Home Blog Page 246

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে প্রস্তুত কমিশন : ইসি সানাউল্লাহ

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপতৎপরতা ও এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে প্রস্তুত ইসি।

শনিবার সকালে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস এর কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঐতিহাসিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি রেকর্ডসংখ্যক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে বলে জানান তিনি।

জাতীয় নার্সিং কমিশন গঠনের দাবিতে সমাবেশ, সড়ক অবরোধ

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর বিলুপ্ত করার অপচেষ্টা বন্ধ এবং জাতীয় নার্সিং কমিশন গঠনের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়ক অবরোধ করেছে বাংলাদেশ নার্সিং অ্যাসোসিয়েশন।

শনিবার (২২ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ করা হয়। এর ফলে পল্টন মোড় থেকে কদম ফোয়ারামুখী সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। এরপর যানবাহনগুলোকে ডাইভারশন করে বিজয় নগর কাকরাইল সড়কের দিকে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে শাহবাগ থানায় পরিদর্শক (পেট্রোল) বুলবুল আহমেদ বলেন, নার্সদের সমাবেশকে কেন্দ্র করে পল্টন মোড় থেকে যানবাহনগুলোকে ডাইভার্সন করে কাকরাইল রুটের দিকে দেওয়া হয়েছে। তবে তারা শিগগিরই সড়ক ছেড়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন।

আন্দোলনকারীরা জানান, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে নার্সদের জন্য সৃজনকৃত সব পদে জ্যেষ্ঠ, অভিজ্ঞ ও যোগ্য নার্স কর্মকর্তা পদায়ন করা হোক। ১৯৭৭ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত নার্স কর্মকর্তারাই নার্সিং শিক্ষা, প্রশাসন ও নার্সিং সেবা কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালিত হচ্ছিল। কিন্তু ২০১৬ সাল থেকে প্রশাসন ক্যাডার থেকে মহাপরিচালক ও পরিচালক নিয়োগ হওয়ার পর থেকে নার্সরা বদলি, পদোন্নতি, নার্স নিয়োগ ও উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে অবর্ণনীয় হয়রানির শিকার হয়ে আসছেন।

‘সব অভিযোগ ভিত্তিহীন, আমি স্বৈরাচারী নই’

বাংলাদেশের নারী দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি, বর্তমানে দেশের ক্রিকেটে সবচেয়ে আলোচিত তিনি। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ- জুনিয়র ক্রিকেটারদের শারীরিক-মানসিক নির্যাতন থেকে শুরু করে সিনিয়র ক্রিকেটারদের ক্যারিয়ারে হস্তক্ষেপ করা। ড্রেসিংরুমে তার স্বৈরাচারী মনোভাবে অতিষ্ঠ ক্রিকেটাররা, এমনটাও বলা হচ্ছে। শিনবোনের চোট সারাতে বর্তমানে বিকেএসপিতে পুনর্বাসনে আছেন জ্যোতি। সেখানে ক্রিকবাজ-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ঠাণ্ডা মাথায়।
ড্রেসিংরুমে স্বৈরাচার!
ড্রেসিংরুমে জ্যোতি স্বৈরাচার, এমন অভিযোগ রয়েছে। এনিয়ে তিনি বললেন, ‘আমি একদমই স্বৈরাচার নই। ড্রেসিংরুমে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জায়গা আছে এবং আমারও আছে। হ্যাঁ, অধিনায়ক হিসেবে আমি হয়তো ভিন্নভাবে সম্মানিত হই। কিন্তু সুযোগ সুবিধা ও আচরণ সবার জন্য সমান। আমি জানি না কারা এসব বলছে, কেন। কে এর পেছনে তা এখন পরিষ্কার। দেখুন, আমি দীর্ঘদিন ধরে অধিনায়ক। সবাই আমাকে পছন্দ করবে তেমন প্রত্যাশা করি না। কিন্তু আমি জানি দলের জন্য আমি কী করছি এবং আমার সত্যিকারের অভিপ্রায় কী।’
জাহানারা আলম ও রুমানা আহমেদকে বাদ দেওয়া
অনেক দিন ধরে এমন কথা শুনছি যে আমি তাদেরকে সরিয়ে দিয়েছিল, কারণ তারা ভালো পারফর্ম করে অধিনায়কত্ব পাওয়ার দৌড়ে ছিল। আর হ্যাঁ, সিন্ডিকেট কী? ২০১৫ সাল থেকে জাতীয় দলের সঙ্গে খেলছি, সিনিয়রদের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করছি। এমন কিছু আমি কখনো দেখিনি। ড্রেসিংরুমে সবাই আপনার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হবে না। ১১ জন খেলোয়াড়ের সঙ্গে ১১ ধরনের ভিন্ন সম্পর্ক। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তারা যদি বলে সিন্ডিকেট করে আমি তাদের সরিয়ে দিয়েছি… কাউকে সরিয়ে দেওয়ার আমি কে? আমি কি নির্বাচক?’
২০২১ সালে আমি অধিনায়ক হলেও ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগ পর্যন্ত আমি নির্বাচক প্যানেলে ছিলাম না। এর আগে নির্বাচনের ব্যাপারে আলাপে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা চিল না। ১১ জনের মধ্যে কে থাকছে সেটা না জেনেই টিম মিটিংয়ে যেতো অন্য খেলোয়াড়রা, আমিও জানতাম না। ১৫ কিংবা ১৮ জনের স্কোয়াডের ব্যাপারে আমার সঙ্গে কোনো আলোচনা হতো না। বোর্ডের সঙ্গে আলাপ করে এটা যাচাই করতে পারেন।’
একবার নিউজিল্যান্ডে, হাশান তিলাকরত্নে ছিলেন কোচ, রুমানা আপু, সালমা আপু এবং সম্ভবত জাহানারা আপুও বিশ্রামে ছিলেন কিংবা খেলেননি। সালমা আপু আমাকে বললেন, ‘তুই আমাদের বাইরে রেখেছিস।’ আমি বললাম, ‘সালমা আপু, বিশ্বাস করেন, আমি এই ব্যাপারে কিছু জানি না। আপনারা যেভাবে একাদশ জানতে পারতেন, আমিও সেভাবে পারি।’ তখন তিনি বললেন, ‘তাহলে তুই শুধুই টসের অধিনায়ক?’ এমন সব কথা আমাকে শুনতে হতো।
দল বাছাইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতেন নির্বাচক ও প্রধান কোচ। আমি শুধু আমার প্রতিক্রিয়া জানাতাম। একই প্রক্রিয়া চিল ১৫ জনের স্কোয়াড গড়াতেও। তাহলে তারা কেন বলছিল যে আমার কারণে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে? আমি তো তখন নির্বাচক চিলাম না। নির্বাচন প্যানেলেও ছিলাম না। তারা কেন আমাকে দোষ দিচ্ছে এবং আমার প্রতি তাদের এত হিংসা-বিদ্বেষ কেন?
সালমা-রুমানাদের সঙ্গে সম্পর্ক বেশ ভালো ছিল জ্যোতির। কিন্তু অধিনায়কত্ব পেতেই দূরত্ব তৈরি হতে থাকল, ‘আমাকে যখন অধিনায়কত্ব দেওয়া হলো, সমস্যার শুরুও হলো। আমি শুনেছিলাম, কয়েকজন আমাকে বলেছিল যে খুব গুরুত্বপর্ণ ম্যাচের আগে চার-পাঁচজন সিদ্ধান্ত নিতো যে তারা একজন জুনিয়রের অধিনায়কত্বে খেলবে না তারা। যখন বড় ম্যাচে আমাদের প্রতিপক্ষ নিয়ে ভাবা উচিত, তখন তারা আমার অধীনে না খেলার পরিকল্পনা করে। কোচিং স্টাফদের সঙ্গে শর্ত জুড়ে দিয়ে পরের দিন তারা খেলত। তাদের সমস্যা হচ্ছে তারা থাকতেও আমি কেন অধিনায়ক হলাম। মূল সমস্যা হচ্ছে গ্রহণযোগ্যতা। তারা মানতেই পারতো না যে উড়ে এসে জুড়ে বসা একটি মেয়ে অধিনায়ক হবে, যখন তাদের মতো সিনিয়ররা আছে।
জুনিয়রদের গালাগালি ও শারীরিক নির্যাতন
এটা মিথ্যা অভিযোগ। শুধু একজন এই কথা বলেছে, একাধিক জুনিয়র নয়।’
ওই সময়ের উত্তেজনায় আমি হয়তো বলতে পারি, ‘বল উঠাচ্ছ না কেন?’ ‘আরো ভালো করতে পারতে’, ‘স্টাম্প বরাবর বল কর’। এসব তো সবাই বলে। আমার কথা বেশি শোনা যেতো কারণ মাউথপিস আমার কাছে। আমি রেগে যেতাম কারণ আমার সেরা ফিল্ডারদের কাছ থেকে আরো বেশি চাইতাম। কিন্তু কেন আমি গালি দিবো? আমি মানসিকভাবে অসুস্থ? আমি এমন পরিবার থেকে আসিনি, কাউকে গালি দেওয়ার অধিকার আমার নেই।’
আপনারা জুনিয়র-সিনিয়রদের সঙ্গে এই ব্যাপারে জানতে চাইতে পারেন। আমি শুনলাম জাহানারা আপু অভিযোগ করেছেন, কেউ অস্ট্রেলিয়ায় তাকে ডেকে বলেছে, ‘আমাদের বাঁচান, জ্যোতি আপু আমাদের মারছে।’ আমি যদি কাউকে মারতাম, সেখানে কি টিম ম্যানেজমেন্ট ছিল না? কোচেরা? কেন টিম ম্যানেজমেন্টকে না বলে কেউ একজন অস্ট্রেলিয়াতে ফোন দিয়ে জানাল। এসবের কী কোনো মানে আছে?
মুর্শিদা বলেছিল ২০২২ সালে এনসিএলে আমি তাকে থাপ্পড় মেরেছি। কিন্তু ওই বছর তো আমি তার দলেই খেলিনি, ভিন্ন দলে ছিলাম। তার সঙ্গে তো কথাই হতো না। আমি তাকে থাপ্পড় দিয়েছি, কে দেখেছে? তার কাছে কী প্রমাণ আছে? মিসফিল্ডের পর সর্বোচ্চ আমি বলতে পারি, ‘তুমি কী করছ, বোকা?’
প্রত্যেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো। অনেকবার আমি বলেছি, ‘আরে ভাই, কী করছ তুমি, এটা হচ্ছে না। এভাবে করো।’ গালিগালাজ করতে পারি না আমি। আমার বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় যে ভাষা ব্যবহার করি, সেটা তো এখানে করা যাবে না। কেউ যদি শোনে আমার কোনো বন্ধুর সঙ্গে মজা করছি, তাহলে সে বলতে পারে না যে জ্যোতি বাজে ভাষা ব্যবহার করে। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।
শ্রীলঙ্কায় মারুফাকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া ও তার কান্না, এটা নিয়ে লোকেরা নেতিবাচক কথা ছড়াচ্ছে। আসলে কী ঘ টেছিল বলছি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে শ্রীলঙ্কায় আমরা এ টিমের সঙ্গে খেলছিলাম। পাকিস্তান সিরিজ থেকে মারুফার উঁচু ক্যাচ ধরায় সমস্যা হচ্ছিল। মারুফা আমার দলের অন্যতম সেরা ফিল্ডার। আমি তাকে খুব বিশ্বাস করি। সে জোরে দৌড়ায়। তারা হিটিং ও থ্রোয়িং চমৎকার। সে দলের জন্য সম্পদ। কিন্তু ক্যাচিং তার দুর্বলতা ছিল।
ম্যাচের দিন গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি ছিল। ‘এ’ টিম ও জাতীয় দলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। মারুফা ক্যাচ ফেলল। তার বোলিং কোটা ততক্ষণে শেষ। ক্যাচ ফেলার পর সে তার হাতের দিকে তাকাচ্ছিল, তার হাতে হয়তো আঘাত করেছিল বল। আমি বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবছিলাম, চিন্তা হচ্ছিল তার হাতে আঘাত লাগল কি না। সে ডানহাতে বোলিং করে, সেই হাতেই আঘাত। আরো অনেক ফিল্ডার ছিল, তাই আমি বলেছিলাম, ‘মারুফা, তুই বের হয়ে যা।’ আবারো সে হাতে আঘাত পাক, সেই ঝুঁকি নিতে চাচ্ছিলাম না। আমি কিপিংয়ে ছিলাম এবং সে লং অনেক, আমি তাকে চিৎকার করে বলেছিলাম, ‘মারুফা তুই বের হয়ে যা।’ সেটাই হয়তো তাকে কষ্ট দিয়েছিল।
পরে ম্যাচ শেষে আমি তার কাছে যাই, সে ছোট। তাকে আমি অনেক ভালোবাসি। তার কাছে গিয়ে দেখলাম, সে কাঁদছে। তথাকথিত সিনিয়ররা তাকে শান্ত করছে। আমি তাকে আমার ছোট বোনের মতো করে জড়িয়ে ধরলাম এবং বললাম, ‘বাবা, আমি তোকে এই কারণে বের হতে বলেছি।’ তখন সে বলল, ‘আপু, আমি সেজন্য কাঁদছি না। আমি কাঁদছি কারণ ক্যাচ মিস করেই যাচ্ছি।’
তাকে পরে বললাম, ‘কখনো ভাবিস না আমি তোর ওপর আস্থা হারিয়েছি। কিন্তু আমি চাই না তুই এনিয়ে আত্মবিশ্বাস হারা।’ সে ক্যাচ মিসের জন্য কাঁদছিল, আমি মাঠ থেকে বের করে দেওয়ার জন্য না।

ব্যাটে-বলে দাপট বাংলাদেশের, ফলো অনের শঙ্কায় আইরিশরা

আগের দিনই সেঞ্চুরির মঞ্চ প্রস্তুত করে রেখেছিলেন মুশফিকুর রহিম। আজ সেটার আনুষ্ঠানিকতা সেরেছেন। মুশফিকের পর তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন লিটন দাসও। তাদের জোড়া সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ পেয়েছে বাংলাদেশ। শেষ বিকেলে বোলিংয়েও আলো ছড়িয়েছে বাংলাদেশ। দলীয় একশ করার আগেই আইরিশদের ৫ উইকেট তুলে নিয়েছে টাইগাররা।
মিরপুর টেস্টে দ্বিতীয় দিন শেষে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেটে ৯৮ রান করেছে আয়ারল্যান্ড। এখনো বাংলাদেশের চেয়ে ৩৭৮ রানে পিছিয়ে তারা। এর আগে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে সবকটি উইকেট হারিয়ে ৪৭৬ রান করেছে।
শুরুটা ভালোই করেছিল আয়ারল্যান্ড। দুই ওপেনার অ্যান্ডি বার্লবির্নি ও পল স্টার্লিং উইকেটে থিতু হলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ২৬ বলে ২৭ রান করে স্টার্লিং আউট হলে ভাঙে ৪১ রানের উদ্বোধনী জুটি। তাকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফিরিয়েছেন খালেদ আহমেদ।
আরেক ওপেনার বার্লবির্নি ৬০ বলে করেন ২১ রান। তিনে নেমে ব্যর্থ ক্যাড কারমাইকেল। তার ব্যাট থেকে এসেছে ১৭ রান। এরপর হ্যারি টেক্টর-কুর্তিস ক্যাম্পারদেরও দ্রুত ফিরিয়েছেন তাইজুল-মুরাদরা। তাতে ৯৪ রানেই পঞ্চম উইকেট হারিয়ে ফলো অনের শঙ্কায় পড়েছে আইরিশরা।
এর আগে দ্বিতীয় দিনের শুরুতে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন আগেরদিন ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা মুশফিক। বিশ্বের মাত্র ১১তম ব্যাটার হিসেবে তিনি শততম ম্যাচ সেঞ্চুরিতে রাঙিয়েছেন। ১০৬ রান করে মুশফিক ফেরার পর সেঞ্চুরি করেন লিটন দাসও। তার পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি থামে ১২৮ রানে। এ ছাড়া মুমিনুল হক ৬৩ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ করেন ৪৭ রান।
বাংলাদেশ ইতিহাসে নাম লিখিয়েছে মাত্র তৃতীয় দেশ হিসেবে টেস্টের একই ইনিংসে ৪র্থ, ৫ম ও ৬ষ্ঠ উইকেটে ১০০ রানের জুটি গড়ে। এর আগে কেবল ভারত (১৯৭৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে) এবং পাকিস্তান (২০২৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে) একই কীর্তি গড়েছিল। আইরিশদের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে মুশফিক-মুমিনুলের চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১০৭, মুশফিক-লিটনের পঞ্চম উইকেটে ১০৮ এবং লিটন-মিরাজের ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ১২৩ রান পায় বাংলাদেশ।
মুশফিক-লিটন বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ সপ্তমবার একশ’র বেশি রানের জুটি গড়লেন। যার ভিতটা তারা গড়েন গতকাল প্রথম দিনে। আজ দলীয় রানের খাতায় নতুন করে ১৮ রান যোগ করতেই মুশফিককে স্লিপে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান ম্যাথু হামপ্রিস। ২১৪ বলে ১০৬ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছেন তিনি ৫টি চারের সাহায্যে। মুশফিক বাংলাদেশের হয়ে (মুমিনুলের সঙ্গে) যৌথভাবে সর্বোচ্চ ১৩টি সেঞ্চুরি করেছেন। এরপর জুটি গড়েন লিটন-মিরাজ। গত বছরের আগস্টের পর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন লিটন। গ্যাভিন হোয়ের বলে ক্যাচ তুলে মিরাজের (৪৭) বিদায়ে ভাঙে সেই জুটি।
এরপর লিটনও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় ছিলেন তিনি, হাম্প্রিসের বলে সুইপ খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন স্লিপে। ১৯২ বলে ৮ চার ও ৪ ছক্কায় থামলেন ১২৮ রানে। শেষ দিকে ক্যামিও খেলেছেন এবাদত। ৩ চার ও ১ ছক্কায় ১৮ রান করে তিনি অপরাজিত ছিলেন। বাংলাদেশ অলআউট হয় ৪৭৬ রানে।
আইরিশদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬ উইকেট শিকার করেছেন অভিজ্ঞ স্পিনার ম্যাকব্রাইন। এ ছাড়া ম্যাথু হাম্প্রিস ও গ্যাভিন হোয়ে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন।

বিকিনি না পরলে টপ থার্টিতেই যেতে পারবো না : মিথিলা

বিশ্বের সবচেয়ে জমজমাট ও মর্যাদাপূর্ণ সুন্দরী প্রতিযোগিতা ‘মিস ইউনিভার্স’-এর ৭৪তম আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন মডেল ও অভিনেত্রী তানজিয়া জামান মিথিলা। গত সেপ্টেম্বরে ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৫’-এর মুকুট জয়ের পর দেশের পতাকা হাতে গত অক্টোবরের শেষ দিকে তিনি উড়ে গিয়েছেন প্রতিযোগিতার মূল মঞ্চ থাইল্যান্ডে।
থাইল্যান্ড থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে চলমান বিতর্কের বিষয়ে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন মিথিলা। সেখানেই দেশের মানুষের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে তিনি তুলে ধরেছেন প্রতিযোগিতার কঠিন বাস্তবতা।
ভিডিওতে মিথিলা বলেন, ‘আমাকে অন্যান্য দেশের মানুষ ট্রল করলে আমার কিছু আসে যায় না, কিন্তু আমাদের দেশের মানুষ তো দেখতেছে আমি কী কষ্ট করতেছি। একটা এত বড় দেশ, এত বড় দেশ থেকে যদি একজন ভালো কন্টেস্ট্যান্ট এসে যদি চেষ্টা করে, এত কষ্ট, এত ডিসিপ্লিন, টাইমলি সবকিছু করা, এত এফোর্ট, এত এত কিছু শিখে, এত কিছু করেও যদি নিজের দেশের মানুষের থেকে অ্যাপ্রিসিয়েশন না পায়, তাহলে তো এটা খুবই কষ্টের।’
বিকিনি পরা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আর আমি কতবার বলবো আমি যদি বিকিনি না পরি, তাহলে আমি টপ থার্টিতেই যেতে পারবো না। তো আপনারা তো চান যে আমি জিতি। তো জিততে হলে আমাকে তাহলে তো বিকিনি পরতে হবে। এখানে আসলে রিলিজিয়নের কিছু নাই। এখানে আমাকে জিততে হলে, বাংলাদেশকে যদি জেতাতে হয়, তাহলে আমাকে পড়তে হবে।’
তার কথায়, ‘এই জায়গাটা কিন্তু অনেক বড় একটা জায়গা। এতগুলো মানুষের সাথে কম্পিটিশন এবং সবাই ভালো। এখানে কেউ খারাপ না, সবাই ভালো। তো এদের সাথে কম্পিট করতে হলে আমাকে কিন্তু অনেক ভালো করতে হবে, আমার দেশের মানুষকেও অনেক আগায় আসতে হবে।’

আমার খুব কান্না আসছে: মিথিলা

থাইল্যান্ডে চলছে মিস ইউনিভার্সের ৭৪তম আসর। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন তানজিয়া জামান মিথিলা। এখন্সময় আছে মাত্র একদিন, এরপরেই জানা যাবে কার মাথায় উঠতে যাচ্ছে ‘মিস ইউনিভার্স ২০২৫’-এর মুকুট।
গত বুধবার রাতেই শেষ হয়েছিল ভোট দেওয়ার সুযোগ। কিন্তু মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ সদ্য জানালো, পিপলস চয়েসে ভোট দেওয়ার সময় কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) রাত ১০ টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ভোট দেওয়া যাবে। এখন পিপলস চয়েস এক্সটেন্ড অপশনে গিয়ে বাংলাদেশকে ভোট দেওয়া যাবে।
এখন চলছে প্রিলিমিনারি পর্ব, সেখানে নিজেকে প্রতিযোগীতার শর্তানুযায়ী নিজেকে মেলে ধরছেন মিথিলা; প্রত্যকে প্রতিযোগীকেই নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন সেশনে পরীক্ষা।
তবে গত বুধবার মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার মঞ্চে ন্যাশনাল কস্টিউম হিসেবে মিথিলা বেছে নিয়েছিলেন বাংলাদেশের নারীদের প্রধান পোশাক শাড়ি; দেশের ঐতিহ্য বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে পছন্দ করেছেন সাদা জামদানি। শুধু তাই নয়, জামদানি শাড়ির মোটিফে আছে বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা।
সেই পারফরম্যান্স শেষে গত বুধবার দুপুরে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের অনুভূতি শেয়ার করেন মিথিলা। এ সময় তাকে বেশ আবেগপ্রবণ দেখা যায়। মিথিলা বলেন, ‘ন্যাশনাল কস্টিউম সবার কাছে কেমন লেগেছে? আশা করি, সবার ভালো লেগেছে, মনের মতো হয়েছে। বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করতে এই কস্টিউম বেছে নিয়েছি। আমার মনে হয়, ন্যাশনাল কস্টিউমে বাংলাদেশকে কেউ এভাবে তুলে ধরল।’
পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি হ্যাপি, কারণ আমার পারফরম্যান্সও খুব ভালো হয়েছে। সবাই খুব প্রশংসা করেছে।’
দেশের প্রতিনিধিত্ব করার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে সেই লাইভে আরও আপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন মিথিলা। বলেন, ‘স্টেজ থেকে নামার পর আজকে আমার খুব কান্না আসছে। অনেক আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। এই অনুভূতি প্রকাশ করার মতো নয়। মঞ্চে যখন থাকবেন এবং নিজের দেশকে উপস্থাপন করা কত বড় সাহস আর শক্তির প্রয়োজন, সেটা তখনই উপলব্ধি করা যায়।’
এদিকে, প্রিলিমিনারি পর্বে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন মিথিলা। ভোট নিয়ে যদিও লাইভে হতাশাও প্রকাশ করেছিলেন খানিকটা। তাই, এই প্রিলিমিনারি পর্বে এবার সুইমস্যুট পর্বে নিজেকে প্রমাণ করার লড়াই চালাতে দেখা গেল মিথিলাকে। নীল বিকিনিতে নিজেকে মেলে ধরছেন; প্রশংসা পেয়েছেন ভক্ত শুভাকাঙ্ক্ষীদের। এখন তারা অপেক্ষায়, কার মাথায় ওঠে ‘মিস ইউনিভার্স ২০২৫’-এর মুকুট।

বাংলাদেশিদের সুখবর দিল ভারত

বাংলাদেশের জন্য ব্যাবসায়িক ভিসা ইস্যু করার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। তিনি বলেন, জরুরি প্রয়োজনের আবেদনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত প্রক্রিয়ায় করা হচ্ছে।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) রাজধানীর বারিধারায় ভারতীয় হাইকমিশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত নেটওয়ার্কিং ও জ্ঞান বিনিময় অনুষ্ঠান ‘ফার্মা কানেক্ট’–এ তিনি এ কথা বলেন।
হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু ভিসা আবেদন কেন্দ্রে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
তবে এখন সীমিত কর্মী দিয়েই প্রতিদিন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভিসা ইস্যুর কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিজনেস ভিসা আবার ইস্যু করা হচ্ছে। জরুরি ভিসা আবেদনগুলো আমরা দ্রুত প্রক্রিয়ায় করার চেষ্টা করছি।’
ব্যাবসায়িক ভিসার প্রয়োজন হলে আবেদনকারীরা হাইকমিশনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সুবিধা পাবেন বলেও জানান হাইকমিশনার।
ভারতের বিশ্ববিখ্যাত ফার্মাসিউটিক্যাল মেলা সিপিএইচআই-পিএমইসি ইন্ডিয়া ২০২৫-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সামনে রেখে ফার্মা কানেক্ট-এর আয়োজন করা হয়। আগামী ২৫-২৭ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে এ প্রদর্শনী।

 

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালে জনগণ ভোটাধিকার ফিরে পাবে: জামায়াত

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল হওয়ায় রায়কে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) রায়ের পর দুপুরে এক প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এড. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘এ রায়ের মাধ্যমে দেশের জনগণের বহুল প্রতীক্ষিত প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে এবং তারা ভোটাধিকার ফিরে পাবে।এটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।’
দীর্ঘ শুনানির পর সুপ্রিম কোর্টের এই রায় সবার মনে সন্তুষ্টি ও স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
দুপুর ২টায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট জুবায়ের মামলাটির সঙ্গে জড়িত সব আইনজীবী, পক্ষভুক্ত ব্যক্তিরা এবং আদালতকে সহযোগিতা প্রদানকারী সবাইকে জামায়াতের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, ‘তাদের ভূমিকা জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’ তিনি অভিযোগ করেন– শেখ হাসিনা ২০১১ সালে কেয়ারটেকার সরকারব্যবস্থা বাতিল করে দেশকে এক অন্ধকার যুগে ঠেলে দিয়েছিলেন। আজকের রায়ের মাধ্যমে জাতি সেই অন্ধকার থেকে পুনরায় মুক্তি লাভ করেছে।
জামায়াতের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৮৩ সালের ২০ নভেম্বর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত আমির জনাব আব্বাস আলী খান প্রথম কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবি উত্থাপন করেন। বাস্তবে এই পদ্ধতির ধারণা উপস্থাপন করেন জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম। পরবর্তীতে এই দাবিই পরিণত হয় গণদাবিতে। ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর সব দলের সম্মতিতে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও কেয়ারটেকার সরকারের প্রধান করা হয়। তার নেতৃত্বে ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচন ছিল অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ-যা দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পায়। এরপর দীর্ঘ আন্দোলনের পর ১৯৯৬ সালে সংবিধানে কেয়ারটেকার সরকারব্যবস্থা যুক্ত হয় এবং কেয়ারটেকার সরকারব্যবস্থার অধীনে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচন ছিল বিতর্কিত। কেয়ারটেকার ব্যবস্থা বাতিল করার পর ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৫৩ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি ঘোষণা করা হয়, যা ছিল সরাসরি ভোটবিহীন নির্বাচন। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের কেন্দ্র দখল ও জাল ভোটের মাধ্যমেই ওই নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়। একইভাবে ২০১৮ সালে আগের দিন রাতে ব্যালটে সিল মেরে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে আরেকটি প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনও ছিল– ‘আমি, তুমি ও ডামি’ নামে পরিচিত এক ভুয়া ভোটগ্রহণের নাটক, যা বিরোধীদলগুলো বর্জন করে।
জুবায়ের বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আগস্টের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষ শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে তোলে এবং ৫ আগস্ট সেই সরকারের পতন ঘটে। জুলাই বিপ্লবের পর কেয়ারটেকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। আজকের রায়ের মাধ্যমে সেই দাবি বাস্তবায়িত হলো। রায় অনুযায়ী ১৪তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে, ফলে জনগণ ফিরে পাবে তাদের ভোটাধিকার। এতে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নতুন স্থিতিশীলতা সৃষ্টি হবে এবং দেশ উন্নতি ও অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাবে-এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন– দলটির কেন্দ্রীয় অফিস সেক্রেটারি মাওলানা আফম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল মান্নান এবং প্রচার সহকারী আব্দুস সাত্তার সুমন।

ঢাকার যে আসন থেকে লড়বেন সেই রিকশাচালক সুজন

ঢাকা-৮ আসন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনয়ন ফর্ম সংগ্রহ করেছেন জুলাইয়ের আলোচিত রিকশাচালক মো. সুজন। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন তিনি।
পরে সাংবাদিকদের মো. সুজন বলেন, ‘যারা এতিমের টাকা মেরে, যাত্রাপালা করে সংসদে যেতে পারেন; আমি রিকশাচালক হয়ে কেন সংসদে যেতে পারব না?’
এসময় এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। এই আসনে জামায়াতের মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন। আর স্বতন্ত্র থেকে এ আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদী।

মামদানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন, ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের রাজধানী নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে সাক্ষাত করার ঘোষণা দিয়েছেন‍ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্টর সরকারি বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউসে ঘটবে উভয়ের সাক্ষাৎ।
গতকাল বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এ তথ্য জানিয়েছেন ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে তিনি বলেছেন, “আমরা এই মর্মে একমত হয়েছি যে ২১ নভেম্বর শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে আমাদের সাক্ষাৎ ঘটছে।”
মামদানি অবশ্য আগেই এই সাক্ষাৎ নিয়ে আভাস দিয়েছিলেন। সোমবার তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “নির্বাচনী প্রচারণার সময় নিউইয়র্কের ভোটারদের উদ্দেশ্যে আমার দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণে আমার টিমের সদস্যরা হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।”
তবে গতকাল ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প পোস্ট দেওয়ার পর মামদানি এবং তার টিমের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন সাংবাদিকরা। কিন্তু তারা কেউই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জোহরান মামদানিকে আটকাতে যথেষ্ট চেষ্টা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্প নিজে বলেছিলেন, মামদানি নির্বাচিত হলে নিউইয়র্কের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ আটকে দেবেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছে, মামদানির বিরুদ্ধে প্রচার-প্রচারণাবাবদ ২৪০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে ট্রাম্প প্রশাসন এবং তার দল রিপাবলিকান পার্টি।
তবে এসব প্রচেষ্টা জোহরান মামদানির জয় ঠেকাতে পারেনি। মেয়র নির্বাচনে ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। আগামী ১ জানুয়ারি নিউিইয়র্ক সিটির মেয়রের শপথ গ্রহণ করার কথা আছে তার।