ঢালাওভাবে ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসাব জব্দ রাখা ঠিক নয়: ফাহমিদা খাতুন
খেলাপি ঋণ আদায় না হলে উৎসাহ বোনাস পাবেন না ব্যাংকের কর্মীরা!
যে কারণে বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো সোহেল তাজকে!
সোহেল তাজকে নিয়ে বিমানবন্দরে আসলে কী ঘটেছিল?
যেসব বিশ্বনেতা প্রকাশ্যে আমাদের সমালোচনা করেন, গোপনে তারা ধন্যবাদ জানান’
ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি মানে ইসরায়েলের গলায় ছুরি ধরা : নেতানিয়াহু
দলমত নির্বিশেষে সংস্কার এগিয়ে নেবে বাংলাদেশ: ড. ইউনূস
সারাদেশে ২৮৫৭ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ৪৩০ প্লাটুন বিজিবি
এশিয়া কাপের সুপার ওভারে ভারতের রোমাঞ্চকর জয়
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার এশিয়া কাপের সুপার ফোরের ম্যাচে ভারত-শ্রীলঙ্কা লড়াই যেন রূপ নিল এক রুদ্ধশ্বাস নাটকে। নির্ধারিত ২০ ওভারে সমতায় আটকে যায় ম্যাচ, গড়ায় সুপার ওভারে। আর সেখানেই জ্বলে উঠলেন বাঁহাতি পেসার আর্শদীপ সিং। হাতে তুলে নিলেন পুরো ম্যাচের নায়কোচিত দায়িত্ব—বল হাতে মাত্র দুই রান দিয়ে নিলেন দুই উইকেট, এনে দিলেন ভারতকে শ্বাসরুদ্ধকর জয়।
ম্যাচের সুপার ওভারে ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব আস্থা রাখেন আর্শদীপের ওপর। সেই আস্থার প্রতিদান দিতে প্রথম বলেই কুশল পেরেরাকে সাজঘরে ফেরান তিনি। এরপর শেষ দিকের ব্যাটার দাসুন শানাকাকে কাটিয়ে দেন ডিপ থার্ডম্যানের হাতে। মাত্র দুই রানেই থামে শ্রীলঙ্কার সুপার ওভার ইনিংস। জবাবে প্রথম বলেই হাসারাঙ্গার ডেলিভারিকে এক্সট্রা কভারে পাঠিয়ে তিন রান নেন সূর্যকুমার, আর তাতেই নিশ্চিত হয়ে যায় ভারতের জয়।
তবে নাটকীয়তা শুরু হয়েছিল এর আগেই। শেষ ওভারে শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল ১২ রান। ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কার দুর্দান্ত সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ম্যাচে টিকে ছিল তারা। কিন্তু ১০৭ রানের ইনিংস খেলা নিসাঙ্কা আউট হয়ে গেলে ম্যাচের গতি পাল্টে যায়। শেষ বলে শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল ৩ রান, স্ট্রাইকে শানাকা। হারশিত রানার বলে লং-অন দিয়ে দুটি রান নিতে সক্ষম হলেও তৃতীয় রান নিতে গিয়ে ব্যর্থ হন। ফলে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।
এর আগে ব্যাট হাতে ভারতের ভরসা হয়ে ওঠেন অভিষেক শর্মা। মাত্র ৩১ বলে ৬১ রানের দাপুটে ইনিংস খেলেন তিনি। এছাড়া সঞ্জু স্যামসনের ৩৯, তিলক ভর্মার অপরাজিত ৪৯ ও অক্ষর প্যাটেলের ২১ রানে ভর করে ভারত দাঁড় করায় ২০২ রানের বিশাল লক্ষ্য।
জবাবে শ্রীলঙ্কা বেশ লড়াই করে। নিশাঙ্কার সেঞ্চুরি (১০৭ রান, ৫৮ বল, ৭ চার, ৬ ছক্কা) আর পেরেরার ৩২ বলে ৫৮ রানের ঝোড়ে ২০০ রানে পৌঁছায় তারা। কিন্তু শেষমেশ সুপার ওভারের ভাগ্যনির্ধারণী লড়াইয়ে হার মানতে হয় লঙ্কানদের।
এই জয়ের ফলে অপরাজিত ভারত আত্মবিশ্বাসের শীর্ষে থেকে প্রবেশ করছে এশিয়া কাপ ২০২৫-এর ফাইনালে, যেখানে অপেক্ষা করছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান।
মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা? নীরবে লো প্রেশারে ভুগছেন না তো?
অনেকেই ভাবেন, একটু মাথা ঘোরাই তো বড় কিছু নয়। কিন্তু আপনি জানেন কি, এই সাধারণ উপসর্গগুলো হতে পারে লো ব্লাড প্রেশার বা কম রক্তচাপের ইশারা? অনেক সময় এটি নিঃশব্দ ঘাতকের মতো শরীরে কাজ করে, আর আমরা বুঝতেও পারি না।
অনেক সময় আমাদের মাথা হঠাৎ ঘুরে যায়, দুর্বল লাগে বা চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। আপনি কি জানেন, এসব হতে পারে লো প্রেশার (Low Blood Pressure) বা কম রক্তচাপের উপসর্গ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন অবহেলা করলে লো প্রেশার হতে পারে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হৃদযন্ত্রে সমস্যা বা মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কমার মতো গুরুতর বিপদের কারণ।
চলুন আজ জেনে নেই— লো প্রেশারের লক্ষণ, কারণ, ঘরোয়া করণীয় এবং কখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।
– মাথা ঘোরা বা ভারী অনুভব
– অতিরিক্ত দুর্বলতা ও ক্লান্তি
– ঝাপসা দেখা বা চোখে অন্ধকার
– বমি বমি ভাব
– মনোযোগ কমে যাওয়া
– হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
– ঠান্ডা-ঘাম, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস
– বিভ্রান্তি বা কনফিউশন
গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
লো প্রেশার কেন হয়?
– ভিটামিন বি১২ বা ফলেটের ঘাটতি
– পানিশূন্যতা বা রক্তস্বল্পতা
– গর্ভাবস্থা
– হৃদরোগ, ডায়াবেটিস
– কিছু ওষুধ (যেমন : বিটা ব্লকার, কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট)
– দীর্ঘসময় শুয়ে থাকা
– অটোনোমিক নার্ভ সমস্যা
ঘরোয়া কিছু উপায়
লবণ খান (মেপে) : তবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বেশি লবণ খাবেন না।
প্রচুর পানি পান করুন : পানিশূন্যতা হলে রক্তচাপ কমে যায়।
ছোট ছোট ভাগে খাবার খান : একসাথে ভারী খাবার খেলে রক্তচাপ কমতে পারে।
কমপ্রেশন স্টকিং পরুন : পায়ে রক্ত জমা কমায়, রক্তচাপ ঠিক রাখে।
ধীরে উঠুন : বসা বা শোয়া অবস্থা থেকে হঠাৎ দাঁড়ালে মাথা ঘুরতে পারে।
ঘুমের সময় মাথা একটু উঁচু রাখুন : দিনে রক্তচাপ ওঠানামা কমাতে সাহায্য করে।
ব্যায়াম করুন : হালকা ও নিয়মিত ব্যায়াম যেমন সাইক্লিং, হাঁটাহাঁটি উপকারী।
সুষম খাদ্য খান : ডিম, শাকসবজি, দুধ, দানাশস্য— সবই দরকারি ভিটামিন দেয়।
সতর্কতা
– নতুন ওষুধ খাওয়ার পর যদি মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা হয়— চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন
– বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ জরুরি চিকিৎসা দাবি করে
– সবসময় লো প্রেশার বিপজ্জনক নয়, কিন্তু উপসর্গ থাকলে তা উপেক্ষা করা ঠিক নয়
মনে রাখবেন, লো প্রেশার থাকলেও যদি কোনো উপসর্গ না থাকে, তাহলে অনেকেই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। কিন্তু উপসর্গ থাকলে তা আপনার জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে— সঠিক জীবনধারা ও চিকিৎসায় তা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে নিজের শরীরকে বুঝতে শিখুন। মাথা ঘোরা মানেই সবসময় কিছু সাধারণ নয়— এটা হতে পারে লো প্রেশারের সতর্ক সংকেত।


