Home Blog Page 308

কে এই হানিয়া আমির?

পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমির। তিনি কমেডি চলচ্চিত্র ‘জানান’ এর মাধ্যমে অভিনয় জীবন শুরু করেন। এরপর নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন।
এরপর টেলিভিশন নাটক ‘ফির ওহি মহব্বতে’ অভিনয় শুরু করেন। এই নাটকগুলোর জন্য তিনি ‘হাম অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট টেলিভিশন সেনসেশন ফিমেল’ পুরস্কার লাভ করেন।
পাশাপাশি আমির বাণিজ্যিকভাবে সফল চলচ্চিত্র ‘পারওয়াজ হ্যায় জুনুন’ এবং পাঞ্জাবি কমেডি চলচ্চিত্র ‘সর্দারজি ৩’ -এর মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ সরব রয়েছেন। এর মাধ্যমে সে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশের দর্শকদের মাঝেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন।
যেখানে ফানি ভিডিও থেকে শুরু করে নান্দনিক ছবি শেয়ার করে থাকেন। হানিয়ার ইনস্ট্রাগামে ভক্ত-অনুরাগীর সংখ্যা ১৮.৮ মিলিয়ন। তরুণ প্রজন্মের কাছে একাধারে স্টাইল আইকন ও অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে পরিচিত।
১৯৯৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে জন্মগ্রহণ করা এ অভিনেত্রী খুব অল্প সময়েই তিনি প্রাণবন্ত অভিনয় ও উচ্ছ্বল ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে দর্শকদের মনে স্থান করে নেন।

 

পাঁচ ব্যাংক একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, খুব শিগগিরই ‘টেক-অফ’

সমস্যাগ্রস্ত শরিয়াভিত্তিক বেসরকারি পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ’ অনুযায়ী পরিচালিত এই মার্জার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগবে দুই বছর। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে শিগগিরই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র মো. আরিফ হোসেন খান।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বিশেষ বোর্ড সভা শেষে মুখপাত্র এসব তথ্য জানান। গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড সদস্যরা।
মুখপাত্র জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর বোর্ড সভায় একীভূতকরণের বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রণীত ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ’ অনুযায়ী পুরো প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।
আরিফ হোসেন খান বলেন, মার্জার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। এটি সম্পন্ন হতে সময় লাগবে প্রায় দুই বছর। তবে কার্যক্রম শুরুর (টেক-অফ) প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত। খুব শিগগিরই এটি দৃশ্যমান হবে।
এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি প্রশাসক টিম গঠন করা হবে। তবে ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বর্তমান ব্যবস্থাপনা টিম। প্রতিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাদের পদে বহাল থাকবেন।
তিনি আরও বলেন, এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্যাংকগুলোর পর্ষদ (বোর্ড) বাতিল করা হবে না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। প্রশাসক টিম নিয়মিত তাদের কার্যক্রমের অগ্রগতি ও আপডেট বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত টিমকে জানাবে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংককে একীভূত করে গঠন করা হবে একটি নতুন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক, যার সম্ভাব্য নাম হবে ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’। নতুন এ ব্যাংকটির জন্য লাইসেন্স ইস্যু করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
জানা গেছে, এই পাঁচ ব্যাংকের ৪৮ থেকে ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ এখন খেলাপি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ ৩৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারই দিচ্ছে ২০ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
এসব ব্যাংকের মধ্যে চারটি (ফার্স্ট সিকিউরিটি, ইউনিয়ন, গ্লোবাল ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক) দীর্ঘদিন ধরে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। একমাত্র এক্সিম ব্যাংক ছিল নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের অধীনে।

খেলাপি ঋণ নবায়নে নতুন সুবিধা ঘোষণা

বিশেষ বিবেচনায় আর্থিক সংকটে পড়া ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় সচল করতে নতুন একটি বিশেষ ঋণ পুনর্গঠন নীতিমালা চালু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই নীতির আওতায় সর্বোচ্চ দুই বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১০ বছরের জন্য খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ পাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো। কোনো কারণে প্রয়োজন হলে ৩০০ কোটি টাকার বেশি ঋণে নীতি সহায়তার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাছাই কমিটিতে আবেদন করা যাবে।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে। এই নীতিমালার আওতায় খেলাপি ঋণ নবায়ন করতে হলে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে হবে।
সূত্র জানায়, গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ সমর্থিত অনেক ব্যবসায়ী পালিয়ে গেছেন। তাদের ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। গত সরকারের আমলে জালিয়াতি করে নেওয়া ঋণও খেলাপি হচ্ছে। ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকটের কারণেও ঋণ বিতরণ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতেও অনেকে সমস্যায় পড়েছেন। এছাড়া বৈশ্বিক পরিস্থিতিতেও অনেক উদ্যোক্তা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এসব কারণে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতি কমানো ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন ঋণের জোগান দিয়ে সচল রাখার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ছাড় দিয়েছে। এই ছাড়ের যাতে কোনো ধরনের অপব্যবহার না হয় সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর তদারকির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়, ৩০ জুন পর্যন্ত যেসব গ্রাহক খেলাপি হয়েছেন এই ছাড়ের আওতায় তাদের ঋণ নবায়ন করা যাবে। ঋণ নবায়নের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ এককালীন নগদ পরিশোধ করতে হবে। ঋণ নবায়নের আবেদন করার আগে যদি কোনো কিস্তি পরিশোধ করে থাকেন তবে তা ডাউন পেমেন্ট হিসাবে গণ্য হবে না। আবেদনের সময় আলাদা করে ডাউন পেমেন্ট দিতে হবে। এর আওতায় খেলাপি ঋণ সর্বোচ্চ ১০ বছরের জন্য নবায়ন করা যাবে। এক্ষেত্রে ঋণ পরিশোধের জন্য গ্রাহক দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড পাবেন। নবায়ন করা ঋণ প্রতি মাসে একটি কিস্তি বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে একটি কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে। এই ঋণের ওপর ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ব্যাংক ঘোষিত সুদহারের চেয়ে এক শতাংশ কম সুদ আরোপ করা যাবে। গ্রেস পিরিয়ড চলার সময়ে আরোপিত সুদ ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে আংশিক বা সম্পূর্ণ আদায় করা যাবে।
গ্রাহক একটি কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে নবায়ন করা ঋণ আবার খেলাপি হিসাবে চিহ্নিত হবে। সেক্ষেত্রে আলোচ্য সুবিধায় ঋণ নবায়নের সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যাবে। এ ধরনের গ্রাহককে ব্যাংক স্বীয় বিবেচনায় নতুন ঋণ দিতে পারবে এবং আগের দেওয়া ঋণ সীমাও বাড়ানো যাবে।
সার্কুলারে বলা হয়, কোনো ঋণগ্রহীতা বিশেষ এক্সিট সুবিধা নিতে চাইলে ১০ বছরের অতিরিক্ত আরও এক বছর সময় পাবেন। এর মধ্যে পুরো ঋণ পরিশোধ করে এক্সিট সুবিধা নিতে পারবেন। নিয়মিত ঋণকে বিশেষ এক্সিট প্রদানের ক্ষেত্রে এক্সিট চলাকালীন আরোপিত সুদ ব্যাংকার-গ্রাহক স¤পর্কের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ বা আংশিক আদায় করা যাবে। অর্থাৎ ব্যাংক ইচ্ছা করলে কিছু সুদ মওকুফ করতে পারবে।
গ্রাহককে বিশেষ সুবিধায় ঋণ নবায়ন করতে হলে এ নীতিমালার আওতায় ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করতে হবে। আবেদন গ্রহণের তারিখ থেকে পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে ব্যাংক কর্তৃক তা নিষ্পত্তি করতে হবে। নীতি সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় ডাউন পেমেন্ট চেক বা অন্য কোনো ইনস্ট্রুমেন্টের মাধ্যমে প্রদান করা হলে তা নগদায়নের পর থেকে বর্ণিত ৬ মাস গণনা করতে হবে। তবে, ডাউন পেমেন্টের অর্থ ব্যাংকের অনুকূলে নগদায়নের পূর্বে নীতি সহায়তার আবেদন কার্যকর করা যাবে না।
সার্কুলারে বলা হয়, এ নীতিমালার আওতায় কোনো গ্রাহকের ঋণ নবায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। ব্যাংক কর্তৃক নীতি সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনাপত্তি গ্রহণ করতে হবে না। একাধিক ব্যাংক থেকে গৃহীত ঋণের বিপরীতে নীতি সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ঋণ প্রদানকারী ব্যাংক বা সবার সম্মতিতে ঋণদানকারী যে কোনো ব্যাংক নীতি সহায়তা প্রদানের বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর মধ্যে বৈঠকের আয়োজন করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যেতে পারে।
সার্কুলারে বলা হয়, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান যারা আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে বলে প্রতীয়মান হয় তাদের এ নীতিমালার আওতায় সহায়তা প্রদান করা যাবে। বিগত সময়ে ঋণ এবং ঋণসংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং ও আনুষঙ্গিক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত এবং অব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে (যেমন-দৃষ্টিভঙ্গিজনিত বৈষম্যের শিকার হওয়া ও প্রতিশ্রুত ইউটিলিটি সংযোগ/সরবরাহ না পাওয়া ইত্যাদি) ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান এবং সচল রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানকেও সুবিধা দেওয়া যাবে। বিবিধ কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নতা থেকে সৃষ্ট অভিঘাত ও বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার অপ্রত্যাশিত বিনিময় হারজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান, নীতি সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে ইতঃপূর্বে ঋণ পুনঃতফশিলিকরণ, পুনর্গঠন ইত্যাদি কোনো রূপ নীতি সহায়তা প্রাপ্ত হননি এরূপ ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ নবায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া যাবে।

 

নেতানিয়াহুকে ‘হিটলারের আত্মীয়’ আখ্যা দিলেন এরদোয়ান

দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে হিটলারের পরিবারের সদস্য হিসেবে অভিহিত করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
গত সপ্তাহে কাতারের রাজদানী দোহায় সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের আলোচকদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে তার্কিস প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “আদর্শিকভাবে নেতানিয়াহু হিটলারের আত্মীয়ের মতো।”
জার্মানির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও নাৎসি বাহিনীর প্রধান এডলফ হিটলার ইহুদিদের ওপর ব্যাপক দমন-নিপীড়ন চালিয়েছিলেন। হাজার হাজার ইহুদিকে হত্যা করায় তাকে বিশ্বব্যাপী এখন ঘৃণার চোখে দেখা হয়।
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েল একইরমকভাবে বর্বরতা চালানোয় যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতানিয়াহুকে এর আগে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন এরদোয়ান।
এছাড়া ইসরায়েলি সরকারকের ‘খুনি নেটওয়ার্ক’ হিসেবেও অভিহিত করেছিলেন তিনি।
কাতারের রাজধানী দোহায় আরব-ইসলামিক নেতাদের জরুরি সম্মেলন শেষে মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দেশে ফিরেছেন এরদোয়ান। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
চলতি মাসের ২২ তারিখ নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেবে যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ। এ ব্যাপারে এরদোয়ান বলেন, “আমি আশা করি ফিলিস্তিনের জন্য মানবিকতার জোট বিস্তৃত সমর্থন পাবে।”
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পুনরায় স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ইস্যুটি উত্থাপন করবেন বলেও জানান তিনি।

সাড়ে সাতশ বছরের পুরোনো মসজিদ ধ্বংস করে দিলো ইসরায়েল

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার গাজা সিটির তুফফা এলাকার একটি পুরোনো মসজিদে বোমা হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েল। ১৩ শতকের শেষ দিকে মসজিদটি তৈরি করা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চালানো এ হামলায় মসজিদটির মিনার পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
বার্তাসংস্থা টিআরটি জানিয়েছে, ১৩ শতকে মামলুকরা মসজিদটি তৈরি করে।
এটি গাজায় আয়বাকি মসজিদ নামে পরিচিত ছিল। গাজার মানুষের কাছে এটি  ছিল একটি গৌরবের প্রতীক।
মামলুকরা ছিল মিসরের ১২ শতকের শাসক। তারা বর্তমান গাজা সিটিতে মসজিদটি তৈরি করে।
এটি মুসলিম নেতা শেখ আব্দুল্লাহ আল-আয়বাকির নামে নামকরণ করা হয়েছিল। তিনি মিসরের মামলুক সুলতানি শাসনের প্রথম সুলতান ইজ আল-দ্বীন আয়বেকের আত্মীয় ছিলেন।
২০২৩ সালে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও দখলদার ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হয়। গত দুই বছরে গাজার বহু পুরাকীর্তি ও ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরায়েল।
তারা নতুন করে এখন গাজা সিটিতে হামলা শুরু করেছে। সেখানে থাকা প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ইসরায়েলি সেনারা সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ৫ লাখ মানুষ সরে গেলেও; অনেক মানুষ রয়ে গেছেন।
সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করতে ইসরায়েলি সেনারা বাড়িঘর থেকে শুরু করে সবকিছুতে হামলা চালাচ্ছে।
গতকাল জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে। তা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনি এ উপত্যকায় বর্বরতা অব্যাহত রেখেছে তারা।
ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২ লাখ মানুষ।

মানচিত্র থেকে হারাতে বসেছে ঝিনাইদহের শৈলকুপার বড়ুরিয়া গ্রাম

গ্রামের পর গ্রাম নদী ভাঙনের গর্জন। গ্রামবাসির কপালে চিন্তার ভাজ। কখন যেন সর্বনাশী গড়াই কেড়ে নেয় শেষ সম্বল ভিটেবাড়ি। সাম্প্রাতিক সময়ে তীব্র নদী ভঙনে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কয়েকটি গ্রাম বিলীন হতে চলেছে। ইতিমধ্যে গ্রামের মানুষ তাদের মাঠের ফসলী জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। প্রাই প্রতি বছরই মানচিত্র থেকে মুছে যেতে থাকে ভিটেবাড়িসহ ফসলি জমি। নতুন করে বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে সারুটিয়া ইউনিয়নের বড়ুরিয়া, কৃষ্ণনগর, হাকিমপুর ইউনিয়নের মাদলা এবং ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের কাশিনাথপুর, মাজদিয়া ও উলুবাড়িয়া গ্রাম। প্রায় দুই যুগের বেশি সময় ধরে গড়াই নদীভাঙনের কবলে পড়ে বদলে গেছে নদীর গতিপথ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বড়ুরিয়া, কৃষ্ণনগর, খুলুমবাড়ি, মাদলা, কাশিনাথপুর ও লাঙ্গলবাঁধ। ভিটেবাড়ি ও সহায়-সম্বল হারিয়ে কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছেন পাউবোর প্রধান সেচ খালের কাছে।

সরোজিমনে নদী ভাঙন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের মানুষ আতংকে বসবাস করছেন। নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ভাঙন তীব্র আকার ধারন করেছে। পাট, কলা ক্ষেত ও মরিচের জমিসহ ভাঙতে শুরু করেছে ফসলী জমি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেলা জিও ব্যাগও শ্রোতের তীব্রতায় ভেসে যাচ্ছে। অনেকে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গ্রাম ছেড়েছেন। গড়াই নদীর ভাঙ্গনে ক্রমশ পাল্টে যাচ্ছে গ্রামের মানচিত্র।

শৈলকুপা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, শৈলকুপায় গড়াই নদীর বহমান অংশ ২০ কিলোমিটার। যার মধ্যে বড়ুরিয়া গ্রামের উপর দিয়ে প্রবাহমান দেড় কিলোমিটার. কৃষ্ণনগর এক কিলোমিটার, গোসাইডাঙ্গা পাঁচ’শ মিটার, মাদলা এলাকায় দেড় কিলোমিটার, মাঝদিয়া গ্রামে এক কিলোমিটার এবং লাঙ্গলবাধ এলাকায় পাঁচ’শ মিটার ভাঙ্গনপ্রবন। তবে বড়ুরিয়া গ্রামের দেড় কিলোমিটার অংশে বেশী ভাঙ্গন তীব্রতা দেখা দিয়েছে।

তথ্য জানা যায়, গড়াই নদীর ওপারে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার গনেশপুর আদর্শ গ্রাম। এপারের জমি ভেঙে ওপাশে জেগে ওঠা চরের জমিতে কুষ্টিয়ার মানুষ শৈলকুপার কোন মানুষকে যেতে দেয় না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। আবার এখন পর্যন্ত চর উদ্ধারেও কেউ ব্যবস্থা নেয় না।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ২০১৯ ও ২০২১ সালে ডিপিপি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে দাখিল করা হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। চলতি বছরে গড়াইয়ের ভাঙন রোধে অস্থায়ী ভিত্তিতে সমীক্ষা কাজের আওতায় ১৭৫ কেজি ওজনের বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পহেলা মে থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পটি শেষ হবে ২০২৬ সালের জুন মাসে। ১৭ কোটি টাকা’র এই প্রকল্পিটি বাস্তবায়িত হবে চার ধাপে।

বড়ুরিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর ইসলাম  জানান, তার ১০ বিঘা ফসলী জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। নদীর ভাঙন যেভাবে তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে তাতে ভিটেবাড়িও ঠেকাতে পারবো না।

বড়ুরিয়া গ্রামের খলিলুর রহমান জানান, ১৯৬২ সালের পর থেকে নদী ভাঙন শুরু হলেও গত ২০ বছরে তীব্রতা বেড়েছে কয়েকগুন। সিএস রেকর্ড অনুযায়ী বড়ুরিয়া মৌজায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির পরিমাণ ছিল ১৪ শ’ ৫৭ বিঘা। আর খাস জমি আছে ১৪৩ বিঘা। নদী ভঙনের ফলে এখন জমির পরিমাণ দাড়িয়েছে গড়ে ২ শ’ ৫০ বিঘায়। গ্রামটিতে বসবাস করতেন ৭ শত পরিবার, কিন্তু এখন বসবাস করেন ২ শত পরিবার। বাকী ৫ শত পরিবার অন্যত্র চলে গেছে।

বড়ুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুন্দরী খাতুন বলেন, আমাদের প্রায় ৩০ বিঘা জমি ছিল, এখন তা ১০ বিঘায় দাড়িয়েছে। একই গ্রামের বাসিন্দা মনি মোল্লা বলেন, বড়ুয়া গ্রামের প্রায় ১৪ শ’ বিঘা জমি চলে গেছে কুষ্টিয়ার অংশে।

তিনি আরো জানান, এপাশ থেকে ভেঙে নদীর ওপারে চর জেগে উঠেছে। সেখানে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার মানুষ জবরদখল করে খাচ্ছে। প্রশাসনের কেউ উদ্যোগ নেয়না এই জমি উদ্ধারে। ফলে ক্রমেই গ্রামের মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।

ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস  বলেন, বর্তমানে বর্ষার শুরুতে ভাঙ্গন রোধে অস্থায়ী সমীক্ষা কাজ চলমান আছে। জরুরী ভিত্তিতে ১৭ কোটি টাকার জিও ব্যাগ ফেলা কাজ চলমান আছে। আগামী ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত কাজটি চলবে। এরপর স্থায়ী কাজ করা হবে বরাদ্দের ভিত্তিতে। নদীর এই অংশটুকু অবতল হওয়াতে পানির চাপ বৃদ্ধিতে পলি সরে ভাঙ্গন দেখা দেয়।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল  বলেন, শৈলকুপা অংশ ভেঙে নদীর ওপারে কুষ্টিয়া অংশে জেগে ওঠা চরের জমি উদ্ধার ও সেখানে যেন শৈলকুপার মানুষ চাষাবাদ করতে পারে সে বিষয়ে উদ্দোগ গ্রহন করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য দপ্তরের সম্মিলিত বৈঠকের পর জরিপ করে সীমানা নির্ধারনের জন্য সরকারের জরিপ অধিদপ্তরে পত্র পাঠানো হয়েছে। আশা করা যায় দ্রুতই বিধিসম্মত ভাবে নদী পাড়ের সমস্যার সমাধান করতে পারবে।

 

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন ফখরুলসহ ৪ রাজনীতিবিদ

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক যাচ্ছেন। তিনি সেখানে ২৬ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।
এ সফরে তার সঙ্গে থাকবেন চারজন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি। তারা হলেন- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এবং এনসিপির আখতার হোসাইন।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
তিনি জানান, এবারই প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ মহাসচিবের সভাপতিত্বে রোহিঙ্গাবিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে তিনি বিশ্বদরবারে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি, ঐকমত্যের ভিত্তিতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতি তুলে ধরবেন।
তিনি বলেন, দেশের বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এবারে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হচ্ছেন চারজন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি।
প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের অধিবেশন শেষে আগামী ২ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টা দেশে ফিরবেন।

‘আন্টি’ নয়, ছেলের বন্ধুরা আমাকে ‘দিদি’ বলে ডাকে: শ্রাবন্তী

কৈশোরে সংসার শুরু করেন টালিউড অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। মাত্র ১৬ বছর মা হন তিনি। বলতে গেলে সন্তান ঝিনুক আর তিনি প্রায় এক সঙ্গেই বেড়ে উঠেছেন। মা-ছেলের বোঝাপড়াটাও বন্ধুর মতো। ঝিনুকের বন্ধুরাও তাকে আন্টির বদলে দিদি ডাকে।

সম্প্রতি আনন্দবাজার পত্রিকার সঙ্গে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিনেমা, ব্যক্তিগত জীবনসহ নানা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

শ্রাবন্তীর ভাষ্য, তখন আমি দশম শ্রেণি। ‘চ্যাম্পিয়ন’ মুক্তি পেয়েছিল। তার পরের বছর, মানে ক্লাস ইলেভেনে আমার ছেলে হয়। অনেকে এটা শুনে আমায় বলবে ‘ইঁচড়ে পাকা’!

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বহুবার কটাক্ষের শিকার হয়েছেন, তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আক্রমণ করা হয়েছে। কীভাবে সামলেছেন?

শ্রাবন্তী বলেন, ‘না, এখন আর গায়ে মাখি না। আর আমার মনে হয়, ছোট বয়সে মা হওয়ার অনেক সুবিধা রয়েছে। যেমন ঝিনুক হওয়ার পাঁচ বছর পরে আবার আমি কাজে ফিরি। তখন আমার মাত্র ২১ বছর বয়স। তবে এটা সত্যি, ১৬ বছরটা মা হওয়ার জন্য খুবই কম বয়স। ওটা বাড়াবাড়ি।’

অভিনেত্রী জানান, সিনেমায় অভিনয়ের আগে চিত্রনাট্য নিয়ে ছেলের সঙ্গে কথা বলেন। তার ভাষ্যে, দেবী চৌধুরাণীর চিত্রনাট্য যখন এসেছিল, সবার প্রথমে ওকে আমি শুনিয়েছিলাম। বেশ অবাকই হয়েছিল। আসলে আমরা মা-ছেলের থেকে বেশি বন্ধু। মাত্র তো ১৬ বছরের পার্থক্য! ছেলের বন্ধুরা তো আমারই বন্ধু! দুয়েকজন ছাড়া আর কেউ ‘আন্টি’ বলে না। আমি ওদের সবার দিদি।

সাক্ষাৎকারে শ্রাবন্তী কথা বলেন জেন-জিদের প্রসঙ্গেও। তিনি বলেন, ‘ছেলে এবং ওর বন্ধুদের সঙ্গে মিশি তো। তাই লিঙ্গসাম্য নিয়ে ওদের সচেতনতা, ওদের ভাষা সহজেই বুঝতে পারি। আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এত বাড়বাড়ন্ত তো ছিল না। কত পোর্টাল তৈরি হয়েছে, যা পারে তাই লিখে দেয়। তাই নতুনদের বলতে চাই, প্রথম কাজ ভালো না হলে পরেরটা যাতে ভালো হয়, সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। অন্য কোনো কিছু নিয়ে মন খারাপ যেন না করে।’

ক্রীড়া কর্মসূচি প্রকল্পে বরাদ্দের টাকা বেহাত, দুদকের অভিযান

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ক্রীড়া পরিদপ্তর কর্তৃক বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচি প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ আত্মসাতসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ক্রীড়া পরিদপ্তরে অভিযান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান চালিয়েছেন বলে সংস্থাটির জনসংযোগ দপ্তরের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশের প্রতিটি জেলায় এ প্রকল্পে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বিভাগীয় আটটি জেলায় বরাদ্দ ছিল আরও ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে। কিন্তু কোনো খরচ না করে বরাদ্দকৃত টাকাগুলো ভাগ করে নেওয়া হয় কর্মকর্তাদের মধ্যে।

এ বিষয়ে ক্রীড়া পরিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (যুগ্ম সচিব) আ ন ম তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে তদন্ত চালমান রয়েছেও বলে জানা গেছে। দুদক টিম প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করে প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনে কাজ করছে বলে জানা গেছে।

আফগানদের হারিয়ে টিকে রইল বাংলাদেশ

এশিয়া কাপে ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ৮ রানে জিতেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের করা ১৫৪ রানের পিছনে তাড়া করতে গিয়ে ১৪৬ রানে গুটিয়ে যায় আফগানদের ইনিংস। এখন ২ জয়ে বাংলাদেশের ৪ পয়েন্ট।

গ্রুপের শেষ ম্যাচে আফগান-শ্রীলংকার খেলার দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে লিটনদের। শ্রীলংকা জিতলে বাংলাদেশের সুপার ফোর নিশ্চিত হবে। আর আফগানরা জিতলে তখন রান রেটের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে প্রথম ওভারের প্রথম বলেই আফগানরা অতলের উইকেট হারায়। নাসুমের বলে লেগ বিফোর হয়ে তিনি ফিরে যান। ১৮ রানে ফিরে যান জাদরান ৫ রান করে। তাকেও লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন নাসুম। দলীয় ৫১ রানে রিশাদ নিজ বলে ক্যাচ নিয়ে নাইবকে (১৪ বলে ১৬) সাজঘরে পাঠান। ১১ রানের ব্যবধানে উইকেটরক্ষক গুরবাজও রিশাদের বলে জাকের আলীর হাতে কাটা পড়লে স্বস্তি ফিরে টাইগার ক্যাম্পে। ১৫ বলে ১৫ রান করা চৌকস তারকা মো. নবীকে বোল্ড করেন মুস্তাফিজ। তখন স্কোর বোর্ডে রান উঠে ৫ উইকেটে ৭৭। ওমরজাই মারকুটে ব্যাট চালিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন। ১০৯ রানে ১৬ বলে ৩০ রান করা এ ব্যাটারকে তাসকিন শিকার করেন। ১২৪ রানে জানাত সোহানের হাতে রান আউট হওয়ার সময় দলীয় রান ছিল ১২৪।

এরপর মুস্তাফিজ পরপর দুই উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয়ের পথ সুগম করেন। ১৪৬ রানে অল আউট হয় আফগানিস্তান। মুস্তাফিজ ২৮ রানে ৩, নাসুম ১১, তাসকিন ৩৪ ও েিশাদ ১৮ রানে ২টি করে উইকেট নেন। সাইফ হাসান ৩ ওভারে দেন ৩৯ রান। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাট করতে গিয়ে প্রথম ছয় ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৯ রান তুলে। এরপরই শুরু ব্যাটিং ধ্বস। ২০ ওভার শেষে ১৫৪ রানে থামলো বাংলাদেশ। টাইগারদের হয়ে ৩১ বলে ৫২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন তানজিদ হাসান তামিম।

চার পরিবর্তন নিয়ে আফগানদের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচ দিয়ে সুযোগ পাওয়া সাইফ হাসান করেছেন দারুণ ব্যাটিং। তানজিদ তামিমকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন তিনি। তাতেই পাওয়ারপ্লেতে ৫৯ রান তোলে বাংলাদেশ। ১২ ম্যাচ পর ওপেনিং জুটিতে পঞ্চাশের ওপরে রান দেখলো বাংলাদেশ। সাইফকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন রশিদ খান। ২ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ২৮ বলে ৩০ রান করেন সাইফ। তবে ঠিকই ফিফটি তুলে নিয়েছেন তানজিদ তামিম। ২৮ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তরুণ এ ব্যাটার। তবে এরপর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। ৩১ বলে ৫২ রান করে ফেরেন তানজিদ তামিম।

তিনে নামা লিটন দাস এদিন ভালো করতে পারেননি। অধিনায়কের ব্যাট থেকে এসেছে ১১ বলে ৯ রান। শামীম হোসেন পাটোয়ারী প্রত্যাশিত ঝড় তুলতে পারেননি। তার ব্যাট থেকে এসেছে ১১ বলে ১১ রান। তাওহীদ হৃদয়ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে পারেননি। ২০ বলে করেছেন ২৬ রান। জাকের আলী করেছেন হতাশ। ১৩ বলে ১২ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ৬ বলে অপরাজিত ১২ রানের ক্যামিও খেলেছেন নুরুল হাসান সোহান। আফগানিস্তানের হয়ে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন নুর আহমেদ ও রশিদ খান।