Home Blog Page 25

ইসলামী ব্যাংকে পরীক্ষা ছাড়া ৮৫৪২ নিয়োগ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন

০

এস আলম গ্রুপের হাতে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ থাকার সময় ব্যাংকটিতে ১০ হাজার ৮৩২ জন কর্মী নিয়োগ হয়েছে। এদের মধ্যে কোনো ধরনের বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা ছাড়া কেবল জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি জমা নিয়ে আট হাজার ৫৪২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে বেশির ভাগ এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলমের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া এবং গ্রুপের আসাদগঞ্জ অফিসে রাখা বাক্সে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের নিয়োগ এবং আগস্টে সরকার পতনের পর ছাঁটাই প্রক্রিয়া যথাযথ ছিল কিনা, তা যাচাইয়ের জন্য চলতি বছরের এপ্রিলে গঠিত কমিটি এই প্রতিবেদন দেয়।

বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। সাধারণত বিভিন্ন ব্যাংকে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হয় যুগ্ম পরিচালকের নেতৃত্বে।

মূল্যায়ন পরীক্ষার পর ছাঁটাই হওয়া কর্মী এবং ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরিদর্শন প্রতিবেদনে কোনো সুপারিশ না করে শুধু ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সমকালকে বলেন, কর্মী নিয়োগ এবং ছাঁটাই– দুটিই ব্যাংকের নিজস্ব বিষয়। ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এসব কর্মী নিয়োগ দিয়েছিল। তারাই ছাঁটাই করেছে। এখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা সমীচীন হবে না।

পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকের মোট কর্মী ছিল ২১ হাজার ৫৫১ জন। এর মধ্যে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়া হয় ১০ হাজার ৮৩২ জন। কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই শুধু প্রার্থীর জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে আট হাজার ৫৪২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এদের মধ্যে শুধু চট্টগ্রাম জেলার আট হাজার ৯৯ জন। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ছিল পাঁচ হাজার ১৪৮ জন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের পটিয়ার বাড়ি ও আসাদগঞ্জের অফিসে জীবনবৃত্তান্ত জমার বাক্স থাকত। এসব বাক্সে লেখা থাকত পটিয়া জেনারেল, পটিয়া ক্যাশ, পুরুষ জেনারেল-সাতকানিয়া-লোহাগাড়া, পুরুষ ক্যাশ-গণ্ডামারা-বাঁশখালী, সনাতন জেনারেল, মহিলা ক্যাশ, পিয়ন-ডিপ্লোমা, পুরুষ জেনারেল, পুরুষ ক্যাশ ইত্যাদি।
ই

সলামী ব্যাংকের মানবসম্পদ নীতিমালা অনুযায়ী, যে কোনো পদে নিয়োগের জন্য যোগ্য প্রার্থীদের থেকে আবেদন আহ্বান করে অন্তত দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। এরপর যোগ্য প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নিতে হবে। পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫০ শতাংশ মার্কসকে ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

পরিদর্শন প্রতিবেদনে বিজ্ঞপ্তি ছাড়া কোন পদে কতজন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। ব্যাংকটি মোট ২৭টি পদে এসব নিয়োগ দেয়। এর মধ্যে পরীক্ষা ছাড়া সর্বোচ্চ দুই হাজার ৭৮৯ জন ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশ) ও দুই হাজার ১৬০ ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়। এর বাইরে মেসেঞ্জার কাম গার্ড এক হাজার ৫৪৪ জন এবং রুরাল ডেভেলপমেন্ট স্কিম (আরডিএস) প্রকল্পের স্টাফ হিসেবে ৯১৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৫০১ জন ট্রেইনি জুনিয়র অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়।

ওই সময়ে উচ্চপদের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি ছাড়া দুজন এমডি, আটজন ডিএমডি, দুজন এসইভিপি, ব্যাংকটির ট্রেইনিং ইনস্টিটিউটের জন্য একজন প্রিন্সিপাল নিয়োগ হয়। আর পাঁচজন ইভিপির মধ্যে চারজনকে নিয়োগ দেওয়া হয় বিজ্ঞপ্তি ছাড়া।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, ডিএমডি হতে হলে অন্তত ২০ বছরের অভিজ্ঞতা এবং পূর্ববর্তী পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতা লাগবে। এ নিয়ম লঙ্ঘন করে এস আলমের পিএস আকিজ উদ্দিনকে মাত্র আট বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা এবং মিফতাহ উদ্দীনকে ১৭ বছর অভিজ্ঞতায় ডিএমডি নিয়োগ দেওয়া হয়।

ছাঁটাইয়ের বিষয়ে যা আছে
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশদ পরিদর্শন ও চারটি বহির্নিরীক্ষকের বিশেষ নিরীক্ষায় ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট সময়কালের নিয়োগে অনিয়ম চিহ্নিত হয়। ফলে ওই সময়ে নিয়োগ পাওয়াদের যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ। মূল্যায়ন পরীক্ষা বন্ধের জন্য দুই কর্মী ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট হাইকোর্টে একটি রিট করেন।

বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য ওই বছরের ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেন আদালত। ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা নিতে বাধা নেই বলে জানানো হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংক মূল্যায়ন পরীক্ষার আয়োজন করে। প্রাথমিকভাবে সেখানে পাঁচ হাজার ৩৭৩ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে অংশগ্রহণকারী ৪০২ জনের সবাই চাকরিতে বহাল আছেন। চার হাজার ৯৭১ জন কর্মকর্তা পরীক্ষা দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। বিভিন্ন কারণে মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারাদেরও ২৮৭ জনকে পরবর্তী সময়ে আবার যুক্ত করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্ষদের সিদ্ধান্তে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ চার হাজার ৬৮৫ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এদের মধ্যে চার হাজার ৪৪০ জনের বাড়ি চট্টগ্রামে। ১৫৫ জনের বাড়ি কক্সবাজার, ঢাকার ১০ জন এবং বাকি ৬১ জেলার ছিলেন ৮০ জন।

এর বাইরে পাঁচজন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগে ১২১ জন, চুক্তির মেয়াদপূর্তিতে নবায়ন না করায় এক হাজার ১৯০ জন এবং অন্যান্য কারণে ১৩৬ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হুসাইন সমকালকে বলেন, সব ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নিয়োগ পাওয়াদের জন্য গত বছর একটি মূল্যায়ন পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। পরীক্ষায় যারা অংশ নেয়নি, শুরুতে তাদের ওএসডি করা হয়। পরবর্তী সময়ে সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ছাঁটাই করা হয়।

কোন জেলার কত নিয়োগ
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম জেলার সর্বোচ্চ আট হাজার ৯৯ জন নিয়োগ পান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৯৮ জন নিয়োগ দেওয়া হয় কক্সবাজার জেলা থেকে। এর পরের অবস্থানে কুমিল্লার, ১১৪ জন। ময়মনসিংহের ৯৯, বগুড়ার ৯৭ ও ঢাকা জেলা থেকে নিয়োগ পান ৯৬ জন।

এ ছাড়া রাজশাহী থেকে ৮৩, যশোর থেকে ৭৮, গাইবান্ধা থেকে ৭৫, রংপুর থেকে ৬৬ এবং অন্যান্য ৫৪টি জেলা থেকে নিয়োগ দেওয়া হয় বাকি এক হাজার ৬২৭ জনকে। ২০১৭ সালে মাত্র ৩৬৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০১৮ সালে এক হাজার ১১৮ জন এবং ২০১৯ সালে দুই হাজার ৪৬৭ জন নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২০ সালে নিয়োগ দেওয়া হয় দুই হাজার ১১০, পরের বছর ৮৬৫ জন। চরম তারল্য সংকটের সময় ২০২২ সালে দুই হাজার ১১৯ জন, ২০২৩ সালে ৩৯৭ জন এবং ২০২৪ সালে নিয়োগ দেওয়া হয় এক হাজার ৩৯২ জন কর্মী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দল দৈবচয়ন ভিত্তিতে ওই সময়ে নিয়োগ পাওয়া ১০ জন কর্মকর্তার লিখিত বক্তব্য নিয়েছে, যারা বর্তমানে ঢাকায় চাকরিতে আছেন। তারা জানিয়েছেন, এস আলমের নিজ বাড়ি ও আসাদগঞ্জ অফিসের বক্সে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন তারা। সেখানেই তাদের মৌখিক পরীক্ষা এবং যোগদানপত্র দেওয়া হয়। এই ১০ জনের মধ্যে দুজনের মৌখিক পরীক্ষাও নেওয়া হয়নি।

প্রবেশনারি অফিসার নিয়োগেও নিয়ম লঙ্ঘন
কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়া ব্যাংকে সর্বোচ্চ পদ হিসেবে বিবেচিত হয় প্রবেশনারি অফিসার। সব ব্যাংক এই নিয়োগ দেয় যাচাই-বাছাই করে। ইসলামী ব্যাংকে এ ক্ষেত্রেও নিয়ম মানা হয়নি। এস আলমের সময়ে প্রবেশনারি অফিসারের চারটি ব্যাচ নিয়োগ হয়। এর মধ্যে ২০১৯ সালের ২৪তম ব্যাচের ১৯০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয় কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ছাড়া। এর মধ্যে ১২ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও নিয়োগ পেয়ে যান। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় চট্টগ্রাম থেকে। ৮৪০ জনের সিভি পাঠানো হয় প্রধান কার্যালয়ে। এদের মধ্য থেকে ৭৬৩ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মাত্র ৩৬ জন ৫০ শতাংশের বেশি নম্বর পান। পরে শর্ত শিথিল করে ২০ শতাংশ নম্বর পাওয়াদেরসহ ৫৫২ জনকে মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয়। এদের পরে ৩০৪ জনকে উত্তীর্ণ করে লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া ১২ জনসহ ১৯০ জনকে ইসলামী ব্যাংকে এবং বাকি ১২৬ জনকে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে পাঠানো হয়। এদের সবার বাড়ি চট্টগ্রাম জেলায়। এদের মধ্যে ১৮৪ জন যোগদান করেন। এখনও চাকরিতে আছেন ৩১ জন। বাকিদের মধ্যে ২১ জন পদত্যাগ করেছেন, চাকরি হারিয়েছেন ১৩১ জন এবং একজন মারা গেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবেশনারি অফিসারের ২৫তম ব্যাচের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর মাধ্যমে। এই ব্যাচের লিখিত পরীক্ষায় ৫০ শতাংশের বেশি নম্বর পাওয়া ৯০৭ জনকে মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে ৯৮ জনের বাড়ি ছিল চট্টগ্রামে। এই ব্যাচে নিয়োগ পাওয়া ১৫০ জনের মধ্যে ৮৮ জনই চট্টগ্রামের। এই ব্যাচের নিয়োগের সময় মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়।

২০১৭ সালে ১৪৪ জন এবং ২০২৪ সালে ২০০ জন প্রবেশনারি অফিসারের নিয়োগ যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ২০২৪ সালের ২০০ জনের মধ্যে মাত্র ৩৬ জন ছিলেন চট্টগ্রাম জেলার।

 

ফার্মগেটে কৃষিবিদদের বিক্ষোভ মিছিল, নেতৃত্বে রিজভী

০

দেশে পরিকল্পিতভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির প্রতিবাদে রাজধানীর ফার্মগেটে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে আজ মঙ্গলবার সকালে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ১০টার দিকে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি ফার্মগেট পুলিশ বক্সের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে এ্যাবের নেতাকর্মীসহ কয়েক শত কৃষিবিদ অংশ নেন।

মিছিলের পরে আয়োজিত সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। এ্যাবের আহ্বায়ক কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সারের সভাপতিত্বে সমাবেশ পরিচালনা করেন সংগঠনের সদস্যসচিব কৃষিবিদ শাহাদাত হোসেন বিপ্লব।

সমাবেশে রিজভী বলেন, জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নেই। জনগণের সঙ্গে প্রতারণার কারণে দলটি কখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুব ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুল কবিরসহ এ্যাবের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

এ্যাবের নেতারা বলেন, দেশে নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির যে কোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কৃষিবিদ ও কৃষি পেশাজীবীরা ঐক্যবদ্ধ। দেশের কৃষি ও অর্থনীতির স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।

মিছিলে এ্যাবের আহ্বায়ক ড. কামরুজ্জামান কায়সার ও সদস্যসচিব শাহাদাত হোসেন বিপ্লব ছাড়াও নুরুন্নবী ভূঁইয়া শ্যামল, আমিরুল হক টিপু, কেআইএফ সবুর, শাহ এমরান রানা, আমানুল্লাহ আমান, অধ্যাপক জামশেদ, ডা. মান্না, ডা. মিঠু, ডা. ভয়েজার, ডা. তারেক, প্রকৌশলী সারোয়ার মাওলা ও ড. আকিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষিবিদ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের পেশাজীবী কৃষিবিদ নেতারাও মিছিলে অংশ নেন।

আয়োজকেরা জানান, সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অভিযোগ এবং এর প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তাঁদের ভাষ্য, রাজনৈতিক সহিংসতা ও নৈরাজ্য বন্ধ করে দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

রিজভীর বক্তব্যকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে নিন্দা জামায়াতের

০

‘ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বা সমর্থক বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে’- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর এই বক্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দিয়ে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মঙ্গলবার বিবৃতিতে বলেছেন, ট্রেনে অগ্নিসংযোগের দায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ অনৈতিক, দায়িত্বজ্ঞানহীন, দুরভিসন্ধিমূলক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের ঢাকা লকডাউন কর্মসূচির দিনে গত রোববার রাজধানীর কমলাপুরে হাওর এক্সপ্রেসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তবে সামাজিকমাধ্যমে ভুয়া ফটোকার্ডে ছড়ানো হয়, ট্রেনে আগুনের মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তি জামায়াত নেতা। সংবাদমাধ্যমে এ সংক্রান্ত কোনো খবর প্রকাশ করা হয়নি। বেসরকারি টিভি চ্যানেল বাংলাভিশনের লোগো ব্যবহার করে ভুয়া ফটোকার্ড ছড়ানো হয়।

এরপর মঙ্গলবার নয়াপল্টনে কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রিজভী বলেন,  ‘ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বা সমর্থক বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে’। এর জবাবে এহছানুল মাহবুব বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জানতে চেয়েছেন বিভিন্নস্থানে বাসে অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি ও ভাঙচুরের কারা জড়িত। একই নীতিতে ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাটিও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার দাবি জানানো উচিত ছিল। কিন্তু কোনো প্রকার প্রমাণ ছাড়াই জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করার চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে মারধরের ঘটনার জেরে গত সোমবার রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ভাঙচুর চালায় শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াতকে লংমার্চ করছে না বলে প্রশ্ন তোলেন রিজভী। এর জবাবে এহছানুল মাহবুব বলেন, এসব বক্তব্য মূল ঘটনার তদন্ত ও দায়ীদের শনাক্ত করার বিকল্প হতে পারে না। কে বা কারা ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কী এবং তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে- এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জাতির সামনে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

পাহারায় দূর হলো ডাকাত আতঙ্ক, ফিরেছে স্বস্তি

০

এক সময় আতঙ্কের নাম ছিল সারাইগাছী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক। সন্ধ্যা নামলেই সড়কে গাছ ফেলে পথরোধ, কিংবা রামদা ও লোহার রড হাতে ডাকাত দলের হামলার ভয়ে মানুষ চলাচল বন্ধ করে দিতেন। সেখানে এখন রাতেও স্বস্তির পরিবেশ ফিরে এসেছে। গভীর রাতেও স্বাভাবিক ও নিরাপদে যানবাহন চলাচল করছে।
জেলা পুলিশের তথ্যমতে, গত বছর এ সড়কে ১৬টি ডাকাতি ও দস্যুতার মতো বড় অপরাধ ঘটলেও চলতি বছর নেওয়া বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে গত আট মাসে এখানে কোনো ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি।

সড়কটিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন বেশ কিছু বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। এরমধ্যে রয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা; পুরো সড়কে অন্তত ছয়টি স্থায়ী ও অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি; যাত্রীদের সুবিধার জন্য সারাইগাছী মোড়ে পুলিশ বক্স স্থাপন; রাতে দূরপাল্লার ও পণ্যবাহী যানবাহনগুলোকে সারাইগাছী চেকপোস্টে জড়ো করে পুলিশের বিশেষ পাহারায় বা এসকর্ট দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পার করে দেওয়া; অন্ধকার ও ঝুঁকিপূর্ণ মোড়গুলোতে সোলার লাইট স্থাপন। পুলিশের এই উদ্যোগে সবচেয়ে বেশি সুফল পাচ্ছেন যানবাহনের চালক, যাত্রী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

সিএনজি ও পিকআপ চালকরা জানান, কয়েক মাস আগেও রাত ৮টার পর এই পথে যেতে ডাকাত দলের হামলায় সর্বস্ব হারানোর পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। বর্তমানে পুলিশের নিয়মিত টহল ও চেকপোস্টের  কারণে রাত ২টা বা ৩টাতেও নির্ভয়ে যানবাহন চালানো যাচ্ছে।
অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, আগে ডাকাতির ভয়ে সন্ধ্যার পরপরই দোকানপাট বন্ধ করে বাড়ি ফিরতে হতো। এমনকি বেজোড়া বাজারের মতো স্থানে একসঙ্গে একাধিক দোকানে ডাকাতির ঘটনাও ঘটেছিল। বর্তমানে বাজারে পুলিশের সার্বক্ষণিক টহল থাকায় রাত ১০টা পর্যন্ত নিশ্চিন্তে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে।
পোরশা থানার এসআই অমিত কুমার দাস জানান, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সার্বক্ষণিক চেকপোস্ট ও টহল পরিচালনা করা হচ্ছে, যা ডাকাতি প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখছে। নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর পোরশা থানায় জনবল ও প্রয়োজনীয় যানবাহন বাড়ানো হয়েছে। আগের ডাকাতির মামলার আসামিদের ধরতে গঠন করা হয়েছে বিশেষ স্কোয়াড।

তিন কিলোমিটারে ৫ হাজারেরও বেশি গর্ত

০

সাতমাথা থেকে গোহাইল রোডে ঢুকলে বদলে যায় বগুড়া শহরের চেহারা। তিন কিলোমিটার সড়কজুড়ে গর্তের পর গর্ত। কোথাও পিচ উঠে খোয়া বেরিয়ে এসেছে, কোথাও খোয়ার স্তরও নেই। পানিতে ডুবে থাকা এসব গর্তের গভীরতা বোঝার উপায় নেই।

গত সোমবার সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত স্কুটি নিয়ে ঘোরেন এ প্রতিবেদক। এই আড়াই ঘণ্টায়  পাঁচ হাজার গর্ত গোনার পর আর হিসাব রাখা সম্ভব হয়নি। এসব গর্তের কোনোটি এত গভীর যে, মোটরসাইকেল ও স্কুটির বডি ঠেকে যায়। এর মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইক, অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, ট্রাক ও বাস।
বগুড়ার গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের দুর্ভোগ ঘোচাতে চার মাস আগে শুরু হয়েছে ২৬ কোটি ৬০ লাখ ১১ হাজার ৩০০ টাকার কাজ। প্রকল্পে পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি তিন কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন, ফুটপাত ও স্ট্রিট লাইট নির্মাণের কথা। গত ২৭ মে খান্দারে উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করা হয়। চার মাস পেরিয়ে গেলেও মূল কাজের অগ্রগতি নেই। পশ্চিম পাশে ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরুর পরই থেমে আছে। ফলে যে প্রকল্পে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ঘোচার কথা, সেটি এখন ভাঙা সড়ক, পাঁচ হাজারের বেশি গর্ত, জমে থাকা পানি, খোঁড়াখুঁড়ি ও অসমাপ্ত ড্রেনের কারণে নগরবাসীর নতুন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গর্তে গর্তে তিন কিলোমিটার
সাতমাথা থেকে গোহাইল রোডের কৈগাড়ী থেকে ফুলতলা অংশে কার্পেটিং উঠে গেছে। এখানে কোথাও কোথাও ইটের সোলিং করা হয়েছিল। সেই ইট দেবে তৈরি হয়েছে নতুন গর্ত। কোথাও সড়কের মাঝখানেই পিচ উঠে খোয়ার স্তর বেরিয়ে আছে। সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র সিঅ্যান্ডবি গোডাউন থেকে মাহাবুব নগরের সামনের অংশে। এই অংশের কার্পেটিং এমনভাবে উঠে গেছে, এখানে এক সময় পাকা সড়ক ছিল কিনা, তা বোঝাই কঠিন। একটি মোটরসাইকেল গর্তে পড়ার পর চালককে ভারসাম্য হারাতে দেখা যায়। এলাকাবাসী বলছেন, এ অংশে প্রায় রিকশা উল্টে যায়। মোটরসাইকেল ও স্কুটি চালকদেরও গর্তে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে।
সাতমাথা থেকে গোহাইল রোডে রিকশা, ভ্যান কিংবা অটোরিকশা নিয়ে যেতে চান না অনেক চালক। গত সোমবার সকালে ব্যাটারিচালিত রিকশার চালক মনির হোসেন বলেন, গর্তে চাকা পড়লে রিকশা উল্টে যাওয়ার ভয় থাকে। রিকশারও ক্ষতি হয়। অনেক সময় মোটর পুড়ে যায়। তাই অনেক চালক এই রাস্তা এড়িয়ে চলেন।
প্রতিদিন অফিস যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েন আমির হামজা। তাঁর ভাষ্য, কোন গর্ত কতটা গভীর বোঝা যায় না। কিছু গর্তে চাকা পড়লে মোটরসাইকেলের নিচের অংশ মাটিতে ঠেকে যায়। পানি জমলে ঝুঁকি আরও বাড়ে।

 শুরুর পর থমকে আছে ড্রেনের কাজ
এই সড়কের পশ্চিম পাশে ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু করেছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু মাত্র কয়েক মিটারের মতো বক্সড্রেনের কাজ দেখা গেছে। এর পরই কাজ থমকে আছে। এখন সড়কের কোথাও ড্রেনের জন্য মাটি খুঁড়ে রাখা, কোথাও অর্ধনির্মিত কাঠামো পড়ে আছে। ড্রেনের পাশ বালু দিয়ে ভরাট করার কথা থাকলেও বিভিন্ন স্থানে মাটি ও খোয়ার রাবিশ ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
প্রকল্প নথি অনুযায়ী, নেকটার থেকে সাতমাথা পর্যন্ত ৩ দশমিক ০৯২ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নর্মাণের সঙ্গে তিন কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন ও ৩ দশমিক ০৯২ কিলোমিটার স্ট্রিট লাইট নির্মাণের কথা রয়েছে। এর সঙ্গে ফুটপাতসহ আনুষঙ্গিক কাজও সংযুক্ত আছে। কিন্তু ফুলতলা থেকে বন বিভাগের কার্যালয় পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে ড্রেনের কাজে হাত দেওয়া হয়নি।

নথিতে বেহাল, মাঠে আরও ভয়াবহ
গোহাইল রোডের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা প্রকল্পের মূল্যায়নেও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নথিতে বলা হয়েছে, সড়কের বিভিন্ন অংশে গর্ত ও উঁচুনিচু পৃষ্ঠ রয়েছে। বিদ্যমান ড্রেন সরু, ক্ষতিগ্রস্ত ও পলিতে ভরা। কোথাও ড্রেনেজ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। ফলে বর্ষায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে সড়ক ও আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। তবে নথিতে যে কথা বলা হয়েছিল, সরেজমিন আরও ভয়াবহ চিত্র দেখা যায়। পাঁচ হাজার গর্তের হিসাব থামিয়ে দিতে হয়েছে।
বগুড়া সিটি করপোরেশনের একাধিক প্রকৌশলী বলেন, গত পাঁচ বছরে এই সড়কে বড় কোনো কাজ হয়নি। মেরামতের বাজেট থেকে ছোটখাটো সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী রাখার চেষ্টা হয়েছে। এসব কাজ দু-তিন মাসের বেশি স্থায়ী হয়নি।

গোহাইল রোডের এই অংশটি সহনশীল নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্প (আরইউটিডিপি) প্যাকেজের আওতাধীন। সরকারি নথি অনুযায়ী, নেকটার থেকে সাতমাথা পর্যন্ত ৩ দশমিক ০৯২ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত বিসি সড়ক পুনর্নির্মাণ, তিন কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন, ফুটপাত, স্ট্রিট লাইটসহ আনুষঙ্গিক উন্নয়ন হবে। চুক্তিপত্র অনুযায়ী প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য ২৬ কোটি ৬০ লাখ ১১ হাজার ৩০০ টাকা। কাজ শুরুর তারিখ ২৭ মে ২০২৬। ২০২৭ সালের ২৬ নভেম্বর যা শেষ হওয়ার কথা। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে কাজটি বাস্তবায়ন করছে বগুড়া সিটি করপোরেশন। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান শামিম এন্টারপ্রাইজ (প্রা.) লিমিটেড, এসইপিএল-আরএসই (জেভি)। নথিতে থাকা ময়মনসিংহের ইসমাইল রোড, কাচারিঘাটের ঠিকানায় একটি ও ঢাকার একটি ল্যান্ডফোন নম্বরে যোগাযোগ করেও শামিম এন্টারপ্রাইজের কারও সঙ্গে কথা বলা যায়নি। সিটি করপোরেশনের প্রধান সহকারী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তারাও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।

মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজটি করছে বগুড়ার আর এস কনস্ট্রাকশন। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম বলেন, নেকটার থেকে সাতমাথা পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়ক এবং সাতমাথা থেকে করতোয়া নদী পর্যন্ত আরেকটি প্রকল্পের ড্রেনের কাজ তারা করছেন। ইতোমধ্যে তাদের বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়েছে। বিল না পাওয়ায় কাজের গতি কমানো হয়েছে। তিনি বলেন, তিন কোটি ১৭ লাখ টাকার একটি আংশিক বিল সিটি করপোরেশনে জমা দেওয়া হয়েছে। বিলটি পেলে কাজ পুরোদমে শুরু করা হবে।

সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী মুহম্মদ সাইদ আলী বলেন, কাজটি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে হচ্ছে। কাজের শর্তেই বিল প্রাপ্তিসাপেক্ষে দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। এখন এই অজুহাতে কাজ বন্ধ বা ধীরগতির সুযোগ নেই। ঠিকাদারকে সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কাজ শুরু না করলে প্রয়োজনে পুনরায় ঠিকাদার নির্বাচন করা হবে।

বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, মূল ঠিকাদার কাজে আসছেন না। তিনিও ঠিকাদারকে চেনেন না। তাঁর বদলে বগুড়ার প্রতিনিধি কাজ করছেন। তারা সময়মতো কাজ করতে পারছেন না। তাগাদা দিয়েও লাভ হচ্ছে না। এখন এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন।

কুমিল্লায় মাকে কুপিয়ে ভাতিজিকে আছড়ে হত্যা, সারাদেশে ৭ মরদেহ উদ্ধার

০

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় মাকে কুপিয়ে ও ছয় মাস বয়সী ভাতিজিকে আছাড় মেরে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক তরুণের বিরুদ্ধে। পুলিশ বলছে, আত্মহত্যায় বাধা দেওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। প্রতিবেশীরা অভিযুক্ত ইমন মিয়াকে (২৪) আটকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।

বাগেরহাটের রামপালে হামলায় যুবক নিহত ও মানিকগঞ্জে শ্বশুরকে খুনের অভিযোগে জামাতাকে আটক করেছে পুলিশ। খুলনা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, বরগুনার বেতাগী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর, পটুয়াখালীর কলাপাড়া ও শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় সাতটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

​কুমিল্লার দেবিদ্বারে খুন হওয়া দুজন হলেন উপজেলার বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার মোস্তফা মাস্টারের বাড়ির মৃত ফরিদ মিয়ার স্ত্রী পেয়ারা বেগম (৬২) ও ইসরাত জাহান। হামলায় ইমনের ভাবি রাবেয়া বেগম আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ইমন ওই গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে এবং ইশরাত তাঁর ভাই সুজন মিয়ার মেয়ে।

​পু‌লিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ বছর আগে ফুটবল খেলতে গিয়ে ইমনের পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। এর পর থেকে তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না। অনেক চিকিৎসা করিয়েও কোনো লাভ হয়নি। সম্প্রতি পায়ের যন্ত্রণা আরও বেড়ে যায়। দীর্ঘদিনের পঙ্গুত্ব, বেকারত্ব, দা‌রিদ্র্য ও পা‌য়ের তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি ‘আত্মহত্যা’র সিদ্ধান্ত নেন। গত রোববার রাতে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে পেয়ারা বেগম ও রাবেয়া বেগম বাধা দেন।

তারা আরও জানায়, ​আত্মহত্যায় বাধা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে গতকাল সকালে মা ও ভাবিকে গালাগাল শুরু করেন ইমন। একপর্যায়ে ঘরে থাকা ধারালো দা দি‌য়ে মাকে কুপিয়ে জখম করেন। শাশুড়ি‌কে বাঁচা‌তে রা‌বেয়া ছুটে গেলে তাঁর কো‌ল থেকে ভাতিজি ইসরাতকে কেড়ে নিয়ে আছাড় মারেন। পরে ভাবিকে লা‌ঠি দি‌য়ে পি‌টি‌য়ে গুরুতর আহত করেন। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা গিয়ে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পেয়ারা বেগম ও ইসরাতকে মৃত ঘোষণা করেন। রাবেয়াকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার পর ইমনকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন প্রতিবেশীরা।

​দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পায়ের যন্ত্রণায় মানসিক রোগে ভোগা ইমন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। এতে বাধা দেওয়ায় তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিক স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

খুলনায় হোটেলে যুবকের মরদেহ, নারী আটক
খুলনা নগরীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে সোহেল রানা ওরফে বাবু (৩৫) নামের যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল হোটেলটির দ্বিতীয় তলার ১০ নম্বর কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সোহেল রানা লবণচরা থানার হরিণটানা অটোস্ট্যান্ড রোডের লোকমান ফকিরের ছেলে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও হোটেলকর্মীরা জানান, গত শনিবার সন্ধ্যায় দুজন স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই হোটেলে ওঠেন। গত রোববার রাতে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ওড়না পেঁচিয়ে সোহেল রানাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন ওই নারী।

খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন রিপন জানান, অভিযুক্ত নারীর সঙ্গে সোহেলের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। তিনি তাঁকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। রোববার রাতে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ওড়না পেঁচিয়ে ওই নারীই সোহেলকে হত্যা করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিষয়টি স্বীকার করেছেন তিনি।

রামপালে হামলায় যুবক নিহত 
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় হামলায় শেখ আহাদ আহমেদ ইতু (২৪) নামের এক তরুণ নিহত হয়েছেন। এ সময় তাঁর বাবা, মা ও ছোট ভাই আহত হন। গতকাল উপজেলার ইসলামাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ইতু ওই গ্রামের শেখ ফরিদুজ্জামানের ছেলে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদুজ্জামানের পরিবারের সঙ্গে দূরসম্পর্কের চাচাতো ভাই বাকি বিল্লাহ ও মাসুমের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। গত রোববার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন নিয়ে দুই পক্ষের কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। গতকাল সকালে বাড়ির সামনের রাস্তায় পানি নিষ্কাশন নিয়ে আবারও কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারি বেধে যায়। এ সময় দেশি অস্ত্রের আঘাতে ইতু ও তাঁর বাবা শেখ ফরিদুজ্জামান (৬০) জখম হন। তাদের বাঁচাতে গিয়ে ইতুর মা নাজমা বেগম ও ছোট ভাইও জখম হন। প্রতিবেশীরা তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ইতুকে মৃত ঘোষণা করেন।
রামপাল থানার ওসি শেখ রাজিব আল রশীদ বলেন, নিহত ও অভিযুক্তরা সম্পর্কে চাচাতো ভাই। তাদের মধ্যে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ ছিল।

ভাঙ্গায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় তামান্না আক্তার মৌ (২৩) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল চণ্ডীদাসদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তামান্না আক্তার মৌ নগরকান্দা উপজেলার রামেশ্বর এলাকার আতিয়ার রহমানের মেয়ে এবং ভাঙ্গা পৌরসভার চণ্ডীদাসদী এলাকার শাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক।

সুন্দরগঞ্জে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামী গ্রেপ্তার
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পূর্ব শিবরাম গ্রামে দুই সন্তানের জননী সাজেদা বেগমের (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত রোববার রাতে ওই গ্রামে স্বামী আওয়াল খানের বাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সাজেদা পূর্ব শিবরামের পশ্চিম বৈদ্যনাথ গ্রামের সাইব উদ্দিনের মেয়ে। পুলিশ আউয়াল খানকে আটক করেছে।

বেতাগীতে তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার 
বরগুনার বেতাগী উপজেলায় নিজ বসতঘর থেকে সাদিয়া আক্তার (১৭) নামের এক কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত রোববার রাতে ঝোপখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সাদিয়া ওই গ্রামের মৃত পান্নু প্যাদার মেয়ে। তিনি বেতাগী পৌর শহরের ফরাজী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত ছিলেন।

নাসিরনগরে অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে আরজান মিয়া (১৯) নামের এক অটোরিকশাচালকের মুখ ও শরীরে স্কচটেপ মোড়ানো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের এক দিন পর গতকাল সোমবার দুপুরে সরকারি কলেজের গেটের সামনের একটি মার্কেটের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

কলাপাড়ায় ইন্টারনেট লাইনম্যানের মরদেহ উদ্ধার
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বায়েজিদ শেখ (২৫) নামের এক তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার টিয়াখালী ইউনিয়নের সাতানি কান্দার একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বায়েজিদ ইন্টারনেটের লাইনম্যানের কাজ করতেন। তাঁর বাবার নাম কামাল শেখ।

মানিকগঞ্জে শ্বশুরকে খুনের অভিযোগে জামাতা আটক 
মানিকগঞ্জে শ্বশুরকে হত্যার অভিযোগে জামাতাকে আটক করেছে পুলিশ। গত রোববার রাতে সাকরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সিদ্দিকুর রহমান ওই গ্রামের রূপচানের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। অভিযুক্তের নাম রাসেল।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, সিদ্দিকুর রহমান রাতে অটোরিকশা চার্জে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে শব্দ শুনে তিনি ছেলেকে নিয়ে বের হন। তারা অন্ধকারে একজনকে দৌড়ে পালাতে দেখে তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ওই ব্যক্তির লাথিতে সিদ্দিকুর রহমান আহত হলে তাঁকে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে প্রতিবেশীরা ওই ব্যক্তিকে আটক করে পিটুনি দেওয়ার পর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনি সিদ্দিকুরের মেয়ের স্বামী।

শ্রীবরদীতে মাছের খামার থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে নলিয়ারপাড় এলাকার একটি মাছের খামার থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত কালু মিয়া (২০) দক্ষিণপাড়ার মন্টু মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তাঁর সহকর্মী ও বন্ধু বাদশা মিয়াকে আটক করা হয়েছ।
(অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য)

 

সুপেয় পানি সরবরাহ প্রকল্পে দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে বান্দরবান

০

বান্দরবানের উপজেলাগুলোতে বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে কয়েকটি প্রকল্প নেওয়া হয়।
তবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নামমাত্র ও নিম্নমানের কাজ দেখিয়ে প্রকল্পে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছে বলে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গত রোববার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে রাত পর্যন্ত বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাগজপত্র জব্দ করে দুদক। অনিয়মের অভিযোগ যাচাই করতে দুদকের কক্সবাজার কার্যালয়ের এনফোর্সমেন্ট দল কুহালং ইউনিয়নের বাকীছড়া পাড়ায় যায়। সেখানে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়িত কয়েকটি প্রকল্প পরিদর্শন করে কাজের মান ও বাস্তবায়ন পরিস্থিতি সরেজমিন যাচাই করা হয়।

দুদকের কক্সবাজার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও আভিযানিক দলের প্রধান আবদুল আল নোমান জানান, বেশ কয়েকটি অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত যেসব উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং যেসব প্রকল্প চলমান রয়েছে, সেগুলো সরেজমিন তদন্ত করে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
তবে দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযানকালে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ এবং টিউবওয়েল স্থাপনের একই ছবি বারবার ব্যবহারসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। এমনই একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন কক্সবাজার কার্যালয় থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানের অনুমতি চাওয়া হয়েছে কমিশন থেকে।

অভিযান চলাকালে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে এবং প্রাক্কলনবিদ (এস্টিমেটর) মোহাম্মদ জুলহাস নিজ নিজ অফিসকক্ষে উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বান্দরবান সারা বছরই পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় নিরাপদ পানি সরবরাহব্যবস্থা খুবই অপ্রতুল। এই জেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহের আওতা ৬৩ শতাংশ। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে ২০২৬ সালে তা ৭৬ শতাংশে উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। ১৩ শতাংশ বাড়ানোর কথা থাকলেও তা হয়েছে মাত্র ৪ শতাংশ। প্রকল্পের আওতাধীন উপজেলাগুলো বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি।

সম্পূর্ণ সরকারি খরচে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছিল ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। মোট খরচ ধরা হয় ৪৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশনব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলার জনগণের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা।
প্রকল্পের প্রধান কাজ ছিল ১০টি নলকূপ, ৮৫টি পাম্পসহ গভীর নলকূপ, পানি সরবরাহ, ৩০টি বিদ্যুৎ সংযোগসহ পাবলিক টয়লেট, ৮৫টি ইলেকট্রিক সংযোগসহ পাম্প হাউস ও ৮৫টি স্ট্যান্ড পোস্ট স্থাপন। এ ছাড়া ৮৫ কিলোমিটার বিভিন্ন ধরনের পাইপের পানির লাইন স্থাপন ও ১২টি জিএফএস সংস্কার, ১৪০টি রিংওয়েল
এবং রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং কাজও ছিল ওই প্রকল্পের অধীনে।
এ বিষয়ে জানার জন্য বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

‘এক বেলা রাস্তায় নামলে তিন বেলা ব্যথা’

০

‘আউশকান্দির এগুলারে অখন আর রাস্তা মনে হয় না। এক বেলা রাস্তাত গেলে শইল ব্যথা থাকে তিন বেলা। ডেইলি রাইতে ব্যথার বড়ি খাওন লাগে। গাড়ি কী চালাইতায়; হাডনই তো যায় না। আর ভোট আইলে আউশকান্দিত নেতারা পাগল করি দেয়। ভোট গেলেগি কেউ উক্কি মারে না।’

বিগত ২৫ বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় জনপ্রতিনিধিদের ভোট আদায়ের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে নবীগঞ্জ উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো। আউশকান্দি ইউনিয়নের আউশকান্দি-গোরাইরা বাজার এবং রুদ্রগ্রাম-নবীগঞ্জ বেহাল সড়ক নিয়ে এসব কথা বলেন স্থানীয় এক অটোরিকশা চালক।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দুটি ব্যবহার করেন উপজেলার অন্তত ২৫টি গ্রামের লাখো মানুষ। স্থানীয় বাজার থেকে আমুকোনা বেতাপুর ঈদগাহ হয়ে দেবপাড়া ইউপির ফরিদপুর এবং মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গোরাইর বাজার পর্যন্ত সড়কটি বর্তমানে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গ্রাম্যবাজারে পণ্য পরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং সদর অংশের সঙ্গে সড়কপথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দুটি সংস্কারে কারও দৃষ্টি নেই। এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের।
আউশকান্দি-গোরাইরা বাজার সড়কে নবীগঞ্জ ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ২০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এবং শত শত ছাত্রছাত্রী যাতায়াত করেন। পাকা অংশটুকু ভেঙে এখন মেঠোপথে পরিণত হয়েছে।

প্রতিটি স্থানীয় সরকার ও জাতীয় নির্বাচনে এই সড়কের সংস্কার ইস্যু ভোট আদায়ের প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়। বিগত ২৫ বছরে বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থীরা এই সড়ক সংস্কারের আশ্বাস দিয়ে ভোট নিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনেও প্রার্থীরা পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট প্রার্থনা করলেও নির্বাচন পার হয়ে যাওয়ার পর সংস্কার কাজ শুরু না হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে। এদিকে সড়কগুলোতে স্থানীয়দের যাতায়াত চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দক্ষিণ দৌলতপুর গ্রামের মো. কাজল মিয়া জানান, সড়কটি ভোট আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে প্রার্থীরা ব্যবহার করেন। কিন্তু নির্বাচন চলে গেলে আর মনে থাকে না। অটোরিকশা চালক আমজাদ মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, এটা এখন আর চলাচলের উপযুক্ত নয়। এটা এখন আর সড়ক মনে হয় না।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মুকিত জানান, সড়কটি সংস্কারের চেষ্টা চলছে এবং কিছুদিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে। আউশকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান দিলাওয়ার হোসেন বলেন, নতুন টেন্ডার তালিকায় সড়কটির নাম দেওয়ার জন্য এমপি ডিও দিয়েছেন এবং চলতি বছরের মধ্যেই কাজ হবে বলে তিনি আশাবাদী।
নবীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা সাব্বির আহমদ জানান, সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিশেষ প্রকল্পে দেওয়া হয়েছে এবং এমপি মহোদয় এটি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সম্পন্ন করার জন্য তাগিদ দিয়েছেন।

এদিকে নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম সড়কের বেহাল দশায় ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখো মানুষ। এক অটোরিকশা চালক বলেন, এক দিন গাড়ি চালালে তিন দিন যায় গায়ে ব্যথা; প্যারাসিটাল খেতে হয় রাতে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সঙ্গে নবীগঞ্জ শহরের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের ১০ কিলোমিটার অংশজুড়ে চরম পরিস্থিতি। সামান্য বৃষ্টিতেই খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তে পানি জমে মরণফাঁদে পরিণত হওয়া এই সড়কটি দেখলে বোঝার উপায় থাকে না, এটি পাকা রাস্তা, নাকি গ্রামের কোনো মেঠোপথ। এলাকাবাসী মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করলেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার পানিউমদা, গজনাইপুর, দেবপাড়া ও বাউসা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। এই পথ দিয়েই শাহ তাজ উদ্দিন কুরেশী (রহ.) উচ্চ বিদ্যালয়, ধুলচাতল তাজিয়া মোবাশ্বীরিয়া আলিম মাদ্রাসা, দিনারপুর কলেজ, দিনারপুর উচ্চ বিদ্যালয়, দিনারপুর দাখিল মাদ্রাসা, পানিউমদা রাগীব-রাবেয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সরকারি চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা যাতায়াত করেন। একমাত্র বাইপাস সড়ক হওয়ায় ট্রাক, অটোভ্যান, অটোরিকশা ও প্রাইভেটকার এক সময় ব্যাপক চলাচল করলেও বেহাল দশার কারণে এখন যান চলাচল খুবই সীমিত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাড়ে আট কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি সংস্কার করা হলেও অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে তা এক বছরও টেকেনি। সংস্কারের এক মাস পর থেকেই রাস্তা ভাঙতে শুরু করেছিল। বর্তমানে নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম ১০ কিলোমিটার সড়কের আইনগাঁও, ভরপুর, চৌধুরী বাজার, বাউসা বাজার, বাউসা পয়েন্ট, বাউসা মাদ্রাসা পয়েন্ট, নাদামপুর মাদ্রাসা পয়েন্ট, রিফাতপুর ও শিবপাশা এলাকার কোথাও পাকা সড়কের লেশমাত্র নেই।

এসব স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হওয়া বড় বড় গর্তে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি ও কাদামাটি জমে থাকে। যার ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
বাঁশডর গ্রামের সিএনজি চালক মহসিন আলী জানান, নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম সড়কের বেহাল অবস্থা। একদিন গাড়ি চালালে তিন দিন যায় গায়ে ব্যথা, রাতে প্যারাসিটামল খেতে হয় গায়ের ব্যথার জন্য। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হলে জনসাধারণ অনেক উপকৃত হবে।
দিনারপুর কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক তনুজ রায় জানান, বিভিন্ন কাজে উপজেলা সদরে যেতে হয় নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম সড়ক হয়ে। বৃষ্টিতে সড়কের বড় বড় গর্তে পানি জমে যাওয়ায় মানুষের খুবই কষ্ট হয়। নিম্নমানের কাজ হওয়ায় সড়ক সংস্কারের এক মাস পর থেকে ভাঙতে শুরু করে। এখন একেকটা ভাঙন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
লাল সবুজ যুব সংঘের সভাপতি হুমায়ুন কবির আজিম বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য মানববন্ধন করে ইউএনওকে জানালেও সম্পূর্ণ সড়ক সংস্কার হয়নি। ফলে তাদের এলাকার ছাত্র-জনতা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের প্রকৌশলী সাব্বির আহমদ জানান, নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম সড়ক সংস্কারে ইতোমধ্যে হবিগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে ঢাকায় প্রাক্কলন অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।

অপ্রতিম হত্যা ভিন্ন কারণও দেখছে পরিবার, তদন্তের দাবি

০

কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নিতে তাকে পাহাড়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার কথা বলেছে পুলিশ। তবে ঘটনার পেছনে অন্য কারণও দেখছেন তার মা নাহিদা বেগম। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী প্রক্টর থাকাকালে কিশোর গ্যাংয়ের এক সদস্যকে পুলিশে দিয়েছিলেন। এ ছাড়া তাঁর স্বামীর প্রতিষ্ঠানে হত্যার ১০ দিন আগে এক কিশোর চাকরি নিয়েছিল। দুই ঘটনাকে তিনি সন্দেহ করছেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে গতকাল সোমবার সকালে মানববন্ধন করে শিক্ষক সমিতি। কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য দেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কামরুন নাহার। কর্মসূচিতে অপ্রতিমের মা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম থাকতে না পারায় তাঁর পক্ষে বক্তব্য দেন তিনি।

অপ্রতিমের মায়ের বরাত দিয়ে কামরুন নাহার বলেন, অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সালমানপুর এলাকার ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর ঘটনার প্রায় ১০ দিন আগে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে চাকরি নিয়েছিল। এ ছাড়া সহকারী প্রক্টর থাকাকালে ড. নাহিদা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনায় সহায়তা দিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি কিশোর গ্যাংয়ের কয়েকজন সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। তাদের মধ্যে দুজন অপ্রতিম হত্যা মামলার আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিনের গ্যাংয়ের সদস্য ছিল। এই দুই ঘটনার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র আছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

কামরুন নাহার আরও বলেন, হত্যা মামলায় যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং যাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে দাবি করা হচ্ছে, তারা আদৌ অপ্রাপ্তবয়স্ক কিনা, তা ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে হলেও অপরাধীদের যেন উপযুক্ত সাজা নিশ্চিত করা হয়।
সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোক র‍্যালি ও মানববন্ধনের আয়োজন করে শিক্ষক সমিতি। র‍্যালিটি শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বর থেকে শুরু হয়ে প্রশাসনিক ভবন ও মূল ফটক প্রদক্ষিণ করে ফের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে এসে শেষ হয়।

র‍্যালিতে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার, প্রক্টর ড. মো. আবদুল হাকিম, শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক ড. শামীমা নাসরিনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

পুলিশের তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, অপ্রতিম হত্যায় সরাসরি জড়িত তুহিন (১৯), ১৫ ও ১৬ বছরের দুই কিশোর এবং জড়িত সন্দেহে মো. সিয়ামকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিয়াম বাদে অন্য তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে গ্রেপ্তার আসামিরা আইনফোনের জন্য এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করলেও মাদক, অর্থ ও কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও তদন্তে আনা হচ্ছে। যাচাই করা হচ্ছে আসামিদের মোবাইল কল লিস্ট। আসামিদের কারা আশ্রয় দিয়েছে, হত্যার পর কারও কোনো সহায়তা ছিল কিনা, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোটবাড়ী সালমানপুর এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, অপ্রতিম বয়সে ছোট হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার সন্তান হওয়ায় এলাকার একদল কিশোরের সঙ্গে সখ্য ছিল। এক কিশোরকে ধার দেওয়া টাকার জন্যও চাপ দিচ্ছিল অপ্রতিম। এ জন্য ঘাতকরা তার ওপর হয়তো ক্ষুব্ধ ছিল। বেশ কিছু ছবিতে ঘাতকদের সঙ্গে অপ্রতিমের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে। ওরা প্রায়ই মোটরসাইকেল নিয়ে কুবি এলাকায় ঘুরত। অনেকেই ধারণা করছেন এমন অসম বন্ধুত্ব তাকে মৃত্যুর মুখে ঢেলে দিয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলেন, হত্যার পরও আসামিরা সামাজিক মাধ্যমে সরব ছিল। তারা বাসায় গিয়ে পরিবারকে সান্ত্বনা দেয়। তুহিনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পরও তার মোবাইলে এক কিশোরের বারবার কল আসছিল। মরদেহ উদ্ধারের সময়ও এক কিশোর লাইভে ছিল।

রোববার দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানান। শুক্রবার কুবি-সংলগ্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ হন অপ্রতিম। পরদিন কুবির অদূরে একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম সমকালকে বলেন, তিন আসামিকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ ও তিন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আইফোনের জন্য অপ্রতিমকে হত্যার কথা বললেও এর নেপথ্যে অর্থ কিংবা কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্টতা ছিল কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘অপ্রতিমের বাবা-মায়ের মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক হলে এ বিষয়ে আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলব।’

বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি 
২০০৬ সালের ২৮ মে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। এর পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশের এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি উঠলেও ২০ বছরেও সেখানে ফাঁড়ি স্থাপন হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র বলছে, দীর্ঘ ২০ বছরে এলাকায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। কিন্তু নিরাপত্তার অভাবে লালমাই-ময়নামতি পাহাড় এলাকায় খুন, ধর্ষণ, চুরি ছিনতাই, যৌন হয়রানিসহ নানা অপরাধজনক কর্মকাণ্ড ঘটছে। গত ৩০ আগস্ট লালমাই পাহাড়ের সাধেরমুড়া এলাকায় এক কিশোরীকে পাঁচ বন্ধু দলবদ্ধ ধর্ষণ করে। সর্বশেষ গত শুক্রবার স্কুলছাত্র অপ্রতিম হত্যার পর সেখানকার নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক সোহেল বলেন, ‘কুমিল্লায় একের পর এক অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় আমরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং পুরো ক্যাম্পাসকে অবিলম্বে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনতে হবে।’

গ্রেপ্তার দুই কিশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে
অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চারজন‌ের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) পাঠানো হয়েছে। গতকাল বি‌কেল ৪টায় গ্রেপ্তার দুই কিশোরকে টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আনা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিশু উন্নয়ন কে‌ন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক মো. এমরান খান।

এমরান খান সমকালকে জানান, কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দুই কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আনা হয়। যে শিশু হত্যার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, সেই ঘটনার জন্য তাদের মধ্যে অনুশোচনার কোনো প্রকাশ দেখা যায়নি। প্রিজনভ্যান থেকে নামানোর পর তারা বেশ স্বাভাবিক ছিল। স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাদের নির্ধারিত কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে খাবার দেওয়া হলে তারা স্বাভাবিকভাবেই খাবার খায়।

শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি 
অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক। কোয়ালিশন মনে করে, একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুকে জীবিত ও নিরাপদে উদ্ধারের জন্য দ্রুত অনুসন্ধান, তথ্য সংগ্রহ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

ইউক্রেনে হামলা জোরদার করার হুমকি রাশিয়ার

০

রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ও এর আশপাশের অঞ্চলগুলোতে সম্প্রতি ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। জবাবে হামলা আরও জোরদার করার হুমকি দিয়েছে রাশিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, রাশিয়ার বেসামরিক স্থাপনায় কিয়েভ হামলা চালিয়েছে। জবাবে রুশ সেনাবাহিনী কিয়েভে সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে উচ্চ নির্ভুলতার হামলা চালানো অব্যাহত রাখবে।

রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দল ইউনাইটেড রাশিয়া বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।

দেশটির অভিযোগ, নির্বাচনের ভোট গ্রহণের শেষ দিন মস্কোতে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। হামলার লক্ষ্য ছিল নির্বাচন ব্যাহত করা। এতে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর মস্কোর ওপর এটিই সবচেয়ে বড় হামলা বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিনের দাবি, হামলায় প্রায় ১ হাজার ৬০০টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে ৪৫০টি সরাসরি মস্কোকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল।

হামলার পরের বিভিন্ন ছবিতে মস্কোর উপকণ্ঠের একটি বহুতল আবাসিক ভবনে বড় ধরনের গর্ত দেখা গেছে। অন্য একটি ছবিতে একটি তেল শোধনাগার বলে ধারণা করা স্থাপনা থেকে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার প্রশংসা করে বলেন, ‘‘গত রাতে মস্কো অঞ্চলে আমাদের দূরপাল্লার হামলার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। মস্কোতে হামলার জন্য ইউক্রেনে তৈরি ‘ফ্লামিঙ্গো’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করা হয়েছে। এর আগে রাশিয়ার ভেতরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে এই দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল।’’

এদিকে ইউরোপের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, রাশিয়া ন্যাটোকে পরীক্ষা করে দেখার জন্য শিগগিরই কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে। সাংবাদিক শন ওয়াকার লিখেছেন, এক ইউরোপীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা বছরের মধ্যে নয়, কয়েক মাসের মধ্যে হতে পারে।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও পার্লামেন্টে বলেছেন, গোয়েন্দা মূল্যায়নে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রাশিয়া ন্যাটোভুক্ত কোনো ভূখণ্ডে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে রাশিয়া প্রমাণ করতে চাইতে পারে, ন্যাটোর বহুল আলোচিত ‘অনুচ্ছেদ ৫’ বাস্তবে যতটা কার্যকর বলে ধারণা করা হয়, তা আসলে ততটা নয়।

কিয়েভের আশপাশের অঞ্চলে চারজন নিহত
রাশিয়ার রাতভর হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আশপাশের অঞ্চলে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে বলে রোববার জানিয়েছে কিয়েভের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ। সারাদিন কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রুশ ড্রোন হামলা অব্যাহত ছিল। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে। একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে রুশ ড্রোন হামলায় এক নারী ও তাঁর তিন বছর বয়সী দুই সন্তান নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জরুরি সেবা বিভাগ। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।