে চিনতে পেরেছেন এবং আমরা সালাম দিয়েছি, উত্তর দিয়েছেন।
জানা গেছে, নানা রোগে আক্রান্ত প্রায় ৮০ বছর বয়সি খালেদা জিয়া ২৩ নভেম্বর ফুসফুসে সংক্রমণ এবং হৃদযন্ত্রের সমস্যা নিয়ে আবারও হাসপাতালে ভর্তি হন। মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে সিসিইউতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ধারাবাহিক নিবিড় পর্যবেক্ষণে চলছে বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসা।

 

 

হলমার্কের এমডি তানভীর মারা গেছেন

হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কয়েদি মো. তানভীর মাহমুদ (৫৫) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি হলমার্ক কেলেঙ্কারির মামলায় কারাভোগ করছিলেন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। কারা অধিদপ্তরের এআইজি (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, দুপুরে অসুস্থতা বেড়ে গেলে হলমার্ক গ্রুপের এমডি তানভীর মাহমুদকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢামেকে নেওয়া হয়। দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে তাকে কারাগার থেকে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। পরে বিকেল ৪টায় ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকের নির্দেশে তাকে এক্সট্রা বেড-১৯ নম্বরে রাখা হয়েছিল।
হাসপাতালে ভর্তির পর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তানভীর মাহমুদ রমনা থানার একটি মামলায় কারাবন্দি ছিলেন।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন।

 

বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্র আর নেই

মারা গেছেন বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র। সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকালে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে গত অক্টোবরের শেষের দিকে তাকে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে মাত্র ১২ দিন আগেই তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না; সোমবার সকালে নিজ বাড়িতেই পরপারে পাড়ি জমালেন তিনি।
এদিন সকালেই মুম্বাইয়ে ধর্মেন্দ্রর জুহুর বাসভবনের সামনে একটি অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে সেখানে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং বাড়ির ৫০ মিটারের মধ্যে ব্যারিকেড বসিয়ে সাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI) টুইট করে জানায়, প্রবীণ অভিনেতার বাড়িতে তারকারা আসতে শুরু করেছেন। সালমান খান, শাহরুখ খানসহ অনেকেই সেখানে উপস্থিত হন।
সে থেকে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। ভারতের একাধিক শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম প্রবীণ এই অভিনেতার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে। কিন্তু এ খবর ছড়িয়ে পড়লেও পারিবারিকভাবে কোনো ঘোষণা না আসায় ধোঁয়াশা কাটছিল না।
সবচেয়ে বড় রহস্য তৈরি হয়েছে মুম্বাইয়ের ভিলে পার্লে শ্মশান ঘিরে। ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যমের দাবি, সেখানে হেমা মালিনী, সানি দেওল, ববি দেওলসহ পুরো পরিবারকে দেখা গেছে। এমনকি অমিতাভ বচ্চন ও অভিষেক বচ্চনও সেখানে উপস্থিত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া যায়। কিন্তু পরিবারের সবাই শ্মশানে, অথচ মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই; এ নিয়ে এক পর্যায়ে তৈরি হয় ধোঁয়াশা।
এখনও ধর্মেন্দ্রর পরিবার থেকে তার মৃত্যুর কথা প্রকাশ্যে আনেনি। যদিও ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো দাবি করছে, কয়দিন আগে মৃত্যু নিয়ে বিভ্রান্তিকর ছড়ানোয় এবারে কিংবদন্তির প্রয়াণ নিয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখছে দেওল পরিবার।
এদিকে ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন বলিউড পরিচালক করণ জোহর। লিখেছেন, ‘একটি যুগের অবসান। একজন তাবড় মেগাস্টার। মূলধারার সিনেমায় একজন নায়কের মূর্ত প্রতীক। অসাধরণ সুদর্শন, এবং পর্দায় তার কালজয়ী উপস্থিতি। তিনি ভারতীয় সিনেমার একজন প্রকৃত কিংবদন্তি ছিলেন এবং থাকবেন।’
১৯৬০ সালে ‘দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক ঘটে ধর্মেন্দ্রর। ক্যারিয়ারের শুরুতে ষাটের দশকে ‘অনপধ’, ‘বন্দিনী’, ‘অনুপমা’ এবং ‘আয়া সাওয়ান ঝুম কে’-এর মতো সিনেমায় সাধারণ মানুষের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মন জয় করেন।
পরবর্তীতে তিনি অ্যাকশন এবং রোম্যান্টিক হিরো হিসেবে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। ‘শোলে’, ‘ধরম-বীর’, ‘চুপকে চুপকে’, ‘মেরা গাও মেরা দেশ’ এবং ‘ড্রিম গার্ল’-এর মতো কালজয়ী সিনেমাগুলো তাকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অমর করে রেখেছে। তার সুঠাম দেহ এবং অ্যাকশনের জন্য ভক্তরা তাকে ভালোবেসে ‘হি-ম্যান’ উপাধি দিয়েছিলেন।

 

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণা, দেখে নিন বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কারা!

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে হতে যাওয়া এই মেগা টুর্নামেন্টের সূচি (T20 World Cup 2026 Schedule) ঘোষণা করা হয়েছে। যেখানে প্রতিযোগী ২০ দলকে ভাগ করা হয়েছে চারটি গ্রুপে। বিশ্বকাপে কঠিন গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশ। ‘সি’ গ্রুপে সাবেক দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাশাপাশি তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নেপাল ও ইতালি।
‘এ’ গ্রুপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তানের সঙ্গে খেলবে নেদারল্যান্ডস, নামিবিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। ১৫ নভেম্বর কলম্বোয় দুই দলের রোমাঞ্চকর লড়াই অনুষ্ঠিত হবে। ‘বি’ গ্রুপে আরেক আয়োজক শ্রীলঙ্কার সঙ্গে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড ও ওমান। ‘ডি’ গ্রুপে ২০২৪ বিশ্বকাপের রানারআপ দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে লড়বে নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কানাডা।
আজ (মঙ্গলবার) মুম্বাইয়ে এক অনুষ্ঠানে আইসিসি সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের সর্বোচ্চ এই প্রতিযোগিতার সূচি ঘোষণা করেছে। ৭ ফেব্রুয়ারি পর্দা উঠবে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে লড়বে পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডস। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ মুখোমুখি হবে। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো হবে ভারতের ৫টি ও শ্রীলঙ্কার ৩টি ভেন্যুতে। ভারতের ভেন্যুগুলো হচ্ছে– দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম, কলকাতার ইডেন গার্ডেন, চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বারাম, আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি ও মুম্বাইয়ের ওয়ানখেড়ে স্টেডিয়াম।
এ ছাড়া শ্রীলঙ্কায় পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম, কলম্বোর আর প্রেমাদাসা ও সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে মেগা টুর্নামেন্টটির ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। পাকিস্তান যেহেতু ভারতে খেলতে যাবে না, দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের ম্যাচ হবে শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে। পাকিস্তান সেমিফাইনালে না উঠলে ম্যাচ দুটি হবে মুম্বাই ও কলকাতায়। পাকিস্তান সেমিফাইনাল-ফাইনাল দুই ম্যাচের যোগ্যতা অর্জন করলে দুটি ম্যাচই হবে কলম্বোতে। অন্যথায় ফাইনাল গড়াবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রিকেট স্টেডিয়াম আহমেদাবাদ নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে।
প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি দল সুপার এইটে উঠবে। সেখানে ৮ দল নিয়ে হবে দুটি গ্রুপ। সুপার এইটের গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি দল সেমিফাইনালের যোগ্যতা অর্জন করবে। চার দলের লড়াইয়ে বিজয়ী দুই দল ফাইনালে লড়বে ৮ মার্চ।

 

২৪ দিনে সাড়ে ২৮ হাজার কোটি টাকা পাঠালেন প্রবাসীরা

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি নভেম্বর মাসের ২৪ দিনে দেশে এসেছে ২ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসীআয় বা রেমিট্যান্স। দেশীয় মুদ্রায় যা প্রায় ২৮ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা।
গত ২৪ দিনের প্রবাসী আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫১ কোটি ডলার বেশি। রেমিট্যান্সের এ ধারা যদি পুরো মাসজুড়ে বজায় থাকে, তবে নভেম্বরে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে, গত বছরে শুধু একবারই রমজানের ঈদকে (ঈদুল ফিতর) কেন্দ্র করে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে। রেমিট্যান্স বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠালে বিভিন্ন প্রণোদনা, বৈধ পথে টাকা পাঠানোর ওপর উৎসাহ বাড়ানো এবং এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর সক্রিয় ভূমিকা উল্লেখ করা হচ্ছে।
চলতি নভেম্বর মাসের ২৪ দিনে প্রবাসীরা দেশে ২৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৮ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে দেশে আসছে ৯ কোটি ৭৯ লাখ ডলার বা এক হাজার ১৯৪ কোটি টাকা। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫১ কোটি ডলার বেশি। ২০২৪ সালের নভেম্বরের প্রথম ২৪ দিনে ১৮৪ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে এক হাজার ২৪৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে (জুলাই-২৪ নভেম্বর ২০২৪) রেমিট্যান্স আসে এক হাজার ৭৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এ হিসাবে অর্থবছরওয়ারি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৬ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক প্রবাসী আয় ছিল জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার এবং অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার।
২০২৪–২৫ অর্থবছরের মার্চ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল, যা ছিল ওই অর্থবছরের সর্বোচ্চ। পুরো অর্থবছরে প্রবাসী আয় দাঁড়ায় ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। আগের বছরের তুলনায় যা ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।
২০২৩–২৪ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। ওই অর্থবছরের মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স ছিল- জুলাইয়ে ১৯১ দশমিক ৩৭ কোটি, আগস্টে ২২২ দশমিক ১৩ কোটি, সেপ্টেম্বরে ২৪০ দশমিক ৪১ কোটি, অক্টোবরে ২৩৯ দশমিক ৫০ কোটি, নভেম্বরে ২২০ কোটি, ডিসেম্বরে ২৬৪ কোটি, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি, মার্চে ৩২৯ কোটি, এপ্রিলে ২৭৫ কোটি, মে মাসে ২৯৭ কোটি এবং জুনে ২৮২ কোটি ডলার।

ব্যাংকিং খাতে নতুন বিপদসংকেত: খেলাপি ঋণ ছাড়াল ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা

দেশের ব্যাংকিং খাতে সংকট আরও গভীর হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব বলছে—খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশ। বিশাল এই অঙ্ক আর্থিক ব্যবস্থার দুর্বলতা ও অনিশ্চয়তা আরও প্রকট করে তুলছে।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হালনাগাদ বিবরণী থেকে এ তথ্য উঠে এসেছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংক সাম্প্রতিক সময়ে নজরদারি ও নিয়মকানুন কঠোরভাবে প্রয়োগ করায় ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আগে যেসব ঋণ পরিশোধ না হওয়া সত্ত্বেও কাগজে ‘নিয়মিত’ হিসেবে দেখানো হতো, সেগুলো এখন মন্দ ঋণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রভাব ও সুবিধার মাধ্যমে বিতরণ করা ঝুঁকিপূর্ণ ঋণগুলো একে একে প্রকাশ পাচ্ছে, আর মন্দ ঋণের পরিমাণও বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত চিত্র উন্মোচিত হওয়ায় ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি সম্পর্কে এখন আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। তবে একইসঙ্গে এটি একটি অস্বস্তিকর বাস্তবতাও সামনে এনেছে— যেখানে বিপুল অঙ্কের অনাদায়ি ঋণ বছরের পর বছর ধরে জমে রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর শেষে মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। যা বিতরণ করা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। সে হিসেবে এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক থেকে নামে–বেনামে যে অর্থ বের করে নেওয়া হয়েছে, নিয়মনীতি স‌ঠিক প‌রিপালনের কারণে এখন তা খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হতে শুরু করেছে। ফলে এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।
তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জুন প্রান্তিকে শেষে ঋণের পরিমাণ ছিল ১৭ লাখ ৭৮ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৮ হাজার ৩৪৫ কোটি, যা ওই সময়ের বিতরণ করা ঋণের ৩৪ দশমিক ৪০ শতাংশ। সে হিসেবে তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩৬ হাজার ১৭০ কোটি টাকা।
ডলার সংকটে পড়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফের ঋণের দ্বারস্থ হয় বাংলাদেশ। ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের তিনটি কিস্তি পেয়েছে। বাকি দুটি কিস্তি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ধাপে ধাপে দেবে সংস্থাটি। এর মধ্যে অন্যতম ২০২৬ সালের মধ্যে বেসরকারি খাতে খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশ এবং সরকারি ব্যাংকে ১০ শতাংশের নিচে নামাতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ঋণের ৫০ শতাংশের মতো খেলাপি। বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোরও খেলাপি ঋণের হার ২০ শতাংশের কাছাকাছি।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে, তখন মোট খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। এরপর থেকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলছে। অর্থনীতিবিদরা অনেক দিন ধরেই অভিযোগ করছেন, তৎকালীন সরকারের ছত্রছায়ায় ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট হয়েছে, যার একটা বড়ো অংশই বিদেশে পাচার হয়েছে।

বাউলদের ওপর হামলা, ন্যক্কারজনক ঘটনা: মির্জা ফখরুল

বাউলশিল্পীদের ওপর হামলার ঘটনাকে উগ্র ধর্মান্ধদের ন্যক্কারজনক কাণ্ড বলে নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি বাউলদের ওপর হামলা, এটা একটা ন্যক্কারজনক ঘটনা। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’
বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির কার্যালয় উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, বাউলরা বাংলাদেশের আবহমান সাংস্কৃতিক গ্রামবাংলার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, যারা মাঠে-ঘাটে-প্রান্তরে বাউলগান গেয়ে বেড়ান। তাদের ওপর হামলাকে তিনি উগ্র ধর্মান্ধদের হামলা বলে আখ্যা দেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা সঠিক নয়, এ ধরনের হিংসার পথ বেছে নেওয়া কারো জন্য কাম্য নয়।’ তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বস্তিবাসীর দুর্দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বস্তিগুলোতে কয়েক হাজার দরিদ্র ও নিঃস্ব মানুষ বসবাস করে।’ তিনি ব্যক্তিগত উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘আমার বাসায় যে মহিলা রান্না করেন, তার বাড়িও একদম শেষ হয়ে গেছে।’
এ ঘটনাটিকে দরিদ্র মানুষগুলোর জন্য চরম আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে সরকারের কাছে জোর দাবি জানান বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। তিনি বলেন, ‘সরকার যেন এই ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সুষ্ঠু তদন্তের মধ্য দিয়ে প্রকৃত ঘটনাকে বের করে যদি প্রকৃতপক্ষের কোনো ব্যক্তি দায়ী হয়ে থাকে, তাহলে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা উচিত।’
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা নাকচ করে দেন। তিনি মনে করেন, এটি আমাদের দুর্ভাগ্যক্রমে ঘটছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি কাঠামোগত দুর্বলতা ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন। বিশেষ করে গার্মেন্টস অথবা ফ্যাক্টরি কারখানাগুলোতে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নেগলিজেন্স (অবহেলা), অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার অপর্যাপ্ততা এবং আইন না মেনে চলা—এসব কিছু মিলেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে।
মির্জা ফখরুল মত দেন যে সত্যিকার অর্থেই যদি আইনের প্রয়োগ হয় এবং যথাযথ অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা থাকে, তাহলে এই দুর্ঘটনাগুলো নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হবে।
এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

শেখ হাসিনার দুটি লকারে ৮৩২ ভরি সোনার গয়না, যা আছে!

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুটি লকার থেকে ৮৩২ ভরি সোনার গয়না পাওয়া গেছে। অগ্রণী ব্যাংকে থাকা ওই লকার দুটি জব্দ করা হয়েছিল। আদালতের অনুমতি নিয়ে মঙ্গলবার একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লকার দুটি খোলা হয়।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাতে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) যৌথ তদন্ত দল অগ্রণী ব্যাংকের লকার দুটি থেকে এসব সোনার গয়না জব্দ করে।
জানা যায়, জব্দের সোয়া দুই মাস পর আদালতের অনুমতি নিয়ে লকার দুটি খোলা হয়। এদিনই শেখ হাসিনার নামে পূবালী ব্যাংকে থাকা একটি লকার খোলা হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেন, সোনার গয়না মধ্যে উপহার হিসেবে পাওয়া দলীয় প্রতীক নৌকা রয়েছে অনেক। শেখ হাসিনার ভাই শেখ কামাল ও মেয়ে পুতুলের বিয়ের আংটিও রয়েছে। এছাড়া চুড়ি, বালা, কানের দুল রয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার দিলকুশায় অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে লকার দুটি জব্দ করে সিআইসি, যার নম্বর ৭৫১ ও ৭৫৩।
তখন অগ্রণী ব্যাংকের এমডি আনোয়ারুল ইসলাম বলেছিলেন, শেখ হাসিনা দুটি লকার ভাড়া নিয়েছিলেন। সে দুটি নিয়ম অনুযায়ী সেভাবেই ব্যাংকে সংরক্ষিত অবস্থায় আছে। এনবিআর এসেছিল লকারের অবস্থান জানতে। আইন অনুযায়ী গ্রাহকের অনুপস্থিতিতে লকার খুলতে হলে আদালতের অনুমতি লাগবে। আদালতের অনুমতি ও একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লকার খোলা যাবে। আদালতের আদেশ পেলে ব্যাংক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও তখন জানিয়েছিলেন তিনি।
এর আগে পূবালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় (সেনা কল্যাণ ভবন) শেখ হাসিনার একটি লকার জব্দ করে সিআইসি। ১২৮ নম্বর লকারটি শেখ হাসিনার নামে থাকার তথ্য পেয়ে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল।
নিয়ম অনুযায়ী, একটি লকারের দুটি চাবি থাকে। একটি গ্রাহকের কাছে এবং আরেকটি ব্যাংকের লকার নিরাপত্তা শাখায়। লকার খুলতে হলে দুটি চাবিই লাগে।
অগ্রণী ব্যাংকে শেখ হাসিনার একটি ব্যাংক হিসাবও গত বছরের অগাস্ট থেকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) নির্দেশে। সেই হিসাবে কত টাকা আছে, তাও জেনেছে এনবিআরের দলটি।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদিনই পালিয়ে ভারতে চলে যান। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের কর ফাঁকি ও দুর্নীতির তদন্তে নামে।

 

১৬ বছরের কমবয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের পরিকল্পনা!

আগামী বছর থেকে ১৬ বছরের কমবয়সী শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে মালয়েশিয়া সরকার। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
দেশটির যোগাযোগ মন্ত্রী ফাহমি ফাজদিল রোববার (২৩ নভেম্বর) বলেছেন, অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য দেশ অনলাইনে বয়সসীমা কীভাবে আরোপ করেছে, সরকার সেটি দেখছে। আশা করি আগামী বছর থেকে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো সরকারের এই সিদ্ধান্ত মানবে। ১৬ বছরের নিচের কেউ অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না।
ফাজদিল আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি, যদি সরকার, সরকারি সংস্থা এবং অভিভাবকরা নিজ দায়িত্ব পালন করলে মালয়েশিয়ায় ইন্টারনেট শুধু দ্রুতগতির নয়; শিশু ও পরিবারগুলোর জন্য সবচেয়ে নিরাপদও হয়ে উঠবে।
মালয়েশিয়া সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ার কার্যক্রমের ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। বাড়তে থাকা সাইবার অপরাধ মোকাবিলা করা এর লক্ষ্য।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদ্যমান প্ল্যাটফর্ম ও মেসেজিং সার্ভিসগুলোর ৮০ লাখেরও বেশি ব্যবহারকারী জন্য লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নিয়ম চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হয়।
গত অক্টোবরে বেশ কয়েকজন এমপি সরকারের নেওয়া এ পরিকলপনায় সমর্থন জানিয়েছেন। তারা বলেন, নিবন্ধনের সময় ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করার সঠিক ব্যবস্থা থাকা উচিত।
সেপ্টেম্বরে স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ইপসস মালয়েশিয়া এডুকেশন মনিটর ২০২৫-এর জরিপে দেখা যায়, দেশটির ৭২ শতাংশ মানুষ মনে করেন, শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার সীমিত করা উচিত।
আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকসহ সব প্ল্যাটফর্মকে ১৬ বছরের নিচের ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট সরাতে বলা হয়েছে। তা না হলে প্রতিষ্ঠানগুলো বড় জরিমানার মুখোমুখি হতে পারে।
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাকসন শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার সীমিত করার জন্য আইন প্রনয়নের পরিকল্পনা করছেন।
ডাচ সরকারও ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিকটক ও স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহার করতে না দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়েছে। ডেনমার্ক, ফ্রান্স, গ্রিস, ইতালি ও স্পেন যৌথভাবে একটি পরীক্ষামূলক অ্যাপ চালু করছে। এটি ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করবে এবং শিশুদের ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে রক্ষা করবে।

ইসরায়েলকে ছেড়ে সৌদিতে মজেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন সৌদি আরবের দিকে ঝুঁকছেন। হোয়াইট হাউসে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে দেওয়া জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা তা আরও স্পষ্ট করে। ঘোড়সওয়ার রক্ষী, পতাকা ও যুদ্ধবিমানের শোভাযাত্রায় তাকে স্বাগত জানানো হয়। এটি ট্রাম্প প্রশাসনে কোনো বিদেশি নেতার জন্য সবচেয়ে বড় আয়োজন।
সম্প্রতি ওভাল অফিসে বৈঠকের সময় ট্রাম্প যুবরাজকে বারবার ‘রাজকীয় বন্ধু’ বলে প্রশংসা করেন। তবে এক সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যার প্রসঙ্গ তুলতেই ট্রাম্প বিরক্ত হয়ে ওঠেন এবং যুবরাজের পক্ষে সাফাই দেন; যা মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে সামরিক নীতি নিয়ে। ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের মতো এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান পাবে এবং ইসরায়েলের সমমানের প্রযুক্তিও থাকবে। বহুদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলকে সেরা অস্ত্র অগ্রাধিকার দিয়ে আসা মার্কিন নীতি এ সিদ্ধান্তে ভেঙে গেছে। এ ঘোষণায় ইসরায়েল বেজায় অসন্তুষ্ট।
এর পাশাপাশি সৌদি আরব ও আমিরাতের কাছে উন্নত এআই চিপ বিক্রির নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেওয়া হয়েছে। এটি সৌদির বৈশ্বিক প্রযুক্তি কেন্দ্র হওয়ার স্বপ্নকে আরও এগিয়ে দিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৯৩০-এর দশকে সৌদির তেলক্ষেত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, এআই যুগেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
সাম্প্রতিক আরও কিছু পদক্ষেপ থেকে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলকেন্দ্রিক নীতি থেকে সাময়িকভাবে সরে যাচ্ছে। জাতিসংঘে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সম্ভাবনা রাখা, সিরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং মধ্যপ্রাচ্য সফরে ইসরায়েল বাদ দিয়ে সৌদি-কাতার-ইউএই সফর—সবকিছুতেই ট্রাম্প এখন সৌদির সমর্থন আদায়কেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।