Home Blog Page 28

ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা কমাবেন কীভাবে

০

ক্রিয়েটিনিন হলো এক ধরণের রাসায়নিক বর্জ্য পদার্থ যা আমাদের পেশি ব্যবহারের ফলে তৈরি হয়। প্রোটিনযুক্ত খাবার খেলেও এই বর্জ্য পদার্থ তৈরি হতে পারে, তবে তা খুব সামান্য পরিমাণে। সাধারণত ক্রিয়েটিনিন কিডনিতে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। প্রাকৃতিকভাবে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা কমানোর বেশ কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ‘হেলদিবিল্ডার্জডে’র এক প্রতিবেদনে।

প্রোটিন গ্রহণ কমান

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ক্রিয়েটিনিন-সমৃদ্ধ খাবার খান, তাদের শরীরে এর মাত্রা অন্যদের তুলনায় বেশি হতে পারে। আপনার খাদ্যতালিকায় যদি দুগ্ধজাত খাবার বা রান্না করা লাল মাংসের (রেড মিট) প্রাধান্য থাকে, তবে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এর চেয়ে ভালো উপায় হলো শাকসবজি বা সবুজ শাকপাতা বেশি করে খাওয়া, কারণ এগুলো ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।

অ্যাপল সিডার ভিনেগার
ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা কমানোর আরেকটি উপায় হলো অ্যাপল সিডার ভিনেগার গ্রহণ। এর একটি কারণ হলো, এই ভিনেগারের অ্যাসিটিক বা অম্লীয় প্রকৃতি কিডনির পাথর দূর করতে সাহায্য করতে পারে। এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে এক টেবিল চামচ অ্যাপল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে পান করা। বিশেষ করে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা-সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পর এটি পান করা উপকারী।

দারুচিনি
ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা কমানোর ক্ষেত্রে দারুচিনি বেশ কার্যকর, কারণ এটি প্রাকৃতিক মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে। আপনার পানীয়ের সাথে আধা থেকে এক চা চামচ দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে পান করলেই হবে। ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিনে অন্তত একবার এটি পান করা উচিত।

ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া
ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা কমানোর আরেকটি উপায় হলো ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার বেশি করে খাওয়া। ফাইবার শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে এবং একই সাথে পেট ভরা রাখতেও সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা পর্যাপ্ত ফাইবারযুক্ত খাবার খান, তাদের শরীরে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা অন্যদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকে।

কঠোর ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন

পেশির ক্রমাগত কাজের ফলে শরীরে ক্রিয়েটিনিন তৈরি হয়, তাই খুব কঠোর ব্যায়াম করলে এর মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। যদি আপনি ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা কমাতে চান, তবে ব্যায়ামের তীব্রতা বা মাত্রা কমিয়ে আনা জরুরি। এতে পেশি থেকে উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থের পরিমাণ হ্রাস পাবে।

‘হাঙর নদী গ্রেনেড’খ্যাত অভিনেতা বিজয় হাসপাতালে

০

কালজয়ী সিনেমা ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এ ‘রইছ’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা পাওয়া অভিনেতা বিজয় চৌধুরী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে তিনি রাজধানীর জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জের সিংগাইরে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান শেষে স্ত্রী সালমা চৌধুরীকে নিয়ে ঢাকায় ফেরার পথে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন বিজয় চৌধুরী। পরে তাকে দ্রুত জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রথমে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। পরে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে আইসিইউ থেকে সাধারণ বেডে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাবার অসুস্থতার খবর জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তার মেয়ে ফিওনা চৌধুরী।

বিজয় চৌধুরীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমার বাবা আবু আজাদ চৌধুরী (বিজয়) বর্তমানে অনেক অসুস্থ। তিনি এখন হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছেন এবং চিকিৎসাধীন। আমার বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন তাকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং সব বিপদ-আপদ থেকে হেফাজত করেন।’

উল্লেখ্য, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৯৭ সালে ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ সিনেমাটি নির্মাণ করেন চাষী নজরুল ইসলাম। এই চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে ‘রইছ’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের নজর কাড়েন বিজয় চৌধুরী।

রিলসে দেখাতেন নিজের স্বর্ণ-টাকা, ইনফ্লুয়েন্সারের বাড়িতে কোটি টাকার চুরি

০

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত স্বর্ণ, হীরা ও নগদ অর্থ প্রদর্শন করতেন ভারতের কন্যাকুমারীর এক ইনফ্লুয়েন্সার। এবার তার বাড়ি থেকেই প্রায় ১ কোটি রুপি মূল্যের স্বর্ণালংকার, হীরার গয়না ও নগদ টাকা চুরি হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই ইনফ্লুয়েন্সারের নাম মধুমিতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অনুসারী ৪ লাখ ৫০ হাজারের বেশি। ইনস্টাগ্রাম রিল ও ছবিতে বিলাসবহুল জীবনযাপনের বিভিন্ন দৃশ্য তুলে ধরতেন তিনি। নিয়মিত সোনা ও নগদ টাকার ছবি-ভিডিওও পোস্ট করতেন।

চুরির ঘটনায় তদন্তে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও রিলও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এসব পোস্টের মাধ্যমে চোরেরা তার অবস্থান কিংবা পরিবারের চলাফেরার বিষয়ে কোনো তথ্য পেয়েছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশের ভাষ্য, মধুমিতার পরিবারের বাড়ি থেকে প্রায় ১২০ ভরি স্বর্ণ ও হীরার গয়না এবং ৫০ হাজার রুপি নগদ খোয়া গেছে। বৃহস্পতিবার পরিবারের সদস্যরা কেনাকাটার জন্য বাইরে গেলে নাজেরকোইলের ভিআইপি গার্ডেন এলাকার বাড়িতে ঢুকে চোরেরা এসব নিয়ে যায়।

বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান, লকার খোলা এবং ভেতরের মূল্যবান জিনিসপত্র নেই। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

মধুমিতার পুরোনো একটি রিলেও তিনি মূল্যবান জিনিসপত্র নিরাপদে রাখার বিষয়ে কথা বলেছিলেন। এখন সেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও ভিডিওই চুরির তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।

তদন্তকারীরা বিশেষ করে গয়না, নগদ টাকা এবং একটি শিশুর ওপর টাকা ছড়িয়ে দেওয়ার ভিডিওসহ বিভিন্ন পোস্ট খতিয়ে দেখছেন। চোরেরা এসব তথ্য ব্যবহার করে পরিবারের চলাফেরার সময় সম্পর্কে ধারণা পেয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের অংশ।

চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পাঁচটি বিশেষ দল গঠন করেছে পুলিশ।

গাড়ির জ্বালানি খরচ কমানোর নিয়ম শিথিল করছে যুক্তরাষ্ট্র

০

বাইডেন প্রশাসনের নেওয়া উদ্যোগ থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগ ২০৩১ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকা গাড়ির জ্বালানি সাশ্রয়-সংক্রান্ত মানদণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে শিথিল বা কমিয়ে চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে। কর্মকর্তারা শনিবার এ তথ্য জানিয়েছেন। বাইডেন প্রশাসন গাড়ি নির্মাতাদের আরও বেশি বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরিতে বাধ্য করতে চেয়েছিল।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি গাড়ি ও ট্রাকের জন্য নতুন জ্বালানি সাশ্রয়-সংক্রান্ত মানদণ্ড অনুমোদন করেছেন। এর ফলে নতুন গাড়ির দাম কমবে। পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি বলেছেন, সোমবার আমেরিকার গাড়ি-শিল্পের কর্মীদের জন্য একটি বড় বিজয় আসতে চলেছে।

পরিবহন বিভাগের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, নতুন মানদণ্ডের ফলে নতুন গাড়ির দাম কমবে। তবে এর ফলে আগামী কয়েক দশকে জ্বালানি ব্যবহার ও কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ বাড়বে।

ফেব্রুয়ারির শেষভাগে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত শুরুর পর জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় আমেরিকান গাড়িচালকরা যখন বাড়তি ব্যয়ের চাপে রয়েছেন, তখনই ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।

ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে সরকার গাড়ি নির্মাতাদের আরও বেশি বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরিতে উৎসাহিত করেছিল, যাতে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সাশ্রয়-সংক্রান্ত মানদণ্ড পূরণ করা যায়। বাইডেন ২০২৪ ও ২০২৫ মডেল বছরের গাড়ির জন্য জ্বালানি সাশ্রয়ের আবশ্যিক হার বছরে ৮ শতাংশ, ২০২৬ সালের জন্য ১০ শতাংশ এবং ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ২ শতাংশ করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

ট্রাম্প প্রশাসন গত ডিসেম্বরে ২০২২ মডেল বছরের জ্বালানি সাশ্রয় বা ‘ফুয়েল ইকোনমি’র মানদণ্ড কমিয়ে আনার প্রস্তাব দেয়। এরপর ২০৩১ সাল পর্যন্ত এ মানদণ্ড বার্ষিক ০.২৫ শতাংশ থেকে ০.৫ শতাংশ হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়।

পরিবহন বিভাগ ২০৩১ সালের মধ্যে গাড়ির বহরের গড় জ্বালানি দক্ষতা প্রতি গ্যালনে ৩৪.৫ মাইল (প্রতি লিটারে ১৪.৭ কিলোমিটার) করার প্রস্তাব দিয়েছে। বাইডেন প্রশাসনের অধীনে এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রতি গ্যালনে ৫০.৪ মাইল (প্রতি লিটারে ২১.৪ কিলোমিটার)। বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে প্রতিটি নতুন গাড়ির গড় দাম ৯৩০ ডলার কমবে।

তবে বিভাগটি জানিয়েছে, এর ফলে ২০৫০ সাল নাগাদ জ্বালানি খরচ প্রায় ১০০ বিলিয়ন গ্যালন এবং জ্বালানি বাবদ ব্যয় ১৮৫ বিলিয়ন ডলার বেড়ে যাবে। পাশাপাশি কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ বাড়বে প্রায় ৫ শতাংশ।

ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের ফলে গাড়ি নির্মাতাদের ভোক্তাদের কাছে কম জ্বালানি-দক্ষ গাড়ি বিক্রি করা সহজ হবে। বাইডেন প্রশাসনের অধীনে পরিবহন বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা পিট বুটিগিগ বলেন, মানদণ্ড কমিয়ে আনার ফলে ট্রাম্পের চলমান কর্মকাণ্ডই আরও ত্বরান্বিত হবে—যার মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ চীনের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে এবং আমেরিকানদের জ্বালানি কেনার জন্য বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

বাইডেন প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো, পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তর ত্বরান্বিত করা এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তি ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বনেতায় পরিণত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিল।

সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্স আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৪১, টিকা সংকট

০

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দুটি গ্রামে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৪১ জনে দাঁড়িয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে স্থানীয় লোকজনের দাবি, ১০০ জনের বেশি আক্রান্ত হয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের দুলাল গ্রামের হাবিবুর রহমানের একটি ও ১৮ সেপ্টেম্বর সর্বানন্দ ইউনিয়নের বাছহাটী গ্রামের মঞ্জুরুল ইসলামের দুটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে। তারা গ্রামের মানুষের কাছে মাংস বিক্রি করেন। এর পরই দুই গ্রামের অনেকের শরীরে ফোসকা পড়ে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয়। হাসপাতালে পরীক্ষা করালে রোগটি শনাক্ত হয়।

সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় ২৩ সেপ্টেম্বর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. সোহেল রহমান, ডা. কাজী তাহমিনা করিম, এফইটিসি ফেলো ডা. মোস্তফা মাহমুদ, ডা. মেরি হাপাং, মেডিকেল এনথ্রোপলজিস্ট ড. দৌলত খানসহ একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এপিডেমিওলজি সেলের ডেপুটি চিফ এপিডেমিওলজিষ্ট রফিকুল ইসলামসহ একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

এদিকে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট গরুর সংখ্যা ২ লাখ ৫৪ হাজার। নিয়ম অনুযায়ী, যে এলাকায় অ্যানথ্রাক্স দেখা দেয় তার আশপাশের তিন কিলোমিটারের মধ্যে সব গরুকে টিকা দিতে হয়। এই হিসাবে টিকা প্রয়োজন ৪৫ হাজার। গতকাল শনিবার পর্যন্ত টিকা পাওয়া গেছে ৩০ হাজার। জনবল সংকটে সব টিকাও দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কে এম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, আক্রান্তদের চিকিৎসা চলছে। টিকা কার্যক্রম অব্যাহত। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামরুল হাসান বলেন, দিন দিন রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে।

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ২৫৪

০

কুমিল্লা জেলায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার জেলার ১৮টি থানায় পুলিশের সব ইউনিট একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করে। রোববার সকালে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন স্থানসহ জেলার প্রতিটি থানার বিভিন্ন এলাকায়, যেখানে কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাত রয়েছে, সেসব স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অভিযানে সরাসরি অংশ নেন। অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানে নগরী থেকে ৩৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আনিক (১৯) অন্যতম। তিনি নগরীর ছোটরা মফিজাবাদ কলোনির আবুল কাশের ছেলে। পুলিশের ভাষ্য, আনিক কিশোর গ্যাং রতন গ্রুপের প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনের ভাগনে। রতন বর্তমানে আত্মগোপনে থাকায় আনিকই গ্রুপটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার সমকালকে বলেন, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৩৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে গত বুধবার কুমিল্লায় এক রাতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১৭৩ জনকে আদালতে পাঠানো হয়।

সম্প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনের কিশোর গ্যাংয়ে সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে আসার পর জেলায় কিশোর গ্যাং নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আটক করতে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

ডেঙ্গুতে এক দিনে ৮ জনের মৃত্যু ঢাকার বাইরে বাড়ছে রোগী, খুলনার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক

০

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৪৩২ জন। মারা যাওয়া পাঁচজন খুলনা বিভাগের বাসিন্দা। ঢাকা বিভাগের তিনজন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২১৯ হয়েছে। শুধু সেপ্টেম্বরেই মারা গেছেন ১২২ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১০৬ জন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ভর্তি হয়েছেন ১৭৬ জন। ঢাকা বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৮০ জন। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ২০৪, চট্টগ্রামে ২০৯, খুলনায় ২৪১, ময়মনসিংহে ১১২, রাজশাহীতে ৫৭ এবং রংপুরে ৫৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।  চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭১ হাজার ৫৩৬ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৬৬ হাজার ২৫৬ জন।

খুলনার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক
ডেঙ্গু ছড়ানোয় খুলনার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ৪৮ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডেঙ্গু আক্রান্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, গত আগস্ট থেকে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। গত শুক্রবার সরকারি ছুটি থাকায় ৪৮ ঘণ্টার তথ্য একসঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে। এই সময়ে পাঁচজনের মৃত্যু এবং ২৭৬ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২ হাজার ৩০২ জন। এর মধ্যে ১০ হাজার ৮১৮ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে এক হাজার ৪১১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন।

মশা নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগ
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি জানান, মশার লার্ভা ও উড়ন্ত মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। জ্বরে আক্রান্তদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে জনবল বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করা হচ্ছে।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, কেসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক দিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ৩০টি শয্যা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকেও মশারি বিতরণসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

২০২৩ সালে সর্বোচ্চ মৃত্যু
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর হিসাব রাখছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল। ওই বছর তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং মারা যান এক হাজার ৭০৫ জন। গত বছর ডেঙ্গুতে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। ওই বছর শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ দুই হাজার।

যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

০

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সকাল সাড়ে আটটার দিকে তাকে বহনকারী ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইনসের নিয়মিত ফ্লাইট নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়ে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২৩ মিনিটে ফ্লাইটটি দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে ছয় ঘণ্টার যাত্রাবিরতির পর রাত ২টা ১০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে পৌঁছান ৩৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রতিনিধি দলে ছিলেন তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিমানমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খানসহ অন্যরা।

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন তারেক রহমান। তার বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন।

এর ১৩ বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন তারেক রহমানের মা খালেদা জিয়া। এরপর ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন।

সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়া সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজ এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া প্রাতরাশেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান।

সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটিই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর। এর আগে গত জুনে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন।

‘চাঁদা না দেওয়ায়’ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুর, লুটের অভিযোগ

০

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর অভিনেতা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। সালমানের অভিযোগ, বিএনপির লোকজন তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় তার স্টুডিওতে হামলা চালানো হয়েছে।

শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে এ ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্টুডিওটির এক কর্মকর্তা দাবি করেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় এক থেকে দেড়শ লোক হঠাৎ সেখানে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। তাদের কয়েকজনের হাতে চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কর্মকর্তা দাবি, হামলাকারীরা সেখানে গিয়েও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায়। পাশাপাশি স্টুডিওতে থাকা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন না সালমান মুক্তাদির। খবর পেয়ে তিনি বিমানে ঢাকায় আসেন। পরে স্টুডিওতে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি দেখে ফেসবুক লাইভে বিষয়টি তুলে ধরেন।

ভিডিওতে সালমান মুক্তাদিরকে বলতে শোনা যায়, ‘ভিডিওটা শুধু খুবই স্পেশালি বানানো আমাদের যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, উনার জন্য। আপনি প্লিজ কোনো টেনশন নিবেন না, দিস ইজ নরমাল ইন বাংলাদেশ।’

সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘যারা অ্যাটাক করছে, ওরা হয়তো জানত না যে এটা আমার জায়গা। বাট আমি পড়ছি অ্যাজ আ নরমাল সিটিজেন হিসেবে। …আমাদের এখানকার যে ল্যান্ডওনার, উনি হয়তো খুব সম্ভবত আওয়ামী লীগ…উনার সাথে চাঁদাবাজি নিয়ে কোনো একটা কিছু হইছে যে—চাঁদা চেয়েছে বা সামথিং…। তো ওদের রিভেঞ্জ থেকে মাঝখানে আমাদের মানুষজন পড়ে গেছে। উনার প্রপার্টি ড্যামেজ করতে গিয়ে আমার প্রপার্টি এখানে মাঝখানে পড়ছে।’

সালমান জানান, স্টুডিওতে বিভিন্ন ক্লায়েন্টের শুটিংয়ের ফুটেজ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ নানা কাজের উপকরণ রাখা ছিল। এসব মালামাল নিয়ে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বড় হতে পারে। তবে, তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতির নির্দিষ্ট অঙ্ক জানাতে পারেননি তিনি।

ফেসবুক লাইভে সালমান বলেন, ক্লায়েন্টদের অনেক ফুটেজ ও শুটিংয়ের উপকরণ স্টুডিওতে ছিল। সেগুলো হারিয়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে।

নিজের স্টুডিওর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখিয়ে সালমান বলেন, ‘আমাদের স্টুডিও ডিস্ট্রয় হয়ে গেছে।’ তার দাবি, সৃজনশীল কাজ ও শিল্প-সংস্কৃতির জন্য এমন স্টুডিও দেশে খুব বেশি নেই। তার স্টুডিওটা নষ্ট হয়ে সামগ্রিক ক্ষতি হলো।

হামলার ঘটনায় বিএনপির লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করে সালমান বলেন, ‘বিএনপির লোকজন যারা করছে, এটা তোমাদের চাঁদাবাজি। কেন তোমরা আমার ড্রিমটা নষ্ট করছো?’

তবে সালমানের এই অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট কোনো নেতাকর্মীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হামলার পরও কাজ বন্ধ করবেন না বলে জানিয়েছেন সালমান। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা রিলাক্স। এটা কিছুই না। আমরা এখানেই কাজ করব।’

হামলার ঘটনায় মামলা করার কথাও জানিয়েছেন সালমান মুক্তাদির। হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্রাম্পের ভোটার যাচাই ব্যবস্থা পুনর্বহাল করল সুপ্রিম কোর্ট

০

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সম্প্রসারিত অভিবাসন ডেটাবেস ব্যবহারের পথ পুনরায় খুলে দিয়েছে। প্রশাসনের দাবি, অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়া ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে যোগ্য ভোটাররাও ভুলভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

বিচারপতিরা বিচার বিভাগের আবেদন মঞ্জুর করে নিম্ন আদালতের একটি আদেশ স্থগিত করেছেন। ওই আদেশের কারণে অঙ্গরাজ্যগুলো ফেডারেল নথির সঙ্গে মিলিয়ে নিবন্ধিত ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ে ‘সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর’সহ অন্যান্য তথ্য ব্যবহার করতে পারছিল না।

সুপ্রিম কোর্টে রক্ষণশীল বিচারপতিদের ৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। শুক্রবারের আদেশে তিন উদারপন্থী বিচারপতি ভিন্নমত পোষণ করেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা বলেছেন, বাদীদের যুক্তি শেষ পর্যন্ত টিকবে না-ও পারে। কারণ ফেডারেল আইন অনুযায়ী, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনসহ অন্যান্য সংস্থার কাছ থেকে নাগরিকত্ব ও অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য নিতে পারে।

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটপ্রক্রিয়ায় ফেডারেল সরকারের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই তথ্য আদান-প্রদান করা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচন পরিচালনার মূল এখতিয়ার অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে।

গত বছর ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ‘সিস্টেমেটিক এলিয়েন ভেরিফিকেশন ফর এনটাইটেলমেন্টস’ বা ‘সেভ’  ডেটাবেসটি নতুন করে সাজায়। এতে একসঙ্গে অনেক রেকর্ড অনুসন্ধান এবং সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর ব্যবহার করে তথ্য খোঁজার সুযোগ তৈরি হয়।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিএইচএস-এর জেনারেল কাউন্সেল জেমস পার্সিভাল বলেন, সরকারি ডেটা ব্যবহার করে অঙ্গরাজ্যগুলোকে অ-নাগরিকদের অবৈধভাবে ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখতে সহায়তার জন্যই সুপ্রিম কোর্টে জরুরি আবেদন করা হয়েছে।

ডেটাবেসটির পরিধি বাড়ানোর পর রিপাবলিকান-শাসিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ভোটার তালিকার সঙ্গে এর তথ্য মিলিয়েছে। এতে সম্ভাব্য অ-নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত কিছু ভোটারের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, নির্বাচনের নিরাপত্তার চেয়ে ভোটার সংখ্যা কমিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি এখানে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, এতে যোগ্য ভোটাররা—যাদের অনেকেই ডেমোক্র্যাট-ঘেঁষা—ভোটাধিকার হারাতে পারেন।

ট্রাম্প অভিবাসন বিষয়ে কঠোর নীতি নিয়েছেন এবং ব্যাপক ভোট জালিয়াতির দাবি করে আসছেন। এর মধ্যে ২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে তাঁর পরাজয়ের বিষয়টিও রয়েছে।

মামলাকারী অধিকার সুরক্ষা সংগঠনগুলোর দাবি, সংশোধিত সেভ ব্যবস্থায় অনেক মানুষকে ভুলভাবে অ-নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের মতে, ডেটাবেসের তথ্য অনেক সময় সেকেলে হওয়ায় বৈধ নাগরিক ও ভোটাররাও তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন। ব্যবস্থাটির সামগ্রিক ত্রুটির হারও প্রকাশ্যে জানা নেই; ডিএইচএস ও বিচার বিভাগ এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি।

বাদীদের প্রতিনিধিত্বকারী ‘সিটিজেনস ফর রেসপন্সিবিলিটি অ্যান্ড এথিকস ইন ওয়াশিংটন’ সিদ্ধান্তটিকে ‘অত্যন্ত হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করেছে। সংগঠনটির মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অবিশ্বস্ত তথ্যের ভিত্তিতে ভোটার তালিকা ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ভিন্নমত পোষণকারী বিচারপতি কেটানজি ব্রাউন জ্যাকসন লিখেছেন, অল্পসংখ্যক বৈধ ভোটারের ওপর বাড়তি বোঝা চাপানো বা তাঁদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার ক্ষতি সরকারের সম্ভাব্য ক্ষতির চেয়ে বেশি।

সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা নথিতে টেক্সাসের ট্রাভিস কাউন্টির একজন নির্বাচনী কর্মকর্তা জানান, সেভ-তে অ-নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের ২৫ শতাংশই আগে মার্কিন নাগরিকত্বের প্রমাণ দিয়েছিলেন। মিসৌরির সেন্ট লুইস কাউন্টিতে ব্যবস্থাটির দেওয়া ফলাফলের অন্তত ৮১ শতাংশ ত্রুটিপূর্ণ ছিল বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

‘লিগ অব উইমেন ভোটারস’ ও ‘ইলেকট্রনিক প্রাইভেসি ইনফরমেশন সেন্টার’ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সংশোধিত সেভ ব্যবস্থা স্থগিতের দাবিতে মামলা করে। তাদের দাবি, এই পরিবর্তন ফেডারেল গোপনীয়তা আইনসহ অন্যান্য আইন লঙ্ঘন করেছে।

ওয়াশিংটন ডিসির ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ স্পার্কল সুকনানান জুনে ডেটাবেসটির কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দেন। তিনি ব্যবস্থাটিকে বিশৃঙ্খলভাবে তৈরি এবং নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত তথ্যকে অবিশ্বস্ত বলে উল্লেখ করেন। ৪ সেপ্টেম্বর ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া সার্কিটের ইউএস কোর্ট অব আপিলস ২-১ ভোটে ওই রায় স্থগিত করতে অস্বীকৃতি জানালে প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে যায়। বিচার বিভাগের আইনজীবীরা নিম্ন আদালতের আদেশকে ‘অসমর্থনযোগ্য’ এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের ‘অখণ্ডতার জন্য হুমকি’ বলে দাবি করেন।

প্রশাসনের সমর্থনে মামলায় পক্ষভুক্ত হওয়া টেক্সাস ব্যবস্থাটি নির্ভরযোগ্য নয়—এমন দাবিও চ্যালেঞ্জ করেছে। এদিকে ফ্লোরিডায় পৃথক আইনি প্রক্রিয়ার কারণে ফ্লোরিডা, আইওয়া, ইন্ডিয়ানা ও ওহাইওতে সংশোধিত সেভ ব্যবস্থা ব্যবহার অব্যাহত রাখতে পারছে ট্রাম্প প্রশাসন।