Home Blog Page 35

রায়গঞ্জে বজ্রপাতে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে রিয়াদ (১১) নামে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের বৈকুণ্ঠপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রিয়াদ বৈকুণ্ঠপুর গ্রামের সাইদুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্থানীয় বৈকুণ্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, সকালে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে মাছ ধরছিল রিয়াদ। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে হঠাৎ বজ্রপাত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্বজনরা মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।

রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান বলেন, বজ্রপাতে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিয়েছে।

নতুন মার্কিন হামলায় ইরানে নিহত ১৪ কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনে হামলা তেহরানের

বুধবার থেকে শুরু হওয়া মার্কিন হামলায় ইরানের পাঁচটি প্রদেশে এ পর্যন্ত ১৪ জন নিহত ও ৭৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, মার্কিন এই আগ্রাসনের কড়া জবাব দিতে কুয়েত, কাতার এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে বিপুল সংখ্যক ড্রোন দিয়ে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বুধবার থেকে শুরু হওয়া মার্কিন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশের পাঁচটি প্রদেশ জুড়ে অন্তত ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন।

ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা কুয়েতে একটি মার্কিন প্যাট্রিয়ট মিসাইল (ক্ষেপণাস্ত্র) সিস্টেম, কাতারে একটি আর্লি ওয়ার্নিং স্যাটেলাইট অ্যান্টেনা সাইট (আগাম সতর্কতামূলক উপগ্রহ অ্যান্টেনার স্থান) এবং বাহরাইনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মালিকানাধীন জ্বালানি ট্যাংক লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছে। এই আক্রমণগুলোতে বিপুল সংখ্যক বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে তেহরান।

এক বিবৃতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন প্রশাসনের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। তারা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘বোকা প্রেসিডেন্ট’-এর লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা কোনো অবস্থাতেই পূরণ হতে দেওয়া হবে না এবং চূড়ান্ত বিজয় না হওয়া পর্যন্ত ইসলামি বিপ্লবের সুমহান আদর্শ রক্ষা করা হবে।

দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৩২৩ টাকা কমেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। এর আগে এ স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে। রুপার অলংকারের ভ্যাট বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৮৫৮ টাকা।

এডিবির পূর্বাভাস চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪.৫ শতাংশ, তবে থাকবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি

বাংলাদেশের অর্থনীতি চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তবে সেই পুনরুদ্ধারের গতি হবে ধীর। আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪.৫ শতাংশ। যদিও এটি চলতি অর্থবছরের সম্ভাব্য ৩.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় বেশি, তবু অতীতের তুলনায় অনেক কম।

প্রতিবেদনে এডিবি বলেছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল রপ্তানি, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, জ্বালানি সংকট এবং প্রতিকূল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবেশের কারণে গেল অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কম ছিল। তবে চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমা, ব্যবসা পরিচালনার নিয়মকানুন সহজ করা, সুশাসনের উন্নতি, কর প্রশাসনে সংস্কার এবং প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এডিবি সতর্ক করে বলেছে, প্রবৃদ্ধির গতি খুব দ্রুত বাড়বে না। কারণ ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার ঘাটতি এখনও বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

হালনাগাদ প্রতিবেদনে এডিবি আগামী অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪.৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখলেও মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে। এপ্রিলে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের মূল্যস্ফীতি ৮.৫ শতাংশ হবে বলে ধারণা করা হলেও, সর্বশেষ প্রতিবেদনে তা বাড়িয়ে ৮.৮ শতাংশ করা হয়েছে।

এডিবির মতে, জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাব, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, বিনিময় হারজনিত চাপ এবং খাদ্য ও সেবা খাতে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় ধীরে কমবে।

এডিবির বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আকিরা মাতসুবাগা বলেন, কঠিন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির মধ্যেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সেবা খাতের স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সহায়তা করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, আর্থিক খাতের সুশাসন এবং জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে সংস্কার জরুরি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হলে জ্বালানির দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যেতে পারে, যা মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক লেনদেনের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করবে। একইসঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন শুল্ক বা বিধিনিষেধ, প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোর অর্থনৈতিক ধীরগতি, বৈদেশিক অর্থায়নের কঠোর পরিবেশ এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকিও বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকতে পারে।

সংস্কার নিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে বিএনপি

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে বিএনপি নেতারা অন্তহীন প্রতারণার দলিল বলায় সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপিই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। গণভোটের চারটি প্রশ্ন জনগণ বুঝবে না– এমন দাবি করা হলে বিএনপির ৩১ দফাও জনগণ বোঝেনি বলেই ধরে নিতে হয়। এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে জনগণকে মূর্খ বলা হয়েছে।
গণভোটের ফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে গতকাল বুধবার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের সেমিনারে এসব কথা বলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা।

এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল ড. (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে সেমিনারে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘নতুন হোক বা পুরোনো–কোনো ফ্যাসিবাদই আমরা মেনে নেব না।  গণভোটের রায়ের অবমাননা সহ্য করব না, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সেই রায় বাস্তবায়নের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।’

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। বক্তৃতা করেন মানবাধিকার কর্মী রুবি আমাতুল্লাহ, সাবেক রাষ্ট্রদূত সাকিব আলী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির, জুলাই শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, আহত জুলাই যোদ্ধা কামরুল আহসান প্রমুখ।

জুলাই যোদ্ধাদের অবমাননা না করার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলের নেতা বলেন, ‘কেউ শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করে জুলাইকে অপমানের চেষ্টা করলে জনগণই তার জবাব দেবে। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না।’

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ১১ দলকে ‘হারানোর ষড়যন্ত্রে’ অন্তর্বর্তী সরকার জড়িত ছিল অভিযোগ করে জামায়াত আমির বলেছেন, যাদের পরিচয় ছিল দল নিরপেক্ষ, তারাও এই ষড়যন্ত্রে শরিক ছিল। নির্বাচনের রায় আমরা মেনে নিয়েছিলাম। কারণ ফলাফল প্রত্যাখ্যান করলে, দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে এর শেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াতো কেউ জানে না। ১১ দল দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংস্কারের প্রশ্নে অবস্থান স্পষ্ট। মৌলিক পরিবর্তন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা মেনে নেওয়া হবে না।
প্রধনামন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে  কর্নেল অলি বলেন, আপনার সরকার এ পর্যন্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যেগুলোর প্রতি আমরা সমর্থন জানিয়েছি। ভারতীয় গণমাধ্যমে এ নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে। চারদিকে শত্রু পরিবেষ্টিত অবস্থায় রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব নয়। আমরা যদি আপনার সমালোচনা করি, তা প্রকাশ্যেই করি। কিন্তু আপনার আশপাশে এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছেন, যারা প্রকাশ্যে নয়, গোপনে আপনার এবং দেশের ক্ষতি করছেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, বিএনপি জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে মূল রাজনৈতিক ধারার বাইরে ঠেলে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে। অতীতে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে ছিলাম। কিন্তু আন্দোলনের পর ক্ষমতায় গিয়ে বিএনপি অনেক প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বারবার আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এবার তাই তাদের ওপর নির্ভর নয়, নিজস্ব রাজনৈতিক বিকল্প গড়ে তুলছি।
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি ৩১ দফায় জনগণকে আশ্বস্ত করেছিল, তারা শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্র ব্যবস্থারও মৌলিক সংস্কার চায়। কিন্তু মুখে তারা সংস্কারের কথা বললেও বাস্তবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের বিরোধিতা করেছে।

সংবিধানে ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায় আপিলেও বহাল

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোট ফিরল বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার আপিল নিষ্পত্তি করে সংক্ষিপ্ত এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে যে আপিল করা হয়েছিল, সে আপিলগুলো ডিসমিস করে দিয়েছেন (আপিল বিভাগ)। অর্থাৎ হাইকোর্টের রায়টি বহাল থাকল।’

২০১১ সালের ৩০ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন সংসদে পাস হয়। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ ওই সংশোধনীতে সংবিধানে ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছিল।

২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর এই সংশোধনী বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি। চুড়ান্ত শুনানি শেষে ওই বছর  ১৭ ডিসেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ বাতিল ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয় হাই কোর্টের রায়ে। পরে ৩ নভেম্বর ওই রায় পুরো বাতিল চেয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন রিট মামলার বাদীপক্ষ সুজন সম্পাদকসহ চার বিশিষ্ট ব্যক্তি। টানা তিন দিন তিনটি আপিলের উপর যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয় গতকাল বুধবার।

বগুড়ায় হবে সামরিক ড্রোন কারখানা: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

বিমান বাহিনীর জন্য অস্ত্র ও সরঞ্জাম সংযোজনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে সরকারপ্রধান জানান, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে। জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসনের প্রশ্নে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে।

নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

জামালপুর-৩ আসনের বিএনপির এমপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মূল লক্ষ্য হলো প্রকৃত বিনিয়োগ, বাস্তবায়ন অগ্রগতি এবং বিনিয়োগ রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দেওয়া। বিনিয়োগ প্রস্তাব গ্রহণ, যাচাই-বাছাই ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, সমন্বিত ও স্বচ্ছ করতে বাংলাবিজ প্ল্যাটফর্ম চালু করেছি।

মিয়ানমারের সবপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাস্তুচ্যূত রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে মিয়ানমারের সরকারের পাশাপাশি সকল পক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ স্থাপন ও আলোচনার বিষয় সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ-১ আসনের বিএনপির এমপি সেলিম রেজার প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অত্যন্ত জটিল, সংবেদনশীল এবং বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক বিষয়। এর সমাধানের গতিপ্রকৃতি অনেকাংশেই নির্ভর করে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক চাপ এবং সর্বোপরি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের ওপর। রাখাইন রাজ্যে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির মধ্যে একটি কার্যকর সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্যে আমরা সংশ্লিষ্ট দেশসমূহের সঙ্গে সংলাপ জোরদার করেছি। রোহিঙ্গাদের স্থায়ী নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।

টাঙ্গাইল-৬ আসনের এমপি রবিউল আওয়ালের প্রশ্নে সংসদ নেতা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে ইতিমধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার খোলার উদ্যোগসহ থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানে বাজার সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। থাইল্যান্ডে কর্মী নিয়োগে চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া পাঠানো হয়েছে।

শেয়ারবাজারের পতনের কারণ অনুসন্ধান
পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগের আমলে দেশে শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতনের কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় বিশেষজ্ঞ, বিনিয়োগকারী সংগঠন এবং বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ধারাবাহিক পতন ঘটিয়ে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীদের নিঃস্ব করার জন্য দায়ীদের চিহিৃত করাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের পরিকল্পনা আছে। ইতিমধ্যে দুদক অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা রয়েছে। কিছু ব্যক্তিকে চিহিৃত করে মামলাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেয়ার মার্কেট কারসাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অর্থ দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম ও ঢাকা পুঁজিবাজারের বৈষম্য দূর করা হবে কিনা প্রশ্নে সংসদ নেতা বলেন, কয়েকজন বিশেষজ্ঞকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের পরামর্শে ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকেও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিমা কোম্পানির প্রতারণার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ রয়েছে। সেখানে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যেসব অভিযোগ এসেছে, সেগুলো তদন্ত করা হচ্ছে।

এই দল কখনো হার মানে না: মেসি

ম্যাচের ৬৭ মিনিটে যখন ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা, তখন যেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায়ের ঘণ্টা বেজে উঠেছিল। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করেছেন লিওনেল মেসি, অন্যদিকে মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইরের একের পর এক দুর্দান্ত সেভে বারবার ব্যর্থ হচ্ছিল আলবিসেলেস্তেরা। কিন্তু এত প্রতিকূলতার মধ্যেও বিশ্বাস হারায়নি লিওনেল স্কালোনির দল। শেষ ১৩ মিনিটে তিন গোল করে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।

নাটকীয় এই জয়ের পর অধিনায়ক লিওনেল মেসিও তুলে ধরলেন দলের অদম্য মানসিকতার কথা। তিনি বলেন, ‘এটাই বিশ্বকাপ, আর এখানে প্রতিটি ম্যাচই একই রকম কঠিন। আমি খুবই আনন্দিত। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে এভাবে ম্যাচে ফিরে এসে জেতা মোটেও সহজ নয়। কিন্তু আমি সব সময়ই বলে এসেছি, এই দল কখনো হার মানে না। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা লড়াই করে যাই। আমরা ভাগ্যবান ছিলাম, কারণ রোমেরোর গোলটা দ্রুতই পেয়েছিলাম। এতে ম্যাচে ফিরে আসার জন্য আমাদের যথেষ্ট সময় ছিল।’

ম্যাচটি মেসির জন্য ছিল আবেগের রোলার-কোস্টার। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করে দলকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছিলেন তিনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে সেই হতাশা ঝেড়ে ফেলেন নিজের চেনা জাদুতেই। ৭৯ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর গোলে অ্যাসিস্ট করেন মেসি। চার মিনিট পর, ৮৩তম মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর থেকে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে নিজেই গোল করে ম্যাচে ২-২ সমতা ফেরান আর্জেন্টিনা।

এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলে নিশ্চিত হয় ৩–২ ব্যবধানের অবিশ্বাস্য জয়। কয়েক মিনিট আগেও যে দলটি বিদায়ের মুখে দাঁড়িয়ে ছিল, তারাই মুহূর্তের ব্যবধানে জায়গা করে নেয় কোয়ার্টার ফাইনালে।

ম্যাচ শেষে গ্যালারি ভরিয়ে দেওয়া আর্জেন্টাইন সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মেসি। তিনি বলেন, ‘আজ এই দল মাঠে যা করেছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। পুরো ম্যাচজুড়ে সমর্থকেরা আমাদের যেভাবে উৎসাহ দিয়েছে, তা আমাদের শক্তি জুগিয়েছে। মানুষ আমাদের খেলা উপভোগ করছে, দলের পাশে আছে। এটা আমাকে ভীষণ আনন্দ দেয়।’

অবিশ্বাস্য এই প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল আর্জেন্টিনা।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় চবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়েছে, ‘দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, জলাবদ্ধতা ও পরিবহনসংকটের প্রেক্ষাপটে আজ বুধবারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।’

কযেক দিনের টানা বর্ষণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও পরিবহনসংকট সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।

চট্টগ্রামে গত ৪২ বছরের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হয়েছে। সোমবার বিকেল ৩টা থেকে মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নগরীতে ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। ১৯৮৪ সালের পর এটিই একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালে একই সময়ে ২৪ ঘণ্টায় ৫১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল, যা এখনো সর্বোচ্চ। তবে চলমান ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় সেই রেকর্ডও ভাঙতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়া কর্মকর্তা সুমন সাহা বলেন, নিম্নচাপের প্রভাবে অতীতেও টানা বৃষ্টিপাত হয়েছে, তবে এবারের মত এত বৃষ্টিপাত আগে হয়নি। তিনি জানান, ২০২১ সালের ২৮ জুলাই ২৪ ঘণ্টায় ১৪৯ মিলিমিটার, ২০১৫ সালের ২৫ জুলাই ২৯৯ মিলিমিটার, ২০১২ সালের ১২ জুলাই ১৮৪ মিলিমিটার এবং ২০০৮ সালের ১৩ জুলাই ১৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। এবার সেই সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এ অবস্থায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলায় আজ বুধবারের নির্ধারিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে মঙ্গলবার গভীর রাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সকল জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড (সকল জেলা) এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আগামী বুধবারের এইচএসসি/আলিম/এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা স্থগিত করা হলো।

এদিকে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। রেলপথের জানআলীহাট ও ষোলোশহর স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশে রেললাইন প্রায় দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বিমান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

বিরূপ আবহাওয়ার কারণে মঙ্গলবার ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটিও চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে আর যাত্রা করতে পারেনি। পরে ট্রেনটি যাত্রা বাতিল করে পুনরায় ঢাকায় ফিরে যায়।

দেশের ১৯ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

দেশের ১৯টি অঞ্চলের নদীবন্দরকে ১ নম্বর (পুনঃ) ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, খুলনা, যশোর, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলে এ পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে। মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলারসহ অভ্যন্তরীণ নৌযানগুলোকে সতর্কতার সাথে চলাচল করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।