Home Blog Page 275

ব্যাট-বলের পারফরম্যান্সে ক্যারিয়ারসেরা রেটিং রিশাদের

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে ভালো বোলিংয়ের পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের রিশাদ হোসেন। আইসিসির সাপ্তাহিক র্যাঙ্কিংয়ে ওয়ানডে বোলারদের তালিকায় ৬৫ ধাপ এগিয়েছেন প্রথম ওয়ানডেতে ৬ উইকেট নেওয়া লেগ স্পিনার। সংযুক্ত আরব আমিরাতের জুনায়েদ সিদ্দিক ও ওমানের কলিম সানার সঙ্গে যৌথভাবে ৬৬তম স্থানে আছেন এই বোলিং অলরাউন্ডার। ২ ম্যাচে ১৯ ওভার বোলিং করে ৯ উইকেট নেওয়া রিশাদ এখন পর্যন্ত সিরিজের সর্বোচ্চ উইকেশিকারিও।

ওয়ানডে বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে ৬ ধাপ এগিয়ে ১৮তম স্থানে উঠে এসেছেন বাংলাদেশের এ সংস্করণের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ওয়ানডে বোলিংয়ে মিরাজই বাংলাদেশের শীর্ষ বোলার। যদিও সিরিজে দুই ম্যাচে বোলিং করে ১ উইকেট নিয়েছেন এই অফ স্পিনার। বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ ১৬ ধাপ উন্নতি করে ৭১তম। সিরিজে ১ ম্যাচ খেলে ২ উইকেট নিয়েছেন নাসুম।

ওয়ানডে ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে ৭ ধাপ উন্নতি করে ৩৫তম স্থানে উঠে এসেছেন তাওহিদ হৃদয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে দুই ম্যাচে এক ফিফটিসহ ৩১.৫০ গড়ে ৬৩ রান করেছেন হৃদয়। দুই ম্যাচে ৪৯ রান করা সৌম্য সরকার পাঁচ ধাপ উন্নতি করে উঠে এসেছেন ৮৬ তম স্থানে।

টেস্ট বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে চার ধাপ উন্নতি করে দুইয়ে উঠে এসেছেন পাকিস্তানের বাঁহাতি স্পিনার নোমান আলী। লাহোর টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নেন নোমান। চলমান রাওয়ালপিন্ডি টেস্টেও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে ২ উইকেট নেন। ৮৮২ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে টেস্ট বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা যশপ্রীত বুমরার সঙ্গে মাত্র ২৯ রেটিং পয়েন্ট ব্যবধানে পিছিয়ে নোমান। তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারে বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে এটাই সবচেয়ে ভালো অবস্থান।

লাহোর টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেট নেওয়া পেসার শাহিন আফ্রিদি তিন ধাপ লাফ দিয়ে ১৯তম স্থানে উঠে এসেছেন। টেস্ট ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে চার ধাপ উন্নতি করে ১৬তম স্থানে উঠে এসেছেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ রিজওয়ান। লাহোর টেস্টে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে ফিফটি পান তিনি।

দেড়শ প্রজাতির ভেষজে সমৃদ্ধ নাটোরের ১৫ ‘ঔষুধি গ্রাম’

দেশের একমাত্র ঔষধি পল্লী এখন নাটোরের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। প্রায় দিনই দর্শনার্থীরা আসছেন এই পল্লীতে এবং মুগ্ধতা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এই পল্লীতে বছরে শুধু অ্যালোভেরাই উৎপাদন হচ্ছে ১৫ হাজার টন। এছাড়া শিমুল মূল, অশ্বগন্ধাসহ উৎপাদন হচ্ছে ১৪০ ধরনের ভেষজ। উৎপাদিত এসব ভেষজের বাজার মূল্য অন্তত শত কোটি টাকা।

নাটোর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর-খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম জুড়ে এই ভেষজ পল্লীর অবস্থান। ইউনিয়নের প্রধান সড়কের প্রায় একই সমতলে থাকা ভেষজ পল্লী ছবির মতো সুন্দর।

জানা যায়, ১৯৯৫ সালের দিকে খোলাবাড়িয়া এলাকার আফাজ পাগলা তার কবিরাজি কাজে ব্যবহারের জন্য স্বউদ্যোগে ভেষজ উদ্ভিদের চাষাবাদ শুরু করেন। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে পুরো গ্রামে। শেষে সারা ইউনিয়ন জুড়ে। শুধু আবাদি জমিই নয়, গ্রামের প্রতিটি বাড়ির আনাচে-কানাচে, রাস্তার ধারে, নদীর পাড়ে চোখে পড়ে ভেষজ উদ্ভিদের রকমারি গাছ। তবে সব সৌন্দর্য ছাড়িয়ে অ্যালোভেরা গাছ সবচেয়ে দৃষ্টি নন্দন।

নাটোর সদর উপজেলা কৃষি অফিসের হিসাবে, লক্ষ্মীপুর-খোলাবাড়িয়াতে ১৪০ প্রকার ভেষজ উদ্ভিদ জন্মে। এর মধ্যে অ্যালোভেরা ছাড়াও শিমুল মূল, অশ্বগন্ধা, মিশ্রি দানা, বিটরুট, রোজেলা ও শতমূল প্রসিদ্ধ। ভেষজ উদ্ভিদের মোট ১৫৫ হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে ৭০ হেক্টরে ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরা চাষ হচ্ছে।

৫০ হেক্টর আবাদি জমি থেকে পাওয়া যাচ্ছে এক হাজার ২০০ টন শিমুল মূল। ১২ হেক্টরে বিটরুট এবং পাঁচ হেক্টর মিশ্রি দানার আবাদি জমি থেকে পাওয়া যাচ্ছে ৫০ টন করে ভেষজ। ১০ হেক্টর থেকে পাওয়া যাচ্ছে ১২ টন অশ্বগন্ধা। ইউনিয়নের দুই হাজার কৃষক ভেষজ উদ্ভিদ চাষের সঙ্গে জড়িত।

মূলত বর্ষার শেষে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে এক বিঘা জমিতে অ্যালোভেরার ১০ হাজার চারা রোপণ করা হয়। এই আবাদি জমি থেকে পরবর্তী দুই বছর অনায়াসে অ্যালোভেরার পাতা সংগ্রহ করা যায়।

সেচের ব্যবস্থা রেখে সারিবদ্ধ এসব গাছ থেকে রোপণের ৩ মাস পর থেকে পাতা সংগ্রহ শুরু হয়। চাষাবাদ, পরিচর্যা ও সেচের কাজে সারা বছর জমিতে ১০০ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। জৈব সার ছাড়াও পরিমাণ মতো ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি, জিপসাম, দস্তা ও বোরিক এসিড প্রয়োজন হয়। পাতার কালো দাগ পড়া রোধে ব্যবহার হয় চুন।

পাতা ছিদ্রকারী মশাসহ অন্যান্য কীটপতঙ্গ দমনে সম্প্রতি ছত্রাক নাশক টাইকোডার্মা ও সেক্স ফেরোমেন ব্যবহারে সম্প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে কৃষি বিভাগ ও কৃষকরা। বিঘাপ্রতি অ্যালোভেরার গড় উৎপাদন প্রায় ৩০ টন।

উৎপাদিত ভেষজ উদ্ভিদ শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে নানা রকম ভেষজ ওষুধ। এর বিপণন কাজ চলছে এলাকার ৪টি স্থানে গড়ে ওঠা প্রায় একশটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।

ভেষজ উৎপাদনকারী কৃষক, সমবায় নেতা ও কবিরাজ মো. জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘অ্যালোভেরা সংরক্ষণে একটি হিমাগার নির্মাণ ও সাবান-শ্যাম্পুসহ প্রসাধনী তৈরির কারখানা নির্মাণে উদ্যোক্তা খুঁজে বের করা হলে আমরা উপকৃত হব।

খোলাবাড়িয়া হাজীগঞ্জ বাজার ভেষজ উৎপাদন ও বিপণন সমবায় সমিতির সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধীনে গ্রামে একটি ঔষধি উদ্ভিদ গবেষণা সেন্টার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এর ফলে আমাদের উৎপাদিত ভেষজ পণ্যের গুণাগুণ ও মান নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে। পাশাপাশি প্রসাধন ও ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের আগমন ঘটবে। ফলে ভেষজ পল্লী আরও সমৃদ্ধ হবে।

নাটোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নীলিমা জাহান বলেন, ভেষজ পল্লীর প্রায় ১০ হাজার মানুষ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিপণন কিংবা কৃষি শ্রমের সঙ্গে জড়িত। ভেষজ পল্লীর পরিধি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নাটোর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান বাসসকে বলেন, ভেষজ পল্লীতে হিমাগার, প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা সম্ভব হলে- কৃষকরা লাভবান হবেন। সমৃদ্ধ হবে দেশের একমাত্র এই ঔষধি পল্লী।

সরাইলের গ্রে-হাউন্ড কুকুর বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন ও বাজারজাত করার উদ্যোগ

শক্ত গড়নের পাঁজর আর দীর্ঘদেহী গ্রে-হাউন্ড কুকুর জেলার সরাইল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী একটি প্রাণী। সাহস আর রণকৌশলে অন্যসব কুকুরের চেয়ে আলাদা। দৌড়ের গতিও অন্যসব কুকুরের চেয়ে বেশি। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি আর শিকারে পারদর্শিতার কারণে গ্রে-হাউন্ড কুকুর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ডগ স্কোয়াডেও ব্যবহৃত হয়েছে বলে জানা যায়।
ঐতিহ্যবাহী এই গ্রে-হাউন্ড কুকুর এখন অস্তিত্ব সংকটে। পুরো সরাইল জুড়ে হাতেগোনা কয়েকটি বাড়িতে দেখা মেলে এই কুকুরের। ঐতিহ্যবাহী ও দামি বিরল প্রজাতির এই কুকুরকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে গ্রে-হাউন্ড প্রজনন কেন্দ্র গড়ে তোলার কথা ভাবছে প্রশাসন। সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোশারফ হোসাইন বাসসের সাথে আলাপকালে একথা জানান।
তিনি বলেন, বাণিজ্যিকভাবে গ্রে-হাউন্ড কুকুর উৎপাদন ও বাজারজাত করার বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রাথমিক আলোচনা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করেছি। গ্রে-হাউন্ড কুকুরের জাত টিকিয়ে রাখার জন্য একটি প্রজনন কেন্দ্র করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সম্মলিতভাবে কাজ করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঐতিহ্য ধরে রাখতে একটি পরিবার এখনও বংশ পরম্পরায় গ্রে-হাউন্ড কুকুর পালন করছে। সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের চৌরাগুদা গ্রামের দুই ভাই তপন লাল রবিদাস ও যতন লাল রবিদাস বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে গ্রে-হাউন্ড কুকুর পালন করছেন। তবে ব্যয়বহুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে গ্রে-হাউন্ড কুকুর পালন তাদের জন্য কষ্টসাধ্য।
জনশ্রুতি আছে, প্রায় দুইশ বছর আগে সরাইলের জমিদার দেওয়ান মোস্তফা আলী হাতি নিয়ে কলকাতা যাচ্ছিলেন। পথে এক ইংরেজ সাহেবের কাছে একটি সুন্দর কুকুর দেখতে পান। তিনি কুকুরটি কেনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে তিনি একটি হাতির বিনিময়ে ইংরেজ সাহেবের কাছ থেকে ঐ স্ত্রী কুকুরটি নিয়ে আসেন।
এলাকার প্রবীণদের সাথে কথা বলে জানা যায়, একসময় সরাইল উপজেলার প্রতিটি বাড়িতে দেখা মিলত গ্রে-হাউন্ড কুকুরের। মূলত বাড়ির নিরাপত্তা এবং শেয়াল তাড়ানোর জন্য গ্রে-হাউন্ড কুকুর পালনে উৎসাহী হন সরাইলের বাসিন্দারা। ধীরে ধীরে এই কুকুর বাণিজ্যিকভাবেও লালন-পালন শুরু করেন অনেকে। তবে অন্যসব কুকুরের তুলনায় গ্রে-হাউন্ড পালন কিছুটা ব্যয় সাপেক্ষ। এর ফলে অনেকেই গ্রে-হাউন্ড কুকুর পালন বন্ধ করে দেন। এতেই কমতে থাকে গ্রে-হাউন্ড কুকুরের সংখ্যা। এখন হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার শখের বশে গ্রে-হাউন্ড কুকুর পালন করছে। তবে ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে মাত্র তপন রবিদাস ও যতন রবিদাস গ্রে-হাউন্ড কুকুর পালন করছেন।
কুকুর ছানাগুলো বিক্রি করা হয় স্ট্যাম্প করে। তবে পেশায় মুচি তপন ও যতনের জন্য গ্রে-হাউন্ড পালন করা এখন কষ্টকর হয়ে উঠেছে। স্বল্প আয়ে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয় তাদের। এর ফলে অর্থের অভাবে ঠিকভাবে গ্রে-হাউন্ড কুকুরের পরিচর্যা করতে পারছেন না দুই ভাই।
তপন লাল রবিদাস বলেন, বড় প্রত্যেকটি কুকুরের জন্য প্রতিদিন অন্তত ৩০০ টাকার খাবারের প্রয়োজন হয়। ভাত, মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ ছাড়া অন্য কোনো খাবার খায় না গ্রে-হাউন্ড কুকুর। কিন্তু সবসময় আমরা এই খাবার খাওয়াতে পারি না। আর্থিক টানাপোড়নের সংসারে আমাদের নিজেদের চলতেই কষ্ট হয়। এর মধ্যে কুকুরের খাবারের জন্য বাড়তি টাকা খরচ করা আমাদের জন্য কষ্টকর। শুধুমাত্র পূর্ব পুরুষরা কুকুর পালন করতেন বলেই আমরা এখনও পালন করছি।
প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, ঐতিহ্যবাহী এই কুকুরের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। এই কুকুর কেবল সরাইলের ঐতিহ্যই নয়, এটি নিরাপত্তার কাজেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এর সঠিক প্রজনন, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজেও এদের ব্যবহার করা সম্ভব।
তাদের মতে, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় ঐতিহ্যবাহী সরাইলের বিরল প্রজাতির মূল্যবান গ্রে-হাউন্ড কুকুরকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা প্রয়োজন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৩ সালে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সরাইল উপজেলা সদরে একটি গ্রে-হাউন্ড কুকুর সংরক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছিল।
তবে উপযুক্ত চিকিৎসা, সুষ্ঠু পরিচালনা ও আর্থিক সংকটের কারণে কয়েক বছর পরই কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়। উপজেলা সদরের বড়দেওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহান ঠাকুর ২০০১ সালে সরাইলে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কুকুর প্রজননের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তার উদ্যোগটিও টেকেনি।
সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোশারফ হোসাইন বলেন, সরাইলের ঐতিহ্যের কথা বলতে গেলে বিখ্যাত গ্রে-হাউন্ড কুকুরকে বাদ দেওয়া যাবে না। দেশ বিদেশে এই কুকুর সরাইলের পরিচিতি বহন করে। এছাড়া গ্রে-হাউন্ড কুকুর প্রভুভক্ত। পাশাপাশি গ্রে-হাউন্ড কুকুর বাড়িঘর পাহারা দেয়। গোয়েন্দা তৎপরতার মত গুণও রয়েছে তাদের।

ফিলিস্তিনি শিশু রাজাব হত্যাকাণ্ডে জড়িত ইসরায়েলি সেনাদের তথ্য আইসিসিতে

গত বছর গাজায় নিহত পাঁচ বছর বয়সি ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাব হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও ২৪ ইসরায়েলি সেনাকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠিয়েছে হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশন। এই ফাউন্ডেশনটি রাজাবের নামেই প্রতিষ্ঠিত।
গত মঙ্গলবার এইচআরএফ এই ঘোষণা দেয়। তারা জানিয়েছে, শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে তিনজন শীর্ষ কমান্ডারকে তারা প্রকাশ্যে নাম দিয়েছে। তারা হলেন কর্নেল বেনি আহারোন, ৪০১তম আর্মার্ড ব্রিগেডের কমান্ডার, যার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আইসিসিতে ফৌজদারি অভিযোগ রয়েছে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল ড্যানিয়েল এলা, ৫২তম আর্মার্ড ব্যাটালিয়নের কমান্ডার। মেজর শন গ্লাস, ভ্যাম্পায়ার এম্পায়ার কোম্পানির কমান্ডার।
ধারণা করা হচ্ছে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল এলা এবং মেজর গ্লাস সরাসরি হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী। ভ্যাম্পায়ার এম্পায়ার কোম্পানির আরও ২২ জন সেনার নাম বিভিন্ন বিচারব্যবস্থায় জাতীয়-স্তরের অভিযোগ দায়েরের মাধ্যমে ধীরে ধীরে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে এইচআরএফ।
এই অভিযোগগুলো আল জাজিরা আরবি-এর মা খাফিয়া আ’থাম’ নামক একটি প্রামাণ্যচিত্রের পর জমা দেওয়া হলো। এইচআরএফ রোম সংবিধির ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে আইসিসিতে ১২০ পৃষ্ঠার একটি নথি জমা দিয়েছে।
এইচআরএফ জানিয়েছে, এই নথিতে বিস্তারিত ডিজিটাল, স্যাটেলাইট এবং ফরেনসিক প্রমাণ রয়েছে। যা নিশ্চিত করে যে ভ্যাম্পায়ার এম্পায়ার কোম্পানির মার্কভা আইভি ট্যাংকগুলো হিন্দ ও তার পরিবারকে বহনকারী কালো কিয়া পিকান্টো গাড়িটির ওপর বারবার গোলাবর্ষণ করে এবং পরে তাকে উদ্ধার করতে পাঠানো অ্যাম্বুলেন্সটিকেও লক্ষ্যবস্তু করে।

সেন্টমার্টিন ভ্রমণের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা

সেন্টমার্টিন দ্বীপের অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। গতকাল বুধবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে ১২টি নির্দেশনা সংবলিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ১৩ ধারা অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রণীত ‘সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন নির্দেশিকা’ আলোকে এ নির্দেশনাগুলো কার্যকর করা হয়েছে।
সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া সেন্টমার্টিন দ্বীপে কোনো নৌযান চলাচলের অনুমতি দিতে পারবে না। পর্যটকদের অবশ্যই বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে, যেখানে প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে।
দ্বীপে ভ্রমণের সময়সূচি এবং পর্যটক উপস্থিতিও এবার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। নভেম্বর মাসে পর্যটকরা শুধু দিনের বেলায় ভ্রমণ করতে পারবেন, রাত্রিযাপন করা যাবে না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাত্রিযাপনের অনুমতি থাকবে। ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। প্রতিদিন গড়ে ২ হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপে ভ্রমণ করতে পারবেন না।
সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে দ্বীপে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ পার্টি করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেয়া বনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা ক্রয়-বিক্রয়, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুক ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এছাড়া সৈকতে মোটরসাইকেল, সীবাইকসহ যেকোনো মোটরচালিত যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
নিষিদ্ধ পলিথিন বহন করা যাবে না এবং একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক যেমন চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক চামচ, স্ট্র, সাবান ও শ্যাম্পুর মিনিপ্যাক, ৫০০ ও ১০০০ মিলিলিটারের প্লাস্টিক বোতল ইত্যাদি বহন নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকার আশা করে, এই নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেন্টমার্টিন দ্বীপের নাজুক পরিবেশ ও অনন্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত থাকবে এবং দ্বীপটি হবে দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
প্রসঙ্গত, সেন্টমার্টিন দ্বীপে পরিবেশবান্ধব ভ্রমণ বাস্তবায়ন বিষয়ে গত মঙ্গলবার পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, ই-টিকেটিং ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নকারী সংস্থার প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইসি পুনর্গঠনের দাবি এনসিপির

নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছি। প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছি যে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়, স্বচ্ছ নয়। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের যেভাবে কাজ করার কথা ছিল সেটি তারা করছে না। আমরা বলেছি যে, কিছু দলের প্রতি নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাত রয়েছে, কিছু দলের প্রতি তারা বিমাতাসুলভ আচরণ করছে। তারা কীভাবে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে সেসব বিষয়ও আমরা বুঝিয়ে বলেছি।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
শাপলা প্রতীক নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কথা বলছিলেন এনসিপির নেতারা। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা’ না পাওয়ার দায় নির্বাচন কমিশনকে দিচ্ছে। এনসিপির নেতাদের দাবি, কমিশন প্রভাবিত হয়ে এনসিপিকে শাপলা প্রতীক দিচ্ছে না।
বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদ পুরো পরিবর্তনের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, কেউ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বললে তাদের দুরভিসন্ধি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, উপদেষ্টা পরিষদের নিরপেক্ষতা এবং দক্ষতা নিশ্চিত করা লাগবে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য। সে দাবির সঙ্গে ভিন্নমত নেই। কিন্তু এই উপদেষ্টা পরিষদ পুরো পরিবর্তন করতে হবে, এটার আসলে সুযোগ নেই।’
জুলাই সনদ স্বাক্ষরের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই সনদের কাগজে মূল্যে আমরা বিশ্বাসী নই। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, সেটার নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই এনসিপি স্বাক্ষর করবে। সে ক্ষেত্রে আমরা সাংবিধানিক একটি আদেশের কথা বলেছি। যে আদেশটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জারি করবেন।’
তিন দাবির বিষয়ে মনে করিয়ে দিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ বলেন, ‘জুলাই সনদের আদেশ শুধু ড. মুহাম্মদ ইউনূস জারি করবেন, নোট অব ডিসেন্টের কোনো কার্যকারিতা থাকবে না ও গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদের বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে- এই তিনি দাবি বিবেচনা করলে আমরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করব।’
জুলাই সনদ নিয়ে প্রস্তাবিত বিষয়গুলো ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনা করবেন বলে প্রধান উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন বলেও জানান এনসিপির আহ্বায়ক।
জুলাই গণহত্যার বিচার নিয়ে তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর সদস্যদের আদালতে আনা হয়েছে, এটাকে সাধুবাদ জানিয়েছি। এর মাধ্যমে আমরা একটি ধাপ এগিয়েছি। তবে আমরা দেখতে পাচ্ছি সারাদেশে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।’
প্রধান উপদেষ্টার কাছে নির্বাচনের আগে বিচারের রোডম্যাপ দেওয়ার দাবির কথাও জানান নাহিদ ইসলাম।
বিকেল ৫টায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করতে যমুনায় যান এনসিপির চার নেতা। নাহিদ ইসলাম ছাড়াও প্রতিনিধিদলে ছিলেন দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।

উপহার নিয়ে হয়ে গেলাম প্রতারক: তানজিন তিশা

জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। অভিনয়ের পাশাপাশি সরব আছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও। সম্প্রতি এই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন এক নারী উদ্যোক্তা। অভিযোগের প্রমাণস্বরূপ তিশার সঙ্গে ওই নারী উদ্যোক্তার কথোপকথনের কয়েকটি ভয়েস রেকর্ড এবং ইন্সটাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের স্ক্রিনশট প্রকাশ্যে আনেন।

অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে তা তানজিন তিশা জানতে পারেন। সেই অভিযোগের বিষয়ে এবার মুখ খুলেছেন তিশা। গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে অভিনেত্রী লেখেন, ‘গিফট নিয়ে হয়ে গেলাম প্রতারক। হাহা, আর ফটোশুট-ই যদি করাতে চান পারিশ্রমিক কই? আজব নারী উদ্যোক্তা! আপনার গিফটরে সালাম ‘

জানা গেছে, এ বছরের জানুয়ারি মাসের ১৭ তারিখে তানজিন তিশা তার ভেরিফায়েড ইন্সটাগ্রাম থেকে ‘এ্যাপোনিয়া’ নামে একটি অনলাইন ফ্যাশন পেজের ইন্সটাগ্রামে যোগাযোগ করেন। সেখানে তিনি জানতে চান জামদানি কী কী আছে? এরপর কয়েকটি শাড়ির ছবি পাঠানোর পর দাম জানতে চান এই অভিনেত্রী। ফ্যাশন পেজ থেকে জানানো হয় শাড়িগুলোর আলাদা আলাদা দাম।

এরপর তিশা একটি শাড়ি পছন্দ করেন এবং বাসার ঠিকানা দেন। ওই ফ্যাশন পেজ থেকে জানানো হয় তিশাকে শাড়িটি টাকা দিয়ে কিনতে হবে না, বিনিময়ে শাড়ি পরে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাড়ি এবং ফ্যাশন পেজটি প্রমোশন করে দিলেই হবে।

তিশাও এই প্রস্তাবটি মুহূর্তেই লুফে নেন। শাড়িটি যথাসময়ে তিশার বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু শাড়ি গ্রহণের প্রায় ১০ মাস সময় অতিবাহিত হলেও তিশা তার কথা রাখেননি। মাঝে ফ্যাশন পেজের স্বত্বাধিকারীর সঙ্গে কয়েকবার ভয়েস মেসেজ দিয়ে দ্রুত কাজটি করে দেওয়ার কথাও বলেন তিশা।

পরবর্তীতে তিশা ওই নারী উদ্যোক্তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। হোয়াটসঅ্যাপ, ফোন, ইন্সটাগ্রামসহ বিভিন্নভাবে তিশার সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন বলে জানান ওই নারী উদ্যোক্তা।

বাংলাদেশে হবে আফগানিস্তানের ‘হোম ম্যাচ’

এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে নিজেদের দেশে ম্যাচ আয়োজনের মতো অবকাঠামো না থাকায় হোম ম্যাচটি বাংলাদেশে আয়োজনের অনুরোধ জানায় আফগানিস্তান ফুটবল ফেডারেশন। তাদের সেই অনুরোধে সাড়া দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

আগামী ১৮ নভেম্বর বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত হবে আফগানিস্তান ও মিয়ানমারের মধ্যকার এশিয়ান কাপ বাছাই ম্যাচ। একই দিনে ‘সি’ গ্রুপের আরেক ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

আফগানিস্তান-মিয়ানমার ম্যাচ আয়োজনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ‘নিরপেক্ষ হোম ভেন্যু’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাফুফের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই আয়োজনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবল আয়োজনে বাংলাদেশ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।

আফগানিস্তান ফুটবল ফেডারেশনের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসির) অনুমোদনের পর বসুন্ধরা কিংস কর্তৃপক্ষের সম্মতি পেলে ম্যাচটি কিংস অ্যারেনায় আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়।

অন্ধের চোখে আলো ছড়াচ্ছে সোনাইমুড়ী অন্ধকল্যান সমিতি আই হসপিটাল

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে উন্নত বিশ্বের চিকিৎসা পদ্ধতির সাথে তাল মিলিয়ে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে অনন্য সাধারণ আধুনিক চক্ষু চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে ‘সোনাইমুড়ী অন্ধকল্যাণ সমিতি আই হসপিটাল’। অক্লান্ত পরিশ্রম করে দৃষ্টিহীন মানুষকে পৃথিবীর আলো দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে এই হাসপাতালের দায়িত্বরতরা।

বেগমগঞ্জ থানার সাবেক সার্কেল অফিসার (উন্নয়ন) মরহুম তাফাজ্জল আহমদ এবং সোনাইমুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম ইউনুস মিয়ার উদ্যোগে ১৯৭৮ সালের জানুয়ারি মাসে প্রতিষ্ঠিত হয় সোনাইমুড়ী অন্ধকল্যাণ সমিতি।

প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম ছাইদুল হক পাটোয়ারী এবং প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়ার হাত ধরে পথ চলা শুরু হয় এই সমিতির।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ‘আই ক্যাম্প’ পরিচালনার মাধ্যমে দরিদ্র-হতদরিদ্র রোগীদের চক্ষু চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং লেন্স স্থাপন করা ছাড়াও চশমা প্রদান করা হয়। রয়েছে সেমিনার সিম্পোজিয়াম, র‍্যালি, লিফলেট, বুকলেট,ম্যাগাজিনসহ নানা রকমের প্রচার কার্যক্রম।

সোনাইমুড়ী অন্ধকল্যাণ সমিতি ২০১১ সালের ১০ জুলাই সোনাইমুড়ী অন্ধকল্যাণ সমিতি আই হসপিটাল নামে অনুমোদন প্রাপ্ত হয়ে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে যাচ্ছে নোয়াখালী ও তার পাশ্ববর্তী জেলার জনগণকেও। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ৮০ শতাংশ এবং হাসপাতালের ২০ শতাংশ অর্থে প্লুকোমা চিকিৎসা, ইয়াগ লেজার, চোখের আল্ট্রাসনোগ্রাম (বি-স্ক্যান), সেলাই বিহীন ফ্যাকো অপারেশন, ডায়াবেটিক রোগীর চক্ষু পরীক্ষা, চোখের লেন্স পরীক্ষা সহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছে।

চক্ষু চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রিতা রাণী বলেন, তার চোখের চানি হলুদভাব থাবা ঘিরে নিচ্ছে পুরো চোখ। কিন্তু, টাকার অভাবে চোখের অপারেশন করতে পারছেন না। সোনাইমুড়ী অন্ধকল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়ার সহযোগিতায় স্বল্প খরচে চিকিৎসা সেবা পেয়েছেন।

আরেকজন সেবা গ্রহিতা ৭০ বছর ছুঁই ছুঁই হতদরিদ্র আবু কালাম রিক্সা চালিয়ে জিবিকা নির্বাহ করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগছেন। ছানি অপারেশন করতে বিভিন্ন স্থানে অর্থের অভাবে চোখের চিকিৎসা করাতে পারছেন না। পরে, নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের নিটক চোখের চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য যান। জেলা প্রশাসক আবু কালামকে সোনাইমুড়ী অন্ধকল্যাণ সমিতি আই হসপিটালে পাঠান। এখানে তিনি অল্প খরচে চিকিৎসাসেবা পেয়ে তিনি আনন্দিত।

সোনাইমুড়ী অন্ধকল্যাণ সমিতির দপ্তর সম্পাদক মো. আবুল বাসার বলেন, এই প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো রোগী চিকিৎসা সেবা না নিয়ে ফেরত যাবে না।

সোনাইমুড়ী অন্ধকল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া জানান, সেবাই মানুষকে মহৎ করে- এ স্লোগান নিয়ে ১৯৭৮ সালে কিছু মানুষের উদ্যোগ ও অনুপ্রেরণায় সোনাইমুড়ী অন্ধকল্যাণ সমিতি প্রতিষ্ঠা করা হয়। যার পেছনে ছিল সমাজের কিছু বিত্তমান ও মহান মানুষের দান-অনুদান।

সরকারের সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সোনাইমুড়ী অন্ধকল্যাণ সমিতির যৌথ অর্থায়নে আধুনিক চক্ষু হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছে। এটি পুরোদমে চালু হলে নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও পার্শ্ববর্তী কুমিল্লা জেলার কিছু অংশ নিয়ে প্রায় ৪০ লাখ মানুষকে বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাছরিন আক্তার বলেন, বাংলাদেশে এমন প্রতিষ্ঠান বিরল। আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত সেবারমান অত্যন্ত ভালো। গরিব-দুঃখিরাই বেশি এখান থেকে সেবা নিচ্ছে।

নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমি বলেন, সোনাইমুড়ী অন্ধকল্যান সমিতি আই হসপিটালের সেবার কার্যক্রম প্রচার-প্রচারণা করলে এখানে রোগী আরো বাড়বে। প্রতিদিন এই হাসপাতাল থেকে স্বল্প মূল্যে চক্ষু রোগীরা সেবা নিচ্ছে। গ্রাম অঞ্চলের ভূঁইফোড় ও অনুমোদনহীন চক্ষু চিকিৎসালয়ে না গিয়ে এই হাসপাতালে গেলে সেবা পাবে এবং প্রতারিত হবে না।

রুমায় চিকিৎসাসেবা পেলেন ৬৪৬ জন চক্ষুরোগী

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসায় সেবা পেলেন ৬৪৬জন। তার মধ্যে ওষুধ ও চশমা গ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন ২৮০ জন রোগী। বাকি ২৬২ জন ছানি অপারেশনের জন্য বাছাই করা হয়েছে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চট্টগ্রামে লায়ন্স হাসপাতালে নিয়ে ছানি অপারেশন করে চক্ষু চিকিৎসা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ২নং সদর ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে এই চক্ষু চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কেএসমংয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লামং, রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিনু মার্মা, রেমাক্রি প্রাংসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিরা বম এর নেতৃত্বে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা ক্যাম্প আয়োজন করা হয়।

কার্যক্রমটি উদ্বোধনকালে উদ্বোধক পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কেএস মং বলেছেন চক্ষু চিকিৎসাসেবা হচ্ছে- মানব জীবনের সবচেয়ে উত্তম সেবা। নিজ মন থেকে এ কথাটি অনুধাবিত হয়ে এর আগে রোয়াংছড়ি উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থানে তার ব্যক্তিগত সার্বিক ব্যবস্থাপনায় চক্ষু চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

তার এই ধারাবাহিকতায় নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা ও আলীকদম উপজেলাতেও এই কার্যক্রম পরিচালনা পরিচালনা করা হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ৩৬ বীর রুমা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মেহেদী সরকার। তিনি বলেছেন চিকিৎসা ক্যাম্পের মাধ্যমে দুর্গম এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনী সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। সম্প্রীতি বান্দরবানে সব উন্নয়ন কাজে একসাথে কাজ করা গেলে অদূর ভবিষ্যতে সম্প্রীতির পাশাপাশি আরো উন্নয়ন করা সম্ভব বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।

সভাপতিত্ব করেন ১নং পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা।

এ চক্ষু চিকিৎসাসেবা ক্যাম্পে সহযোগিতা করেন চট্টগ্রাম লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সৌমেন তালুকদার তার চিকিৎসক দল।

শিক্ষা ও মানবসেবা সংস্থা কোয়ান্টামের পরিচালক সাইফুর রহমান জুয়েল জানান এর আগেও বিভিন্ন সময় চট্টগ্রাম লায়ন্স হাসপাতালের এমন চিকিৎসা কার্যক্রমে তারা সহযোগিতা প্রায় সময় করে আসছেন। তাদের ও এ সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ক্যাম্পে দুই শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চোখের প্রাথমিক চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা পেয়েছেন।

এছাড়াও ২৬২ জন চক্ষু রোগীকে চোখের ছানি অপারেশন প্রয়োজন, তাদেরকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামের লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য সম্পূর্ণ বিনা খরচে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

এদিকে চক্ষু চিকিৎসা চলাকালে ৩৬ বীর রুমা জোনের উদ্যোগে তোমার সদর ইউনিয়ন পরিষদের মিলনায়তনে বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন করা হয়। এতে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ৩৬ বীর রুমা জোনের এসএমসি, আরএমও চিকিৎসক ক্যাপ্টেন মো. সোহাগ মিয়া সজীব, এবং এএমসি, আর এম ও ক্যাপ্টেন ওমর ফারুক। চক্ষু রোগী ব্যতীত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

স্থানীয়রা জানায়, পাহাড়ি এলাকার মানুষদের জন্য এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়- এতে অনেক দরিদ্র্য মানুষ ঘরে বসেই কাঙ্ক্ষিত চক্ষু চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন।