Home Blog Page 363

গ্লোবাল সুপার লিগে দল পেলেন সাকিব আল হাসান

২০২৫ গ্লোবাল সুপার লিগে (জিএসএল) অবশেষে দল পেলেন সাকিব আল হাসান। রংপুর রাইডার্স তাকে নিতে না পারলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের এই তারকা অলরাউন্ডারকে দলে নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজি দুবাই ক্যাপিটালস। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএল টি-টোয়েন্টির গত আসরে শিরোপা জিতেছিল দুবাই।

ফ্র্যাঞ্চাইজিটি নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সাকিবের একটি ছবি পোস্ট করে তাকে দলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘কিংবদন্তি অলরাউন্ডার আমাদের জিএসএল দলে যোগ দিচ্ছেন। কেশব মহারাজের বদলে তিনি দলে আসছেন। দলে স্বাগতম, সাকিব।’

৩৮ বছর বয়সী অলরাউন্ডারের দল দুবাই বৃহস্পতিবার উদ্বোধনী ম্যাচেই নিউজিল্যান্ডের দল সেন্ট্রাল স্ট্র্যাগসের মুখোমুখি হবে। সাবেক দল রংপুরের সঙ্গে সাকিবের ম্যাচ আগামী ১৬ জুলাই। এর আগে ১১ ও ১৪ জুলাই সাকিবের দল খেলবে যথাক্রমে হোবার্ট হারিকেনস, গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে। পাঁচ দলের প্রত্যেকে একে অন্যের সঙ্গে একবার করে লড়বে লিগ পর্বে। শীর্ষে থাকা দুটি দল ফাইনাল খেলবে ১৮ জুলাই।

চতুর্থবারের মতো বাবা হলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার

মাঠে এখনও ইনজুরির সঙ্গে লড়ছেন নেইমার। তবে ব্যক্তিজীবনে পেলেন একরাশ খুশির খবর। চতুর্থবারের মতো বাবা হয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। শনিবার (৫ জুলাই) সকালে প্রেমিকা ব্রুনা বিয়ানকার্দির কোলে এসেছে নেইমার-ব্রুনার দ্বিতীয় সন্তান, এক কন্যাসন্তান। নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে ‘মেল’।

ইনস্টাগ্রামে মেয়েকে কোলে নিয়ে একটি আবেগঘন ছবি শেয়ার করেছেন ব্রুনা। ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আমাদের মেল এসেছে জীবনকে আরও মিষ্টিময় করতে। স্বাগতম, ছোট্ট রাজকন্যা। ঈশ্বর যেন তোমাকে আশীর্বাদ ও নিরাপত্তায় রাখেন। আমরা তোমার সঙ্গে নতুন এই অধ্যায় শুরু করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আমরা তোমাকে ভালোবাসি!’

নেইমারের এটি চতুর্থ সন্তান। ২০১১ সালে তার প্রথম সন্তান ডেভিড লুকা জন্ম নেয় সাবেক প্রেমিকা ক্যারোলিনা ডান্তাসের ঘরে। লুকা এখনো নেইমারের সঙ্গেই থাকেন। ২০২৩ সালে বর্তমান প্রেমিকা ব্রুনা বিয়ানকার্দির গর্ভে জন্ম নেয় প্রথম কন্যা মাভি। এরপর ২০২৪ সালে ইনফ্লুয়েন্সার অ্যামান্ডা কিম্বার্লির ঘরেও জন্ম নেয় নেইমারের আরেক কন্যাসন্তান-হেলেনা।

এখন পারিবারিক সময়েই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন নেইমার। নতুন অতিথি মেলকে ঘিরে উচ্ছ্বাসে ভাসছে পুরো পরিবার।

রাষ্ট্রযন্ত্র থেকে বেডরুম পর্যন্ত তাহলে ফেবুই নিয়ন্ত্রণ করে!’

স্বচ্ছতা ও পেশাদারির সঙ্গে চলচ্চিত্রের পাণ্ডুলিপি বাছাই কার্যক্রমের লক্ষ‍্যে ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অনুদান কমিটি’র সদস্য হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের ডাক পেয়েছিলেন অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম। কিন্তু নিয়মের বেড়াজালে কাজ করার সুযোগ ছিল না জানিয়ে কমিটি থেকে কিছুদিন আগে পদত্যাগ করেন এই অভিনেত্রী।

যদিও কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, ব্যক্তিগত ও পেশাগত কারণ। অভিনেত্রীর দাবি, ক্ষমতার কাছে যেহেতু ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া নেই, এ জন্য শুধু কাজই করতে চেয়েছিলেন তিনি; কিন্তু সেটি হয়নি।

অনুদান কমিটি থেকে পদত্যাগের পর আজ রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক স্ট্যাটাসে অভিনেত্রী দাবি করেন, ফেসবুকই কি এখন সবকিছুর মানদণ্ড কি না!

জাকিয়া বারী মম লেখেন, ‘রাষ্ট্রযন্ত্র থেকে বেডরুম পর্যন্ত তাহলে ফেবুই (ফেসবুকই) নিয়ন্ত্রণ করে! একটা অ্যাপ কী করে এত বড় হয়ে গেল!’

প্রসঙ্গত, গত ২৫ মে চলতি অর্থবছরের চলচ্চিত্র অনুদান কমিটি থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন জাকিয়া বারী মম। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে মঙ্গলবার (১ জুলাই) ৩২টি চলচ্চিত্রকে ১৩ কোটি টাকা অনুদান প্রদানের পর।

স্মৃতির পেয়ালা’ শিরোনামের গানে কণ্ঠ দিলেন হৈমন্তী শুক্লা

দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশি গীতিকার-সুরকারের গানে কণ্ঠ দিলেন ভারতের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী হৈমন্তী শুক্লা। ‘আমার বলার কিছু ছিল না’, ‘ওগো বৃষ্টি আমার চোখের পাতা’সহ অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন তিনি। ঢাকাই চলচ্চিত্রেও প্লেব্যাক করেছেন। নির্মাতা ফজল আহমেদ বেনাজীর পরিচালিত ‘প্রতিরোধ’ ছবিতে তাঁর গাওয়া ‘ডাকে পাখি খোলো আঁখি’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

এবার ‘স্মৃতির পেয়ালা’ শিরোনামের একটি গানে কণ্ঠ দিলেন হৈমন্তী শুক্লা। গত ৪ এপ্রিল তিনি কলকাতার একটি স্টুডিওতে এ গানে কণ্ঠ দেন। গানটি লিখেছেন সুদীপ কুমার দীপ। সুর ও সংগীত করেছেন নাজির মাহমুদ।

নতুন গান প্রসঙ্গে এই বর্ষীয়ান শিল্পী বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতি আমার অগাধ ভালোবাসা। চার বছর আগে শেষবার বাংলাদেশে গিয়েছিলাম। আরেকবার যেতে চাই। এ গানের কথা ও সুর আমাকে মুগ্ধ করেছে। এখন তো আর নিয়মিত গাইতে পারি না। তবে প্রযোজক পলাশ দেবনাথের পাঠানো গানটির ডেমো শুনেই ভালো লাগল। অনেক দিন এমন কথা ও সুর পাইনি। তাই পলাশকে বললাম রেকর্ড করে নিতে। ভিডিওতে আমিও থাকব।’

আমরা গণভবন জয় করেছি, জাতীয় সংসদকেও জয় করব: নাহিদ

জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘৫ আগস্ট আমাদের লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদের পতন। এবার আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের পুনর্গঠন।’ তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট লক্ষ্য ছিল গণভবন। এবার আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে জাতীয় সংসদ।

আমরা গণভবন জয় করেছি। এবার জাতীয় সংসদকেও আমরা জয় করব। সামনের নির্বাচনে তরুণদের বিজয় উদ্‌যাপন হবে। কিন্তু তার আগে অবশ্যই সংস্কারের সুরাহা, বিচারের সুরাহা হতে হবে।’

রবিবার রাত সোয়া আটটার দিকে রাজশাহী নগরের সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে এক পথসভায় নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘খুনি হাসিনার বিচার আমরা দেখতে চাই। সংস্কার দেখতে চাই। নতুন সংবিধান দেখতে চাই।

এই প্রজন্ম বাংলাদেশের জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে একটি নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধান।’

পথসভায় নাহিদ বলেন, ‘আমরা রাজপথে নেমেছিলাম অনেক স্বপ্ন নিয়ে। আমার ভাই আবু সাঈদ পুলিশের বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছিল। অনেক স্বপ্ন নিয়ে রাজশাহীর ভাইয়েরা শহীদ হয়েছিলেন। আমাদের স্বপ্ন কেবল শেখ হাসিনার পতন ছিল না। ছিল সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের পুনর্গঠন।’

তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর নানা শক্তির ষড়যন্ত্রের কারণে সংস্কারের পথ রুদ্ধ হয়েছে। আমরা স্বীকার করছি, আমাদের ভুল হয়েছিল। আমাদের সীমাবদ্ধতা ছিল। কিন্তু আজকে আমরা শপথবদ্ধ, এই ভুল আমরা আর করব না। আমরা আর সুযোগ দেব না। স্বৈরতন্ত্রের, পরিবারতন্ত্রের অবসান ঘটাতে হবে। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নতুন রাজনীতি ও নতুন বন্দোবস্ত গড়ে তুলব।’

দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য দেন সদস্যসচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনীম জারা, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক ইমরান ইমন, রাজশাহী মহানগরের প্রধান সমন্বয়কারী মো. মোবাশ্বের আলী। পথসভা শেষে রাজশাহী নগরের গণকপাড়া এলাকায় দলটির মহানগরের কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়।

শিবির নয়, লাল ব্যাজ ধারণের প্রস্তাব দিয়েছিল ছাত্রদলের নাছির

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ২৯ জুলাই লাল ব্যাজ ধারণ করার প্রথম প্রস্তাব দিয়েছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।

রবিবার (৬ জুলাই) বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তৎকালীন সমন্বয় ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের তার ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছেন।

আব্দুল কাদের তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “২৯ জুলাই সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় শোক দিবস পালন এবং কালো ব্যাজ ধারণের ঘোষণা দেওয়ার পর ওইদিন বিকেলে ছাত্রদলের নাছির ভাইয়ের সঙ্গে আমার কথা হয়। তখন নাছির ভাই রাষ্ট্রীয় কালো ব্যাজের বিপরীতে লাল ব্যাজ ধারণের প্রস্তাব দেন। রাকিব (ছাত্রদলের সভাপতি)  ও নাছির ভাইয়ের সঙ্গে এই বিষয়ে আমাদের একাধিকবার কথা হয়।”

তিনি লিখেন, “পরে আমি সাদিক কায়েম (শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা) ভাইকে ফোন দিয়ে বিষয়টা জানাই। তিনি বললেন, ‘আলোচনা করে আমাকে জানাচ্ছেন।’ কিছুক্ষণ পরে তিনি ফোন দিয়ে সম্মতি দেন।”

তিনি আরও লিখেন, “প্রতিদিন কর্মসূচি ফাইনাল করার আগে আমরা চারজন- আমি, মাসউদ, রিফাত, মাহিন আলোচনা করতাম। শিবির এবং ছাত্রদলের সঙ্গে অনেক সময় গ্রুপ কলে মিটিং করে কর্মসূচি ফাইনাল করতাম। তারই ধারাবাহিকতায় ঐদিনও আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করলাম। রিফাত বললো যে, ‘শোক দিবসের প্রতিবাদে আমরা কালো কাপড় চোখে মুখে বাঁধতে পারি’। আমি রিফাতকে নাসির ভাইয়ের আইডিয়ার কথা বললাম, লীগ যেহেতু কালো কাপড় দিছে, আমরা এইক্ষেত্রে লাল কাপড় বাঁধতে পারি। মাহিনও একই প্রস্তাব দিল।”

নাছির উদ্দীন নাছিরের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছিল জানিয়ে আব্দুল কাদের বলেন, “পরবর্তীতে সাদিক ভাই এবং নাছির ভাইয়ের সঙ্গে আলোচনা করে চোখেমুখে লাল কাপড় বাঁধার কর্মসূচি ফাইনাল করা হলো এবং ছবি তুলে প্রোফাইল পিকচার দেওয়ার আহবান জানানো হলো। যাদের কাছে লাল কাপড় নেই, তারা যেনো প্রোফাইল ‘লাল’ করে। ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে সেই সময়ে রিফাত রশিদ দেশবাসীর প্রতি এমন আহবান জানিয়েছিলেন। প্রোফাইল পিকচারের সঙ্গে বিভিন্ন হ্যাশট্যাগ জুড়ে দেওয়ার বিষয়ে সাদিক ভাই পরামর্শ দেন। পরামর্শের আলোকে তিনি কিছু হ্যাশট্যাগও দিয়ে দেন।”

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি এস এম ফরহাদ ভিন্ন দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, লাল ব্যাজ ধারণের প্রস্তাব প্রথম তিনি দেন। এক সাক্ষাৎকারে ফরহাদ বলেন, রাষ্ট্রীয় শোক ও কালো পতাকার পরিবর্তে লাল ব্যাজ ধারণের প্রস্তাব তিনি প্রথম শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তৎকালীন সভাপতি সাদিক কায়েমকে দেন এবং পরে তারা প্রেস বিজ্ঞপ্তি তৈরি করে আন্দোলনের সমন্বয়কদের পাঠান।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। অঙ্গরাজ্যের স্যান অ্যান্টোনিও শহরে তুমুল বৃষ্টির কারণে নদীর পানি বেড়ে হঠাৎ বন্যা হয়। এতে একটি খ্রিষ্টান গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প থেকে নিখোঁজ হয়েছেন দুই ডজনের বেশি শিশু। নিখোজ শিশুদের খুঁজছেন উদ্ধারকারীরা। খবর সিএনএন ও এএফপির

স্থানীয় সময় শুক্রবার অঙ্গরাজ্যের স্যান অ্যান্টোনিও শহরে প্রবল বর্ষণের ফলে সেখানকার গুয়াদালুপ নদীর পানি প্রায় নয় মিটার (২৯ ফুট) বেড়ে যায়। গ্রীষ্মকালীন ওই ক্যাম্পটি নদীর ধারেই ছিল। এতে ৭৫০ শিশু অবস্থান করছিল।

কার কাউন্টির পুলিশ কর্মকর্তা ল্যারি লেইথা শনিবার সাংবাদিকদের জানান, যারা বন্যায় মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ১৫ জনই শিশু। শনিবার সকালে বন্যার পানি সরে যেতে শুরু করলে ওই অঞ্চল থেকে প্রায় ৮৫০ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়। কার কাউন্টির কাছের শহর কারভিলের নগর ব্যবস্থাপক ডাল্ট‌ন রাইস জানিয়েছেন, ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী ২৭ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, কার কাউন্টিতে বন্যার জরুরি অবস্থা মূলত শেষ হয়ে এসেছে। তবে তারা আরও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দিয়েছে এবং বন্যা পর্যবেক্ষণ চালু আছে।

ডাল্ট‌ন রাইস বলেন, উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানে সহায়তার জন্য এক হাজারেরও বেশি উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে আছেন। এতে হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছু মানুষকে গাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সহায়তার জন্য মার্কিন কোস্টগার্ডের গার্ডের হেলিকপ্টারও এসেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার বন্যা মোকাবিলায় রাজ্য ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে একযোগে কাজ করছে।

আফগানদের ইরান ছাড়ার শেষ দিন আজ

ইরানে বসবাসকারী লাখ লাখ আফগান অভিবাসী ও শরণার্থীকে দেশ ছাড়তে শেষবারের মতো নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। স্বেচ্ছায় ইরান ত্যাগের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার শেষ দিন আজ রোববার। এরপর কাল থেকে ‘অবৈধভাবে অবস্থানরত’ আফগানদের গ্রেপ্তার করে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। খবর আল জাজিরার

এমন এক সময় এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো, যখন ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের পর ইরানে নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ওই সংঘাতে জড়িয়ে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রও।

গত মার্চ মাসে ইরান সরকার একটি আদেশ জারি করে। সেখানে অবৈধভাবে বসবাসকারী আফগানদের ৬ জুলাইয়ের (আজ রোববার) মধ্যে স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, তা না হলে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে আদেশে জানানো হয়।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, ইরান থেকে আফগানদের গণহারে ফেরত পাঠানো হলে আফগানিস্তান আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। যুদ্ধ, দারিদ্র্য এবং তালেবান শাসন থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসা এই মানুষদের অনেকে কয়েক দশক ধরে ইরানে বসবাস করছেন।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানায়, তেহরান ২০২৩ সালে ‘অবৈধভাবে’ দেশে বসবাসকারী বিদেশিদের বহিষ্কারের জন্য একটি অভিযান শুরু করে। পরে চলতি বছরের মার্চে ইরান সরকার একটি সময়সীমা ঘোষণা করে-যার মধ্যে যারা বৈধতা ছাড়া অবস্থান করছে, তাদের দেশ ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এরপর থেকে প্রায় সাত লাখ আফগান ইরান ছেড়েছে, শুধু জুন মাসেই ফিরে গেছে ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি।

ইরানে প্রায় ৪০ লাখ আফগান শরণার্থী ও অভিবাসী রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তাদের অনেকে সেখানেই জন্মেছে এবং বেড়ে উঠেছে।

ধর্ষণের শিকার তরুণীর আত্মহত্যার চেষ্টা, অবশেষে মৃত্যু

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে প্রতিবেশী দাদা দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়ে লজ্জায় বিষপান করে এক তরুণী। ১৫ দিন মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে গতকাল শনিবার রাতে মারা যায় সেই তরুণী। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা আজ রোববার দুপুরে অভিযুক্ত ধর্ষকের বাড়িঘর ভাঙচুর করে।

ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা জানান, অভিযুক্ত ধর্ষক তাদের প্রতিবেশী। গত ২১ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার সময় তার মেয়ে বিষপান করে। পরে তাকে বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে কিছুটা সুস্থ হলে তার মেয়ে জানায় চাচাতো দাদা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রায়ই ধর্ষণ করত।

পূর্বের মতো গত ২৭ মে রাতে ঘরের বাইরে নিয়ে এসে ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে ২১ জুন লোকলজ্জায় তার মেয়ে বিষপান করে। পরে প্রথমে বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ২৮ জুন দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৫ দিন চিকিৎসাধীন থেকে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার সময় মারা যায় তার মেয়ে।

বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা গত ৩০ জুন বোচাগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর ওই দিনই পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।

রেস্ট হাউজে নারীসহ ওসিকে আটক করে ছাত্রদল নেতার চাঁদাবাজি

যশোর শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) রেস্ট হাউজে ‘নারীসহ ওসিকে আটকে চাঁদা দাবির’ ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আরও আলোচিত হয়ে ওঠে। অভিযোগের তীর ছাত্রদলের এক নেতার দিকে, যিনি ৫-৬ জন সহযোগী নিয়ে সেখানে হানা দেন।

ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ জুন সন্ধ্যায়। সিসিটিভি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে যশোর পাউবোর পুরোনো রেস্ট হাউজের ‘কপোতাক্ষ কক্ষে’ অবস্থান করছিলেন।

প্রায় দুই ঘণ্টা পর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম হাসান সনি তার সঙ্গীদের নিয়ে সেখানে যান। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তারা দরজা ধাক্কা দেওয়ার পর ওসি সাইফুল ইসলাম বাইরে বের হন। এরপর ধস্তাধস্তি করে তাকে আবার কক্ষে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, তারা ওসির কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন এবং পরে দুই লাখ টাকায় আপসরফা হয়।

ঘটনার সময় রেস্ট হাউজে দায়িত্বরত আনসার সদস্য ও কেয়ারটেকারসহ কয়েকজন কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। কেয়ারটেকার মিজানুর রহমান বলেন, ‘টাকা লেনদেন এবং রেস্ট হাউজ ভাঙচুরের সময় আমাকেও মারধর করা হয়।’

মিজানুর রহমান বলেন, ‌ওসি সাইফুল স্ত্রী পরিচয়ে একজন নারীকে নিয়ে বাংলোয় ওঠেন। আমি নিজে দরজা খুলে দিই। কপোতাক্ষ (কক্ষ) গুছিয়ে বুঝিয়ে দিয়ে যাই। এরপর কিছু সময় পর ওসি স্যার নাশতা আনতে শহরের একটি হোটেলে পাঠান। আর ওসি সাইফুল ইসলাম ওই নারীসহ কক্ষে ঘণ্টাখানেক অবস্থান করার পরে এলাকার কিছু লোকজন প্রবেশ করেন। রেস্ট হাউজের সামনে এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করেন। এর কিছুক্ষণ পর সাইফুল ইসলাম দরজা খুলে বের হেয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আর চক্রটি তাকে টেনেহিঁচড়ে ওই নারীসহ ঘরে ঢোকেন।’

তবে পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ওসি সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘একজন বন্ধুকে নিয়ে যশোরে এসেছিলাম। ছাত্রদল নেতারা পূর্বপরিচিত, তাদের সঙ্গে স্বাভাবিক কথাবার্তা হয়েছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এসব প্রচার চালানো হচ্ছে।’

অন্যদিকে ছাত্রদল নেতা গোলাম হাসান সনি দাবি করেছেন, ‘আমরা সংবাদ পেয়ে রেস্ট হাউজে গিয়েছিলাম। সেখানে কোনো নারী পাইনি, ওসির সঙ্গে স্বাভাবিক কথাবার্তা হয়েছে। চাঁদাবাজির অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

যশোর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী জানান, ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুরোধে ওসিকে রেস্ট হাউজের কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, যা এখন তদন্তাধীন।

এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আবুল হাসনাত বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল, তবে কাউকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’