জুলাই সনদ বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সুপারিশে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বাদ দিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অবিলম্বে ওই সুপারিশ সংশোধনেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক এহসান মাহমুদের ‘বিচার সংস্কার নির্বাচন: অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশ’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এ কথাগুলো বলেন মির্জা ফখরুল।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, এত বড় একটা অভ্যুত্থান, এত ত্যাগের বিনিময়ে, এত প্রাণের বিনিময়ে সেটাকে ঠিকভাবে জাতির কল্যাণে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, যতই দিন যাচ্ছে, ততই বিভক্ত বাড়ছে। বিভক্ত হয়ে পড়াটা, এটা কারা করছেন, কেন করছেন, এটাও উপলব্ধি করতে হবে। মিডিয়াতে, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়াতে কতগুলো পক্ষ নিয়ে একেবারে নেমে যাওয়া হয়। প্রতিপক্ষকে একেবারে পুরোপুরি ঘায়েল করে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হয়।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে গত মঙ্গলবার সুপারিশ জমা দিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, যে বিষয়গুলোতে তারা একমত ছিলেন না, সেখানে তারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিলেন। সেই নোট অব ডিসেন্ট সুপারিশে লিপিবদ্ধ করার একটা প্রতিশ্রুতি ছিল কমিশনের। কিন্তু অবাক হয়ে তারা লক্ষ্য করলেন, সুপারিশে সেই বিষয়গুলো নেই। নোট অব ডিসেন্টগুলো পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। ইগনোর করা হয়েছে। এটা তো ঐক্য হতে পারে না। তাহলে ঐকমত্য কমিশনটা করা হয়েছিল কেন?
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এটা আমি বলব, জনগণের সঙ্গে এটা একটা প্রতারণা। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এটা প্রতারণা।’
এ মুহূর্তে, এই অন্তর্বর্তীকালের সময়টা ঐক্যের সময় বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, এখানে ন্যূনতম বিষয়গুলোয় একমত হয়ে একটা রাস্তা ধরা, একটা ট্র্যাক ধরা- সেই জায়গাটাকে বিভক্ত করে ফেলা হচ্ছে। কারা করছেন, কেন করছেন, এটা নিশ্চয়ই সবাই উপলব্ধি করতে পারছেন।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, একটি কথা তারা খুব পরিষ্কারভাবে বলতে চান, যা তারা এর আগেও বলেছেন। তারা মনে করেন, সব সংকটের মূলে যে বিষয়টা আছে, তা হলো, সত্যিকার একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের যে পার্লামেন্ট তৈরি হবে, সেই পার্লামেন্টে এই সব সমস্যাকে সংবিধানের মধ্যে নিয়ে আসবেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। সেভাবে দেশ চলবে। তারা সে কারণেই ৫ আগস্টের বিপ্লবের পরেই নির্বাচনের কথা বলেছিলেন। তখন অনেকে বলেছিল, তারা ক্ষমতা চান, সে জন্য অতি দ্রুত নির্বাচন চাচ্ছেন। আজ প্রমাণিত হচ্ছে, এই নির্বাচনটা যত দেরি হচ্ছে, তত বেশি সেই শক্তিগুলো শক্তিশালী হচ্ছে, ফ্যাসিস্ট শক্তিশালী হচ্ছে। যারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল দেখতে চায়, এখানে একটা অরাজকতা তৈরি করতে চায়।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা দৃষ্টি আকর্ষণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনি কিন্তু এইবার জনগণের সামনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, ওয়াদাবদ্ধ। আপনি এখানে সত্যিকার অর্থেই যেটুকু সংস্কার দরকার, সেই সংস্কারগুলো করে আপনি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য একটা নির্বাচন দেবেন। সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে পার্লামেন্ট আসবে, সেই পার্লামেন্ট এই দেশের সংকটগুলো সমাধান করবে। সুতরাং আজকে যদি এর থেকে কোনো ব্যত্যয় ঘটে, এর থেকে বাইরে যদি যান, তার দায়দায়িত্ব সম্পূর্ণ আপনাকেই বহন করতে হবে। এ কথাটা আমি খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই।’
প্রকাশনা অনুষ্ঠানে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘হঠাৎ করে তারা সুপারিশে দেখলেন, নোট অব ডিসেন্টের উল্লেখ নেই। এটা তো কোনো ঐকমত্য হয়নি। এ প্রশ্নের ব্যাখ্যা নিশ্চয়ই কমিশন দেবে। তারা জুলাই সনদ সই করেছেন। সনদে নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) লেখা আছে। এটা দলগুলো নিজ নিজ ইশতেহারে দেবে। যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, ম্যান্ডেট পাবে, সেই দল নিজস্ব প্রস্তাব অনুযায়ী আপত্তির অংশগুলোর মীমাংসা করবে।’
জুলাই সনদের আদেশ জারি প্রসঙ্গে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘অনেকে দাবি তুলছেন যে আদেশ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা। প্রধান উপদেষ্টা আদেশ দেবেন কোনো ক্ষমতাবলে? সরকার আদেশ দেয়, সেটা রাষ্ট্রপতির নামে যায়, এটা যেকোনো রাষ্ট্রের নিয়ম। রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন রাষ্ট্রের প্রতীক। যদি প্রধান উপদেষ্টা নিজে এটা জারি করেন, তার মানে তিনি নিজেকে রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে ঘোষণা করছেন এবং কার্যত সংবিধানকে স্থগিত করছেন।’
জোনায়েদ সাকি সতর্ক করে বলেন, ‘ঐকমত্য ছাড়া কেউ কারও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে তা কার্যকর হবে না। এটা সবার উপলব্ধি করা দরকার।’
প্রকাশনা উৎসবে আরও বক্তব্য দেন চর্চা ডটকমের সম্পাদক সোহরাব হাসান, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক, লেখক ও সাংবাদিক শাহ্নাজ মুন্নী।
ঐকমত্য কমিশন জনগণের সঙ্গে ‘প্রতারণা’ করেছে: মির্জা ফখরুল
ইডিসিএলের এমডি সামাদ মৃধার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা।
সরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আঃ সামাদ মৃধার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ এ দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, এক নারী ইডিসিএলের এমডির বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন ও চাকরির আশ্বাস দিয়ে প্রতারণা এবং শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই নারীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং পরবর্তীতে প্রতিশ্রুতি অমান্য করেন।
মামলাটি গত ১৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮, ঢাকায় দায়ের করা হয়। মামলার নং ১০২/২০২৫।
অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনার সময়কাল ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেছেন, ঘটনাটি জানাতে তিনি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করলেও কার্যকর পদক্ষেপ পাননি।
এ বিষয়ে ইডিসিএলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এমডির ব্যাক্তিগত নাম্বারে কয়েকবার কল করলে ও রিসিভ করেননি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় তারা মন্তব্য করতে রাজি নন।
তবে অভিযোগটি যাচাই করে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
‘স্ত্রী নয়, নিজেকে জাহিরের বান্ধবী ভাবি’
২০১০ সালে ‘দাবাং’ ছবি দিয়ে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন সোনাক্ষী সিনহা। সালমান খানের বিপরীতে ‘রাজ্জো’ চরিত্রে আত্মপ্রকাশেই জয় করে নেন তরুণ দর্শকের হৃদয়। এরপর ‘আকিরা’, ‘নুর’, ‘ডাবল এক্সএল, ‘লুটেরা, ‘দহাড়’, ‘হীরামান্ডি’র মতো বৈচিত্র্যময় সিনেমায় নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন শত্রুঘ্ন সিনহার কন্যা। এবার তার নতুন অভিযান ‘জটাধারা’—এ ছবির মাধ্যমে প্রথমবার তাকে তেলেগু ছবিতে দেখা যাবে।
১৫ বছরের অভিনয়জীবন পেরিয়ে দক্ষিণের ছবিতে আত্মপ্রকাশ নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত সোনাক্ষী। ভেঙ্কট কল্যাণ ও অভিষেক জয়সোয়াল পরিচালিত জটাধারাকে তার জীবনের ‘বিশেষ অধ্যায়’ বলে মনে করছেন তিনি। ডেকান ক্রনিকল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘১৫ বছর পর নতুন করে আত্মপ্রকাশ করছি, তা–ও তেলেগু ছবিতে, আমার কাছে এটা বিশেষ অনুভূতি। ‘দাবাং’ মুক্তির সময় যেমন উত্তেজনা আর টান অনুভব করেছিলাম, এখন ঠিক তেমনই লাগছে। ‘জটাধারা’ যেন আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে সেই প্রথম দিনের অনুভূতিতে। নিজেকে আবার নবাগত মনে হচ্ছে।’
‘স্ত্রী’ নয়, এখনো ‘বান্ধবী’
২০২৪ সালের ২৩ জুন প্রেমিক জাহির ইকবালকে বিয়ে করেন সোনাক্ষী। বিয়ের পরের জীবনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিয়ে আমার জীবন খুব একটা বদলায়নি। এখনো নিজেকে জাহিরের বান্ধবী বলেই ভাবি, স্ত্রী নয়; আর সেটা দারুণ লাগে। একটাই পার্থক্য, মা–বাবার বাসার বদলে এখন ওর সঙ্গে থাকি। বিয়ের আগে যেমন কাজ করতাম, এখনো তেমনই করছি। বরং জীবন আরও সুন্দর হয়ে উঠেছে। এমন একজন সঙ্গী পেয়েছি, যার সঙ্গে জীবনের খুঁটিনাটি ভাগ করতে পারি। জাহির আমার সবচেয়ে বড় সমর্থন আর শক্তি। ছোট ছোট বিষয়েও ওর পরামর্শ নিই, যদিও কখনো কখনো মনে হয়, একটু স্বাধীনচেতা হওয়াও দরকার।’
এমন চরিত্রে প্রথমবার
‘জটাধারা’-তে সোনাক্ষীকে এক ব্যতিক্রমী চরিত্রে দেখা যাবে। পুরাণ, আধিভৌতিক আর থ্রিলারের মিশ্রণে নির্মিত ছবিটিতে তিনি অভিনয় করছেন ‘ধন পিশাচিনী’ চরিত্রে। এই ভূমিকাকে জীবনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তিনি। ‘এমন চরিত্রে আগে কখনো কাজ করিনি,’ বলেন সোনাক্ষী। ‘নির্মাতারা আমাকে এই চরিত্রে ভেবেছেন, এটা আমার জন্য গর্বের। জানতাম, আমার মধ্যে এমন শক্তিশালী, ভয়ংকর চরিত্রে অভিনয়ের সামর্থ্য আছে। আশা করি, এবার দর্শকদের সত্যিই ভয় দেখাতে পারব।’
মাত্র ১৫ দিনের প্রস্তুতি
চরিত্রে ঢোকার জন্য হাতে সময় ছিল মাত্র ১৫ দিন। সেটাই তার কাছে ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। ‘তবে আমি এমন অভিনেত্রী, যত কম সময় পাই, তত মনোযোগী হই। সেটে পা রাখার পরই চরিত্রটা যেন নিজের ভেতর ঢুকে যেত। ভেঙ্কট স্যার আমাকে খুব সহজভাবে সব ব্যাখ্যা করেছেন, তাই অন্য ভাষার ছবিতেও কাজটা সহজ মনে হয়েছে,’ বললেন শত্রুঘ্ন–কন্যা।
বিশ্ব রেকর্ড গড়তে বাবরের চাই ৯ রান
প্রায় ১ বছর পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে মঙ্গলবার মাঠে নেমেছে বাবর আজম। পাকিস্তানের হয়ে তিনি সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে।
সেই ম্যাচে প্রতিপক্ষ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। মঙ্গলবার রাওয়ালপিন্ডিতে বাবরের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেও প্রতিপক্ষ সেই দক্ষিণ আফ্রিকাই। ম্যাচটি শুরু হয় বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায়।
পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক দেশের হয়ে এই সংস্করণে তার ফেরার ম্যাচটি রাঙাতে পারেন বিশ্ব রেকর্ড গড়ে। মাত্র ৯ রান করলেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রানের মালিক হবেন বাবর। ভাঙবেন রোহিত শর্মার রেকর্ড।
ভারতের সাবেক অধিনায়ক রোহিত ১৫১ ইনিংসে রান করেছেন ৪২৩১। বাবরের রান ৪২২৩। রোহিতের চেয়ে অবশ্য ৩০ ইনিংস কম খেলেছেন বাবর (১২১ ইনিংস)। মঙ্গলবার রেকর্ডটি গড়তে পারলে রোহিতের তুলনায় ২৯ ইনিংস কম খেলেই তাকে ছাড়িয়ে যাবেন বাবর।
রোহিতের চেয়ে বাবরের গড়ও বেশ ভালো। ভারতীয় ওপেনারের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিং গড় ৩২.০৫, বাবরের প্রায় ৪০ ছুঁই ছুঁই- ৩৯.৮৩। স্ট্রাইক রেটে আবার রোহিত অনেক এগিয়ে। রোহিতের স্ট্রাইক রেট ১৪০.৮৯, বাবরের ১২৯.২২।
সেঞ্চুরিও বাবরের চেয়ে রোহিতের বেশি। রোহিতের ৫টি সেঞ্চুরির বিপরীতে বাবরের সেঞ্চুরি ৩টি। তবে পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংসে রোহিতের চেয়ে এগিয়ে বাবর। রোহিতের ৫টি সেঞ্চুরির সঙ্গে ফিফটি ৩২টি, বাবরের ৩টি সেঞ্চুরি ও ৩৬টি ফিফটি।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সর্বোচ্চ রান করা ব্যাটসম্যানদের এ তালিকায় তৃতীয় বিরাট কোহলি। ১১৭ ইনিংসে কোহলির রানসংখ্যা ৪১৮৮। কোহলির ব্যাটিং গড় শীর্ষ পাঁচে থাকা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি- ৪৮.৬৯। স্ট্রাইক রেট- ১৩৭.০৪।
শীর্ষ পাঁচে থাকা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেট জস বাটলারের। ১৪৮.৯৭ স্ট্রাইক রেটে ৩৮৬৯ রান করে এ তালিকার চারে বাটলার। পঞ্চম আয়ারল্যান্ডের ওপেনার পল স্টার্লিংয়ের রান ৩৭১০। কোহলি, বাটলার ও স্টার্লিংয়ের সেঞ্চুরি একটি করে।
সহজে বহনযোগ্য বিশুদ্ধ মধু – ‘হ্যানি স্যাচেট’ বাজারে আনলো ‘কৃষি’
বাংলাদেশের উদীয়মান নিরাপদ খাদ্য উৎপাদক প্রতিষ্ঠান ‘কৃষি’ মধু খাওয়ার চিরাচরিত ধারণায় নতুন মাত্রা যোগ করল। সম্প্রতি একটি আকর্ষণীয় আয়োজনের মাধ্যমে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দিল ‘হ্যানি স্যাচেট’—একটি অভিনব মধু প্যাকেজিং যা মধু উপভোগকে করবে আরও সহজ ও ঝামেলামুক্ত।
অনুষ্ঠানে ‘কৃষি’ তাদের মিশন ও দীর্ঘ যাত্রার গল্প তুলে ধরে। কয়েক বছর ধরে তারা দেশের গ্রামীণ মানুষ, কৃষক ও মাটিকে শহরবাসীর নিকট পৌঁছে দিতে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য উৎপাদন করে আসছে। তাদের লক্ষ্য—শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, একজন মানুষ যেন প্রতিটি মুহূর্তে গ্রামবাংলার নিরাপদ কৃষি পণ্যের স্বাদ উপভোগ করতে পারে। এজন্য তারা গ্রামীণ উপকরণ দিয়ে পুষ্টিকর খাবার তৈরি করছে, যা আধুনিক মানুষের প্রয়োজন ও সুবিধার কথা মাথায় রেখে সাজানো।
এই উদ্ভাবনী যাত্রায় নতুন সংযোজন ‘হ্যানি স্যাচেট’। বোতল বা জটিল প্যাকেজিংয়ের প্রয়োজন নেই—ছোট্ট এই স্যাচেট সহজে ব্যাগে বা টিফিনবক্সে রাখা যায়, যা যে কোনো সময়ে নিরাপদ মধু খাওয়ার সুযোগ করে দেয়। নতুন এই প্রোডাক্টের ফলে মধু হবে দৈনন্দিন খাদ্যের অংশ, সব বয়সের মানুষের জন্য উপকারী ও স্বাস্থ্যকর।
আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইসমাইল, অতীশ দিপংকর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মিহির লাল সাহা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এমডি. কাইয়ুম হোসেনসহ দেশসেরা কয়েকজন অধ্যাপক, ডাক্তার ও পুষ্টিবিদ। তাঁরা হ্যানি স্যাচেটের সম্ভাবনা ও এর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
বাংলাদেশের মধু বিশেষজ্ঞ হিসেবে আরোও উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ মোহাম্মদ মইনুল আনোয়ার। তার বক্তব্যে তিনি বলেন আমাদের সকলের নিয়মিত মধু খেতে হবে। কিন্তু সেটা যেন ভেজাল না হয়। তিনি আরোও উল্লেখ করেন ভেজাল মধু পরিক্ষার জন্য সমাজে প্রচলিত আগুন পরীক্ষা, পানি পরীক্ষা কিংবা পিপড়া পরীক্ষা বিজ্ঞানসম্মত নয়, সম্পূর্ণ ভুয়া।
ইভেন্টের সমাপ্তি ঘোষণা করতে গিয়েই কৃষি জানিয়েছে—‘হ্যানি স্যাচেট’ শুধু একটি পণ্য নয়, এটি আমাদের খাওয়ার অভ্যাসে এক নতুন জীবনধারা নিয়ে আসবে। এই নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষি তার মিশন অব্যাহত রেখেছে—সবার জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য পৌঁছে দেওয়া। প্রোডাক্ট ও মিশন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্রেতাদের কৃষি’র ওয়েবসাইটে ভিজিট করার আহ্বান জানানো হয়।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরিতে কমলো ১০ হাজারেরও বেশি
দেশের বাজারে বড় অংকে কমেছে স্বর্ণের দাম। এক লাফে প্রতি ভরিতে ভালো মানের স্বর্ণের (২২ ক্যারেট) দাম কমেছে ১০ হাজার ৪৭৪ টাকা। এখন থেকে দেশের বাজারে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে এক লাখ ৯৩ হাজার ৮০৯ টাকায়।
মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন (বাজুস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণের দাম কমার এ তথ্য জানায়। আগামীকাল বুধবার থেকে সারা দেশে স্বর্ণের নতুন এ দর কার্যকর হবে।
এতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী (পিওর গোল্ড) স্বর্ণের মূল্য কমেছে। যে কারণে স্বর্ণের দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম কমে এক লাখ ৮৫ হাজার ৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এক লাখ ৫৮ হাজার ৫৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণের দাম এক লাখ ৩১ হাজার ৬২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অপরিবর্তিত আছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি ৪ হাজার ২৪৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ভরি ৪ হাজার ৪৭ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ভরি তিন হাজার ৪৭৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬০১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নীলফামারীতে যুবদলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
নীলফামারীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় জেলা শহরের পৌর সুপার মার্কেটস্থ কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের কর্মসূচি। এরপর বেলা ১১টায় পৌর সুপার মার্কেট চত্বরে জেলা যুবদলের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি থেকে বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এ্যাব) আহ্বায়ক ও নীলফামারী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন। জেলা যুবদলের সভাপতি এ.এইচ.এম সাইফুল্লাহ রুবেলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক, যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ, মোস্তফা হক প্রধান বাচ্চু ও রিয়াজুল ইসলাম কালু বক্তৃতা দেন। সভা পরিচালনা করেন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী তরুণ সমাজই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে, আর তাই আসন্ন নির্বাচনে যুবদলের নেতা-কর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিটি নেতা-কর্মীকে দায়িত্বশীল, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান তিনি।’
আলোচনা সভা শেষে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে। কর্মসূচিতে জেলা বিএনপিসহ যুবদলের সকল ইউনিটের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন।
নেত্রকোনায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল, গণভোটসহ ৫ দফা দাবি
নেত্রকোনায় গণভোট, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেত্রকোনা জেলা শাখা। গত রোববার বিকাল ৩ টায় নেত্রকোনা কালেক্টরেট মাঠ প্রাঙ্গনে এ সমাবেশের আয়োজন করে জেলা জামায়াত। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা বদরুল আমিনের সঞ্চালণায় ও জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মাওলানা ছাদেক আহমাদ হারিছের সভাপতিত্বে এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ অঞ্চল টিম সদস্য, জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ও নেত্রকোনা -২ আসনের জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা এনামুল হক। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মাওলানা মাহবুবুর রহমান, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও পূর্বধলা আসনের জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মাছুম মোস্তফা, ময়মনসিংহ মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ও নেত্রকোনার -৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আল হেলাল তালুকদার,জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. জহিরুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য ও নেত্রকোনা-৩ আসনের জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক খায়রুল কবির নিয়োগী, জেলা শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য, নেত্রকোনা-১ আসনের জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবুল হাসিম, নেত্রকোনা পৌর জামায়াতের আমীর মো. রফিকুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেত্রকোনা জেলা সভাপতি ইয়াসিন মাহমুদ রাসেল, আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলা জামায়াতের বিভিন্ন নেতারা। বক্তারা বলেন, নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট দিতে হবে। জুলাই সনদের আইনে ভিত্তি দিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, কোনো কোনো জায়গায় একটি দল আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর আক্রমণ করছে। আমরা বলতে চাই, এটি বন্ধ করুন। আওয়ামী লীগের মত ফ্যাসিস্ট হইয়েন না। তাহলে জনগণ আপনাদের সাথেও আওয়ামী লীগের মতোই আচরণ করবে। জেলা জামায়াতের আমীর সভাপতির বক্তব্যে বলেন, দেশের মানুষ যেনতেন কোনো নির্বাচন মেনে নিবে না। প্রশাসনকে বলবো নিরপেক্ষ আচরণ করুন। কোন দলের প্রতি আনুগত্য দেখাবেন না। এরপর মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নেত্রকোনা কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিলে জামায়াতের ২ হাজারেরও বেশি নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত অন্তত ১৮
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। উপত্যকাটিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হামলা চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পর গাজার বিভিন্ন স্থানে এসব হামলার ঘটনা ঘটে।
মূলত রাফাহতে বন্দুক হামলায় এক ইসরায়েলি সৈন্য আহত হওয়ার পর হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। বুধবার (২৯ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
এদিকে হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসাম ব্রিগেডস ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। এতইসঙ্গে নিখোঁজ এক বন্দির মরদেহ হস্তান্তরও স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছে হামাস।
একইসঙ্গে তারা সতর্ক করেছে, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বড়সড় কোনও উস্কানি দেওয়া হলে গাজায় মৃতদেহ উদ্ধারের কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং বাকী ১৩ জন জিম্মির মরদেহ উদ্ধার বিলম্বিত হবে।
অবশ্য ইসরায়েলি এই হামলা সত্ত্বেও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতি এখনও টিকে আছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “ছোটখাটো সংঘর্ষ হতে পারে। আমরা জানি গাজায় কেউ একজন (ইসরায়েলি) সৈন্যকে আঘাত করেছে। আমরা আশা করি ইসরায়েল জবাব দেবে, তবুও আমি মনে করি শান্তি স্থিতিশীল থাকবে।”
এদিকে রাফাহতে সংঘটিত ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে হামাস।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস বলেছে, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর ইসরায়েল এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৪ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে এবং মানুষকে জরুরি ত্রাণ পৌঁছানোও কঠোরভাবে সীমিত রাখা হচ্ছে।
হামাস এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের সর্বশেষ এই হামলাকে যুদ্ধবিরতির “স্পষ্ট লঙ্ঘন” বলে অভিহিত করে আগ্রাসন বন্ধের দাবি জানিয়েছে এবং বলেছে, তারা চুক্তি মেনে চলছে।
হামাস নেতা সুহাইল আল-হিন্দি আল জাজিরাকে বলেছেন, মরদেহ উদ্ধারে তাদের কিছু অসুবিধার মুখে পড়তে হচ্ছে এবং বাকি মরদেহ উদ্ধারে যে বিলম্ব হচ্ছে সেটির দায়ও ইসরায়েলের ওপরই বর্তায়।
গাজায় ইসরায়েলি হামালার সমর্থনে ট্রাম্প, নিহত বেড়ে ৬৩
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গাজায় কমপক্ষে ৬৩ জনকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর মধ্যে ২৪ জন শিশুও রয়েছে। চিকিৎসা সূত্রের খবরে এ কথা বলা হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শক্তিশালী হামলার নির্দেশ দেওয়ার পর গাজায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পরে জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজায় একজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে। এর পরেই নেতানিয়াহু হামলার নির্দেশ দেন।
এদিকে জাপান থেকে দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার সময় এয়ার ফোর্স ওয়ানে গাজায় ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পেরেছি, তারা একজন ইসরায়েলি সেনাকে হত্যা করেছে।
তাই ইসরায়েলিরা পাল্টা আক্রমণ করেছে এবং তাদের পাল্টা আক্রমণ করা উচিত। যখন এমন কিছু ঘটে, তখন তাদের পাল্টা আক্রমণ করা উচিত।’
ট্রাম্প বলেন, ‘কোনো কিছুই যুদ্ধবিরতিকে বিঘ্নিত করতে পারবে না। আপনাদের বুঝতে হবে হামাস মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির একটি খুব ছোট অংশ এবং তাদের ভালো আচরণ করতে হবে।
তবে হামাস দক্ষিণ গাজার রাফায় ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর হামলার দায় অস্বীকার করেছে এবং এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ট্রাম্প বলেন, ‘যদি তারা (হামাস) ভালো হয়, তাহলে আমরা খুশি হব এবং যদি তারা ভালো না হয়, তাহলে তাদের জীবন শেষ করে দেওয়া হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘কেউ জানে না নিহত ইসরায়েলি সেনার কী হয়েছিল, কিন্তু তারা (ইসরায়েল) বলেছে, স্নাইপারের গুলিতে মারা গেছে। গাজায় হামলা ছিল এর প্রতিশোধ এবং আমি মনে করি, তাদের (ইসরায়েলের) হামলা করার অধিকার আছে।’


