Home Blog Page 30

কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রস্তাব

কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানির মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। একই সঙ্গে তার স্মরণে আজ বুধবার দেশব্যাপী অর্ধদিবস রাষ্ট্রীয় শোক পালন এবং জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি শোক প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে দিলে সর্বসম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়।

সংসদে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শোক প্রস্তাবটি কাতার সরকার এবং ঢাকাস্থ কাতার দূতাবাসে পাঠানো হবে। শোক প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর মরহুম শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানির আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ সদস্য শামীম কায়সার মোনাজাত পরিচালনা করেন।

এদিকে কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শোকবার্তা পৌঁছে দিতে দোহা গেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টা ২০ মিনিটে তাকে বহনকারী ফ্লাইট ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর ত্যাগ করেছেন। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, প্রয়াতের ছেলে, কাতারের বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি শেখ হামাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তরফে শোক ও সমবেদনা জানাবেন। আগামী ১৬ জুলাই স্পিকারের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ জুলাই ৭৪ বছর বয়সে মারা যান কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানি। ১৯৯৫ সালে ক্ষমতায় এসে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতার শাসন করেন তিনি। তার নেতৃত্বে জ্বালানিসমৃদ্ধ দেশটি ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাবশালী রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এ কারণে তাঁকে আধুনিক কাতারের অন্যতম স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শেখ হামাদ বর্তমান কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির পিতা।

এরশাদের স্মরণসভায় জিএম কাদের বিএনপির সঙ্গে বাটোয়ারা করে জামায়াত-শিবির সব করছে

বিএনপির সঙ্গে ভাগবাটোয়ারা করে জামায়াত-শিবির সব করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি, জামায়াত-শিবির এবং তাদের দোসর একদল। বাইরে নানাভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। ভেতরে ভেতরে কিন্তু তাদের নেতাদের আন্ডারস্ট্যান্ডিং (বোঝাপড়া) ঠিক আছে। আসল শত্রু আওয়ামী লীগ, আর একটা ছোটখাটো শত্রু আছে–জাতীয় পার্টি।

গতকাল মঙ্গলবার রংপুর নগরীর পল্লীনিবাসে পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে হয়েছে। আর ২০২৪ সালে দিনের ভোট আরও খারাপভাবে হয়েছে। এখানে দিনের ভোট রাতে হয়েছে, পরদিন সকালে হয়েছে, দুপুরে হয়েছে, আবার রাতেও হয়েছে। অনেক সময় ভোট ছাড়াই কাগজে লেখা হয়েছে কে কত ভোট পেয়েছে। এসবের যথেষ্ট প্রমাণ ও নথি আমাদের কাছে আছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন অন্তর্বর্তী সরকার করলেও বিভিন্ন সূত্র থেকে আমরা খবর পেয়েছি, সেখানে বিএনপি, জামায়াত-শিবির ও তাদের দোসরদের সঙ্গে যোগসাজশ ছিল। তারা মিলেমিশে কোথায় কাকে পাস করাবে, আর কোথায় জাতীয় পার্টিকে পাস করাবে না– সেটি ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে। সময় এলে আপনারা বুঝতে পারবেন কেমন নির্বাচন হয়েছে। আইনগতভাবে এটি একতরফা নির্বাচন। একতরফা নির্বাচন কোনো নির্বাচন নয়। এটি অবাধ নয়, সুষ্ঠু নয়।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, এখনও আওয়ামী লীগের লোক বা দোসর বলে যে কোনো মানুষকে ধরে মব তৈরি করে মারধর করা হচ্ছে। আগে আওয়ামী লীগ মানুষকে মারত বা জেলে দিত। এখন শুধু মানুষ হত্যা করা হচ্ছে না, তাদের ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। মানুষকে সর্বস্বান্ত করে দেওয়া হচ্ছে।

জিএম কাদের বলেন, ‘জুলাই গণআন্দোলনকে সফলও বলব না, বিফলও বলব না। এটি অসমাপ্ত। যে বৈষম্যবিরোধী সমাজ, জবাবদিহিমূলক সরকার ও আইনের শাসনের স্বপ্ন নিয়ে মানুষ আন্দোলন করেছিল, সেই স্বপ্ন এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।’

স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

বর্ষা মৌসুমে আর পাবলিক পরীক্ষা হবে না

টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। এ অবস্থায় আগামী বছর থেকে বর্ষাকালে আর কোনো পাবলিক পরীক্ষা না নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক গতকাল মঙ্গলবার তাঁর কার্যালয়ে সমকালকে বলেন, বর্ষাকালে আমরা আর পরীক্ষা নেব না। শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনায় পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের কাজ চলছে। আগামী বছর জানুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে এইচএসসি পরীক্ষা মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। লক্ষ্য হচ্ছে, ধাপে ধাপে পাবলিক পরীক্ষাগুলো স্বাভাবিক শিক্ষাবর্ষের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সময়ে ফিরিয়ে আনা।
সচিব বলেন, বর্ষা মৌসুমে পরীক্ষা নেওয়ার কারণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রশাসন– সব পক্ষই নানা সমস্যায় পড়ছে। ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য পরীক্ষার ক্যালেন্ডার পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।

গতকাল জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনও পরীক্ষার নতুন সময়সূচির পরিকল্পনার কথা জানান। কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাবর্ষ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় আগামী শিক্ষাবর্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা জানুয়ারিতে এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা জুনে আয়োজনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, এতে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সময়ের অপচয় কমবে এবং শিক্ষা ক্যালেন্ডার স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসবে।
করোনা মহামারির পর দেশের পাবলিক পরীক্ষার সূচি স্বাভাবিক ধারার বাইরে চলে যায়। ২০২০ সালে এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল করে অটো পাস দেওয়া হয়। ২০২১ সালে ডিসেম্বরে, ২০২২ সালে নভেম্বরে এবং ২০২৩ সালে আগস্টে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৪ সালে জুনে পরীক্ষা শুরু হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতায় তা শেষ করা যায়নি। ২০২৫ সালে জুনের শেষ দিকে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
চলতি বছর পরীক্ষা আরও এগিয়ে জুনের শুরুতে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবির মুখে তা পিছিয়ে ২ জুলাই শুরু করা হয়। ফলে ভরা বর্ষায় পরীক্ষা আয়োজনের বাস্তবতা তৈরি হয়।

দুটি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, অতীতে কখনোই বর্ষাকালে পাবলিক পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। এবার অনেকটা বাধ্য হয়েই এ সময় পরীক্ষা নিতে হচ্ছে।
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, এত বড় জাতীয় পরীক্ষার সময় নির্ধারণে আবহাওয়া ও দুর্যোগের বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, কোমরপানি পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে সব পরীক্ষার্থীর জন্য সমান পরীক্ষার পরিবেশও নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।

মজিবুর রহমান বলেন, তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে পাবলিক পরীক্ষাগুলো অনুকূল আবহাওয়ার সময়ে নিয়ে আসা এবং দুর্যোগকালীন শিক্ষা ব্যবস্থাপনার একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক জেসমিন তাসলিমা বানু সমকালকে বলেন, প্রায় ১৩ লাখ পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষার সূচি পরিবর্তন করা বেশ জটিল। এবার সারাদেশে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হচ্ছে। কোনো এলাকায় পরীক্ষা স্থগিত রেখে পরে নিতে হলে ভিন্ন প্রশ্নপত্র তৈরি করতে হবে, যা বড় ধরনের প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, শিক্ষা প্রশাসন মূলত ৭ জুন থেকে পরীক্ষা শুরু করতে চেয়েছিল। কিন্তু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষা প্রায় এক মাস পিছিয়ে ২ জুলাই থেকে শুরু করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের কারণেই পরীক্ষা বর্ষার মধ্যভাগে চলে এসেছে।

এইচএসসি পরীক্ষায় ভোগান্তি দিনভর রাস্তায় শিক্ষার্থীরা, শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ দেশের অন্তত ১৭ স্থানে বিক্ষোভ-অবরোধ

বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে হঠাৎ আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার দিনভর তাদের আন্দোলনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে বৈঠকে ডাকেন শিক্ষামন্ত্রীকে। এরপর সন্ধ্যায় সংসদে দাঁড়িয়ে নিজের মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, প্রয়োজনে পরীক্ষাগুলো আবার নেওয়ার ব্যবস্থা করা যাবে।

বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও উত্তরা এলাকায় বিক্ষোভের পর বিকেলে শিক্ষার্থীরা সংসদের সামনে অবস্থান নেন। সন্ধ্যার আগে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে তাদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। রাতে আবারও তারা সেখানে জড়ো হন। আজ বুধবারের পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানিয়ে তারা গতকালের আন্দোলনের ইতি টানেন এবং ‘মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। আজকের পরীক্ষার পর এ কর্মসূচি পালন করা হবে।

এর আগে গতকাল সকাল থেকে রাজধানীর বাইরে অন্তত ১৭টি স্থানে কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন। চট্টগ্রামে শিক্ষা বোর্ডের ফটক খুলে নিয়ে গেছেন শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন স্থানে অবরোধের কারণে যানজটে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’র সঙ্গে তুলনা করার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামার পর জাতীয় সংসদেও তোপের মুখে পড়েন শিক্ষামন্ত্রী। সংসদের পূর্বনির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বের পর এহছানুল হক মিলনকে ডাকেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারপ্রধানের সংসদ কার্যালয়ে বৈঠক হয়।

প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা সমকালকে জানিয়েছেন, দ্রুত কীভাবে শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরানো যায়, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। শিক্ষামন্ত্রীকে দুঃখ প্রকাশ করতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। গত সোমবার বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে যেসব শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেননি বা ওই দিনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে যাদের পরীক্ষা বিঘ্নিত হয়েছে, তাদের আবার পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে নির্দিষ্ট সময়েই বাকি পরীক্ষাগুলোর আয়োজন করা হবে।

গত ২ জুলাই শুরু হয় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা ও বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের ১৩, ১৫ ও ১৬ জুলাইয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। তবে অন্য সব বোর্ডের পরীক্ষা ঘোষিত সময়সূচি ধরে চলছে।

গত সোমবার ভারী বৃষ্টির মধ্যে পরীক্ষা দিতে গিয়ে বিশেষ করে ঢাকা ও কুমিল্লা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগে পড়েন। এ ছাড়া পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রে দুটি প্রশ্ন ভুল ছিল বলে দাবি শিক্ষার্থীদের। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

এ ছাড়া গতকালের আন্দোলনের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও। এতে একজন পরীক্ষার্থীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের সময় শিক্ষামন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘ওরা তো ফার্মের মুরগি, একটু বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর চলে আসবে।’

আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, এ মন্তব্যে পরীক্ষার্থীদের অপমান করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের প্রতি মন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ। তবে একই কথোপকথনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে পরীক্ষা স্থগিতের পক্ষে ছিলেন। জেলা প্রশাসক, শিক্ষা বোর্ড ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতামতের ভিত্তিতে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই প্রেক্ষাপটে গতকাল সকালে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নামেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বৈরী আবহাওয়া, জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি উপেক্ষা করে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ায় হাজারো শিক্ষার্থী দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। অনেককে কোমরপানি ও কাদা পার হয়ে ভেজা জামাকাপড়েই পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এতে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

Arif Hazra 1784083980

সায়েন্স ল্যাবে অবরোধ
গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার পর রাজধানীর বিভিন্ন কলেজ, বিশেষ করে ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজসহ আশপাশের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাব মোড়ে জড়ো হন। ১১টা ৪০ মিনিটে তারা ধানমন্ডি থেকে নিউমার্কেটমুখী সড়ক অবরোধ করেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আশপাশ এলাকায় তীব্র যানজট হয়।

অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীরা মন্ত্রীর পদত্যাগসহ নানা স্লোগান দেন। তাদের হাতে পরীক্ষা স্থগিত, পুনঃপরীক্ষা গ্রহণ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মহসিন শেখ সাংবাদিকদের বলেন, দুর্যোগে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়নি। বন্যাকবলিত এলাকার অনেক শিক্ষার্থী স্বাভাবিকভাবে কেন্দ্রে যেতে পারেননি। তাই এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে তারা আন্দোলনে নেমেছেন।

আট দফা দাবি 
প্রাথমিকভাবে আন্দোলনকারীরা তিন দফা দাবি ঘোষণা করেন। দাবিগুলো হলো– দেশে দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা, ১৩ জুলাই পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।

পরে তারা আট দফা দাবি ঘোষণা করেন। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে– দুর্যোগকালে পরীক্ষা বন্ধ রাখা, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে ভুলের জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা চাওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের নম্বর প্রদান, শিক্ষামন্ত্রীর প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা, শিক্ষাব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, ভবিষ্যৎ প্রশ্নপত্র পাঠ্যক্রম অনুযায়ী প্রণয়ন এবং পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার।
আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবিগুলো পূরণ না হলে তাদের আন্দোলন আরও কঠোর হবে এবং একমাত্র দাবি হবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সায়েন্স ল্যাব থেকে এক দল শিক্ষার্থী জাতীয় সংসদ ভবনের উদ্দেশে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় উত্তেজনা
দুপুরে শিক্ষা ভবন ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে আন্দোলনকারীদের বাধা দেয় পুলিশ। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধস্তাধস্তি হয়। এরপর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে আন্দোলনকারীরা নীলক্ষেত থেকে টিএসসিগামী সড়কে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়।
সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। একই সময়ে আন্দোলনরত এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সিনেট ভবনের পাশের এলাকায় অবস্থান নিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জানিয়েছেন, তিন দফা দাবিতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধের পর মিছিল নিয়ে শিক্ষা ভবনের উদ্দেশে রওনা হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে আটকে দেয় পুলিশ। পরে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে ইডেন কলেজের সামনে দিয়ে শিক্ষা ভবনের দিকে রওনা হন।

উত্তরায় অবরোধ 
রাজধানীর উত্তরার আজমপুর থেকে বিএনএস সেন্টার পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে জড়ো হয়ে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। দুপুরের পর থেকেই বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিমানবন্দর, আব্দুল্লাহপুর, টঙ্গী ও গাজীপুরমুখী সড়কে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। অনেক যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছাতে হেঁটে যেতে দেখা যায়। চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা কয়েক দফায় রাস্তা বন্ধ ছিল।

শিক্ষা বোর্ডের সামনে বিক্ষোভ
ঢাকা বোর্ডের সামনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা জানান, সকাল থেকেই তারা ঢাকা বোর্ডের সামনে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। দুপুর ২টার পরপর দুই শতাধিক শিক্ষার্থী বোর্ডের সামনে এসে স্লোগান দিতে থাকেন। এর আগে প্রধান দুটি ফটকই বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফটক ধাক্কাধাক্কি করে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন আন্দোলনকারীরা। শেষ পর্যন্ত তারা ঢুকতে না পেরে ইটপাটকেল ছোড়েন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান সমকালকে বলেন, বোঝানোর পর ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে চলে যায়।

সংসদ ভবনের সামনে অবরোধ
সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধের পর সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অবস্থান করেন শিক্ষার্থীরা। এতে কিছু সময়ের জন্য মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে এক দল শিক্ষার্থী জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপের চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাদের জাতীয় সংসদ ভবনের প্রধান ফটক থেকে আসাদ গেট পর্যন্ত নিয়ে যায়। এরপর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কিছুক্ষণ পর শতাধিক শিক্ষার্থী আবার সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নেন। এবার তারা স্লোগান না দিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকেন। দ্বিতীয় দফায় রাত ৮টার দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে যান চলাচল বন্ধ করে দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় যাত্রীবাহী বাস ভাঙচুর করা হয়। অ্যাভিনিউর দুই পাশ আটকে রাখার ফলে আসাদগেট থেকে খামারবাড়ির দিকে এবং খামারবাড়ি থেকে আসাদগেট অভিমুখে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ঢাকার বাইরেও দিনভর বিক্ষোভ 
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ নানা দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ১৭টি স্থানে রাস্তায় নেমেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। গতকাল দুপুরে দিনাজপুর শহরের ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় রাস্তার দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। দিনাজপুর স্টেশনে আটকা পড়ে ঢাকাগামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেন। বিকেল সোয়া ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে ট্রেন ও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বগুড়া নগরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের সাতমাথায় বীরশ্রেষ্ঠ স্কয়ারের পূর্ব পাশের সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থানের পর তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শিক্ষার্থীরা দাবি-দাওয়া জানিয়ে আবারও সাতমাথায় ফিরে সড়কে অবস্থান নেন।

নওগাঁয় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী শহরের মুক্তির মোড় এলাকায় জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের সামনে ‘সব কলেজের সচেতন শিক্ষার্থী’র ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। দুপুরে রংপুর জিলা স্কুল মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু করা হয়। দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন এবং পাবনার শহীদ চত্বরে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। বিকেলে জয়পুরহাট শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও অবরোধ করা হয়েছে।
দুপুর দেড়টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের উত্তরবঙ্গগামী লেনে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট হয়। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও অংশ নেন। এর আগে সকালে টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। ময়মনসিংহে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। দুপুর ১২টার দিকে নগরের টাউন হল এলাকায় অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এতে ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে তারা সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।

বিকেলে জামালপুর শহরের ফৌজদারি এলাকায় শিক্ষার্থীরা সড়কে বিক্ষোভ করেন। বরিশালে দুপুর ১২টা থেকে আড়াই ঘণ্টা ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে। ঝালকাঠিতে বিক্ষোভ ও ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। দুপুরে সিলেট নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে ‘সিলেটের সার্বজনীন শিক্ষার্থী’র ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলফাত স্কয়ারে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লার কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেন দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। পরে দুপুর সোয়া ১টার দিকে তারা পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

কক্সবাজারে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল দুপুর ২টা থেকে সাত ঘণ্টা শহরের গুনগাছতলা এলাকায় প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে  তারা বিক্ষোভ করেন ও টায়ার জ্বালিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিকেল খুলনা নগরীর শিববাড়ী মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে শিববাড়ী মোড়ের সাতটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিকেলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নরসিংদীর জেলখানা মোড় অবরোধ করা হয়। দুপুরে প্রায় এক ঘণ্টা সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাকিজার মোড়ে শহীদ ইয়ামিন চত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। বেলা ১১টায় নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। বিকেলে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে।
(প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা)

এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় ৩ বছর বাড়াতে জাতিসংঘকে অনুরোধ বাংলাদেশের

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের টেকসই ও নির্বিঘ্ন উত্তরণ, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়ন এবং সরকারের সংস্কার কর্মসূচি এগিয়ে নিতে জাতিসংঘের আরও জোরালো সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ তুলে ধরা হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল লি জুনহয়া, জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইউএন-এসক্যাপ) নির্বাহী সচিব ও আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল আর্মিদা সালসিয়াহ আলিসজাহবানা এবং সহকারী মহাসচিব ও ইউএনডিপির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ব্যুরোর আঞ্চলিক পরিচালক কান্নি উইগ্নারাজার সঙ্গে পৃথক বৈঠকে তিনি এসব বিষয় তুলে ধরেন।

লি জুনহয়ার সঙ্গে বৈঠকে ড. তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ করেছে। তাঁর মতে, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং টেকসই ও অপরিবর্তনীয় উত্তরণ নিশ্চিত করতেই এই সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জবাবে লি জুনহয়া বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগ (ইউএন ডেসা) অব্যাহত সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেন। তিনি বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়া সফল ও টেকসই করতে দেশটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আর্মিদা সালসিয়াহ আলিসজাহবানার সঙ্গে বৈঠকে ড. তিতুমীর বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে জনগণের দেওয়া গণরায় সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, জবাবদিহিমূলক সুশাসন এবং জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

তিনি সরকারের ‘থ্রি আর’ (রিকভারি, রিস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসেলারেশন) কৌশলের কথা তুলে ধরে বলেন, এই কৌশল অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে।

জবাবে আর্মিদা সালসিয়াহ আলিসজাহবানা বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ, আঞ্চলিক সংযোগ এবং জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে ইউএন-এসক্যাপের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি সরকারের সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন।

ইউএনডিপির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ব্যুরোর আঞ্চলিক পরিচালক ও সহকারী মহাসচিব কান্নি উইগ্নারাজার সঙ্গে বৈঠকে ড. তিতুমীর গণতান্ত্রিক সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে ইউএনডিপির অব্যাহত সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। কান্নি উইগ্নারাজা এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ইউএনডিপির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।

ধর্ষণ মামলায় সহকারী গ্রেপ্তার, কী পদক্ষেপ নিলেন শ্রাবন্তী

এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে টালিউড অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের সহকারী ব্যক্তিগত সহকারী মুখোপাধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার রাতে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার চ্যাটার্জিহাট থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনার পর অর্ঘর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন শ্রাবন্তী।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, হাওড়ার চ্যাটার্জিহাট থানায় দায়ের করা এক নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে অর্ঘ মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করে। পরে ১২ জুলাই রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার তাকে হাওড়া আদালতে হাজির করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অর্ঘ একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। ধর্ষণের মামলা করা ওই নারী একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। অভিযোগে তিনি বলেন, গত ১২ এপ্রিল কাজের সূত্রে চ্যাটার্জিহাটে অভিযুক্তের বাসায় গেলে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে ১২ জুন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় এক বিবৃতিতে জানান, অর্ঘ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল শুধুই পেশাগত।

শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় বলেন, “হাওড়ার ষষ্ঠীতলার বাসিন্দা অর্ঘ মুখোপাধ্যায় এতদিন আমার কাজের দেখভাল করতেন। ২০২৪ সাল থেকে ‘তান্তেওয়ালা’ কোম্পানির মাধ্যমে আমার সব কাজ পরিচালিত হচ্ছে। সেই সূত্রেই তার সঙ্গে পরিচয়। সম্প্রতি জানতে পেরেছি, তার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা হয়েছে। বিষয়টি আমার জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর।”

শ্রাবন্তী আরও বলেন, “তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। তবে এ ঘটনার পর আমি সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে জানিয়ে দিয়েছি, অর্ঘ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে আর কোনোভাবেই কাজ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।”

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত অভিযুক্তের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে কুমিল্লায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে কুমিল্লা নগরীতে বিক্ষোভ করেছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে তিন দফা দাবি জানায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।

এর আগে সোমবার রাত থেকে ২০২৬ এইচএসসি ব্যাচের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পরীক্ষার্থীরা আন্দোলনের ঘোষণা দেন। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে তারা কুমিল্লা কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে শিক্ষার্থীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে।

বিক্ষোভে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, কুমিল্লা সরকারি কলেজ, রূপসী বাংলা কলেজ, কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ, সোনার বাংলা কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের দুই শতাধিক পরীক্ষার্থী অংশ নেন।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, দেশের সকল কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষে দাবিগুলো হলো দুর্যোগের প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে, যারা বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১৩ জুলাই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি তাদের পরীক্ষা পুনরায় গ্রহণ এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।

পরীক্ষার্থী আবু সালেহ রনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী নিজের পছন্দের লোকজন দিয়ে প্রশ্নপত্র তৈরি করেছেন। এ পর্যন্ত যেসব বিষয়ে পরীক্ষা হয়েছে এসব প্রশ্ন মনগড়া। তাই এ শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্বে থাকলে শিক্ষা ধ্বংস হয়ে যাবে।

পরে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের সচিব প্রফেসর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. সালাউদ্দিন, কুমিল্লা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ার শিক্ষাবোর্ড ফটকের সামনে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

এ সময় পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষাবোর্ডের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা তোমাদের (পরীক্ষার্থী) সব কথা শুনেছি। দাবিগুলো আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা জানান, পরীক্ষার্থীরা  শিক্ষাবোর্ডের প্রধান ফটকে অবস্থান নিলে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।   পরীক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা আহ্বান করা হয়েছে। সেখান থেকে হয়তো পরে এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসলে জানাতে পারব।

‘তুম্বাড ২’-এ আলিয়া ভাট, নতুন চমক সোহম শাহের

বলিউডের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘তুম্বাড ২’-এ যুক্ত হলেন আলিয়া ভাট। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) অভিনেতা ও প্রযোজক সোহম শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলিয়ার অন্তর্ভুক্তির ঘোষণা দেন। ২০২৭ সালের ৩ ডিসেম্বর সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

ইনস্টাগ্রামে আলিয়া ভাটের সঙ্গে একটি ছবি প্রকাশ করে সোহম শাহ লেখেন, “নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা। ‘তুম্বাড ২’-এ স্বাগতম, আলিয়া ভাট। দেখা হবে প্রেক্ষাগৃহে।” এরপর থেকেই সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ছবিটি।

২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘তুম্বাড’ ভারতীয় সিনেমায় লোককথানির্ভর অতিপ্রাকৃতিক হরর ঘরানার অন্যতম আলোচিত নির্মাণ হিসেবে প্রশংসা কুড়ায়। কোঙ্কণ উপকূলের রহস্যময় আবহ, ‘হাস্তার’-এর কিংবদন্তি এবং ব্যতিক্রমী নির্মাণশৈলীর কারণে সিনেমাটি সমালোচক ও দর্শক—উভয়েরই প্রশংসা পায়। পরবর্তী সময়ে পুনর্মুক্তিতেও ছবিটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে।

এর আগে সিক্যুয়েলের ঘোষণা দিতে প্রকাশিত পোস্টারে সোহম শাহ লিখেছিলেন, “পাপে ভরা অতীত, অশনি সংকেতময় ভবিষ্যৎ। লোভের উত্তরাধিকার আবারও জেগে উঠছে।” সেই বার্তার মধ্য দিয়েই সিক্যুয়েলের রহস্যময় আবহের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। মুক্তির তারিখ ঘোষণার আগে নির্মাতারা একটি মোশন পোস্টার ও কয়েকটি রহস্যঘেরা পোস্ট প্রকাশ করে দর্শকদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে তোলেন।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোহম শাহ বলেন, “‘তুম্বাড’ সবসময়ই আমার কাছে বিশেষ একটি প্রকল্প। ‘তুম্বাড ২’-এর মাধ্যমে আমরা সেই জগতকে আরও গভীর ও বিস্তৃতভাবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে চাই। আগের সিনেমার পৌরাণিক আবহ ও রহস্য বজায় রেখেই নতুন গল্প ও নতুন মাত্রা যোগ করা হয়েছে। পরিচিত সেই জগত এবার আরও বড় পরিসরে ফিরে আসবে।”

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, সিক্যুয়েলে আলিয়া ভাটকে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে। পাশাপাশি নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকীও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করছেন। আগের সিনেমার গল্পের ধারাবাহিকতাতেই নির্মিত হচ্ছে নতুন কিস্তি। পরিচালনায় রয়েছেন আদেশ প্রসাদ। সোহম শাহ ফিল্মস ও পেন স্টুডিওসের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ছবিটি পরিবেশন করবে পেন মারুধর। ২০২৭ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ‘তুম্বাড ২’।

তিন দফা দাবি চট্টগ্রামে সড়ক অবরোধ করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

তিন দফা দাবিতে চট্টগ্রামে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে নগরের ষোলশহরে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে সড়ক অবরোধ করে স্লোগান দিতে থাকে তারা।

এদিকে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন‍্য চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় না নিয়ে তাদের প্রতি অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে।’‍ সুমাইয়া আক্তার নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, বৃষ্টির মধ্যে পরীক্ষা দিতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ক্যালকুলেটরের মতো জরুরি শিক্ষা সরঞ্জামও পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে আমাদের। সার্বিক বিষয় বিবেচনা না করে এতটা অমানবিক কিভাবে হচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।’ একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্বকাপে নরওয়ে যেভাবে বিজয়ের পর সেলিব্রেট করেছে সেই আদলে প্রতিবাদ জানান। এসময় তারা নৌকা চালিয়ে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দেন।

শিক্ষার্থীদের প্রধান তিন দাবির মধ্যে রয়েছে, বৈরী আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চলমান এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখা, গত ১২ ও ১৩ জুলাই প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি, তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করা এবং বৃষ্টির কারণে যাদের এডমিট কার্ড বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নষ্ট হয়ে গেছে বা হারিয়ে গেছে, তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে বোর্ড থেকে পুনরায় কাগজপত্র সরবরাহ করা।

‘শুধু মেসি নন, পুরো আর্জেন্টিনাই বিপজ্জনক’, পিকফোর্ডের সতর্কবার্তা

দীর্ঘ ২৪ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে আবার মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আগামীকাল আটলান্টার সেমিফাইনাল ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এই প্রথম ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামবেন তিনি। তবে ইংল্যান্ড শিবিরে আলোচনার কেন্দ্র শুধু মেসি নন। গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের মতে, আর্জেন্টিনাকে হারাতে হলে পুরো দলকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে ইংল্যান্ডের এক নম্বর গোলরক্ষক বলেন, ‘মেসি তার ক্যারিয়ারে অসংখ্য গোল করেছে এবং দলের জয়ে অবিশ্বাস্য অবদান রেখেছে। এতদিন টেলিভিশনে দেখার পর এবার তার বিপক্ষে খেলাটা দারুণ অভিজ্ঞতা হবে। আমরা জানি মেসি কতটা অসাধারণ, কিন্তু আর্জেন্টিনা দল হিসেবেও কতটা শক্তিশালী, সেটাও জানি। তাই শুধু মেসিকে নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। পুরো দলের ওপরই নজর রাখতে হবে এবং তাদের দুর্বলতার জায়গাগুলো কাজে লাগাতে হবে।’

পিকফোর্ডের এই সতর্কতার পেছনে যথেষ্ট কারণও রয়েছে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ৩-১ গোলে জিতলেও কোনো গোলই করেননি মেসি। তবে প্রথম গোলের আক্রমণ তৈরিতে তার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বাকি গোল দুটি আসে হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের পা থেকে। অর্থাৎ, মেসির পাশাপাশি স্কালোনির আক্রমণভাগের অন্যরাও সমান কার্যকর।

চলমান বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৮ গোল করে এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে গোল্ডেন বুটের শীর্ষে রয়েছেন মেসি। তবে দলগত আক্রমণে সবচেয়ে এগিয়ে আর্জেন্টিনাই। আসরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৬ গোল করেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মেসির পাশাপাশি লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজও গোলের খাতা খুলেছেন।

অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের জন্যও অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। থ্রি লায়ন্সরা চলতি বিশ্বকাপে ৬ গোল হজম করেছে, যার মধ্যে ৫টিই এসেছে শেষ তিন নকআউট ম্যাচে। তাই আটলান্টার সেমিফাইনালে শুধু মেসিকে আটকে রাখাই নয়, আর্জেন্টিনার সমন্বিত আক্রমণও সামলাতে হবে পিকফোর্ডদের।