সক্ষমতা অর্জন করে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে: সেনাপ্রধান
নতুন পে স্কেলের গ্যাজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর
ফের মুখোমুখি ‘লড়াই’ দেব-শুভশ্রীর
একই দিনে দুই তারকার সিনেমা মুক্তি মানেই যেন তাদের নীরব প্রতিযোগিতা। গত বছর ২০ ডিসেম্বর একই দিনে মুক্তি পেয়েছিল দেব ও শুভশ্রীর ‘খাদান’ ও ‘সন্তান’। চলতি বছর ‘ধূমকেতু’র প্রচারে একসঙ্গে মঞ্চে উঠলেও পরবর্তী ঘটনায় তাদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। এখন দুই তারকাই ব্যস্ত বড়দিনের নতুন ছবির প্রচারে। দেবের ‘প্রজাপতি ২’ এবং শুভশ্রীর ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’-উভয় ছবি বড়দিনেই মুক্তি পাওয়ার কথা। স্বাভাবিকভাবেই বক্স অফিসে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যেতে পারে। গত সোমবার একই সময়ে মুক্তি পেয়েছে দুটি ছবির দুটি গান। ‘প্রজাপতি ২’-এর ‘ফুটবেই বিয়ের ফুল রে’ এবং ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’-এর ‘দেখো দেখো কানাইয়ে’- দুটি গানই প্রকাশের পরপরই দর্শকের মাঝে সাড়া ফেলেছে।
শুভশ্রীর একেবারে নতুন লুক যেমন দর্শককে আকর্ষণ করেছে, তেমনি দেবের গানে ফিরেছে পুরনো দিনের নস্টালজিয়ার আবহ।
ভিন্ন স্বাদের এই দুই ছবি দর্শকদের কতটা টানতে পারে তা এখনো অনিশ্চিত। তবে নিশ্চিত- দেব ও শুভশ্রীর প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। পাশাপাশি প্রতিযোগিতায় থাকছেন কোয়েল মল্লিকও, যিনি মিতিন মাসীর চরিত্রে বড় পর্দায় ফিরছেন। ‘প্রজাপতি ২’ দিয়ে আবারও একসঙ্গে পর্দায় ফিরছেন দেব ও মিঠুন চক্রবর্তী। দেবের বিপরীতে থাকছেন জ্যোতির্ময়ী। ছবিতে একজন সিঙ্গেল বাবার জীবনসংগ্রাম ও ছেলেকে ঘিরে তার দুশ্চিন্তার গল্প ফুটে উঠবে।
অন্যদিকে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ ছবিতে শুভশ্রীর সঙ্গে অভিনয় করছেন যীশু সেনগুপ্ত, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, পাওলি দাম, প্রিয়াঙ্কা সরকার, পার্থ ভৌমিক ও আরাত্রিকা মাইতি। মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যর চরিত্রে থাকছেন দিব্যজ্যোতি দত্ত।
কবে শুরু হতে পারে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, কোন গ্রুপে কারা
আইসিসি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সম্ভাব্য সূচি প্রকাশিত হয়েছে। যা আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৮ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে পারে। ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে আসন্ন টুর্নামেন্টটির আয়োজক হিসেবে থাকছে। সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার মুম্বাইয়ে এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক সূচি ঘোষণা করা হবে।
প্রতিবারের আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোর মতো এবারও ভারত-পাকিস্তান একই গ্রুপে থাকছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে একে-অপরের বিপক্ষে মাঠে নামবে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। তাদের গ্রুপে আরও রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, নামিবিয়া ও নেদারল্যান্ডস।
মোট ২০টি দলকে চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে, প্রতি গ্রুপে পাঁচটি করে দল থাকছে। আগের ফরম্যাট অনুযায়ী প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল সুপার এইটে জায়গা করে নেবে। সুপার ৮-টে কোয়ালিফাই করা আট দলকে আবার দুই গ্রুপে ভাগ করা হবে। সেখানে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল যাবে সেমি-ফাইনালের মঞ্চে।
ভারত ও শ্রীলঙ্কার যেসব ভেন্যুতে হবে ম্যাচ
ভারতের যেসব ভেন্যুতে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে: কলকাতা, চেন্নাই, দিল্লি ও আহমেদাবাদ
শ্রীলঙ্কার যেসব ভেন্যুতে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে: কলম্বো ও ক্যান্ডি
ফাইনাল ম্যাচের জন্য নির্ধারিত করা আছে আহমেদাবাদের স্টেডিয়াম। তবে পাকিস্তান ফাইনালে উঠলে ম্যাচটি কলম্বোতে সরিয়ে নেওয়া হবে।
সেমিফাইনাল ম্যাচগুলো আয়োজন করবে মুম্বাই ও কলকাতা। তবে পাকিস্তান সেমিতে উঠলে সেই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে কলম্বোতে।
বিভিন্ন গ্রুপে আছে যারা
> ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, নামিবিয়া ও নেদারল্যান্ডস
> শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড ও ওমান
> বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি
> দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও কানাডা
কুড়িগ্রামের অর্থনৈতিক অঞ্চল যুক্ত হবে গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটির সঙ্গে
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তবগে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে আঞ্চলিক যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। এ সময়ে তিনি বাংলাদেশ ও ভুটান, কুড়িগ্রাম–গেলেফু করিডোরের মাধ্যমে আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা গভীর করতে এই করিডরের ভূমিকা ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’।
রোববার ঢাকায় বিডা ও বেজা-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময়ে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে জিটুজি অংশীদারত্বে নির্মাণাধীন কুড়িগ্রাম স্পেশাল ইকোনমিক জোন ভুটানের আসন্ন বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’-র সঙ্গে যুক্ত হয়ে এক নতুন আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবাহ তৈরি করবে। এর মাধ্যমে শিল্প–বাণিজ্যিক সহযোগিতা নতুন মাত্রা পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে বিডা ও বেজা-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) আশিক চৌধুরী কুড়িগ্রাম ইকোনমিক জোন বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সুদৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এ সময়ে তিনি বলেন, কুড়িগ্রাম ও গেলেফু আমাদের যৌথ অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের পরিপূরক ইঞ্জিন হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশের বৃহৎ বাজার, দক্ষ মানবসম্পদ ও বৈশ্বিক সংযোগের শক্তি; আর ভুটানের টেকসই উন্নয়ন, উদ্ভাবনী দৃষ্টি ও মানবিক মূল্যবোধ এই দুই শক্তির সমন্বয় সীমান্ত অতিক্রম করে নতুন প্রজন্মের অর্থনৈতিক সহযোগিতার মডেল গড়ে তুলবে।’
বৈঠকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের আর্থিক, শিল্প ও সেবা খাতে ভুটানি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, এসব সম্ভাবনা যাচাই ও বিনিয়োগ সুযোগ অনুসন্ধানে শিগগিরই ভুটানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে।
বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়নবান্ধব বিনিয়োগপরিবেশ বিনির্মাণে বিডার সাম্প্রতিক সংস্কার উদ্যোগগুলো তুলে ধরা হয়; যেমন কর কাঠামো উন্নয়ন, মূলধন প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়ার গতিশীলতা, কার্যকর বন্দর ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসাবান্ধব নীতিগত সমর্থন। এ সময়ে দুই পক্ষই ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব, সাংস্কৃতিক বন্ধন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদারের গুরুত্ব নিয়ে মতবিনিময় করেন।
ভুটান প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত হে. ই. রিনচেন কুয়েন্তসেল এবং দেশটির স্বাস্থ্য, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিডা, বেজা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভুটানে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেন।
বিশ্ববাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। গত সোমবার বাজারে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর প্রত্যাশার ভিত্তিতে এক শতাংশ দাম বেড়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪৩ মিনিটে স্পট স্বর্ণের দাম এক দশমিক দুই শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি চার হাজার ১১১ দশমিক ৮৬ ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া ডিসেম্বর মাসের জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার শূন্য দশমিক চার শতাংশ বেড়ে চার হাজার ৯৪ দশমিক ২ শতাংশ প্রতি আউন্সে স্থির হয়েছে।
টিডি সিকিউরিটিজের কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি প্রধান বার্ট মেলেক বলেন, বাজারে দিন দিন আরও বিশ্বাস জন্মাচ্ছে যে, ইউএস ফেডারেল রিজার্ভ ডিসেম্বরে সুদের হার কমানোর পথে রয়েছে।
নিউইয়র্ক ফেডের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস শুক্রবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার ‘নিকট ভবিষ্যতে’ কমানো যেতে পারে, তবে এতে ফেডের মুদ্রাস্ফীতির লক্ষ্য বিঘ্নিত হবে না এবং এটি কর্মসংস্থানের বাজারে পতন রোধ করতে সাহায্য করবে।
সোমবার সিএমই ফেডওয়াচ টুল জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা ৭৯ শতাংশ দাঁড়িয়েছে।
মেলেক বলেন, আমরা ডেটার জন্য অপেক্ষা করছি এবং প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে, এটি কিছুটা কমতে পারে। মুদ্রাস্ফীতি খুব বেশি উচ্চ না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব কিছু স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির দিকে ইঙ্গিত করছে।
স্টোনএক্সের বিশ্লেষক রোনা অকনেল বলেন, ফেডের সুদের হার কমানোর বিতর্ক এবং বিশেষ করে ইউক্রেন সম্পর্কিত ভূ-রাজনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তন, স্বর্ণের দাম আরও বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তবে আমাদের দৃষ্টিতে এটি এখনো চার হাজার থেকে ৪ হাজার ১০০ ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
প্রতিবেদনেব বলা হয়েছে, স্পট রুপা প্রতি আউন্সে ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৫০ দশমিক ৮৪ ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া প্লাটিনাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৫৪৫ দশমিক ৯১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশে কোরআন-সুন্নাহর বিপরীতে কোন আইন করা হবে না: সালাহউদ্দিন আহমদ
কোরআন ও সুন্নাহর বিপরীতে বাংলাদেশে কোনো কানুন (আইন) করা হবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। যদি আগে এই ধরনের আইন করা হয়ে থাকে, সেটি বাতিল করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সম্মিলিত ইমাম খতিব পরিষদ আয়োজিত জাতীয় সম্মেলনে সালাহউদ্দিন আহমদ এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ যুক্ত করেছিলেন। তবে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী সেটি সংবিধান থেকে উচ্ছেদ করে দিয়েছিল। এটি আবার পুনর্বহাল করা হবে।
সম্মেলনে ইমাম ও খতিবদের পক্ষ থেকে সাতটি দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে একটি হলো উপযুক্ত প্রমাণ ও তদন্ত ছাড়া কোনো ইমাম-খতিব ও আলেমকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা যাবে না।
বিষয়টির উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, উপযুক্ত তথ্য–প্রমাণ ছাড়া, প্রাথমিক তদন্ত ছাড়া রাষ্ট্রের কোনো নাগরিককে গ্রেপ্তার করা যায় না। কিন্তু বিগত সময়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী অবৈধ সরকার দাড়ি-টুপির বিরুদ্ধে ছিল, আলেমবিদ্বেষী ছিল, তারা যে কাউকে ধরে নিয়ে এসে জঙ্গি বানানোর নাটক করত। সেই বাংলাদেশ এখন নেই। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা শুরু হয়েছে। এই দেশে আইনকানুনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো বেআইনি কাজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি মদিনার ইসলামে বিশ্বাস করে এবং বাংলাদেশে যত ফিরকা-ফেতনা আছে, এগুলোর অবসান চায়। অবশ্যই সম্মিলিতভাবে ইমাম-খতিবরা সেভাবে কাজ করবেন। মসজিদে যেন দুনিয়ার কোনো কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেওয়া না হয়। সেটি তাদের খেয়াল রাখতে হবে। মসজিদ, ইমাম, খতিবদের যাতে বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা হয়। রাজনৈতিক চর্চার জন্য বহু কেন্দ্র আছে, যাতে কোনো বিতর্ক না হয়, সেটা ইমাম-খতিবদের খেয়াল রাখতে হবে।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব সাখাওয়াত হোসেন রাজি, হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব প্রমুখ।
সম্মেলনে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন মাওলানা আজহারুল ইসলাম। এগুলো হলো সব ধর্মের প্রতি সহিষ্ণু হয়ে ইসলামি শরিয়াহকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে; রাষ্ট্রের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ইমাম-খতিবদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রতিটি জেলা, বিভাগীয় এবং থানা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে ইমাম-খতিবদের সম্পৃক্ত করতে হবে; মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ও পানির বিল মওকুফ করতে হবে; দেশের সব মসজিদের ইমামদের জন্য সার্ভিস রোল-নিয়োগবিধি প্রণয়ন করতে হবে এবং মসজিদ কমিটিতে সম্মানজনক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে; উপযুক্ত প্রমাণ ও তদন্ত ছাড়া কোনো ইমাম-খতিব ও আলেমকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা যাবে না; সরকার স্বীকৃত দাওরায়ে হাদিসের সনদপ্রাপ্ত আলেমদের সরকারি মসজিদে ইমাম-খতিব নিয়োগ ও স্কুল-কলেজে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ এবং কাজি নিয়োগে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং ইমাম-খতিবগণ কর্তৃক সমাজ সংস্কারমূলক কার্যক্রম, যেমন: মাদক ও যৌতুক নিরোধ, সুদ, ঘুষ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনে নিরুৎসাহিত করা এবং পারিবারিক ঐতিহ্য ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষামূলক প্রভৃতি কার্যক্রমের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে এবং এ জন্য সম্মানজনক ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে।
নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ কাল
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সমন্বয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার নতুন রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ হতে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল রাজধানীর আবু সায়ীদ কনভেনশন হলে জোটের আত্মপ্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র জানায়, নতুন এই রাজনৈতিক জোটে থাকছে এবি পার্টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, আপ বাংলাদেশ।
এই জোটে যুক্ত হতে পারে গণঅধিকার পরিষদ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)।
জোটের সম্ভাব্য শরিক দলগুলোর সূত্র জানিয়েছে, এই জোট হবে নির্বাচনি, আদর্শিক নয়। এই জোট বিএনপির জোট বা জামায়াতসহ আট দলের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতা করতে পারে। তবে আপাতত একাই থাকবে। জোট বা নির্বাচনি সমঝোতার সিদ্ধান্ত হবে তফসিলের পর। নতুন জোট সংস্কারের জন্য অর্থাৎ গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে থাকবে।
এবি পার্টির একজন যুগ্ম আহ্বায়ক আমার দেশকে জানান, নতুন এই রাজনৈতিক জোটে কেউ প্রধান থাকবে না। এখানে সবাই সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবে।
নাইজেরিয়ায় ৩ শতাধিক শিক্ষার্থীকে অপহরণ
নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলে একটি ক্যাথলিক স্কুল থেকে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ অন্তত ৩১৫ জনকে অপহরণ করেছে সশস্ত্র হামলাকারীরা। এটি দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় গণঅপহরণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নাইজেরিয়ার খ্রিস্টান সংগঠন ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব নাইজেরিয়া (সিএন) জানিয়েছে, নাইজার রাজ্যের পাপিরি এলাকার সেন্ট মেরিজ স্কুল থেকে ৩০৩ শিক্ষার্থী ও ১২ জন শিক্ষককে তুলে নেওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন পরিসংখ্যান অনুযায়ী অপহৃত ব্যক্তির সংখ্যা ২০১৪ সালের কুখ্যাত চিবুক অপহরণের (২৭৬ শিক্ষার্থী) সংখ্যাকেও পেরিয়ে গেছে।
পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় গত শুক্রবার রাত ২টার দিকে সশস্ত্র হামলাকারীরা স্কুলে ঢুকে পড়ে এবং সেখানেই থাকা ছাত্র-ছাত্রীদের অপহরণ করে নিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ডমিনিক আদামু বিবিসিকে বলেন, ‘আমার দুই মেয়ে ওই স্কুলে পড়ে। তারা অপহৃত হয়নি। কিন্তু যাদের বাচ্চা অপহরণের শিকার, তারা সবাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ঘটনাটি সবাইকে হতবাক করে দিয়েছে।’
অন্যদিকে এক নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার দুই ভাগনি (বয়স ৬ ও ১৩) অপহৃত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু চাই তারা যেন বাড়ি ফিরে আসে।’
পুলিশ জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী অপহৃতদের সন্ধানে বনাঞ্চলে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথমে ২১৫ জনকে অপহরণ করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেলেও পরে জানা যায়, ৩১৫ জনকে অপহরণ করা হয়েছে।
নাইজার রাজ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, সম্ভাব্য হামলার গোয়েন্দা সতর্কবার্তা পাওয়ার পর সব আবাসিক স্কুল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেন্ট মেরিজ স্কুল সে নির্দেশ অমান্য করেছে, যা শিক্ষার্থী ও কর্মীদের ‘অবাঞ্ছিত ঝুঁকির’ মুখে ফেলেছে। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
নাইজেরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সশস্ত্র অপরাধী চক্র (স্থানীয়ভাবে যাদের ‘ব্যান্ডিট’ বা ডাকাত বলা হয়) অপহরণকে বড় ব্যবসা বানিয়েছে। মুক্তিপণ আদায় ঠেকাতে আইন করে অপহরণে মুক্তিপণ দেওয়া নিষিদ্ধ করা হলেও বাস্তবে তাতে তেমন ফল আসেনি।
গত শুক্রবারের ঘটনাটি ছিল চলতি সপ্তাহে তৃতীয় গণ-অপহরণ। এর আগে গত সোমবার প্রতিবেশী কেব্বি রাজ্যের একটি আবাসিক স্কুল থেকে ২৫ জনের বেশি মুসলিম ছাত্রী অপহৃত হয়। একই সপ্তাহে দক্ষিণাঞ্চলীয় কওয়ারা রাজ্যের একটি গির্জায় হামলায় ২ জন নিহত ও ৩৮ জন অপহৃত হয়।
এদিকে, দেশে বাড়তে থাকা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবু তার বিদেশ সফর (এর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ) সবই বাতিল করেছেন। কেন্দ্র সরকার ৪০টির বেশি ফেডারেল কলেজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। কিছু রাজ্যে সব পাবলিক স্কুলও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান অপহরণ ও হামলার ঘটনায় নাইজেরিয়ায় জনরোষ বাড়ছে। মানুষ দাবি করছে, শিশু ও গ্রামাঞ্চলের নিরাপত্তায় সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এই অপহরণের ঘটনা এমন সময় ঘটেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ ডানপন্থী অনেকেই দাবি করছেন- নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টানদের ওপর পরিকল্পিত হামলা করা হচ্ছে। তবে নাইজেরিয়ার সরকার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। বাস্তবে দেশটিতে হামলার শিকার হয় মুসলিম ও খ্রিস্টান উভয়েই।
এক সরকারি মুখপাত্র বলেছেন, ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাদের আদর্শে আপত্তি জানানো যেকোনো ব্যক্তিকেই আক্রমণ করে- মুসলিম, খ্রিস্টান বা ধর্মনিরপেক্ষ সবাইকে।’
আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়ায় স্কুলছাত্রী অপহরণ এখন নিরাপত্তাহীনতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের মতে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কাছে স্কুল হলো কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু- যেখানে হামলা করলে বেশি মনোযোগ পাওয়া যায়।
ইউনিসেফ গত বছর বলেছিল, সংঘাতপ্রবণ ১০টি অঙ্গরাজ্যের মাত্র ৩৭ শতাংশ স্কুলে হুমকি শনাক্তের প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থা রয়েছে।
১০ বছর আগে বোকো হারাম নাইজেরিয়ার চিবুক শহরের একটি স্কুল থেকে ২৭৬ ছাত্রীকে অপহরণ করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ কাড়ে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তরাঞ্চলে ডজন ডজন ‘ব্যান্ডিট’ বা ডাকাত গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা সাধারণত নিরাপত্তাহীন, দূরবর্তী গ্রামগুলোতে হামলা চালায়।
মামদানির টিমে ফরহাদ মজহারের মেয়েসহ ১০ বাংলাদেশি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম এবার স্বার্থক হয়েছে। নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির সদ্যঘোষিত ট্রানজিশন টিমে একসঙ্গে ১০ জন বাংলাদেশি অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
তাদের মধ্যে বাংলাদেশি কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহারের কন্যা সমতলী হকও রয়েছেন। সমতলী সিটি ইউনিভিারসিটি অব নিউইয়র্কে অধ্যাপনা করেন। তিনি একজন মানবাধিকারকর্মী।
অধ্যাপনা শুরুর আগে লেবার অ্যাটর্নি হিসেবে কাজ করেছেন। মামদানির মেয়র প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই তিনি নির্বাচনি প্রচারণায় ছিলেন। মামদানির সঙ্গে রয়েছে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।
টিমে স্থান পাওয়া অপর বাংলাদেশিরা হলেন—নাগরিক আন্দোলনের নেত্রী কাজী ফৌজিয়া, জনসংগঠক আব্দুল আজিজ ভূঁইয়া, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা শামসুল হক, শ্রম অধিকার সংগঠক মোহাম্মদ করিম চৌধুরী, অভিবাসন অধিকারকর্মী ফারিহাহ আখতার, ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতের সংগঠক ও মুসলিম কমিউনিটির নেতা আরমান চৌধুরী, সামাজিক সংগঠন ভালো ও ম্যাসভোটের সংগঠক শাহরিয়ার রহমান, শিক্ষা-যুব খাতে পরিচিত সংগঠক তাজিন আজাদ, আইন ও ন্যায়বিষয়ক ক্ষেত্রের প্রতিনিধি এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ইসলামিক সেন্টারের প্রতিনিধিত্বকারী কমিউনিটি সংগঠক ইমরান পাশা।
চার শতাধিক বিশেষজ্ঞ, কর্মী ও কমিউনিটি নেতার সমন্বয়ে এ বৃহৎ ট্রানজিশন টিম গঠিত হয়েছে। প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও দীর্ঘদিনের কাজের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ১৭টি কমিটির বিভিন্ন দায়িত্বে মনোনীত হয়েছেন।
৪০০ জনের দীর্ঘ তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এবারের ট্রানজিশন টিমে ১১ জন পাকিস্তানি এবং ১৬ জন ভারতীয়সহ দক্ষিণ এশিয়ার নানা কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব থাকলেও, বাংলাদেশিদের এত বড় সম্মিলিত উপস্থিতি এবারই প্রথম, যা প্রবাসী কমিউনিটির অবস্থানকে আরো শক্তিশালীভাবে তুলে ধরেছে।


