Home Blog Page 298

ব্যাংক লুটেরাদের জন্য কঠিন হুঁশিয়ারি

পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার আমলের গত ১৬ বছরে যারা ব্যাংকের টাকা লোপাট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা এসেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, গত ১৬ বছরে ব্যাংকের টাকা লোপাটকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কেউই ছাড় পাবে না।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা-বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষৎকারে আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আপনারা দেখেছেন এরই মধ্যে ব্যাংকের টাকা লোপাটকারীদের অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদেরকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বারকাতের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওনাকে এখন অন্য মামলায় আটক করা হয়েছে। কিন্তু অচিরেই তার আর্থিক অনিয়মের বিষয়েও মামলা হবে।
ড. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘বারকাত সাহেবের আমলে জনতা ব্যাংক থেকে যেসব লোন হয়েছে, সেগুলো সরকারের বিবেচনায় আছে। প্রত্যেকটি টাকার হিসাব নেওয়া হবে। যাদের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে আর্থিক খাতে বিশাল অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু জনতা ব্যাংক নয়, অন্য সব ব্যাংকের বিষয়েও সরকারের নজরে আছে। সময়মতো জাতিকে সব বিষয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।’
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী জানান, আর্থিক খাতের অনিয়মের মামলা করতে অনেক ডকুমেন্ট দরকার হয়। হুট করে করা যায় না। তাই টাকা পাচার বা টাকা লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের এখন অন্য মামলায় আটক করা হলেও অচিরেই তাদের বিরুদ্ধে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে টাকা আত্মসাতের মামলা করা হবে।
টাকা পাচার রোধে বর্তমান সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসটেন্স চুক্তি করছে বলেও জানান আনিসুজ্জামান চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘আমরা এমন আইন করে যাব, যাতে আগামীতে বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার করতে গেলে দশবার চিন্তা করবে। কারণ, তারা কেউই রেহাই পাবে না। কোনোভাবেই তাদেরকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি এ ব্যাপারে কাজ করছে বলেও জানান প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী।
আনিসুজ্জামান বলেন, ‘গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে যত টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে- তা যে দেশেই হোক না কেন, তা ফিরিয়ে আনার সব প্রকার জোর প্রচেষ্টা চলবে। তবে এক্ষেত্রে প্রত্যেক দেশের সঙ্গে আমাদের আলাদা চুক্তি করতে হচ্ছে। এ জন্যই একটু সময় লাগছে।’
তিনি আরও জানান, সুইজারল্যান্ড, আবুধাবি, কাতার, দুবাই, সিঙ্গাপুর, আমেরিকা, কানাডা ও যুক্তরাজ্য তথা লন্ডনসহ প্রতিটি দেশের আইন-কানুন আলাদা। কোনো কোনো দেশে টাকা পেয়ে পাচারকারীদের নাগরিকত্ব অথবা স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এজন্য যারা টাকা পাচার করেছে, তাদেরকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ এক্ষেত্রে তাদের আইন-কানুনের দোহাই দিয়ে স্বাভাবিকভাবেই টাকা ফেরত দিতে চাইছে না।
এই অর্থনীতিবিদ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ হাতিয়ার হলো আমাদের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আন্তর্জাতিকভাবে তার একটি উচ্চতর সম্মান ও মর্যাদা রয়েছে। এ কারণে তিনি যখন বাংলাদেশ নিয়ে কোনো সহায়তা চাইবেন, কোনো দেশ তা প্রত্যাখ্যান করতে পারবে না। এটাই আমাদের বড় অস্ত্র। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার আর্থিকভাবে সফলতার দ্বারপ্রান্তে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আরও বলেন, কোনো দেশে বিপ্লবের কারণে ক্ষমতার পরিবর্তন হলে সেখানে জিডিপি পড়ে যায়, কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বাড়ে এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়। কিন্তু মহান আল্লাহর রহমতে আমাদের দেশে তা হয়নি।

জামায়াতের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ ৫ দফা দাবিতে দ্বিতীয় ধাপে ১২ দিনের যুগপৎ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি জনগণের আন্দোলনের কোনো প্রতিফলন হচ্ছে না। সরকারের উচিত ৫ দফা দাবি মেনে নেওয়া। সরকার যদি জনগণের দাবি উপেক্ষা করে,তাহলে দেশের জনগণ ন্যায্য দাবি আদায়ে রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত রাখতে বাধ্য হবে। সেজন্যই আমাদের এই দ্বিতীয় দফা কর্মসূচি।
তিনি বলেন, ৫ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপে আমাদের কর্মসূচি হচ্ছে- ১. পহেলা অক্টোবর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ৫ দফা গণদাবির পক্ষে জনমত গঠনের লক্ষ্যে গণসংযোগ। ২. ১০ অক্টোবর ঢাকায় ও বিভাগীয় শহরে গণমিছিল। ৩. ১২ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান।
জামায়াতের ৫ দফা দাবি :
১. জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে হবে।
২. নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতে হতে হবে।
৩. সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।
৪. গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান হতে হবে।
৫. বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ভারতীয় তাবেদার ও ফ্যাসিবাদের দোসর জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলের বিচার করতে হবে এবং বিচার চলাকালীন তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে।

ঐক্যবদ্ধ জনগণ সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবে : রিজভী

শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে এবারও নাশকতামূলক কাজ করার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, অপশক্তিকে প্রতিহত করা হবে। ঐক্যবদ্ধ জনগণ সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবে।
মঙ্গলবার শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশকে কখনও কারও উপনিবেশ বানাতে দেয়া হবে না উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অপশক্তিকে প্রতিহত করা হবে। এবারও দুর্গাপূজাকে ঘিরে নাশকতার পরিকল্পনা ছিল। তবে অতীতের মতো সেটি সফল হয়নি।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, পরাজিত শক্তি নাশকতামূলক কাজ করার চেষ্টা করছে। তবে ঐক্যবদ্ধ জনগণ সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবে।

এডিবির প্রতিবেদন প্রকাশ : ২০২৬ সাল শেষে দেশের প্রবৃদ্ধি বেড়ে হবে ৫ শতাংশ

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হবে। যা আগামী ২০২৬ সাল শেষে ৫ শতাংশে উন্নীত হবে। তারা বলছে, যদিও পোশাক রপ্তানি স্থিতিশীল রয়েছে, তবুও প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতির কারণ মূলত রাজনৈতিক পট পরিবর্তন।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এডিবি তাদের এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে এডিবি জানায়, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করার ওপর এবং নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি নির্ভর করবে।

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, বাংলাদেশের বাণিজ্যের ওপর মার্কিন শুল্কের প্রভাব এখনও দেখা যায়নি এবং ব্যাংকিং খাতে দুর্বলতা রয়ে গেছে। উচ্চতর অর্থনৈতিক কর্মক্ষমতা অর্জনের জন্য এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা অপরিহার্য। ২০২৬ অর্থবছরের দৃষ্টিভঙ্গির কিছু নেতিবাচক ঝুঁকি রয়ে গেছে। বাণিজ্য অনিশ্চয়তা, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং সম্ভাব্য নীতিগত স্থিতিস্থাপকতা অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বজায় রাখা এবং কাঠামোগত সংস্কার ত্বরান্বিত করা জরুরি। মূলত টেকসই উন্নয়নে এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এডিবি আরও জানায়, পাইকারি বাজারে সীমিত প্রতিযোগিতা, অপর্যাপ্ত বাজার তথ্য, সরবরাহ শৃঙ্খলের সীমাবদ্ধতা এবং টাকার দুর্বলতার কারণে মুদ্রাস্ফীতি ২০২৪ অর্থবছরের ৯ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ২০২৫ অর্থবছরে ১০ শতাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলতি হিসাবে ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপির ০ দশমিক ০৩ শতাংশের সামান্য উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ২০২৪ অর্থবছরে জিডিপির ১ দশমিক ৫ শতাংশ ঘাটতি থেকে বেশি, যা বাণিজ্য ব্যবধান সংকুচিত এবং শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ দ্বারা সমর্থিত।

২০২৬ অর্থবছরে ‘ভোগ বৃদ্ধি’ প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে থাকবে, শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং নির্বাচন-সম্পর্কিত ব্যয়ই প্রধান হবে। তবে, সংকোচনশীল আর্থিক ও রাজস্ব নীতি, বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগও কমবে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধি এবং ইইউতে কঠোর প্রতিযোগিতাসহ বিশ্বব্যাপী শুল্ক বৃদ্ধি রপ্তানি এবং প্রবৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ বর্ধিত প্রতিযোগিতার প্রতিক্রিয়ায় রপ্তানিকারকরা ইউনিটের দাম কমাতে বাধ্য হতে পারেন।

এডিবি একটি শীর্ষস্থানীয় বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক যা এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করে। জটিল চ্যালেঞ্জগুলো সমাধানের জন্য তার সদস্য এবং অংশীদারদের সঙ্গে একসাথে কাজ করে। এডিবি জীবনকে রূপান্তরিত করতে, মানসম্পন্ন অবকাঠামো তৈরি করতে ও আমাদের গ্রাহককে সুরক্ষিত করতে উদ্ভাবনী আর্থিক সরঞ্জাম এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব ব্যবহার করে। ১৯৬৬ সালে এডিবি প্রতিষ্ঠিত। সংস্থার সদস্য ৬৯টি দেশ।

পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব

দেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থের একটি অংশ আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তবে কী পরিমাণ অর্থ ফেরত আসবে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

পাচারের অর্থ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, টাকা যারা পাচার করে তারা এসব বুদ্ধি জানে, কীভাবে করতে হবে। এটা আনতে গেলে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। তবে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। অনেক লিগ্যাল ফার্মের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারির মধ্যে হয় তো কিছু আসতে পারে। বাকিটার জন্য আমরা প্রস্তুত করছি।

তিনি বলেন, এই ফরমালিটি কোনো সরকার অ্যাভয়েড করতে পারবে না। মনে করেন আমি বললাম- টাকা দিয়ে দাও সেন্ট্রাল ব্যাংকে, সুইস ব্যাংকে বলে দিলাম টাকা দিয়ে দাও, দেবে না তো। ওটা আপনার লিগাল ওয়েতে যেতে হবে, সেটা তো অলরেডি আমরা…।

তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন ১১-১২টা আমরা একেবারে হাই প্রায়রিটিতে দেখছি। আর বাকিগুলোর মধ্যে যেগুলো ২০০ কোটি টাকার বেশি তাদের কেউ ধরা হচ্ছে।

নতুন সরকার আপনাদের ধারাবাহিকতা রাখবে কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে সালেহউদ্দিন বলেন, রাখতে তারা বাধ্য। কারণ যে প্রসেসগুলো আমরা চালু করলে, ওইটা চালু না থাকলে তো টাকা ফেরত আনতে পারবে না। ওরা যদি বসে থাকে ফেরত আসবে না। আর যদি আনতে হয়, এই প্রসেসগুলো মেনটেইন করতে হবে। এটা তো ইন্টারন্যাশনাল প্র্যাকটিস। এটা ছাড়া কীভাবে আনবে।

কী পরিমাণ টাকা ফেরত আনা সম্ভব হবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সেটা আমি বলতে পারবো না। এটা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে প্রশ্ন করেন।

এ সময়ও কিছু পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আচ্ছা কিছুদিন পরে দেখি বাংলাদেশ ব্যাংকে এটার একটা কমপ্রেসিভ ব্যাখ্যা দেবে। একটা রিভিউ আমরা করছি। দেখি কতটুকু আনা যায়। আপনারা জানেন অলরেডি অ্যাসেট ফ্রিজ করা হয়েছে বাহিরের কতগুলো দেশে। কোথায় ওদের টাকা আছে, কোথায় অ্যাকাউন্ট আছে, কোন কোন দেশে ওদের পাসপোর্ট আছে সেটার তথ্যও আছে। এখন বাকি একটু কাজ করতে যতটুকু সময় লাগে।

আপনারা উপদেষ্টা এলাকায় বেশি বরাদ্দ দিচ্ছেন, এমন অভিযোগ আছে? একজন সাংবাদিক এমন প্রশ্ন করলে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, না না। প্রজেক্টগুলো তো বহু আগের করা।

বিবিএস একটা প্রতিবেদন দিয়েছে, সেখানে বলেছে যে দেশের ১০টি পরিবারের মধ্যে তিনটি পরিবারেই পুষ্টিহীনতায় বা খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী? সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন করা হলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমাদের কিছুটা নিউট্রিশনের ঘাটতি আছে, বিশেষ করে শিশু আর মায়েদের মধ্যে।

তিনি বলেন, এটার জন্য আমরা চেষ্টা করছি যথাসম্ভব। আপনার দেখবেন আমাদের ভিজিএফ এবং স্পেশাল ট্রাকে করে দিচ্ছিল। কাল-পরশু থেকে জেলেদের ইসে (মাছ ধরা) বন্ধ হয়ে যাবে, তাদের জন্য তো আমরা ২০ কেজি করে দিচ্ছি। অতএব আমরা চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, আমাদের খাদ্য যেটা হয় সেটা সুষম না। চালের উপর বেশি ডিপেন্ড করি। কিন্তু অন্যরা যেগুলো খায়, সেগুলো এক্সেস। এগুলোর ক্রয় ক্ষমতা একটু কম। এই জন্য আমাদের খাদ্যের ঘাটতি, কিছু আমিষ দরকার। আমিষ বলতে আমরা মনে করি ডিম সব থেকে বেশি দরকার। সেটাও কিন্তু অনেকে ক্রয় করতে পারবেন।

মন্দির থেকে ৩০ রাউন্ড গুলি চুরি, ওসি প্রত্যাহার ও ৭ পুলিশ বরখাস্ত

রাজধানীর বাড্ডার নিমতলির শ্রী শ্রী মহাদেব আশ্রম ও কালী মন্দিরে ডিউটিরত পুলিশ ফোর্সের মালামালসহ ৩০ রাউন্ড গুলি চুরির ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় বাড্ডা থানার এক উপ-পরিদর্শক, এক সহকারী উপ-পরিদর্শক ও পাঁচ পুলিশ কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ওই থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একাধিক সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জানতে চাইলে ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. তারেক মাহমুদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘কর্তব্যে অবহেলার কারণে বাড্ডা থানার এসআই মোবাশ্বির, একজন এএসআই ও পাঁচজন কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় বাড্ডা থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’

গুলশান বিভাগ পুলিশ ও ডিএমপি সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাড্ডার নিমতলির শ্রী শ্রী মহাদেব আশ্রম ও কালী মন্দিরে ডিউটিরত পুলিশ ফোর্সদের থাকার জন্য মন্দিরের বাউন্ডারির মধ্যে থাকা একটি নির্মাণাধীন ভবনের দোতলায় ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেখানে আজ মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে ঘুমিয়ে থাকা চারজন ফোর্স ও তিনজন আনসার সদস্যের পাশ থেকে তাদের ৪টি ব্যাগ, ২টি মানিব্যাগ ও ৩টি মোবাইল চুরি হয়। এর মধ্যে একটি ব্যাগে ৩০ রাউন্ড শটগানের গুলি ছিল।

পরে সকাল পৌনে ১০টায় পুলিশ মণ্ডপ সংলগ্ন একটি পতিত জায়গা থেকে ব্যাগগুলো উদ্ধার করে। চুরি হওয়া গুলিগুলো অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়।

গুলশান বিভাগের ডিসি তারেক মাহমুদ জানান, ‘শ্রী শ্রী মহাদেব আশ্রম ও কালী মন্দিরে ডিউটিরত পুলিশ ফোর্সদের চুরি যাওয়া মালামাল ও গুলি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এটি স্পষ্টত দায়িত্বে অবহেলা। তাই সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওেয়া হয়েছে।

নিবন্ধনের শর্ত পূরণ করেছে এনসিপি : ইসি

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা দলগুলোর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ দুটি দল শর্ত পূরণ করেছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দুটি দলের বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। ১২টি দলের বিষয়ে অধিকতর যাচাই-বাছাই করা হবে। আর ৭টি দলের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।

ইসি সচিব বলেন, নির্বাচন কমিশনে ১৪৩টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে। এর মধ্যে ২২টি দলের তথ্য মাঠপর্যায়ে তদন্ত করা হয়। আমাদের যাচাই-বাছাইয়ে দুটি দলকে এখন পর্যন্ত যোগ্য মনে হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বাংলাদেশ জাতীয় লীগ। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতীক নিয়ে তাদের একটি চিঠি প্রদান করা হবে। তবে নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি পরে প্রকাশ করা হবে।

তিনি জানান, তিনটি রাজনৈতিক দল ইসির পর্যবেক্ষণে রয়েছে। এগুলো হলো— বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টি, জাতীয় জনতা পার্টি এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-শাহজাহান সিরাজ)। এছাড়া, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির বিষয়ে আদালতের রায় রয়েছে। তারা নিবন্ধন পাবে।

তিনি আরও বলেন, ৯টি দলের কার্যকারিতার বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করা হবে। সেগুলো হলো— আমজনতার দল, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টি (বিজিপি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), বাংলাদেশ জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি, ভাসানী জনশক্তি পার্টি, বাংলাদেশ বেকার মুক্তি পরিষদ, জনতার দল, মৌলিক বাংলা, জনতা পার্টি বাংলাদেশ।

এদিকে, মাঠপর্যায়ে তদন্তকৃত ২২টি দলের মধ্যে ৭টি দলকে বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। দলগুলো হলো— ফরোয়ার্ড পার্টি, বাংলাদেশ সংস্কারবাদী পার্টি (বিআরপি), বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-সিপিবি এম), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ বেকার সমাজ (বাবেস), বাংলাদেশ সলুশন পার্টি এবং নতুন বাংলাদেশ পার্টি।

পাকিস্তানে আত্মঘাতী হামলায় নিহত অন্তত ১০

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশের কোয়েটা শহরে দেশটির আধা-সামরিক বাহিনীর সদরদপ্তরের বাইরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার হামলাকারীরা আধা-সামরিক বাহিনীর সদরদপ্তরে ঢুকে গোলাগুলির পর ওই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বলে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে বলেছেন, হামলাকারীরা আধা-সামরিক বাহিনীর সদরদপ্তরে ঢুকে গুলি চালাতে শুরু করে। পরে আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে হামলাকারীরা আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায়।

তিনি বলেন, হামলাকারীরা পিকআপ ভ্যান চালিয়ে সদরদপ্তরে প্রবেশ করেন। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে চার হামলাকারী নিহত হয়েছেন।

প্রদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বখত কাকার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, নিহতদের মধ্যে বেসামরিক ও সেনাসদস্যরা রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৩৩ জন আহত হয়েছেন। তবে নিহত সৈন্যদের সঠিক সংখ্যা এখনও জানা যায়নি।

বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটার অবস্থান আফগানিস্তান ও ইরানের সীমান্তবর্তী এলাকায়। দেশটির খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ ওই অঞ্চলে গওয়াদর বন্দর অবস্থিত। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ হিসেবে ৬৫ বিলিয়ন ডলারের চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর প্রকল্পের আওতায় ওই বন্দরের নির্মাণ কাজ চলছে।

সম্প্রতি ওই অঞ্চলে সক্রিয় ইসলামপন্থী জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী বিভিন্ন গোষ্ঠীর হামলা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনও গোষ্ঠী মঙ্গলবারের হামলার দায় স্বীকার করেনি।

পাকিস্তানের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান ভৌগোলিক আয়তনের দিক থেকে দেশটির বৃহত্তম প্রদেশ। একই সঙ্গে বেলুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে জনবিরল, স্বল্পোন্নত এবং দারিদ্র্যপীড়িত। যেখানে পুরো পাকিস্তানের জনগণ ২৪ কোটি, সেখানে ৩ লাখ ৪৭ হাজার ১৯০ বর্গকিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট বেলুচিস্তানের জনগণ মাত্র দেড় কোটি।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে পাকিস্তানের স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই স্বাধীনতার দাবিতে সংগ্রাম চলছে বেলুচিস্তানে, যাকে বিচ্ছিন্নতাবাদ বলে আখ্যায়িত করেছে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ও সামরিক বাহিনী। পাকিস্তানের এই রাজ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে নিয়মিতই সংঘাত হয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের।

ইসলামাবাদের ক্ষমতাসীন কেন্দ্রীয় সরকার এবং পাকিস্তানের একান্ত নির্ভরযোগ্য মিত্র চীন যৌথভাবে বেলুচিস্তানের খনিজ সম্পদ উত্তোলন করে। তবে বেলুচ স্বাধীনতাকামীদের অভিযোগ, বেলুচিস্তানের এই সম্পদ লুট করছে ইসলামাবাদ এবং বেইজিং। কারণ বেলুচিস্তানের কোনও উন্নয়ন হচ্ছে না। অন্যদিকে ইসলামপন্থী জঙ্গিরা সরকারের পতন ঘটিয়ে সেখানে কঠোর ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

ইসলামাবাদ অভিযোগ করে বলেছে, চিরবৈরী প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ওই অঞ্চলের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহিংসতায় উসকানি দিচ্ছে। যদিও নয়াদিল্লি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা যেকোনো সময় তুলে নেওয়া হতে পারে

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়নি, তাদের নিবন্ধনও স্থগিত করা হয়নি। শুধুমাত্র দলের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনের ফাঁকে জিটিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক মেহদি হাসানের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ড. ইউনূস বলেন, কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবে না। তারা দল হিসেবে বৈধ রয়েছে, তবে কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। যেকোনো সময় এ কার্যক্রম আবার চালু করা হতে পারে। কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা যেকোনো সময় তুলে নেওয়া হতে পারে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। কোন দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে নির্বাচন কমিশনই, কারণ তারাই নির্বাচন পরিচালনা করছে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সমর্থক রয়েছে, তবে তাদের লাখ লাখ সমর্থক আছে—এটা আমি মানি না। তাদের সমর্থকেরা সাধারণ ভোটারের মতোই ভোট দিতে পারবেন, তবে সেখানে আওয়ামী লীগের প্রতীক থাকবে না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ নিজেদের রাজনৈতিক দল দাবি করলেও বাস্তবে তারা রাজনৈতিক দলের মতো আচরণ করতে পারেনি। তারা মানুষ হত্যা করেছে, নিজেদের কর্মকাণ্ডের দায় স্বীকার করেনি এবং সব সময় দায় অন্যের ওপর চাপিয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে নিলামের দুই কনটেইনার গায়েব, তদন্তে দুদক

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নিলামে বিক্রি হওয়া অন্তত দেড় কোটি টাকার কাপড়ের দুটি কনটেইনার উধাও হয়ে গেছে। এ ঘটনায় রোববার (২৮ আগস্ট) বন্দরে অভিযান পরিচালনা করছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি টিম।

দুদক চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলামে ৮৫ লাখ টাকায় প্রায় ২৭ টন ফেব্রিক্স কেনেন শাহ আমানত ট্রেডিংয়ের মালিক সেলিম রেজা। পরে তিনি শুল্ক, দাম ও বন্দরের চার্জ বাবদ আরও এক কোটি সাত লাখ টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু ২৬ ফেব্রুয়ারি ট্রাক নিয়ে ইয়ার্ডে গেলে জানানো হয়, কনটেইনারটি নেই। এ পর্যন্ত কনটেইনারটির কোনো খোঁজ মেলেনি।

সম্প্রতি নিলামে বিক্রি হওয়া আরও একটি কনটেইনারের খোঁজ মিলছে না। এতে ছিল প্রায় ৪২ লাখ টাকার কাপড়। সব মিলিয়ে দেড় কোটি টাকার বেশি মূল্যের পণ্য গায়েব হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।

শাহ আমানত ট্রেডিংয়ের মালিক সেলিম রেজা বলেন, আমাদের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। আর্থিক ক্ষতি এক কোটি টাকার বেশি। সাত মাস ধরে টাকা আটকে আছে। কাস্টমসকে বারবার চিঠি দেওয়ার পরও কোনো সমাধান হয়নি।

আরেক বিডার মো. ইয়াকুব বলেন, বাইরে হলে চুরি হওয়ার বিষয়টা মানা যেত। কিন্তু বন্দর এলাকার কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও কনটেইনার উধাও হওয়া প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।