Home Blog Page 333

শাকিবের নায়িকা হচ্ছেন তানজিন তিশা

নতুন বাংলাদেশের গল্পে নির্মিত হতে যাচ্ছে সিনেমা, যেটিতে অভিনয় করবেন ঢালিউডের শীর্ষ নায়ক শাকিব খান। নাম চূড়ান্ত না হওয়া এ সিনেমাটি পরিচালনা করবেন সাকিব ফাহাদ।
ছবিটিতে শাকিবের নায়িকা কে হবে তা নিয়ে গুঞ্জন বেড়েই চলেছে। এরমধ্যে ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, এই সিনেমার মধ্য দিয়ে শাকিবের বিপরীতে বড় পর্দায় অভিষেক হতে যাচ্ছে ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশার।
সিনেমা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এমনটা নিশ্চিত করলেও পরিচালক কিংবা অভিনেত্রী কেউই এ বিষয়ে মুখ খুলতে চান না।
জানা গেছে, মৌখিকভাবে চূড়ান্ত হলেও আগামীকাল সিনেমাটির জন্য অফিশিয়ালি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে তিশার।
সিনেমাটিতে শাকিব খানকে দেখা যাবে শাহরুখ খানের ‘পাঠান’, সালমানের খানের ‘টাইগার’ এর মতো চরিত্রে অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক এক দক্ষ এজেন্টের ভূমিকায়, যিনি দেশের হয়ে একের পর এক লোমহর্ষক অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করেন।
আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সিনেমাটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
পুরো সিনেমাটির শুটিং হবে দেশেই। এরপর মুক্তি পাবে আসছে ডিসেম্বরে।

‘জলের গান’ একক গানের আসর আজ

‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’ শিরোনামে একক গানের আসর নিয়ে মঞ্চে আসছে দেশের শ্রোতাপ্রিয় গানের দল ‘জলের গান’। আজ শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডির ভিনটেজ কনভেনশন মিলনায়তনে এ গানের আসর বসবে। জানা যায়, অনুষ্ঠানটির আয়োজক জলের গান ও ক?্যাফে ভিনটেজ। তবে এরইমধ্যে এই আয়োজনের সব টিকিট শেষ হয়ে গেছে। এদিকে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলার বর্ষা, বৃষ্টির সুর আর হৃদয়ের অনুভূতিকে কেন্দ্র করে সাজানো এই বিশেষ পরিবেশনা হবে প্রকৃতি, ভালোবাসা ও জীবনের গল্পে ভরপুর। নতুন ও পুরনো জনপ্রিয় গানগুলোর মাধ্যমে শ্রোতাদের ভিন্ন আবেগময় সঙ্গীতযাত্রায় নিয়ে যাবে জলের গান। ‘বকুল ফুল’, ‘তোমার জন্য আকাশ ভরা তারা, ‘এমন যদি হতোসহ আরও কিছু গানের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পেয়েছে জলের গান। ‘অতল জলের গান’ ও ‘পাতালপুরের গান’ নামে দুটি অ্যালবাম প্রকাশ করে দর্শক মহলে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে জলের গান। সবশেষ ২০১৯ সালে তারা প্রকাশ করে ‘নয়ন জলের গান’ শিরোনামে তৃতীয় অ্যালবাম।

জয় দিয়ে মৌসুম শুরু পিএসজির

চলতি মাসে শুরু হয়েছে ফরাসি লিগ ওয়ানের নতুন মৌসুম। ১৫ আগস্ট শুরু হয়েছে এই লিগ ওয়ানের লড়াই। লিগে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির ম্যাচ ছিলো ন্যান্টেসের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে ন্যান্টেসের বিপক্ষে মৌসুমের প্রথম ম্যাচে ১-০ গোলের জয় পেয়েছে লুইস এনরিকের দল।  লা পারিসিয়ানদের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছেন ভিতিনহা।

রোববার (১৭ আগস্ট) ফ্রান্সে লা বোজোয়ার স্টেডিয়ামে ন্যান্টেসকে ১-০ গোলে হারিয়েছে পিএসজি।

এদিন পুরো ম্যাচেই বল দখলের পাশাপাশি আক্রমণের পসরা সাজিয়ে বসেছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। গোলের জন্য পিএসজি মোট ১৮টি শট নিয়েছে। অন্যদিকে ন্যান্টেস নিয়েছে মাত্র ৫টি শট। তবে এতো আক্রমণ করেও প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকের কারণে গোলের দেখা পাচ্ছিল না পিএসজি।

ম্যাচে একের পর এক সেভ করে ন্যান্টেসকে বাঁচিয়ে দিচ্ছিলেন দলটির ফরাসি গোলরক্ষক লোপেজ। এতো সেভ করেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা আর হয়নি। ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে ভিতিনহার গোল ব্যবধান গড়ে দেয়। এই এক গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে গত মৌসুমে ট্রেবল জয়ীরা।

আগামী সপ্তাহে লিগের দ্বিতীয় ম্যাচে অ্যাঞ্জার্সের বিপক্ষে মাঠে নামবে পিএসজি।

টিভিতে আজকের খেলা

ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য প্রতিদিনই টেলিভিশনের পর্দায় থাকে অনেক খেলা। তেমনি সোমবার (১৮ আগস্ট) রয়েছে বেশকিছু খেলা। চলুন দেখে নেওয়া যাক আজ টিভিতে কোন কোন খেলা রয়েছে।

ক্রিকেট
টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি
মেলবোর্ন স্টারস-নেপাল, সকাল ৭-৩০ মিনিট
টি স্পোর্টস

ক্যাপিটাল-নর্দার্ন, সকাল ১০-৩০ মিনিট
টি স্পোর্টস

শাহীনস-রেনেগেডস, বেলা ২-৩০ মিনিট
টি স্পোর্টস

দ্য হানড্রেড (নারী)
সাউদার্ন ব্রেভ-ওভাল ইনভিন্সিবলস, রাত ৮টা
সনি টেন ১

দ্য হানড্রেড (পুরুষ)
সাউদার্ন ব্রেভ-ওভাল ইনভিন্সিবলস, রাত ১১-৩০ মিনিট
সনি টেন ১

ফুটবল
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
লিডস ইউনাইটেড-এভারটন, রাত ১টা
স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ২ এইচডি

টেনিস
সিনসিনাটি ওপেন, রাত ১টা
সনি টেন ২

‘আমি প্রেমে বিশ্বাস করি’

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মালাইকা অরোরা। মালাইকাকে বলিউডের ‘আইটেম কুইন’ বলা হয়। সম্প্রতি মালাইকা এবং অর্জুন কাপুরের সম্পর্কে ভাঙনের খবর অজানা নেই কারও।

বিচ্ছেদের পরেও চর্চা হয় এই জুটিকে নিয়ে। বয়সের ব্যবধান নাকি অন্য কোনো বিষয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তারা, তা আজও খোলাসা করেননি দুজনের কেউই। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মালাইকাকে জিজ্ঞেস করা হয়, যদি আপনাকে তরুণ বয়সে ফিরিয়ে নেওয়া যায় তাহলে নিজেকে কী পরামর্শ দিতেন?

উত্তরে মালাইকা বলেন, ‘আমি বলতাম, বিয়ের জন্য সময় নাও। এত তাড়াহুড়ো করে বিয়ে করার দরকার নেই। আগে একটু কাজ করো, জীবনের পথচলা বোঝো, তারপর এই সিদ্ধান্ত নাও। আমি খুব অল্প বয়সেই বিয়ে করেছিলাম।’

সাক্ষাৎকারে তাকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়, আবার বিয়ে করার কথা কি তিনি ভাবছেন? মালাইকা খোলামেলা ভঙ্গিতে বলেন, ‘নেভার সে নেভার। আমি একজন ভীষণ রোমান্টিক মানুষ। আমি এখনও প্রেমে বিশ্বাস করি। ভালোবাসা সম্পর্কিত সব কিছুতে আমার আস্থা আছে। তাই কখনও না বলার কিছু নেই।’

মালাইকাও তার কথার ভাঁজে বুঝিয়ে দেন, তিনি নতুনভাবে জীবনকে উপভোগ করছেন। এর মাঝেই দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসার ইঙ্গিত দিলেন মালাইকা।

১৯৯৮ সালে আরবাজ খানকে বিয়ে করেন মালাইকা। চার বছর পর, ২০০২ সালে জন্ম হয় তাদের ছেলে আরহান খানের। ২০১৬ সালে তারা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং ২০১৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদ ঘটে।

নায়িকাদের জীবনের গল্প পর্দায় আনছেন রুনা খান

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুনা খান। ছোট পর্দার পাশাপাশি বড় পর্দায়ও নানা চরিত্রে অভিনয় করেছেন রুনা খান। যাদও এবার ভক্তদের জন্য প্রথমবারের মতো আসছেন তিনি সিনেমার নায়িকা চরিত্রে। সেই সিনিমাটি হচ্ছে নায়িকাদের জীবনের বাস্তব জীবন নিয়ে।

আলী জুলফিকার জাহেদীর পরিচালনায় তৈরি হতে যাচ্ছে ‘চলচ্চিত্র: দ্য সিনেমা’। যেখানে সিনেমার প্রধান চরিত্রে থাকছেন অভিনেত্রী রুনা খান।

পরিচালক আলী জুলফিকার জাহেদী জানিয়েছেন, ‘ইতোমধ্যেই চরিত্রটির জন্য  চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন রুনা খান। বাকি শিল্পীদের বাছাইও প্রায় শেষ। বছরের শেষ দিকে শুটিং শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে, তার আগেই সব প্রস্তুতি শেষ হবে।

রুনা খান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘গত শীতে এ ছবির বিষয়ে আমার সঙ্গে কথা শুরু হয়। গল্প শোনার পর ভালো লাগে। পরে চিত্রনাট্য ও চরিত্র পছন্দ হলে চুক্তি করি। এখানে আমি একজন চিত্রনায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করব। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে কাজ করতে ভালোবাসি, বিশেষ করে যেগুলো বাস্তবতার ছোঁয়া রাখে। এ চরিত্রও ঠিক তেমন।’

তিনি আরও বলেন, ‘নায়িকার ভূমিকায় এর আগে কখনো কাজ করিনি। প্রায় ১৭-১৮ বছর আগে টেলিফিল্মে একজন যাত্রার অভিনেত্রী হয়েছিলাম। এবার দর্শক আমাকে সিনেমার নায়িকার চরিত্রে দেখবেন। কাজটি নিয়ে আমি দারুণ উচ্ছ্বসিত। চরিত্রটি ঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। দর্শকদের ভালো লাগলেই আমার সার্থকতা। আমরা যারা অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত, তাদের সবাই পর্দায় দেখেন। কিন্তু অনেকে ভুলে যান, পর্দার বাইরেও আমাদের আলাদা একটা জীবন আছে। আমাদেরও আছে সুখ-দুঃখ-হাসি-কান্নার বাস্তব গল্প। এমনই এক নায়িকার গল্প নিয়ে মূলত ‘চলচ্চিত্র: দ্য সিনেমা’ নির্মিত হচ্ছে।’

২০০৭ সালে নোমান রবিনের পরিচালনায় একটি টেলিফিল্মে যাত্রাপালার অভিনেত্রীর চরিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা ছিল তার। তবে এবারই প্রথমবার বড় পর্দায় নায়িকার চরিত্রে দেখা যাবে রুনা খানকে।

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া নির্বাচন হলে মহাদুর্যোগ আসবে’

সব সংস্কার প্রস্তাবের আইনি ভিত্তি দিয়ে এই সরকারের অধীনে যদি আগামী নির্বাচন না হয় তাহলে বাংলাদেশের ভাগ্যাকাশে এক মহাদুর্যোগ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। বলেন, জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি না দিয়ে যদি বিদ্যমান কাঠামোতেই আগামী নির্বাচন হয়, তাহলে আরেকটা হাসিনার জন্ম হবে, আরেকটা ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে।
রোববার (১৭ আগস্ট) রাজধানী ঢাকার রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত  ‘জুলাই জাতীয় ঘোষণাপত্র’ এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর আইনগত স্বীকৃতি প্রদান ও আমাদের করণীয় শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন পরবর্তী আলোচনায় একথা বলেন তিনি।
অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসকে আহ্বান জানিয়ে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, যদি আপনাদের আরও কোনো পাল্টা যুক্তি থাকে, সর্বদলীয়ভাবে দেশের সেরা বরেণ্য আইনঙ্গদের নিয়ে একটি রাউন্ড টেবিল বৈঠকের আয়োজন করুন। সেখানে যুক্তি পেশ হোক, সেটা সারা দুনিয়াতে লাইভ টেলিকাস্ট হোক দেশ ও বিদেশ দেখুক।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। সেমিনারে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃ্দ ছাড়াও জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও আইন বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় যে জুলাই ঘোষণা পাঠ করেছেন, সেটা আগামী নির্বাচনের পর, দুই বছর পর সংবিধানে নাকি তফসিলভুক্ত করা হবে। আমি মনে করি, আজকের এই সেমিনার ড. ইউনুস এর জুলাই ঘোষণায় ওই কথার তীব্র প্রতিবাদ। জনগণ তার কথা মানে নাই।
প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এর আগে বিশিষ্ট আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে দিয়ে বলেছিলেন, যদি আপনারা জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে না পারেন, অক্ষম হন, তাহলে আমাদেরকে দায়িত্ব দেন এই আইনের ভিত্তি ড্রাফট আমরা সরবরাহ করব।
সেই কথাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি দলের বড় বড় নেতারা এখনো বলছেন, পার্লামেন্ট ছাড়া কি করে আইন তৈরি করা হবে? আজব ব্যাপার। আজকের সেমিনারের তথ্য প্রমাণও তাদের সেসব জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে দেওয়া তাদের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ। আপনারা মানুষের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে কথা বলছেন, আইন, বিধান সংবিধান প্লকেশন, অর্ডিনেন্স, লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্কের বিরুদ্ধে কথাবার্তা বলছেন।
একটি বড় দলের স্থায়ী কমিটির আরেকজন সদস্যের দেওয়া বক্তব্য টেনে গোলাম পরওয়ার বলেন, ওই নেতা বলছেন, সংস্কার কমিশনে যত আইন আপনারা করেন না কেন, আমরা সংসদে গিয়ে মুছে দেব। তাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। আপনারা শুধু এটা মনে করবেন না যে দেশের আইনকানুন সংবিধান সবকিছু শুধু আপনাদের আলমারিতেই আছে। আইন সংবিধান সম্পর্কে আমাদের কাছেও অভিজ্ঞ মানুষ আছে, রেকর্ড আমাদের কাছে আছে।
ড. ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের বৈঠকে বলেছিলেন, কারা পক্ষে আছে কারা কারা না তা জাতি জানবে, আপনি ওয়েব সাইটে প্রকাশ করে দেবেন। এ জন্য সর্বদলীয় গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করেন। মানুষ জানুক। কারা জনআকাঙ্খার পক্ষে আর কারা বিপক্ষে।
তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, অধিকাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, পিআর পদ্ধতি ছাড়া কখনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না। কিন্তু আপনাদের কি হয়েছে আমরা জানি না। গ্রামে বলে বাঙালিকে হাইকোর্ট দেখান। সেই বড় দলের নেতারা বলছেন, যে মানুষরা ইভিএম বোঝে না তারা পিআরও বোঝে না। ইভিএম কি আর পিআর কি? ইভিএম হচ্ছে, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের নাম আর পিআর হচ্ছে ইলেক্টোরাল সিস্টেমের নাম।
গোলাম পরওয়ার বলেন, পিআর হলে কালো টাকা, মনোনয়ন বাণিজ্য, পেশিশক্তি এগুলো যারা করতে পারবে না তারাই পিআর পদ্ধতিকে বাধা দিচ্ছে। পিআর পদ্ধতিতে একটা কোয়ালিটি রিচ পার্লামেন্ট হবে প্রত্যেকটি ভোটের মূল্যায়ন হবে। পিআর পদ্ধতি এখন অধিকাংশ জনগণ মত দিয়েছেন। অনেকগুলো জরিপ বলছে, ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ বলেছে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হতে হবে। লোয়ার ও আপার হাউজে তারা পিআর চাচ্ছেন।
তিনি দেশের সব দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল ও ইসলামিক শক্তিকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি মানবিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন জামায়াত আমির। কম্প্রোমাইজ ও সেক্রিফাইসের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পিআর পদ্ধতিকে নির্বাচনের আয়োজন করি।
জাতীয় ঐক্যমতের জন্য জামায়াত অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে দাবি করে তিনি বলেন, আমাদের অনেক প্রস্তাবনা ছিল। জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনে দায়িত্ব পালন করছেন আমাদের দলের নায়েবে আমির ড. তাহের। সব দলের ঐক্যের স্বার্থে আমরা অনেক সেক্রিফাইস করেছি। অনেক ছাড় দিয়ে হলেও আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকার চেষ্টা করছি। তাহলে জুলাই বিপ্লবের জন আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রুপ দিতে হলে বড় বড় দলেরও তো দায়িত্ব আছে, তাদের তো সেক্রিফাইস কম্প্রোমাইজ করতে হবে৷
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, একটি দল খুব জোর করে বলে, আমাদের সংবিধানের আর্টিকেল সেভেনে জনগণ রাষ্ট্রের যে মালিকানা দিয়েছে, সেটার কথা বলে তারা পাশ কাটাতে চায়। তারা জুলাই সনদের আইনি ভিত্তিকে প্রয়োজন মনে করছে না। তারা বলে, জনগণের অভিপ্রায় সব আইনের ঊর্ধ্বে। সেটাই যদি হয়, আমি বলবো আপনারা জনগণের অভিপ্রায়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এই যে সংস্কারগুলো হয়েছে সেগুলো শুধু আপনাদের বাসায় জেন্টলম্যান অ্যাগ্রিমেন্ট হিসেবে রেখে দিলে জাতির ভবিষ্যৎ কোথায় যাবে?

৫০ শতাংশের বেশি নারী প্রতিনিধিত্ব কেন নয়, প্রশ্ন মঈন খানের

জাতীয় সংসদে ৫০ শতাংশের বেশি নারী প্রতিনিধিত্ব কেন নয় এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান।
রোববার (১৭ আগস্ট) বিকেলে গুলশানে হোটেল ওয়েস্টিনের গ্র্যান্ড বলরুম এক জাতীয় সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই অভ্যুত্থান এবং নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে খান ফাউন্ডেশন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন অ্যাডভোকেট রোখসানা খোন্দকার। তিনি নির্বাহী পরিচালক, খান ফাউন্ডেশন এবং অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ড. আদি ওয়াকার। এছাড়া ফান্সের রাষ্ট্রদুত ম্যারি মাসদুপুইসহ বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিকরা অংশ নেন।
মঈন খান বলেন, দেশে প্রায় ৪০ লাখ নারী শ্রমিক আছে যারা গামেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ করে অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখছে। বাংলাদেশে নারী অর্থনীতি দিকে নিয়ে যাচ্ছে এটা আমি শুনতে চাই না। আমি শুনতে চাই, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের চেয়ে বেশি নারী। জাতীয় সংসদ ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫০ জন বা ১৫১জন কেন নারী প্রতিনিধিত্ব থাকবেন না আমি এই প্রশ্ন রেখে গেলাম। অনেকই হয়তো বলবেন এটা অবান্তর, অবাস্তব। আমরা যদি মানুষিক অবস্থা, সমাজ ব্যবস্থা যদি পরিবর্তন করতে না পারি তাহলে কিন্তু নারীর মুক্তি, নারীর সমতার আন্দোলন এসব সেমিনার করে লাভ হবে না। আমদের অন্তর থেকে নারীর জন্য পরিবর্তন আনতে হবে। নমিনেশন দিলেও নারীরা পাশ করবে না এসব বলা হয়। কিন্তু নমিনেশন দিলে কেউ পাশ করবে কেউ ফেল করবে এটা তার জনপ্রিয়তার উপর নির্ভর করে। নারীদের নমিনেশন দিতে হবে।
তিনি বলেন, এটা গবেষণা করে সমাধান করতে পারব বলে মনে হয় না। মূল সমস্যা হচ্ছে নারীদেরকে মেইন ষ্টিম রাজনীতি নিয়ে আসতে না পারা। আমরা যদি নারীদেরকে মেইন স্টিমে নিয়ে আসতে পারি তাহলে এই সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।
সারবিশ্বের নারীদের ভোটের অধিকারের ইতিহাস তুলে ধরে মঈন খান বলেন, আমার তো নারীদের সংসদ সদস্য নিয়ে আলোচনা করেছি। অথচ নারীরা ভোটের অধিকার সেই দিন পেয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বের কথা বলি মাত্র ১০০ বছর আগে নারীরা ভোটের অধিকার পেয়েছে। সুইজারল্যান্ডে অত্যন্ত আধুনিক রাষ্ট্র, সেই দেশে নারীরা ভোটের অধিকার পেয়েছে ১৯৭১ সালে। যেদিন আমরা স্বাধীন হয়েছিলাম। এই হচ্ছে সারবিশ্বের পরিস্থিতি।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারি যত বেশি নারী সদস্যকে সুযোগ দেওয়া যায়। যদিও ৩০ শতাংশ নারীর সুযোগ কোনো রাজনৈতিক দল এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীকে বন্ধি রাখা হয়েছে। বাংলাদেশে নারীর অধিকার সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আমি এটা বিশ্বাস করি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সোলিমা রহমান বলেন, নারী আসনে এক মাত্র সমাধান সরাসরি ভোটে সুযোগ দেয়া। আমি বলছি না ১০০টা আসন দিতে হবে। কিন্তু এর সমাধান করতেই হবে।
তিনি বলেন, কতটুকু নির্বাচন সুষ্ঠু হবে জানি না, কিন্তু নির্বাচনে আমাদের অংশ গ্রহণ করতেই হবে।
ফান্সের রাষ্ট্রদুত ম্যারি মাসদুপুই বলেন, আমি ঢাকায় যোগদানের পর অনেক অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেছি। এই অনুষ্ঠানে দেখলাম পুরুষ এবং নারী সমান অংশ গ্রহণ আছে। এই বিষয়টি খুবই ভালো লাগল।
নারী সংস্কার কমিশনে সুপারিশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারী সংষ্কার কমিশনে অনেক সুপারিশ আসছে তার কোনেটাই পরবর্তিতে সামনে আনা হলো না এটা খুবই দুঃখজনক।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণ ফোরামের নেতা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, জেএসডির তানিয়া রব, এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জু, গণ অধিকার পরিষদের নূরুল হক নূর, সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, সাংবাদিক মাসুদ কামাল, মুনজুল আলম পান্না, কাজী জেরিন, দিপ্তি চৌধুরী প্রমুখ।

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যেসব শর্ত দিলেন পুতিন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি বলে জানিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে গত শুক্রবার কয়েক ঘণ্টার বৈঠকে পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কিছু শর্ত দেন।
ইউরোপীয় নেতাদের বরাতে সংবাদমাধ্যম সিএনএন রোববার (১৭ আগস্ট) এমনটি জানিয়েছে।
পুতিন ট্রাম্পকে জানান, ইউক্রেন যদি যুদ্ধ বন্ধ চায় তাহলে তাদের পূর্বাঞ্চলের পুরো দনবাস রাশিয়াকে দিয়ে দিতে হবে।
এর বদলে তিনি ইউক্রেনের অন্যান্য সম্মুখ সারির যুদ্ধ থামিয়ে দেবেন। যার মধ্যে খেরসন ও জাপোরিঝিয়াও থাকবে। এছাড়া ইউক্রেন বা ইউরোপের অন্য কোনো দেশে হামলা চালাবেন না বলেও কথা দেন তিনি।
এছাড়া পুতিন শর্ত দেন রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব রয়েছে ‘সেটির মূল কারণ’ সমাধান করতে হবে। যার অর্থ- ইউক্রেনকে তার সেনাবাহিনীর আকার ছোট করতে হবে, সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাদ দিতে হবে এবং একটি নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হতে হবে।
পুতিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে ট্রাম্প যখন ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠকের আলোচনা সম্পর্কে অবহিত করা শুরু করেন তখন পুতিনের শর্তগুলো স্পষ্ট হতে থাকে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যদি পুতিনের শর্ত পূরণ হয় তাহলে রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ হওয়া সম্ভব। হোয়াইট হাউজে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে ইউরোপীয় নেতারা জানিয়েছেন, যখন ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধ হবে তখন দেশটিকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে কী ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়া হবে সেটি স্পষ্ট নয়। তাদের আশঙ্কা, ট্রাম্প-পুতিনের বৈঠক খুব বেশি আশার সঞ্চার করতে পারেনি। বরং আলোচনার বিষয়ে গোপনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন ট্রাম্প।

আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনে জেলেনস্কি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য রোববার রাতে ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
তিনি জানিয়েছেন, সব পক্ষই যুদ্ধের দ্রুত অবসান চায় এবং একই সঙ্গে তিনি স্থায়ী শান্তির আহ্বান জানান।
জেলেনস্কি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে বলেছেন, ‘আমরা সবাই দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্যভাবে এই যুদ্ধের অবসান ঘটানোর দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করি।’ এএফপির এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়।
তিনি সোমবার ইউরোপীয় নেতাদের একটি দলসহ ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করবেন।
ইউক্রেন ইস্যুতে কোনো চুক্তি ছাড়াই শুক্রবার আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন শীর্ষ বৈঠক শেষ হওয়ার তিন দিন পর ওয়াশিংটনে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া শীর্ষ বৈঠকের পরের দিন শনিবার জেলেনস্কি কিয়েভের ইউরোপীয় মিত্রদের আলোচনার প্রতিটি পর্যায়ে সম্পৃক্ত থাকার আহ্বান জানান।
জেলেনস্কি অভিযোগ করে বলেন, রাশিয়া যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানোর ফলে যুদ্ধের অবসান প্রক্রিয়াকে জটিল করছে। ফলে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাতের অবসানের প্রচেষ্টা জটিল হয়ে উঠছে।