Home Blog Page 274

সরকার এখন থেকেই পুরোপুরি ‘কেয়ারটেকার’ মুডে চলে যাক: আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নিরপেক্ষতার স্বার্থে অন্তবর্তী সরকারকে অবিলম্বে ‘কেয়ারটেকার’ সরকারের আদলে যেতে হবে।
তিনি বলেন, যেহেতু বর্তমান সরকারই অন্তবর্তী সরকার হিসেবে আগামী নির্বাচনে কেয়ারটেকার সরকারের দায়িত্ব পালন করবে- তাহলে এখন থেকেই সেই ভূমিকা পালন শুরু করা উচিত। অন্তবর্তী সরকার এখন থেকেই পুরোপুরি কেয়ারটেকার মুডে চলে যাক।
বুধবার (২২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
আমীর খসরু বলেন, সরকারের ভেতরে বা বাইরে যারা নিরপেক্ষতাকে ভঙ্গ করার সুযোগ রাখে, তাদের রেখে নিরপেক্ষতা রক্ষা সম্ভব নয়। আমরা লক্ষ্য করেছি, সাম্প্রতিক সময়ে অনেকগুলো পদায়ন, বদলি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিছু ব্যক্তি এসব প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে। তাই আমরা বলেছি- যারা আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে, বা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত, কিংবা নিজেদের সেই দলের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তারা সরকারে থাকলে কেয়ারটেকার সরকারের ভূমিকা পালন করতে পারবেন না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, কেয়ারটেকার সরকারের চরিত্র ও কাঠামো সংবিধানে নির্ধারিত আছে। তাই এই সরকারকে এখন থেকেই সংবিধানে বর্ণিত কেয়ারটেকার সরকারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আচরণ করতে হবে। তাদের এখন আর গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়; বরং ধীরে ধীরে কেবল দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। কারণ, বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিলে সেটি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার নানা ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিকে এগোতে গিয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার নানা তৎপরতা আমরা মাঠে দেখতে পাচ্ছি। বিএনপি চাইলে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে রাস্তায় নামতে পারত, কিন্তু আমরা তা করিনি। আমরা দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের ভূমিকা পালন করছি। জোর করে কিছু আদায় করার চেষ্টা করিনি, কারণ আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রতিটি দলেরই ম্যান্ডেট নেওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু নানা দাবি তুলে রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা ঠিক নয়। রাস্তায় যাওয়ার দিন শেষ- এখন যেতে হবে জনগণের কাছে।
বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ ট্রানজিশন হোক। যারা সরকারে আছেন, বিশেষ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাহেবের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে- তিনি যেন সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব শেষ করতে পারেন, সেটাই আমরা চাই। কিন্তু কিছু লোকের কর্মকাণ্ডে তা বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই আমরা বলেছি, অন্তবর্তী সরকার এখন থেকেই পুরোপুরি কেয়ারটেকার মুডে চলে যাক।
ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান, প্রয়াত মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে রিটা রহমান, মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ হোসেন আলমগীরসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।

 

গণভোটের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সুযোগ নেই

গণভোটের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, বিষয়টি জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত এবং তা গণভোটের পরেই নির্ধারিত হবে।
বুধবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সম্মিলিত কমিশন ইতোমধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেছে, সেখানে ভিন্নমত নোট বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত আছে। সুতরাং, তত্ত্বাবধায়ক সরকার কেবল গণভোটের পরই কার্যকর হবে। এই পর্যায়ে এর কোনো বাস্তব সুযোগ নেই।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, তারা (সম্মিলিত কমিশন) আমাদের স্বাক্ষরের জন্য আহ্বান জানিয়েছে এবং আমাদের উদ্বেগগুলো বিবেচনা করবে বলেছে। কমিশন তাদের সুপারিশ দিলে উপদেষ্টা পরিষদ সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি বলেন, আমরা সনদটিকে শুধু কাগজের দলিল হিসেবে দেখি না। বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা পেলে তবেই স্বাক্ষরের বিষয়ে বিবেচনা করবো। যেহেতু জুলাই সনদে স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আমাদের অংশগ্রহণ ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে, তাই আমরা সরকারের ও সম্মিলিত কমিশনের কাছে আমাদের অবস্থান জানিয়েছি।
নাহিদ ইসলাম জানান, এনসিপি জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিতে প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমে একটি সাংবিধানিক আদেশ জারির প্রস্তাব দিয়েছে। জুলাই গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা এখন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে, রাষ্ট্রপতির নয়।
জুলাই গণহত্যার বিচার প্রসঙ্গে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আজকের বৈঠকে জুলাই গণহত্যার বিচার অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল। আমরা দেখেছি, কিছু সামরিক কর্মকর্তা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) আদালতে আনা হয়েছে। আমরা এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই এবং বিচার অগ্রগতির জন্য সরকার ও ট্রাইব্যুনাল উভয়কেই ধন্যবাদ জানাই।
তবে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মামলার অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নাহিদ বলেন, আইসিটি ছাড়া শহীদ পরিবারের দায়ের করা অসংখ্য মামলা রয়েছে। আমরা পত্রিকায় দেখছি, অভিযুক্তদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে এবং তারা শহীদ ও জীবিত পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা ন্যায়বিচারের একটি রূপরেখা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছি। এই রূপরেখা নির্বাচনের আগেই প্রকাশ করা উচিত।
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত সরকারেরই।
তিনি বলেন, আমরা আশা করি, সরকার একটি সমতল ক্ষেত্র ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করবে, যাতে নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য হয়।

 

পাকিস্তানের সঙ্গে কোনও যুদ্ধ নয়’— ট্রাম্প-মোদির ফোনালাপে আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফোনে কথা বলেছেন এবং সেখানে দুজনের মধ্যে ‘পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ না করার’ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
একইসঙ্গে চলতি বছরের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রই থামিয়েছে বলে আবারও দাবি করেছেন ট্রাম্প। বুধবার (২২ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য ডন।
হোয়াইট হাউসের দীপাবলি অনুষ্ঠানে কথা বলার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, চলতি বছরের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত থামাতে তিনিই ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে ভারত তা অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক চাপের কারণে নয়, বরং কূটনৈতিক কারণেই যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।
মঙ্গলবার এই দীপাবলি অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, “আমি মোদির সঙ্গে দারুণ এক ফোনালাপ করেছি। আমরা মূলত বাণিজ্য নিয়ে কথা বলেছি, তবে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ না করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা বাণিজ্য ও শান্তি- দুটো বিষয় নিয়েই কথা বলেছি। এখন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ নেই, যা সত্যিই দারুণ ব্যাপার”। মোদিকে “অসাধারণ ব্যক্তি” বলে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “বছরের পর বছর ধরে তিনি আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে উঠেছেন।”
ট্রাম্প আরও জানান, মোদি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চাচ্ছেন। আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো। তিনি রাশিয়া থেকে খুব বেশি তেল কিনছেন না, বরং ক্রমে তা কমিয়ে আনছেন। তিনি চান যুদ্ধটা দ্রুত শেষ হোক, যেমনটা আমিও চাই।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, তার প্রশাসন বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। তিনি বলেন, আমরা আমেরিকাকে প্রথমে রাখছি, কিন্তু সবাইকেও একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে চলতে উদ্বুদ্ধ করছি।
তিনি দাবি করেন, “মধ্যপ্রাচ্যে আমরা ‘পূর্ণ শান্তি’ প্রতিষ্ঠা করেছি, যা কেউ কল্পনাও করেনি। আগে যারা একে অপরকে ঘৃণা করত, এখন তারা বন্ধু।”

ইসরায়েল আমেরিকার আশ্রিত রাজ্য নয়: নেতানিয়াহু

ইসরায়েল আমেরিকার কোনো আশ্রিত রাজ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তার দাবি, তার দেশ নিজেই নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম।
গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকের আগে একথা বলেন তিনি। বুধবার (২২ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যকে গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনীর বিষয়ে ইসরায়েলের আপত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর ওই পরিকল্পনা এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে।
বুধবার নিজ কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রটেক্টরেট (আশ্রিত রাজ্য) নই। ইসরায়েল নিজেই নিজের নিরাপত্তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।”
এদিকে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স স্বীকার করেন, শান্তির পথে এখনো অনেক বড় বাধা রয়ে গেছে। বৈঠক শেষে নেতানিয়াহু ও ভ্যান্স একসঙ্গে বলেন, ইসরায়েল কোনো “মার্কিন ক্লায়েন্ট রাষ্ট্র” নয়। বরং ওয়াশিংটনের গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব রয়েছে।
নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা ইসরায়েলে কোনো ভাসাল (কারও অধীনস্ত বা নিয়ন্ত্রিত) রাষ্ট্র চাই না, আর ইসরায়েল তেমন কিছু নয়ও। আমরা চাই অংশীদারিত্ব, মিত্র।”
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে কাজ করছে বলে যে ধারণা রয়েছে তা ভুল। নেতানিয়াহু বলেন, “এক সপ্তাহ বলা হয় ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ করে, পরের সপ্তাহে বলা হয় যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণ করে। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, দুটোই বাজে কথা।”
এদিকে ইসরায়েল সরকার জানিয়েছে, শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েল সফর করবেন এবং নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করবেন।

ফেব্রুয়ারিতে উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য সরকার সব কিছু করছে: প্রধান উপদেষ্টা

ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করার জন্য সরকার সম্ভাব্য সব কিছু করছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার (২২ অক্টোবর) জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজ সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধান উপদেষ্টা এমন মন্তব্য করেন।
প্রধান উপদেষ্টা জার্মান রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে, তিনি এখানে অবস্থানকালে বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
বৈঠক চলাকালীন, রাষ্ট্রদূত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সমর্থন জানান এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আরো বেশি সম্পৃক্ত হচ্ছে, এটা খুবই উৎসাহব্যঞ্জক।’ তিনি সরকারের সংস্কার প্রচেষ্টার, বিশেষ করে জুলাই জাতীয় সনদের প্রশংসা করেন।
রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে একসঙ্গে বসে কথা বলতে দেখে ভালো লাগছে। নির্বাচনের পরও দেশের এসব সংস্কার উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সনদে সই করার জন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে একত্রিত করে একটি চমৎকার কাজ করেছে।
তিনি বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যা ঐক্য এবং পরিবর্তনের জন্য একটি অভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেখিয়েছিল। এটি আসন্ন নির্বাচনের আগে আস্থা তৈরিতে সহায়তা করে।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে সরকার সম্ভাব্য সব কিছু করছে।’
রাষ্ট্রদূত জার্মানিতে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর ক্রমবর্ধমান সংখ্যার কথাও উল্লেখ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রদূত উভয়েই দুই দেশের জনগণের মধ্যে ক্রমবর্ধমান যোগাযোগকে স্বাগত জানান।
তারা বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি এবং এ ক্ষেত্রে জার্মানির সহায়তার বিষয়েও আলোচনা করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জার্মানি ইউরোপে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার এবং নতুন রাষ্ট্রদূত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে কাজ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

 

বাতিল ইভিএম, ফিরল ‘না ভোট’

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন, ২০২৫-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। আরপিওতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইভিএম ব্যবহার বাতিল, ‘না ভোট’ পুনর্বহাল, প্রার্থীদের দেশি-বিদেশি আয় ও সম্পত্তির বিবরণ প্রকাশের বাধ্যবাধকতা এবং পলাতক আসামিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা।
আজ বৃহস্পতিবারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় আরপিও সংশোধনের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সভায় সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠকের পর রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি জানান, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বাংলাদেশ শ্রম আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ২০২৫ চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়েছে। এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন নীতিগতভাবে অনুমোদন পেয়েছে।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, আরপিওতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী হলো—ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সংক্রান্ত বিধান বাতিল করা। পাশাপাশি ‘না ভোট’ পুনর্বহাল করা হয়েছে, যাতে কোনো নির্বাচনী আসনে কেবল একজন প্রার্থী থাকলে ভোটাররা তাকে ভোট না দেওয়ার সুযোগ পান।
তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের সাজানো নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই এই বিধান আনা হয়েছে। একজন প্রার্থী থাকলে ভোটাররা যদি তাকে পছন্দ না করেন, ‘না ভোট’ দিতে পারবেন। তখন সেই আসনে পুনরায় নির্বাচন হবে।
নতুন সংশোধনীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পলাতক আসামিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। জেলাভিত্তিক নির্বাচন অফিসগুলোতে দায়িত্ব পালন করবেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। প্রার্থীদের দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে আয় ও সম্পত্তির বিবরণ হলফনামায় দিতে হবে, যা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে উন্মুক্তভাবে প্রকাশ করা হবে।
আইন উপদেষ্টা বলেন, প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশ দিয়েছেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রত্যেক প্রার্থীর দেশি-বিদেশি আয় ও সম্পত্তির পূর্ণ বিবরণ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। জনগণ যেন সহজেই জানতে পারেন তাদের প্রার্থীর আর্থিক অবস্থা কী।
সংশোধনীর মধ্যে আরও রয়েছে, নির্বাচনী জামানতের পরিমাণ ২০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলকে ৫০০ টাকার বেশি অনুদান বা চাঁদা দিতে হলে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার বাধ্যতামূলক এবং অনুদানদাতার ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে হবে। বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ভোটার ও নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা ডাক ভোটে ভোট দিতে পারবেন। ভোট গণনার সময় গণমাধ্যমের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক অনিয়ম হলে পুরো এলাকার ভোট বাতিল করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয়েছে।
আইন উপদেষ্টা জানান, জোটের প্রার্থীদের প্রতীক ব্যবহারে স্বচ্ছতা আনতে বিধান যোগ করা হয়েছে, যাতে ভোটাররা সহজেই বুঝতে পারেন—কোন দল থেকে প্রার্থী হচ্ছেন।
ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

মাগুরা চাউলিয়া ইউনিয়নে মহিলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত।

শিক্ষা, সমতা ও উন্নয়ন এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে নিয়ে মাগুরা সদর উপজেলার ৯ নং চাউলিয়া ইউনিয়নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলাদল মাগুরা ৯ নং চাউলিয়া  ইউনিয়নে মহিলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার ২০ অক্টোবর বিকাল ৩ টার সময় মালিকগ্রাম বোর্ড অফিস মাঠ প্রাঙ্গণে মাগুরা ৯ নং চাউলিয়া ইউনিয়ন মহিলা দলের আয়োজনে সমাবেশ হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, ৯ নং চাউলিয়া ইউনিয়ন মহিলা দলের সভাপতি বেদেনা বেগম ও সঞ্চালনা করেন ৯ নং চাউলিয়া ইউনিয়ন মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক রুপিয়া বেগম।
উপস্থাপনা করেন মাগুরা পৌর শাখা মহিলা দলের আহবায়ক খুরশিদা ইয়াসমিন ইতি ও সার্বিক সহযোগিতায় মাগুরা সদর উপজেলা মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক হোসনেআরা খাতুন পলি।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটি সহ-ত্রাণ ও পুর্নবাসন বিষয়ক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটি মহিলা দল সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আরলী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মাগুরা জেলা মহিলা দল সভাপতি উম্বিয়া কুলসুম উর্মি ও মাগুরা জেলা মহিলা দল সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট ফারহানা পারভীন বিউটি।

এছাড়াও উপস্থিত সম্মানিত বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মাগুরা জেলা বিএনপি সদস্য এ্যাডভোকেট কবির, মাগুরা জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি পারভীন আক্তার শিউলী, মাগুরা জেলা বিএনপি মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জেসমিন আক্তার স্মৃতি, মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-১ সাবিনা ইয়াসমিন মেরী, জেলা মহিলা দলের প্রচার সম্পাদক শিরিনা পারভীন, মাগুরা জেলা মহিলা দলের বন ও পরিবেশ সম্পাদিকা জোছনা পারভীন, শ্রীপুর উপজেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি অধ্যাপিকা শাহানা ফেরদৌস হ্যাপি, মাগুরা জেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মাগুরা সদর কৃষক দলের সাবেক আহবায়ক এহসানুল হক পলাশ, ২ নং ওয়ার্ডের মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক রুবি ফারহানা, সদস্য রেজিনা কবির, পৌর শাখা ৪ নং ওয়ার্ডের সভাপতি রুমা খাতুন, সাধারণ সম্পাদক জাহানারা, সহ-সভাপতি বিলকিস খাতুন, মহিলা দলের পৌরশাখা সদস্য সুমি, পৌর শাখা যুগ্ম আহবায়ক সুমা খাতুন, সদর থানা মহিলা দলের সদস্য সচিব আঞ্জুয়ারা আক্তার লিজা, থানা আহবায়ক রত্মা পারভীন, সদর থানা মহিলা দলের যুগ্ম আহবায়ক নুরজাহান, পৌর সদস্য সচিব বিউটি খাতুন, মহিলা দলের সদস্য সাবরিনা সুলতানা লাইজু, শালিখা উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী কবিতা খান, চাউলিয়া ইউনিয়ন মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মেরিনা খাতুন, সহ-সভাপতি শরিফা সাবরিনা সুলতানা, বগিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাথী পারভীন শেফালী, মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক কমিটি মোঃ রাজু খান, মাগুরা সদর থানা জাসাস সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা কামাল নিরন শেখ, সদর কৃষক দলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, চাউলিয়া ১ নং ওয়ার্ড বিএনপি সদস্য মোঃ ওলিউল্ল্যাহ, মহিলা দলের সদস্য মাছুমা খাতুন মিম সহ প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ্যাডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আরলী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মৃত মানুষের ভোট হয়ে গেছে রাতের অন্ধকারে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে হবে। অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকার শেখ হাসিনা বিএনপির উপর অনেক জুলুম অত্যাচার চালিয়েও অন্যদলে যোগদান করাতে পারেনি। এছাড়াও শেখ হাসিনা দুপুরের গরম ভাত রেখে তার আদরের পোষা প্রাণীদের রেখে এককাপড়ে পালিয়ে গিয়ে ছিলো সরকার পতনের সময় গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তারিখে। এছাড়াও জামায়াত ইসলামী সহ অন্যান্য সংগঠনের লোকজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের বেহেশতের টিকিট দিয়ে তাদের কন্ট্রোল করে নিচ্ছে। আগামীতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকলকে একযোগে নির্বাচনের কাজ করতে হবে।

বেশিরভাগ আমেরিকান ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে: জরিপ

বেশিরভাগ আমেরিকান নাগরিক মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এখনই ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং জরিপ প্রতিষ্ঠান ইপসোস পরিচালিত এক যৌথ সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমনই ফলাফল।

রয়টার্স-ইপসোসের এই ছয় দিনব্যাপী অনলাইন জরিপ সোমবার শেষ হয়। বুধবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, জরিপে অংশ নেওয়া ৫৯ শতাংশ আমেরিকান ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির পক্ষে মত দিয়েছেন। অপরদিকে, ৩৩ শতাংশ এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন এবং বাকিরা এ বিষয়ে অনিশ্চিত কিংবা কোনো মতামত দেননি।

দলীয়ভাবে দেখা গেলে, ডেমোক্র্যাটদের ৮০ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৪১ শতাংশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকানদের মধ্যে প্রায় ৫৩ শতাংশ এখনও ফিলিস্তিনের স্বীকৃতির বিরোধী।

এই সমীক্ষা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান মার্কিন জনগণের সামগ্রিক মতামতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর অনেকেই ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে— এর মধ্যে রয়েছে ব্রিটেন, কানাডা, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়া। তবে এসব দেশের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে ইসরায়েল।

ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর ১৯৪৮ সাল থেকে ফিলিস্তিন অঞ্চলে অব্যাহত সংঘাতে এখন পর্যন্ত লাখ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, আর প্রাণ হারিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা উপত্যকার ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলে আকস্মিক হামলা চালায়, যাতে এক হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং ২৫০ জনের বেশিকে ধরে নিয়ে গাজায় জিম্মি করা হয়। এর পরদিন থেকেই গাজায় ব্যাপক হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। টানা বোমা হামলায় ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে।

জরিপে অংশগ্রহণকারী প্রায় ৬০ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, হামাসের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে। অপরদিকে, ৩২ শতাংশ এই মতের বিরোধিতা করেছেন।

গত জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করে আসছেন। পাশাপাশি গাজা যুদ্ধে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও পালন করছেন তিনি।

রয়টার্স-ইপসোসের জরিপে আরও দেখা যায় ৫১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, যদি ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা ও যুদ্ধ-পরবর্তী শান্তি প্রক্রিয়ায় সফল হন তবে তিনি ‘গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতির যোগ্য’ হবেন। অন্যদিকে ৪২ শতাংশ এই বিষয়ে একমত নন।

রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথভাবে পরিচালিত এই অনলাইন জরিপে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৪ হাজার ৩৮৫ জন অংশ নিয়েছেন।

করোনার ভ্যাকসিনে সত্যিই কি চুলকানি হয়?

করোনা ভ্যাকসিন নেওয়ার পর নানাবিধ দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা হচ্ছে—এমন দাবি করে বেশ কিছু গুজব ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ছড়িয়ে পড়া স্ক্যাবিসসহ কিছু চর্মরোগ নিয়ে অনেকেই মনে করছেন, এগুলো নাকি ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। তবে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা এসব ধারণা ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছেন।

চুলকানির গুজব ভ্রান্ত তথ্য

করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন গবেষণা চালানো হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (CDC) এবং ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সি (EMA)-এর তথ্য অনুযায়ী, করোনার ভ্যাকসিন সাধারণত স্বল্পস্থায়ী ও হালকা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে চর্মরোগ কিংবা চুলকানি তৈরি করে—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

চিকিৎসকদের অভিমত অনুযায়ী, যেসব মানুষ ভ্যাকসিনের কারণে চুলকানি হচ্ছে বলে মনে করছেন, তাদের বেশির ভাগই আসলে স্ক্যাবিস (Scabies), রিংওয়ার্ম বা দাঁদ (Ringworm) কিংবা একজিমার মতো চর্মরোগে আক্রান্ত। এসব রোগ ছড়াচ্ছে মূলত—

  • ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাব,
  • ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাস,
  • আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা,
  • আবহাওয়া ও পরিবেশগত কারণে।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সঞ্চিয়া তারান্নুম বলেন—
“চুলকানি মানেই ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া—এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। চর্মরোগ দেখা দিলে গুজবে কান না দিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। দেরি হলে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।”

ফুসফুস ও হৃদরোগ জটিলতার পেছনে ভ্যাকসিন নয়, দায়ী করোনা সংক্রমণ

করোনা-পরবর্তী শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ বা হঠাৎ মৃত্যুর কারণ হিসেবে ভ্যাকসিনকে দায়ী করে প্রচুর গুজব ছড়ানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—

করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময় শরীরে তীব্র প্রদাহ হয়।

এতে অনেকের ফুসফুসে স্থায়ী ক্ষত (Fibrosis) তৈরি হয়, ফলে দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

ভাইরাসটি হৃদপেশিতে প্রদাহ (Myocarditis) সৃষ্টি করে, যার ফলে বুক ধড়ফড়, অনিয়মিত হার্টবিট বা হৃৎপিণ্ড বিকল হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

প্রতPrestigious গবেষণা জার্নাল Nature Medicine এবং The Lancet Respiratory Medicine–এ প্রকাশিত গবেষণে দেখা গেছে—
করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণকারীদের মধ্যে করোনা-পরবর্তী জটিলতার ঝুঁকি ৭০% পর্যন্ত কম।

বক্ষব্যাধী বিশেষজ্ঞ ডা. মনির হোসেন বলেন—
“করোনা ভ্যাকসিন মানবতার জন্য আশীর্বাদ। এই ভ্যাকসিন না পেলে মহামারি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো না। ভুল তথ্যই আজকের আসল ভাইরাস—এটি মনে রাখা জরুরি।”

বিয়ে ও বাবা হওয়ার খবর জানালেন জেমস

‘বাবা হওয়ার অনুভূতি অসাধারণ, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, তিনি আমাকে সুস্থ সন্তান দান করেছেন’—বাবা হওয়ার অনুভূতি জানিয়ে কথাগুলো বলছিলেন রকস্টার নগরবাউল জেমস। দ্বিতীয় স্ত্রী বেনজীরের সঙ্গে ২০১৪ সালে বিবাহবিচ্ছেদের এক দশক পর ২০২৪ সালে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক নামিয়া আমিনকে বিয়ে করেন জেমস। বিয়ের পর নামের সঙ্গে আনাম নাম যুক্ত করেছেন নামিয়া। চলতি বছরের জুনে জেমস-নামিয়া দম্পতির কোলজুড়ে আসে পুত্রসন্তান। নাম রাখা হয়েছে জিবরান আনাম।

২০১৪ সালে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে বেনজীর সাজ্জাদের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় জেমসের। এরপর এক দশক একা কাটিয়েছেন এই রকস্টার। ২০২৩ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে দেখা হয় নামিয়ার সঙ্গে। লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি অনুষ্ঠানে দুজনের পরিচয় হয়, আর এই পরিচয় থেকে প্রণয় ও বিয়ে। তবে এটি কোনো কনসার্ট ছিল না, এমনকি জেমস সম্পর্কে আগে থেকে তেমন কিছু জানতেনও না নামিয়া!

পরিচয়ের এক বছর পর ২০২৪ সালের ১২ জুন পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ঢাকায় তাঁদের বিয়ে হয়। ২০২৫ সালের ৮ জুন নিউইয়র্কের হান্টিংটন হাসপাতালে দিবাগত রাত সাড়ে তিনটায় জন্ম হয় জিবরানের। জেমসসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য তখন সঙ্গে ছিলেন। এক মাস যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের পর সন্তান নিয়ে দেশে ফেরেন তাঁরা। জেমসের তৃতীয় স্ত্রী নামিয়ার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে, তিনি সেখানের জন জে কলেজ থেকে ক্রিমিনাল জাস্টিসে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। পুত্রসন্তান জন্মের অনুভূতি জানাতে গিয়ে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে হাসলেন জেমস। এরপর কতক্ষণ দম নিয়ে বললেন, ‘এ অনুভূতি অসাধারণ! এটা আসলে কীভাবে প্রকাশ করব, সে ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। তবে এতটুকু বলব, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, তিনি আমাকে সুস্থ সন্তান দান করেছেন। সবাই মা ও সন্তানের জন্য দোয়া রাখবেন।’

ব্যক্তিজীবনে এর আগে দুবার বিয়ে করেছেন জেমস। তাঁর প্রথম স্ত্রী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী রথি। ১৯৯১ সালে বিয়ের পর ২০০৩ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ২০০০ সালে বেনজীর সাজ্জাদের সঙ্গে পরিচয় হয় জেমসের, এরপর আমেরিকায় গিয়ে তাঁরা বিয়ে করেন। ২০১৪ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। প্রথম পরিবারে জেমসের একটি পুত্র ও একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। আর দ্বিতীয় সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। রথি এরপর আবার বিয়ে করেন।