নির্বাচন উৎসবমুখর করতে সেনাবাহিনীর সহায়তা দরকার: প্রধান উপদেষ্টা
সারাদেশে ভয়াবহ ভূমিকম্প অনুভূত
‘সিদ্ধার্থ’ নিয়ে টানা ৩ দিন দর্শকের সামনে নওশাবা
নাটক ও সিনেমায় কাজের পাশাপাশি মঞ্চেও নিয়মিত অভিনয় করেন অভিনেত্রী ও মডেল কাজী নওশাবা আহমেদ। এবার টানা তিন দিন দর্শকের সামনে উপস্থিত হচ্ছেন তিনি মঞ্চনাটক ‘সিদ্ধার্থ’ নিয়ে। শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে প্রদর্শিত হয়েছে নাটকটি। শেষ হবে ২১ নভেম্বর।
বিশ্বখ্যাত লেখক হেরমান হেসের উপন্যাস ‘সিদ্ধার্থ’কে নাট্যরূপ দিয়েছেন রেজা আরিফ। একই সঙ্গে নাটকটির নির্দেশনাও তার। নাট্যদল আরশিনগরের ব্যানারে প্রযোজিত এই নাটকটি এবার নতুনভাবে মঞ্চে উঠছে।
সূচি অনুযায়ী, ১৯ নভেম্বর ও ২০ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে নাটকটির প্রদর্শনী হবে। আর ২১ নভেম্বর বিকেল ৪টা এবং সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে দুটি শো দেখতে পাবেন দর্শক।
উপন্যাসটি মূলত মানুষের আত্মঅন্বেষণ, বোধ, জীবনদর্শন এবং মুক্তির পথ খোঁজার গল্প। কাহিনিতে দেখা যায়, ব্রাহ্মণকুমার সিদ্ধার্থ গৃহত্যাগী হয়ে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন। দীর্ঘ সাধনার পরও মনস্তাত্ত্বিক প্রশ্ন ও অস্থিরতা তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। অবশেষে তিনি গৌতম বুদ্ধের সান্নিধ্যে যান, তবে সেখানেও খুঁজে পান না তার কাঙ্ক্ষিত উত্তর। এরপর তিনি পৃথিবীর মোহ, ভোগবিলাস ও প্রেমের টানে এগিয়ে যান এবং নগরের শ্রেষ্ঠ বারবনিতার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। জীবন তাকে ভেঙে দেয় এবং পুনরায় নদীর কাছে ফিরে এসে উপলব্ধি করেন। সমস্ত প্রশ্নের উত্তর প্রকৃতির ভেতরেই রয়েছে।
নাটকটি সম্পর্কে কাজী নওশাবা বলেন, ‘সিদ্ধার্থ অসাধারণ একটি উপন্যাস। আত্মোপলব্ধির গল্প। যতবার পড়েছি, ততবারই মনে হয়েছে, এটি নিয়ে কাজ হয় না কেন? অবশেষে তা হলো এবং সেটির অংশ হতে পেরে আমি সত্যিই নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেকেই সিদ্ধার্থ নামটি শুনলেই গৌতম বুদ্ধকে ভাবেন। তবে এই নাটকে হেরমান হেসের সিদ্ধার্থ বুদ্ধ নন; বরং বুদ্ধের ছায়ার আড়ালে থাকা একটি ব্যক্তিগত মানসিক জগতের গল্প। নির্দেশক রেজা আরিফ সেই অনাবিষ্কৃত সিদ্ধার্থকেই সামনে আনছেন।’
মঞ্চনাটকের প্রতি নিজের টান প্রসঙ্গে নওশাবা বলেন, ‘একজন শিল্পীর কাজ করার অনেক মাধ্যম থাকলেও মঞ্চের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে হয়তো অর্থ পাওয়া যায় না, কিন্তু শেখার সুযোগ সবচেয়ে বেশি। মঞ্চ আমাকে আমার ভেতরের অভিনেতাকে চিনতে সাহায্য করেছে।’
‘সিদ্ধার্থ’ নাটকে নওশাবা ছাড়াও অভিনয়ে থাকছেন পার্থপ্রতিম, জিনাত জাহান নিশা, ওয়াহিদ খান সংকেত, নাজমুল সরকার নিহাত, মাঈন হাসান, শাহাদাত নোমান, প্রিন্স সিদ্দিকীসহ আরও অনেকে।
শুধু মঞ্চেই নয়, চলতি বছর চলচ্চিত্রেও ব্যস্ত সময় পার করছেন নওশাবা। কলকাতায় মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত সিনেমা ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’, আর ঢাকায় মুক্তি পেয়েছে তার আরেক চলচ্চিত্র ‘সাত ভাই চম্পা’।
দুই সিনেমাতেই তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘ বিরতির পর ছোটপর্দায়ও ফিরেছেন তিনি। সম্প্রতি তিনি অভিনয় করেছেন চয়নিকা চৌধুরীর পরিচালনায় নির্মিত ‘দ্বিতীয় বিয়ের পর’ নাটকে।
ভারতকে হারিয়ে ফিরে গেলেন হামজা, শামিত যাবেন শুক্রবার
দীর্ঘ ২২ বছর পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ভারতকে হারানোর প্রধান নায়ক হামজা দেওয়ান চৌধুরী। অসাধারণ নৈপুণ্য দেখানো এই সুপারস্টার তার ক্লাব লেস্টার সিটিতে যোগ দিতে বুধবার সকালে ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন।
আরেক প্রবাসী তারকা ফুটবলার শামিত সোম ফিরে যাবেন ২১ নভেম্বর। শামিত পরিবার-পরিজনের সাথে দুইদিন সময় কাটাতে সিলেটে থাকবেন। তারপর এই মিডফিল্ডার তার কানাডার প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবে যোগ দেবেন।
গত মঙ্গলবার ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ফুটবলামোদীদের উৎসবমুখর রাত উপহার দিয়েছেন হামজারা। ২০০৩ সালের পর ভারতকে হারিয়ে উদযাপন করেছেন লাল সবুজ জার্সিধারী ফুটবলাররা।
আগামী মার্চে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর। ওই ম্যাচটি খেলার জন্য আবার আসবেন হামজা চৌধুরী। ম্যাচের পর হামজা সংবাদ সম্মেলন বলছিলেন, ‘আবার দেখা হবে মার্চে।’
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচটি সিঙ্গাপুরের মাটিতে। তাই হামজা কবে নাগাদ ঢাকায় এসে অনুশীলনে যোগ দিতে পারবেন, তা নির্ভর করবে লেস্টার সিটির ম্যাচ শিডিউলের ওপর।
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে হামজা দেওয়ান চৌধুরীর অভিষেক হয়েছিল এ বছর ২৫ মার্চ শিলংয়ে ভারতের বিপক্ষে। মঙ্গলবার ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল জাতীয় দলে তার সপ্তম।
অন্যদিকে শামিত সোমের ১০ জুন সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল। এ পর্যন্ত জাতীয় দলে হামজা দেওয়ান চৌধুরী সাতটি ম্যাচ খেলে ৪ গোল করেছেন। শামিত সোম পাঁচ ম্যাচে গোল করেছেন ১টি।
আদালতের রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে: সালাহউদ্দিন আহমদ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলায় যে রায় হয়েছে, তাতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই বিচার অপরাধের তুলনায় যথেষ্ট নয়, কিন্তু এটি সামনের দিনের জন্য একটি উদাহরণ এবং ভবিষ্যতে কেউ যাতে এই রাষ্ট্রে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে না পারে, কেউ নিজে ফ্যাসিবাদ হয়ে উঠতে না পারে, একনায়কতন্ত্র যাতে কায়েম না হয়। এটা ভবিষ্যতের জন্য একটি শিক্ষা। শুধু অতীতের জন্য বিচার নয়, এটা আমাদের মনে রাখতে হবে।’
সোমবার রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আজকের এই আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে কয়েকটি জিনিস প্রমাণিত- ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার যত শক্তিশালী হোক, যত দীর্ঘদিন এই রাষ্ট্রক্ষমতা অবৈধভাবে পরিচালনা করুক, ক্ষমতা ভোগ করুক, তাদের একদিন না একদিন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশে গুম, খুন, অপশাসন এবং বৈষম্যের যে রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম করে শেখ হাসিনা একদলীয় রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে বাসনা চরিতার্থ করতে চেয়েছিল তা সম্ভব হয়নি। কিন্তু দীর্ঘদিনের অপশাসন এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের যাতাকলে এদেশের মানুষ পিষ্ট হয়েছে আমরা ভুক্তভোগী হয়েছি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই দেশ, এদেশের উন্নতি, অগ্রগতি বহু বছর পিছিয়ে গেছে। আমরা আর পেছনের দিকে তাকাতে চাই না। দেশে সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং এর মধ্য দিয়ে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ হবে। এটাই হবে আগামী দিনের বাংলাদেশ। আমরা অবশ্যই এই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আমরা সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাব।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করব, একটি ভারসাম্যমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও শাসন ব্যবস্থা কায়েম করব। এদেশের মানুষ ভবিষ্যতে যাতে ন্যায়বিচার পায় সে রকম রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করব। এজন্য আমরা অবিরাম সংগ্রাম চালিয়ে যাব। আজকে এর একটি মাইল ফলক প্রতিষ্ঠিত হলো।’
‘দেশের মানুষ ভোটের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, গত ১৫/১৬ বছর বিএনপি একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করেছে। দেশের মানুষ এখন ভোটের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।
সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী ভবনে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ঢাবি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল আয়োজিত ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শিক্ষার রূপান্তর: একটি কৌশলগত রোডম্যাপ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে এমন একটি জাতি ও দেশ তৈরি করতে হবে যাতে কোনো ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারের উত্থান না ঘটে। স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। তবে স্বৈরাচারের দোসরদের বহাল রেখে স্বাধীন বিচার বিভাগ সম্ভব নয়।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশের এক শ্রেণির বুদ্ধিজীবী, লেখক ও মিডিয়াকর্মী ভারতের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভিনদেশি রাষ্ট্রের প্রতি অন্ধ আনুগত্য থেকে বিগত দেড় দশকে বাংলাদেশে ‘বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্বৃত্তায়ন’ ঘটেছে।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ্য নেতা বলেন, ‘অতীতে রাষ্ট্রীয় অন্যায়, নাগরিক নিপীড়ন বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে যেসব বুদ্ধিজীবীর কথা বলা উচিত ছিল, তারাই ভারতপন্থি রাজনৈতিক বয়ানের সুবিধাভোগী হয়ে নীরব থেকেছেন।’
দেশের বর্তমান শিক্ষা ও বুদ্ধিজীবী পরিস্থিতির সঙ্গে ব্রিটিশ আমলের তুলনা করে সালাহউদ্দিন বলেন, ব্রিটিশরা তাদের শাসন দীর্ঘায়িত করতে যেমন শিক্ষিত সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করত, তেমনি বিগত সময়েও কিছু বুদ্ধিজীবী ও মিডিয়া রাষ্ট্রের হেজিমনি (আধিপত্য) বজায় রাখতে বুদ্ধিভিত্তিক চর্চা সীমিত করেছিল। ফলে গণতান্ত্রিক ও সৃজনশীল চেতনার বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে।
ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য আধুনিক যুগের চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলা। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবোটিকস, ডেটা সায়েন্স ও বায়োটেকনোলজির মতো ক্ষেত্রে মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্র হবে।’
তিনি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ভোকেশনাল শিক্ষা এবং পরবর্তী ধাপে জ্ঞানভিত্তিক ও গবেষণামূলক শিক্ষা নিশ্চিতের ওপরও জোর দেন।
জুলাই সনদ ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যমত্যের নামে অনৈক্য তৈরির চেষ্টা হয়েছে। তবে আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিষয়টিকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। জাতীয় সার্বভৌমত্বকে কখনো কোনো আদেশ দিয়ে তো বাধ্য করা যায় না।
দিনের ভোট রাতে করতে রাষ্ট্রের ৮ হাজার কোটি টাকা লুট করেছিলেন শেখ হাসিনা: রিজভী
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে করতে রাষ্ট্রের ৮ হাজার কোটি টাকা লুট করেছিলেন শেখ হাসিনা। বিনা ভোটে নির্বাচন করে টিকে থাকতে চেষ্টা করেছিলেন, কিছুই হয়নি। এত গুম–খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, ব্যাংক থেকে হরিলুট—কোনোভাবেই টিকতে পারলেন না।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়ার শহীদ খোকন পার্ক প্রাঙ্গণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ আয়োজিত দিনব্যাপী সেবামূলক কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বিএনপি ব্যক্তিস্বার্থে রাজনীতি করে না। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি মানবতার জন্য, মানবকল্যাণের জন্য, মানবসেবার জন্য রাজনীতি করে। বিএনপির রাজনীতির মুখ্য উদ্দেশ্য মানবসেবা। বিএনপি সেই নীতি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। আমাদের বিএনপি পরিবারের কার্যক্রম তার প্রমাণ।’
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, রাষ্ট্র যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর লুটপাটের জায়গা হয়, সেই রাজনৈতিক দল লুটেরা, ডাকাত, দানব, রাক্ষস। এদের দ্বারা কখনো জনগণের কল্যাণ হতে পারে না। শেখ হাসিনা নিজের ব্যবসায়ী গোষ্ঠী দিয়ে চাঁদা তুলেছিলেন, ব্যাংক থেকে হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ৩ হাজার কোটি টাকা প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পুলিশ, গোয়েন্দা আর ৫ হাজার কোটি টাকা নিজেরা ভাগাভাগি করে নিয়েছিলেন। ব্যাংকে কার টাকা ছিল? জনগণের টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮০০ কোটি টাকা হাওয়া হয়ে গেল, কার টাকা ছিল? বেসিক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংকের টাকা লুট হয়ে গেল, কার টাকা ছিল?
‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এ কে এম মাহবুবর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন ও আলী আজগর তালুকদার, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি এম আর ইসলাম, শহর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে দিনব্যাপী বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা, রক্তদান কর্মসূচি, হুইলচেয়ার বিতরণ, শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ, কৃষকদের সার ও বীজ বিতরণ এবং শ্রমিকদের পোশাক বিতরণ করা হয়।
সিএসই পরিদর্শন করেছেন মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত
বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ শুহাদা ওসমান সম্প্রতি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এর প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার সিএসই’র বর্তমান ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে বিস্তারিত তুলে ধরেন। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সিএসই ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাংলাদেশের ক্যাপিটাল মার্কেটে কমোডিটি প্ল্যাটফর্ম চালুকরণের লক্ষ্যে রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ কমোডিটি ট্রেডিং-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ মালয়েশিয়া থেকে ক্রুড পাম অয়েল (অপরিশোধিত পাম তেল) আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। এছাড়া সিএসই কমোডিটি প্ল্যাটফর্মে ভবিষ্যতে ক্রুড পাম অয়েলের ফিউচারস চালু করার আশা করছে।
মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ শুহাদা ওসমান বাংলাদেশের ক্যাপিটাল মার্কেট বিশেষ করে কমোডিটি মার্কেটের ডেভেলপমেন্টের জন্য সহযোগিতা প্রদান, দক্ষতা উন্নয়ন, তথ্যের আদান প্রদান, ব্যবসায়িক উন্নয়নে কাজ করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এ সময় মালয়েশিয়া হাই কমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি হাজওয়ান বিন হাসনল, সিএসই পরিচালক মোহাম্মদ আখতার পারভেজ, মেজর (অব) এমদাদুল ইসলাম, চিফ রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মদ মেহেদি হাসান, সিএফএ, জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন, জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ মনিরুল হক এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
বিএসটিআইয়ের সব সেবা পাওয়া যাবে অনলাইনে
গ্রাহকের সব সেবা অনলাইনে দেওয়ার লক্ষ্যে ই-সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করল বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। এখন থেকে বিএসটিআইয়ের সব সেবা পাওয়া যাবে অনলাইনে।
বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিএসটিআই প্রধান কার্যালয়ে সেবাগ্রহীতাদের সেবা দেওয়ার সহজীকরণের জন্য এ সফটওয়্যারের উদ্বোধন করা হয়।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব (অ. দা.) নুরুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সফটওয়্যারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক ফেরদৌস আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিটিএফ প্রকল্পের ডেপুটি চিফ ফুয়াদ এম খালিদ হোসেন, অরেঞ্জ বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুল কবির, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বিএসটিআইর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন (বিটিএফ) প্রকল্পের আর্থিক ও অরেঞ্জ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের কারিগরি সহায়তায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।
এ ই-সার্ভিস সিস্টেমের মাধ্যমে একজন সেবাগ্রহীতা পণ্যের মানসনদ (সিএম লাইসেন্স), ছাড়পত্র, হালাল সার্টিফিকেট, ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমস সার্টিফিকেট, মেট্রোলজি লাইসেন্স, পণ্যের মোড়কজাত সনদ, পণ্য পরীক্ষণ প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মান (বিডিএস) নিতে পারবেন।
এই সিস্টেম ব্যবহার করে একজন সেবাগ্রহীতা অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে ফি জমা দিয়ে আবেদন দাখিল, পরিদর্শন নোটিশ, টেস্ট ফি দেওয়া, অ্যাপ্লিকেশন ট্যাকিং করতে পারবেন একই সঙ্গে বিএসটিআই কর্মকর্তারা আবেদনপত্র যাচাই, পরিদর্শন প্রতিবেদন স্যাম্পল কালেকশন নোটিফিকেশন, টেস্ট রিপোর্ট, লাইসেন্সের প্রস্তাব ও সর্বোপরি লাইসেন্স ফি গ্রহণ সাপেক্ষে লাইসেন্স দিতে পারবেন।
আবার পরমাণু আলোচনায় প্রস্তুত তবে অবস্থান বদলাব না
ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা কামাল খারাজি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা ফের শুরু করতে ইচ্ছুক ইরান যদি তা সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে করা হয়।
তেহরান থেকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এক সাক্ষাৎকারে কামাল খারাজি বলেন, প্রথম পদক্ষেপ তাদেরই নিতে হবে এবং দেখাতে হবে যে, আমরা যে শর্ত দিয়েছি তাতে তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত এবং এটা হতে হবে সমান মর্যাদা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে।
কামাল খারাজি আরও বলেন, বিষয়বস্তুর স্পষ্টতা এবং আলোচনার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য এজেন্ডা আগে থেকেই প্রস্তুত করা হবে। দুর্ভাগ্যবশত, প্রেসিডেন্ট (ডনাল্ড) ট্রাম্প কূটনৈতিক আলোচনায় বিশ্বাস করেন না বরং লক্ষ্য অর্জনের জন্য শক্তি প্রয়োগ করতে পছন্দ করেন।
সাক্ষাৎকারে খারাজি জানান, জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর পর থেকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে ইরানের শর্তগুলোর কোনো পরিবর্তন হয়নি। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত আছে এবং থাকবে। কারণ বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং চিকিৎসার জন্য জ্বালানির প্রয়োজন।
খারাজি আরও বলেন, তেহরানের ক্রমবর্ধমান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আলোচনার বাইরে থাকবে। তার কথায়, ‘আমরা কেবল পারমাণবিক বিষয় নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করব।’
পরমাণুবিষয়ক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য চলতি বছরের এপ্রিলে ট্রাম্প প্রশাসন ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু আলোচনার মাঝখানে জুন মাসে ইসরায়েল ইরানে আকস্মিক আক্রমণ শুরু করে এবং ওয়াশিংটনকেও এতে টেনে আনে।
সাক্ষাৎকারে খারাজি বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে নয়, সমৃদ্ধকরণের মাত্রা হবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার মূল্য আলোচ্য। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে আরেকটি সংঘাতের বিষয়ে উদ্বিগ্ন কি না জানতে চাইলে খারাজি বলেন, সবকিছুই সম্ভব। তবে আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।
বাহিনী গঠন নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থানে হামাস-ফিলিস্তিন
গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠন নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থানে হামাস ও ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাবটি ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করবে বলে এটিকে হামাস প্রত্যাখ্যান করলেও গাজায় দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠায় এর পক্ষে ফিলিস্তিন সরকার। এদিকে গাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা নিয়ে ওয়াশিংটন কাজ করছে বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে ট্রাম্পের উদ্যোগের মাঝেই লেবাননে হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ১৩ জনকে হত্যা করেছে তেল আবিব।
২ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরাইলি আগ্রাসনের ক্ষতচিহ্ন এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি গাজাবাসী। কখনও ইসরাইলি আচমকা হামলা কিংবা কখনও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাত, সবকিছু মিলিয়ে দুঃখ আর দুর্দশাকে সাক্ষী রেখেই দিন কাটাচ্ছে যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকাটির লাখ লাখ মানুষ।
আন্তর্জাতিক চাপ ও একের পর এক দেশের ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির মাঝে অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় হামাস ও ইসরাইল। তবে গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠন ও যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকাটিতে ট্রাম্পের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রস্তাব নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি নিয়ে জানিয়ে আসছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস।
এরইমধ্যে গত সোমবার ট্রাম্পের প্রস্তাব করা ২০দফা শান্তিচুক্তির বিষয়ে ভোটাভুটিতে অংশ নেয় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা। এতে পাস হয় স্থিতিশীলতা রক্ষায় গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের প্রস্তাবটি। তবে তা প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছে হামাস।
গত মঙ্গলবার হামাস জানায়, বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী গাজায় বহুজাতিক বাহিনী গঠন করা হলে ক্ষুণ্ণ হবে ফিলিস্তিনিদের অধিকার। ইসরাইলি মদতপুষ্ট দেশগুলোর সমন্বয়ে গাজায় শান্তি বাহিনী গঠন হলে তা রুখে দিতেও প্রস্তুত গোষ্ঠীটি।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাশেম বলেন, ‘প্রস্তাবে ইসরাইলি দাবিগুলো প্রাধান্য পেলেও ফিলিস্তিনি জনগণের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে। নেতানিয়াহু চায় না যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকুক। বরং তিনি গাজায় নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় ব্যস্ত।’
তবে ভিন্ন কথা বলছে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা সমর্থিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। গাজায় দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রস্তাবটিকে ইতিবাচক বলেছেন তারা।
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারসেন আঘাবেকিয়ান শাহীন বলেন, ‘জাতিসংঘের প্রস্তাব দীর্ঘমেয়াদী শান্তি অর্জনের একটি প্রথম ধাপ। লাখ লাখ ফিলিস্তিনিদের বাঁচাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ।’
এদিকে হোয়াইট হাউজে সৌদি যুবরাজের আগমন উপলক্ষে আয়োজিত ডিনার অনুষ্ঠানে গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘শান্তি পরিষদের আকার বড় হবে। কেননা এখানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানেরা থাকবেন। এমন অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবস্থা আগে কখনও হয়নি। এর সভাপতি হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।’
এদিকে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা নিয়ে সৌদি আরবকে ট্রাম্প বার বার চাপ দিলেও যুবরাজ সালমান বলছেন- দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ছাড়া তা সম্ভব নয়।
তবে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির কথা বললেও যুদ্ধবিরতি ভেঙে লেবাননের একটি শরণার্থী শিবিরে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। তেল-আবিবের দাবি, সন্ত্রাসীদের দমনে পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে তারা। তবে অভিযোগটিকে ভিত্তিহীন বলছে লেবানন সরকার।


