Home Blog Page 253

শেখ হাসিনার মামলার রায় ১৭ নভেম্বর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রায় ঘোষণা শেখ হাসিনার রায় ঘোষণা ১৭ নভেম্বর।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলাটি বর্তমানে রায়ের অপেক্ষার তালিকায় ১ নম্বরে ছিল । রায়ের দিন নির্ধারণ ঘিরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

 

‘নতুন কুঁড়ি’ জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে: প্রধান উপদেষ্টা

‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে শাপলা হলে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি-২০২৫’ এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে আনন্দঘন পরিবেশে শিশুদের সৃজনশীল বিকাশে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, ‘শিশুরা শুধু নাচ-গানে সীমাবদ্ধ থাকবে কেন?’—এই প্রশ্ন রেখে ড. ইউনূস শিশুদের রচনা, প্রযুক্তি, খেলাধুলা ও উদ্যোক্তা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে এসব উদ্যোগে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

দীর্ঘদিন পর আবারও ‘নতুন কুঁড়ি’ আয়োজন করায় মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নতুন কুঁড়ির মতো অন্যান্য ক্ষেত্রেও মন্ত্রণালয়কে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানের আগে প্রতিযোগিতার দুটি বিভাগের দুই বিজয়ীর হাতে ৩ লাখ টাকার চেক ও ট্রফি তুলে দেন প্রধান উপদেষ্টা এবং সব অংশগ্রহণকারীকে অভিনন্দন জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলমসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিবরা।

এর আগে নতুন কুঁড়ি-২০২৫ আসরের সবগুলো পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো প্রতিযোগীর অংশগ্রহণে শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতায় নাচ, গান, আবৃত্তি, কৌতুক, গল্প বলা, অভিনয়সহ ১২টি বিষয়ে প্রতিভাবান শিশু-কিশোররা অংশ নেয়।

আঞ্চলিক বাছাই, বিভাগীয় বাছাই, চূড়ান্ত বাছাই, সেরা দশ এবং ফাইনাল রাউন্ড শেষে বিজয়ীদের সম্মাননা জানাতেই অনুষ্ঠিত হলো পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান।

প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চৈতী

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোনো বাঁধা নয় এ সত্যের জীবন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের কিশোরী চৈতী রানী দেব। সমস্ত প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছে ১৩ বছরের এই দৌড়বিদ। আগামী ৭ থেকে ১৪ ডিসেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান ইয়ুথ প্যারা গেমস ২০২৫-এ অংশ নেবে চৈতী।

উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের সাধারণ কৃষক সত্য দেব ও গৃহিণী পূর্ণিমা রানী দেবের চার মেয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট চৈতী। জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায় তাকে এগিয়ে যেতে সাহস যুগিয়েছে। বর্তমানে সে উপজেলার ভুনবীর দশরথ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। উচ্চতা মাত্র ৩ ফুট ৭ ইঞ্চি, কিন্তু স্বপ্নের উচ্চতা অনেক বড়।

বাংলাদেশ জাতীয় প্যারালিম্পিক কমিটি (এনপিসি বাংলাদেশ)-এর ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এ প্রতিযোগিতায় ১০০ মিটার স্প্রিন্ট ইভেন্টে লড়বে চৈতী। সে পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চের জন্য প্রস্তুত করছে।

শ্রীমঙ্গলের স্পোর্টস ফর হোপ অ্যান্ড ইন্ডিপেনডেন্স (এসএইচআই) এর প্রশিক্ষক দেব প্রসাদ শীল দৈনিক বাংলাকে বলেন, দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির ফল এটি। জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করে চৈতী আন্তর্জাতিক সুযোগ পেয়েছে। সামনে সে ঢাকায় ক্যাম্পে অনুশীলন করবে। রাষ্ট্র ও সমাজ পাশে দাঁড়ালে চৈতী আরও বড় অর্জন এনে দিতে পারবে।

এসএইচআই প্রতিষ্ঠাতা শারমিন ফারহানা চৌধুরী দৈনিক বাংলাকে বলেন, শুরুতে চৈতী ও তার পরিবার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। পরবর্তীতে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ ও উৎসাহে আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছে সে। এটি শুধু চৈতীর অর্জন নয়, এই অঞ্চলের মেয়েদের জন্য এটি বড় অনুপ্রেরণা।

তিনি আরও বলেন, চৈতী জিতুক বা না জিতুক এই অংশগ্রহণই তার জীবনের বড় সাফল্য। সে প্রমাণ করে দেবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে তারাও দেশকে গর্বিত করতে পারে।

নিজের অনুভূতি জানিয়ে চৈতী দৈনিক বাংলাকে বলেন, এশিয়ার ৪৫টি দেশের দেড় হাজারের মতো ক্রীড়াবিদ অংশ নেবেন এই প্রতিযোগিতায়। সেখানে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারায় আমি গর্বিত। আমি দেশকে সবার সামনে মর্যাদার সঙ্গে তুলে ধরতে চাই।

তুরস্ক ফুটবলে জুয়া কেলেঙ্কারি: গ্রেপ্তার ৮, নিষিদ্ধ ১,০২৪ ফুটবলার

তুরস্কের ফুটবল অঙ্গনে নেমে এসেছে নজিরবিহীন জুয়ার কেলেঙ্কারির ঝড়। গত সোমবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে আটজনকে, তাদের মধ্যে রয়েছেন শীর্ষ লিগ ক্লাব এইউপস্পোরের চেয়ারম্যান মুরাত ওজকায়া।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশে এইউপস্পোর চেয়ারম্যানসহ আটজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পর তুরস্ক ফুটবল ফেডারেশন (টিএফএফ) কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে- দেশের সব স্তরের লিগ থেকে ১,০২৪ ফুটবলারকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

টিএফএফ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘১,০২৪ খেলোয়াড়কে তদন্তাধীন হিসেবে শৃঙ্খলা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। ক্লাবগুলোর স্কোয়াড পূরণের সুবিধার জন্য আমরা ফিফার সঙ্গে আলোচনা করছি, যাতে ২০২৫-২৬ মৌসুমের শীতকালীন দলবদলের সঙ্গে অতিরিক্ত ১৫ দিনের সময় বাড়ানো যায়।’

এই তালিকায় সুপার লিগের ২৭ জন খেলোয়াড় রয়েছেন, যাদের মধ্যে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন গালাতাসারাই এবং ঐতিহ্যবাহী বেসিকতাস ক্লাবের খেলোয়াড়ও আছেন।

ঘটনার পর টিএফএফ দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের লিগের ম্যাচ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছে। ফেডারেশনের বোর্ড গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জরুরি বৈঠকে বসবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।

ফেডারেশন সভাপতি ইব্রাহিম হাজি ওসমানোউগ্লু এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এটি তুর্কি ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নৈতিক সংকট। এর শেকড় উপড়ে ফেলতে হবে।’

ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে- ৫৭১ জন সক্রিয় রেফারির মধ্যে ৩৭১ জনেরই অনলাইন বেটিং অ্যাকাউন্ট রয়েছে এবং তাদের মধ্যে ১৫২ জন নিয়মিতভাবে জুয়া খেলতেন।

একজন রেফারি একাই ১৮,২২৭-বার বাজি ধরেছেন, আর ৪২ জন রেফারি এক হাজারেরও বেশি ম্যাচে জুয়া খেলেছেন বলে তদন্তে জানা গেছে।

রমজান উপলক্ষে ১০ পণ্যের এলসিতে নগদ মার্জিন সর্বনিম্ন রাখার নির্দেশ

পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১০টি পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলার সময় নগদ মার্জিন ন্যূনতম রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংকার–গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে চাল, গম, পেঁয়াজ, ডাল, ভোজ্য তেল, চিনি, ছোলা, মটর, মসলা ও খেজুর—এই ১০টি পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নগদ মার্জিন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখতে হবে। এ নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে এবং ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বহাল থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, রমজান মাসে এসব পণ্যের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তাই আমদানি সহজীকরণের মাধ্যমে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখা ও মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে রমজান মৌসুমে কিছু ভোগ্যপণ্যের আমদানিতে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিন সংরক্ষণের নির্দেশনা ছিল। পরে আমদানি পরিস্থিতি ও বাজারের চাহিদা বিবেচনায় ব্যাংকার–গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সেই হার ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়, যা সর্বশেষ গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত বলবৎ ছিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ বাজারে এসব পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে সংশ্লিষ্ট আমদানি ঋণপত্র স্থাপনে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ব্যাংক কম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

নবীন-প্রবীণে অনন্য উজ্জীবিত তৃণমূল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে এবার প্রার্থী মনোনয়নে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। প্রার্থী তালিকায় নবীন ও প্রবীণের সমন্বয় যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসকে সমানভাবে গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে এবারের প্রার্থী মনোনয়ন দলটির বর্তমান নেতৃত্বকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও উজ্জীবিত হয়ে উঠছেন। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশনা এবং বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে পরিচালিত এই মনোনয়ন দলের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কারের ইঙ্গিতও বহন করছে।
দলের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়াটি এবার কয়েকটি সুসংগঠিত স্তরে পরিচালিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হয়েছে পাঁচ স্তরের সতর্ক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এই প্রক্রিয়ায় প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, সামাজিক অবস্থান, নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের কাছে তার জনপ্রিয়তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে তার সক্রিয় অংশগ্রহণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকরা প্রত্যেক প্রার্থীর বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংগ্রহ করে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জাতীয় স্থায়ী কমিটির সামনে উপস্থাপন করেছেন। প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য দলের পক্ষ থেকে পাঁচটি ভিন্ন ধরনের জরিপ চালানো হয়েছে। এই জরিপগুলো আন্তর্জাতিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়েছে এবং প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে ভোটারদের কাছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা হয়েছে।
জরিপের তথ্য জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা হয়, যেখানে প্রতিটি প্রার্থীর পক্ষে-বিপক্ষে জনমত অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে।
জরিপের পাশাপাশি তারেক রহমান সরাসরি মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা, নির্বাচনী এলাকার ভৌগোলিক ও সামাজিক পরিস্থিতি, ভোটারদের কাছে তার জনপ্রিয়তা, রাজনৈতিক অঙ্গনে তার ভূমিকা এবং দলের প্রতি তার ত্যাগের মূল্যায়ন করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য ছিল প্রার্থী বাছাইকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, বিজ্ঞানভিত্তিক এবং দলের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা।
এদিকে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রার্থী তালিকায় নবীন ও প্রবীণ নেতাদের সমন্বয় প্রমাণ করে যে, দল কেবল রাজনৈতিক দাপট বা প্রভাব নয়, বরং যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসকেও সমানভাবে গুরুত্ব দিয়েছে। তারা বলছেন, তিন-চারটি আসন ছাড়া বাকি তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ তেমন নেই বললেই চলে, যা দলের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নির্দেশ করে।
নেতাকর্মীরাও বেশ উজ্জীবিত হয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মাঠে প্রচারণা শুরু করেছেন। প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা নির্বাচনী এলাকায় শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন এবং নিজেদের পক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দু-তিনটি ব্যতিক্রম ছাড়া প্রার্থী ঘোষণার পর বড় কোনো বিতর্ক বা অসন্তোষ দেখা যায়নি, যা তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি দলের আস্থার প্রতিফলন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা।
এবার ৫ স্তরের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত করা হয়েছে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩৭ সম্ভাব্য প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা। এই মনোনয়ন চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে তারেক রহমান ছিলেন অত্যন্ত কঠোর ভূমিকায়। ঘোষিত প্রার্থী তালিকা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে যে, এবারের মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে দলীয় নিয়ম, প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা, নির্বাচনী এলাকায় তার গ্রহণযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে তার আত্মত্যাগমূলক অবদানের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে। অতীতে দলের অভ্যন্তরে বিভিন্ন মহলের তদবির বা পারিবারিক প্রভাবের যে অভিযোগ উঠত, তারেক রহমানের কঠোর অবস্থানের কারণে এবার তার কোনো অবকাশ রাখা হয়নি।
ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী ৬৩টি আসন এখনও ফাঁকা রাখা হয়েছে। এসব ফাঁকা আসন কৌশলগত কারণে এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মিত্র দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা এবং সামগ্রিক নির্বাচনী কৌশল অনুযায়ী পরবর্তীতে এসব আসনের প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। এই ফাঁকা আসনগুলো ভবিষ্যৎ দর কষাকষির জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে।
ঢাকা সিটি করপোরেশনের ১৫টি আসনের মধ্যে নয়টিতে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। অবশিষ্ট ছয়টি আসনের মধ্যে ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৭ উল্লেখযোগ্য। এই আসনগুলোতে এনডিএম (জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন), জাতীয় পার্টি, এলডিপি (লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি), গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য এবং গণঅধিকার পরিষদ প্রার্থী দিতে পারে বলেও জানা যায়।
আসন নিয়ে আলোচনা চলছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সঙ্গেও। দলটি অন্তত ২০টি আসনে বিএনপির সঙ্গে জোট বা সমঝোতা করতে আগ্রহী বলে রাজনৈতিক মহলে খবর পাওয়া গেছে। দলটি অনানুষ্ঠানিকভাবে এমনই আলোচনা চালাচ্ছে, পাশাপাশি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়েও আগ্রহী। জানা গেছে, এনসিপির নেতারা চাইছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে মন্ত্রিসভায় তাদের অন্তত তিনজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
এনসিপির সঙ্গে চলমান এই আলোচনাগুলো এখনো আনুষ্ঠানিক নয়। কার সঙ্গে জোট হবে বা কোন আসনে সমঝোতা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এখন পর্যন্ত অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে আলোচনা অনুযায়ী, ঢাকার চারটি আসনসহ মোট অন্তত ২০টি আসনে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা চায় এনসিপি। এই আসনগুলোর মধ্যে অনেক স্থানে বিএনপি ইতোমধ্যেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে, তবে প্রাথমিক সমঝোতার ভিত্তিতে প্রার্থী প্রত্যাহারের সম্ভাবনাও রয়েছে, যা চূড়ান্ত জোটের রূপরেখা নির্ধারণ করবে। বিএনপি সূত্র জানায়, আসন ভাগাভাগি ছাড়াও তারা চাইছে, এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো নির্বাচনী সমঝোতায় না যায়, যা জোটের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন নির্দেশ করে। যদিও এনসিপি ২০টি আসনের দাবি তুলেছে, বিএনপি এখন পর্যন্ত তাদের জন্য ৮টি আসন ছাড়ার কথা বলছে।
শরিকদের মধ্যে প্রার্থীর নাম ঘোষণা না করা হলেও ঢাকা-১৩ আসনে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ ইতোমধ্যেই বিএনপির ‘গ্রিন সিগনাল’ নিয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন, যা একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতার ইঙ্গিত। অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে জোনায়েদ সাকির গণসংহতি আন্দোলনের হয়ে প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে। বগুড়া-২, পিরোজপুর-১, লক্ষ্মীপুর-১, কিশোরগঞ্জ-৫ ও ঝালকাঠি-১ আসনেও মিত্র দলের প্রার্থীদের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষ সুবিধা নিয়ে আবার স্টকে এলো অপো এ৬ প্রো!

বৈশ্বিক স্মার্ট ডিভাইস ব্র্যান্ড অপো-এর নতুন ফোন অপো এ৬ প্রো এখন আবার বাজারে পাওয়া যাচ্ছে; ডিভাইসটি প্রথম পর্যায়ে ক্রেতাদের বিপুল সাড়া পেয়েছে। ডিভাইসটির প্রথম ব্যাচ খুব অল্প সময়ের মধ্যে পুরো বিক্রি হয়ে যায়, যা বাংলাদেশে অপোর সাম্প্রতিক ইতিহাসে দ্রুততম প্রি-অর্ডার সেলআউটগুলোর মধ্যে অন্যতম।
অপো এ৬ প্রোর বিপুল চাহিদা ও আবারো বাজারে সহজলভ্যতা উদযাপন করতে বিশেষ অফার নিয়ে আসা হয়েছে। ক্রেতারা এখন তাদের প্রিয় ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ চরিত্রের নাম কমেন্ট করে একটি বিশেষ ব্যাকপ্যাক জেতার সুযোগ পাচ্ছেন।
এই সেগমেন্টে বেশকিছু শীর্ষস্থানীয় উদ্ভাবন নিয়ে এসেছে অপো এ৬ প্রো। এর আইপি৬৯ রেটিং সহ আন্ডারওয়াটার ভিডিওগ্রাফি সক্ষমতা ব্যবহারকারীদেরকে বৃষ্টি, পানি বা আউটডোর অ্যাডভেঞ্চারে নিখুঁত ও প্রাণবন্ত ভিডিও রেকর্ড করার সুযোগ দেয়। এরকম সুরক্ষা এই সেগমেন্টের ফোনে খুব কমই দেখা যায়, যা এ৬ প্রোকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও এক্সপ্লোরারদের জন্য সত্যিকারের যথার্থ ডিভাইস করে তুলেছে।
ডিভাইসটিতে সুবিশাল ৭০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে; সারাদিন স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরশীল এমন ব্যবহারকারীদের জন্য অসাধারণ সহনশীলতা প্রদান করে এটি। এর ৮০ ওয়াট সুপারভুক ফাস্ট চার্জিংয়ের মাধ্যমে ডিভাইসটি কম সময়ে চার্জ হয়, যা ব্যবহারকারীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করে। পাশাপাশি, এর রিভার্স চার্জিং প্রযুক্তি এ৬ প্রোকে একটি পোর্টেবল পাওয়ার সোর্সে পরিণত করে, যা ব্যবহারকারীদের অন্যান্য ডিভাইস চার্জ করতে সক্ষম করে তোলে।
দীর্ঘ ব্যবহারের সময় সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে, অপো এতে এর সুপারকুল ভিসি সিস্টেম ব্যবহার করেছে। এই সর্বাধুনিক ভ্যাপর চেম্বার কুলিং গেমিং, ভিডিও রেকর্ডিং বা মাল্টিটাস্কিং করার সময় দক্ষতার সাথে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। এটি ফোনটিকে ঠাণ্ডা ও রেসপনসিভ রাখে, যা ভারি ব্যবহারের সময়ও ব্যবহারকারীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে।
সীমিত সময়ের জন্য অপো এ৬ প্রো’র (৮ জিবি + ২৫৬ জিবি) মূল্য এখন মাত্র ৩৪,৯৯০ টাকা। অপো ব্র্যান্ড শপ, পার্টনার রিটেইল আউটলেট থেকে ক্রেতারা ডিভাইসটি কিনতে পারবেন। আরও বিস্তারিত জানতে ফেসবুক পেজ

‘শাপলা কলি’ পাওয়ায় দেবিদ্বারে আনন্দ শোভাযাত্রায় এনসিপি

নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন লাভ ও নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা কলি’ পাওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর নিজ এলাকা কুমিল্লার দেবিদ্বারে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা ক‌রে‌ছে দল‌টির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।

শনিবার দুপুরে দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ এলাকা থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে কু‌মিল্লা-‌সি‌লেট মহাসড়কের প্রায় আট কি‌লো‌মিটার এলাকা প্রদ‌ক্ষিণ ক‌রে দেবিদ্বার হাইস্কুল মাঠে এসে শেষ হয়। এতে মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস ও পিকআপসহ নানা বাহ‌নে ক‌রে শত শত নেতা-কর্মী বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে ও ঐতিহ্যবাহী সাজে সজ্জিত হয়ে অংশ নেন। মিছিলে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের পাশাপাশি দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর ছবি সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন শোভা পায়।

এ সময় ‘এনসিপির মার্কা শাপলা কলি,’ ‘দিল্লি না ঢাকা-ঢাকা ঢাকা, ইনকিলাব জিন্দাবাদ,’ ‘গ্রাম-শহর অলিগলি, জিতবে এবার শাপলা কলি’ শ্লোগা‌নে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।

এনসিপির দেবিদ্বার উপজেলা প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন লাভ আমাদের দলের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন। এটি প্রমাণ করে, জাতীয় নাগরিক পার্টি জনগণের স্বার্থে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়েই আগামী নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ হবে পরিবর্তনের প্রতীক।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির নেতা মো. শামীম কাউসার, জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক নাজমুল হাসান নাহিদ, কাজী নাছির উদ্দীন, আরিফুল ইসলাম, ফয়সাল হোসেন, এমরান হোসেন, ফয়সাল মির্জা, জামাল হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্র সংসদের নেতা রাকিবুল হাসান হৃদয়, সাজেদুল রাফসান, শাহাদাত হোসেন শ্যামল ও মো. হাসানসহ আরও অনেকে।

সুদানে গণহত্যার তথ্য লুকাতে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলছে আরএসএফ

সুদানে ‘গণহত্যা’র তথ্য লুকাতে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলছে দেশটির আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)। দেশটির একটি চিকিৎসা সংস্থা দারফুরে গণহত্যার প্রমাণ গোপন করার জন্য মৃতদেহ পুড়িয়ে বা গণকবরে পুঁতে ফেলার ‘মরিয়া প্রচেষ্টা’করছে বলে আরএসএফের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। খবর আল জাজিরার।

সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, গত ২৬ অক্টোবর রক্তাক্ত হামলার পর শহর দখলের পর আধাসামরিক বাহিনী সুদানের পশ্চিম দারফুর অঞ্চলের এল-ফাশেরের রাস্তা থেকে ‘শত শত মৃতদেহ’ তুলে নিয়ে গেছে। সংস্থাটি বলছে, সশস্ত্র এই গোষ্ঠীর অপরাধ গোপন বা পুড়িয়ে মুছে ফেলা যাবে না।

এল-ফাশেরে যা ঘটেছে তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং আরএসএফের একটি পূর্ণাঙ্গ গণহত্যার আরেকটি অধ্যায়। মৃতদেহ বিকৃত করা, পুড়িয়ে ফেলা বা গণকবর দেওয়া আন্তর্জাতিক ও ধর্মীয় রীতিনীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) ধারণা, আরএসএফ এই অঞ্চলের শেষ সুদানি সামরিক ঘাঁটিটি দখল করার পর, এল-ফাশেরে আড়াই লাখের বেশি জনসংখ্যার মধ্যে ৮২ হাজার মানুষই পালিয়ে গেছে। সেখানে গণহত্যা, ধর্ষণ এবং নির্যাতনের খবর পাওয়া গেছে। অনেক বাসিন্দা এখনও আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সুদানের রাজধানী খার্তুম থেকে আল জাজিরার হিবা মরগান জানিয়েছেন, আল-ফাশের থেকে উত্তরে আল দাব্বার উদ্দেশে পালিয়ে আসা অনেক লোক রাস্তায় মারা গেছে। কারণ, তাদের কাছে খাবার বা পানি ছিল না, অথবা গুলিবর্ষণের কারণে তারা আহত হয়েছিল।

মরগান বলেছেন, পালিয়ে আসা লোকজন আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, তারা আরএসএফ যোদ্ধাদের পোস্ট করা সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও থেকে তাদের স্বজনদের মৃত্যুর কথা জানতে পেরেছেন। এই গোষ্ঠীটি শহর দখল করার পর থেকে চরম সহিংসতার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

জাতিগত হত্যাকাণ্ড

মরগান রিপোর্ট করেছেন, শহরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় অনেকেই জানতেন না যে তাদের পরিবারের সদস্যদের কী হয়েছে। তারা বিশ্বাস করেন যে, যদি তাদের আত্মীয়রা এখনও এল-ফাশেরের ভেতরে বেঁচে থাকে, তাহলে তারা হয়তো বেশিদিন সেখানে থাকবে না কারণ খাবার ও পানির অভাব… অথবা আরএসএফ তাদের জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষকে লক্ষ্য করে আসছে।

আরএসএফ, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের নিয়ন্ত্রণের জন্য দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করছে, এর উৎপত্তি মূলত আরব, সরকার-সমর্থিত মিলিশিয়া জানজাউইদ থেকে, যাদের বিরুদ্ধে দুই দশক আগে দারফুরে গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

২০০৩ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে জাতিগত সহিংসতার প্রচারণায় আনুমানিক তিন লাখ মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ২৭ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্সের সিলভাইন পেনিকাড এল-ফাশের থেকে পালিয়ে তাওইলা শহরে আসা বেসামরিক নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, পালিয়ে আসা অনেকেই বলেছেন যে, তাদের গায়ের রঙের কারণে হামলা চালানো হয়েছে।

পেনিকাড বলেন, আমার কাছে, সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অংশ ছিল লোকজন যখন তাদের জীবন বাঁচাতে দৌঁড়াচ্ছিলেন তখন তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। কেবল কালো হওয়ার কারণে তাদের ওপর আক্রমণ করা হয়। এল-ফাশেরের প্রভাবশালী জাতিগত গোষ্ঠী জাঘাওয়া ২০২৩ সালের শেষের দিক থেকে সেনাবাহিনীর সাথে লড়াই করে আসছে।

এল-ফাশেরের একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাসান ওসমান বলেন, কালো ত্বকের বাসিন্দারা, বিশেষ করে জাঘাওয়ার বেসামরিক নাগরিকরা পালিয়ে যাওয়ার সময় ‘জাতিগত অবমাননা এবং শারীরিক ও মানসিক সহিংসতার শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, যদি আপনার ত্বক ফর্সা হয়, তাহলে তারা আপনাকে ছেড়ে দিতে পারে। এটি সম্পূর্ণরূপে জাতিগত।

সুদানের ‘অকল্পনীয় নৃশংসতা’ চলছে: জাতিসংঘ

গত মাসে সরকারি সেনাবাহিনীকে পরাস্ত করে সুদানের পশ্চিমে দারফুর রাজ্যের এল-ফাশের শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে আধা-সামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)।

এরপর থেকেই জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করছে—গণহত্যা, ধর্ষণ ও অন্যান্য গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। এল-ফাশেরের পতনের ১০ দিন পরও থামছে না এসব অভিযোগ। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

এই প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় হুশিয়ারি দিয়েছে, ওই অঞ্চলে ‘সহিংস হামলার’ সংখ্যা এখনো বাড়ছে।

অকল্পনীয় নৃশংসতা

গত শনিবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে সুদানে নিযুক্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রতিনিধি লি ফুং এক ভিডিওতে বলেন, ‘গত ১০ দিনে এল-ফাশেরে সহিংসতার মাত্রা অনেক বেড়েছে। এটি এখন একটি দুঃখ-দুর্দশার নগরী।’

‘যেসব বেসামরিক মানুষ কোনোমতে গত ১৮ মাসের নিরবচ্ছিন্ন হামলা ও বৈরি পরিবেশের মধ্যে টিকে ছিলেন, তারা এখন অকল্পনীয় মাত্রার নৃশংসতা সহ্য করছেন’, যোগ করেন লি।

তিনি আরও বলেন, ‘নারী, শিশু ও আহতসহ হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। তারা হাসপাতাল ও স্কুলে আশ্রয় নিয়েও প্রাণে বাঁচতে পারেননি। হামলা থেকে পালাতে গিয়ে অনেক পরিবারের সব সদস্য নিহত হয়েছেন। অনেক মানুষের কোনো চিহ্নই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’

এমন সময় এই হুশিয়ারি এলো, যখন ত্রাণসংস্থাগুলো বলছে রাজ্যের রাজধানী আল-ফাশের ছেড়ে তাউইলা শহরে পালিয়ে আসা হাজারো মানুষ চরম বৈরি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বেঁচে আছেন।

সুদানস আইডিপি অ্যান্ড রিফিউজি ক্যাম্প নামের মানবাধিকার সংস্থার মুখপাত্র আদম রোজাল বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, এল-ফাশের থেকে পালিয়ে ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষ তাউইলায় এসেছেন।

তাদের অনেকের খাবার, ওষুধ, তাঁবু, কম্বল ও মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা প্রয়োজন। ত্রাণসংস্থাটির প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, অনেক বাস্তুচ্যুত মানুষ খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। কিছু পরিবার ছেঁড়া কাপড়, বিছানার চাদর ও অন্যায় উপকরণ জোড়াতালি দিয়ে তাঁবু বানিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু সেগুলোর অবস্থাও খুবই জীর্ণ।

মার্কিন সরকারের শাটডাউন অবসানের বিল সিনেটে পাস

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দেশটির সরকারের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের শাটডাউন বা অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে সোমবার এক সমঝোতা চুক্তি অনুমোদন করেছে দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেট। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই অচলাবস্থায় লাখো মানুষ খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, কয়েক লাখ সরকারি কর্মচারী বেতন পাননি, আর বিমান চলাচল ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

৬০–৪০ ভোটে পাস হওয়া এই প্রস্তাবে প্রায় সব রিপাবলিকান সিনেটর ও আট ডেমোক্র্যাট সিনেটর সমর্থন দেন। যদিও ডেমোক্র্যাটরা সরকারে অর্থায়নের সঙ্গে বছরের শেষে মেয়াদোত্তীর্ণ হতে যাওয়া স্বাস্থ্য ভর্তুকি যুক্ত করতে চেয়েছিলেন, সেটি গৃহীত হয়নি। সমঝোতা অনুযায়ী ডিসেম্বর মাসে এই ভর্তুকি নিয়ে ভোট হবে, তবে তা বহাল থাকবে কি না, তার নিশ্চয়তা নেই।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, নতুন চুক্তির মাধ্যমে ১ অক্টোবর মেয়াদোত্তীর্ণ ফেডারেল সংস্থাগুলোর অর্থায়ন পুনরায় চালু হবে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফেডারেল কর্মীসংখ্যা কমানোর পরিকল্পনাও অন্তত ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। বিলটি এখন রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদে যাবে। স্পিকার মাইক জনসন জানিয়েছেন, তিনি বুধবারের মধ্যেই এটি পাস করিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে পাঠাতে চান। ট্রাম্প চুক্তিটিকে ‘খুব ভালো’ বলে প্রশংসা করেছেন।

এই সমঝোতায় সরকারের অর্থায়ন ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হবে। ফলে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার বছরে প্রায় ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার নতুন ঋণ যোগ করে ৩৮ ট্রিলিয়ন ডলারের মোট ঋণের পথে এগিয়ে যাবে।

চুক্তিটি এমন এক সময় হলো, যখন ডেমোক্র্যাটরা নিউ জার্সি, ভার্জিনিয়া এবং নিউ ইয়র্ক সিটিতে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে জয় পেয়েছে। তবে এই সমঝোতায় ডেমোক্র্যাটদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এতে স্বাস্থ্য ভর্তুকি চালু রাখার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা ডিক ডারবিন বলেন, ‘আমরা আরও কিছু করতে চেয়েছিলাম। সরকার বন্ধ হওয়াকে আমরা ভালো নীতির পথে নেওয়ার সুযোগ ভেবেছিলাম। কিন্তু সেটা হয়নি।’

রয়টার্স–ইপসসের অক্টোবরের শেষ দিকের এক জরিপে দেখা যায়, ৫০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক শাটডাউনের জন্য রিপাবলিকানদের দায়ী করেন, আর ৪৩ শতাংশ দায় দেন ডেমোক্র্যাটদের।

এর আগে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একতরফাভাবে কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় বাতিল করেছেন এবং লক্ষাধিক ফেডারেল কর্মী ছাঁটাই করেছেন, যা কংগ্রেসের আর্থিক ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে সমালোচিত হয়েছে। এতে পূর্বে কংগ্রেস অনুমোদিত ব্যয় আইনও ভঙ্গ হয়েছে। তাই অনেক ডেমোক্র্যাট এখন প্রশ্ন তুলছেন, ভবিষ্যতে এমন কোনো ব্যয় চুক্তিতে তারা কেন ভোট দেবেন।

চুক্তিতে ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ ব্যয় কমানোর পদক্ষেপ ঠেকানোর কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। তবে এতে স্ন্যাপ (SNAP) খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির অর্থায়ন আগামী বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে সরকার আবার বন্ধ হলেও এই সহায়তা ব্যাহত না হয়।