Home Blog Page 325

এশিয়া কাপে বাংলাদেশের ট্রাম্প কার্ড হতে পারেন যারা

দুয়ারে ২০২৫ এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি আসর। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হবে এই টুর্নামেন্ট। চলবে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
এই মহাদেশীয় ক্রিকেট আসরে এ পর্যন্ত তিনবার (২০১২, ২০১৬ ও ২০১৮ সালে) ফাইনালে খেলেছে বাংলাদেশ। এরমধ্যে একবারও শিরোপা জিততে পারেনি তারা।
এবার সেই আক্ষেপ ঘুচানোই লক্ষ্য থাকবে টাইগারদের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এবারের এশিয়া কাপ হচ্ছে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। ৮ দলের টুর্নামেন্টে ‘বি’ গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশ।
তাদের প্রতিপক্ষ হংকং, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে টাইগারদের এশিয়া কাপ মিশন। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কা এবং ১৬ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলবে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা।
এরই মধ্যে এশিয়া কাপের জন্য ১৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। লিটন দাসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দলে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশ্রণ রয়েছে। তবে টুর্নামেন্টে সাফল্য নির্ভর করবে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সের ওপর।
যারা ম্যাচের গতি বদলে দিতে পারেন এবং খেলায় ফল নির্ধারণে ব্যাপক প্রভাব রাখতে পারেন। এশিয়া কাপে বাংলাদেশ দলের ট্রাম্প কার্ড হতে পারেন পাঁচ ক্রিকেটার। তারা হলেন: তানজিদ হাসান তামিম, জাকের আলী অনিক, রিশাদ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান ও অধিনায়ক লিটন কুমার।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের নতুন দিগন্ত সূচনা হচ্ছে ওপেনার তানজিদ তামিমের ব্যাটে। এই বাঁহাতি ব্যাটারের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং স্টাইল আর পাওয়ারপ্লেতে পাওয়ার হিটিংয়ের ক্ষমতা তাকে দলের ট্রাম্পকার্ড করে তুলছে।
চলতি বছরে ১১ ম্যাচে ৩১ গড়ে তার রান ৩১০। ১৫০.৪৮ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করেছেন তামিম। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের কারণেই তামিম এশিয়া কাপে বাংলাদেশ দলের ট্রাম্পকার্ড হতে পারেন।
অন্যদিকে, জাকের আলী মিডল অর্ডারে একজন শক্তিশালী ফিনিশার। তার স্ট্রাইক রেট ১৪৫-এর উপরে, যা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি চাপে শান্ত থেকে বড় শট খেলতে পারেন। আমিরাতের স্পিন-সহায়ক পিচে তার সুইপ এবং লফটেড কভার ড্রাইভ স্পিনারদের বিরুদ্ধে বেশ কার্যকর হতে পারে। এ ছাড়া ডেথ ওভারে বিস্ফোরক ব্যাটিং জাকেরের প্রতি প্রত্যাশা বাড়িয়েছে।
অপরদিকে, বর্তমানে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের প্রাণ বলা যায় রিশাদকে। এই লেগস্পিনার আরব আমিরাতের শুষ্ক পিচে বেশি কার্যকরি হতে পারেন। তার গুগলি এবং ফ্লিপার প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করতে পারে।
রিশাদ ভালো করলে বাংলাদেশের বোলিং ইউনিট অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে নিঃসন্দেহে। তার অসামঞ্জস্যতা টিমের দুর্বলতা বাড়াতে পারে, কিন্তু ফর্মে থাকলে তিনি টুর্নামেন্টের সেরা বোলার হয়ে উঠতে পারেন।
আর মোস্তাফিজুর রহমান পেস আক্রমণের একজন পরীক্ষিত ‘অস্ত্র’। তার ইয়র্কার এবং স্লো-বল ভ্যারিয়েশন ও অভিজ্ঞতা এশিয়া কাপে ভিন্ন মাত্রা এনে দিতে পারে।
যদি তিনি ডেথ ওভারে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারেন তাহলে বিপক্ষ টিমগুলোর চেজিং স্বপ্ন ভেঙে যাবে। তার ফিটনেস সমস্যা দূর হলে, তিনি বাংলাদেশকে ফাইনালে নিয়ে যেতে পারেন, যেটা করেছিলেন ২০১৬ সালের আসরে।
এদিকে অধিনায়ক লিটন টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বড় ট্রাম্পকার্ড হতে পারেন। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ে তার নেতৃত্ব প্রমাণিত হয়েছে।
উইকেটরক্ষক-ব্যাটার হিসেবে লিটনের স্ট্রাইক রেট ১৩০-এর উপরে এবং তিনি মিডল অর্ডারে গেম-চেঞ্জার। আমিরাতের পিচে তার আক্রমণাত্মক স্টাইল বাংলাদেশকে দ্রুত স্কোর তৈরি করতে সাহায্য করবে।

 

তিশাকে কোলে তুলতে গিয়ে হাড় ভেঙেছিল তৌসিফের!

ছোট পর্দার জনপ্রিয় তারকা জুটি তৌসিফ মাহবুব ও তানজিন তিশা। অনেক নাটক-টেলিফিল্মে একসঙ্গে অভিনয় করেছেন। কিন্তু শুটিং সেটে তিশাকে কোলে নিয়ে হাতের হাড় ভেঙেছিল তৌসিফের। একটি সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান এই অভিনেতা।
তৌসিফ মাহবুব বলেন, “তিশা আমার বন্ধু, এজন্যই বলতেই পারি। তবে সরি! তানজিন তিশাকে কোলে তুলতে গিয়ে আমার হাড় ভেঙেছিল।
২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রচার হয় ‘স্বাধীনতা তুমি’ নাটক। এ নাটকের শুটিংয়ে ঘটনাটি ঘটে। তৌসিফ মাহবুব বলেন, “নাটকের গল্পে আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার চরিত্রে ছিলাম আর তিশা ছিলেন একজন বীরাঙ্গনা যে মারা গেছে। পোস্টারের জন্য ওর লাশ কোলে তুলে নিয়েছিলাম।”
বিভিন্ন ফ্রেমে ছবি তোলার কারণে বেশ খানিকটা সময় তিশাকে কোলে রাখতে হয়েছিল। এ কারণেই বিপত্তিটা ঘটে। এসব তথ্য উল্লেখ করে তৌসিফ মাহবুব বলেন, “পোস্টারের জন্য তিশাকে ২-৪ মিনিট কোলে রাখতে হয়েছিল। তখনই চাপটা পড়ে। এরপর প্রায় এক মাস আমার বাম হাত দিয়ে কোনো ওয়েট নিতে পারিনি। রাতে ঘুমাতে গেলেও ব্যথা করত।”
মজা করে তৌসিফ মাহবুব বলেন, “তিশা আমার খুব ক্লোজ ফ্রেন্ড। তবু ওকে ঘৃণা করি, আবার ভালোবাসিও। তবে এটা বলা দরকার ছিল—ওর কারণেই আমার হাতের হাড় ভেঙেছিল।”

ফের প্রেমে পড়েছেন পরীমনি, নতুন প্রেমিক কে?

পরীমনির মামলায় জামিনদার হতে দেখা গিয়েছিল সংগীতশিল্পী শেখ সাদীকে, এরপর শোনা গিয়েছিল তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের কথাও। কিন্তু মাস কয়েক পার হতেই ভেঙে যায় তাদের সেই সম্পর্ক।
কিন্তু গেল ১০ আগস্ট ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে পরীমনির ছেলে পুণ্যর জন্মদিনের আয়োজনে গায়ক সাদীকে দেখে অনেকে অবাক হয়েছেন। তাহলে কি পরীমনি ও সাদীর প্রেমের সম্পর্ক আবার জোড়া লেগেছে—এমন কানাঘোষাও শোনা গেছে।
তবে মাসের শেষ সপ্তাহে এসে যেন প্রেমের গুঞ্জন উসকে দিলেন পরীমনি। শুক্রবার দুপুরে নিজের ফেসবুকে সানগ্লাস পরিহিত একটি ছবি পোস্ট করেন নায়িকা। এলোমেলো চুলে স্নিগ্ধ রূপে পরী।
রোদ থেকে বাঁচতে চোখে পড়েছেন কালো সানগ্লাস। সেই ছবির ক্যাপশন থেকেই এই গুঞ্জন ঢালপালা মেলেছে।
সানগ্লাস পরা ছবিটি পোস্ট করে পরীমনি লিখেছেন, ‘এই সানগ্লাস আমার নয় কিন্তু সে আমার। সবাইকে জানাই শুভ শুক্রবার।
পরীমনির এমন পোস্টের পর সবাই জানতে চেয়েছেন, ‘কে সে?’ কেউ লিখেছেন, ‘পরবর্তী প্রেমিক তাহলে কে?’ কেউবা লিখেছেন এমন, ‘ভালোবাসাই শক্তি।’
পরীমনির এমন পোস্টে ভক্তদের কেউ আবার কষ্ট পেয়ে লিখেছেন, ‘আমার ভালোবাসা, যখন তোমাকে দেখি তখন আমার অন্তর পুড়ে যায়।’ আবার কেউ লিখেছেন, সাদী আউট, নিউ ইন।’
প্রেমের সম্পর্কে জড়ানো চিত্রনায়িকা পরীমনির জন্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। আবার এই সম্পর্ক নিয়ে কোনো রাখঢাক রাখেন না আলোচিত এই চিত্রনায়িকা।
প্রেমিকসহ কাছের কয়েকজনকে নিয়ে যখন খুশি ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন। হইহুল্লোড়ে থাকতে পছন্দ করেন পরীমনি।
বছরের শুরুর দিকে কয়েক মাস ধরে ঢালিউডের আলোচিত এই চিত্রনায়িকার সঙ্গে তরুণ গায়ক শেখ সাদীর প্রেমের সম্পর্ক ওপেন সিক্রেট। তাদের একাধিক ফেসবুক পোস্ট ও ভিডিও ক্লিপ তেমনটাই জানান দেয়।

যুব উদ্যোক্তাদের ১০ লাখ টাকা ঋণ সহায়তা, প্রজ্ঞাপন জারি

জাতীয় যুব উদ্যোক্তা উন্নয়ন নীতিমালা-২০২৫ এর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। নীতিমালাটি দেশের বেকার যুবশক্তিকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে এবং এর অধীনে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সহায়তা এবং কর ও শুল্ক ছাড়সহ রপ্তানিতে একই ধরনের সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সোমবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য জানানো হয়।

বেশ কয়েকটি মৌলিক বিষয়কে সামনে রেখে এ নীতিমালা প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

বিষয়গুলো মধ্যে রয়েছে- বেকার যুবকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা, প্রযুক্তি নির্ভর যুবশক্তিকে উৎসাহিত করা ও তাদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জন্য ঋণ সহায়তা এবং কর ও শুল্ক ছাড়সহ প্রয়োজনীয় কাঠামো তৈরি করতে সহায়তা করা।

নীতিমালাটি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করবে এবং এর মাধ্যমে যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিকরণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই নীতিমালার প্রধান লক্ষ্য হলো- বেকার যুবকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং তাদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

নীতিমালার আওতায়, নতুন উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করার জন্য একটি কাঠামো তৈরি করা হবে, যা তাদের স্টার্টআপ ও অন্যান্য আধুনিক উদ্যোক্তামূলক উদ্যোগকে সমর্থন করবে।

পাশাপাশি, বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুব উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করার জন্য যুবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

হাসনাত-সারজিসকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে আলটিমেটাম

বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের ‘প্রকৌশল অধিকার আন্দোলন’র সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম। তাদের বক্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে মন্তব্য করেছে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘কারিগরি ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ’।
একই সঙ্গে তাদের আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে আলটিমেটাম দিয়েছেন তারা। অন্যথায় এনসিপিকে বর্জনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের দপ্তরসম্পাদক সাব্বির আহমেদের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, এনসিপি নেতা সারজিস আলম ‘প্রকৌশল অধিকার আন্দোলন’র সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতে গিয়ে ‘কোটা’ শব্দটি ব্যবহার করেন। অন্যদিকে, হাসনাত আব্দুল্লাহ ‘প্রকৌশল অধিকার আন্দোলন’র অযৌক্তিক দাবিকে ন্যায়সংগত বলে আখ্যা দিয়েছেন। আমরা এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
এতে আরও বলা হয়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী দশম গ্রেড, এটি কোনো কোটা নয়। এটি একটি বিশেষায়িত পদ। এখানে প্রবেশের জন্য একমাত্র যোগ্যতা হলো ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি, যা ১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ ও ১৯৯৪ সালের প্রধানমন্ত্রীর প্রজ্ঞাপনে রয়েছে।
হাসনাত ও সারজিসকে ক্ষমা চাইতে সময় বেঁধে দিয়ে কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের নেতারা উল্লেখ করেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যদি প্রকাশ্যে ক্ষমা না চান, দেশের সব সরকারি-বেসরকারি পলিটেকনিক শিক্ষার্থী ও টিএসসি শিক্ষার্থী এবং ডিপ্লোমা প্রকৌশলীসহ তাদের পরিবার সম্পূর্ণরূপে এনসিপিকে বর্জন করবে।’

দেশে ১/১১ নামিয়ে আনলে লাভটা কিন্তু হাসিনার হবে: রাশেদ খান

সংস্কার ও বিচার না করে কেন সবচেয়ে প্রভাবশালী ছাত্র উপদেষ্টা পদত্যাগ করে দল গঠন করল?- এমন প্রশ্ন তুলেছেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। নিত্যনতুন দাবি করে নির্বাচন আটকানোর চেষ্টা করে দেশে ১/১১ নামিয়ে আনলে লাভটা হাসিনার হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত ১২টা ১০ মিনিটে নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন রাশেদ খান।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘এত দিন প্রধান উপদেষ্টা খুব ভালো ছিলেন।
কিন্তু তিনি এখন হয়ে গেছেন গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার বিরোধী শক্তি! অথচ কিছুদিন আগেও তিনি ছিলেন তাদের কাছে খুব প্রিয়। তাদের যন্ত্রণায় সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা পর্যন্ত করা যেত না। অথচ সেই তারা প্রধান উপদেষ্টাকে নগ্ন ভাষায় সমালোচনা করছে।
সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, ‘মানে নির্বাচনের রোডম্যাপ দেওয়া যাবে না।
নির্বাচন হয়ে গেলে তো তাদের বিচারপতি নিয়োগ, ডিসি নিয়োগ, ভিসি নিয়োগের খবরদারি থাকবে না। তাই যেকোনোভাবে সংস্কার ও বিচারের দোহাই দিয়ে নির্বাচন আটকাতে হবে। কিন্তু সংস্কার ও বিচার না করে কেন সবচেয়ে প্রভাবশালী ছাত্র উপদেষ্টা পদত্যাগ করে দল গঠন করল? চেয়ারে থাকলে যা করা যায়, আজকে চিল্লাচিল্লি করেও যে তা করা যাবে না, সেটা কি অনুমেয় ছিল না?’
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে ইঙ্গিত করে রাশেদ খান বলেন, ‘সরকার সেদিনই দুর্বল হয়ে পড়েছে, যেদিন থেকে পদত্যাগ শুরু হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, সামনে আরো পদত্যাগ করে নির্বাচন বা রাজনীতিতে কয়েকজন উপদেষ্টা নাম লেখাবে।
তখন তো এই সরকার আরো দুর্বল হবে।’
আচ্ছা নতুন সংবিধান চান, তবে মুজিববাদী সংবিধান মেনে যে শপথ নিলেন, তখন মনে ছিল না? সংবিধানকে স্বীকৃতি দিয়ে, হাসিনার রাষ্ট্রপতির হাতে শপথ নিয়ে আবার তাকে অবৈধ বলা যায়? প্রশ্ন করেন রাশেদ খান।
তিনি বলেন, ‘নিত্যনতুন দাবি করে নির্বাচন আটকানোর চেষ্টা করে দেশে ১/১১ নামিয়ে আনলে লাভটা কিন্তু হাসিনার হবে। তখন কিন্তু আমি-আপনি আমরা কেউ বাঁচতে পারব না। সুতরাং একগুঁয়ে মনোভাব না দেখিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার ও বিচারের পথপ্রক্রিয়া আবিষ্কার করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি সবার নেওয়া উচিত।

ট্রাম্প-মোদির সম্পর্কে শুল্কের ধাক্কা, বেকায়দায় দিল্লি

এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশ ভারতের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্র-ভারত দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ককে পিছিয়ে দিয়েছে বলে মনে করেন ওয়াশিংটনের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর উপদেষ্টা ক্রিস্টাল কাউল।
মঙ্গলবার ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ প্রসঙ্গে ক্রিস্টাল কাউল বলেন, “গত বেশ কয়েক দশক ধরে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, তাকে পিছিয়ে দিয়েছে এই শুল্ক আরোপ।”
ভারতের ওপর আরোপিত এই শুল্ক অবিলম্বে বাতিল করা উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন কাউল। পিটিআই-কে তিনি বলেছেন, “ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বহু বছরের। আপাতভাবে অনেক কিছুই মনে হতে পারে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ভারতের প্রতি বৈরী মনোভাব পোষণ করে না।”
প্রসঙ্গত, ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পণ্যের ওপর ধার্য রপ্তানি শুল্ক ছিল ১৫ শতাংশ। ২০২৪ সালের নির্বাচনে জিতে ’২৫ সালের ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণ করেন ট্রাম্প। পরে মার্চ মাসে শুল্কের হার ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করেন তিনি।

মোদীর পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে ভারতে

নরেন্দ্র মোদী টানা তৃতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন গত বছরের জুন মাসে। তার দল বিজেপি যদিও সেই নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি, কিন্তু তেলুগু দেশম বা জনতা দল ইউনাইটেডের মতো শরিকদের সমর্থন নিয়ে কেন্দ্রে সরকার গড়ার ক্ষেত্রে তার কোনো সমস্যাও হয়নি।
কিন্তু তৃতীয় মেয়াদে তার শাসনকালে পাঁচ বছরের মধ্যে এখনো পনেরো মাসও অতিক্রান্ত হয়নি, কিন্তু এর মধ্যেই দেশের বিরোধী দলগুলো জোরেশোরে মোদীর ইস্তফাও দাবি করতে শুরু করে দিয়েছেন।
লোকসভায় বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী বেশ কিছুদিন ধরেই লাগাতার বলে চলেছেন, ২০২৪-এর যে সাধারণ নির্বাচনে জিতে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন – সেই ভোটটাই হয়েছে আগাগোড়া ভুলে ভরা একটা ভোটার তালিকারভিত্তিতে।
আর এই ভুলটা যে নির্বাচন কমিশনের ইশারাতেই ইচ্ছাকৃতভাবে করা, সেই ইঙ্গিত দিতেও তিনি কোনো দ্বিধা করছেন না।
গতকাল (বুধবার) বিহারের মুজফফরপুরে এক নির্বাচনি সভা থেকে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বৈধ ভোটারদের ভোট কেটে আর জাল ভোটারদের নাম তালিকায় যোগ করেই মোদী ভোটে জিতেছেন– আর এ কাজে তাকে সাহায্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আর দেশের নির্বাচন কমিশন।
কংগ্রেসের সঙ্গে অনেক বিষয়ে মতভেদ থাকলেও দেশের আর একটি বড় বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস কিন্তু এই প্রশ্নে রাহুল গান্ধীর পাশেই দাঁড়িয়েছে। ডিএমকে ও আরজেডি-র মতো দলগুলোরও সমর্থন পাচ্ছেন তিনি।
তৃণমূলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা অভিষেক ব্যানার্জী রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করে দিনকয়েক আগেই বলেছেন, নির্বাচন কমিশন যদি মেনেই নেয় দেশের ভোটার তালিকায় প্রচুর অসঙ্গতি আছে এবং যেহেতু বর্তমান সরকার সেই তালিকার ভিত্তিতে করা ভোটে জিতেই ক্ষমতায় এসেছে – তাহলে সেই সরকারের কোনো বৈধতা ধাকতে পারে না।
সে ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও তার গোটা মন্ত্রিসভার পদত্যাগ করা উচিত ও লোকসভা অবিলম্বে ভেঙে দেওয়া উচিত– এই দাবিও তুলেছেন অভিষেক ব্যানার্জী।
বিরোধীদের তোলা এই ভোট চুরির অভিযোগ ক্রমশই মোমেন্টাম’ পাচ্ছে, আর তা দৃশ্যতই অস্বস্তিতে ফেলছে মোদী সরকারকে।
বস্তুত একটানা এগারো বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পদে রয়েছেন নরেন্দ্র মোদী, তবে এর আগে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির আর কোনও বিষয় তাকে এতটা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেনি।
ক্ষমতাসীন বিজেপি যদিও রাহুল গান্ধীর তোলা ভোট চুরির অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে, কিন্তু বিহার-সহ বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকায় যে ব্যাপক সংশোধন (এসআইআর) দরকার, সেই দাবিতেও সমর্থন জানাচ্ছে তারা।
জাতীয় নির্বাচন কমিশনও মেনে নিয়েছে, কোনো কোনো রাজ্যের ভোটার তালিকায় প্রচুর ভুয়া নাম আছে, সেগুলো বাদ দিতেই এসআইআর বা বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা প্রয়োজন – সোজা কথায় তালিকায় কাটছাঁট করা দরকার।
বিহারে আগামী নভেম্বরেই ভোট হওয়ার কথা– তার আগে সে রাজ্যে কমিশনের পক্ষ থেকে যে এসআইআর চালানো হয়েছে তাতে প্রাথমিকভাবে ৬৫ লাখেরেও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।
আর বিরোধীরা ঠিক এই কারণেই প্রশ্ন তুলছেন, বিহার বা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন তালিকা ভুল – কিন্তু মহারাষ্ট্র বা গুজরাটের ভোটার তালিকা নিখুঁত – এটা কীভাবে হতে পারে?
বস্তুত ২০২৪-এ ভারতের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকার ভিত্তিতে – এই ধারণা যতই প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, ততই আসলে নরেন্দ্র মোদীর ইস্তফার ও লোকসভা ভেঙে দেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী দিন দশেক আগেই বিহারে তার ভোটার অধিকার যাত্রা শুরু করেছেন, যার অংশ হিসেবে ১৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ যাত্রাপথে তিনি বিভিন্ন জেলায় পদযাত্রা ও সমাবেশ করছেন।
বুধবার বিহারের মুজফফরপুরের সমাবেশ থেকে তিনি বলেন, এই ভোট চুরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে গুজরাট থেকে, যখন নরেন্দ্র মোদী ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ২০১৪ সালে সেই মডেল গুজরাট থেকে জাতীয় স্তরে আমদানি করা হয়।
তিনি বলেন, আমি তো বলবো গুজরাট মডেল কোনো অর্থনৈতিক মডেল নয়, এটা হলো সোজাসুজি ভোট চুরির মডেল।
প্রধানমন্ত্রী মোদী জাতীয় স্তরেও যতগুলো ভোটে জিতেছেন (২০১৪, ২০১৯, ২০২৪) – তার সবগুলোতেই এই মডেলের আশ্রয় নিয়েই জিতেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গত দু-আড়াই বছরের মধ্যে মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র বা গুজরাটে যে সব বিধানসভা ভোট হয়েছে এবং ২০২৪-এ যে লোকসভা ভোট হয়েছে – সেগুলোর সবই চুরি করে বিজেপিকে জেতানো হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন তাতে সহযোগীর ভূমিকায় ছিল বলেও মন্তব্য করেন রাহুল গান্ধী।
ভোট মিটে যাওয়ার এতদিন বাদে তিনি মুখ খুলছেন কেন, আজ সে প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা।
এতদিন কিছু বলিনি কারণ আমাদের হাতে প্রমাণ ছিল না। কিন্তু অবশেষে মহারাষ্ট্রে এসে আমরা প্রমাণ পেয়ে গেছি, কারণ সেখানে তারা বাড়াবাড়ি করে ফেলেছিল।
লোকসভা নির্বাচনের পর মহারাষ্ট্রের ভোটার তালিকায় অন্তত এক কোটি অতিরিক্ত নাম যোগ করা হয়েছে, যার পুরোটাই বিজেপির ঝুলিতে গেছে।
রাহুল গান্ধী বলেন, মহারাষ্ট্র ও বিধানসভা ভোট এবং ২০২৪-র লোকসভা ভোট কীভাবে চুরি করা হয়েছে, খুব শিগগিরি তার প্রমাণ আপনাদের সামেন পেশ করবো।
ভারতের লোকসভায় শক্তির বিচারে কংগ্রেসের পরেই যে বিরোধী দলগুলোর অবস্থান – সেই ডিএমকে, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি ও আরজেডি প্রত্যেকেই রাহুল গান্ধীর এই ভোট চুরির অভিযোগে সমর্থন জানাচ্ছে।
বুধবার মুজফফরপুরের সমাবেশে ডিএমকে নেতা ও তামিলনাডুর মুখ্যমন্ত্রী স্টালিনও উপস্থিত ছিলেন, তিনি রাহুল গান্ধীর তোলা প্রতিটি অভিযোগেই সায় দিয়েছেন।
তাছাড়া বিহারে কংগ্রেসের ভোটার অধিকার যাত্রায় আগাগোড়াই রাহুল গান্ধীর সঙ্গে আছেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, যার দল রাজ্যে কংগ্রেসের জোটসঙ্গীও বটে।
এদিকে তৃণমূল নেতা অভিষেক ব্যানার্জী এর আগেই দাবি করেছেন, ভোটার তালিকায় এসআইআর যদি করতেই হয়, তাহলে নির্দিষ্ট একটি বা দুটি রাজ্যে নয় – গোটা দেশেই সেটা করতে হবে আর সেই প্রক্রিয়ার সূচনা হতে হবে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের মধ্যে দিয়ে।
নির্বাচন কমিশন বলছে ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি ছিল, তাই এসআইআর দরকার। বেশ, তাহলে শুধু বিহারে বা পশ্চিমবঙ্গে কেন গোটা দেশেই তালিকা সংশোধন হোক এবং লোকসভা ভেঙে দেওয়া হোক বলে প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
এই ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই যে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও তার দলের ২৪০ জন এমপি লোকসভায় নির্বাচিত হয়ে এসেছেন– আর তারাই দেশের প্রেসিডেন্ট বা ভাইস-প্রেসিডেন্টকে নির্বাচিত করছেন– সেটাও মনে করিয়ে দেন অভিষেক ব্যানার্জী।
ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর ইস্তফার দাবিকে আমলই দিচ্ছে না।
বিজেপির মুখপাত্র শাহনাজ পুনেওয়ালা এদিন রাহুল গান্ধীর গুজরাট মডেলে ভোট চুরির দাবিকে নস্যাৎ করে পাল্টা দাবি করেছেন, নরেন্দ্র মোদী যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তার মধ্যে বেশিটা সময়ই কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় ছিল।
তখন নির্বাচন কমিশনারদেরও নিযুক্ত করেছিল কংগ্রেস সরকার। তো রাহুল গান্ধী কি বলতে চাইছেন তাদের আমলের কমিশনাররাই গুজরাটে মোদীকে ভোট চুরি করিয়ে জিতিয়েছেন? পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি।
বিজেপি নেতা আর পি সিং আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম এস গিলকে অবসরের পর কংগ্রেসই এমপি করে এনে মনমোহন সিংয়ের ক্যাবিনেটে মন্ত্রী বানিয়েছিল।
বর্তমান নির্বাচন কমিশন এর আগে গত ১৭ অগাস্ট সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করেছিল, পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে রাহুল গান্ধী তার অভিযোগের স্বপক্ষে নিয়মমাফিক হলফনামা পেশ না করলে তারা ধরে নেবে সেই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
সেই সময়সীমা এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে – রাহুল গান্ধী হলফনামাও দেননি বা ক্ষমা চেয়ে অভিযোগও প্রত্যাহার করেননি এবং কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে তার তোলা অভিযোগগুলো নিয়ে কোনো তদন্ত হবে না।
কিন্তু রাজনৈতিকভাবে নরেন্দ্র মোদী সরকার ও বিজেপি বিরোধীদের দিক থেকে আসা এই শক্ত চ্যালেঞ্জকে কীভাবে মোকাবিলা করে, সেটাই এখন দেখার।

নির্বাচন নিয়ে ইসির যত কর্মপরিকল্পনা, প্রাধান্য পাবে যে ২৪ কার্যাবলী!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণ, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন ও দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন চূড়ান্ত করাসহ ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলীকে প্রাধান্য দিয়ে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ রোডম্যাপ ঘোষণ করেন।
কর্মপরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ যত বিষয়
অংশীজনের সংলাপ, ভোটার তালিকা প্রণয়ন, নির্বাচনি আইন বিধি সংস্কার, দল নিবন্ধন, নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ, ভোটকেন্দ্র স্থাপন, পোস্টাল ভোটিং, পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন, দেশি বিদেশি সাংবাদিক অনুমোদন; নির্বাচনের জন্য জনবল ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা, নির্বাচনি দ্রব্যাদি সংগ্রহ, আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক কাযক্রম।
অন্যান্য আইন বিধি সংস্কার ও একীভূতকরণ; ম্যানুয়াল, নির্দেশিকা, পোস্টার, পরিচয়পত্র মুদ্রণ; প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স উপযোগীকরণ, নির্বাচনি বাজেট বরাদ্দ, প্রচারণা ও উদ্বুদ্ধকরণ, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সুসংহতকরণ, ডিজিটাল মনিটর স্থাপন ও যন্ত্রপাতি সংযোজন, বেসরকারি প্রাথমিক ফলাফল প্রচার, ফলাফল প্রদর্শন, প্রকাশ ও প্রচার (বিভিন্ন মাধ্যমে); বিবিধ।
দল ও অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ সেপ্টেম্বরে শেষ সপ্তাহে থেকে শুরু। শেষ হতে সময় লাগবে দেড় মাস।
* ভোটার তালিকা হালনাগাদ: ইতোমধ্যে দ্বিতীয় ধাপের সম্পূরক খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যা চূড়ান্ত করা হবে ৩১ আগস্ট। আর ৩১ অক্টোবরের সম্পূরক তালিকা শেষে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ৩০ নভেম্বর।
* নির্বাচনি আইন-বিধি: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), অন্যান্য আইন বিধি ৩১ অগাস্টের মধ্যে সংশোধনের প্রস্তাব ও প্রণয়ন। এছাড়া সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ আইন সংশোধন, ভোটার তালিকা আইন সংশোধন, সংসদ নির্বাচনের ভোটার কেন্দ্র নীতিমালা ও ব্যবস্থাপনা চূড়ান্ত; দেশি, বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক নীতিমালা চূড়ান্ত করা; নির্বাচন পরিচালনা (সংশোধন) আইন ২০২৫; নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন ১৯৯১, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন ২০০৯ সংশোধনের কাজ আইন মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন আছে, যা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার আশা করছে ইসি।
* রাজনৈতিক দল নিবন্ধন: মধ্য সেপ্টেম্বর প্রাথমিক নিবন্ধন ও সেপ্টেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন।
* সীমানা নির্ধারণ: সেপ্টেম্বরের শুরুতে চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ আর ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জিআইএস ম্যাপ প্রস্তুত ও প্রকাশ।
* পোস্টাল ভোটিং ও ব্যালট: প্রকল্প অনুমোদন, সফটওয়্যার চূড়ান্ত, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, নিবন্ধন ও প্র্যাক্টিসিং মডিউল, প্রচারের কাজ অক্টোবরের মধ্যে সম্পন্ন করা। প্রবাসে নভেম্বরে ব্যালট পেপার পাঠানো। কারাবন্দিদের ভোটের দুই সপ্তাহ আগে ব্যালট পাঠানোর পরিকল্পনা।
* আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কার্যক্রম: সেপ্টেম্বরে ও তফশিল ঘোষণার ১৫ দিন এবং তফশিল ঘোষণার পর বৈঠক।
আগামী বছর ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে রোজার আগে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। এ সংক্রান্ত চিঠিও দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারও বলেছেন, ভোটের তারিখের প্রায় দুই মাস আগে তফশিল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচন কমিশন সভায় আলোচনা শেষে জানানো হয়, ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফশিল দেবে ইসি।

আহত নুরুল হক নুর ঢামেকে, নুরকে দেখতে গিয়ে তোপের মুখে আসিফ নজরুল

রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলায় আহত গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে (ওসিসি) নিয়ে আসা হয়।
এদিকে সংঘর্ষে আহত গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে দেখতে হাসপাতালে গিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
শুক্রবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে (ওসিসি) যান।
হাসপাতালে প্রবেশ করার পর গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা তাকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। এতে এক পর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
প্রসঙ্গত, রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলায় আহত হন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। শুক্রবার রাতে বিজয় নগরে আল রাজী টাওয়ারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ঢাকা পোস্টকে বলেন, পার্টি অফিসের সামনে সংবাদ সম্মেলন করার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের ওপর হামলা করে। এতে নুরুল হক নুর মারাত্মক আহত হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টার পর গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এসময় তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধাওয়া দিলে তারা আলরাজী টাওয়ারের সামনে চলে আসে। একই সময়ে সেখানে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নুরুল হক নুরসহ দলটির শীর্ষ নেতারা। পরে সেখানে তাদের লাঠিপেটা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা।
এর আগে সন্ধ্যায় বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।