Home Blog Page 308

বেশিরভাগ আমেরিকান ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে: জরিপ

বেশিরভাগ আমেরিকান নাগরিক মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এখনই ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং জরিপ প্রতিষ্ঠান ইপসোস পরিচালিত এক যৌথ সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমনই ফলাফল।

রয়টার্স-ইপসোসের এই ছয় দিনব্যাপী অনলাইন জরিপ সোমবার শেষ হয়। বুধবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, জরিপে অংশ নেওয়া ৫৯ শতাংশ আমেরিকান ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির পক্ষে মত দিয়েছেন। অপরদিকে, ৩৩ শতাংশ এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন এবং বাকিরা এ বিষয়ে অনিশ্চিত কিংবা কোনো মতামত দেননি।

দলীয়ভাবে দেখা গেলে, ডেমোক্র্যাটদের ৮০ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৪১ শতাংশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকানদের মধ্যে প্রায় ৫৩ শতাংশ এখনও ফিলিস্তিনের স্বীকৃতির বিরোধী।

এই সমীক্ষা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান মার্কিন জনগণের সামগ্রিক মতামতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর অনেকেই ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে— এর মধ্যে রয়েছে ব্রিটেন, কানাডা, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়া। তবে এসব দেশের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে ইসরায়েল।

ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর ১৯৪৮ সাল থেকে ফিলিস্তিন অঞ্চলে অব্যাহত সংঘাতে এখন পর্যন্ত লাখ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, আর প্রাণ হারিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা উপত্যকার ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলে আকস্মিক হামলা চালায়, যাতে এক হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং ২৫০ জনের বেশিকে ধরে নিয়ে গাজায় জিম্মি করা হয়। এর পরদিন থেকেই গাজায় ব্যাপক হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। টানা বোমা হামলায় ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে।

জরিপে অংশগ্রহণকারী প্রায় ৬০ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, হামাসের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে। অপরদিকে, ৩২ শতাংশ এই মতের বিরোধিতা করেছেন।

গত জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করে আসছেন। পাশাপাশি গাজা যুদ্ধে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও পালন করছেন তিনি।

রয়টার্স-ইপসোসের জরিপে আরও দেখা যায় ৫১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, যদি ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা ও যুদ্ধ-পরবর্তী শান্তি প্রক্রিয়ায় সফল হন তবে তিনি ‘গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতির যোগ্য’ হবেন। অন্যদিকে ৪২ শতাংশ এই বিষয়ে একমত নন।

রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথভাবে পরিচালিত এই অনলাইন জরিপে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৪ হাজার ৩৮৫ জন অংশ নিয়েছেন।

করোনার ভ্যাকসিনে সত্যিই কি চুলকানি হয়?

করোনা ভ্যাকসিন নেওয়ার পর নানাবিধ দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা হচ্ছে—এমন দাবি করে বেশ কিছু গুজব ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ছড়িয়ে পড়া স্ক্যাবিসসহ কিছু চর্মরোগ নিয়ে অনেকেই মনে করছেন, এগুলো নাকি ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। তবে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা এসব ধারণা ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছেন।

চুলকানির গুজব ভ্রান্ত তথ্য

করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন গবেষণা চালানো হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (CDC) এবং ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সি (EMA)-এর তথ্য অনুযায়ী, করোনার ভ্যাকসিন সাধারণত স্বল্পস্থায়ী ও হালকা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে চর্মরোগ কিংবা চুলকানি তৈরি করে—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

চিকিৎসকদের অভিমত অনুযায়ী, যেসব মানুষ ভ্যাকসিনের কারণে চুলকানি হচ্ছে বলে মনে করছেন, তাদের বেশির ভাগই আসলে স্ক্যাবিস (Scabies), রিংওয়ার্ম বা দাঁদ (Ringworm) কিংবা একজিমার মতো চর্মরোগে আক্রান্ত। এসব রোগ ছড়াচ্ছে মূলত—

  • ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাব,
  • ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাস,
  • আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা,
  • আবহাওয়া ও পরিবেশগত কারণে।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সঞ্চিয়া তারান্নুম বলেন—
“চুলকানি মানেই ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া—এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। চর্মরোগ দেখা দিলে গুজবে কান না দিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। দেরি হলে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।”

ফুসফুস ও হৃদরোগ জটিলতার পেছনে ভ্যাকসিন নয়, দায়ী করোনা সংক্রমণ

করোনা-পরবর্তী শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ বা হঠাৎ মৃত্যুর কারণ হিসেবে ভ্যাকসিনকে দায়ী করে প্রচুর গুজব ছড়ানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—

করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময় শরীরে তীব্র প্রদাহ হয়।

এতে অনেকের ফুসফুসে স্থায়ী ক্ষত (Fibrosis) তৈরি হয়, ফলে দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

ভাইরাসটি হৃদপেশিতে প্রদাহ (Myocarditis) সৃষ্টি করে, যার ফলে বুক ধড়ফড়, অনিয়মিত হার্টবিট বা হৃৎপিণ্ড বিকল হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

প্রতPrestigious গবেষণা জার্নাল Nature Medicine এবং The Lancet Respiratory Medicine–এ প্রকাশিত গবেষণে দেখা গেছে—
করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণকারীদের মধ্যে করোনা-পরবর্তী জটিলতার ঝুঁকি ৭০% পর্যন্ত কম।

বক্ষব্যাধী বিশেষজ্ঞ ডা. মনির হোসেন বলেন—
“করোনা ভ্যাকসিন মানবতার জন্য আশীর্বাদ। এই ভ্যাকসিন না পেলে মহামারি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো না। ভুল তথ্যই আজকের আসল ভাইরাস—এটি মনে রাখা জরুরি।”

বিয়ে ও বাবা হওয়ার খবর জানালেন জেমস

০

‘বাবা হওয়ার অনুভূতি অসাধারণ, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, তিনি আমাকে সুস্থ সন্তান দান করেছেন’—বাবা হওয়ার অনুভূতি জানিয়ে কথাগুলো বলছিলেন রকস্টার নগরবাউল জেমস। দ্বিতীয় স্ত্রী বেনজীরের সঙ্গে ২০১৪ সালে বিবাহবিচ্ছেদের এক দশক পর ২০২৪ সালে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক নামিয়া আমিনকে বিয়ে করেন জেমস। বিয়ের পর নামের সঙ্গে আনাম নাম যুক্ত করেছেন নামিয়া। চলতি বছরের জুনে জেমস-নামিয়া দম্পতির কোলজুড়ে আসে পুত্রসন্তান। নাম রাখা হয়েছে জিবরান আনাম।

২০১৪ সালে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে বেনজীর সাজ্জাদের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় জেমসের। এরপর এক দশক একা কাটিয়েছেন এই রকস্টার। ২০২৩ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে দেখা হয় নামিয়ার সঙ্গে। লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি অনুষ্ঠানে দুজনের পরিচয় হয়, আর এই পরিচয় থেকে প্রণয় ও বিয়ে। তবে এটি কোনো কনসার্ট ছিল না, এমনকি জেমস সম্পর্কে আগে থেকে তেমন কিছু জানতেনও না নামিয়া!

পরিচয়ের এক বছর পর ২০২৪ সালের ১২ জুন পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ঢাকায় তাঁদের বিয়ে হয়। ২০২৫ সালের ৮ জুন নিউইয়র্কের হান্টিংটন হাসপাতালে দিবাগত রাত সাড়ে তিনটায় জন্ম হয় জিবরানের। জেমসসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য তখন সঙ্গে ছিলেন। এক মাস যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের পর সন্তান নিয়ে দেশে ফেরেন তাঁরা। জেমসের তৃতীয় স্ত্রী নামিয়ার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে, তিনি সেখানের জন জে কলেজ থেকে ক্রিমিনাল জাস্টিসে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। পুত্রসন্তান জন্মের অনুভূতি জানাতে গিয়ে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে হাসলেন জেমস। এরপর কতক্ষণ দম নিয়ে বললেন, ‘এ অনুভূতি অসাধারণ! এটা আসলে কীভাবে প্রকাশ করব, সে ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। তবে এতটুকু বলব, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, তিনি আমাকে সুস্থ সন্তান দান করেছেন। সবাই মা ও সন্তানের জন্য দোয়া রাখবেন।’

ব্যক্তিজীবনে এর আগে দুবার বিয়ে করেছেন জেমস। তাঁর প্রথম স্ত্রী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী রথি। ১৯৯১ সালে বিয়ের পর ২০০৩ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ২০০০ সালে বেনজীর সাজ্জাদের সঙ্গে পরিচয় হয় জেমসের, এরপর আমেরিকায় গিয়ে তাঁরা বিয়ে করেন। ২০১৪ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। প্রথম পরিবারে জেমসের একটি পুত্র ও একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। আর দ্বিতীয় সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। রথি এরপর আবার বিয়ে করেন।

ব্যাট-বলের পারফরম্যান্সে ক্যারিয়ারসেরা রেটিং রিশাদের

০

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে ভালো বোলিংয়ের পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের রিশাদ হোসেন। আইসিসির সাপ্তাহিক র্যাঙ্কিংয়ে ওয়ানডে বোলারদের তালিকায় ৬৫ ধাপ এগিয়েছেন প্রথম ওয়ানডেতে ৬ উইকেট নেওয়া লেগ স্পিনার। সংযুক্ত আরব আমিরাতের জুনায়েদ সিদ্দিক ও ওমানের কলিম সানার সঙ্গে যৌথভাবে ৬৬তম স্থানে আছেন এই বোলিং অলরাউন্ডার। ২ ম্যাচে ১৯ ওভার বোলিং করে ৯ উইকেট নেওয়া রিশাদ এখন পর্যন্ত সিরিজের সর্বোচ্চ উইকেশিকারিও।

ওয়ানডে বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে ৬ ধাপ এগিয়ে ১৮তম স্থানে উঠে এসেছেন বাংলাদেশের এ সংস্করণের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ওয়ানডে বোলিংয়ে মিরাজই বাংলাদেশের শীর্ষ বোলার। যদিও সিরিজে দুই ম্যাচে বোলিং করে ১ উইকেট নিয়েছেন এই অফ স্পিনার। বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ ১৬ ধাপ উন্নতি করে ৭১তম। সিরিজে ১ ম্যাচ খেলে ২ উইকেট নিয়েছেন নাসুম।

ওয়ানডে ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে ৭ ধাপ উন্নতি করে ৩৫তম স্থানে উঠে এসেছেন তাওহিদ হৃদয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে দুই ম্যাচে এক ফিফটিসহ ৩১.৫০ গড়ে ৬৩ রান করেছেন হৃদয়। দুই ম্যাচে ৪৯ রান করা সৌম্য সরকার পাঁচ ধাপ উন্নতি করে উঠে এসেছেন ৮৬ তম স্থানে।

টেস্ট বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে চার ধাপ উন্নতি করে দুইয়ে উঠে এসেছেন পাকিস্তানের বাঁহাতি স্পিনার নোমান আলী। লাহোর টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নেন নোমান। চলমান রাওয়ালপিন্ডি টেস্টেও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে ২ উইকেট নেন। ৮৮২ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে টেস্ট বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা যশপ্রীত বুমরার সঙ্গে মাত্র ২৯ রেটিং পয়েন্ট ব্যবধানে পিছিয়ে নোমান। তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারে বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে এটাই সবচেয়ে ভালো অবস্থান।

লাহোর টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেট নেওয়া পেসার শাহিন আফ্রিদি তিন ধাপ লাফ দিয়ে ১৯তম স্থানে উঠে এসেছেন। টেস্ট ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে চার ধাপ উন্নতি করে ১৬তম স্থানে উঠে এসেছেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ রিজওয়ান। লাহোর টেস্টে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে ফিফটি পান তিনি।

দেড়শ প্রজাতির ভেষজে সমৃদ্ধ নাটোরের ১৫ ‘ঔষুধি গ্রাম’

০

দেশের একমাত্র ঔষধি পল্লী এখন নাটোরের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। প্রায় দিনই দর্শনার্থীরা আসছেন এই পল্লীতে এবং মুগ্ধতা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এই পল্লীতে বছরে শুধু অ্যালোভেরাই উৎপাদন হচ্ছে ১৫ হাজার টন। এছাড়া শিমুল মূল, অশ্বগন্ধাসহ উৎপাদন হচ্ছে ১৪০ ধরনের ভেষজ। উৎপাদিত এসব ভেষজের বাজার মূল্য অন্তত শত কোটি টাকা।

নাটোর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর-খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম জুড়ে এই ভেষজ পল্লীর অবস্থান। ইউনিয়নের প্রধান সড়কের প্রায় একই সমতলে থাকা ভেষজ পল্লী ছবির মতো সুন্দর।

জানা যায়, ১৯৯৫ সালের দিকে খোলাবাড়িয়া এলাকার আফাজ পাগলা তার কবিরাজি কাজে ব্যবহারের জন্য স্বউদ্যোগে ভেষজ উদ্ভিদের চাষাবাদ শুরু করেন। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে পুরো গ্রামে। শেষে সারা ইউনিয়ন জুড়ে। শুধু আবাদি জমিই নয়, গ্রামের প্রতিটি বাড়ির আনাচে-কানাচে, রাস্তার ধারে, নদীর পাড়ে চোখে পড়ে ভেষজ উদ্ভিদের রকমারি গাছ। তবে সব সৌন্দর্য ছাড়িয়ে অ্যালোভেরা গাছ সবচেয়ে দৃষ্টি নন্দন।

নাটোর সদর উপজেলা কৃষি অফিসের হিসাবে, লক্ষ্মীপুর-খোলাবাড়িয়াতে ১৪০ প্রকার ভেষজ উদ্ভিদ জন্মে। এর মধ্যে অ্যালোভেরা ছাড়াও শিমুল মূল, অশ্বগন্ধা, মিশ্রি দানা, বিটরুট, রোজেলা ও শতমূল প্রসিদ্ধ। ভেষজ উদ্ভিদের মোট ১৫৫ হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে ৭০ হেক্টরে ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরা চাষ হচ্ছে।

৫০ হেক্টর আবাদি জমি থেকে পাওয়া যাচ্ছে এক হাজার ২০০ টন শিমুল মূল। ১২ হেক্টরে বিটরুট এবং পাঁচ হেক্টর মিশ্রি দানার আবাদি জমি থেকে পাওয়া যাচ্ছে ৫০ টন করে ভেষজ। ১০ হেক্টর থেকে পাওয়া যাচ্ছে ১২ টন অশ্বগন্ধা। ইউনিয়নের দুই হাজার কৃষক ভেষজ উদ্ভিদ চাষের সঙ্গে জড়িত।

মূলত বর্ষার শেষে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে এক বিঘা জমিতে অ্যালোভেরার ১০ হাজার চারা রোপণ করা হয়। এই আবাদি জমি থেকে পরবর্তী দুই বছর অনায়াসে অ্যালোভেরার পাতা সংগ্রহ করা যায়।

সেচের ব্যবস্থা রেখে সারিবদ্ধ এসব গাছ থেকে রোপণের ৩ মাস পর থেকে পাতা সংগ্রহ শুরু হয়। চাষাবাদ, পরিচর্যা ও সেচের কাজে সারা বছর জমিতে ১০০ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। জৈব সার ছাড়াও পরিমাণ মতো ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি, জিপসাম, দস্তা ও বোরিক এসিড প্রয়োজন হয়। পাতার কালো দাগ পড়া রোধে ব্যবহার হয় চুন।

পাতা ছিদ্রকারী মশাসহ অন্যান্য কীটপতঙ্গ দমনে সম্প্রতি ছত্রাক নাশক টাইকোডার্মা ও সেক্স ফেরোমেন ব্যবহারে সম্প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে কৃষি বিভাগ ও কৃষকরা। বিঘাপ্রতি অ্যালোভেরার গড় উৎপাদন প্রায় ৩০ টন।

উৎপাদিত ভেষজ উদ্ভিদ শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে নানা রকম ভেষজ ওষুধ। এর বিপণন কাজ চলছে এলাকার ৪টি স্থানে গড়ে ওঠা প্রায় একশটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।

ভেষজ উৎপাদনকারী কৃষক, সমবায় নেতা ও কবিরাজ মো. জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘অ্যালোভেরা সংরক্ষণে একটি হিমাগার নির্মাণ ও সাবান-শ্যাম্পুসহ প্রসাধনী তৈরির কারখানা নির্মাণে উদ্যোক্তা খুঁজে বের করা হলে আমরা উপকৃত হব।

খোলাবাড়িয়া হাজীগঞ্জ বাজার ভেষজ উৎপাদন ও বিপণন সমবায় সমিতির সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধীনে গ্রামে একটি ঔষধি উদ্ভিদ গবেষণা সেন্টার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এর ফলে আমাদের উৎপাদিত ভেষজ পণ্যের গুণাগুণ ও মান নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে। পাশাপাশি প্রসাধন ও ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের আগমন ঘটবে। ফলে ভেষজ পল্লী আরও সমৃদ্ধ হবে।

নাটোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নীলিমা জাহান বলেন, ভেষজ পল্লীর প্রায় ১০ হাজার মানুষ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিপণন কিংবা কৃষি শ্রমের সঙ্গে জড়িত। ভেষজ পল্লীর পরিধি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নাটোর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান বাসসকে বলেন, ভেষজ পল্লীতে হিমাগার, প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা সম্ভব হলে- কৃষকরা লাভবান হবেন। সমৃদ্ধ হবে দেশের একমাত্র এই ঔষধি পল্লী।

সরাইলের গ্রে-হাউন্ড কুকুর বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন ও বাজারজাত করার উদ্যোগ

০

শক্ত গড়নের পাঁজর আর দীর্ঘদেহী গ্রে-হাউন্ড কুকুর জেলার সরাইল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী একটি প্রাণী। সাহস আর রণকৌশলে অন্যসব কুকুরের চেয়ে আলাদা। দৌড়ের গতিও অন্যসব কুকুরের চেয়ে বেশি। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি আর শিকারে পারদর্শিতার কারণে গ্রে-হাউন্ড কুকুর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ডগ স্কোয়াডেও ব্যবহৃত হয়েছে বলে জানা যায়।
ঐতিহ্যবাহী এই গ্রে-হাউন্ড কুকুর এখন অস্তিত্ব সংকটে। পুরো সরাইল জুড়ে হাতেগোনা কয়েকটি বাড়িতে দেখা মেলে এই কুকুরের। ঐতিহ্যবাহী ও দামি বিরল প্রজাতির এই কুকুরকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে গ্রে-হাউন্ড প্রজনন কেন্দ্র গড়ে তোলার কথা ভাবছে প্রশাসন। সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোশারফ হোসাইন বাসসের সাথে আলাপকালে একথা জানান।
তিনি বলেন, বাণিজ্যিকভাবে গ্রে-হাউন্ড কুকুর উৎপাদন ও বাজারজাত করার বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রাথমিক আলোচনা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করেছি। গ্রে-হাউন্ড কুকুরের জাত টিকিয়ে রাখার জন্য একটি প্রজনন কেন্দ্র করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সম্মলিতভাবে কাজ করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঐতিহ্য ধরে রাখতে একটি পরিবার এখনও বংশ পরম্পরায় গ্রে-হাউন্ড কুকুর পালন করছে। সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের চৌরাগুদা গ্রামের দুই ভাই তপন লাল রবিদাস ও যতন লাল রবিদাস বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে গ্রে-হাউন্ড কুকুর পালন করছেন। তবে ব্যয়বহুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে গ্রে-হাউন্ড কুকুর পালন তাদের জন্য কষ্টসাধ্য।
জনশ্রুতি আছে, প্রায় দুইশ বছর আগে সরাইলের জমিদার দেওয়ান মোস্তফা আলী হাতি নিয়ে কলকাতা যাচ্ছিলেন। পথে এক ইংরেজ সাহেবের কাছে একটি সুন্দর কুকুর দেখতে পান। তিনি কুকুরটি কেনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে তিনি একটি হাতির বিনিময়ে ইংরেজ সাহেবের কাছ থেকে ঐ স্ত্রী কুকুরটি নিয়ে আসেন।
এলাকার প্রবীণদের সাথে কথা বলে জানা যায়, একসময় সরাইল উপজেলার প্রতিটি বাড়িতে দেখা মিলত গ্রে-হাউন্ড কুকুরের। মূলত বাড়ির নিরাপত্তা এবং শেয়াল তাড়ানোর জন্য গ্রে-হাউন্ড কুকুর পালনে উৎসাহী হন সরাইলের বাসিন্দারা। ধীরে ধীরে এই কুকুর বাণিজ্যিকভাবেও লালন-পালন শুরু করেন অনেকে। তবে অন্যসব কুকুরের তুলনায় গ্রে-হাউন্ড পালন কিছুটা ব্যয় সাপেক্ষ। এর ফলে অনেকেই গ্রে-হাউন্ড কুকুর পালন বন্ধ করে দেন। এতেই কমতে থাকে গ্রে-হাউন্ড কুকুরের সংখ্যা। এখন হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার শখের বশে গ্রে-হাউন্ড কুকুর পালন করছে। তবে ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে মাত্র তপন রবিদাস ও যতন রবিদাস গ্রে-হাউন্ড কুকুর পালন করছেন।
কুকুর ছানাগুলো বিক্রি করা হয় স্ট্যাম্প করে। তবে পেশায় মুচি তপন ও যতনের জন্য গ্রে-হাউন্ড পালন করা এখন কষ্টকর হয়ে উঠেছে। স্বল্প আয়ে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয় তাদের। এর ফলে অর্থের অভাবে ঠিকভাবে গ্রে-হাউন্ড কুকুরের পরিচর্যা করতে পারছেন না দুই ভাই।
তপন লাল রবিদাস বলেন, বড় প্রত্যেকটি কুকুরের জন্য প্রতিদিন অন্তত ৩০০ টাকার খাবারের প্রয়োজন হয়। ভাত, মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ ছাড়া অন্য কোনো খাবার খায় না গ্রে-হাউন্ড কুকুর। কিন্তু সবসময় আমরা এই খাবার খাওয়াতে পারি না। আর্থিক টানাপোড়নের সংসারে আমাদের নিজেদের চলতেই কষ্ট হয়। এর মধ্যে কুকুরের খাবারের জন্য বাড়তি টাকা খরচ করা আমাদের জন্য কষ্টকর। শুধুমাত্র পূর্ব পুরুষরা কুকুর পালন করতেন বলেই আমরা এখনও পালন করছি।
প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, ঐতিহ্যবাহী এই কুকুরের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। এই কুকুর কেবল সরাইলের ঐতিহ্যই নয়, এটি নিরাপত্তার কাজেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এর সঠিক প্রজনন, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজেও এদের ব্যবহার করা সম্ভব।
তাদের মতে, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় ঐতিহ্যবাহী সরাইলের বিরল প্রজাতির মূল্যবান গ্রে-হাউন্ড কুকুরকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা প্রয়োজন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৩ সালে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সরাইল উপজেলা সদরে একটি গ্রে-হাউন্ড কুকুর সংরক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছিল।
তবে উপযুক্ত চিকিৎসা, সুষ্ঠু পরিচালনা ও আর্থিক সংকটের কারণে কয়েক বছর পরই কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়। উপজেলা সদরের বড়দেওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহান ঠাকুর ২০০১ সালে সরাইলে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কুকুর প্রজননের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তার উদ্যোগটিও টেকেনি।
সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোশারফ হোসাইন বলেন, সরাইলের ঐতিহ্যের কথা বলতে গেলে বিখ্যাত গ্রে-হাউন্ড কুকুরকে বাদ দেওয়া যাবে না। দেশ বিদেশে এই কুকুর সরাইলের পরিচিতি বহন করে। এছাড়া গ্রে-হাউন্ড কুকুর প্রভুভক্ত। পাশাপাশি গ্রে-হাউন্ড কুকুর বাড়িঘর পাহারা দেয়। গোয়েন্দা তৎপরতার মত গুণও রয়েছে তাদের।

ফিলিস্তিনি শিশু রাজাব হত্যাকাণ্ডে জড়িত ইসরায়েলি সেনাদের তথ্য আইসিসিতে

গত বছর গাজায় নিহত পাঁচ বছর বয়সি ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাব হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও ২৪ ইসরায়েলি সেনাকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠিয়েছে হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশন। এই ফাউন্ডেশনটি রাজাবের নামেই প্রতিষ্ঠিত।
গত মঙ্গলবার এইচআরএফ এই ঘোষণা দেয়। তারা জানিয়েছে, শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে তিনজন শীর্ষ কমান্ডারকে তারা প্রকাশ্যে নাম দিয়েছে। তারা হলেন কর্নেল বেনি আহারোন, ৪০১তম আর্মার্ড ব্রিগেডের কমান্ডার, যার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আইসিসিতে ফৌজদারি অভিযোগ রয়েছে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল ড্যানিয়েল এলা, ৫২তম আর্মার্ড ব্যাটালিয়নের কমান্ডার। মেজর শন গ্লাস, ভ্যাম্পায়ার এম্পায়ার কোম্পানির কমান্ডার।
ধারণা করা হচ্ছে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল এলা এবং মেজর গ্লাস সরাসরি হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী। ভ্যাম্পায়ার এম্পায়ার কোম্পানির আরও ২২ জন সেনার নাম বিভিন্ন বিচারব্যবস্থায় জাতীয়-স্তরের অভিযোগ দায়েরের মাধ্যমে ধীরে ধীরে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে এইচআরএফ।
এই অভিযোগগুলো আল জাজিরা আরবি-এর মা খাফিয়া আ’থাম’ নামক একটি প্রামাণ্যচিত্রের পর জমা দেওয়া হলো। এইচআরএফ রোম সংবিধির ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে আইসিসিতে ১২০ পৃষ্ঠার একটি নথি জমা দিয়েছে।
এইচআরএফ জানিয়েছে, এই নথিতে বিস্তারিত ডিজিটাল, স্যাটেলাইট এবং ফরেনসিক প্রমাণ রয়েছে। যা নিশ্চিত করে যে ভ্যাম্পায়ার এম্পায়ার কোম্পানির মার্কভা আইভি ট্যাংকগুলো হিন্দ ও তার পরিবারকে বহনকারী কালো কিয়া পিকান্টো গাড়িটির ওপর বারবার গোলাবর্ষণ করে এবং পরে তাকে উদ্ধার করতে পাঠানো অ্যাম্বুলেন্সটিকেও লক্ষ্যবস্তু করে।

সেন্টমার্টিন ভ্রমণের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা

সেন্টমার্টিন দ্বীপের অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। গতকাল বুধবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে ১২টি নির্দেশনা সংবলিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ১৩ ধারা অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রণীত ‘সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন নির্দেশিকা’ আলোকে এ নির্দেশনাগুলো কার্যকর করা হয়েছে।
সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া সেন্টমার্টিন দ্বীপে কোনো নৌযান চলাচলের অনুমতি দিতে পারবে না। পর্যটকদের অবশ্যই বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে, যেখানে প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে।
দ্বীপে ভ্রমণের সময়সূচি এবং পর্যটক উপস্থিতিও এবার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। নভেম্বর মাসে পর্যটকরা শুধু দিনের বেলায় ভ্রমণ করতে পারবেন, রাত্রিযাপন করা যাবে না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাত্রিযাপনের অনুমতি থাকবে। ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। প্রতিদিন গড়ে ২ হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপে ভ্রমণ করতে পারবেন না।
সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে দ্বীপে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ পার্টি করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেয়া বনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা ক্রয়-বিক্রয়, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুক ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এছাড়া সৈকতে মোটরসাইকেল, সীবাইকসহ যেকোনো মোটরচালিত যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
নিষিদ্ধ পলিথিন বহন করা যাবে না এবং একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক যেমন চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক চামচ, স্ট্র, সাবান ও শ্যাম্পুর মিনিপ্যাক, ৫০০ ও ১০০০ মিলিলিটারের প্লাস্টিক বোতল ইত্যাদি বহন নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকার আশা করে, এই নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেন্টমার্টিন দ্বীপের নাজুক পরিবেশ ও অনন্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত থাকবে এবং দ্বীপটি হবে দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
প্রসঙ্গত, সেন্টমার্টিন দ্বীপে পরিবেশবান্ধব ভ্রমণ বাস্তবায়ন বিষয়ে গত মঙ্গলবার পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, ই-টিকেটিং ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নকারী সংস্থার প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইসি পুনর্গঠনের দাবি এনসিপির

নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছি। প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছি যে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়, স্বচ্ছ নয়। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের যেভাবে কাজ করার কথা ছিল সেটি তারা করছে না। আমরা বলেছি যে, কিছু দলের প্রতি নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাত রয়েছে, কিছু দলের প্রতি তারা বিমাতাসুলভ আচরণ করছে। তারা কীভাবে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে সেসব বিষয়ও আমরা বুঝিয়ে বলেছি।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
শাপলা প্রতীক নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কথা বলছিলেন এনসিপির নেতারা। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা’ না পাওয়ার দায় নির্বাচন কমিশনকে দিচ্ছে। এনসিপির নেতাদের দাবি, কমিশন প্রভাবিত হয়ে এনসিপিকে শাপলা প্রতীক দিচ্ছে না।
বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদ পুরো পরিবর্তনের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, কেউ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বললে তাদের দুরভিসন্ধি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, উপদেষ্টা পরিষদের নিরপেক্ষতা এবং দক্ষতা নিশ্চিত করা লাগবে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য। সে দাবির সঙ্গে ভিন্নমত নেই। কিন্তু এই উপদেষ্টা পরিষদ পুরো পরিবর্তন করতে হবে, এটার আসলে সুযোগ নেই।’
জুলাই সনদ স্বাক্ষরের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই সনদের কাগজে মূল্যে আমরা বিশ্বাসী নই। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, সেটার নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই এনসিপি স্বাক্ষর করবে। সে ক্ষেত্রে আমরা সাংবিধানিক একটি আদেশের কথা বলেছি। যে আদেশটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জারি করবেন।’
তিন দাবির বিষয়ে মনে করিয়ে দিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ বলেন, ‘জুলাই সনদের আদেশ শুধু ড. মুহাম্মদ ইউনূস জারি করবেন, নোট অব ডিসেন্টের কোনো কার্যকারিতা থাকবে না ও গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদের বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে- এই তিনি দাবি বিবেচনা করলে আমরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করব।’
জুলাই সনদ নিয়ে প্রস্তাবিত বিষয়গুলো ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনা করবেন বলে প্রধান উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন বলেও জানান এনসিপির আহ্বায়ক।
জুলাই গণহত্যার বিচার নিয়ে তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর সদস্যদের আদালতে আনা হয়েছে, এটাকে সাধুবাদ জানিয়েছি। এর মাধ্যমে আমরা একটি ধাপ এগিয়েছি। তবে আমরা দেখতে পাচ্ছি সারাদেশে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।’
প্রধান উপদেষ্টার কাছে নির্বাচনের আগে বিচারের রোডম্যাপ দেওয়ার দাবির কথাও জানান নাহিদ ইসলাম।
বিকেল ৫টায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করতে যমুনায় যান এনসিপির চার নেতা। নাহিদ ইসলাম ছাড়াও প্রতিনিধিদলে ছিলেন দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।

উপহার নিয়ে হয়ে গেলাম প্রতারক: তানজিন তিশা

০

জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। অভিনয়ের পাশাপাশি সরব আছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও। সম্প্রতি এই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন এক নারী উদ্যোক্তা। অভিযোগের প্রমাণস্বরূপ তিশার সঙ্গে ওই নারী উদ্যোক্তার কথোপকথনের কয়েকটি ভয়েস রেকর্ড এবং ইন্সটাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের স্ক্রিনশট প্রকাশ্যে আনেন।

অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে তা তানজিন তিশা জানতে পারেন। সেই অভিযোগের বিষয়ে এবার মুখ খুলেছেন তিশা। গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে অভিনেত্রী লেখেন, ‘গিফট নিয়ে হয়ে গেলাম প্রতারক। হাহা, আর ফটোশুট-ই যদি করাতে চান পারিশ্রমিক কই? আজব নারী উদ্যোক্তা! আপনার গিফটরে সালাম ‘

জানা গেছে, এ বছরের জানুয়ারি মাসের ১৭ তারিখে তানজিন তিশা তার ভেরিফায়েড ইন্সটাগ্রাম থেকে ‘এ্যাপোনিয়া’ নামে একটি অনলাইন ফ্যাশন পেজের ইন্সটাগ্রামে যোগাযোগ করেন। সেখানে তিনি জানতে চান জামদানি কী কী আছে? এরপর কয়েকটি শাড়ির ছবি পাঠানোর পর দাম জানতে চান এই অভিনেত্রী। ফ্যাশন পেজ থেকে জানানো হয় শাড়িগুলোর আলাদা আলাদা দাম।

এরপর তিশা একটি শাড়ি পছন্দ করেন এবং বাসার ঠিকানা দেন। ওই ফ্যাশন পেজ থেকে জানানো হয় তিশাকে শাড়িটি টাকা দিয়ে কিনতে হবে না, বিনিময়ে শাড়ি পরে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাড়ি এবং ফ্যাশন পেজটি প্রমোশন করে দিলেই হবে।

তিশাও এই প্রস্তাবটি মুহূর্তেই লুফে নেন। শাড়িটি যথাসময়ে তিশার বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু শাড়ি গ্রহণের প্রায় ১০ মাস সময় অতিবাহিত হলেও তিশা তার কথা রাখেননি। মাঝে ফ্যাশন পেজের স্বত্বাধিকারীর সঙ্গে কয়েকবার ভয়েস মেসেজ দিয়ে দ্রুত কাজটি করে দেওয়ার কথাও বলেন তিশা।

পরবর্তীতে তিশা ওই নারী উদ্যোক্তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। হোয়াটসঅ্যাপ, ফোন, ইন্সটাগ্রামসহ বিভিন্নভাবে তিশার সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন বলে জানান ওই নারী উদ্যোক্তা।