Home Blog Page 302

ঢালাওভাবে ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসাব জব্দ রাখা ঠিক নয়: ফাহমিদা খাতুন

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সদস্য ড. ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার প্রয়োজন। ঢালাওভাবে ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসাব জব্দ রাখা ঠিক নয়।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) এফডিসিতে ‘ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’ আয়োজিত ‘ব্যাংক একীভূতকরণ : ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে’ শীর্ষক ছায়া সংসদে এসব কথা বলেন তিনি।
ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘স্বল্পমেয়াদি সরকার দীর্ঘায়িত হলে তা অর্থনীতির জন্য মঙ্গলজনক নয়, যা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত করে।
অর্থনীতি ও রাজনীতি একসঙ্গে চলে এবং একে অপরের পরিপূরক। দুর্বল শাসনব্যবস্থায় অর্থনীতি চলতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার প্রয়োজন। ঢালাওভাবে ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসাব জব্দ রাখা ঠিক নয়।
কোনো বড় ধরনের বিচ্যুতি না থাকলে জব্দকৃত হিসাবগুলো খোলা উচিত। নাহলে সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য, দারিদ্র্য এবং কর্মসংস্থানের ওপর বিরাট প্রভাব পড়বে।’
ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘গত এক বছরে অর্থনীতির কিছু সূচকের পতন ঠেকানো গেলেও সংকট কাটেনি এবং দারিদ্র্য কমেনি। ব্যাংকিং খাতে পূর্ববর্তী সরকারের সময় সুশাসন ছিল না, প্রতিটি সূচকেই অবনতি হয়েছে।’
রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক অনুমোদনের মাত্রা অর্থনীতির আকারের তুলনায় অনেক বেশি ছিল, যা পৃথিবীতে বিরল।
তিনি বলেন, ‘পূর্ববর্তী সময়ে ব্যাংকগুলোকে নিজেদের সম্পদ বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দুর্বল ব্যাংকগুলো একীভূত করার চেষ্টা করলেও প্রক্রিয়াটি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ, যার কারণে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে।’
‘ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, আওয়ামী সরকারের আমলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করে আর্থিক মাফিয়াদের অনৈতিক সুবিধা দিয়েছিল। ফলে দেশে ‘মাফিয়া ইকোনমির শাসন’ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি ভালো ব্যাংক লুণ্ঠিত হয়।

খেলাপি ঋণ আদায় না হলে উৎসাহ বোনাস পাবেন না ব্যাংকের কর্মীরা!

এখন থেকে উৎসাহ বোনাস পেতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের খেলাপি ও অবলোপনকৃত ঋণ থেকে আদায় দেখাতে হবে। এছাড়া মোট বিতরণকৃত ঋণ ও অগ্রিম এবং আমানত বাড়াতে হবে। এমন বিধান রেখে উৎসাহ বোনাস দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। তবে বছরে সর্বোচ্চ তিনটি বোনাস দেওয়া যাবে। বোনাস দেওয়ার ভিত্তি আর পরিচালন মুনাফা হবে না। হবে নিট মুনাফা। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, এ নির্দেশনার পর ঢালাওভাবে কর্মচারীদের আর উৎসাহ বোনাস দিতে পারবে না রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা থেকে ঋণ ও অগ্রিমের ওপর প্রভিশন, বিনিয়োগের মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধির প্রভিশন এবং অন্যান্য সম্পদ হ্রাস-বৃদ্ধির প্রভিশন সমন্বয় করে অর্থাৎ বাদ দিয়ে নিট মুনাফার হিসাব করতে হবে। ব্যাংকগুলোতে উৎসাহ বোনাস দেওয়ার ক্ষেত্রে এতদিন শৃঙ্খলার ঘাটতি ছিল। এটা দূর করার জন্য ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই এ অভিন্ন উৎসাহ বোনাস নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, এতদিন এ বিষয়ে একটি নীতিমালা ছিল, যা লঙ্ঘন করে আসছিল বড় কয়েকটি ব্যাংক। যেমন, তিনটি উৎসাহ বোনাসের বেশি পাওয়ার সুযোগ না থাকলেও ২০২৩ সালে পাঁচটি উৎসাহ বোনাস দেয় সোনালী ব্যাংক। একইভাবে অন্যান্য ব্যাংকও বেশি বোনাস দিয়েছে।
নিদের্শিকায় আরও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএল-এই ছয় ব্যাংক উৎসাহ বোনাস দেবে পাঁচটি উপাদান বা কর্মসম্পাদন পরিমাপকের ভিত্তিতে। এগুলো হচ্ছে চলতি মূলধনের ওপর নিট মুনাফার হার, আমানতের পরিমাণ বৃদ্ধির হার, ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ বৃদ্ধির হার, খেলাপি ঋণ আদায়ের হার এবং অবলোপন করা ঋণ আদায়ের হার। একই পদ্ধতিতে বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি), রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), কর্মসংস্থান ব্যাংক, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ও আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের বোনাস নির্ধারিত হবে।
এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ক্ষেত্রেও পাঁচটি সূচক বিবেচনায় থাকলেও কিছুটা পরিবর্তন রয়েছে। এক্ষেত্রে চলতি মূলধনের ওপর নিট মুনাফার হার, বিনিয়োগের বিপরীতে লভ্যাংশ ও মূলধনী মুনাফা অর্জনের হার, খেলাপি ঋণ আদায়ের হার, পুঁজিবাজারে সংস্থাটির লেনদেন বৃদ্ধির হার এবং অবলোপন করা ঋণ আদায়ের হার বিবেচনায় নেওয়া হবে। আর বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের (বিএইচবিএফসি) ক্ষেত্রে চলতি মূলধনের ওপর নিট মুনাফার হার, আদায়যোগ্য ঋণের মধ্যে বার্ষিক প্রকৃত আদায় হার এবং ঋণ ও বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধির হার বিবেচনায় নেওয়া হবে।
এভাবে মূল্যায়নের ভিত্তিতে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৪০ এর কম পেলে কোনো বোনাস দেওয়া যাবে না। ৪০ থেকে ৫০ নম্বরের ক্ষেত্রে একটি, ৫০ থেকে ৬০ নম্বরে দেড়টি, ৬০ থেকে ৭০ নম্বরে দুটি, ৭০ থেকে ৮০ নম্বরে আড়াইটি এবং ৮০ এর বেশি নম্বর পেলে তিনটি বোনাস দেওয়া যাবে। একটি বোনাস বলতে এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ বোঝাবে। হিসাব বছরের শেষ মাসের প্রাপ্য মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ উৎসাহ বোনাসের ভিত্তি হিসাবে গণ্য হবে।
এ নির্দেশিকার আলোকে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ নিজ নিজ পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনক্রমে উৎসাহ বোনাস প্রদান করবে। রাষ্ট্রমালিকানাধীন বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ এ নির্দেশিকার আলোকে নিজ নিজ পরিচালনা পর্ষদের সুপারিশের ভিত্তিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অনুমোদন নিয়ে উৎসাহ বোনাস প্রদান করবে।
নির্দেশিকায় বর্ণিত শর্তাদি অনুযায়ী কোনো বছরে উৎসাহ বোনাস প্রাপ্য না হলে, বিবেচ্য বছরে প্রতিষ্ঠানের বিশেষ কোনো অর্জন বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সুপারিশের ভিত্তিতে আবেদন করলে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ এক্স-গ্রেসিয়া হিসাবে প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারবে।

যে কারণে বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো সোহেল তাজকে!

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয়েছে। ‘ভ্রমণরোধ’ থাকায় সোহেল তাজ দেশত্যাগ করতে পারেননি বলে জানান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এসএস (ইমিগ্রেশন) কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা ও সোহেল তাজের বোন মাহজাবিন আহমদ মিমি সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ‘সোহেল তাজের বিদেশযাত্রা বাধা দেওয়া হয়েছে।’ কবে এ ঘটনা ঘটেছে জানতে চাইলে মিমি বলেন, ‘সম্ভবত বুধবার ঘটেছে।
অন্যদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এসএস (ইমিগ্রেশন) কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, ‘ভ্রমণরোধ’ থাকায় সোহেল তাজ দেশত্যাগ করতে পারেননি।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০১ সালের নির্বাচনে গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সোহেল তাজ।
২০০৮ সালে একই আসন থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।
একই বছরের ৩১ মে মন্ত্রিসভা থেকে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন তিনি। ২০১২ সালের ২৩ এপ্রিল সংসদ সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগ করেন সোহেল তাজ।

সোহেল তাজকে নিয়ে বিমানবন্দরে আসলে কী ঘটেছিল?

যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদের ছেলে ও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজকে। বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোহেল তাজের বোন মাহজাবিন আহমদ মিমি।
তবে কেন সোহেল তাজকে বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয়েছে তা জানতে চাইলে মিমি বলেন, সেটা তাদেরই জিজ্ঞেস করুন। ঘটনার বিস্তারিত বলতে রাজি হননি তিনি।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে পারি জমানোর জন্য নিজ বাসভবন ত্যাগ করেন সোহেল তাজ। বিমানবন্দরে যাওয়ার পর তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
সোহেল তাজ একসময় আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী থাকলেও ২০১২ সালে এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তার ছেড়ে দেওয়া আসনে বোন এমপি নির্বাচিত হন। এরপর থেকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে তাকে দেখা যায়নি। এক সময় আওয়ামী লীগে ফেরানোর চেষ্টা করানো হয় সোহেলকে। তবে দলের কোনো পদে আর ফেরেননি তিনি।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর সোহেল তাজ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা শুরু করেন। তিনি আওয়ামী লীগের এই পরিণতির জন্য শেখ হাসিনাকে দায়ী করেন। রাজনীতিতে গুঞ্জন ছড়ায় যে, সোহেল তাজের নেতৃত্বে রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ হবে। তবে সেটি এখনও পর্যন্ত হয়নি।
সোহেল তাজ কিছুদিন আগে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখাও করেন। তিনি আওয়ামী লীগের কড়া সমালোচকের ভূমিকায় রয়েছেন। তবুও কেন সোহেল তাজকে বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো সেটি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বিমানবন্দর থেকে সোহেল তাজকে ফিরিয়ে দেওয়ার খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যপক আলোচনা শুরু হয়। ঘটনার সত্যতা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এক কর্মকর্তা জানান, ‘ভ্রমণরোধ’ থাকায় সোহেল তাজ দেশ ছাড়তে করতে পারেননি।
এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকার বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। বিমানবন্দরে সোহেল তাজের সঙ্গে কী ঘটেছিল স্পষ্ট হতে আরও সময় লাগবে। তবে সোহেল তাজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কী কারণে তাকে আটকে দেওয়া হয়েছে সেটি তার কাছেও স্পষ্ট নয়। তিনি জানার চেষ্টা করছেন।
সোহেল তাজ ২০০১ ও ২০০৮ সালে গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) থেকে দুবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০০৯ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। তবে পাঁচ মাসের মাথায় ২০০৯ সালের ৩১ মে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ২০১২ সালে সংসদ সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগ করেন তিনি।
দীর্ঘ সময় রাজনীতি থেকে দূরে থাকা সোহেল তাজ তখনই অভিযোগ করেছিলেন, তার কাজের ক্ষেত্রে নানারকম বাধা ও অবজ্ঞার শিকার হচ্ছেন তিনি। সেসব কারণে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন সোহেল তাজ।

যেসব বিশ্বনেতা প্রকাশ্যে আমাদের সমালোচনা করেন, গোপনে তারা ধন্যবাদ জানান’

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বর্বরতা চালানোয় ইসরায়েলের অনেক মিত্র দেশ ইসরায়েলের সমালোচনা শুরু করেছে। এরমধ্যে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডার মতো দেশ সম্প্রতি ফিলিস্তিনিকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে।
তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, যেসব বিশ্বনেতা প্রকাশ্যে ইসরায়েলের সমালোচনা করে। তারা গোপনে তাদের ধন্যবাদ জানায়। কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, তাদের হয়ে ইসরায়েল লড়াই করছে।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতানিয়াহু বলেন, “আপনারা জানেন ইসরায়েল আপনাদের লড়াই করছে। আমি আপনাদের দরজার পেছনের গোপন কথা জানাতে চাই। অনেক বিশ্বনেতা যারা প্রকাশ্যে আমাদের সমালোচনা করে। গোপনে তারা আমাদের ধন্যবাদ জানায়। তারা আমাকে বলে, আমাদের অসাধারণ গোয়েন্দা সেবাকে তারা কতটা গুরুত্ব দেয়। আমাদের এসব গোয়েন্দা সেবা এসব দেশের রাজধানীতে অসংখ্য সন্ত্রাসী হামলা আটকে দিয়েছে। অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা করেছে।”
এদিকে আজ জাতিসংঘের অধিবেশন কক্ষের পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে নেতানিয়াহু বক্তব্য দেওয়া শুরুর সাথে সাথে বেরিয়ে যান বিশ্বের কয়েকশ কূটনীতিক।
সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, শুধুমাত্র আরব ও মুসলিম নেতারাই আজ ওয়াক আউট করেননি। তাদের সঙ্গে সঙ্গে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান আফ্রিকা ও ইউরোপের কয়েকটি দেশের কূটনীতিকরা।
তাদের এ ওয়াক আউট থেকে নজর সরাতে নেতানিয়াহুর সমর্থকরা জোরে জোরে তালি দেয় বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল। এরমধ্যে নেতানিয়াহুর স্ত্রী ও নিউইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামসও রয়েছেন।
নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধন্যবাদ, গাজা যুদ্ধ, ফিলিস্তিনিকে বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতি দেওয়াসহ অন্যান্য কথা বলেন।

ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি মানে ইসরায়েলের গলায় ছুরি ধরা : নেতানিয়াহু

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলো ইসরায়েলকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলছে বলে অভিযোগ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি প্রদানকে ইসরায়েলের গলায় ছুরি ধরার সঙ্গেও তুলনা করেছেন তিনি।
শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে এ অভিযোগ করেন তিনি।
অবশ্য তিনি ভাষণ দিতে ওঠার পর সাধারণ পরিষদ মিলনায়তনে উপস্থিত রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিদের অধিকাংশই মিলনায়তন থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। ফাঁকা মিলনায়তনে উত্তেজিত কণ্ঠে নেতানিয়াহু বলেন, “ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে আপনারা আসলে ইহুদি হত্যাকে সমর্থন করেছেন। একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র আমাদের গলায় ছুরি ধরে থাকবে— তা আমরা কখনও মেনে নেবো না।”
ইউরোপীয় নেতাদের কটাক্ষ করে নেতানিয়াহু বলেন, “নিষ্ঠুর মিডিয়া এবং ইহুদিবিরোধী মবের মুখোমুখি হওয়ার সাহস আপনাদের নেই। তাই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে আপনারা হামাসকে পুরস্কৃত করছেন, আর ইসরায়েলকে আত্মহত্যার পথে ঠেলছেন। কিন্তু আমরা এটা কখনও মানব না।”
ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করতে গত সোমবার বৈশ্বিক সম্মেলন হয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে। ফ্রান্স এবং সৌদি আরবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সেই সম্মেলনের সময় এবং তার আগে ও পরে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, পর্তুগাল, যুক্তরাজ্য, লুক্সেমবার্গসহ বেশ কয়েকটি দেশ। সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের আল আকসা অঞ্চলে জাতিসংঘের প্রস্তাবতি দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়ন এবং পশ্চিম তীর অঞ্চলে ইসরায়েলের দখল কার্যক্রম বন্ধের দাবি উঠেছে জোরেশোরে।
তবে জাতিসংঘে প্রদান করা বক্তব্যে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখল কার্যক্রম নিয়ে একটি কথাও বলেননি নেতানিয়াহু। তিনি ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট এবং পশ্চিম তীর অঞ্চলে ক্ষমতাসীন ফিলিস্তিনি সরকারকে ‘আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে উল্লেখ করেন।
প্রসঙ্গত, নেতানিয়াহু তার রাজনীতি জীবনের শুরু থেকেই দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের বিরোধী। গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিষ্ঠুর অভিযান বন্ধে দুই বছরে আন্তর্জাতিক বিশ্ব বহুভাবে নেতানিয়াহুকে চাপ দিয়েছে, কিন্তু তিনি অভিযান বন্ধের নির্দেশ দেননি।
নেতানিয়াহুর ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে পশ্চিম তীরে ক্ষমতাসীন ফিলিস্তিন সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আদেল আতিয়েহ বলেছেন, “জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর এই ভাষণ আসলে একজন পরাজিত মানুষের জবানবন্দি।”

 

দলমত নির্বিশেষে সংস্কার এগিয়ে নেবে বাংলাদেশ: ড. ইউনূস

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ আর কখনো স্বৈরশাসনের পথে ফিরবে না। দলমত নির্বিশেষে গঠিত ঐকমত্যের ভিত্তিতেই দেশের গণতন্ত্র ও সংস্কার কার্যক্রম টেকসইভাবে এগিয়ে যাবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণের আত্মত্যাগে অর্জিত ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াকে আর কোনো শক্তি বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
ড. ইউনূস বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবিতে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্ম। কিন্তু যে অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা আত্মত্যাগ করেছিলাম তা গত পাঁচ দশকে বারবার বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। জনগণকে বারবার সেই অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, চলতি বছর পালিত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর প্রথম বার্ষিকী, যেখানে তরুণসমাজ স্বৈরাচারকে পরাভূত করেছিল। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সেই অভ্যুত্থান বৈষম্যমুক্ত ও ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের নতুন পথ খুলে দিয়েছে। আর সেই দায়িত্বই আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে জনগণ।
ভেঙে পড়া রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে ড. ইউনূস বলেন, নির্বাহী আদেশে সংস্কার চালানো সম্ভব হলেও সরকার বেছে নিয়েছে কঠিন পথ—অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই প্রক্রিয়া। এজন্য বিচার বিভাগ, শাসনব্যবস্থা, নির্বাচন, জনপ্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি দমন ও নারী অধিকারসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে ১১টি স্বাধীন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়।
তিনি জানান, এই কমিশনগুলোর সুপারিশ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরির জন্য ৩০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল ও জোটকে নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। এর ফলশ্রুতিতেই গত জুলাই মাসে সব দল একসঙ্গে ‘জুলাই ঘোষণা’র মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রমে সময়াবদ্ধ অঙ্গীকার করে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই অঙ্গীকারের ফলে আগামী নির্বাচনে যে দলই জনগণের সমর্থন পাক না কেন, সংস্কার বাস্তবায়নে কোনো অনিশ্চয়তা থাকবে না। বাংলাদেশের গণতন্ত্র আর কখনো হুমকির মুখে পড়বে না।
ড. ইউনূস জানান, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে নাগরিকবান্ধব সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সারাদেশে ২৮৫৭ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ৪৩০ প্লাটুন বিজিবি

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৫ উপলক্ষ্যে সীমান্তবর্তী এলাকা এবং রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের ২,৮৫৭টি পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৪৩০ প্লাটুন সদস্য।
সীমান্তবর্তী এলাকাসহ সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবির ২৪টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। উৎসব চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করছে তারা।
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, বিজিবির নিরাপত্তাধীন মোট ২,৮৫৭টি পূজামণ্ডপের মধ্যে সীমান্তবর্তী (সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে এবং পার্বত্য এলাকার ১৫টি পূজামণ্ডপসহ) এলাকায় ১,৪১১টি এবং সীমান্তবর্তী এলাকার বাইরে রয়েছে ১,৪৪৬টি পূজামণ্ডপ।
বাইরের পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে রাজধানী ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ৪৪১টি; চট্টগ্রাম মহানগরী, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় মোট ৬৯৪টি এবং অন্যান্য স্থানে ৩১১টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। পূজা উপলক্ষ্যে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি শক্তিশালী করার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় বিশেষ টহল চালানো হচ্ছে।
বিজিবি সবসময় জাতীয় শান্তি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। দেশের জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারে সেলক্ষ্যে বিজিবি সারাদেশে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান শরীফুল ইসলাম।

এশিয়া কাপের সুপার ওভারে ভারতের রোমাঞ্চকর জয়

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার এশিয়া কাপের সুপার ফোরের ম্যাচে ভারত-শ্রীলঙ্কা লড়াই যেন রূপ নিল এক রুদ্ধশ্বাস নাটকে। নির্ধারিত ২০ ওভারে সমতায় আটকে যায় ম্যাচ, গড়ায় সুপার ওভারে। আর সেখানেই জ্বলে উঠলেন বাঁহাতি পেসার আর্শদীপ সিং। হাতে তুলে নিলেন পুরো ম্যাচের নায়কোচিত দায়িত্ব—বল হাতে মাত্র দুই রান দিয়ে নিলেন দুই উইকেট, এনে দিলেন ভারতকে শ্বাসরুদ্ধকর জয়।

ম্যাচের সুপার ওভারে ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব আস্থা রাখেন আর্শদীপের ওপর। সেই আস্থার প্রতিদান দিতে প্রথম বলেই কুশল পেরেরাকে সাজঘরে ফেরান তিনি। এরপর শেষ দিকের ব্যাটার দাসুন শানাকাকে কাটিয়ে দেন ডিপ থার্ডম্যানের হাতে। মাত্র দুই রানেই থামে শ্রীলঙ্কার সুপার ওভার ইনিংস। জবাবে প্রথম বলেই হাসারাঙ্গার ডেলিভারিকে এক্সট্রা কভারে পাঠিয়ে তিন রান নেন সূর্যকুমার, আর তাতেই নিশ্চিত হয়ে যায় ভারতের জয়।

তবে নাটকীয়তা শুরু হয়েছিল এর আগেই। শেষ ওভারে শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল ১২ রান। ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কার দুর্দান্ত সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ম্যাচে টিকে ছিল তারা। কিন্তু ১০৭ রানের ইনিংস খেলা নিসাঙ্কা আউট হয়ে গেলে ম্যাচের গতি পাল্টে যায়। শেষ বলে শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল ৩ রান, স্ট্রাইকে শানাকা। হারশিত রানার বলে লং-অন দিয়ে দুটি রান নিতে সক্ষম হলেও তৃতীয় রান নিতে গিয়ে ব্যর্থ হন। ফলে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।

এর আগে ব্যাট হাতে ভারতের ভরসা হয়ে ওঠেন অভিষেক শর্মা। মাত্র ৩১ বলে ৬১ রানের দাপুটে ইনিংস খেলেন তিনি। এছাড়া সঞ্জু স্যামসনের ৩৯, তিলক ভর্মার অপরাজিত ৪৯ ও অক্ষর প্যাটেলের ২১ রানে ভর করে ভারত দাঁড় করায় ২০২ রানের বিশাল লক্ষ্য।

জবাবে শ্রীলঙ্কা বেশ লড়াই করে। নিশাঙ্কার সেঞ্চুরি (১০৭ রান, ৫৮ বল, ৭ চার, ৬ ছক্কা) আর পেরেরার ৩২ বলে ৫৮ রানের ঝোড়ে ২০০ রানে পৌঁছায় তারা। কিন্তু শেষমেশ সুপার ওভারের ভাগ্যনির্ধারণী লড়াইয়ে হার মানতে হয় লঙ্কানদের।

এই জয়ের ফলে অপরাজিত ভারত আত্মবিশ্বাসের শীর্ষে থেকে প্রবেশ করছে এশিয়া কাপ ২০২৫-এর ফাইনালে, যেখানে অপেক্ষা করছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান।

মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা? নীরবে লো প্রেশারে ভুগছেন না তো?

অনেকেই ভাবেন, একটু মাথা ঘোরাই তো বড় কিছু নয়। কিন্তু আপনি জানেন কি, এই সাধারণ উপসর্গগুলো হতে পারে লো ব্লাড প্রেশার বা কম রক্তচাপের ইশারা? অনেক সময় এটি নিঃশব্দ ঘাতকের মতো শরীরে কাজ করে, আর আমরা বুঝতেও পারি না।

অনেক সময় আমাদের মাথা হঠাৎ ঘুরে যায়, দুর্বল লাগে বা চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। আপনি কি জানেন, এসব হতে পারে লো প্রেশার (Low Blood Pressure) বা কম রক্তচাপের উপসর্গ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন অবহেলা করলে লো প্রেশার হতে পারে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হৃদযন্ত্রে সমস্যা বা মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কমার মতো গুরুতর বিপদের কারণ।

চলুন আজ জেনে নেই— লো প্রেশারের লক্ষণ, কারণ, ঘরোয়া করণীয় এবং কখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।

লো প্রেশারের লক্ষণ

– মাথা ঘোরা বা ভারী অনুভব

– অতিরিক্ত দুর্বলতা ও ক্লান্তি

– ঝাপসা দেখা বা চোখে অন্ধকার

– বমি বমি ভাব

– মনোযোগ কমে যাওয়া

– হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

– ঠান্ডা-ঘাম, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস

– বিভ্রান্তি বা কনফিউশন

গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

লো প্রেশার কেন হয়?

– ভিটামিন বি১২ বা ফলেটের ঘাটতি

– পানিশূন্যতা বা রক্তস্বল্পতা

– গর্ভাবস্থা

– হৃদরোগ, ডায়াবেটিস

– কিছু ওষুধ (যেমন : বিটা ব্লকার, কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট)

– দীর্ঘসময় শুয়ে থাকা

– অটোনোমিক নার্ভ সমস্যা

ঘরোয়া কিছু উপায়

লবণ খান (মেপে) : তবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বেশি লবণ খাবেন না।

প্রচুর পানি পান করুন : পানিশূন্যতা হলে রক্তচাপ কমে যায়।

ছোট ছোট ভাগে খাবার খান : একসাথে ভারী খাবার খেলে রক্তচাপ কমতে পারে।

কমপ্রেশন স্টকিং পরুন : পায়ে রক্ত জমা কমায়, রক্তচাপ ঠিক রাখে।

ধীরে উঠুন : বসা বা শোয়া অবস্থা থেকে হঠাৎ দাঁড়ালে মাথা ঘুরতে পারে।

ঘুমের সময় মাথা একটু উঁচু রাখুন : দিনে রক্তচাপ ওঠানামা কমাতে সাহায্য করে।

ব্যায়াম করুন : হালকা ও নিয়মিত ব্যায়াম যেমন সাইক্লিং, হাঁটাহাঁটি উপকারী।

সুষম খাদ্য খান : ডিম, শাকসবজি, দুধ, দানাশস্য— সবই দরকারি ভিটামিন দেয়।

সতর্কতা

– নতুন ওষুধ খাওয়ার পর যদি মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা হয়— চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন

– বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ জরুরি চিকিৎসা দাবি করে

– সবসময় লো প্রেশার বিপজ্জনক নয়, কিন্তু উপসর্গ থাকলে তা উপেক্ষা করা ঠিক নয়

মনে রাখবেন, লো প্রেশার থাকলেও যদি কোনো উপসর্গ না থাকে, তাহলে অনেকেই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। কিন্তু উপসর্গ থাকলে তা আপনার জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে— সঠিক জীবনধারা ও চিকিৎসায় তা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে নিজের শরীরকে বুঝতে শিখুন। মাথা ঘোরা মানেই সবসময় কিছু সাধারণ নয়— এটা হতে পারে লো প্রেশারের সতর্ক সংকেত।