Home Blog Page 27

সাড়ে ৩ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আইএমএফের

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি মাত্র সাড়ে ৩ শতাংশ হতে পারে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। পাঁচ দিনের ঢাকা সফর শেষে সংস্থার একটি মিশন গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে অর্থনীতি নিয়ে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে। আইএমএফের পূর্বাভাস সরকারের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় অর্ধেক। চলতি অর্থবছরে সরকার সাড়ে ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
গত সপ্তাহে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) পূর্বাভাস দেয়, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাবে গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।

আইএমএফ মিশন মনে করছে, রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতের চাপ অব্যাহত থাকলে মধ্যমেয়াদে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশেরও নিচে নেমে যেতে পারে। তবে রাজস্ব আহরণ জোরদার এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূর করতে সংস্কার এগিয়ে নেওয়া গেলে মধ্যমেয়াদে অর্থনীতির সম্ভাবনা উন্নত হবে।
সরকারের অনুরোধে নতুন অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে আইএমএফের প্রতিনিধি দল গত ১২ জুলাই ঢাকায় আসে। গতকাল বৃহস্পতিবার তারা অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সমাপনী বৈঠক করেন। কয়েক দিনের বৈঠকে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি সরকারের সংস্কার অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশকে নতুন ঋণ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা আগামী মাসগুলোতে চলতে থাকবে। এ আলোচনা হবে ঋণের সম্ভাব্য আকার, পরিধি এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত সংস্কার অঙ্গীকার নিয়ে। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া ঋণ কর্মসূচির পাঁচ কিস্তি নেওয়ার পর দুপক্ষের সম্মতিতে তা বাতিল করা হয়।

গতকাল সচিবালয়ে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আইএমএফের সঙ্গে কর্মসূচির ভিত্তি কী হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচিত সরকারের প্রতি সম্মান বজায় রেখেই সংস্কারের কাজ পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে পরিবর্তন আনা হবে।
ঢাকায় আইএমএফের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির কর্মকর্তা ইভো ক্রজনার। বিবৃতিতে ইভো ক্রজনার বলেন, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং তাদের নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। তথ্য-সংগ্রহমূলক সফরের মাধ্যমে সরকারের নীতিগত পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক সংস্কারের অগ্রাধিকার এবং সক্ষমতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা পাওয়া গেছে। নতুন সম্ভাব্য কর্মসূচির পরিধি, ঋণের আকার এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্কার অঙ্গীকার নিয়ে আগামী কয়েক মাসে আলোচনা হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনও রাজস্ব, আর্থিক খাত ও মূল্যস্ফীতিজনিত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আরও তীব্র হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে এবং ভর্তুকি ব্যয় বাড়িয়েছ। এর ফলে সরকারের সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হয়েছে। আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। যদিও প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স শক্তিশালী রয়েছে। ব্যাংকিং খাতের চাপও এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
তাঁর মতে, সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর জন্য রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং ভর্তুকি ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কার প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাজস্ব সংস্কারের প্রভাব থেকে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সহায়তা জোরদার করা দরকার। মূল্যস্ফীতি কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনের জন্য কঠোর মুদ্রানীতি ও বিচক্ষণ রাজস্বনীতি অব্যাহত রাখা উচিত।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এবারের আলোচনায় ২০২৫ সালের আর্টিকেল-৪ পরামর্শ প্রতিবেদনে চিহ্নিত নীতিগত অগ্রাধিকারকে ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে প্রতিবেদনে ভর্তুকি যৌক্তিক পর্যায়ে আনতে সার ও বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের জন্য একটি কৌশল গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ব্যাংকি চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোকে উৎসাহীত করতে আড়াই শতাংশ প্রণোদনা ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

প্রকৌশলীদের শুধু স্মার্টনেস নয়, সততাও থাকতে হবে: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ উন্নয়ন বাজেট প্রকৌশলীদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। তাই দেশ গঠনে প্রকৌশলীদের স্মার্টনেসের পাশাপাশি সততা ও ন্যায়পরায়ণতা থাকতে হবে।

শুক্রবার ‘দ্য ফোরাম অব ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ’ (এফইএবি) ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মী শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর মিরপুরের একটি কনভেনশন সেন্টারে এই শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়।

জামায়াত আমির বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলে দেশে ইলেকট্রোমেকানিক্যাল ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের ব্যাপক বিকাশ ঘটাতে হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক প্রকৌশলীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, জায়নবাদী শক্তি বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অবরোধ এবং ভূরাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে একক ইসলামবিরোধী কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। বিশ্বরাজনীতির এমন গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রকৌশলীদের সব সময় সচেতন থাকতে হবে।

ফোরামের সেক্রেটারি পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এফইএবি ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার কাজী আবিদ হাসান সিদ্দিক। কর্মী শিক্ষা শিবিরে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মুহাম্মাদ সেলিম উদ্দিন ও ঢাকা-১৬ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য (এমপি) কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন প্রমুখ।

জুলাই সনদ নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বিরোধী দল: মির্জা ফখরুল অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ স্মরণসভা

জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আজকে আমরা অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি। আমাদের বিরোধী দল থেকে বলা হচ্ছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি সংসদে আদায় না হলে রাজপথে ফয়সালা হবে। আমার মনে হয়, জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য এই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। আমরা একসঙ্গে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি। এর প্রতিটি অক্ষর আমরা বাস্তবায়িত করব, এটাতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ রিসার্চ সেন্টার ও জাতীয় সাংবাদিক সমিতির যৌথ উদ্যোগে ‘অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী’ উপলক্ষে এক স্মরণসভায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, যে গণভোটের কথা বলা হচ্ছে, সেই গণভোটের একটা অংশে তো আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাই হয়নি। আমরা উচ্চকক্ষের প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোটের আনুপাতিক হারের বিষয়ে কখনোই একমত হইনি।

মন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি জায়গায় বলা আছে, যে দল নির্বাচিত হবে, তারা তাদের ইশতেহার অনুযায়ী সেটাকে বাস্তবায়িত করবে। আমরা ৩১ দফাতে যেমন প্রতিজ্ঞাবন্ধ, ঠিক তেমনিভাবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নেও প্রতিজ্ঞাবন্ধ। কিন্তু বিরোধী দল সম্পূর্ণভাবে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে যে, আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চাই না।
তিনি আরও বলেন, একদলের শাসন ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র বিএনপি নিয়ে এসেছে। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার থেকে আমরা সংসদীয় গণতন্ত্র নিয়ে এসেছি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে বিধান, সেই বিধান আমরাই সংসদে সারারাত কাজ করে পাস করেছি। আজকে যখন এসব কথা বলা হয়, তখন জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য বলা হয় বলে আমি মনে করি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা তো বরাবরই বলে এসেছি, আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই। সংবিধান সংস্কারের কথা কখনোই বলিনি। সুতরাং ওই জায়গায় কোনোরকমের কোনো বিভ্রান্তির অবকাশ আছে বলে আমি মনে করি না।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি সম্পর্কে অনেকে অনেক কথা বলে। বিএনপির ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, বিএনপির প্রায় এক হাজার ৭০০ নেতাকর্মী গুম হয়েছেন। বিএনপির কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে। সুতরাং এই কথাগুলো বারবার করে আমাদের বলতে হয় এ জন্য যে, অনেকে এটাকে নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি
করতে চাচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান, এমাজউদ্দীন আহমদ রিসার্চ সেন্টারের আহ্বায়ক অধ্যাপক আবদুল লফিত মাসুদ, যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

রায়পুরায় পানিতে ডুবে আরও দুই শিশুর মৃত্যু

রায়পুরায় পানিতে ডুবে চার শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই গতকাল শুক্রবার উপজেলার ভেলুয়ারচর গ্রামে দুই শিশু পানিতে ডুবে মারা গেছে। তারা হলো– গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের মেয়ে নিপা (৭) ও নুরুজ্জামানের মেয়ে জান্নাতি (৮)। দুজনই ভেলুয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, সকাল ১০টার দিকে এই দুই শিক্ষার্থীসহ চার-পাঁচজন বাড়ির সামনে বিলে গোসল করতে যায়। এ সময় দুজন পানিতে ডুবে যায়। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বড়কান্দা এলাকায় কাকন নদীতে গোসলে নেমে চার শিশু ডুবে মারা গেছে।

পাঁচ জেলায় চার কারণে দুই শতাধিক পাহাড়ধস

চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টির সময় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে দুই শতাধিক। ৫ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত পাঁচ দিনে পাহাড়ধসের বলি হয়েছেন ২৬ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে কক্সবাজারে।

এসব ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার শিকার ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়েছিল পাহাড়ের ঢালুতে। কাটা পাহাড়ের নিচে। বৃষ্টিতে পাহাড়ের অংশবিশেষ ধসে সেগুলো চাপা পড়ে। এতে প্রাণহানি হয়। এসব মৃত্যু ঠেকাতে প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, পাহাড় কাটার তথ্য তাদের কাছে ছিল না।

গবেষকরা বলছেন, মূলত চারটি প্রধান কারণে এ বিভাগে পাহাড়ধসের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। কারণগুলো হলো– পাহাড়গুলোর ভূতাত্ত্বিক মাটির গঠন মূলত বালু, পলি ও নরম কাদার মিশ্রিত হওয়ায় অতিবৃষ্টিতে দুর্বল হয়ে ধসে পড়ে; আদি জুমচাষের রূপান্তর ও বন উজাড় করা; ভূতাত্ত্বিক জরিপ ছাড়া পাহাড় কেটে সরকারি-বেসরকারিভাবে উন্নয়ন এবং পাহাড়ের প্রাকৃতিক বিন্যাস ধ্বংস করা।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে গবেষকদের দাবির সত্যতা পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম নগরের চশমা হিল আবাসিকের শেষ প্রান্তে আমিন আহমদ চৌধুরীর মালিকানাধীন
পাহাড়টি প্রায় ৬০ ফুট খাড়াভাবে কাটা হয়। ওই পাহাড়ের নিচে তৈরি করা হয় আবদুল জব্বার কলোনি। ভারী বৃষ্টিতে ৮ জুলাই পাহাড়টির অংশবিশেষ ধসে পড়ে ওই কলোনির একটি টিনের ঘরের ওপর। এতে চাপা পড়ে প্রাণ হারায় সুমাইয়া আক্তার।

একই দিন ৮ জুলাই সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের বাগানবাড়ি এলাকার খাস পাহাড়ধসে আশরাফুল ইসলাম তানভীর নামে ছয় মাসের শিশুর মৃত্যু হয়। পাহাড়টি কেটে জনবসতি তৈরি করেছিলন মঈন উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি। ৩০-৪০ ফুট উঁচু পাহাড়টির ঢাল কেটে ঘরে নির্মাণ করা হয়েছিল। এ দুটি ঘটনাস্থলে পাহাড় কাটার তথ্য পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে ছিল না। আগাম কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি।

কক্সবাজারে মাত্র পাঁচ দিনে ১৭ জনের প্রাণহানি ঘটে। এর মধ্যে ৫ জুলাই উখিয়া রোহিঙ্গা শিবিরে পাহাড়ধসে আটজনের মৃত্যু হয়। একই দিন কক্সবাজার সদরে একজন ও পেকুয়ায় একজনের মৃত্যু হয়। ৮ জুলাই উখিয়া আশ্রয়শিবিরে পাহাড়ধসে পাঁচ শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। পরদিন ৯ জুলাই চকরিয়ায় মৃত্যু হয় দুজনের।

রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মরত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে থাকা পাহাড়গুলো নিজেদের মতো করে কেটে গর্ত করে বসতঘর তৈরি করে
রোহিঙ্গারা সেখানে অবস্থান করছিল। কাটা পাহাড়ের ঠিক নিচে বৃষ্টিতে কাটা পাহাড়ের অন্য অংশ ধসে ঘরসহ চাপা পড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার লাইল্যাঘোনায় প্রায় ১০০ ফুট উঁচু পাহাড়ধসে লক্ষ্মী বিলাস চাকমা (৪০) প্রাণ হারান। নিজ মালিকানাধীন পাহাড় কেটে নিচে তৈরি করা গোয়ালঘরে গরুকে ঘাস খাওয়ানোর সময় ধসের ওই ঘটনা ঘটে। পাহাড়টির প্রাকৃতিক ঢাল ধ্বংস করে ঘরটি তৈরি করেছিলেন, আর সেখানেই চাপা পড়েন তিনি।
বান্দরবানের লামার মিশনপাড়ায় পাহাড়ধসে প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচজন। তারা দুটি সরকারি খাস পাহাড় কেটে নিচে বসতি গড়েছিলেন।
প্রশাসন বলছে, তাদের কাছে ওই পাহাড় কাটার তথ্য ছিল না।

গত ৫ থেকে ১১ জুলাই এক সপ্তাহের বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে দুই শতাধিক। এর মধ্যে রাঙামাটিতে ১৩৫ বার ধসের ঘটনা ঘটেছে। প্রাণ গেছে দুজনের। বান্দরবানে
২৩ বার ধসে পাঁচজন, চট্টগ্রামে ৩৪ বার ধসে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মূলত ইচ্ছামতো পাহাড় কেটে বসতি গড়ায় বেশি ধসের ঘটনা ঘটছে। খাড়াভাবে পাহাড় কাটায় ভারী বর্ষণে ধসে পড়ছে মাটি।
গবেষকরা বলছেন, পাহাড়ের ঢালের প্রাকৃতিক বিন্যাস না বুঝে কাটা ও খোঁড়াখুঁড়ি করায় পাহাড়গুলোর গোড়া দুর্বল হয়ে পড়েছে। সেই ঝুঁকিপূর্ণ ঢালুতে বসতি তৈরি করায় রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে প্রাণহানি বাড়ছে।

পাহাড়ধস, ধস ব্যবস্থাপনা, পূর্বাভাস এবং ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল সারওয়ার। তিনি বলেন, পাহাড়ি মাটি বালু, পলি ও নরম কাদার মিশ্রিত হওয়ায় আগের মতো গাছের শিকড়ের সঙ্গে শক্তভাবে আঁকড়ে থাকছে না। তাই ভারী বৃষ্টি হলেই পাহাড়ের ঢালে মাটি নেমে যাচ্ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের সহকারী পরিচালক মুক্তাদির হাসান  বলেন, চট্টগ্রামে দুর্ঘটনার শিকার দুটি পাহাড়ধসের স্থান পরিদর্শন করেছি। কারা পাহাড় কাটায় জড়িত অনুসন্ধান চলছে।
তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর রাঙামাটি জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মুমিনুল ইসলাম বলেন, রাঙামাটির পাহাড়গুলো নরম বেলে মাটির পাহাড়। এ কারণে ভারী বৃষ্টিতেই পাহাড়ধস হচ্ছে।
ত্রাণ ও পুনর্বাসনের দায়িত্বে থাকা খাগড়াছড়ি জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান মারুফ বলেন, পার্বত্যাঞ্চলে অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কেটে বসতি করা। জুমচাষ করতে গিয়ে পাহাড়ের গাছ শূন্য করে ফেলায় বৃষ্টি হলে সহজেই ধসে পড়ছে মাটি।
রাঙামাটি জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন
কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, আগে এত পাহাড়ধস হতো না। এখন অতিরিক্ত ধসের ঘটনা ঘটছে।

বর্ষাকালে তেজপাতার পানি পানে যেসব সুফল মিলবে

রান্নাঘরের পরিচিত মসলা তেজপাতা। খাবারের স্বাদ ও সুগন্ধ বৃদ্ধির জন্য এর জুড়ি মেলা ভার। এই পাতা ওষুধি গুণেও অনন্য। আর তাইতো আয়ুর্বেদে যুগ যুগ ধরে এই পাতা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মেঘলা দিনে যাদের মাথা ব্যথা করে, যাদের সর্দি-কাশি লেগেই থাকে তারা তেজপাতা ভেজানো পানি সেবন করতে পারেন। এমনটাই বলা হয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এই সময়’-এর একটি প্রতিবেদনে।

তেজপাতার পানি পান করলে যেসব উপকার মিলবে

পলিফেনল, ফ্ল্যাভনয়েড এবং ভিটামিন সি-এর মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর তেজপাতা। এগুলো শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস প্রতিরোধ করে। এর ফলে শরীরের কোনো কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। এতে যেমন অকাল বার্ধক্য রোধ করা যায়, তেমনই ক্রনিক অসুখের ঝুঁকি কমে যায়। তেজপাতা প্রাকৃতিক উপায়ে শরীরের প্রদাহ কমায় এবং কোষকে সুরক্ষিত রাখে।

বহু বছর ধরে হজমের সমস্যা দূর করতে আয়ুর্বেদে তেজপাতা ব্যবহৃত হচ্ছে। তেজপাতায় এমন এনজাইম রয়েছে, যা খাবারকে হজম হতে সাহায্য করে। এছাড়া তেজপাতা বদহজম, পেটফাঁপার মতো সমস্যা দূর করে। বদহজমের কারণে যে পেটব্যথা হয়, তাও কমায় তেজপাতা। এক্ষেত্রে তেজপাতার পানি পান করতে পারেন।

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, তেলপাতা ইনসুলিন ও গ্লুকোজ মেটাবলিজ়মের উপর প্রভাব ফেলে। বিশেষত টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে এই পাতা। ডায়াবেটিসে স্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইল মেনে চলার পাশাপাশি যদি তেজপাতার পানি পান করেন, তাহলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

তেজপাতায় এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী। এগুলো রক্তনালিতে ফ্যাট জমতে দেয় না, খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং শরীরে রক্ত চলাচল সচল রাখে। আর তেজপাতায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রদাহ কমায়। সব মিলিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

তেজপাতা ইমিউনিটি বুস্টারের কাজ করে। ভিটামিন এ, ভিটামিন সি-সহ তেজপাতায় অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান রয়েছে। এগুলো শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষত ঋতু বদলের সময়ে ভাইরাস গঠিত সংক্রমণের হাত থেকে শরীরকে সুরক্ষিত রাখে। তাই সর্দি-কাশির সমস্যায় তেজপাতা ফোটানো পানি পান করতে পারেন।

জাহাঙ্গীর হত্যার নেপথ্যের কেউই রেহাই পাবে না: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের মদদদাতাদেরও আইনের আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর মিঠামইন উপজেলা সদরের হেলিপ্যাড মাঠে জাহাঙ্গীরের দ্বিতীয় জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘জাহাঙ্গীরের খুনিদের পেছনে যাদের মদদ রয়েছে এবং যাদের ইশারায় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তাদের কেউই রেহাই পাবে না। তবে নিরপরাধ কোনো মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর দীর্ঘ ১৭ বছর নানা প্রতিকূলতার মধ্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করে বিএনপিকে সংগঠিত করেছেন। তাঁর মতো নেতৃত্ব মিঠামইনে আর সহজে সৃষ্টি হবে না।

তিনি জানান, মিঠামইনে আসার পথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ তাঁকে ফোন করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ তৎপর থাকার নির্দেশনার কথা জানিয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত জনতার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের গডফাদারদের শনাক্ত করতে সবাইকে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে।

জানাজায় অংশ নিয়ে কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, জাহাঙ্গীরকে ভাড়াটে খুনির হাতে এভাবে প্রাণ দিতে হবে, তা তিনি কখনও ভাবেননি। তিনি ছিলেন তাঁর অত্যন্ত আস্থাভাজন নেতা। এ শূন্যতা সহজে পূরণ হবে না। হত্যাকারীদের বিচারে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন, জাহাঙ্গীর হত্যার খবর শুনে সারারাত ঘুমাতে পারেননি। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ‘১৭ বছর ধরে যিনি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়ে বিএনপিকে ধরে রেখেছেন, তাঁর মতো মানুষ আর হবে না।’ বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে বলেন, ‘জাহাঙ্গীর হত্যার বিচার এবং খুনিদের ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত শান্তি নেই।’

এ সময় আরও বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন রুবেল, পিপি শাহ কামাল, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন, ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামাল মিয়া, অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাঈদ হোসেন, অ্যাডভোকেট সায়েম মজুমদার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিয়া, জেলা বিএনপির সদস্য আলমগীর শিকদার, নিহতের বড় ভাই শাহেরীল আলম তপন, বাহার মিয়া এবং নিহতের চাচা অ্যাডভোকেট ফরিদ আহমেদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মোহাম্মদ কামাল পাশা।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ শহরের শহীদী মসজিদ প্রাঙ্গণে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

শাহরুখের ‘মান্নাত’ কেন ভক্তদের কাছে এটি এক আবেগের নাম

বলিউড তারকা শাহরুখ খানের বাসভবন ‘মান্নাত’ শুধু একটি বিলাসবহুল বাড়ি নয়, কোটি ভক্তের কাছে এটি স্বপ্ন, ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণার প্রতীক। মুম্বাইয়ের বান্দ্রা এলাকার ব্যান্ডস্ট্যান্ডে অবস্থিত এই বাড়ির সামনে প্রতিদিনই ভিড় করেন দেশ-বিদেশের পর্যটক ও ভক্তরা। জন্মদিন, ঈদ কিংবা নতুন সিনেমা মুক্তির সময় সেই ভিড় কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

সম্প্রতি আবারও আলোচনায় এসেছে ‘মান্নাত’। ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি আইনি চ্যালেঞ্জ খারিজ হওয়ার পর শাহরুখ খান ও তার পরিবার বাড়িটিতে আরও দুটি তলা নির্মাণের অনুমতি পেয়েছেন। এরপরই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে মান্নাতের ইতিহাস ও এর জনপ্রিয়তা।

ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে শাহরুখ খান প্রায় ১৮ কোটি রুপিতে তখনকার ‘ভিলা ভিয়েনা’ নামে পরিচিত বাংলোটি কিনেছিলেন। বর্তমানে এর মূল্য প্রায় ৩০০ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হয়।

মান্নাতের সবচেয়ে পরিচিত দৃশ্যগুলোর একটি হলো শাহরুখ খানের জন্মদিনে (২ নভেম্বর) কিংবা ঈদের দিনে বাড়ির বারান্দায় এসে ভক্তদের শুভেচ্ছা জানানো। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর প্রিয় তারকাকে এক ঝলক দেখতে পেরে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন ভক্তরা। অনেক সময় ছেলে আব্রামকেও সঙ্গে নিয়ে শুভেচ্ছা জানান শাহরুখ।

নতুন সিনেমা মুক্তির সময়ও মান্নাতের সামনে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। বিশেষ করে ২০২৩ সালে দীর্ঘ বিরতির পর মুক্তি পাওয়া পাঠান ও জওয়ান বক্স অফিসে সাফল্য পাওয়ার পর বাড়িটির সামনে হাজারো ভক্ত জড়ো হয়ে উদ্‌যাপন করেছিলেন। গান, নাচ ও শাহরুখের জনপ্রিয় সংলাপে মুখর হয়ে উঠেছিল পুরো এলাকা।

মান্নাতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শাহরুখ খানের ব্যক্তিগত স্বপ্নপূরণের গল্পও। ১৯৯৭ সালে ইয়েস বস ছবির ‘চাঁদ তারে’ গানের শুটিংয়ের সময় তিনি প্রথম এই বাংলোটি দেখেন। সে সময় এটি ছিল ‘ভিলা ভিয়েনা’ নামে পরিচিত। পরে ২০০১ সালে বাড়িটি কিনে এর নাম দেন ‘মান্নাত’।

বর্তমানে মুম্বাই ভ্রমণে যাওয়া অনেক পর্যটকের জন্য ‘মান্নাত’ একটি অবশ্য দর্শনীয় স্থান। বাড়িটির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা কিংবা শাহরুখ খানের বিখ্যাত দুই হাত ছড়িয়ে দেওয়ার ভঙ্গি অনুকরণ করা যেন অনেকের জন্য ভ্রমণেরই অংশ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তাজমহলের পর ভারতের সবচেয়ে বেশি ছবি তোলা স্থানগুলোর একটি হলো ‘মান্নাত’।

একসময় স্বপ্নের বাড়ি হিসেবে কেনা ‘মান্নাত’ আজ শাহরুখ খানের সাফল্যের পাশাপাশি তার ভক্তদের আবেগ ও ভালোবাসারও এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠেছে।

জয়ে টি-২০ সিরিজে ফিরল বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে পরাজয়ের পর ওয়ানডে সিরিজে হেরেছে বাংলাদেশ। টি-২০ সিরিজও হার দিয়ে শুরু করেছিল তাওহীদ হৃদয়ের দল। শুক্রবার দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচে ৩৪ রানের বড় জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে সমতা করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেটে ১৮৬ রানের ভালো সংগ্রহ তোলে বাংলাদেশ। ওপেনিংয়ে সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান ১২০ রানের দারুণ জুটি গড়েন। দু’জনই ফিফটি তুলে নেন।

ইনিংসের ১৪.৪ ওভারে ফিরে যাওয়ার আগে ডানহাতি ওপেনার সাইফ ৪৫ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন। তার ব্যাট থেকে আটটি চারের সঙ্গে একটি ছক্কার শট আসে। পরের ওভারে ফিরে যান অন্য ওপেনার তানজিদ। তিনি ৪৪ বলে ৫৮ রান করেন। বাঁ-হাতি এই ব্যাটার ছয়টি চার ও দুটি ছক্কার মারেন।

তিনে নামা অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় কিংবা চারে নামা পারভেজ ইমন ব্যর্থ হলেও পাঁচে নেমে ইয়াসির আলী এবং সাতে ব্যাটিংয়ে এসে পেস অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন ঝড়ো ব্যাটিং করে দলকে লড়াই করার পুঁজি এনে দেন। সাইফ ১২ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় ২২ রান করেন। অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন ১০ বলে চার ছক্কায় ৩১ রান করেন।

জবাব দিতে নামা জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশের দুই স্পিনার শেখ মেহেদী ও রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণিতে ২ বল থাকতে ১৫২ রানে অলআউট হয়েছে। ২১ রানে স্বাগতিকরা ৩ উইকেট হারায়। যার দুটি দখলে নেন মেহেদী। সিকান্দার রাজা ও ব্রায়ান বেনেট ৪৪ রানের জুটি গড়েন। তারা যথাক্রমে ২৮ ও ২৯ রান করে রিশাদের বলে ফিরে যান।

শেষটায় ব্রাড ইভান্স ২৫ ও রিচার্ড এনগ্রাভা ১৫ রান যোগ করেন। অফ স্পিনার শেখ মাহেদী ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে ৩টি এবং লেগ স্পিনার রিশাদ ৩.৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। ৩৬ রানে ১ উইকেট নেওয়া সাইফউদ্দিন ম্যাচ সেরা হয়েছেন। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে রোববার মাঠে নামবে দুই দল।

জুলাই বিপ্লবের সুবিধাভোগী হয়েও বিএনপি গাদ্দারি করেছে: গোলাম পরওয়ার

বিএনপি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হয়েও গাদ্দারি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার। জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে ১১ দলীয় ঐক্যের র‌্যালি পূর্ব সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সবচেয়ে বড় বেনিফিসিয়ারি হয়েও বিএনপির মন্ত্রী এমপিরা জুলাইকে এখন অপ্রয়োজনীয় বলে, অস্বীকার করে। বিএনপির কাছে জুলাই আননেসেসারি হলেও জনগণের কাছে নেসেসারি।’

তিনি বলেন, ১৭ অক্টোবর জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার পর থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বিএনপি বলেনি সংবিধানে গণভোট নেই, রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির ক্ষমতা নেই। ক্ষমতায় বসেই এসব দাবি করছে। এটি সরাসরি জাতির সঙ্গে প্রতারণা। এই প্রতারণার উপযুক্ত জবাব জাতি যথাসময়ে দেবে।

১১ দলের র‌্যালি শহীদ মিনার থেকে হওয়ার কথা ছিল। হিন্দু ধর্মালম্বীদের রথযাত্রার কারণে তা শাহাবাগ থেকে করা হয়। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা শহীদ মিনার হয়ে যাবে বলে র‌্যালির স্থান পরিবর্তন করেছি। কিন্তু প্রতিবেশী রাষ্ট্র তাদের দেশে মসজিদে নামাজ পড়তে দেয় না, ঈদের নামাজ পড়তে দেয় না।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন বলেন, চব্বিশের জুলাই শহীদদের রক্তের ওপর দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসে গণভোটের রায় উপেক্ষা করে পুরোনো ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, জুলাইয়ের শহীদের প্রকৃত সংখ্যা অজানা রয়ে গেছে।

সমাবেশে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজীসহ জোট নেতারা বক্তৃতা করেন।