Home Blog Page 266

সীমান্তে আরাকান আর্মির পুতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে নিহত নায়েক আক্তারের দাফন সম্পন্ন

সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আরাকান আর্মির পুতে রাখা মাইন বিষ্ফোরনে আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরনকারী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সাহসী সদস্য নায়েক মো. আক্তার হোসেন এর মরদেহ ভোলায় আসার পর জানাযা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন ৩৪ বিজিবির এই সদস্য শুক্রবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে ঢাকার সিএমএইচ হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

শনিবার (০১ নভেম্বর) সকালে বাংলাদেশ বিজিবির একটি টিম হেলিকপ্টার যোগে ভোলার দৌলতখান উপজেলায় তার নিজ গ্রামে মরদেহ নিয়ে আসে। পরে জানাযা নামাজ শেষে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

নিহত নায়েক আক্তার হোসেন ভোলার দৌলতখান পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিজিবির অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার আব্দুল মান্নান মিয়ার পুত্র। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৫ বছর। জীবদ্দশায় তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে, ১ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

গত ১২ অক্টোবর নায়েক আক্তার পেয়ারাবুনিয়া সীমান্ত এলাকায় টহলরত অবস্থায় মাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন।

এরপর তাকে দ্রুত রামু সিএমএইচে নেওয়া হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরদিন হেলিকপ্টারে করে ঢাকা সিএমএইচে নেওয়া হয়। শুক্রবার সকালে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হলে তার মৃত্যু হয়।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নায়েক আক্তার হোসেনের মৃত্যুতে পুরো বাহিনীতে গভীর শোক নেমে এসেছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম (পিএসসি) বলেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমরা এক সাহসী সহযোদ্ধাকে হারালাম। নায়েক আক্তার হোসেনের আত্মত্যাগ আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। বিজিবির এ কর্মকর্তা শোক প্রকাশ করে আরও বলেন, শহীদ নায়েক আক্তার হোসেন দেশের জন্য আত্মোৎসর্গের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার আত্মার মাগফিরাত ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।

নির্বাচনের আগে বিদেশে যেতে পারবেন না সরকারি কর্মকর্তারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কোনো কর্মকর্তা বিদেশ সফরে যেতে পারবেন না।

বিদেশ ভ্রমণ সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের আগের পরিপত্র এবং অর্থ বিভাগের গত ৮ জুলাইয়ের চিঠির বিষয়টি তুলে ধরে সম্প্রতি সরকারের সব সচিবের কাছে নতুন পরিপত্র পাঠানো হয়েছে। পরিপত্রের অনুলিপি উপদেষ্টাদের একান্ত সচিবদেরও দেওয়া হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, লক্ষ্য করা যাচ্ছে, জারিকৃত পরিপত্রগুলোর নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ না করে বিদেশ ভ্রমণের ঘটনা ঘটছে। মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ও সচিব একই সময়ে বৈদেশিক সফরে যাচ্ছেন। একই মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তা একসঙ্গে বিদেশে যাচ্ছেন। এ ধরনের প্রস্তাব প্রায়ই প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হচ্ছে, যা আগের নির্দেশনাগুলোর পরিপন্থী।

সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ সংক্রান্ত আগের সব নির্দেশনা প্রতিপালনের নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘এখন থেকে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত একান্ত অপরিহার্য কারণ ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ পরিহার করার অনুরোধ করা হলো।’

জন্মদিনের পাঁচদিন পর নিজেকে শুভেচ্ছা জানালেন পরীমণি

ঢাকাই সিনেমার আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণির জন্মদিন ছিল গত ২৪ অক্টোবর। তবে জন্মদিনের উৎসব শুরু হয়েছিল এরও প্রায় চার দিন আগে এবং এখনও তা চলছে। দীর্ঘ প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে নায়িকার দেওয়া একের পর এক পোস্ট থেকেই তা স্পষ্ট।
গত ২১ অক্টোবর, নায়িকার জন্মদিনের তিন দিন আগেই শুরু হয় এই উন্মাদনা। এদিন তার টিমের সহকর্মী ও মেকআপ আর্টিস্ট অর্ক তাকে চমকে দিতে অগ্রিম কেক কাটেন, যা নায়িকা ফেসবুকে প্রকাশ করেন।
জন্মদিনের আগের দিন (২৩ অক্টোবর) মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন পরীমণি। সেখানে বিশেষভাবেই জন্মদিন পালন করতে যান বলে ধারণা করা হয়।
জন্মদিনের দিনে (২৪ অক্টোবর) মালয়েশিয়ার লংকি আইল্যান্ড থেকে সহকর্মীদের নিয়ে কেক কাটেন তিনি। এদিন ফেসবুকে নিজেকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তিনি লেখেন, ‘এ জীবন শুধু বেঁচে থাকার চেয়ে বাঁচা জীবন উদযাপন করাই শ্রেয়।’
জন্মদিনের চার দিন পর (২৮ অক্টোবর), ফের নিজেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান পরীমণি। একটি ফুলের তোড়া হাতে নিয়ে তিনি ছবিও প্রকাশ করেন।
এরপর সবশেষ বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘নিজেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।’ সেই ভিডিওতে দেখা যায়, নায়িকা একটি জমকালো রেস্তোরাঁ বা হোটেলের ভেতরে দাঁড়িয়ে আছেন। পেছনের কাঁচের জানালায় মালয়েশিয়ার রাতের শহরের আলোকিত দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। এমন পরিবেশে পরীমণিকে একটি ঘিয়ে রঙের ফ্লোরাল প্রিন্টের গাউন বা লম্বা পোশাকে দেখা যায়, মুখে উজ্জ্বল হাসি। তার সামনে দৃষ্টিনন্দন কয়েকটি কেক সাজানো রয়েছে। প্রতিটি কেকের ওপরেই মোমবাতি জ্বলছে, যার মৃদু আলোয় পুরো পরিবেশটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
ভিডিওটির প্রথম দিকে তিনি কেকগুলোর দিকে তাকিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। এরপর তিনি হাত জোড় করে যেন নিজেকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তাকে দেখে মনে হচ্ছে যেন তিনি নিজের জন্য এই জমকালো আয়োজনে ভীষণ আনন্দিত।
তবে দীর্ঘ প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এমনকি জন্মদিনের ৫ দিন পার হওয়ার পরও এভাবে উৎসব চলতে থাকায় ভক্তদের কাছেও মনে হচ্ছে এই নায়িকার জন্মদিন যেন শেষই হচ্ছে না।

স্বর্ণের দাম আরও কমল, বর্তমান দাম কত?

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম টানা কমেই চলেছে। এবার বড় আকারে আরেক দফা স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
এবার ভরিতে ১০ হাজার ৪৭৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮০৯ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। বুধবার (২৯ অক্টোবর) থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮০৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৭২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে, বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।
এর আগে, সবশেষ গত ২৭ অক্টোবর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪ হাজার ২৮৩ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ৯৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৪৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৪২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যা কার্যকর হয়েছিল ২৮ অক্টোবর থেকে।
এ নিয়ে চলতি বছর মোট ৭০ বার দেশের বাজারে সমন্বয় করা হলো স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছে ৪৮ বার, আর কমেছে মাত্র ২২ বার। আর ২০২৪ সালে দেশের বাজারে মোট ৬২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৭ বার।
স্বর্ণের দাম কমানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২৪৬ টাকায়।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০১ টাকায়।

 

ফিফপ্রোর বর্ষসেরার তালিকায় আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি

ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব বারবার প্রমাণ করে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। ৩৮ বছর বয়সেও থামছেন না তিনি। সোমবার প্রকাশিত ফিফপ্রো ওয়ার্ল্ড ১১-এর বর্ষসেরার সংক্ষিপ্ত তালিকায় ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন এই আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। আগামী ৩ নভেম্বর ঘোষণা করা হবে বছরে সেরা একাদশ।
এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি ফুটবলার উঠেছে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট–জার্মেইন (পিএসজি) থেকে—মোট ৭ জন। রয়েছেন উইলিয়াম পাচো, মারকিনিয়োস, ভিটিনিয়া, জোয়াও নেভেস, আশরাফ হাকিমি, নুনো মেন্ডেস ও বর্তমান ব্যালন ডি’অর জয়ী উসমান দেম্বেলে।
রিয়াল মাদ্রিদ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন থিবো কোর্তোয়া, ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড, জুড বেলিংহাম, ফেদেরিকো ভালভার্দে ও কিলিয়ান এমবাপ্পে।
বার্সেলোনার প্রতিনিধিত্ব করছেন পাও কুবারসি, পেদ্রি, লামিন ইয়ামাল ও রাফিনিয়া।
শীর্ষ তারকাদের তালিকায় আরও আছেন—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, আরলিং হালান্ড, কেভিন ডে ব্রুইনা, লুকা মদ্রিচ, মোহামেদ সালাহ ও কোল পামার।
জানা গেছে,বছরে সেরা একাদশ খেলোয়াড়দের ভোটেই নির্ধারিত হবে।
ফিফপ্রো ওয়ার্ল্ড ১১ এর বিশেষত্ব হলো—এটি বিশ্বের পেশাদার ফুটবলারদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়। এবারের ভোটে অংশ নিয়েছেন প্রায় ২০ হাজার খেলোয়াড়।

 

বিপিএলে ফিক্সিংয়ে জড়িতদের নাম প্রকাশ করা নিয়ে যা জানাল বিসিবি

বিপিএলের স্পট ফিক্সিংয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন গতকাল হাতে পেয়েছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। ৯০০ পৃষ্ঠার সেই প্রতিবেদন পেলেও অভিযুক্ত কারও নাম সামনে আনবে না বাংলাদেশ ক্রিকেটট বোর্ড (বিসিবি)। কেউ দোষী প্রমাণিত হলেও মানবিক দিক বিবেচনায় তাদের নাম প্রকাশ্যে আনবে না তারা।
তবে ভেতরে ভেতরে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদেরকে খেলা থেকে বিরত রাখা হবে। ৯০০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন বিসিবি সভাপতি। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে যাদের নাম এসেছে সে তালিকা প্রকাশ করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বুলবুল বলেন, ‘এই মুহূর্তে প্রকাশ করার মতো পরিস্থিতিতে আমরা নেই। কিন্তু ইভেনচুয়ালি করব।’
পরে বিসিবির সহ-সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আপনি যে প্রশ্নটা করেছেন নাম প্রকাশ করা হবে কি না। দেখুন, প্রত্যেকের ব্যক্তিগত পরিচয় এবং এটা একান্ত একটা ব্যক্তিগত বিষয়, গোপনীয় বিষয়। সুতরাং আমাদের কমিটিটা ওরা চার্জ ফ্রেম করলে সেটা ভেতরে ভেতরে যোগাযোগ করা হবে। কোনো মিডিয়া বা পাবলিকলি কারও নাম আসবে না। কিন্তু হয়ত ওই ইনডিভিজ্যুয়াল জানবে।’
বিসিবির সহ-সভাপতি নিশ্চিত করেছেন যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে তাদের কেউই খেলতে পারবেন না, ‘কারো বিরুদ্ধে যদি অভিযোগ (স্পট ফিক্সিংয়ের) প্রমাণিত হয় তাহলে সে খেলতে পারবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেখুন— ওই ক্ষমতা কিন্তু বোর্ডের নেই কারও নাম প্রকাশ করার। যখন সে খেলতে পারবে না আপনারা বুঝবেন, সবাই বুঝবে। আমরা কিন্তু আদালত না। আপনাদেরকে এটা বুঝতে হবে এবং তাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত অধিকার আছে হিউম্যান রাইটস আছে। সুতরাং একটা নির্দিষ্ট খেলা নিয়ে সে যদি কোনো কিছু করে থাকে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হয় সেক্ষেত্রে তাকে খেলা থেকে দূরে রাখা হবে। নাম প্রকাশ করে এটা নিয়ে আমাদের হেয় করার কিছু নেই।’

বিএনপির জন্ম হয়েছে ‘হ্যাঁ’ ভোটে, মৃত্যু হবে ‘না’ ভোটের মধ্য দিয়ে: পাটওয়ারী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বিএনপির জন্ম হয়েছে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মধ্য দিয়ে আর মৃত্যু হবে ‘না’ ভোটের মধ্য দিয়ে।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘রাজনীতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বিএনপি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে সংস্কার কমিশনকে ভিন্নখাতে পরিচালনা করতে চেয়েছে। জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের ব্যাপারে ছাড় নেই।
তিনি বলেন, জুলাই সনদের প্রস্তাবনার পথেই সরকারকে হাঁটতে হবে। জুলাই সনদে ‘বিবেচনা করবে’ বা ‘হবে’ টাইপ কথার স্পষ্ট ব্যাখ্যা চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি। কাবিন নামায় সাইন করেছে বিএনপি, ‘হ্যাঁ’ বলেছে জুলাই সনদে, তাদের ‘না’ বলার সুযোগ নেই।
ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন না দিতে পারলে এর দায় অন্তর্বর্তী সরকারকেই নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উপদেষ্টাদের অনেক সময় হয়েছে ফ্যামিলি টাইমিংয়ে, এখন কেবল সার্ভিস দিতে হবে। আইন উপদেষ্টার ওপরে আমাদের আস্থা নেই। প্রধান উপদেষ্টাকে শহীদ মিনারে মানুষের মাঝে গিয়ে সংস্কার আদেশ জারি করতে হবে।

বিএনপি গণভোটটাকে গলা টিপে হত্যা করতে চায় : জামায়াত

বিএনপি সংস্কার চায়নি, সংস্কারের পর্যায়ে গণভোটও চায়নি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।
জাতীয় নির্বাচন আর গণভোট কেন তারা একসঙ্গে চায়? এমন প্রশ্ন তুলে তাহের বলেন, তারা (বিএনপি) গণভোটটাকে গলা টিপে হত্যা করতে চায়। কারণ শুরু থেকে তারা তো গণভোট চায়নি। এখন বাধ্য হয়ে গণভোট নিয়েছে। আবার প্যাঁচ লাগিয়ে এটারে কেমনে মাইনাস করে দিতে চায় সে রাস্তায় গেছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির দেওয়া নোট অব ডিসেন্টগুলো যদি সন্নিবেশিত হয় তাহলে তো এসব সংস্কারের প্রয়োজন নাই, এখন এসব ছুড়ে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিলেই তো হয়। তালবাহানা করার তো কোনো দরকার নাই, আপনি বলে দেন আমি কিছুই মানি না। যদিও আজকে তারা কিছুটা বলছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় মগবাজারস্থ আল-ফালাহ মিলনায়তনের চতুর্থ তলায় আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলন একথা বলেন তিনি।
সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, বিএনপি প্রথমে কোনো সংস্কারই চাচ্ছিল না। এরপরে জনগণের চাপে তারা সংস্কার কমিশনে অংশগ্রহণ করেছে। বিএনপিকে একমোডেট করার জন্য আমরা অনেক স্যাক্রিফাইস করেছি। অনেক পয়েন্টে মাইনাস করছি। পিএসসি থেকে শুরু করে অনেকগুলোর জন্য একটা সাংবিধানিক বডি করে দেওয়া, যেখানে প্রধানমন্ত্রী-প্রেসিডেন্ট-সরকারি দল যেমন : চাকরি নিয়োগের ক্ষেত্রে, তারপর ইলেকশন কমিশনে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার করতে না পারে। এটা বিএনপি বিরোধিতা করেছে, কেন করেছে আল্লাহই ভালো জানে এটাতো ভালো জিনিস, নিরপেক্ষ থাকতে পারে তবুও তারা করেছে। করার পরে আমরা আলোচনার সুবিধার জন্য এবং আলোচনা কন্টিনিউ করার জন্য স্যাক্রিফাইস করেছি।
তিনি বলেন, একজন প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে ১০ বছরের বেশি থাকতে পারবেন না। তখন পত্রিকা দেখলাম যে বিএনপি মেনে নিয়েছে। কিন্তু আবার নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। দিছেন তো দিয়েছেন, তাতে তো কোনো অসুবিধা নাই, রেজাল্ট যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। আরেকটা ছিল দলীয় প্রধান আর প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে হতে পারবেন না। এটা তো বিএনপির বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত না। এটা যদি জামায়াতে ইসলামীও ক্ষমতায় আসে তাহলে আমাদের আমির শফিক সাহেব আমির আর দলীয় প্রধান একসঙ্গে হতে পারবেন না। বাকিদেরও একই।
তিনি বলেন, আমরা আর ফ্যাসিবাদ চাচ্ছি না। আমরা চাচ্ছি ক্ষমতার ডিস্ট্রিবিউশন। যেমন প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে বিএনপির অনেক আপত্তি ছিল, আমরা সেখানেও কিছু পয়েন্টে স্যাক্রিফাইস করেছি। একজন দলের প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না।
তাহের বলেন, এটা বিএনপি কেন মনে করে যে তারাই ১০০ বছর আগামীতে ক্ষমতায় থাকবে? তাদের জন্য এই আইনটা হলে সমস্যা হবে? এটা তো জনগণের ভোটাধিকারের যে একটা ক্ষমতা আছে। এই ক্ষমতাকে অস্বীকার করা।
‘আমরা’ চিন্তা করে যদি সংস্কার হয় তাহলে তো আর দেশের সংস্কার হলো না। বিএনপির আচরণ হচ্ছে তারা কোথায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তারা কোথায় লাভবান হচ্ছে তাদের জন্য কী উপযোগী, সেই হিসাবে উনারা একটা সংস্কার চাচ্ছেন। এখন একটা দলের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে দেশের বিষয়ে সংস্কার করলে এটা তো আরও খারাপ সংস্কার হয়ে যায়। দেশ আরও রসাতলে যাবে।
আমরা খুব স্পষ্ট বক্তব্য দিতে চাই, ঐকমত্য কমিশন পরিশ্রম করে, রাজনৈতিক দলগুলো পরিশ্রম করে দেশের কল্যাণে আমরা সবাই ছাড় দিয়ে যে ঐকমত্য কমিশনের কন্সেনসাস হয়েছে, রিফর্মসের ব্যাপারে। যেটা জুলাই চার্টার হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে। সেটা আমরা বাস্তবায়ন চাই পরিপূর্ণ। এখানে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে জনগণ সেটাকে গ্রহণ করবে না।
তিনি বিএনপিকে উগ্রবাদী আচরণ বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই পর্যায়ে এক্সট্রিমিজম বাদ দিতে হবে। বিএনপির সংবাদ সম্মেলনের ড্রাফট পেয়েছি। একটা জায়গায় উনারা লিখছেন যে আমরা কোনোভাবেই মানবো না। এখন তার বিপরীত লোকেরা যদি বলে যে, বিপরীত কিছু হলে আমরা কোনোভাবেই মানবো না। তাহলে কি দাঁড়াবে? কোনোভাবেই মানবো না, মানে, কোনোভাবেই মানবো না। পরিস্থিতিটা এদিকে চলে যাওয়াটা কি দেশের জন্য কল্যাণ হবে? এটা দেশের জন্য কল্যাণ হবে না বলে আমি মনে করি। সুতরাং সবাইকেই ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটা একটা পরিবেশ তৈরি করা উচিত এবং ফেব্রুয়ারিতে আমাদের চার্টার গ্রহণ করার পরে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনে আমরা যাতে সবাই অংশগ্রহণ করতে পারি সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
সেক্ষেত্রে আমি সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করছি এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অনতিবিলম্বে আদেশ জারি করে গণভোটের তারিখ ঘোষণা এবং ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য আমরা উদাত্ত আহ্বান জানাই।
তাহের বলেন, নির্বাচন কমিশন একটা আরপিও ফাইনাল করেছে এবং সে আরপিওটি মন্ত্রিপরিষদ বা উপদেষ্টা পরিষদ যেটাই বলেন সেখানেও গৃহীত হয়েছে। মানে সরকারও গ্রহণ করেছে, ইলেকশন কমিশন গ্রহণ করেছে। বিএনপি কিন্তু তখন আগে কোনো আপত্তি দেয় নাই। বরং এর আগে তারা যখন বলেছিল তারা পজিটিভ। প্রত্যেকটি দল তার নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে। এটা জোটভিত্তিক হোক বা ইন্ডিপেন্ডেন্ট দলভিত্তিক হোক এবং এটার ভেতরে অনেক যুক্তি আছে। সেটা হচ্ছে প্রত্যেকটি দল করে নিজের একটা আদর্শ ভিত্তিতে। সে মার্কা নেয় নিজের একটা পরিচয়ের ভিত্তিতে আইডেন্টিটির ভিত্তিতে। একটি জাতীয় নির্বাচনে তো তার আদর্শ এবং তার আইডেন্টিটি টাই মানুষের কাছে যাবে। তাহলে তো তার দলকে মানুষ গ্রহণ করে কি করে না এটা প্রমাণিত হবে।
তিনি বলেন, আপনি জোটে যেতে পারেন, জোট আপনাকে সাহায্য করবে যে আপনি কি এটা জনগণ জানুক। তারপরে আপনার বন্ধু জোট আপনাকে ভোট দেবে, সাহায্য করবে। ইটস ন্যাচারাল। এটাই হতে হবে।
এখন কোনো একটি দল তার নিজস্ব অস্তিত্ব বিকিয়ে দিয়ে, তার প্রতীক বিকিয়ে দিয়ে, তার নাম বিকিয়ে দিয়ে আরেকটা দলের আশ্রয়ে যদি নির্বাচন করে তাহলে তো ওই দলে নির্বাচন হয় না। যে দলের মার্কা সেই দলের নির্বাচন হয়ে যায়। সেই দলের জন্য ৩০০ আসনে নির্বাচন করার সুযোগ আছে। সুতরাং আমরা এটা মনে করি আমরা জোটবদ্ধভাবে করি বা আন্ডারস্ট্যান্ডিং করি। কিন্তু যেহেতু প্রত্যেকটি দল এখানে আলাদা অস্তিত্ব বহন করে। সুতরাং সেই দলের নাম এবং প্রতীকে নির্বাচন হবে। বাকিরা তাকে সাহায্য করবে। যারা ভোট দিতে চায়, সাহায্য করতে চায় করবে। এতে কোনো আপত্তি নাই। এটা রেশনাল। কিন্তু বিএনপি এখানে এসে পরে বলতেছে যে এটাও আমরা মানি না।
তাহের বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনারা যদি কিছুই না মানেন ওটা তো একটা সমস্যা। আমরা আশা করবো প্রতীকের বিষয়ে কোনো দল চাপ দিয়ে ইলেকশন কমিশনকে যেন বিতর্কিত না করেন। কারণ ইলেকশন কমিশন যদি এখন বিএনপির কথা এটা চেঞ্জ করে দেয় আইন, তাহলে তো এটা পরিষ্কার হবে যে ইলেকশন কমিশন একটি দলের পক্ষে ভূমিকা দিচ্ছে। তাহলে ইলেকশন কমিশন আবার বিতর্কিত হবে।
সরকার যদি আবার মন্ত্রিপরিষদে বসে বিএনপির কথায় চেঞ্জ করে তাহলে বুঝা যাবে যে সরকার বিএনপির পক্ষে কাজ করছে। তাহলে সরকারেরও সমস্যা। আমরা যে বলছি একটা অবাধ নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক, হাসিখুশিতে ভরা একটি নির্বাচন হবে এবং এই সরকার ইলেকশন কমিশন নিরপেক্ষ, সরকার নিরপেক্ষ। তাহলে এ কথার তো যথা (দাম) থাকছে না।
৫৪ বছর বাংলাদেশ সঠিক নির্বাচন থেকে বঞ্চিত উল্লেখ করে তাহের বলেন, বিগত ১৫ বছর এরকম একটি অর্থহীন নির্বাচনের আজকের স্বৈরশাসন, আজকের ফ্যাসিবাদ। সেটাকে তো দৌড়িয়েছি আমরা জীবন দিয়ে, রক্ত দিয়ে। কিন্তু আবার সেই নির্বাচন, আবার সেই ষড়যন্ত্র। আবার সেই ইলেকশন কমিশনের নির্বাচন ঘোষণা দেওয়ার, সেসব বাংলাদেশ আর এক্সসেপ্ট করবে না। এটা আমরা পরিষ্কার বলছি।
সব শ্রেণির পেশা মানুষ, সাংবাদিক, রাজনৈতিক স্টেকহোল্ডারস সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তাহের বলেন, বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য আসুন আমরা সবাই কাজ করি, যে যার জায়গা থেকে এবং কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র এবং অপচেষ্টাকে আমরা রুখে দেই।
এক প্রশ্নের জবাবে তাহের বলেন, নির্বাচন কমিশন কিছু কাজ না করলেও হতো। যেমন ইলেকশন কমিশন একটা প্রস্তাব করলে ভালো হতো। গণভোটের সাবজেক্ট ডিফারেন্ট।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ নির্বাচন কমিশন বা কোনো দল বা সরকারের সম্পদ না, পুরো জাতির সম্পদ।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তাহের বলেন, বিশেষজ্ঞরা রাত দিন এরকম বহু মিটিং করেছি। আমরা আমাদের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসেছি। আমাদের বিশেষজ্ঞরা কমিশনের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসেছে। সব বিশেষ একসঙ্গে বসছে। তারা সবাই বসেই এই আদেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আমি যেটা বলছি এখন এটাই বিশেষজ্ঞদের মত এবং এটাই তারা সাবমিট করেছে।
দুই নম্বর কথা হচ্ছে- আমরা এগুলো আদায় করতে পারি, এটা পারবো কিনা? নির্বাচন কি হয়েছে? আমরা কি করতে পারবো না পারবো ওয়েট আপ ইলেকশন। আমাদের আন্দোলন চলছে। আজকেও তো আটটা মিছিল গেছে ইলেকশন কমিশনে।
বিএনপি সংস্কার চায়নি, সংস্কারের পর্যায়ে বিএনপি গণভোট চায়নি উল্লেখ করে তাহের বলেন, গণভোট কেন তারা একসঙ্গে চায়! তারা গণভোটকে গলা টিপে হত্যা করতে চায়। কারণ শুরু থেকে তারা তো গণভোট চায়নি। এখন বাধ্য হয়ে গণভোট নিছে। আবার প্যাঁচ লাগিয়ে এটাকে কীভাবে মাইনাস করে দিতে চায় সে রাস্তায় গেছে।
জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় এ নেতা বলেন, আপনি দেখেন একইদিন যদি গণভোট হয়, গণভোটে কোনো ভোট পড়বে না। কেন? আমি সিরিয়াস থাকবো ধানের শীষ নিয়ে, আমার এখন গণভোট মনে থাকবে। আমার তো ধানের শীষে একটা ভোট বাড়ালে আমার জন্য সেখানে ভালো। বিএনপি ধানের শীষের জন্য। আমি পাল্লার জন্য আরেকজন আরেকজন জান বের হয়ে যায় ইলেকশনের দিন। ভোটের দিন মানুষের হুঁশ থাকে নাকি? সুতরাং সেদিন গণভোট যে একটা হবে এটা আর মাথায় থাকবে না।
কায়দাকানুন করে একটা বস্তার উপরে আরেকটা বস্তা চাপা দিয়া ওটা রে মেরে ফেলার একটা চেষ্টা করা। যদিও বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট বলছে, এগুলো যদি সন্নিবেশিত হয়, পাস না হয় তাহলে তো সংস্কারের প্রয়োজন নাই, এখন এসব ছুড়ে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিলেই তো হয়। তালবাহানা করার তো কোনো দরকার নাই, আপনি বলে দেন আমি কিছুই মানি না। যদিও আজকে তারা কিছুটা বলছে।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, ড. এইচএম হামিদুর রহমান আজাদ, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ।

গাজায় ১০০ জনকে হত্যার পর পুনরায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ঘোষণা ইসরায়েলের

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি ভেঙে ব্যাপক হামলা চালিয়ে প্রায় ১০০ জনকে হত্যা করেছে দখলদার ইসরায়েল। এরপর আজ বুধবার (২৯ অক্টোবর) থেকে তারা যুদ্ধবিরতি পুনরায় কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে।
মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে এক পোস্টে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, রাজনৈতিক নেতাদের নির্দেশনার পর সেনাবাহিনী যুদ্ধবিরতি চুক্তি পুনরায় কার্যকর করেছে।
বিবৃতিতে দখলদাররা বলেছে, তারা গাজার প্রায় ৩০ জায়গায় হামলা চালিয়েছে। এতে হামাসের অবকাঠামো ও যোদ্ধাদের লক্ষ্য করা হয়েছিল বলেও জানায় তারা।
এরআগে গতকাল রাতে গাজায় ‘তাৎক্ষণিক’ ও ‘শক্তিশালী’ হামলা চালানোর নির্দেশ দেন যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ওইদিন বিকালে রাফাতে এক ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়। তবে তার ওপর কে বা কারা হামলা চালিয়েছিল সেটি নিশ্চিত নয়।
ওই সেনার মৃত্যুর পর ইসরায়েল দাবি করে হামাস যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এছাড়া মৃত জিম্মিদের মরদেহ সময়মতো ফেরত না দিয়ে হামাস চুক্তি ভঙ্গ করেছে বলেও দাবি করে তারা। এরপরই রাতে গাজায় ব্যাপক হামলার নির্দেশ দেন নেতানিয়াহু।
তার নির্দেশের কয়েক ঘণ্টা পর ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান গাজায় এসে ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করে।
এতে এক পরিবারের ১৮ জনসহ প্রায় ১০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি কার্যকর ঘোষণা করলেও হামাস এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। গতকাল নেতানিয়াহু হামলার নির্দেশ দেওয়ার পর স্বাধীনতাকামী এ সশস্ত্র গোষ্ঠী জানায়, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন করায় তারা জিম্মিদের মরদেহ হস্তান্তর স্থগিত করেছে।

ভারতকে কোণঠাসা করে পাকিস্তানের সুরেই কথা বলছেন ট্রাম্প

দক্ষিণ কোরিয়ায় দেওয়া বক্তব্যে পাকিস্তানের অবস্থানকে যেন আরও জোরালো করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় ‘সাতটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে’— এমন দাবি তুলে তিনি কার্যত ইসলামাবাদের বক্তব্যকেই মজবুত করেছেন।
আর তার প্রশংসা, হুমকি আর রাজনৈতিক ভঙ্গিমায় নয়াদিল্লি কার্যত পড়েছে বিব্রত অবস্থায়। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য ডন।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কয়েক মাসে অন্তত ২৫ বার প্রকাশ্যে বলেছেন যে, চলতি বছরের মে মাসে পাকিস্তান-ভারত সংঘাতে পাঁচ থেকে সাতটি “নতুন, ঝকঝকে যুদ্ধবিমান” গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছিল।
যদিও টানা চানদিনের ওই সংঘাতে দুই দেশের যুদ্ধবিমান হারানোর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে, তবুও ট্রাম্পের মন্তব্য পাকিস্তানের অবস্থানকেই কূটনৈতিকভাবে শক্ত করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সর্বশেষ দক্ষিণ কোরিয়ায় এক আঞ্চলিক বৈঠকে বুধবার ট্রাম্প আবারও বলেন, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছিল, কিন্তু তিনি দুই দেশকেই ২৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকি দিয়ে তা ঠেকিয়েছেন। যা কোনো দেশের জন্য তার দেওয়া সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক শাস্তির হুঁশিয়ারি।
ট্রাম্প বলেন, “আপনি যদি ভারত ও পাকিস্তানের দিকে তাকান… তারা তখন লড়াইয়ে লিপ্ত ছিল। সাতটা বিমান গুলি করে নামানো হয়েছিল। যুদ্ধ প্রায় শুরু হয়ে যাচ্ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “আমি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করছি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আছে। আমাদের সম্পর্ক চমৎকার।”
একই সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, “তিনি দুর্দান্ত যোদ্ধা, একজন অসাধারণ মানুষ। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও দারুণ মানুষ।”
এর একদিন আগে জাপানে ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে একই ভাষায় ট্রাম্প বলেছিলেন, “দুই বড় পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ যুদ্ধের মুখে ছিল, আমি সেটি থামিয়েছি।”
তবে ভারত সরকার এখনো দাবি করে যাচ্ছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে তাদের কোনো যুদ্ধবিমান হারায়নি, আর ট্রাম্পের মধ্যস্থতার কথাও “ভিত্তিহীন” বলে উড়িয়ে দিয়েছে। নয়াদিল্লির দাবি, যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত দুই দেশ পারস্পরিকভাবে নিয়েছিল।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ওয়াশিংটনের বক্তব্যে একটি নতুন মোড় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উইলসন সেন্টারের বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি বলেছেন, “আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বাড়ানোর সুযোগ দেখছি।”
কুগেলম্যানের মতে, “হোয়াইট হাউস মূলত বাণিজ্যিক স্বার্থে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখছে, তবে প্রশাসনের সামগ্রিক বার্তা এখন আরও এগিয়ে গেছে”। এমনকি রুবিও পাকিস্তানকে “মিত্র” বলেও আখ্যা দিয়েছেন, যা সাম্প্রতিক মার্কিন নীতিতে খুবই বিরল।
এদিকে ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রভাব পড়েছে কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও। মার্কিন ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ট্রাম্পের পাকিস্তানপ্রশংসা এড়াতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি সদ্য অনুষ্ঠিত আসিয়ান সম্মেলনে অনলাইনে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেস একে “কূটনৈতিক পিছু হটা” বলে আখ্যা দিয়েছে। রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, “বিব্রত হওয়ার ভয়ে মোদি আরেকটি বৈশ্বিক মঞ্চে যাওয়া থেকে এড়িয়ে গেলেন।”
এছাড়া পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত সংঘাত নিয়েও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। তিনি এই সংঘাতকে “আমার জন্য সহজে সমাধানযোগ্য” সমস্যা বলে দাবি করেন এবং পাকিস্তানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, “ওরা দারুণ মানুষ।”
তবে পাকিস্তানের প্রতি এই ঝোঁক দেখালেও ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে একটি বড় বাণিজ্য চুক্তিও চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্য আন্তর্জাতিক পরিসরে পাকিস্তানের দাবিকে কিছুটা সমর্থন দিলেও, তার অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এখনো ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের মধ্যেই রয়েছে।