Home Blog Page 314

ছাত্ররাজনীতি জনগণের স্বপ্নকেও প্রাধান্য দেবে, প্রত্যাশা রবের

ছাত্ররাজনীতি শিক্ষার পাশাপাশি জনগণের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আ স ম আবদুর রব।

শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরার বাসভবনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বৈ. স)-এর নবগঠিত কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন বিজয় এবং সাধারণ সম্পাদক নাবিলা সুলতানার নেতৃত্বে নেতারা সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রব এসব কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, এটি কখনও ব্যক্তিগত, দলীয় বা গোষ্ঠীর উচ্চাকাঙ্ক্ষার খেলা হতে পারে না। রাজনীতি হচ্ছে ন্যায়, শিক্ষা ও মানুষের মর্যাদার জন্য লড়াই। ক্ষমতার লড়াইকে প্রাধান্য দিলে, রাজনীতি স্বাভাবিকভাবেই স্বার্থনির্ভর ও স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে ওঠে। কিন্তু জনগণের স্বপ্ন ও ন্যায়কে কেন্দ্রে রাখলে রাজনীতি হয়ে ওঠে একটি নৈতিক প্রক্রিয়া—যা সমাজের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ, শিক্ষা ও গণমুখী শক্তিকে প্রসারিত করে।

সাক্ষাৎকালে উপস্থিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের (বৈ. স) সাবেক সভাপতি শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের অপ্রত্যাশিত জয় এবং বিএনপিসহ জুলাই অভ্যুত্থানপন্থি শক্তির পরাজয় শুধু একটি সাংগঠনিক দৃশ্যই নয়; এটি আমাদের সামনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির নৈতিক ভিত্তি এবং দার্শনিক দিকনির্দেশকের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মুহূর্ত। এই বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে পুরোনো রাজনীতি ও কৌশল অতিক্রম করে সমাজ উপযোগী রাজনীতিকে প্রাধান্য দিয়ে নীতি ও কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।

সৌজন্য সাক্ষাতের সময় জেএসডির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রর এবং ছাত্রলীগ (বৈ স)-এর নেতাদের মধ্যে নাহিদ হাসান রিমন, মোহাম্মদ রুবন আকরাম, আসিফুল ইসলাম রিয়াজ, ইমতিয়াজ আহমেদ সিয়াম, সাইফ তাসনিম চৌধুরী, তারেক রহমান,জাহিদুল ইসলাম রিয়াজ, মেহেদী হাসান, আশরাফুল আলম জুয়েল, সাইফুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, তেল আবিবে বেজে উঠল সাইরেন

ইয়েমেন থেকে দখলকৃত ভূখণ্ডের দিকে চালানো একটি ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে তেল আবিবে সাইরেন বেজে উঠেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।

ফিলিস্তিনি মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। কুদস নিউজ নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, তেল আবিবসহ দখলকৃত অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় সাইরেন বাজানো হয়েছে।

প্যালেস্টাইন পোস্ট জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তেল আবিবে সাইরেন বাজতে শুরু করে। আল-মায়াদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্তীর্ণ এলাকায় সাইরেন শোনা গেছে। প্যালেস্টাইন নাউ আরও জানিয়েছে, কল্পিলিয়া ও তেল আবিবে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, এই বিস্ফোরণগুলো তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের ফলাফল।

এদিকে আল জাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে ইয়েমেন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে।

নেপালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইতিহাস গড়লেন সুশীলা

নেপালে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার নেপালের প্রেসিডেন্ট দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জেন-জির বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধি, প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেল এবং সেনাবাহিনীর প্রধান অশোক রাজ সিগদেলের মধ্যে আলোচনা হয়। এরপর সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী বানানোর সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সবাই একমত হয়। আজ স্থানীয় সময় রাত ৯টায় তিনি শপথ নেবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে গত সপ্তাহে আন্দোলনে নামে নেপালের জেন-জিরা। এর মধ্যে গত সোমবার বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টে ঢোকার চেষ্টা করলে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে অনেক শিক্ষার্থী নিহত হন।
এরপর ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। মঙ্গলবার তাদের আন্দোলনের তীব্রতা বাড়লে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়েন কেপি শর্মা অলি। তার পতনের পর নেপালে স্থিতিশীলতা ফেরাতে জেন-জিদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে সেনাবাহিনী। নেপালে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব কে দেবেন, তা নিয়ে চলে আলোচনা। একপর্যায়ে জেন-জি শিক্ষার্থীরাসহ বেশিরভাগ মানুষ সুশীলা কার্কির নাম প্রস্তাব করেন।

অনিয়মের অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করলেন জাকসু নির্বাচন কমিশনার

অনিয়মের অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করলেন জাকসু নির্বাচন কমিশনারজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদের নির্বাচন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেছেন অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার। তিনি ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৯টার দিকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।
এসময় মাফরুহী সাত্তার বলেন, ‘নির্বাচনে আমি অনেকগুলো অনিয়ম দেখেছি। অনেকগুলো মারাত্মক ত্রুটি দেখেছি। এই ত্রুটিগুলো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এরকম পরিস্থিতিতে আমি নির্বাচন কমিশনের সকলে একমত পোষণ করলেও বিশেষ কিছু কারণে আমার যে মতামত তা গ্রহণে তারা অপারগতা প্রকাশ করেছে।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আমার মতামতের সুরাহা না করেই ভোট গণনা শুরু করেছে, তখন আমি আমার যে মত তা লিখিতভাবে জানিয়েছি। লেভেল প্ল্যায়িং ফিল্ড বলতে আমরা যা বুঝি নির্বাচনে সেটি ছিল না। আমি যাতে পদত্যাগ না করে সেজন্য গতকাল থেকেই আমার ওপর চাপ ছিল, তবুও আমি পদত্যাগ করছি।’
এছাড়াও নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও প্রশাসনের পক্ষপাতের অভিযোগ উঠায় নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইনও।
তিনি বলেছেন, ‘জাকসু নির্বাচন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। প্রচুর কারচুপির অভিযোগ উঠেছে প্রায় সব মহলেই। এ নির্বাচন স্থগিত করা উচিত।’
এর আগে বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ঘণ্টাখানেক আগে নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান বিশ্ববিদ্যালয়টির অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, নজরুল ইসলাম, ও নাহরিন খান।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গণছুটি স্থগিত

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চলমান গণছুটি কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে যোগদানের জন্য অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মাহবুব মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আরইবি-পিবিএস সংস্কারের মাধ্যমে গ্রাম ও শহরের বিদ্যুৎ বৈষম্য দূর করে মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবার লক্ষ্যে একটি টেকসই বিদ্যুৎ বিতরণ সিস্টেম বিনির্মাণে আমরা ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাস থেকে আন্দোলন শুরু করেছিলাম। দীর্ঘদিনের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকার বিভিন্ন সময়ে একাধিক কমিটি গঠন করলেও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অসহযোগিতার কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারী পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের দুঃশাসন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই শুরু হয় মামলা, চাকরিচ্যুত, বরখাস্ত, সংযুক্তসহ নানা ধরনের দমন-পীড়ন। চলতি বছরের ২১ মে থেকে শহীদ মিনারে ১৬ দিনব্যাপী আন্দোলনের পর বিদ্যুৎ বিভাগের লিখিত আশ্বাসে ৫ জুন কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। যার প্রেক্ষিতে ১৭ জুন বিদ্যুৎ বিভাগ দুইটি কমিটি গঠন করে। কিন্তু আমরা অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করেছি ওই কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন না করে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দমন-পীড়নের মাধ্যমে হয়রানি এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ‘আন্দোলনের কারণে এখন পর্যন্ত ১৭২ জনের নামে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা, ২০ জন কর্মকর্তাকে দীর্ঘদিন জেল খাটানো, ৪০ জনকে বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুত, ৮৭ জনকে বরখাস্ত ও সংযুক্ত, সাড়ে ৬ হাজার জনকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। গত ১৭ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮ জন সহকর্মীকে বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুত এবং ২৮ জনকে স্ট্যান্ডরিলিজ পূর্বক বরখাস্ত করা হয়েছে। সংকট সমাধানের লক্ষ্যে চার দফা দাবিতে গত ৩১ আগস্ট থেকে ৫ দিন শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হলেও দমন-পীড়ন বন্ধ না করা এবং সমাধানের উদ্যোগ না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে গণছুটি কর্মসূচি ঘোষণা করতে হয়।’
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলে, ‘দীর্ঘ প্রায় দুই বছরের আন্দোলনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কখনোই বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং গ্রাহকসেবা বন্ধ রাখেনি।
বিদ্যমান গণছুটি কর্মসূচিতে ৮০টি সমিতির ৪৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে প্রায় ৩৩ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে উপকেন্দ্রসমূহ চালু রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ না থাকায় আরইবি কর্তৃক বারবার ভুল তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিভাগকে বিভ্রান্ত করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা উপেক্ষা করে আমাদের দেশবিরোধী শক্তি/নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্রকারী ইত্যাদি ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে, যা অপ্রত্যাশিত। যারা রোদ, ঝড়, বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ১৪ কোটি মানুষের ঘর আলোকিত করে তাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেশবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করা অভিপ্রেত নয়। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চলমান গণছুটি কর্মসূচি প্রত্যাহার করে সরকারের সাথে আলোচনার মাধ্যমে আমরা দেশবিরোধী শক্তি নই সেটা প্রমাণের জন্য গতকাল বিদ্যুৎ উপদেষ্টা আহ্বান জানান।
আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের বিষয়ে বিদ্যুৎ উপদেষ্টার পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে আশ্বস্ত করা হয়েছে। দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট ও জনদুর্ভোগ বিবেচনায় বিদ্যমান সংকটের সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে সরকার তথা উপদেষ্টার প্রতি আস্থা রেখে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চলমান গণছুটি কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করা হলো।’

ইসলামী দলের জোট কতদূর

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনীতির মাঠে চলছে নানা সমীকরণ। নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশ্যে কিংবা আড়ালে বিভিন্ন তৎপরতা চালাচ্ছে প্রতিটি রাজনৈতিক দল। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না—এমনটি ধরে নিয়েই এগোচ্ছে সবাই। দেশের রাজনৈতিক ঐতিহ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ না থাকলে ভোটের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকবে বিএনপির। কিন্তু চিরাচরিত সেই হিসাব পাল্টে দিতে কয়েক মাস ধরে নানা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দল দুটির নেতৃত্বে বিএনপিকে ভোটের মাঠে চ্যালেঞ্জ জানাতে ইসলামভিত্তিক দলগুলোকে নিয়ে বৃহত্তর নির্বাচনী মোর্চা বা জোট গড়ে তোলার লক্ষ্যে চলছে দৌড়ঝাঁপ। এই জোট গঠনের মূল লক্ষ্য—সমানুপাতিক পদ্ধতিতে (পিআর) নির্বাচন আদায় এবং আগামী সংসদে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তোলা। এজন্য ইসলামী দলগুলো সম্মিলিতভাবে প্রতিটি আসনে একক প্রার্থী দাঁড় করাতে চায়। এ নিয়ে সমঝোতার জন্য ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। নির্বাচনী জোট এবং সমঝোতার বিষয়টিকে প্রতিটি দলই গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান দায়িত্বশীল নেতারা। তবে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা কবে আসবে, তা নিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলতে পারছেন না কেউ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, নির্বাচনী জোট গঠনের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত এবং ভোটের মাঠে অবস্থান রয়েছে এমন দলগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের উদ্যোগে এ প্রক্রিয়ায় রয়েছে সব মিলিয়ে অন্তত আটটি ইসলামভিত্তিক দল। এ ছাড়া এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) এ আলোচনার মধ্যে রয়েছে। জোট গঠনের ক্ষেত্রে নির্বাচনী সমঝোতা বিষয়ক আলোচনার জন্য এসব দলের লিয়াজোঁ কমিটির সদস্যরা নীতিনির্ধারণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পাশাপাশি দেশের চলমান পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করছেন তারা। বিশেষ করে ডাকসু ও জাকসু নির্বাচন-পরবর্তী প্রেক্ষাপট অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে প্রতিটি দল। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক হলেও জোট বা সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

দায়িত্বশীল নেতারা বলছে, জোট গঠনের প্রক্রিয়া মূলত নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর দৃশ্যমান হবে।

এদিকে রাজনৈতিক দল না হয়েও ইসলামভিত্তিক রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক প্রভাব রয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। ভোটের মাঠেও এ সংগঠনটির বিশেষ আধিপত্য রয়েছে বলে মনে করা হয়। ইসলামী দলগুলোর জোট গঠনের প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত হেফাজতের সম্পৃক্ততার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে হেফাজতের প্রবীণ ও অধিকাংশ তরুণ নেতারা ইসলামী জোটে সম্পৃক্ত হওয়ার পক্ষে। তবে হেফাজতের আমিরসহ প্রবীণ নেতাদের একটি অংশ বিএনপির সঙ্গে জোট করার পক্ষে বলে কালবেলাকে জানিয়েছেন সংগঠনটির শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামী দলগুলো বহুদিন ধরেই একটি ছাতার নিচে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী নির্বাচনে লড়তে চায়। তবে ইসলামী দলগুলোর অতীত ঐক্যের ইতিহাস মোটেও সুখকর নয়, তাই তারা এ নির্বাচন ঘিরে ঐক্য গড়তে চাইলে আদতে তা কতটা সফল হবে, নাকি অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যাবে, তা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। অন্যদিকে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের জোট গঠনের তৎপরতাকে টেক্কা দিতে বিএনপিও সমমনা ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। বিএনপির এ উদ্যোগের ফলে ইসলামী দলের জোট গঠনের উদ্যোগ চ্যালেঞ্জের মধ্যে থাকবে।

জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম গতকাল বৃহস্পতিবার কালবেলাকে বলেন, আসন্ন নির্বাচন ঘিরে ইসলামী দলগুলোর জোট গঠনের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কেননা, বর্তমানে ডাকসু, জাকসুসহ দেশের বিভিন্ন বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন চলছে। নির্বাচন-পরবর্তী পরিবেশ-পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে ইসলামী জোট গঠনের লক্ষ্যে লিয়াজোঁ কমিটির সদস্যরা আলোচনা, পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রেখেছেন। যথা সময়েই নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটবে। এই জোটে কারা কারা থাকছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রধানত ইসলামী দলগুলোকে নিয়েই নতুন জোট হওয়ার কথা। তারপরও আলোচনার মাধ্যমে সমমনা দলগুলোও জোটে থাকতে পারে। সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা হলে এ বিষয়টি দৃশ্যমান হবে বলে মনে করেন মাওলানা হালিম।

এ বিষয়ে কালবেলার কথা হয় আরও কয়েকটি ইসলামী দলের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে। তারা জানান, বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে বেশিরভাগ ইসলামী দল নানাভাবে জুলুম-নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এখন চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশকে বিবেচনায় নিয়ে আদর্শিক দ্বন্দ্ব ভুলে বৃহত্তর স্বার্থে এক হওয়ার জন্য ঐক্যের প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছেন তারা। জামায়াতকে নিয়েই এই ইসলামী জোটের সমীকরণ এগোচ্ছে। মূলত গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই ইসলামী দলগুলোকে অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আনার আলোচনা শুরু করে জামায়াত। এরপর এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয় ইসলামী আন্দোলন। এরই মধ্যে বেশ কয়েক দফা বৈঠকও হয়েছে। তবে আসন সমঝোতার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আপাতত প্রতিটি দল নিজস্ব সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। তবে সামগ্রিক ঐক্যের ব্যাপারেও তারা আশাবাদী।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, নির্বাচনী জোট বা সমঝোতা হলে তাতে অন্তত ৮টি ইসলামী দল থাকতে পারে। জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন ছাড়াও এ তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট ও খেলাফত আন্দোলন। ঐক্য গড়তে দলগুলোর লিয়াজোঁ কমিটিও কাজ করছে। এর মধ্যে প্রথম ছয়টি দলের ভেতরে চলছে জোরালো আলোচনা। এ ছাড়াও এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ এবং এনসিপিও সমঝোতায় আসার ক্ষেত্রে আলোচনায় রয়েছে। এই দলগুলোর দায়িত্বশীল পর্যায়ের নেতারা পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। তবে এবি পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের দাবি, ইসলামী দলগুলোর সমঝোতা প্রক্রিয়ায় তাদের থাকা না থাকা নিয়ে কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি।

ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান কালবেলাকে বলেন, বৃহত্তর স্বার্থে আমরা ইসলামী দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে একক প্রার্থী দেওয়ার চিন্তা করছি। ইসলামী দলগুলো সমন্বিতভাবে একক প্রার্থী দিতে পারলে জয়ের সম্ভাবনা বেশি। নির্বাচনী সমঝোতা হলে যেসব দল নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছে তারা নিজ দলের প্রার্থীদের প্রত্যাহার করবেন। নির্বাচনের রোডম্যাপ বা তপশিল ঘোষণা হলে বিষয়টি দৃশ্যমান হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে লিয়াজোঁ কমিটির নেতারা একাধিক বৈঠক করেছেন। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে খেলাফত মজলিসের কার্যালয়ে লিয়াজো কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, ইসলামী ঐক্যজোট এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের দায়িত্বশীল নেতারা অংশ নেন। তবে সেখানে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক গতকাল কালবেলাকে বলেন, আমরা এখন সবাই একসঙ্গেই চলছি। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা মাঝে-মধ্যে হচ্ছে। তবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি তথা তপশিল ঘোষণা হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, ইসলামী দলগুলোর নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলমান আছে। আমাদের ৫টি দলের লিয়াজোঁ কমিটি আছে। একাধিক সভা হয়েছে, আরও হবে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নীতিগত কথা হয়েছে। সবাই একমত যে, জোটবদ্ধ হওয়া দরকার। নির্বাচনের তপশিল হলে নির্বাচনী সমঝোতার বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।

ইসলামী দলগুলোর সম্ভাব্য জোট নিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মো. সাহাবুল হক বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় ইসলামী দলগুলো বিএনপির বিপক্ষে একটি স্বতন্ত্র জোট গঠনের চেষ্টা করছে, যা রাজনীতিতে একটি নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দেয়। যদি তারা সংহত ও শক্তিশালী জোট গঠনে সক্ষম হয়, তবে তারা ঐতিহ্যবাহী ভোট ব্যাংক থেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করতে পারবে এবং সংসদে ভালোসংখ্যক প্রতিনিধি পেতে পারে। তবে এই জোটের সাফল্য নির্ভর করবে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য, আদর্শিক স্পষ্টতা ও জনসমর্থনের ওপর। এটি ভবিষ্যৎ নির্বাচনী সমীকরণ বদলে দিতে পারে।

ভোট গণনাকালীন শিক্ষিকার মৃত্যু নিয়ে জামায়াত আমিরের বার্তা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের দায়িত্বপালনকালে জান্নাতুল ফেরদৌস নামে এক শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে। তিনি নির্বাচনের পোলিং অফিসারের দায়িত্বপালন করছিলেন। এ নিয়ে নিজের ফেসবুক পেজে বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় দেওয়া ওই পোস্টে শফিকুর রহমান লিখেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভোট গণনাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপিকা জান্নাতুল ফেরদৌস মৌমিতা আকস্মিকভাবে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আমি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাকে ক্ষমা করুন এবং জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করুন। তার পরিবার, সহকর্মী, প্রিয়জন ও আপনজনকে আল্লাহ তায়ালা ধৈর্য ধরার তাওফিক দান করুন। আমিন।’

শুক্রবার সকালে ওই শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকের বরাত দিয়ে কালবেলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আর্কিওলজি বিভাগের ৪৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসাইন। তিনি বলেন, ‘সকালে দায়িত্ব পালনের জন্য জান্নাতুল ফেরদৌস জাকসু নির্বাচন কমিশন কার্যালয় যান। কিন্তু কার্যালয়ে প্রবেশের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে আমরা তাকে গাড়িতে করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান হাসপাতালে আনার আগে তিনি মারা গেছেন।’

প্রথমবার প্লে-অফে সাকিবের অ্যান্টিগা

ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) গত আসরে অভিষেকে লিগপর্বেই যাত্রা থেমেছিল অ্যান্টিগা ও বারবুডা ফ্যালকন্সের। তবে নিজেদের দ্বিতীয় আসরে ঠিকই প্লে-অফে নাম লিখিয়েছে দলটি। গতকাল প্রভিডেন্সে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সকে ৪ উইকেটে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করেছে সাকিব আল হাসানের অ্যান্টিগা। তবে জয়টা খুব সহজ ছিল না। গায়ানাকে মাত্র ৯৯ রানেই গুটিয়ে দিয়েছিল অ্যান্টিগা। কিন্তু ১০০ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে তাদের খেলতে হয়েছে ১৯.১ ওভার পর্যন্ত, উইকেট হারিয়েছে ৬টি।
প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং নিয়েছিল অ্যান্টিগা। স্লো পিচে ব্যাটিংয়ে নেমে ধুঁকতে থাকে গায়ানা। ২৬ রানে ৩টি আর ৫৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে লড়াকু সংগ্রহ গড়ার স্বপ্ন ভাঙে তাদের। শাই হোপ ১৪ বলে ২৬ আর শেষদিকে কুইন্টিন স্যাম্পসন ১৫ বলে ১৯ রান ছাড়া টি-টোয়েন্টির ব্যাটিংটা কেউ করতে পারেননি। ১৮.১ ওভারে ৯৯ রানে অলআউট হয় গায়ানা। জেডেন সিলস মাত্র ১৫ রানে শিকার করেন ৪ উইকেট, উসামা মির ১৭ রানে পান ৩ উইকেট। সাকিব আল হাসান ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে ২৮ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট। ছোট লক্ষ্য তাড়ায় অ্যান্টিগায় ধুঁকেছে। ৩৬ রানে ৫ উইকেট হারায় তারা। সাকিব আল হাসান পাঁচ নম্বরে নেমে করেন ২ বলে ১ রান। তবে একটা প্রান্ত ধরে ছিলেন ওপেনার আমির জাঙ্গো। ৫৭ বলে ৫১ রানের হার না মানা ইনিংসে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি।

প্রকৃতিকে ধ্বংস করে আমরা কোথায় দাঁড়াব?

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। ২০১৭ সালে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছিলেন তিনি। এরপর তিন বছরের বিরতি নিয়ে ২০২০ সালে অভিনয়ে নাম লেখান।
নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ সরব চমক। যেখানে অভিনেত্রী বিভিন্ন বিষয়ে আপডেট দিয়ে থাকেন।
এবার এক পোস্টে দেশের কৃষক ও কৃষি নিয়ে কথা বলেছেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ‘কৃষকের শরীরে ঢুকছে বিষ, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খাদ্য হচ্ছে অরক্ষিত।’
পোস্ট দিয়ে রুকাইয়া জাহান চমক লিখেছেন, ‘আমরা শুধু ব্যবসাটাই দেখি অথচ পুরো দেশটার ভেতরে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে তা কেউ দেখি না। কখনো নদী, খাল, বিল আর মাঠে ভরা বাংলার জীবন ছিল প্রকৃতির সাথে একাত্ম।’
তার কথায়, ‘আজ সেই মাটি, পানি, বাতাস প্রতিদিন বিষাক্ত হয়ে উঠছে হাজার হাজার টন কীটনাশকে! ভাবুন তো, অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে মৌমাছি, পাখি, মাছ আমাদের জীবনের নীরব সহযোদ্ধারা।’
শেষে লিখেছেন, ‘কৃষকের শরীরে ঢুকছে বিষ, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খাদ্য হচ্ছে অরক্ষিত। প্রকৃতিকে ধ্বংস করে আমরা কোথায় দাঁড়াব? এখনই সময় মাটি বাঁচানো, নদী রক্ষা করা, বাতাস শুদ্ধ রাখার। প্রকৃতি বাঁচলে তবেই টিকে থাকবে মানুষ।’

শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএএ) আসন্ন দ্বিবার্ষিক নির্বাচনকে ঘিরে ফের উত্তেজনা সৃস্টি  হয়েছে। এবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে অনেক প্রার্থী ও সমিতির সদস্য তাদের মনোনয়ন পত্র জমা দিতে পারেন নি বলে অভিযোগ করেছেন।

গত রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। আগামী ৯ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

প্রার্থীদের অভিযোগ থেকে জানা যায়,  রোববার সকাল থেকেই স্থানীয় একদল যুবক নগরের আগ্রাবাদের  মক্কা-মদিনা টাওয়ারে বিএসএএ অফিসের প্রবেশপথে অবস্থান  নেয় এবং কিছু প্রার্থীর প্রতিনিধিদের আটকে দেয়। ফলে এসব বহিরাগতদের প্রতিরোধের মুখে তারা মনোনয়নপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হন।

এ বিষয়ে কন্টিনেন্টাল গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আহসান ইকবাল চৌধুরী গতকাল (৯ সেপ্টেম্বর) মঙ্গলবার বিএসএএ চট্টগ্রাম নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান কমোডোর (অব.) এ. জেড. এম জালাল উদ্দিনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগ পত্রে তিনি গত রোববার মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘বিএসএম-এর অনেক ভোটারদের কাছ থেকে আমার কাছে খবর এসেছে যে, তাঁরা তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং বহিরাগতদের তীব্র প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছেন। এদিন সকাল থেকেই স্থানীয় কিছু সংখ্যক যুবক আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার মক্কা মদিনা টাওয়ারে বিএসএএ অফিসের প্রবেশদ্বারে ব্যানার ঝুলিয়ে এবং কিছু প্রার্থীর প্রতিনিধিদের অবরুদ্ধ করে অবস্থান নিয়েছিলেন, যা এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সদস্য হিসাবে আমার জন্য সম্পূর্ণ বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল।’

আহসান ইকবাল চৌধুরী তার অভিযোগপত্রে এই অনাকাংখিত পরিস্থিতি তদন্তের অনুরোধ জানান। তিনি তাঁর জোটের অন্তত ২৭ জন সমমনা সদস্য নিয়ে প্রতিদ্বন্ধীতা করার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র ১০ থেকে ১২ জন মনোনয়নপত্র জমা দিতে পেরেছিলেন বলে অভিযোগ করেন। বাকিদের প্রতিরোধ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

সিকম শিপিংয়ের পরিচালক এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী জহুর আহমেদও একই অভিযোগের কথা জানান।

এছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও বেশ কয়েকজন প্রার্থী একই ধরনের বাধার সম্মুখীন হয়েছেন বলে দাবি করেন।

এদিকে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় বহিরাগতদের উপস্থিতির বিষয়ে অফিসের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার বিষয় নিশ্চিত করেন নির্বাচন বোর্ডের সদস্য ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

দেশ প্রতিটি ক্ষেত্রে যখন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধারের যাত্রায় রয়েছে তখন এই ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,  মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনে (রোববার, ৭ সেপ্টেম্বর)  ‘বৈষম্যের শিকার ব্যবসায়ী ফোরামে’র নামে বহিরাগতরা ব্যানার ঝুলিযে নির্বাচনে  ‘স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের সহযোগীদের’ প্রতিহত করার আহ্বান জানায়।

অভিযোগ রয়েছে, বিক্ষোভকারীদের সমর্থন করেছিলেন বিএসএএ সদস্য ও প্রার্থী মশিউল আলম স্বপন, যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাথে জড়িত।

অভিযোগ অস্বীকার করে মশিউল আলম স্বপন বলেন, বিএসএএ সদস্যদের সাথে বিরোধ ছিল এমন কিছু স্থানীয়  লোকজন ব্যানার ঝুলিয়ে থাকতে পারে। তিনি  কোনও প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন এমন দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন।

বিএসএএ সূত্র জানায়, গত ১৩ এপ্রিল ২৪ সদস্যের বিএসএএ বোর্ডের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একদল ব্যবসায়ীর বিক্ষোভের কারণে তা স্থগিত হয়ে যায় । এ গ্রুপে মশিউল আলম স্বপনও ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মার্চ মাসে, তারা নির্বাচন বাতিল এবং একটি মনোনীত কমিটি গঠনের দাবি জানান। প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীদের ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ হিসাবে চিহ্নিত করেন।

১৪ জুলাই নবগঠিত নির্বাচনী বোর্ড ৯ অক্টোবর নির্বাচনের তারিখ পুননির্ধারণ করে। যদিও নির্বাচনকে ঘিরে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্যানেল ঘোষণা করা হয়নি। দুটি গ্রুপ প্রতিযোগিতার জন্য আলাদাভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে শোনা যায়।