Home Blog Page 342

এআই প্রযুক্তির নতুন দিগন্তে অপো রেনো-১৪ সিরিজ ৫জি ফোন

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ব্র্যান্ড অপো ডিসকভারির সহযোগিতায় এক জাঁকজমকপূর্ণ মিউজিক্যাল নাইটে তাদের বহুল প্রতীক্ষিত রেনো-১৪ সিরিজ ৫জি বাংলাদেশে উন্মোচন করেছে। আর্টসেলের লাইভ পারফরম্যান্সে মুখরিত এই অনুষ্ঠানে প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির অনন্য সংমিশ্রণে অংশ নেন শিল্পী, কনটেন্ট নির্মাতা ও প্রযুক্তিপ্রেমীরা। ‘কালচার ইন আ শট’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই সিরিজে উন্নত এআই ইমেজিং প্রযুক্তির মাধ্যমে জামদানির ঐতিহ্যকে ডিজিটালি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অপোর ‘কালচার ইন আ শট’ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে রেনো১৪ সিরিজ ৫জি দুটি মডেলে বাজারে এসেছে: রেনো১৪ ৫জি (১২ জিবি র‍্যাম, ২৫৬ জিবি স্টোরেজ, মূল্য ৭৯,৯৯০ টাকা) এবং রেনো১৪ এফ ৫জি (৮ জিবি র‍্যাম, ২৫৬ জিবি স্টোরেজ, মূল্য ৪২,৯৯০ টাকা)। ওপাল হোয়াইট, লুমিনাস গ্রিন এবং ওপাল ব্লু রঙে পাওয়া যাচ্ছে এই ফোনগুলো।

এই সিরিজের অন্যতম আকর্ষণ এআই লো লাইট ফটোগ্রাফি এবং ট্রিপল-ফ্ল্যাশ ক্যামেরা সিস্টেম, যা অন্ধকারেও প্রাণবন্ত ছবি তুলতে সক্ষম। এছাড়া, ৪কে আলট্রা-এইচডি আন্ডারওয়াটার ভিডিও রেকর্ডিং এবং আইপি৬৯ ওয়াটার ও ডাস্ট রেজিস্ট্যান্স ফিচার পানির নিচেও উচ্চমানের ভিডিও ধারণের সুযোগ দেয়। এআই এডিটর ২.০ ব্যবহারকারীদের সৃজনশীলতাকে আরও উন্নত করে, যেমন ভুল অ্যাঙ্গেল ঠিক করা বা ছবির টোন পরিবর্তনের মতো সুবিধা।

ফোনটিতে আরও রয়েছে ৬০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি, সুপারভুক ফাস্ট চার্জিং, এআই হাইপারবুস্ট ২.০ এবং মার্মেইড-অনুপ্রাণিত ডিজাইনের অ্যামোলেড ডিসপ্লে। প্রি-অর্ডারকারীদের জন্য রয়েছে আড়ং-এ ১০% ছাড়, আইওটি গিফট, কার্ডহীন ইএমআই, এক্সচেঞ্জ বোনাস এবং ২ বছরের ওয়ারেন্টি সহ ১ বছরের স্ক্রিন রিপ্লেসমেন্ট কাভারেজ।

অপো বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডেমন ইয়াং বলেন, “প্রযুক্তির মাধ্যমে ঐতিহ্য ও উদ্ভাবনের এই মেলবন্ধন আমাদের গর্বিত করে। রেনো১৪ সিরিজ মানুষের গল্প তুলে ধরতে এবং সংস্কৃতি সংরক্ষণে অবদান রাখবে।”

ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ম্রুণালের প্রেমে মজেছেন ধানুষ

দক্ষিণী অভিনেতা ধানুষের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে রজনীকান্তের মেয়ে ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে। বেশি দিন হয়নি তাদের বিচ্ছেদ। এর মধ্যেই নাকি নতুন প্রেম মজেছেন ধানুষ। ‘সীতা রমন’খ্যাত অভিনেত্রী ম্রুণাল ঠাকুরের সঙ্গে প্রেম করছেন এই নায়ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এই নতুন গুঞ্জন।

এছাড়াও সম্প্রতি একাধিক অনুষ্ঠানে দেখা গেছে দুজনকে।  গত ১ আগস্ট ছিল ম্রুনাল ঠাকুরের জন্মদিন। অভিনেত্রীর সেই তারকা খচিত জন্মদিনে ধানুষ আসার পর থেকেই এই জল্পনা তৈরি হয়েছে।

এছাড়াও জন্মদিনের অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, ম্রুণালের হাত ধরে রয়েছেন ধানুষ। একজন অন্যজনের হাত ধরেই ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলছেন। এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই নেটিজানদের মনে প্রশ্ন, ধানুষ ও ম্রুণাল কি প্রেম করছেন?

সেই জল্পনায় ঘি ঢেলেছে আরও একটি ঘটনা। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে ম্রুণালের ছবি ‘সান অফ সর্দার ২’। সেই ছবির বিশেষ প্রদর্শন দেখার জন্য মুম্বাই উড়ে গিয়েছিলেন ধানুষ।

সেই প্রদর্শন থেকেও একটি ভিডিও ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানেও ম্রুণাল ও ধানুষকে একসঙ্গে দেখা গেছে। বেশ ঘনিষ্ঠভাবেই কথা বলছিলেন দুজন।

তাদের এই ঘনিষ্ঠতা দেখে ভক্তদেরও বুঝতে বাকি নেই, রজনীকান্তের মেয়ে ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর হয়তো ম্রুনালকেই মন দিয়েছেন অভিনেতা।

তবে এই প্রথম নয়। এর আগেও কণিকা ঢিলোঁর পার্টিতে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল ধানুষ ও ম্রুণালকে।

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের সূচি প্রকাশ

এশিয়া কাপের আগে প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে একটি তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সোমবার এই সিরিজের বিস্তারিত সূচি প্রকাশ করেছে।

সিরিজের সূচি-

প্রথম ম্যাচ: ৩০ আগস্ট, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম

দ্বিতীয় ম্যাচ: ১ সেপ্টেম্বর, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম

তৃতীয় ম্যাচ: ৩ সেপ্টেম্বর, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম

সিরিজের সবকটি ম্যাচ সিলেটে অনুষ্ঠিত হবে। নেদারল্যান্ডস দল আগামী ২৬ আগস্ট বাংলাদেশে আসবে।

এই সিরিজকে কেন্দ্র করে বিসিবি ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। আগামী ৬ আগস্ট থেকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ২৫ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াড নিয়ে একটি ফিটনেস ক্যাম্প শুরু হবে। এরপর ১৫ আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিক অনুশীলন ক্যাম্প চলবে। ২০ আগস্ট দলটি সিলেটের উদ্দেশে রওনা হবে এবং সেখানেই সিরিজের বাকি প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে।

স্প্যানিশ ইয়ামালের আর্জেন্টাইন র‍্যাপারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা!

সম্প্রতি স্প্যানিশ মিডিয়ায় লামিন ইয়ামালকে নিয়ে নতুন গুঞ্জন উঠেছে। বয়স ১৮ পূর্ণ করার পর এক জমকালো জন্মদিন পার্টিতে আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় র‍্যাপার নিকি নিকোলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে দেখা গেছে তাকে। এমনটাই দাবি করেছেন স্প্যানিশ সাংবাদিক জাভি হোয়োস।

টিকটকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে হোয়োস বলেন, ‘আমার খুবই নির্ভরযোগ্য এক সূত্র জানিয়েছে, লামিন ইয়ামাল ও নিকি নিকোলের মধ্যে সম্পর্কের শুরু হয়েছে।’

তার দাবি, জন্মদিনের পার্টিতে দুজনের মধ্যে প্রচুর ফ্লার্টিং হয়েছে। তবে ইয়ামালের জন্মদিনের ১১ দিন পর এই ঘটনা অন্য দিকে মোড় নেয়। সেই রাতে দুজনকে একসঙ্গে একটি জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত ক্লাবে দেখা যায়। পরে রাত ৪টার দিকে ক্লাব থেকে একসঙ্গে বের হয়ে যেতে দেখা গেছে ইয়ামাল ও নিকিকে। ওই রাতে তাদের মধ্যে চুম্বনের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন হোয়োস।

বিখ্যাত সংগীতশিল্পী ফেদের সঙ্গে প্রেমের কারণে আগেও আলোচনায় ছিলেন নিকি নিকোল। অন্যদিকে, মাত্র ১৮ বছর বয়সেই বার্সেলোনার জার্সিতে নম্বর ১০ পাওয়া ইয়ামাল এখন স্প্যানিশ ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত তরুণ প্রতিভা।

পুরনো নয়, নতুন বাংলাদেশ গড়তে চান তারেক রহমান: পুতুল

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পুরনো বাংলাদেশে ফিরে যেতে চান না, বরং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চান বলে জানিয়েছেন দলের মিডিয়া সেলের সদস্য ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। তিনি বলেছেন, দেশকে এগিয়ে নিতে দলের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকেলে নাটোরের লালপুর উপজেলা বিএনপির বিজয় র‍্যালি শেষে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।

পুতুল জানান, দলের নির্দেশ মেনে চলা কর্মীদের দায়িত্ব এবং দল কোনো ব্যক্তির জন্য নয়। দলের সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

ফারজানা শারমিন পুতুল আরও বলেন, “ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়তে যুব সমাজের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।” তিনি তারেক রহমানের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, তারেক রহমান এমন যুব সমাজকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, যারা দেশ ও রাষ্ট্রের জন্য সম্পদে পরিণত হবে। তিনি অভিভাবকদের প্রতি সন্তানদের প্রতি নজর রাখার আহ্বান জানান, যাতে তারা দেশ ও পরিবারের জন্য সম্পদে পরিণত হতে পারে।

অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন, লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হারুন উর রশীদ পাপ্পু, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান বাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল আলম লুলুসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ফেসবুকে বিএনপির সমাবেশ নিয়ে স্ট্যাটাস, পদ হারালেন ছাত্রদল নেতা

বিএনপির একটি সমাবেশকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করায় জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক অমিত হাসান রবিনকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাতে ছাত্রদলের জামালপুর সদর উপজেলা পূর্ব শাখার পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মো. রবিন হাসানকে (অমিত হাসান রবিন) সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। জামালপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আতিকুর রহমান সুমিল সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, মঙ্গলবার সদর উপজেলার নান্দিনা বাজারে বিএনপির ৫ আগস্টের বিজয় মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। এসময় অমিত হাসান রবিন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সমাবেশ এবং যানজট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি পোস্ট দেন। তিনি লেখেন, “এটা সমাবেশ নাকি সাধারণ জনগণের ভোগান্তি?” তিনি তার পোস্টে যানজটে আটকে থাকা গণপরিবহনের কয়েকটি ছবিও যুক্ত করেন।

এ বিষয়ে জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিউর রহমান শফি বলেন, “মিছিল-সমাবেশের কারণে কোনো ভোগান্তি হয়নি। ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা অন্য গ্রুপের হওয়ায় এমন পোস্ট করেছে। তার দাবি অযৌক্তিক।”

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আতিকুর রহমান সুমিল জানান, অমিত হাসান রবিন তার পোস্টে নিজ দল সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। এটি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল হওয়ায় তাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অমিত হাসান রবিনের মন্তব্য জানার জন্য যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

গাজা দখল ইসরায়েলের ওপর নির্ভর করছে’: ট্রাম্প

গাজা দখল করা হবে কি না, তা ইসরায়েলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গাজা দখলের কোনো পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে না। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এমন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আপাতত যুক্তরাষ্ট্র গাজার মানুষের খাবারের ব্যবস্থার দিকেই বেশি নজর দিচ্ছে এবং এর বাইরে সবকিছু ইসরায়েলের ওপর নির্ভর করছে।

ট্রাম্প জানান, এই কাজে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে খাদ্য বিতরণ ও অর্থ দিয়ে সহায়তা করবে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল এরই মধ্যে ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’-এ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটি এখনো সে অর্থ সহায়তার কথা স্বীকার করেনি। কারণ, এমন পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয় নাও হতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেন, “আরব রাষ্ট্রগুলোও আমাদের সহায়তা করবে—অর্থ এবং সম্ভবত বিতরণ ব্যবস্থাতেও।” আট দিন আগে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র গাজায় নতুন খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র স্থাপন করবে। হোয়াইট হাউজ থেকেও তখন বলা হয়েছিল, গাজায় ত্রাণ বিতরণের একটি নতুন পরিকল্পনা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। তবে এখনো সে পরিকল্পনার বাস্তব রূপ দেখা যায়নি।

বর্তমানে গাজায় জোর করে বাস্তুচ্যুতির আদেশ দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে উপত্যকাটি ছোট ছোট এলাকায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। গাজার ৮৬ শতাংশ ভূখণ্ড এখন সামরিক নিয়ন্ত্রিত এলাকায় পরিণত হয়েছে। বাকি অংশে সামরিক অভিযান আরও বাড়ানো হলে নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের জীবন আরও বিপদের মুখে পড়তে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলকে ব্যাপকহারে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।

ভারতের উত্তরাখণ্ডে ভয়াবহ বন্যায় নিহত ৪, নিখোঁজ ৫০

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের উত্তরকাশী জেলার ধারালি গ্রামে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় ৫০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রবল বর্ষণের ফলে খির গঙ্গা নদীর উজানে এই ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়, যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

উত্তরকাশীর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রশান্ত আর্য চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান, আকস্মিক বন্যার এক বিশাল ঢেউ এলাকাটি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। বর্তমানে জীবন ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য সেনাবাহিনী, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী এবং রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।

সিলেট থেকে ছেড়ে আসা বিশেষ ট্রেনে ছিল ৬০ যাত্রী

জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ অনুষ্ঠান উপলক্ষে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বিশেষ ট্রেনে যাত্রী ছিলেন ৫০ থেকে ৬০ জন। এ ছাড়া কয়েকজন পুলিশ সদস্যও ট্রেনে ছিলেন।

মঙ্গলবার (৫ অগস্ট) সকাল পৌনে ৬টার দিকে ৫৪৮ আসনের ট্রেনটি সিলেট স্টেশন ছেড়ে যায়। পরে দুপুর ১টার দিকে ট্রেনটি ঢাকা পৌঁছে।

সিলেট রেলস্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিলেট স্টেশন ছাড়ার সময় ট্রেনটির বিভিন্ন বগিতে ৫০ থেকে ৬০ যাত্রী ছিলেন। এর বাইরে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও ছিলেন। সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়ার পর ট্রেনটির মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ তিনটি স্টেশনে যাত্রী উঠানোর কথা। ওই ট্রেনটি যাত্রীদের নিয়ে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে ঢাকার কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছেছে। পরে রাত ৯টার দিকে আবার বিশেষ ট্রেনটি কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে রাত সাড়ে ৪টার দিকে সিলেট স্টেশনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

জুলাই ঘোষণাপত্রে কী আছে, জেনে নিন বিস্তারিত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ‘৩৬ জুলাই উদযাপন’ অনুষ্ঠানে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেছেন। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদানের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পাঠ করা এই ঘোষণাপত্রে ২৮টি দফার মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে। পাঠকের জন্য ঘোষণাপত্রের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

জুলাই ঘোষণাপত্র

১। যেহেতু উপনিবেশ বিরোধী লড়াইয়ের সুদীর্ঘকালের ধারাবাহিকতায় এই ভূখণ্ডের মানুষ দীর্ঘ ২৩ বছর পাকিস্তানের স্বৈরশাসকদের বঞ্চনা ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল এবং নির্বিচার গণহত্যার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করে জাতীয় মুক্তির লক্ষ্যে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল।

২। যেহেতু, বাংলাদেশের আপামর জনগণ দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই ভূখণ্ডে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বিবৃত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে।

৩। যেহেতু স্বাধীন বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন পদ্ধতি, এর কাঠামোগত দুর্বলতা ও অপপ্রয়োগের ফলে স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধের জন আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল এবং গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করেছিল।

৪। যেহেতু স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীনতার মূলমন্ত্র গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিপরীতে বাকশালের নামে সাংবিধানিকভাবে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করে এবং মতপ্রকাশ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করে, যার প্রতিক্রিয়ায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশে সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং পরবর্তী সময়ে একদলীয় বাকশাল পদ্ধতির পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রবর্তনের পথ সুগম হয়।

৫। যেহেতু আশির দশকে সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় বছর ছাত্র-জনতার অবিরাম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং ১৯৯১ ইং সনে পুনরায় সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।

৬। যেহেতু দেশি-বিদেশি চক্রান্তে সরকার পরিবর্তনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় ১ / ১১-এর ষড়যন্ত্রমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার একচ্ছত্র ক্ষমতা, আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করা হয়।

৭। যেহেতু গত দীর্ঘ ষোলো বছরের ফ্যাসিবাদী, অগণতান্ত্রিক এবং গণবিরোধী শাসনব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে এবং একদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অতি উগ্র বাসনা চরিতার্থ করার অভিপ্রায়ে সংবিধানের অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক পরিবর্তন করা হয় এবং যার ফলে একদলীয় একচ্ছত্র ক্ষমতা ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

৮। যেহেতু শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসন, গুম-খুন, আইন-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এবং একদলীয় স্বার্থে সংবিধান সংশোধন ও পরিবর্তন বাংলাদেশের সকল রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে ধ্বংস করে।

৯। যেহেতু, হাসিনা সরকারের আমলে তারই নেতৃত্বে একটি চরম গণবিরোধী, একনায়কতান্ত্রিক, ও মানবাধিকার হরণকারী শক্তি বাংলাদেশকে একটি ফ্যাসিবাদী, মাফিয়া এবং ব্যর্থ রাষ্ট্রের রূপ দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।

১০। যেহেতু, তথাকথিত উন্নয়নের নামে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী নেতৃত্বে সীমাহীন দুর্নীতি, ব্যাংক লুট, অর্থ পাচার ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের মধ্য দিয়ে বিগত পতিত দুর্নীতিবাজ আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশ ও এর অমিত অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বিপর্যস্ত করে তোলে এবং এর পরিবেশ, প্রাণবৈচিত্র্য ও জলবায়ুকে বিপন্ন করে।

১১। যেহেতু শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল, ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনসহ সমাজের সর্বস্তরের জনগণ গত প্রায় ষোলো বছর যাবৎ নিরন্তর গণতান্ত্রিক সংগ্রাম করে জেল-জুলুম, হামলা-মামলা, গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।

১২। যেহেতু বাংলাদেশে বিদেশি রাষ্ট্রের অন্যায় প্রভুত্ব, শোষণ ও খবরদারিত্বের বিরুদ্ধে এ দেশের মানুষের ন্যায়সংগত আন্দোলনকে বহিঃশক্তির তাঁবেদার আওয়ামী লীগ সরকার নিষ্ঠুর শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে দমন করে।

১৩। যেহেতু অবৈধভাবে ক্ষমতা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগ সরকার তিনটি প্রহসনের নির্বাচনে (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচন) এ দেশের মানুষকে ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত করে।

১৪। যেহেতু, আওয়ামী লীগ আমলে ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, শিক্ষার্থী ও তরুণদের নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করা হয় এবং সরকারি চাকরিতে একচেটিয়া দলীয় নিয়োগ ও কোটাভিত্তিক বৈষম্যের কারণে ছাত্র, চাকরি প্রত্যাশী ও নাগরিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের জন্ম হয়।

১৫। যেহেতু বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের ওপর চরম নিপীড়নের ফলে দীর্ঘদিন ধরে জনরোষের সৃষ্টি হয় এবং জনগণ সকল বৈধ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই চালিয়ে যায়।

১৬। যেহেতু, সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থার বিলোপ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক ব্যাপক দমন-পীড়ন, বর্বর অত্যাচার ও মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, যার ফলে সারা দেশে দল-মত নির্বিশেষে ছাত্র-জনতার উত্তাল গণবিক্ষোভ গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।

১৭। যেহেতু ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে অদম্য ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দল, ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, শ্রমিক সংগঠনসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষ যোগদান করে এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদী বাহিনী রাজপথে নারী-শিশুসহ প্রায় এক হাজার মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে, অগণিত মানুষ পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্ব বরণ করে এবং আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে সামরিক বাহিনীর সদস্যগণ জনগণের গণতান্ত্রিক লড়াইকে সমর্থন প্রদান করে।

১৮। যেহেতু, অবৈধ শেখ হাসিনা সরকারের পতন, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের লক্ষ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে জনগণ অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে, পরবর্তী সময়ে ৫ আগস্ট ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ পরিচালনা করে এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনরত সকল রাজনৈতিক দল, ছাত্র-জনতা তথা সর্বস্তরের সকল শ্রেণি, পেশার আপামর জনসাধারণের তীব্র আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে গণভবনমুখী জনতার উত্তাল যাত্রার মুখে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

১৯। যেহেতু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলায় গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ব্যক্ত জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রত্যয় ও প্রয়োগ রাজনৈতিক ও আইনি উভয় দিক থেকে যুক্তিসংগত, বৈধ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।

২০। যেহেতু জনগণের দাবি অনুযায়ী এরপর অবৈধ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয়া হয় এবং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের মতামতের আলোকে সাংবিধানিকভাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়।

২১। যেহেতু, বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণের ফ্যাসিবাদবিরোধী তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ, বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণের অভিপ্রায় প্রকাশিত হয়।

২২। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ সুশাসন ও সুষ্ঠু নির্বাচন, ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ, আইনের শাসন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বিদ্যমান সংবিধান ও সকল রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক সংস্কার সাধনের অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

২৩। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ বিগত ষোলো বছরের দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম কালে এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালীন সময়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক সংঘটিত গুম-খুন, হত্যা, গণহত্যা, মানবতা বিরোধী অপরাধ ও সকল ধরনের নির্যাতন, নিপীড়ন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুণ্ঠনের অপরাধসমূহের দ্রুত উপযুক্ত বিচারের দৃঢ় অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

২৪। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

২৫। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ যুক্তিসংগত সময়ে আয়োজিতব্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে প্রতিশ্রুত প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রত্যাশা, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি, শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

২৬। সেহেতু বাংলাদেশের জনগণ এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছে যে একটি পরিবেশ ও জলবায়ু সহিষ্ণু অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন কৌশলের মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার সংরক্ষিত হবে।

২৭। বাংলাদেশের জনগণ এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে যে, ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।

২৮। ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানে বিজয়ী বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে এই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা হলো।